ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ১/১ পৃষ্ঠা ২৭-৩০
  • দুর্বলতা, দুষ্টতা ও অনুশোচনা নির্ধারণ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • দুর্বলতা, দুষ্টতা ও অনুশোচনা নির্ধারণ
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • দুর্বলতা, দুষ্টতা ও অনুশোচনার পরিমাপ করা
  • দায়িত্বভার গ্রহণ ও অনুশোচনা করা
  • যা মন্দ তা অভ্যাস করা
  • যিহোবার প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ অসম্মান
  • অপরের ক্ষতি করা
  • ঈশ্বরীয় নীতিগুলির প্রয়োগ
  • সবসময় যিহোবার শাসন গ্রহণ করুন
    ২০০৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কোনো গুরুতর পাপ করে ফেললে আপনি কী করবেন?
    চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
  • আপনি কি পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপ করেছেন?
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ১/১ পৃষ্ঠা ২৭-৩০

দুর্বলতা, দুষ্টতা ও অনুশোচনা নির্ধারণ

পাপ এমন একটা জিনিস যা খ্রীষ্টানেরা ঘৃণা করে—অর্থাৎ যিহোবার ধার্মিক মান থেকে পড়ে যাওয়া। (ইব্রীয় ১:৯) কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, যে আমরা সকলেই কখনও না কখনও পাপ করে থাকি। আমাদের সকলকেই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বলতা ও অসিদ্ধতার সাথে লড়াই করতে হয়। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা যদি আমাদের পাপ যিহোবার কাছে স্বীকার করি এবং আন্তরিকভাবে তা আবার না করার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা শুদ্ধ বিবেক নিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারব। (রোমীয় ৭:২১-২৪; ১ যোহন ১:৮, ৯; ২:১, ২) আমরা যিহোবাকে ধন্যবাদ দিই, কারণ মুক্তির মূল্যের ভিত্তিতে, তিনি দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের পবিত্র পরিচর্যাকে গ্রহণ করেন।

যদি মাংসিক দুর্বলতার জন্য কেউ গুরুতর পাপ করে, তাহলে তৎক্ষণাৎ অবশ্যই যাকোব ৫:১৪-১৬ পদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার সাহায্যের প্রয়োজন: “তোমাদের মধ্যে কেহ কি [আত্মিকভাবে] রোগগ্রস্ত? সে মণ্ডলীর প্রাচীনবর্গকে আহ্বান করুক; . . . সে যদি পাপ করিয়া থাকে, তবে তাহার মোচন হইবে। অতএব তোমরা একজন অন্য জনের কাছে আপন আপন পাপ স্বীকার কর, ও একজন অন্য জনের নিমিত্ত প্রার্থনা কর, যেন সুস্থ হইতে পার।”

তাই, যখন একজন উৎসর্গীকৃত খ্রীষ্টান গুরুতর পাপ করে ফেলে, তখন ব্যক্তিগতভাবে যিহোবার কাছে স্বীকার করা ছাড়াও আরও অধিক কিছু করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। প্রাচীনদের অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যেহেতু মণ্ডলীর পবিত্রতা ও শান্তি সংকটাপন্ন। (মথি ১৮:১৫-১৭; ১ করিন্থীয় ৫:৯-১১; ৬:৯, ১০) প্রাচীনদের হয়ত নির্ধারণ করতে হতে পারে যে: সেই ব্যক্তিটি কি অনুতপ্ত? কোন জিনিসটি পাপ করতে প্ররোচিত করেছে? এটা কি একটা সাময়িক দুর্বলতার ফলে হয়েছে? এটা কি একটা পাপের অভ্যাসের ফল? এই নির্ধারণগুলি করা সবসময় সহজ বা স্পষ্ট হয় না আর এর জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণতার।

অন্যায় কাজ ও দুষ্ট স্বভাব অনুধাবনের ফলে যদি পাপ করা হয় তাহলে কী বলা যেতে পারে? তখন প্রাচীনদের দায়িত্ব স্পষ্ট হয়ে পড়ে। করিন্থীয় মণ্ডলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিচালনা সম্বন্ধে নির্দেশ দিতে গিয়ে, প্রেরিত পৌল বলেন: “তোমরা আপনাদের মধ্য হইতে সেই দুষ্টকে বাহির করিয়া দেও।” (১ করিন্থীয় ৫:১৩) খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মধ্যে দুষ্ট লোকেদের কোন স্থান নেই।

দুর্বলতা, দুষ্টতা ও অনুশোচনার পরিমাপ করা

কিভাবে প্রাচীনেরা বুঝতে পারবেন যে একজন ব্যক্তি অনুতপ্ত?a এটা কোন সাধারণ প্রশ্ন নয়। উদাহরণস্বরূপ রাজা দায়ূদের কথা চিন্তা করুন। তিনি পারদার্য করেন এবং তারপর, একরকম, খুনের দোষেও দোষী হন। তবুও, যিহোবা তাকে বেঁচে থাকতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (২ শমূয়েল ১১:২-২৪; ১২:১-১৪) এছাড়াও চিন্তা করে দেখুন অননিয় ও সাফীরার কথা। মিথ্যা কথা বলার দ্বারা তারা প্রেরিতদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল, যতটা উদার তারা ছিল, ছলনার সাথে তার চাইতে বেশি উদারতা দেখানোর ভান করেছিল। গুরুতর অন্যায়? হ্যাঁ। খুন ও ব্যভিচারের মতো খারাপ? অবশ্যই না! তবুও অননিয় ও সাফীরাকে তাদের জীবন দিতে হয়েছিল।—প্রেরিত ৫:১-১১.

কেন দুধরনের বিচার? দায়ূদ মাংসিক দুর্বলতার জন্য গুরুতর পাপ করেছিলেন। তিনি যা করেছিলেন তার মুখোমুখি যখন হলেন, তখন তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং যিহোবা তাকে ক্ষমা করেন—যদিও তিনি এর জন্য কঠিন শাস্তি পেয়েছিলেন বিশেষ করে তার পরিবারকে কেন্দ্র করে। অননিয় ও সাফীরা পাপ করে এই অর্থে যে তারা কপটতার সাথে মিথ্যা বলে, খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীকে প্রতারণা করার চেষ্টা করে এবং এইভাবে ‘পবিত্র আত্মা ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ছলনা করে।’ এটাই তাদের দুষ্ট হৃদয়ের প্রমাণ দেয়। অতএব তাদের আরও কঠিনভাবে বিচার করা হয়।

এই উভয় ক্ষেত্রেই যিহোবা বিচার করেন এবং তাঁর বিচার সঠিক ছিল কারণ তিনি হৃদয়ের পরীক্ষা করতে পারেন। (হিতোপদেশ ১৭:৩) মনুষ্য প্রাচীনেরা তা পারেন না। তাহলে কিভাবে প্রাচীনেরা বুঝতে পারবেন যে, একটি গুরুতর পাপ, যা, দুষ্টতার চাইতে দুর্বলতার জন্যই প্রকাশ পেয়েছে কি না?

বস্তুতপক্ষে, সব পাপ কাজই দুষ্ট, কিন্তু সব পাপীরাই দুষ্ট নয়। একই পাপ হয়ত কারও ক্ষেত্রে হয়ত দুর্বলতার দরুন প্রকাশ পায় আবার অন্যের ক্ষেত্রে দুষ্টতার দরুন। অবশ্য, কোন পাপীর পাপ করার ক্ষেত্রে, তার দুর্বলতা ও দুষ্টতা দুটোই কিছু পরিমাণে জড়িত থাকে। একটি নিরীক্ষণ করার বিষয় হল যে সেই পাপী যা করেছে তার সম্বন্ধে কী ধরনের মনোভাব সে পোষণ করছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কী করবে বলে সে চিন্তা করছে। সে কি অনুতাপের মনোভাব প্রদর্শন করেছে? প্রাচীনদের এটা বিচক্ষণতার সাথে বুঝতে হবে। এই বিচক্ষণতা তারা কোথা থেকে পাবেন? প্রেরিত পৌল তীমথিয়কে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন: “আমি যাহা বলি, তাহা বিবেচনা কর; কারণ প্রভু সর্ব্ববিষয়ে তোমাকে বুদ্ধি দিবেন।” (২ তীমথিয় ২:৭) যদি প্রাচীনেরা নম্রভাবে প্রেরিত পৌলের ও অন্যান্য বাইবেল লেখকদের অনুপ্রাণিত বাক্যগুলি “বিবেচনা” করেন, তাহলে মণ্ডলীতে যে পাপ করেছে তার বিষয়টিকে বোঝবার জন্য তারাও প্রয়োজনীয় বিচক্ষণতা পাবেন। তখনই, তাদের যে সিদ্ধান্ত, তা নিজেদের নয় বরঞ্চ যিহোবার চিন্তাধারাকে প্রতীয়মান করবে।—হিতোপদেশ ১১:২; মথি ১৮:১৮.

এটা কিভাবে করা হয়? একটি উপায় হল যে বাইবেল যে ভাবে দুষ্ট লোকের বর্ণনা দেয় তা পরীক্ষা করা এবং তারপর দেখা যে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা যায় কি না।

দায়িত্বভার গ্রহণ ও অনুশোচনা করা

প্রথম মানুষ যারা দুষ্টতার পথ বেছে নিয়েছিল তারা হল আদম ও হবা। যদিও তারা সিদ্ধ ছিল এবং যিহোবার নিয়ম সম্বন্ধে তাদের সম্পূর্ণ জ্ঞান ছিল, তবুও তারা ঐশিক সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। যখন যিহোবা তাদের কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তাদের যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা খুবই উল্লেখযোগ্য—আদম হবাকে দোষ দেয়, আর হবা সর্পকে দোষারোপ করে! (আদিপুস্তক ৩:১২, ১৩) এর সাথে দায়ূদের গভীর নম্রতার তুলনা করুন। গুরুতর পাপের মুখোমুখি হয়ে, তিনি তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ক্ষমা ভিক্ষা করেন, এই বলে যে: “আমি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছি।”—২ শমূয়েল ১২:১৩; গীতসংহিতা ৫১:৪, ৯ ১০.

প্রাচীনেরা যদি এই দুটি উদাহরণের কথা মনে রাখেন তাহলে খুব ভাল হয়, যখন তারা কোন গুরুতর পাপের বিষয়টিকে নিয়ে বিবেচনা করেন, বিশেষকরে কোন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। সেই অন্যায়কারীটি কি—ঠিক দায়ূদের মতো তার পাপ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পর—সঙ্গে সঙ্গে নিজের দোষ স্বীকার করেছে এবং অনুতাপের সাথে যিহোবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে, নাকি সে হয়ত অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার দ্বারা, নিজের দোষকে ঢাকবার চেষ্টা করেছে? সত্যই, যে একজন ব্যক্তি যে পাপ করেছে সে হয়ত বোঝাতে চেষ্টা করবে যে কোন্‌ জিনিসটা তাকে এই কাজ করতে বাধ্য করেছে এবং অতীতের বা বর্তমানের এমন কোন পরিস্থিতি হয়ত থাকতে পারে, যা প্রাচীনদের বিবেচনা করার প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে কিভাবে সেই ব্যক্তিটিকে সাহায্য করা যায়। (তুলনা করুন হোশেয় ৪:১৪.) কিন্তু তাকে স্বীকার করতে হবে যে স নিজে পাপ করেছে এবং স একাই যিহোবার কাছে দোষী। মনে রাখবেন: “সদাপ্রভু ভগ্নচিত্তদের নিকটবর্ত্তী, তিনি চূর্ণমনাদের পরিত্রাণ করেন।”—গীতসংহিতা ৩৪:১৮.

যা মন্দ তা অভ্যাস করা

গীতসংহিতা পুস্তকে দুষ্ট লোকেদের সম্বন্ধে অনেক কিছু বলা আছে। ঐ শাস্ত্রপদগুলি আরও প্রাচীনদের সাহায্য করতে পারে বিবেচনা করতে যে, ব্যক্তিটি আসলে দুষ্ট নাকি দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ, রাজা দায়ূদের সেই অনুপ্রাণিত প্রার্থনার কথা চিন্তা করুন: “দুর্জ্জনদের ও অধর্ম্মাচারীদের সহিত আমাকে টানিয়া লইও না; তাহারা স্ব স্ব প্রতিবাসীদের সহিত শান্তির কথা কহে, কিন্তু তাহাদের অন্তঃকরণে হিংসাভাব আছে।” (গীতসংহিতা ২৮:৩) লক্ষ্য করুন যে এখানে দুষ্ট লোকেদের “অধর্ম্মাচারীদের” সমপর্যায়ে ফেলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি যখন মাংসিক দুর্বলতার ফলে পাপ করে ফেলে, তখন যেই মুহূর্তে সে তা বুঝতে পারে তখনই সে তা হয়ত করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কেউ যদি অন্যায় কাজকে ‘অভ্যাস’ করে এবং তা যদি তার জীবনের এক অংশ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এটা হবে দুষ্ট হৃদয়ের প্রমাণ।

ঐ একই পদে দুষ্টতার আর একটি বৈশিষ্ট্যের কথা দায়ূদ উল্লেখ করেন। অননিয় ও সাফীরার মতো, দুষ্ট লোকেরা মুখে উত্তম কথা বলে কিন্তু তাদের হৃদয় হয় মন্দ। সে হয়ত ছলনাকারী হতে পারে—ঠিক যীশুর দিনের ফরীশীদের মতো যারা ‘বাইরের লোকেদের কাছে ধার্ম্মিকতার ভান করতো অথচ ভিতরে তারা কাপট্যে ও অধর্ম্মে পরিপূর্ণ ছিল।’ (মথি ২৩:২৮; লূক ১১:৩৯) যিহোবা ছলনাকে ঘৃণা করেন। (হিতোপদেশ ৬:১৬-১৯) যদি কোন ব্যক্তি ছলনার সাথে তার গুরুতর পাপকে ঢাকবার চেষ্টা, করে এমনকি বিচার কমিটিতে কথা বলার সময়ও, অথবা সে যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেবল মাত্র সেইটুকু স্বীকার করে যা ইতিমধ্যেই অন্যেরা জেনে গেছে, কিন্তু সবটুকু স্বীকার করতে অস্বীকার করে, তাহলে এটা অবশ্যই দুষ্ট হৃদয়ের প্রকাশ বলে বিবেচিত হবে।

যিহোবার প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ অসম্মান

আরও কিছু জিনিস যা দুষ্ট ব্যক্তির চরিত্রের বৈশিষ্ট্য তার বর্ণনা গীতসংহিতা ১০ অধ্যায়ে পাওয়া যায়। আমরা সেখানে পড়ি: “দুষ্টের গর্ব্ব প্রযুক্ত দুঃখী আগুনে পোড়ে, . . . সদাপ্রভুকে . . . অবজ্ঞা করে।” (গীতসংহিতা ১০:২, ৩) একজন উৎসর্গীকৃত খ্রীষ্টানের প্রতি আমাদের কী ধরনের মনোভাব থাকা উচিত যে উদ্ধত এবং যে যিহোবার অসম্মান করে? অবশ্যই, এগুলি দুষ্ট মানসিকতার মনোভাব। একজন ব্যক্তি যে দুর্বলতার ফলে পাপ করে ফেলেছে, সে যে মুহূর্তে তার পাপকে উপলব্ধি করবে, অথবা কেউ যদি তা তাকে ধরিয়ে দেয়, তাহলে সে অনুতাপ প্রকাশ করবে এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করবে তার জীবনকে পরিবর্তন করতে। (২ করিন্থীয় ৭:১০, ১১) বিপরীত ক্ষেত্রে আবার, যদি কোন ব্যক্তি, মূলত যিহোবার প্রতি অসম্মান প্রযুক্ত পাপ করে, তাহলে বারে বারে সেই একই পাপ কাজ করার থেকে কে তাকে বিরত করতে পারে? যদি সে উদ্ধত হয়, তাহলে কোমলভাবে অনুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও, সে কিভাবে নম্রতা দেখাবে যা আন্তরিক ও প্রকৃত অনুতাপের জন্য একান্ত প্রয়োজন?

সেই একই গীতে দায়ূদের লেখা পরবর্তী কথাগুলি বিবেচনা করুন: “দুষ্ট কেন ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করে, মনে মনে বলে, তুমি অনুসন্ধান করিবে না?” (গীতসংহিতা ১০:১৩) খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মধ্যে, দুষ্ট ব্যক্তি জানে ভাল ও মন্দের ব্যবধান, কিন্তু সে অন্যায় কাজ করতে দ্বিধাবোধ করবে না যদি সে মনে করে থাকে যে তার অন্যায় কখনও ধরা পড়বে না। যতক্ষণ ধরা পড়ার ভয় না থাকে, ততক্ষণ সে পুরোদমে তার পাপপূর্ণ প্রবণতাকে চালিয়ে নিয়ে যাবে। দায়ূদের মতো না হয়ে, অবশেষে যদি তার পাপ ধরাও পড়ে, সে তখন শাস্তি এড়াবার জন্য নানা রকম পরিকল্পনা করার চেষ্টা করবে। এইধরনের ব্যক্তি যিহোবার প্রতি সাংঘাতিক অসম্মান প্রদর্শন করে থাকে। “ঈশ্বর-ভয় তাহার চক্ষুর অগোচর। . . . সে দুষ্কর্ম ঘৃণা করে না।”—গীতসংহিতা ৩৬:১, ৪.

অপরের ক্ষতি করা

সাধারণত, একাধিক ব্যক্তি পাপের দ্বারা প্রভাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন পারদারিক ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে; সে তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও বিপদে ফেলে; যে স্ত্রীলোকটির সাথে সে পাপ করেছে সেই স্ত্রীলোকটি যদি বিবাহিতা হয়, তাহলে তার পরিবারও এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে; এছাড়াও সে মণ্ডলীর সুনামকে নষ্ট করে। এই সমস্ত কিছু সে কিভাবে দেখে? সে কি আন্তরিক দুঃখ ও প্রকৃত অনুতাপ দেখিয়েছে? অথবা সে কি ৯৪ গীতের মনোভাব প্রদর্শন করছে যা বলে: “অধর্ম্মচারী সকলে আত্মশ্লাঘা করিতেছে। হে সদাপ্রভু, তোমার প্রজাদিগকেই তাহারা চূর্ণ করিতেছে, তোমার অধিকারকে দুঃখ দিতেছে। তাহারা বিধবা ও প্রবাসীকে বধ করিতেছে; পিতৃহীনদিগকে মারিয়া ফেলিতেছে। তাহারা বলিতেছে, সদাপ্রভু দেখিবেন না, যাকোবের ঈশ্বর বিবেচনা করিবেন না”?—গীতসংহিতা ৯৪:৪-৭.

যে পাপগুলি সাধারণত মণ্ডলীর বিবেচনার অধীনে আসে সেগুলি সম্ভবত খুন বা হত্যার পর্যায় পড়ে না। তথাপি যে মনোভাবটি এখানে প্রকাশ পায়—তা হল নিজের স্বার্থের জন্য অপরকে দোষী করার মনোভাব—তা প্রাচীনদের কাছে স্পষ্ট হয়ে পড়ে যখন তারা সেই অন্যায় কাজটির সম্বন্ধে অনুসন্ধান চালান। এটাও একধরনের একরোখামী, যা এক দুষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে। (হিতোপদেশ ২১:৪) এটি সেই সত্য খ্রীষ্টানের যা মনোভাব তার সম্পূর্ণ বিপরীত, যে মনোভাবের ফলে সে স্বেচ্ছায় তার ভাইয়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে।—যোহন ১৫:১২, ১৩.

ঈশ্বরীয় নীতিগুলির প্রয়োগ

এই কয়েকটি নির্দেশাবলী দেওয়ার উদ্দেশ্য কোন নিয়ম ধার্য করা নয়। কিন্তু যিহোবা কোন্‌ জিনিসগুলিকে প্রকৃতপক্ষে দুষ্ট বলে মনে করেন তার একটা ধারণা অবশ্য এগুলি দেয়। অন্যায় কাজের দোষকে গ্রহণ করতে কি অস্বীকার করা হয়েছে? যে ব্যক্তিটি পাপ করেছে সে কি পূর্বে দেওয়া এই একই বিষয়ের ওপর উপদেশকে সরাসরি অগ্রাহ্য করেছে? অন্যায়কারী কি যিহোবার নিয়মের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছে? সে কি তার পাপকে ঢাকবার জন্য পরিকল্পনা করেছে, সম্ভবত অপরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে? (যিহূদা ৪) এইধরনের অভিপ্রায়গুলি কি আরও দৃঢ় আকার ধারণ করে যখন অন্যায়টি ধরা পড়ে? যিহোবার নামের প্রতি ও অপরের প্রতি যে ক্ষতি সে করেছে সেই সম্বন্ধে কি অন্যায়কারী সম্পূর্ণ উদাসীনতা দেখিয়েছে? তার মনোভাব সম্বন্ধে কী বলা যেতে পারে? প্রেমপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপদেশ পাওয়ার পরও কি সে উদ্ধত বা একগুঁয়েমী মনোভাব দেখাচ্ছে? তার কি সেই ভুলটি পুনরায় না করার আন্তরিক ইচ্ছার অভাব রয়েছে? যদি প্রাচীনেরা এই সমস্ত জিনিসগুলি দেখতে পান, যা স্পষ্টভাবে অনুতাপের অভাবকে প্রকাশ করে, তাহলে হয়ত তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন যে, যে পাপ কাজটি সাধিত হয়েছে তা কেবল মাত্র মাংসিক দুর্বলতার নয় বরঞ্চ দুষ্টতার প্রকাশ।

একজন ব্যক্তি যার হয়ত দুষ্ট প্রবণতা রয়েছে, এমনকি তার সাথে কথা বলার সময়েও, প্রাচীনেরা তাকে ধার্মিক পথে পরিচালনা করতে ক্ষান্ত হবেন না। (ইব্রীয় ৩:১২) দুষ্ট ব্যক্তি হয়ত অনুতপ্ত হয়ে পরিবর্তন হতে পারে। যদি তা না হত তাহলে যিহোবা কেন ইস্রায়েলদের বলেছিলেন: “দুষ্ট আপন পথ, অধার্ম্মিক আপন সঙ্কল্প ত্যাগ করুক; এবং সে সদাপ্রভুর প্রতি ফিরিয়া আইসুক, তাহাতে তিনি তাহার প্রতি করুণা করিবেন; আমাদের ঈশ্বরের প্রতি ফিরিয়া আইসুক, কেননা তিনি প্রচুররূপে ক্ষমা করিবেন”? (যিশাইয় ৫৫:৭) এমনকি হয়ত বিচার সংক্রান্ত শুনানীর সময়, প্রাচীনেরা সেই ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে এক লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন দেখতে পেতে পারেন যা অনুতাপ ও সঠিক মনোভাবের প্রকাশ হতে পারে।

তবে যাইহোক না কেন, কোন ব্যক্তিকে সমাজচ্যুত করার সময়, প্রাচীনেরা, পালক হিসাবে, সেই ব্যক্তিটিকে অনুতপ্ত হতে এবং আবার যিহোবার অনুকম্পা ফিরে পাওয়ার জন্য উৎসাহ দেবেন। করিন্থের সেই “দুষ্ট ব্যক্তির” কথা মনে করুন? পরিশেষে সে তার পথ পরিবর্তন করেছিল এবং পৌল পরে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য সুপারিশ করেন। (২ করিন্থীয় ২:৭, ৮) রাজা মনঃশির কথাও চিন্তা করুন। তিনি অবশ্যই খুব দুষ্ট ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন, যিহোবা তখন তার সেই অনুতাপকে গ্রহণ করেছিলেন।—২ রাজাবলি ২১:১০-১৬; ২ বংশাবলি ৩৩:৯, ১৩, ১৯.

অবশ্য, এমন একটি পাপ আছে যার ক্ষমা হয় না—পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপ। (ইব্রীয় ১০:২৬, ২৭) যিহোবাই একমাত্র বিচার করতে পারেন যে কে ঐ ধরনের পাপ করেছে। মানুষের তা বিচার করার কোন অধিকার নেই। প্রাচীনদের দায়িত্ব হল মণ্ডলীকে পরিষ্কার রাখা এবং অনুতপ্ত পাপীদেরকে পুনরায় ফিরে আসতে সাহায্য করা। তাদের সিদ্ধান্তের মধ্যে যিহোবার প্রজ্ঞাকে প্রতিফলন করতে দিয়ে যদি তারা বিচক্ষণতা ও নম্রতার সাথে তা করেন, তাহলে যিহোবা তাদের পালকের কাজের এই দিকটির ক্ষেত্রেও আশীর্বাদ করবেন।

[পাদটীকাগুলো]

a আরও তথ্যের জন্য, প্রহরীদুর্গ সেপ্টেম্বর ১, ১৯৮১, পৃষ্ঠা ২৪-৬; শাস্ত্রের প্রতি অন্তর্দৃষ্টি খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৭২-৪, (ইংরাজি) দেখুন।

[২৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

অননিয় ও সাফীরা কপটতার সাথে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে ছলনা করে যা তাদের দুষ্ট হৃদয়ের পরিচয় দেয়

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার