ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ১/১ পৃষ্ঠা ২০-২৩
  • এক অমূল্য সম্পদ বন্টন করা

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • এক অমূল্য সম্পদ বন্টন করা
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • মায়ের অনুপ্রাণিত উদাহরণ
  • আমাদের সম্পদ পূর্ণ-সময়ের জন্য ভাগ করে নেওয়া
  • একটি নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো
  • মাল্টা ও লিবিয়া
  • এক নতুন কার্যভার
  • কুষ্ঠদের কলোনী
  • সম্পদের দ্বারা পুষ্ট হওয়া
  • যিহোবা আমাকে তাঁর ইচ্ছা পালন করার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন
    ২০১২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি এবং হৃদয় নিবদ্ধ রাখা
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আমার সৃষ্টিকর্তাকে ক্রমাগত সেবা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “সর্ব্বজনের কাছে সর্ব্ববিধ” হওয়া
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ১/১ পৃষ্ঠা ২০-২৩

এক অমূল্য সম্পদ বন্টন করা

গ্লরিয়া মালাসপিনার দ্বারা কথিত

সিসিলি দ্বীপের তীরবর্তী অঞ্চল দৃষ্টির অগোচর হওয়ার পর থেকেই আমি ও আমার স্বামী ভূমধ্যসাগরের মাল্টা দ্বীপে আমাদের গন্তব্য স্থলের প্রতি মনোযোগ দিতে শুরু করলাম। কী আনন্দদায়ক প্রত্যাশা! যখন জাহাজ সমুদ্র পার হতে থাকে, তখন প্রেরিত পৌলের প্রথম শতাব্দীর মাল্টা দ্বীপের অভিজ্ঞতার কথা আমরা মনে করতে লাগলাম।—প্রেরিত ২৮:১-১০.

সেটি ছিল ১৯৫৩ সাল এবং মাল্টা দ্বীপে তখনও যিহোবার সাক্ষীদের প্রচার কাজ আইনত স্বীকৃতি পায়নি। এর ঠিক এক বছর আগে, আমরা ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়ড্‌ থেকে স্নাতক হয়েছি ও ইতালিতে আমাদের কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অল্প কিছুদিন মাত্র ইতালীয় ভাষা শেখার পর, আমরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়েছিলাম যে আমাদের জন্য মাল্টা দ্বীপে কী অপেক্ষা করছে।

আপনি কি জানতে চাইবেন না যে কিভাবে আমি একজন যুবতী হয়ে বিদেশী মিশনারী হই? আসুন আমি আপনাদের বলি।

মায়ের অনুপ্রাণিত উদাহরণ

১৯২৬ সালে, যখন আমাদের পরিবার কানাডার অন্টারিও, ফোর্ট ফ্রান্সেস শহরে ছিল, তখন আমার মা লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি যারা জীবিত আছেন তারা কখনও মরবেন না (ইংরাজি) নামক পুস্তিকাটি একজন বাইবেল ছাত্রের (তখন যিহোবার সাক্ষীরা এই নামে পরিচিত ছিল) কাছ থেকে নিয়েছিলেন। মা সেটাকে গভীর মনোযোগের সঙ্গে পড়েছিলেন এবং সেই সপ্তাহেই এক বাইবেল স্টাডি গ্রুপে যোগ দিয়েছিলেন প্রহরীদুর্গ পত্রিকা নিয়ে। মা ছিলেন একজন খুবই আগ্রহী বাইবেল পাঠিকা আর তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের বার্তাকে গ্রহণ করেছিলেন সম্পদ মনে করে যা মা অনেকদিন যাবৎ খুঁজছিলেন। (মথি ৬:৩৩; ১৩:৪৪) বাবার প্রচণ্ড বিরোধিতা ও সেইসঙ্গে তিনটি ছোট মেয়ের দেখাশোনা করার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি যা শিখছিলেন, তার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

পরবর্তী ২০ বছর যাবৎ মায়ের অটল বিশ্বাস আমাকে ও আমার দুই দিদি থেল্‌মা ও ভায়েওলাকে ধার্মিকতার নতুন জগতে অনন্ত জীবনের অপূর্ব আশার বিষয়ে জানতে সাহায্য করেছিল। (২ পিতর ৩:১৩) মা অনেক কষ্টকর চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন, কিন্তু আমরা কখনও তার মনোনীত পথের সত্যতাকে সন্দেহ করিনি।

১৯৩১ সালে, আমার বয়স যখন মাত্র দশ, তখন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর মিনেসোটার এক গোলাবাড়িতে চলে যাই। সেখানে যিহোবার সাক্ষীদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত মেলামেশা ছিন্ন হয়, কিন্তু মায়ের কাছ থেকে বাইবেল শিক্ষা পেতাম। পূর্ণ-সময়ের পরিচারক অথবা কলপোর্টাররূপে মায়ের উৎসর্গীকৃত সেবা আমাকে সেই কাজে যোগদান করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৯৩৮ সালে আমি ও আমার দুই দিদি যিহোবার কাছে আমাদের জীবন উৎসর্গীকরণের চিহ্ন হিসাবে মিনেসোটার ডুলুথ্‌ নামক জায়গার এক অধিবেশনে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলাম।

১৯৩৮ সালে, মাধ্যমিক পাশ করার পর মা আমাকে বাণিজ্যের এক কোর্স করতে উৎসাহ দেন, যাতে করে আমি নিজেই নিজের খরচ বহন করতে পারি অগ্রগামী (কলপোর্টারের নতুন নাম) হিসাবে। এটা ছিল খুব ভাল উপদেশ, যেহেতু বিশেষকরে বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি তার নিজের পথে চলবেন ও আমরা যেন নিজেদের যত্ন নিজেরাই নিই।

আমাদের সম্পদ পূর্ণ-সময়ের জন্য ভাগ করে নেওয়া

অবশেষে আমি ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যাই এবং ১৯৪৭ সালে স্যান ফ্রানসিস্‌কোতে অগ্রগামীর কাজ শুরু করি। লস্‌ এঞ্জেলস্‌য়ে “সর্বজাতির প্রসার” নামক অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন ফ্রান্সিস মালাস্‌পিনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। মিশনারী কাজে আমাদের একই লক্ষ্য থাকায় এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৪৯ সালে আমাদের বিবাহ হয়।

১৯৫১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, আমি ও ফ্রান্সিস ১৮তম গিলিয়ড ক্লাসের জন্য আমন্ত্রিত হই। পাঁচ মাস ব্যাপক শিক্ষা নেওয়ার পর ১৯৫২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি স্নাতক হিসাবে ঘোষিত হওয়ার দিনে, স্কুলের সভাপতি নাথন্‌ এইচ্‌. নর্‌ বর্ণানুক্রমিকভাবে ঘোষণা করেন কোন্‌ দেশে আমাদের পাঠানো হবে। যখন তিনি বলেন, “ইতালী, ভাই ও বোন মালাসপিনা,” তখনই আমরা কল্পনায় ইতালী যাত্রা শুরু করে দিই!

কয়েক সপ্তাহ পরে, আমরা নিউ ইয়র্ক থেকে ইতালীতে জেনোয়ার উদ্দেশ্যে দশ দিনের সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিলাম। ব্রুকলিন, প্রধান কার্যালয়ের সদস্য জোভানি ডিসিকা এবং ম্যাক্স্‌ লারসন আমাদের বিদায় সম্ভাষণ জানাবার জন্য পোতবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। জেনোয়াতে পৌঁছে সেখানকার মিশনারীদের আপ্যায়ন আমরা পেয়েছিলাম যারা দেশান্তরের পুঙ্খানুপুঙ্খ রীতিনীতিগুলির সাথে পরিচিত ছিলেন।

চারিপাশের সবকিছুর দ্বারা পুলকিত হয়ে আমরা একটি ট্রেনে বোলোগ্‌না অভিমুখে যাত্রা করলাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমাবিধ্বস্ত শহরটি তখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি, যখন আমরা সেখানে পৌঁছাই। কিন্তু সেখানে অনেক মনোরম জিনিসও ছিল, যেমন ভাজা কফির উগ্র সৌরভ যা প্রাতঃকালের বাতাসকে মুখর করে রাখতো, এবং চমৎকার মশলাদার চাট্‌নির সুগন্ধ যেগুলি বহুরকম পেস্তা দিয়ে তৈরি হত।

একটি নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো

আমরা আমাদের পরিচর্যা শুরু করতাম একটি মুখস্থ করা বর্ণনা দিয়ে ও আমরা এটাকে বারবার বলতাম যতক্ষণ সেই বার্তা কেউ শুনতো অথবা দরজা বন্ধ করে দিত। আমাদের বক্তব্যকে ব্যক্ত করার ইচ্ছা আমাদের দক্ষতার সঙ্গে সেই ভাষা শিখতে প্রভাবিত করে। চার মাস পরে আমাদের নেপলসে-এ এক নতুন মিশনারী গৃহে পাঠানো হয়।

অপূর্ব দৃশ্যাবলীর জন্য এই বিশাল শহরটি ছিল প্রসিদ্ধ। এখানে আমাদের পরিচর্যা আমরা উপভোগ করেছিলাম, কিন্তু আরও চার মাস বাদে আমার স্বামীকে রোম থেকে সিসিলি পর্যন্ত সমস্ত মণ্ডলীর সীমা অথবা ভ্রমণ অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কালক্রমে আমরা মাল্টা, এমনকি উত্তর আফ্রিকার লিবিয়াও পরিদর্শন করি।

তখনকার দিনে নেপলস্‌ থেকে সিসিলি পর্যন্ত ট্রেনযাত্রাগুলি ছিল শারীরিক সহ্যশক্তির পরীক্ষাস্বরূপ। আমাদের অনেকসময় ছয় থেকে আট ঘন্টা ভিড় ট্রেনে যাতায়াতের পথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাটাতে হত। যাইহোক, এগুলি আমাদের চারিপাশের লোকেদের ভালভাবে লক্ষ্য করতে সুযোগ দিয়েছিল। অনেকসময় ঘরে তৈরি মদের বড় বড় সরুগলা বোতলগুলি বসবার জায়গা হিসাবে তার মালিক ব্যবহার করত এবং দীর্ঘ যাত্রাকালে তৃষ্ণা মিটানোর জন্য কখনও কখনও তারা এটি পানও করত। বন্ধুসুলভ অতিথিপরায়ণ যাত্রীরা প্রায়ই তাদের রুটি ও সালামী আমাদের নিতে আমন্ত্রণ জানাত। তাদের সেই অতিথিপরায়ণ সহৃদয় আচরণ আমরা উপলব্ধি করি।

সিসিলিতে আমাদের সাথে ভাইরা দেখা করতে আসত যারা একটানা সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে আমাদের সুটকেশগুলি খাড়া পাহাড়ের চূড়াতে অবস্থিত মণ্ডলীতে বহন করে নিয়ে যেত। আমাদের খ্রীষ্টীয় ভাইদের সাদর অভ্যর্থনা সকল ক্লান্তিকে ভুলিয়ে দিত। অনেক সময় আমরা খচ্চরের পিঠে চড়ে যেতাম, কিন্তু কখনও নিচের দিকে তাকাতাম না, কারণ খচ্চরের একটা ভুল পদক্ষেপের অর্থ ছিল আমাদের নির্ঘাত মৃত্যু। কষ্ট থাকা সত্ত্বেও আমাদের ভাইদের বাইবেলের সত্যের প্রতি দৃঢ় পদক্ষেপ আমাদের শক্তি যোগায় ও আমাদের প্রতি তারা যে প্রেম দেখিয়েছিল তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ছিলাম।

মাল্টা ও লিবিয়া

সিসিলির ভাইদের প্রচুর স্মৃতি নিয়ে আমরা মাল্টা অভিমুখে সমুদ্রযাত্রা করলাম। প্রেরিত পৌল সেখানে অনেক সহৃদয় ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং আমরাও পেয়েছিলাম। সেন্ট পলস্‌ উপসাগরে একটি ঝড় আমাদের প্রথম শতাব্দীর ছোট জাহাজগুলি কী ধরনের বিপদের সামনে পড়ত তা বুঝতে সাহায্য করেছিল। (প্রেরিত ২৭:৩৯–২৮:১০) তথাপি আমাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল ছিল লিবিয়া। আফ্রিকার এস্থানে আমাদের পরিস্থিতি কেমন হবে যেখানে আমাদের কাজে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?

আবার আমরা এক সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতির সামনে এলাম। যখন আমরা ট্রীপলি শহরের বাণিজ্যিক এলাকার কলোনীর রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম, তখন শহরের দৃশ্য আমার নজর কাড়লো। লোকেরা সাহারা মরুভূমির দিনের দগ্ধকারী উষ্ণতা ও রাতের শৈত্যতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উঠের লোমের তৈরি জামাকাপড় পরত। লোকেরা আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যেভাবে জীবনযাপন করে, তা আমরা শিখলাম ও বুঝলামও।

সেখানকার ভাইদের সতর্কতামূলক উদ্যোগ আমাদের শিখিয়েছিল যে যিহোবার উপর আমাদের কতটা নির্ভর করা উচিত ও সেইসঙ্গে যারা এমন পরিস্থিতিতে কাজ করতে বেশি অভিজ্ঞ, তাদের নির্দেশ মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খ্রীষ্টীয় ভাইরা বিভিন্ন জাতির লোক ছিলেন; তবুও তারা যিহোবার সেবায় সমন্বয়ের সাথে কাজ করে চলেছিল।

এক নতুন কার্যভার

প্রচার কাজে বিরোধিতার জন্য, আমরা ইতালী ছাড়তে বাধ্য হই, কিন্তু ১৯৫৭ সালে আনন্দের সঙ্গে ব্রাজিলে এক নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করি। ফ্রান্সিস ও আমি এরকম জীবন ও রীতিনীতির সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার আট মাস পরে ফ্রান্সিসকে সীমার কাজের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমরা বাসে, প্লেনে এবং পদব্রজে যাত্রা করতাম। এই বিশাল মনোরম দেশে যাত্রা যেন আমাদের ভূগোল শিক্ষার এক রাস্তা করে দেয়।

আমাদের প্রথম সীমা ছিল দশটি মণ্ডলী নিয়ে সাও পাউলো শহর, সেইসঙ্গে আভ্যন্তরীণ দশটি ছোট নগর ও সাও পাউলো রাজ্যের দক্ষিণের তীরবর্তী অঞ্চল নিয়ে তৈরি। সে সময়ে ঐ শহরগুলিতে কোন মণ্ডলী ছিল না। আমাদের একটি জায়গা স্থির করতে হত, সেখানে বসতি করে রাজ্যের সংবাদ দেওয়ার জন্য ঘরে ঘরে যেতাম। তাদের কাছে আমরা ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শিক্ষামূলক ফিল্ম প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রণও দিয়ে আসতাম।

বাসেতে ফিল্ম, প্রোজেক্টর, ট্রান্সফরমার, ফাইল, সাহিত্যাদি, আমন্ত্রণপত্র ও রাবারস্টাম্প নিয়ে যাতায়াত করা কোন সহজ কাজ ছিল না। তুলনামূলকভাবে আমাদের জামাকাপড়ের ছোট সুটকেসটি কোন বড় ছিল না। ভাঙাচোরা রাস্তার উপর দিয়ে যাত্রা করার সময়ে প্রোজেক্টরটাকে আমাদের কোলের ওপরে রাখতে হত যাতে সেটা ভেঙে না যায়।

ফিল্ম কোথায় দেখানো হবে স্থির করার পর আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে আমন্ত্রণ জানাতাম। কখনও কখনও আমরা রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে ফিল্ম দেখানোর অনুমতি পেতাম। অন্য সময়ে আমরা খোলা জায়গায় বিছানার চাদর টাঙ্গিয়ে দিতাম। আগ্রহী দর্শকেরা, যাদের মধ্যে অনেকে হয়ত কখনও চলচিত্র দেখেনি, তারা ফ্রান্সিস ব্যাখ্যাগুলি পড়ার সময় দাঁড়িয়ে মনোযোগের সাথে তা শুনত। তারপর, আমরা বাইবেল সাহিত্যাদি বিতরণ করতাম।

গ্রামেতে যাওয়ার জন্য আমরা বাস নিতাম। কোন কোন নদীতে সেতু ছিল না, তাই বাসকে ভেলাতে করে ভাসিয়ে অন্য পারে নিয়ে যাওয়া হত। বাস ভিতর থেকে নিচে নেমে পড়তে আমাদের আদেশ দেওয়া হত, আর যদি আমরা বাসটি নদীতে গড়িয়ে যেতে দেখি তাহলে লাফিয়ে ভেলার অন্য দিকে চলে যেতে বলা হয়, যাতে আমরা জলে ডুবে না যাই। অমরা খুবই কৃতজ্ঞ যে তেমন কখনও ঘটেনি—আনন্দের বিষয়, কারণ নদীটি ছিল মাংসাশী পিরান্হা মাছের জন্য বিখ্যাত!

১৯৫৮ সালে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর আমরা ব্রাজিলে ফিরে যাই, যেখানে খুব শীঘ্রই আমরা ভ্রমণের কাজে যোগ দিই। এখন আমাদের জেলার সীমানা হল দক্ষিণে উরুগুয়ের সীমা, পশ্চিমে পারাগুয়ে, উত্তরে পেরনামবিউকো এবং ব্রাজিলের পূর্বদিকের ছিল আটলান্টিক সমুদ্র।

কুষ্ঠদের কলোনী

১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কুষ্ঠদের কলোনীতে আমাদের সমিতির একটা ফিল্ম দেখাবার আমন্ত্রণ আমরা গ্রহণ করি। আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে আমি খুবই ভীত ছিলাম। বাইবেলে পড়া ছাড়া কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে আমাদের আর কোন ধারণাই ছিল না। সাদা রং করা প্রাঙ্গণ পেরিয়ে আমাদের এক বিশাল রঙ্গশালার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মধ্যস্থলে একটা জায়গা দড়ি দিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছিল আমাদের জিনিসপত্র ও আমাদের জন্য।

যে বিদ্যুতের মিস্ত্রি আমাদের সাহায্য করছিল, সে প্রায় ৪০ বছর যাবৎ সেই কলোনীর বাসিন্দা ছিল। সে তার দুটি হাতই কবজি অবধি ও শরীরের অন্যান্য কিছু কিছু অংশও হারিয়েছিল যা তাকে দারুনভাবে বিকৃত করে। প্রথমে আমি ভয়ে চমকে উঠেছিলাম, কিন্তু তার উৎফুল্ল আচরণ ও ডান হাতের কাজের নিপুণতা দেখে আমি আস্বস্ত হই। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পরেই আমরা অনেক বিষয়েই আলোচনা করছিলাম। এখানে আশ্রিত এক সহস্র তাড়িত ব্যক্তির মধ্যে দুশো জনেরও অধিক যোগ দিয়েছিল। যখন তারা খুড়িয়ে খুড়িয়ে আসতে লাগল, তখন তাদের রোগের বিভিন্ন পর্যায়গুলি আমরা লক্ষ্য করলাম। এক হৃদয়স্পর্শকারী অভিজ্ঞতা!

আমাদের স্মরণে এল সেই কুষ্ঠকে যীশু কী বলেছিলেন, যে অনুরোধ করেছিল “হে প্রভু, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আমাকে শুচি করিতে পারেন।” ব্যক্তিটিকে স্পর্শ করে আশ্বস্ত করে যীশু বলেছিলেন, “আমার ইচ্ছা, তুমি শুচীকৃত হও।” (মথি ৮:২, ৩) অনুষ্ঠানের শেষে অনেকেই আমাদের সেখানে যাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। তাদের বিকৃত শরীর ছিল মানব দুর্দশার চরম অবস্থার প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ। পরবর্তীকালে স্থানীয় সাক্ষীরা তাদের মধ্যে আগ্রহীদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছিল।

১৯৬৭ সালে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাই আমাদের কিছু নিদারুন শারীরিক সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য। সেখানে যখন শারীরিক সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা করছিলাম, তখন আবার আমাদের সীমাতে কাজ করার সুযোগ আসে। এর পরবর্তী ২০ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমি ফ্রান্সিসের সাথে সীমার কাজে অংশগ্রহণ করি। এই সময়ে সে রাজ্য পরিচর্যা বিদ্যালয়ের শিক্ষা দান করে।

এটা আমার কাছে কত উৎসাহের উৎসই না ছিল যে এমন একজন বিশ্বস্ত প্রেমময় স্বামীও পাই যিনি যে কোন কার্যভারই যত্নসহকারে সম্পাদন করেন! চারটি মহাদেশের বিভিন্ন অংশে বাইবেলের সত্য সম্পদ আমাদের একসঙ্গে বন্টন করার সুযোগ হত।

সম্পদের দ্বারা পুষ্ট হওয়া

ইতিমধ্যে ১৯৫০ সালে মা, ডেভিড ইস্টারকে, এক বিশ্বস্ত ভাই যে ১৯২৪ সালে বাপ্তিস্ম নিয়েছিল বিবাহ করে। তারা একসঙ্গে বহুবছর পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যা করেছিল। যাইহোক, মায়ের জীবনের শেষ বছরগুলিতে স্নায়বিক ও মানসিক ভ্রম সংক্রান্ত রোগ প্রকট হয়ে ওঠে। যেহেতু এই রোগ মার বিচারশক্তিকে কমিয়ে দিয়েছিল, তাই মায়ের প্রচুর যত্নের প্রয়োজন ছিল। আমার সহায়িকা দিদিরা ও ডেভিড তাকে দেখাশুনা করার এই গুরুদায়িত্ব বহন করেছিল, যেহেতু তারা চায়নি যে আমরা পূর্ণ-সময়ের কাজ করার বিশেষ দায়িত্বকে ত্যাগ করি। ১৯৮৭ সালে মৃত্যু পর্যন্ত মায়ের বিশ্বস্ত আদর্শ আমাদের অনেকভাবে জীবনের পথে তালিকা নির্ণয় করতে সাহায্য করেছিল ও স্বর্গীয় পুরস্কারের যে আশা তিনি হৃদয়ে পোষণ করতেন, তা আমাদের কাছে ছিল সান্ত্বনাদায়ক।

১৯৮৯ সালের মধ্যেই আমি উপলব্ধি করলাম যে ফ্রান্সিস আর আগের মত অতোটা কর্মচঞ্চল নয়। আমরা জানতাম না যে স্নেল ফিভার, যে রোগ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বেশ পরিচিত ছিল তা অনেক জীবনের হানি করছিল। ১৯৯০ সালে এই অকরুণ শত্রুর আক্রমণে আমি আমার প্রিয়তম সাথীকে হারাই যাকে নিয়ে আমি ৪০ বছর যিহোবার সেবায় কাটিয়েছি।

পরিস্থিতিকে মানিয়ে নেওয়া হল জীবনের অংশবিশেষ। তার কতকগুলি সহজ, আবার কতকগুলি দুঃসাধ্য। কিন্তু যিহোবা, যিনি বাইবেল সত্যের অমূল্য সম্পদের দাতা, তিনিই আমাকে পরিপুষ্ট করে রেখেছেন তার সংগঠন, আমার পরিবারের ভালোবাসা ও উৎসাহের মাধ্যমে। আমি অধীর আগ্রহে যিহোবার সকল অব্যর্থ প্রতিজ্ঞাসকলের পরিপূর্ণতার দিকে তাকিয়ে থাকি এবং এখনও তৃপ্ত বোধ করি।

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

যখন আমি ও আমার স্বামী ইতালিতে মিশনারী ছিলাম

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার