আমাদের মূল্যবান আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার
ফিলিপ এফ. স্মিথ দ্বারা কথিত
“একটি মশাল জ্বালানো হয়েছে যা অন্ধকার আফ্রিকায় সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে।” উপরোক্ত কথাগুলি ১৯৯২ সালের যিহোবার সাক্ষীদের বর্ষপুস্তক এর পৃষ্ঠা ৭৫ পড়ে আমরা কতই না আনন্দিত হয়েছিলাম! ১৯৩১ সালে আমাদের ঠাকুরদা, ফ্র্যাঙ্ক ডাবলু. স্মিথ তৎকালীন ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ভাই যোসেফ. এফ. রাদারফোর্ডের উদ্দেশ্যে এক চিঠিতে ওই কথাগুলি লিখেছিলেন। ঠাকুরদা ও তার ভাই একটি প্রচার ভ্রমণ করেছিলেন সেই বিষয় রিপোর্টটি করতে গিয়ে তিনি এটি লিখেছিলেন।
১৯৯২ বর্ষপুস্তক ব্যাখ্যা করে: “গ্রে স্মিথ এবং তার বড় ভাই ফ্র্যাঙ্ক, দুই সাহসী অগ্রগামী পরিচারক যারা কেপ টাউনে [দক্ষিণ আফ্রিকা] থাকতেন, তারা ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকাতে সুসমাচার ছড়ানোর সম্ভাবনা আবিষ্কার করার জন্য বেরিয়ে পড়েন। তারা একটি ডি সোটো গাড়ি নেন, যা তারা ঢাকা একটি বড় গাড়িতে (হাউস কার) পরিণত করে এবং সাহিত্যাদির ৪০টি বাক্স সহ তা জাহাজে তুলে দেন এবং কিনিয়ার সমুদ্রবন্দর মোম্বাসার, উদ্দেশ্যে রওনা দেন।”
ভাই রাদারফোর্ডের উদ্দেশ্যে লেখা তার চিঠিতে, ঠাকুরদা মোম্ববাসা থেকে কিনিয়ার রাজধানী নাইরোবির যাত্রা বর্ণনা করেন: “জীবনে গাড়ি যাত্রার মধ্যে সবচেয়ে দুঃস্বপ্নের মত একটি যাত্রা শুরু করি। তা আমাদের ৪ দিন লাগে, সারাদিন চালিয়ে, ৫৮০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে . . . কয়েক মাইল পরে পরে আমাকে বেরোতে হয় কোদাল নিয়ে উঁচু ঢিবি সমান করতে, গর্ত বুজাতে এবং একধরনের লম্বা ঘাস বিশেষ ও গাছ কাটতে হয় যাতে করে জলাভূমিতে গাড়ির চাকাগুলো আঁকড়ে ধরতে পারে।”
নাইরোবিতে পৌঁছাবার পর, ফ্র্যাঙ্ক এবং গ্রে বাইবেল সাহিত্য বিতরণ করার জন্য লাগাতার ২১ দিন কাজ করে। “রিপোর্ট অনুসারে” ঠাকুরদা লেখেন, “সাক্ষ্যদানের কাজটি ধর্ম-মনা নাইরোবিতে খুবই সাড়া জাগিয়েছে।” পরে, ঠাকুরদা তার দুবছরের ছেলে ডোনোভন এবং তার স্ত্রী, ফীলিস যে দ্বিতীয় শিশুর আশা করছিল তিনি হলেন আমার বাবা, ফ্র্যাঙ্ক, তাদের কাছে ফিরে আসার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। ঠাকুরদা মোম্বাসা থেকে প্রথম প্রাপ্তলভ্য জাহাজে চড়েন, কিন্তু বাড়ি পৌঁছাবার আগেই ম্যালেরিয়ার জন্য তিনি মারা যান।
যখন আমার বড় বোন, আমার ভাই এবং আমি বর্ষপুস্তক-এ সেই বিবরণটি পড়ছিলাম আমাদের মন, আমাদের প্রিয় বাবার দিকে যায়। ১৯৯১ সালে, ১৯৯২ বর্ষপুস্তক পাওয়ার ঠিক কয়েক মাস আগে তিনি হার্ট অস্ত্রোপচারের জটিলতার জন্য মারা যান। যদিও তিনি কখনও নিজের বাবাকে দেখেননি, তিনি কিন্তু তার বাবার মত যিহোবার প্রতি একই গভীর প্রেম দেখান। ঠাকুরদা কতই না খুশি হতেন এই জেনে যে, তার ছেলে ২৮ বছর পরে ১৯৫৯ সালে, তার পদচিহ্ন অনুসরণ করে পূর্ব আফ্রিকাতে খ্রীষ্টীয় পরিচারক হিসাবে যাবে।
বাবার প্রাথমিক জীবন
আমার বাবা জুলাই ২০, ১৯৩১ সালে কেপ টাউনে তার নিজের বাবা মারা যাওয়ার দুমাস পরে জন্মগ্রহণ করেন যার নাম অনুসরণ করে তার নামকরণ করা হয়। অল্প বয়স থেকেই, বাবা যিহোবার প্রতি তার প্রেম দেখিয়েছিলেন। যদিও বা তার বয়স শুধুমাত্র নয় বছর ছিল, তিনি কেপ টাউনের মুখ্য রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে প্লাকার্ড সাক্ষ্যদান করেন যখন তার সহপাঠীরা তাকে পরিহাস করছিল। ১১ বছর বয়সে তিনি তার যিহোবার প্রতি তার উৎসর্গীকরণ জলে বাপ্তিস্মিত হয়ে চিহ্নিত করেন। কখনও কখনও বাবাকে পরিচর্যায় একা একা সম্পূর্ণ রাস্তাটিতে সাক্ষ্যদান করতে নিযুক্ত করা হত। যখন তার বয়স ১৮ ছিল, তখন কেপ টাউনের শহরতলিতে বয়স্ক খ্রীষ্টীয় বোনেদের একটি দলের সাথে প্রহরীদুর্গ পরিচালনা করতেন।
১৯৫৪ সালে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি ঘোষণা করে যে সামনের বছরে ইউরোপে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাবার যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তার কাছে কেপ টাউন থেকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট অর্থ ছিল না। তাই তিনি দক্ষিণ রডেশিয়াতে (এখন জাম্বিয়া) তিন মাসের জন্য তামার খনিতে রসায়নবিদের কাজের কন্ট্র্যাক্ট নেন। যে জায়গাতে ধাতুর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হত তা আফ্রিকার ঝোপ জঙ্গলে অবস্থিত ছিল।
বাবা জানতেন যে দক্ষিণ রডেশিয়াতে অনেক সংখ্যক সাক্ষীরা থাকেন, তাই তিনি যখন সেখানে পৌঁছালেন, তাদের খুঁজে বার করেন ও জানলেন যে তারা তাদের সভা কোথায় করে। যদিও তিনি তাদের স্থানীয় ভাষা বলতে পারতেন না, তবুও তিনি তাদের সাথে মেলামেশা এবং যিহোবার সাক্ষীদের মাইন মণ্ডলীর সভাগুলিতে নিয়মিতরূপে যোগদান করতেন। মাইনের ইউরোপীয় ব্যক্তিরা তারা সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ছিল এবং মৌখিকভাবে অপব্যবহার করার দ্বারা তারা তাদের পক্ষপাতিত্ব দেখাত। বাবা কিন্তু, সবসময় দয়াশীল ছিলেন।
তিন মাসের শেষে, এক আফ্রিকান কর্মী যিনি সাক্ষী ছিলেন না বাবার কাছে আসে ও জিজ্ঞাসা করে: “আপনি কি জানেন যে আপনাকে আমরা কী নামে ডাকি?” সেই ব্যক্তি হেসে বলে: “আমরা আপনাকে বয়ানা [মি.] ওয়াচটাওয়ার বলি।”
১৯৫৫ সালে, বাবা ইউরোপে অনুষ্ঠিত “রাজ্যের জয় লাভ” অধিবেশনগুলিতে উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন। সেখানে তার মারি জাহারিউয়ের সাথে সাক্ষাৎ হয়, পরের বছরে যে তার স্ত্রী হয়। বিবাহের পরে যুক্তরাষ্ট্রের, পারমা, ওহাইয়োতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন।
পূর্ব আফ্রিকাতে যাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের জেলা সম্মেলনের সময়ে, সম্মেলনে যোগদানকারীদের একটি আমন্ত্রণ দেওয়া হয় যেখানে প্রচারকদের বেশি প্রয়োজন সেখানে গিয়ে কাজ করার। আমার বাবামা পূর্ব আফ্রিকাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি তাদের যা কিছু বলে তারা তাই করেন। যদি তিনি কাজ পেতে অসফল হন ও যেহেতু শুধু যাদের কাছে কাজের পারমিট তারাই সেই অঞ্চলে বাস করতে পারে, তাই তারা ফিরে আসার জন্য টিকিটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমিয়ে রাখে।
পাসপোর্ট, ভিসা এবং টিকা নেওয়ার পর ১৯৫৯ সালের জুলাই মাসে বাবা ও মা নিউ ইয়র্ক শহর থেকে কেপ টাউন হয়ে মোম্বাসার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যপোতে করে যাত্রা করেন। তারা চারসপ্তাহ ধরে যাত্রা করেন। মোম্বাসা বন্দরে তারা সাদর অভ্যর্থনা পান সেই সব খ্রীষ্টীয় ভাইদের কাছ থেকে যারা যেখানে বেশি প্রয়োজন সেখানে কাজ করার জন্য তাদের আগে এসেছিলেন। যখন তারা নাইরোবিতে এসে পৌঁছায়, বাবার জন্য একটি চিঠি অপেক্ষা করছিল। এনটেবে, উগান্ডাতে জিওলোজিকাল সার্ভে ডিপার্টমেন্টে রসায়নবিদ্ হিসাবে কাজ করার আবেদনের উত্তর সেটি ছিল। বাবা ও মা কাম্পালা, উগান্ডাতে যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরেন যেখানে বাবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং তিনি কাজটি পান। সেই সময়ে, এনটেবে-কাম্পালা এলাকায় শুধু অন্য একজন সাক্ষী ছিল যার নাম হল, জর্জ কাদু।
ঔপনিবেশিক সরকার স্থানীয় লুগান্ডা ভাষা শেখবার জন্য বাবাকে অর্থ দেয়। তিনি খুবই খুশি হন, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করেছিলেন তা শিখবার জন্য যাতে করে তিনি পরিচর্যায় আরও কার্যকারী হতে পারেন। পরে, বাবা এমনকি “রাজ্যের এই সুসমাচার” পুস্তিকাটি লুগান্ডা ভাষাতে অনুবাদ করতে সাহায্য করেন।
অন্যদের কাছে সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে বাবা নির্ভীক ছিলেন। তার দপ্তরের সকল ইউরোপীয়দের সাথে তিনি কথা বলতেন এবং নিয়মিতরূপে তিনি উগান্ডাবাসীদের কাছে প্রচার কাজ করতেন। এমনকি তিনি উগান্ডার আফ্রিকান মহান্যায়বাদীর কাছে প্রচার করেন। ব্যক্তিটি শুধুমাত্র রাজ্যের বার্তাই শোনেননি, কিন্তু বাবা ও মাকে নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রণ করেন।
আমার দিদি, অ্যানথে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করে এবং আমি ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করি। রাজধানী কাম্পালাতে, ছোট অথচ বৃদ্ধিরত মণ্ডলীর ভাই ও বোনেদের সাথে আমাদের পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যেহেতু আমরা এনটেবে এলাকায় শুধুমাত্র শ্বেতবর্ণ সাক্ষী ছিলাম, তাই আমাদের কিছু কৌতুকজনক অভিজ্ঞতা হয়। একবার বাবার এক বন্ধু অপ্রত্যাশিতভাবে এনটেবেতে এসে পৌঁছান এবং বাবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তিনি ততক্ষণ অসফল হন যতক্ষণ না তিনি জিজ্ঞাসা করেন: “আপনি কি এক ইউরোপীয় দম্পতিকে জানেন যারা যিহোবার সাক্ষী?” সেই ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ তাকে বাবা ও মায়ের বাড়িতে নিয়ে আসে।
আমাদের কঠিন পরিস্থিতিও সহ্য করতে হয় যার অন্তর্ভুক্ত দুটি সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্যে জীবনযাপন করা। সরকারের সৈনিকেরা এক সময় প্রতিবাদকারী একটি নির্দিষ্ট জাতিকে গুলি করছিল। সারা রাত ও দিন ধরে অবিরতভাবে গোলাগুলি চলে। যেহেতু সন্ধ্যে ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ থাকত, তাই সভাগুলি দুপুরবেলাতে আমার বাবামার বাড়ি এনটেবেতে হত।
পরে, যখন কারফিউ তুলে নেওয়া হয়, বাবা আমাদের গাড়ি করে প্রহরীদুর্গ অধ্যয়নের জন্য কাম্পালাতে নিয়ে যান। একজন সৈনিক বন্দুক তাক করে আমাদের গাড়িকে থামায় এবং জানতে চায় কোথায় আমরা যাচ্ছি। আমি তখন শিশু ছিলাম আর অ্যানথের বয়স ছিল পাঁচ। যখন বাবা শান্তভাবে ব্যাখ্যা করে, সৈনিককে আমাদের বাইবেল আর সাহিত্যাদি দেখান, সে আমাদের যেতে দেয়।
১৯৬৭ সালে, প্রায় আট বছর উগান্ডাতে থাকার পর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা ও পারিবারিক দায়িত্বের জন্য আমার বাবামা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা ক্যানফিল্ড, ওহাইয়ো মণ্ডলীর অংশ হই যেখানে বাবা প্রাচীন হিসাবে পরিচর্যা করেন। আমার বাবামা ঠিক যেমন কাম্পালার ছোট মণ্ডলীর ভাইবোনেদের প্রেম করতেন ঠিক সেইরকম এইখানেও করতে শেখেন।
প্রেমপূর্ণ খ্রীষ্টীয় লালন-পালন
১৯৭১ সালে আমার ভাই ডেভিড জন্মগ্রহণ করে। যখন আমরা বড় হই তখন আমরা এমন একটি ঘরোয়া পরিবেশে গড়ে উঠি যেখানে প্রেম এবং আন্তরিকতা ছিল। কোন সন্দেহ নেই বাবামা একে অপরের মধ্যে যে প্রেমপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করতেন সেটিই ছিল এর উৎস।
যখন আমরা ছোট ছিলাম, বাবা সর্বদা শোবার সময় বাইবেল পড়তেন, প্রার্থনা করতেন এবং তারপর, মায়ের অজ্ঞাতে সোনার কাগজে মোড়া আমাদের একটি চকলেট দিতেন। যেখানেই আমরা থাকি না কেন আমরা সবসময়ই পরিবারগতভাবে প্রহরীদুর্গ অধ্যয়ন করতাম। পরিবারগতভাবে ছুটিতে একবার গিয়ে আমরা পাহাড়ে অধ্যয়ন করি এবং আরেকটিবার আমরা সমুদ্র তটে করি। বাবা প্রায়ই বলতেন যে এই সময়গুলি ছিল তার সবচেয়ে আনন্দময় স্মৃতিগুলির মধ্যে কয়েকটি। তিনি বলেন পারিবারিক অধ্যয়ন যা গভীর আনন্দ নিয়ে আসতে পারে তার থেকে যারা বঞ্চিত তাদের জন্য তিনি দুঃখিত।
যিহোবার প্রতি প্রেম প্রদর্শনের ক্ষেত্রে, বাবা উদাহরণের দ্বারা শিক্ষা দিতেন। যখনই আমরা কোন নতুন প্রহরীদুর্গ বা আওয়েক! আসত কিংবা কোন ওয়াচটাওয়ার প্রকাশন পেতাম, বাবা আগ্রহের সাথে এর বিষয়গুলি পড়তেন। আমরা তার কাছ থেকে শিখেছিলাম যে বাইবেল সত্যগুলি হাল্কাভাবে যেন না নিই কিন্তু তা যেন মহামূল্যবান সম্পদ হিসাবে গণ্য করি। আমাদের সবচাইতে মূল্যবান বিষয়গুলির একটি হল বাবার রেফেরেনস বাইবেল। প্রায় সব পৃষ্ঠাতে নোটস্ দ্বারা ভর্তি যা তিনি অধ্যয়নের থেকে সংগ্রহ করেছেন। এখন যখনই আমরা তার মার্জিনে দেওয়া মন্তব্যগুলি পড়ি, আমরা এখনও যেন তার কথা শুনতে পাই আমাদের শিক্ষা ও উপদেশ দিচ্ছেন।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত
১৯৯১ সালের মে মাসের ১৬ তারিখে, ক্ষেত্রের পরিচর্যার সময়, বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়। কিছু সপ্তাহ পর, তার উপর ওপেন-হার্ট অস্ত্রোপচার করা হয়, যা আপাতদৃষ্টিতে সফল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু, অস্ত্রেপচার হয়ে যাওয়ার পর সেই রাতে, হাসপাতাল থেকে একটি ফোন আসে। বাবার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং ডাক্তারেরা খুবই চিন্তিত ছিলেন। সেই রাতে রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করার জন্য তাকে দুবার অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। বাবার রক্ত জমছিল না।
পরের দিন, যখন বাবার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে লাগল, প্রথমে ডাক্তারেরা আমার মাকে আলাদা করে ডাকে এবং তারপর আমার ছোট ভাইকে ডাকে যাতে করে চাপ দিয়ে রক্ত গ্রহণ করাতে সম্মতি পেতে পারেন। কিন্তু, বাবা ডাক্তারদের আগে থেকে বলে দিয়েছিলেন, যে কোন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি রক্ত গ্রহণ করবেন না। রক্ত না গ্রহণ করার শাস্ত্রীয় কারণগুলি তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, কিন্তু তিনি বলেছিলেন যে রক্ত নয় এমন বিকল্পগুলি তিনি গ্রহণ করবেন।—লেবীয়পুস্তক ১৭:১৩, ১৪; প্রেরিত ১৫:২৮, ২৯.
চিকিৎসা কর্মীদের অনেক সদস্যদের মধ্যে বিদ্বেষের দরুন আই সি ইউ-তে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) একটি কঠিন পরিস্থিতি গড়ে ওঠে। এর সাথে বাবার পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হওয়ার ফলে, কয়েক সময় তা অসহ্য বলে মনে হয়েছিল। আমরা যিহোবার কাছে সাহায্যের জন্য যাচ্ঞা করি এবং যে সব বাস্তবধর্মী উপদেশগুলি পেয়েছিলাম তা কাজে লাগাবার চেষ্টা করি। তাই যখন আমরা আইসিইউ পরিদর্শন করি, তখন আমরা সবসময়ই উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরি যেতাম এবং সর্বদা চিকিৎসা কর্মীদের প্রতি সম্মানপূর্বক আচরণ দেখাই। অর্থসূচক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার দ্বারা আমরা বাবার পরিস্থিতির প্রতি সক্রিয় আগ্রহ দেখাই এবং বাবার রক্ষণাবেক্ষণের সাথে যুক্ত সব কর্মীদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।
আমাদের প্রয়াসগুলি চিকিৎসা কর্মীদের দ্বারা উপেক্ষিত হইনি। কয়েক দিনের মধ্যে, সেই খারাপ মনোভাবটিকে দয়াতে পরিবর্তন করে। যে সব নার্সেরা বাবার যত্ন নিতেন তারা তার উন্নতি লক্ষ্য করতে আসতেন যদিও তারা তাকে যত্ন নেওয়ার জন্য নিযুক্ত ছিলেন না। একটি ডাক্তার যিনি আমাদের সাথে রূঢ় ব্যবহার করেন, এমনকি তিনিও এতদূর পর্যন্ত নম্র হন যে তিনি মাকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কেমন করে মোকাবিলা করছেন। আমাদের মণ্ডলী এবং আত্মীয়স্বজনেরাও আমাদের প্রেমের সাথে সাহায্য করেন। তারা খাবার এবং অনেক সান্ত্বনাদায়ক কার্ড পাঠান এবং আমাদের জন্য প্রার্থনা করেন।
দুঃখের বিষয়, বাবা চিকিৎসার প্রতি সাড়া দেননি। তার প্রথম অস্ত্রপচারের দশ দিন পর তিনি মারা যান। আমরা বাবার জন্য গভীরভাবে শোক করি। কয়েক সময়, হারানোর অনুভূতিগুলি খুবই প্রগাঢ় হয়ে ওঠে। আনন্দের বিষয় যে, আমাদের ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি ‘প্রতিদিন আমাদের ভার বহন করবেন,’ এবং আমরা আগের থেকে এখন আরও বেশি করে তার উপর আস্থা রাখতে শিখেছি।—গীতসংহিতা ৬৮:১৯.
আমরা সকলে দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ যে আমরা যিহোবাকে বিশ্বস্তভাবে সেবা করে চলব, যাতে করে আমরা বাবাকে নতুন জগতে দেখার আনন্দ উপলব্ধি করতে পারি।—মার্ক ৫:৪১, ৪২; যোহন ৫:২৮; প্রেরিত ২৪:১৫.
[২১ পৃষ্ঠার চিত্র]
কেপ টাউনে, তার মা ফীলিসের সাথে ফ্রাঙ্ক স্মিথ
[২২ পৃষ্ঠার চিত্র]
তাদের বিবাহের সময়ে বাবা ও মা
[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
এনটেবেতে প্রথম বাপ্তিস্মের সময়ে, ভাইয়েরা একজন আফ্রিকান প্রধানের পুকুর ভাড়া নেন
[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
রীতিগতভাবে অভ্যর্থনা
[২৪ পৃষ্ঠার চিত্র]
বাবার মৃত্যুর ঠিক পূর্বে বাবা ও মা