তিনি ছিলেন মশীহের অগ্রদূত
রোদেপোড়া তার শরীরের চামড়ার উপর একটি চওড়া চামড়ার বেল্ট দেখা যাচ্ছিল। উটের লোম দিয়ে তৈরি পোশাকে তাকে অবশ্যই একজন ভাববাদীর মত দেখতে লাগছিল। যর্দন নদীর তীরে অনেকেই তার প্রতি আকর্ষিত হয়েছিল। সেখানে এই অত্যন্ত আগ্রহী ব্যক্তিটি সাহসের সাথে ঘোষণা করেছিলেন যে অনুতপ্ত পাপীদের তিনি বাপ্তিস্ম দিতে প্রস্তুত।
লোকেরা আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল! এই লোকটি কে? তার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল?
যীশু খ্রীষ্ট এই ব্যক্তির সম্পর্কে বলেছিলেন: “কি জন্য গিয়াছিলে? কি এক জন ভাববাদীকে দেখিবার জন্য? হাঁ, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ভাববাদী হইতেও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে। . . . স্ত্রীলোকের গর্ব্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক হইতে মহান্ কেহই উৎপন্ন হয় নাই।” (মথি ১১:৯-১১) কেন যোহন এমন একজন অস্বাভাবিক ব্যক্তি ছিলেন? কারণ তিনি ছিলেন মশীহের অগ্রদূত।
তার কাজ সম্বন্ধে আগে থেকেই বলা ছিল
যোহনের জন্মের প্রায় ৭০০ বছরেরও বেশি আগে যিহোবা ঘোষণা করেছিলেন যে এই ব্যক্তিটি প্রান্তরের মধ্য থেকেই উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠবে: “তোমরা প্রান্তরে সদাপ্রভুর পথ প্রন্তুত কর, মরুভূমিতে আমাদের ঈশ্বরের জন্য রাজপথ সরল কর।” (যিশাইয় ৪০:৩; মথি ৩:৩) যোহনের জন্মের প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি আগে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ঘোষণা করেছিলেন: “দেখ, সদাপ্রভুর সেই মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিন আসিবার পূর্ব্বে আমি তোমাদের নিকটে এলিয় ভাববাদীকে প্রেরণ করিব।” (মালাখি ৪:৫) ঘটনাটি হল যে যোহন বাপ্তাইজক যীশুর প্রায় ছয় মাস আগে জন্মেছিলেন এবং তার জন্ম কোন অলৌকিক প্রক্রিয়ার দ্বারা হয়নি, না এটা জন্মগত প্রক্রিয়া অনুসারে হয়েছিল। প্রতিজ্ঞাত শিশু ইস্হাকের মত যোহনের জন্মও ছিল একটি আশ্চর্য বিষয়, কারণ তার পিতামাতা, সখরিয় ও ইলীশাবেৎ, উভয়েরই সন্তান উৎপন্ন করার বয়স পার হয়ে গিয়েছিল।—লূক ১:১৮.
এমনকি যোহনকে গর্ভে ধারণ করার আগেই, তাকে প্রেরণের উদ্দেশ্য, তার কাজ এবং তার জীবনধারা, সবকিছুই স্বর্গদূত গাব্রিয়েল প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। এলিয়ের শক্তি এবং আত্মার সহায়তায় যোহন অবাধ্য ব্যক্তিদের মৃত্যুর পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারতেন এবং তাদের এমনভাবে প্রস্তুত করতেন যাতে তারা যীশুকে মশীহরূপে গ্রহণ করতে পারে। জন্মাবধি, যোহন ছিলেন একজন নাসরীয়, সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং দ্রাক্ষারস অথবা মদ ছোঁয়া ছিল তার জন্য একেবারে নিষিদ্ধ। অবশ্যই প্রান্তরে তার খাদ্য ছিল “পঙ্গপাল ও বনমধু।” (মার্ক ১:৬; গণনাপুস্তক ৬:২, ৩; লূক ১:১৩-১৭) শমূয়েলের মত শিশুকাল থেকে যোহন সর্বোচ্চ ঈশ্বরের গৌরবময় সেবা করার জন্য পৃথক ছিলেন।—১ শমূয়েল ১:১১, ২৪-২৮.
এমনকি যোহন নামটিও ঈশ্বর মনোনীত করেছিলেন। ইব্রীয় নাম যাকে “যোহন” বলা হচ্ছে, তার অর্থ দাঁড়ায় “যিহোবা অনুগ্রহ দেখিয়েছেন; যিহোবা করুণাময়।”
অষ্টম দিনে যখন শিশুটির ত্বক্চ্ছেদ করা হয়, তখন তার পিতা সখরিয় ঐশিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘোষণা করেছিলেন: “হে বালক, তুমি পরাৎপরের ভাববাদী বলিয়া আখ্যাত হইবে, কারণ তুমি প্রভুর সম্মুখে চলিবে, তাঁহার পথ প্রস্তুত করিবার জন্য; তাঁহার প্রজাদের পাপমোচনে তাহাদিগকে পরিত্রাণের জ্ঞান দিবার জন্য। ইহা আমাদের ঈশ্বরের সেই কৃপাযুক্ত স্নেহহেতু হইবে, যদ্দ্বারা ঊর্দ্ধ হইতে ঊষা আমাদের তত্ত্বাবধান করিবে।” (লূক ১:৭৬-৭৮) যোহনের জনসাধারণ্যে পরিচর্যা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর সাথে তুলনা করলে অন্য সকল কিছুই ছিল নগণ্য। সুতরাং, শাস্ত্র যোহনের জীবনের প্রথম ৩০ বছরকে একটি মাত্র শাস্ত্রপদে ব্যাখ্যা দেয়: “বালকটী বাড়িয়া উঠিতে এবং আত্মায় বলবান হইতে লাগিল; আর সে যত দিন ইস্রায়েলের নিকটে প্রকাশিত না হইল, তত দিন প্রান্তরে ছিল।”—লূক ১:৮০.
প্রান্তরে কণ্ঠস্বর
টাইবেরিয়াস কৈসরের রাজত্বের ১৫তম বছরে যখন পন্তীয় পীলাত যিহূদার শাসনকর্তা ছিলেন, তখন যোহন বাপ্তাইজক প্রান্তরে আবির্ভূত হয়ে এই বার্তা দেন: “মন ফিরাও, কেননা স্বর্গ-রাজ্য সন্নিকট হইল।” (মথি ৩:২; মার্ক ১:৪; লূক ৩:১, ২) সেই এলাকার সমস্ত লোকেরা জেগে উঠেছিল। সাহসের সাথে সেই ঘোষণা সেই সব লোকেদের হৃদয় স্পর্শ করেছিল, যারা নিশ্চিত আশার অন্বেষণ করছিল। যোহনের ঘোষণা লোকেদের নম্রতাকেও পরীক্ষা করেছিল কারণ তাদের প্রয়োজন ছিল হৃদয় থেকে অনুতপ্ত হওয়ার। তার আন্তরিকতা ও দৃঢ়প্রত্যয় সৎ ও সহৃদয় লোকেদের তাকে ঈশ্বর প্রেরিত লোক বলে সম্মান করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
যোহনের খ্যাতি অতি শীঘ্রই দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যিহোবার ভাববাদী হিসাবে তাকে অতি সহজেই বেশভূষা ও ভক্তির দ্বারা চেনা যেত। (মার্ক ১:৬) কী হচ্ছে, তা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে এমনকি পুরোহিতেরা এবং লেবীয়রা যিরূশালেম থেকে আসে। অনুতপ্ত হওয়া? কেন এবং কিসের জন্য? এই লোকটি কে ছিল? তারা জানতে চেয়েছিল। যোহন ব্যাখ্যা করেন: “আমি সেই খ্রীষ্ট নই। তাহারা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, তবে কি? আপনি কি এলিয়? তিনি বলিলেন, আমি নই। আপনি কি সেই ভাববাদী? তিনি উত্তর করিলেন, না। তখন তাহারা তাঁহাকে কহিল, আপনি কে? যাঁহারা আমাদিগকে পাঠাইয়াছেন, তাঁহাদিগকে যেন উত্তর দিতে পারি। আপনার বিষয়ে আপনি কি বলেন? তিনি কহিলেন, আমি “প্রান্তরে এক জনের রব, যে ঘোষণা করিতেছে, তোমরা প্রভুর পথ সরল কর,” যেমন যিশাইয় ভাববাদী বলিয়াছিলেন। তাহারা ফরীশীগণের নিকট হইতে প্রেরিত হইয়াছিল। আর তাহারা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, আপনি যদি সেই খ্রীষ্ট নহেন, এলিয়ও নহেন, সেই ভাববাদীও নহেন, তবে বাপ্তাইজ করিতেছেন কেন?”—যোহন ১:২০-২৫.
যারা রাজ্যে প্রবেশ করবে, তাদের জন্য অনুতপ্ত হওয়া ও বাপ্তিস্ম নেওয়া ছিল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। সেইজন্য, যোহন উত্তরে বলেছিলেন: ‘আমি অনুতপ্ত পাপীদের জলে বাপ্তাইজ করছি বটে, কিন্তু আমার পরে এমন একজন আসছেন, যিনি আমার থেকে শক্তিমান, তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মা ও অগ্নিতে বাপ্তাইজ করবেন। যার পাদুকার বন্ধন খোলবার যোগ্য আমি নই; তাঁর কুলো তাঁর হাতে আছে; তিনি নিজের খামার সুপরিষ্কৃত করবেন, ও গোম নিজের গোলাতে সংগ্রহ করবেন, কিন্তু তুষ অনির্বাণ অগ্নিতে পুড়িয়ে দেবেন।’ (লূক ৩:১৫-১৭; প্রেরিত ১:৫) অবশ্যই, মশীহের অনুগামীদের উপর পবিত্র আত্মা বর্ষণ করা হবে, কিন্তু তাঁর শত্রুরা ভয়াবহ অগ্নিবৎ ধ্বংস অভিজ্ঞতা করবে।
‘সর্বস্তরের লোকেদের’ সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছিল
যোহনের কথায় অনেক সহৃদয় যিহূদীরা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল এবং নিয়ম চুক্তির প্রতি তাদের অবিশ্বস্ততার পাপ সকল খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছিল। তারা জনসমক্ষে যর্দন নদীতে যোহনের কাছে বাপ্তিস্ম নিয়ে তাদের অনুতাপ প্রকাশ করেছিল। (মথি ৩:৫, ৬) যার ফলে তাদের হৃদয় সঠিক পরিস্থিতিতে ছিল মশীহকে গ্রহণ করার জন্য। ঈশ্বরের ধার্মিক মানকে জানার জন্য তাদের আকুল তৃষ্ণা নিবারণ করে যোহন তাদের নিজের শিষ্য মনে করে আনন্দের সাথে শিক্ষা দেন এমনকি এও শেখান যে কিভাবে প্রার্থনা করতে হয়।—লূক ১১:১.
মশীহের এই অগ্রদূত সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রেরিত যোহন লেখেন: “তিনি সাক্ষ্যের জন্য আসিয়াছিলেন, যেন সেই জ্যোতির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, যেন সকলে তাঁহার দ্বারা বিশ্বাস করে।” (যোহন ১:৭) আর তাই ঘটে যখন সকল স্তরের লোকেরা যোহন বাপ্তাইজকের কথা শোনার জন্য আসে, যখন তিনি “সমস্ত ইস্রায়েল-জাতির কাছে মনপরিবর্ত্তনের বাপ্তিস্ম প্রচার করিয়াছিলেন।” (প্রেরিত ১৩:২৪) তিনি করগ্রাহীদের, অত্যাচারী হওয়ার থেকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি সৈনিকদের অপরকে হয়রানি করার থেকে অথবা অপরের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করতে বারণ করেছিলেন। আর তিনি সাধু, ভন্ড ফরীশী ও সদ্দুকীদের বলেছিলেন: “হে সর্পের বংশেরা, আগামী কোপ হইতে পলায়ন করিতে তোমাদিগকে কে চেতনা দিল? অতএব মনপরিবর্ত্তনের উপযোগী ফলে ফলবান্ হও। আর ভাবিও না যে, তোমরা মনে মনে বলিতে পার, অব্রাহাম আমাদের পিতা; কেননা আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ঈশ্বর এই সকল পাথর হইতে অব্রাহামের জন্য সন্তান উৎপন্ন করিতে পারেন।”—মথি ৩:৭-৯; লূক ৩:৭-১৪.
দলগতভাবে, যোহনের দিনের ধর্মীয় নেতারা তাকে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেছিল এবং তাকে ভুতে পেয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ করেছিল। তারা ধার্মিকতার পথ যা অনন্ত জীবনের পথে পরিচালিত করে, সেই পথকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। অপরদিকে, পাপী করগ্রাহীরা এবং বেশ্যাগামীরা, যারা যোহনের কথায় বিশ্বাস করেছিল, তারা অনুতপ্ত হয়ে বাপ্তিস্ম নিয়েছিল। আর যথাসময়ে, তারা যীশু খ্রীষ্টকে মশীহরূপে গ্রহণ করেছিল।—মথি ২১:২৫-৩২; লূক ৭:৩১-৩৩.
মশীহকে পরিচিত করান হয়
ছয় মাস ধরে—বসন্তকাল থেকে শুরু করে সা.শ. ২৯ সাল পর্যন্ত—ঈশ্বরের বিশ্বস্ত সাক্ষী যোহন আগত মশীহের প্রতি যিহূদীদের মনযোগ আকর্ষণ করিয়েছিলেন। মশীহ রাজার তখনই ছিল আবির্ভাব হওয়ার সময়। কিন্তু যখন তিনি এসেছিলেন, তখন সেই একই যর্দন নদীর জলের কাছে এসে যোহনকে তাঁর বাপ্তিস্ম দিতে বলেছিলেন। প্রথমে যোহন বাধা দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি মেনে নিয়েছিলেন। তার আনন্দের কথা চিন্তা করুন যখন পবিত্র আত্মা যীশুর উপর নেমে এসেছিল এবং যিহোবা তাঁর পুত্রকে অনুমোদন করেছেন বলে যখন তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল।—মথি ৩:১৩-১৭; মার্ক ১:৯-১১.
যোহনই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি যীশুকে মশীহ বলে চিনতে পেরেছিলেন এবং তিনি তার শিষ্যদের এই অভিষিক্ত ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। “ঐ দেখ,” যোহন ঘোষণা করেছিলেন: “ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান।” তিনি আরও বলেছিলেন: “উনি সেই ব্যক্তি, যাঁহার বিষয়ে আমি বলিয়াছিলাম, আমার পশ্চাৎ এমন এক ব্যক্তি আসিতেছেন, যিনি আমার অগ্রগণ্য হইলেন, কেননা তিনি আমার পূর্ব্বে ছিলেন। আর আমি তাঁহাকে চিনিতাম না, কিন্তু তিনি যেন ইস্রায়েলের নিকট প্রকাশিত হন, এই জন্য আমি আসিয়া জলে বাপ্তাইজ করিতেছি।”—যোহন ১:২৯-৩৭.
যীশুর পরিচর্যার সাথে সাথে যোহনের কাজও প্রায় ছয় মাস যাবৎ চলতে থাকে। প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে অন্যজন কী কাজ করছেন। যোহন নিজেকে বরের বন্ধু হিসাবে মনে করেছিলেন এবং খ্রীষ্টের বৃদ্ধি দেখে আনন্দও পেয়েছিলেন, যেখানে তিনি নিজে ও তাঁর কাজ হ্রাস পেয়েছিল।—যোহন ৩:২২-৩০.
যীশু যোহনকে অগ্রদূতরূপে শনাক্ত করেছিলেন, যা এলিয়ের দ্বারা চিত্রিত হয়েছিল। (মথি ১১:১২-১৫; ১৭:১২) একটি ঘটনায়, যীশু বলেছিলেন: “ব্যবস্থা ও ভাববাদিগণ যোহন পর্য্যন্ত; সেই অবধি ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচারিত হইতেছে, এবং প্রত্যেক জন সবলে সেই রাজ্যে প্রবেশ করিতেছে।”—লূক ১৬:১৬.
শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত থাকা
সাহসের সাথে সত্যকে ঘোষণা করার জন্য যোহনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। এমনকি রাজা হেরোদের পাপকে প্রকাশ করে দেওয়ার দায়িত্বকে তিনি এড়িয়ে যাননি। ঈশ্বরের আইনকে অমান্য করে সেই রাজা তার ভাইয়ের স্ত্রী, হেরোদিয়ার সাথে ব্যভিচারিতায় লিপ্ত ছিলেন। যোহন সাহসের সাথে ঘোষণা করেছিলেন যাতে করে তিনি অনুতপ্ত হন এবং ঈশ্বরের করুণা লাভ করেন।
বিশ্বাস এবং প্রেমের কী উত্তম এক নিদর্শনই না ছিলেন যোহন! তার ব্যক্তি স্বাধীনতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি যিহোবা ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বস্ততা এবং সহমানবদের প্রতি তার প্রেম প্রমাণ করেছিলেন। দুষ্ট হেরোদিয়া, “কুপিত হইয়া” দিয়াবল-অনুপ্রাণিত হয়ে এক বছর কারাবাসের পর যোহনের মস্তক দ্বিখণ্ড করে। (মার্ক ৬:১৬-১৯; মথি ১৪:৩-১২) কিন্তু মশীহের অগ্রদূত যিহোবার প্রতি তার বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিলেন এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতার নতুন জগতে অনন্ত জীবন উপভোগ করার জন্য শীঘ্রই মৃত্যু থেকে উত্থিত হবেন।—যোহন ৫:২৮, ২৯; ২ পিতর ৩:১৩.