ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৪ ৯/১ পৃষ্ঠা ৩০-৩১
  • পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
  • ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বন্ধুদের মধ্যে ধার দেওয়া-নেওয়া
    ১৯৯৯ সচেতন থাক!
  • বিশ্ব নিরীক্ষা
    ১৯৯৮ সচেতন থাক!
১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৪ ৯/১ পৃষ্ঠা ৩০-৩১

পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল

এই আর্থিক সঙ্কটময় সময়ে, ক্রমাগত আরও বেশি ব্যক্তি এবং কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। একজন খ্রীষ্টানের পক্ষে দেউলিয়া আইনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া কি শাস্ত্র অনুযায়ী সঠিক?

এমনকি আধুনিক বিষয়ের ক্ষেত্রেও, ঈশ্বরের বাক্য যে অপূর্ব ব্যবহারিক নির্দেশ দেয়, এই প্রশ্নটির উত্তর তা সুন্দরভাবে চিত্রিত করে। বহু দেশে দেউলিয়া আইন রয়েছে। বিভিন্ন দেশে এই আইনের তারতম্য আছে আর এই বিষয়ে আইনত উপদেশ দেওয়া খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর কাজ নয়। কিন্তু আসুন আমরা দেখি দেউলিয়া হলে তার জন্য আইনত কী ব্যবস্থা আছে।

সরকার কেন কোন ব্যক্তি বা কোম্পানিকে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করতে দেয়, তার একটি কারণ হল যে তাহলে, যে লোকেরা বা ব্যবসায়ীরা ধার দিচ্ছে (পাওনাদার) তারা তাদের থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে যারা ধার নিচ্ছে (দেনাদার) কিন্তু ফেরত দিতে পারছে না। পাওনাদারদের তখন একমাত্র উপায় হয় আদালতের কাছে আবেদন জানানো যে দেনাদার ব্যক্তিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হোক যাতে তার সম্পত্তি নিলাম করে আংশিক ধার শোধ করা যায়।

যে দেনাদারেরা প্রকৃতই তাদের পাওনাদারদের সন্তুষ্ট করতে পারে না, তাদের সুরক্ষা হিসাবেও দেউলিয়া প্রথা কাজ করে। দেনাদার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার অনুমতি পেতে পারে এবং পাওনাদার তার কিছু সম্পত্তি দখল হওয়ার ভয় ছাড়াই জীবন যাপন করতে পারে।

সুতরাং, বোঝা যায় যে আর্থিক অথবা ব্যবসায়িক লেনদেনর ক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই কিছুটা সুরক্ষার জন্য এই আইনগুলি সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু আসুন আমরা লক্ষ্য করি বাইবেল কী সাহায্যকারী উপদেশ দেয়।

বাইবেল যে ধার করাকে উৎসাহ দেয় না, সম্পূর্ণ বাইবেল পড়ে তা না বুঝতে পারা সম্ভব নয়। হিতোপদেশ ২২:৭ পদে আমরা এইধরনের উপদেশ পাই: “ধনবান দরিদ্রগণের উপরে কর্ত্তৃত্ব করে, আর ঋণী মহাজনের দাস হয়।”

মথি ১৮:২৩-৩৪ পদে যীশুর দেওয়া দৃষ্টান্তে সেই দাসের কথা মনে করুন যার খুব বড় ঋণ ছিল। “তাহার প্রভু তাহাকে ও তাহার স্ত্রী পুত্ত্রাদি সর্ব্বস্ব বিক্রয় করিয়া আদায় করিতে আজ্ঞা দিলেন।” কিন্তু তারপর সেই প্রভু, একজন রাজা, দয়া দেখিয়েছিলেন। পরে যখন সেই দাসটি নির্দয়তা দেখায় তখন রাজা ‘পীড়নকারীদের নিকটে তাকে সমর্পণ করেছিলেন, যে পর্য্যন্ত সে সমস্ত ঋণ পরিশোধ না করে।’ স্পষ্টতই, সবচেয়ে ভাল উপায়, যে উপায় সুপারিশ করা হয়, তা হল টাকা ধার নেওয়া এড়িয়ে চলা।

প্রাচীন ইস্রায়েলে ঈশ্বরের সেবকদের মধ্যে ব্যবসা প্রচলিত ছিল এবং কখনও কখনও ধার দেওয়া ও ধার নেওয়া হত। যিহোবা তাদের কী করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন? ব্যবসা শুরু করবার এবং বাড়াবার জন্য যদি কোন ব্যক্তি ধার করতে চাইত, তাহলে একজন ইব্রীয়ের পক্ষে সুদ নেওয়া আইনসম্মত এবং সাধারণ ছিল। কিন্তু, যখন কোন ইস্রায়েলীয় ব্যক্তির প্রয়োজন থাকত, তখন ঈশ্বর লোকেদের নিঃস্বার্থভাবে ধার দিয়ে উৎসাহ দিয়েছিলেন; তাদের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে সুদের মাধ্যমে লাভ করা উচিত নয়। (যাত্রাপুস্তক ২২:২৫) দ্বিতীয় বিবরণ ১৫:৭, ৮ পদ জানায়: “কোন ভ্রাতা যদি দরিদ্র হয় . . . তাহার প্রতি মুক্তহস্ত হইয়া তাহার অভাবজন্য প্রয়োজনানুসারে তাহাকে অবশ্য ঋণ দিও।”

কোন পাওনাদার, যে দেনাদারের নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিস, যেমন তার শিল বা রাত্রে নিজেকে গরম রাখবার জন্য পোশাক নিয়ে নিতে পারবে না, এই নিয়মের মধ্যেও এই ধরনের দয়া ও সুবিবেচনা অন্তনির্হিত ছিল।​—⁠দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:​৪, ১০-১; যিহিষ্কেল ১৮:​৫-৯.

অবশ্য, সব যিহূদীরাই তাদের মহান বিচারকর্তা ও আইনপ্রনেতার এই প্রেমময় নিয়মগুলির নীতি গ্রহণ ও প্রয়োগ করত না। (যিশাইয় ৩৩:২২) কিছু লোভী যিহূদীরা তাদের ভাইদের প্রতি খুব রূঢ় ব্যবহার করত। বর্তমানেও, কিছু পাওনাদার কঠোর এবং অযৌক্তিক হতে পারে, এমনকি যে নিষ্ঠাবান খ্রীষ্টান সেই মূহুর্তে কোন আকস্মিক ঘটনার জন্য হয়ত ধার শোধ করতে পারছে না। (উপদেশক ৯:১১) জাগতিক পাওনাদারদের প্রবল কঠোর চাপের জন্য সেই দেনাদার হয়ত এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যখন তার মনে হয় যে নিজেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। কিভাবে? কিছু ক্ষেত্রে পাওনাদারেরা একজন আইনত দেউলিয়া হয়ে যাওয়াকেই স্বীকার করবে। সুতরাং, একজন খ্রীষ্টান, যে লোভী অথবা তার ঋণের প্রতি উদাসীন নয়, সে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ঘোষণা করতে পারে।

অবশ্য আমাদের বিষয়টির উল্টোদিক সম্বন্ধেও অবগত থাকতে হবে। একজন খ্রীষ্টান ঋণগ্রস্ত হতে পারে কারণ সে হয়ত কতটা খরচ করছে সেই বিষয় সে আত্মসংযম রাখেনি অথবা ব্যবসায় উপযুক্ত বিবেচনা প্রকাশ করেনি। তার কি ঋণ সম্বন্ধে উদাসীন হওয়া উচিত এবং দেউলিয়ার হওয়ার মাধ্যমে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করা আর এইভাবে নিজের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অন্যদের ক্ষতি করা উচিত? বাইবেলে ঈশ্বরের সেবকদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে যে তাদের হ্যাঁয়ের অর্থ যে হ্যাঁ হয়। (মথি ৫:৩৭) এছাড়াও, দুর্গ তৈরি করতে যাওয়ার আগে খরচ সম্বন্ধে হিসাব করা নিয়ে যীশুর মন্তব্য স্মরণ করুন। (লূক ১৪:​২৮-৩০) এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে, একজন খ্রীষ্টানের উচিত আর্থিক ঋণ নেওয়ার আগে সম্ভাব্য কুফল বিবেচনা করে দেখা। একবার ধার নিলে, যে ব্যক্তি বা কোম্পানির থেকে ধার নেওয়া হয়েছে, তাদের শোধ করার দায়িত্ব সম্বন্ধে তাকে মনে রাখতে হবে। যদি অনেকে একজন খ্রীষ্টানকে দায়িত্বহীন বা অনির্ভরশীল বলে, তাহলে যে সম্মান লাভ করার জন্য সে চেষ্টা করেছে তা হয়ত ভেঙে পড়বে এবং বাইরের লোকেদের কাছে তার সুনাম নষ্ট হবে।​—⁠১ তীমথিয় ৩:​২, ৭.

যিহোবা যে ধরনের ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানান, সেই বিষয়ে গীতসংহিতা ১৫:৪ পদ কী বলেছে তা স্মরণ করুন। আমরা পড়ি: “[ঈশ্বর যাকে অনুমোদন করেন সে] দিব্য করিলে ক্ষতি হইলেও অন্যথা করে না।” হ্যাঁ, ঈশ্বর চান যে খ্রীষ্টানেরা তাদের পাওনাদারদের সাথে ঠিক সেইরকম ব্যবহার করুক, তা তারা চায়।​—⁠মথি ৭:১২.

পরিশেষে, বাইবেল স্বীকার করে যে অন্য কোন উপায় না থাকলে, একজন খ্রীষ্টান কৈসরের দেউলিয়া আইনের সুরক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু, আর্থিক ঋণ শোধ করতে প্রকৃত ইচ্ছা প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে তাদের উদাহরণযোগ্য হতে হবে।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার