ঈশ্বরের ভাববাদীগণকে দৃষ্টান্ত হিসাবে নিন
“হে ভ্রাতৃগণ, যে ভাববাদীরা প্রভুর নামে কথা বলিয়াছিলেন, তাঁহাদিগকে দুঃখভোগের ও দীর্ঘসহিষ্ণুতার দৃষ্টান্ত বলিয়া মান।”—যাকোব ৫:১০.
১. নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও যিহোবার সেবকদের আনন্দ বজায় রাখতে কী সাহায্য করে?
শেষকালে জগদ্ব্যাপী হতাশাবোধ থাকা সত্ত্বেও যিহোবার সেবকেরা আনন্দ প্রদর্শন করে। এই আনন্দের কারণ হল তারা ঈশ্বরকে খুশি করছে বলে। যিহোবার সাক্ষীরা তাদের পরিচর্যায় নির্যাতন ও বিরোধিতা সহ্য করে থাকে কারণ তারা জানে যে ধার্মিকতার জন্য এটি তারা করছে। যীশু খ্রীষ্ট তাঁর অনুগামীদের বলেছিলেন: “ধন্য তোমরা, যখন লোকে আমার জন্য তোমাদিগকে নিন্দা ও তাড়না করে, এবং মিথ্যা করিয়া তোমাদের বিরুদ্ধে সর্ব্বপ্রকার মন্দ কথা বলে। আনন্দ করিও, উল্লাসিত হইও, কেননা স্বর্গে তোমাদের পুরস্কার প্রচুর; কারণ তোমাদের পূর্ব্বে যে ভাববাদিগণ ছিলেন, তাঁহাদিগকে তাহারা সেই মত তাড়না করিত।” (মথি ৫:১০-১২) সত্যই, যখনই, ঈশ্বরের সেবকেরা বিশ্বাসের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তারা সেটি আনন্দ হিসাবে ধরে নেয়।—যাকোব ১:২, ৩.
২. যাকোব ৫:১০ পদ অনুযায়ী ধৈর্য দেখাতে আমাদের কী সাহায্য করতে পারে?
২ শিষ্য যাকোব লেখেন: “হে ভ্রাতৃগণ, যে ভাববাদীরা প্রভুর নামে কথা বলিয়াছিলেন, তাঁহাদিগকে দুঃখভোগের ও দীর্ঘসহিষ্ণুতার দৃষ্টান্ত বলিয়া মান।” (যাকোব ৫:১০) ডাবলু. এফ. আরন্ট এবং এফ. ডাবলু. গিংগরিচ এখানে ব্যবহৃত গ্রীক শব্দ “দৃষ্টান্ত” (হাইপোডিগমা) “উদাহরণ, আদর্শ, পন্থা, ভাল অর্থে সংজ্ঞা করেছেন যা এক ব্যক্তিকে তা অনুকরণ করার জন্য প্রেরণা দেয় অথবা যোগায়।” যেমন যোহন ১৩:১৫ পদ দেখায় “এটি উদাহরণের থেকেও বেশি।” এটি নিশ্চিত এক নমুনাস্বরূপ।” (থিওলজিকাল ডিকশনারি অফ দ্যা নিউ টেস্টামেন্ট) তাই, যিহোবার আধুনিক সেবকেরা বিশ্বাসী ভাববাদীগণের ‘দুঃখভোগ’ আর ‘দীর্ঘসহিষ্ণুতার’ বিষয়ে দৃষ্টান্ত, শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করতে পারে। আমরা তাদের জীবনী থেকে আর কী শিখতে পারি? আর সেটি আমাদের প্রচার কাজে কিভাবে সাহায্য করতে পারে?
তারা দুঃভোগ করেছিলেন
৩, ৪. অমৎসিয় রাজার বিরোধিতায় ভাববাদী আমোষ কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?
৩ যিহোবার ভাববাদীগণ অনেক ক্ষেত্রে দুঃভোগ ও নির্যাতন ভোগ করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ সা.শ.পূ. নবম শতাব্দীতে গোবৎস-উপাসক অমৎসিয় অন্যায়ভাবে আমোষ ভাববাদীর বিরোধিতা করেছিলেন। অমৎসিয় দাবি করেছিল যে যারবিয়ামের (দ্বিতীয়) বিরুদ্ধে আমোষ চক্রান্ত করেছিল এই ভাববাণী করে যে, রাজা খড়্গ দ্বারা মারা যাবে এবং ইস্রায়েল নির্বাসনে চলে যাবে। অমৎসিয় অবজ্ঞাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়ে বলেছিল: “হে দর্শক, তুমি যাও, যিহূদা দেশে পলায়ন কর, সেই স্থানে রুটী ভোজন কর, ও সেই স্থানে ভাববাণী বল; কিন্তু বৈথেলে আর কখনও ভাববাণী বলিও না, কেননা এ রাজার পুণ্যধাম ও রাজপুরী। তখন আমোষ উত্তর করিয়া অমৎসিয়কে কহিলেন, আমি নিজে ভাববাদী ছিলাম না, ভাববাদীর সন্তানও ছিলাম না, কেবল গোপালক ও ডুমুরফল সংগ্রাহক ছিলাম। কিন্তু সদাপ্রভু আমাকে পশুপালের অনুগমন হইতে লইলেন, এবং সদাপ্রভু আমাকে কহিলেন, যাও, আমার প্রজা ইস্রায়েলের কাছে ভাববাণী বল।”—আমোষ ৭:১০-১৫.
৪ যিহোবার আত্মা আমোষকে শক্তি দিয়েছিল সাহসের সাথে ভাববাণী করতে। অমৎসিয়ের প্রতিক্রিয়া চিন্তা করুন যখন আমোষ বলেছিলেন: “তুমি সদাপ্রভুর বাক্য শুন, তুমি কহিতেছ, ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে ভাববাণী বলিও না, ইস্হাক-কুলের বিপরীতে বাক্য বর্ষাইও না; এই জন্য সদাপ্রভু এই কথা কহেন, তোমার স্ত্রী নগরের মধ্যে বেশ্যা হইবে, তোমার পুত্ত্রকন্যাগণ খড়্গে পতিত হইবে, তোমার ভূমি মানরজ্জু দ্বারা বিভক্ত হইবে, এবং তুমি নিজে অশুচি দেশে মরিবে, আর ইস্রায়েল স্বদেশ হইতে অবশ্য নির্ব্বাসিত হইবে।” (আমোষ ৭:১৬, ১৭) ধর্মভ্রষ্ট অমৎসিয় কতই না অবাক হয়েছিল!
৫. ভাববাদী আমোষ আর যিহোবার আধুনিক সেবকদের পরিস্থিতির মধ্যে কী সমতা দেখতে পাওয়া যায়?
৫ যিহোবার লোকেরা বর্তমানে সেই একই পরিস্থিতিতে আছে। ঈশ্বরের বার্তা প্রকাশ করি বলে আমরা দুঃখভোগ করি আর অনেকে আমাদের প্রচার কাজের বিষয় ঘৃণার সাথে কথা বলে। সত্যই, আমাদের যোগ্যতা কোন যাজকদের শিক্ষাকেন্দ্র থেকে আসে না। বরং, যিহোবার আত্মা আমাদের চালিত করে রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করতে। আমরা ঈশ্বরের বার্তাকে পরিবর্তন অথবা শিথিল করি না। পরিবর্তে, শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন আমরা আমোষের মত বাধ্যতার সাথে তা প্রচার করি।—২ করিন্থীয় ২:১৫-১৭.
তারা ধৈর্য প্রদর্শন করেছিলেন
৬, ৭. (ক) যিশাইয়ের ভাববাণীর বৈশিষ্ট্য কী ছিল? (খ) যিহোবার আধুনিক সেবকেরা কিভাবে যিশাইয়ের মত কার্য করে?
৬ ঈশ্বরের ভাববাদীরা সহিষ্ণুতা দেখিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ সা.শ.পূ. অষ্টম শতাব্দীতে যিহোবার ভাববাদী হিসাবে যিশাইয় যে কাজ করেছিলেন, তাদের তিনি ধৈর্য দেখিয়েছিলেন। ঈশ্বর তাকে বলেন: “তুমি যাও, এই জাতিকে বল, তোমরা শুনিতে থাক, কিন্তু বোঝ না; এবং দেখতে থাক, কিন্তু জান না। তুমি এই জাতির অন্তঃকরণ স্থূল কর, এদের কর্ণ ভারী কর, ও এদের চক্ষু বন্ধ করে দেও, পাছে তারা চক্ষে দেখে, কর্ণে শুনে, অন্তঃকরণে বুঝে, এবং ফিরে আসে, ও সুস্থ হয়।” (যিশাইয় ৬:৯, ১০, NW) লোকেরা ঠিক এইরকমই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়া দেখে যিশাইয় কি ছেড়ে দিয়েছিলেন? না। বরং, তিনি ধৈর্য ও উদ্দীপনার সাথে যিহোবার সাবধানবাণী প্রচার করেছিলেন। ঈশ্বরের উপরোক্তবাক্যগুলির ইব্রীয় অংশ “দীর্ঘকাল ব্যাপিয়া” ভাববাদীর প্রচারের বিষয় সমর্থন করে, যা লোকেরা “বারংবার” শুনেছিল।—জেজেনিয়াস্ হিব্রু গ্র্যামার।
৭ আজকের দিনে লোকে সুসমাচারের প্রতি সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখায় যা যিশাইয়ের দিনে লোকেরা যিহোবার বাক্যের প্রতি দেখিয়েছিল। ঠিক সেই বিশ্বাসী ভাববাদীর মত আমরাও কিন্তু রাজ্যের বার্তা “বারংবার” প্রচার করছি। এটি যিহোবার ইচ্ছা বলে, উদ্দীপনা আর অটল ধৈর্যের সাথে আমরা তা করি।
“সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে কর্ম্ম করিলেন”
৮, ৯. কী কী ক্ষেত্রে ভাববাদী মোশি উত্তম উদাহরণ ছিলেন?
৮ ধৈর্য এবং বাধ্যতার বিষয়ে ভাববাদী মোশি উদাহরণের যোগ্য ছিলেন। ইস্রায়েলীয় দাসদের সাথে, পরিত্রাণের জন্য তাকে ধৈর্য সহকারে সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তারপর তিনি ৪০ বছর মিদিয়নে বাস করেন, যতক্ষণ না ঈশ্বর তাকে ব্যবহার করেন ইস্রায়েল জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে আসতে। যখন মোশি ও হারোণ মিশরের রাজার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা বাধ্যতার সাথে যিহোবা যা বলেছিলেন তাই তারা করেছিলেন। বস্তুতপক্ষে তারা, “সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে কর্ম্ম করিলেন।”—যাত্রাপুস্তক ৭:১-৬; ইব্রীয় ১১:২৪-২৯.
৯ মোশি ধৈর্যের সাথে প্রান্তরে ইস্রায়েলের ৪০টি কঠোর বছর সহ্য করেছিলেন। তিনি বাধ্যতার সাথে ঐশিক পরিচালনা মেনে ইস্রায়েলের আবাস ও যিহোবার উপাসনার জন্য অন্যান্য জিনিস তৈরি করেছিলেন। তিনি এত পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করেছিলেন যা আমরা পড়ি: “মোশি এইরূপ করিলেন; তিনি সদাপ্রভুর সমস্ত আজ্ঞানুসারে কার্য্য করিলেন।” (যাত্রাপুস্তক ৪০:১৬) আমরা যিহোবার সংগঠনের সাথে যখন পরিচর্যা চালিয়ে যাই, আসুন আমরা মোশির বাধ্যতা মনে রাখি এবং পৌলের বাক্য ‘আমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী হওয়া’ পালন করি।—ইব্রীয় ১৩:১৭.
তাদের আশাবাদী মনোভাব ছিল
১০, ১১. (ক) কী দেখায় যে ভাববাদী হোশেয় আশাবাদী মনোভাব রেখেছিলেন? (খ) যখন আমাদের এলাকায় লোকেদের কাছে যাই কিভাবে আমরা আশাবাদী মনোভাব বজায় রাখতে পারি?
১০ ভাববাদীগণ যখন তারা বিচারের বার্তা প্রচার এবং একই সঙ্গে ইস্রায়েলের বিচ্ছিন্ন বিশ্বাসী ব্যক্তিদের জন্য ঈশ্বরের প্রেমের উদ্বিগ্নতা প্রকাশের ভবিষ্যদ্বাণী করতেন, তাদের সেই একই আশাবাদী মনোভাবের দরকার ছিল। এটি হোশেয়ের ক্ষেত্রে সত্য হয়েছিল যিনি ৫৯ বছর ধরে ভাববাদী ছিলেন। তিনি আশাবাদী মনোভাব রেখে যিহোবার বার্তাগুলি প্রচার করে চলেছিলেন এবং তিনি তার ভাববাণীর পুস্তক এইরকমভাবে শেষ করেছিলেন: “জ্ঞানবান্ কে? সে এই সকল বুঝিবে; বুদ্ধিমান্ কে? সে এই সকল জ্ঞাত হইবে; কেননা সদাপ্রভু পথ সকল সরল, এবং ধার্ম্মিকগণ সেই সকল পথে চলে, কিন্তু অধর্ম্মাচারিগণ সেই সব পথে উছোট খায়।” (হোশেয় ১৪:৯) যতক্ষণ যিহোবা অনুমতি দেন সাক্ষ্যদান করতে, আসুন আমরা আশাবাদী মনোভাব রাখি এবং যারা জ্ঞানপূর্বক ঈশ্বরের অযাচিত করুণা গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য অবিরত খোঁজ করতে থাকি।
১১ ‘যোগ্য ব্যক্তির অনুসন্ধান’ আমাদের চালিয়ে যেতে হবে আর পরিস্থিতিকে আশাবাদী হিসাবে দেখতে হবে। (মথি ১০:১১) উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা আমাদের চাবি খুঁজে না পাই, যেখান থেকে আমরা এসেছিলাম এবং বিভিন্ন জায়গায় যেখানে আমরা গেছিলাম সেইসব জায়গায় আমরা খুঁজব। আমরা এটি অনেকবার করার পরে তা খুঁজে পেতে পারি। ঠিক সেই একইভাবে আমাদের মেষতুল্য ব্যক্তিদের অধ্যবসায়ের সাথে সন্ধান করা উচিত। কতই না আনন্দ হয় যখন প্রায়ই কাজ করা এলাকা থেকে সুসমাচারের প্রতি আগ্রহ দেখা যায়! আর আমরা কতই না আনন্দিত হই যে ঈশ্বর আমাদের কাজকে আশীর্বাদ করছেন সেইসব দেশে, বাধানিষেধ যেখানে আমাদের জনসাধারণ্যে পরিচর্যা কাজ সীমিত করে দিয়েছিল!—গালাতীয় ৬:১০.
উৎসাহের উৎসগুলি
১২. এই বিংশ শতাব্দীতে যোয়েলের কোন্ ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হচ্ছে এবং কিভাবে?
১২ যিহোবার ভাববাদীদের বাক্যগুলি আমাদের পরিচর্যার জন্য উৎসাহের বিষয় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ যোয়েলের ভাববাণী সম্বন্ধে বিবেচনা করুন। ঐ ভাববাণীতে সা.শ.পূ. নবম শতাব্দীতে ধর্মভ্রষ্ট ইস্রায়েলজাতি এবং অন্যান্যদের জন্য বিচারের বার্তা ছিল। তবুও যোয়েল অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এই ভাববাণী বলতে: “এইরূপ ঘটিবে, আমি [যিহোবা] মর্ত্ত্যমাত্রের উপরে আমার আত্মা সেচন করিব, তাহাতে তোমাদের পুত্ত্রকন্যাগণ ভাববাণী বলিবে তোমাদের প্রাচীনেরা স্বপ্ন দেখিবে, তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাইবে; আর তৎকালে আমি দাসদাসীদিগেরও উপরে আমার আত্মা সেচন করিব।” (যোয়েল ২:২৮, ২৯) সা.শ. ৩৩ সালে পঞ্চাশত্তমীর পর থেকে যীশুর অনুগামীদের প্রতি এই বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। আর এই বিংশ শতাব্দীতে এই ভবিষ্যদ্বাণী আরও বৃহৎ আকারে আমরা পূর্ণ হতে দেখি! আজকে আমাদের মধ্যে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি রয়েছে যারা “ভবিষ্যদ্বাণী” করছে অথবা যিহোবার বার্তা ঘোষণা করছে—তাদের মধ্যে ৬,০০,০০০ এর বেশি পূর্ণ সময়ের অগ্রগামীর কাজ করছে।
১৩, ১৪. ক্ষেত্রের পরিচর্যায় আনন্দ খুঁজে পেতে যুবক খ্রীষ্টানদের কী সাহায্য করতে পারে?
১৩ রাজ্যের ঘোষণাকারীরা অনেকেই যুবক-যুবতী। তাদের পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে বাইবেলের বিষয় কথা বলা সবসময় সহজ হয় না। যিহোবার কিছু যুবক-যুবতী পরিচারকদের এইরকম বলা হয়ে: ‘তুমি তোমার সময় নষ্ট করছ,’ এবং ‘তোমার অন্য কোন কাজ করা উচিত।’ কৌশলের সাথে যুবক সাক্ষীরা হয়ত এইরকম বলতে পারে যে, তারা দুঃখিত তিনি এইরকম মনে করেন বলে। একজন যুবক সুসমাচার প্রচারক এইরকম আরও কিছু বলা ভাল মনে করে: “আমি নিজে উপকৃত হই আপনার মত বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং আমি তা উপভোগ করি।” অবশ্যই সুসমাচার প্রচার করা সময় নষ্ট করা নয়। জীবন জড়িয়ে আছে। ঈশ্বর যোয়েলের মাধ্যমে আরও বলেন: “যে কেউ যিহোবার নামে ডাকবে, সে রক্ষা পাবে।”—যোয়েল ২:৩২ NW.
১৪ ছেলেমেয়েরা যারা পিতামাতাদের সাথে সুসমাচার প্রচার করে, তারা ব্যক্তিগত লক্ষ্য রাখার বিষয়ে পিতামাতাদের সাহায্যকে স্বাগত জানায়। ধাপে ধাপে এই ছেলেমেয়েরা শাস্ত্র পড়া থেকে তাদের বাইবেল ভিত্তিক আশাকে বুঝানো আর উপযুক্ত সাহিত্য আগ্রহী ব্যক্তিদের দেখানোর দিকে অগ্রসর হয়। যখন তারা নিজের অগ্রগতি আর যিহোবার আশীর্বাদ দেখে, রাজ্যের এই কিশোর প্রকাশকেরা সুসমাচার প্রচার করার বিষয়ে প্রচুর আনন্দ খুঁজে পায়।—গীত ১১০:৩; ১৪৮:১২, ১৩.
উদ্দীপনা আর প্রতীক্ষার মনোভাব
১৫. রাজ্যের প্রচার কাজ করার ক্ষেত্রে উদ্দীপনা বাড়িয়ে তুলতে যিহিষ্কেলের উদাহরণ আমাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারে?
১৫ ঈশ্বরের ভাববাদীরা উদ্দীপনা আর প্রতীক্ষার মনোভাব দেখানোর বিষয়ে অনুকরণযোগ্য ছিলেন—যে বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের পরিচর্যায় এখন দরকার আছে। যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্য থেকে প্রথমবার সত্য সম্বন্ধে শিখেছিলাম উদ্দীপনা আমাদের নিশ্চয়ই সাহায্য করেছিল সাহসের সাথে কথা বলতে। তখন থেকে অনেক বছর কেটে গেছে এবং আমরা হয়ত আমাদের প্রচার কাজের এলাকায় অনেকবার কাজ করেছি খুব কম লোকে হয়ত এখন রাজ্যের বার্তাকে গ্রহণ করছে। তা কি আমাদের উদ্দীপনাকে দমিয়ে দিয়েছে? যদি তাই হয়ে থাকে, যিহিষ্কেল ভাববাদীর বিষয়ে চিন্তা করুন, যার নামের অর্থ হল “ঈশ্বর শক্তি যোগায়” যদিও যিহিষ্কেলকে প্রাচীন ইস্রায়েলের কঠোর-হৃদয় ব্যক্তিদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, ঈশ্বর তাকে শক্তি যুগিয়েছিলেন আর তার কপালকে রূপকভাবে চকমকি পাথরের থেকে বেশি শক্ত করেছিলেন। ফলে, যিহিষ্কেল লোকে শুনুক বা না শুনুক তার পরিচর্যা অনেক বছর ধরে চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তার উদাহরণ দেখায় যে আমরাও তা করতে পারি এবং সেটি আমাদের প্রচার কাজের প্রতি উদ্দীপনাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।—যিহিষ্কেল ৩:৮, ৯; ২ তীমথিয় ৪:৫.
১৬. মীখার কোন্ মনোভাব আমাদের গড়ে তুলতে হবে?
১৬ ধৈর্যের জন্য মীখা খুব পরিচিত যিনি সা.শ.পূ. অষ্টম শতাব্দীতে, ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। “কিন্তু আমি,” তিনি লেখেন, “সদাপ্রভুর প্রতি দৃষ্টি রাখিব, আমার ত্রাণেশ্বরের অপেক্ষা করিব; আমার ঈশ্বর আমার বাক্য শুনিবেন।” (মীখা ৭:৭) মীখার আস্থা দৃঢ় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে ছিল। ঠিক ভাববাদী যিশাইয়ের মত, মীখা জানতেন যে যিহোবা যা উদ্দেশ্য করেছেন তিনি তা পূরণ করবেন। আমরাও তা জানি। (যিশাইয় ৫৫:১১) আসুন ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির প্রতি সেই একইরকমের প্রতীক্ষার মনোভাব গড়ে তুলি। আর আসুন আমরা সুসমাচার প্রচার করি সেই একই উদ্দীপনার সাথে এমনকি সেই এলাকাগুলিতে, যেখানে খুব কম লোকে রাজ্যের বার্তার প্রতি আগ্রহ দেখায়।—তীত ২:১৪; যাকোব ৫:৭-১০.
বর্তমানে ধৈর্য দেখানো
১৭, ১৮. ধৈর্য দেখানোর ক্ষেত্রে প্রাচীন এবং আধুনিক কোন্ উদাহরণগুলি আমাদের সাহায্য করতে পারে?
১৭ যিহোবার কোন কোন ভাববাদীরা ধৈর্যের সাথে বছরের পর বছর তাদের দায়িত্বের কাজ চালিয়ে গেছেন কিন্তু তারা কোন ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হতে দেখেননি। তবুও, প্রায়ই নির্যাতন ভোগ করা সত্ত্বেও তাদের ধৈর্যের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া আমাদের সাহায্য করে বুঝবার জন্য যে আমরাও আমাদের পরিচর্যা পরিপূর্ণ করতে পারি। আমরা বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকের বিশ্বাসী অভিষিক্ত ব্যক্তিদের উদাহরণ থেকে উপকার পেতে পারি। যদিও তাদের স্বর্গীয় আশা যা তারা আশা করেছিলেন অত তাড়াতাড়ি আসেনি, কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সেই দেরি হওয়ার নিরাশা তাদের উদ্দীপনাকে কমিয়ে দেয়নি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে যা তিনি তাদের কাজে প্রকাশ করেছিলেন।
১৮ বহু বছর ধরে এই খ্রীষ্টানেরা প্রহরীদুর্গ এবং তার সহ পত্রিকা সচেতন থাক! (আগে যার নাম ছিল দি গোল্ডেন এজ এবং পরে যার নামকরণ করা হয় কনসোলেশন্) বিতরণ করে। তারা উদ্দীপনার সাথে এই মূল্যবান পত্রিকাগুলি রাস্তায় এবং বাড়িতে লোকেদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল যা আমরা আজকে বলি পত্রিকারুট। একজন বয়স্কা ভগ্নী যিনি তার পৃথিবীতে থাকার কাল শেষ করেন, খুব তাড়াতাড়ি পথচারীরা যারা তাকে রাস্তায় সাক্ষ্য দিতে দেখতে অভ্যস্ত ছিল তারা তার অনুপস্থিতি বুঝতে পেরেছিল। কত সুন্দর সাক্ষ্য তিনি দিয়েছিলেন অনেক বছর বিশ্বাসী পরিচর্যার মাধ্যমে, যারা তাকে জনসাধারণ্যে লক্ষ্য করেছে তাদের প্রশংসনীয় মন্তব্যের দ্বারা তা আমরা দেখতে পাই! রাজ্যের ঘোষণাকারী হিসাবে যাদের সঙ্গে আপনি পরিচর্যায় সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের হাতে আপনি কি নিয়মিতরূপে প্রহরীদুর্গ আর সচেতন থাক! দিচ্ছেন?
১৯. ইব্রীয় ৬:১০-১২ পদ আমাদের কী উৎসাহ দেয়?
১৯ আরও চিন্তা করুন, ধৈর্য আর বিশ্বাসের পরিচর্যা সেই ভাইদের যারা যিহোবার সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সেবা করেন। তাদের মধ্যে অনেকের এখন নব্বই অথবা একশ বছর বয়স, কিন্তু তারা এখনও রাজ্যের ঘোষণাকারী যারা উদ্দীপনার সাথে তাদের দায়িত্ব দেখাশোনা করেন। (ইব্রীয় ১৩:৭) আর অন্যান্য বয়স্ক ব্যক্তিরা যাদের স্বর্গীয় আশা আছে এমনকি “অপর মেষ” যারা তাদেরও বয়স বাড়ছে, তাদের সম্বন্ধে কী বলা যেতে পারে? (যোহন ১০:১৬) তারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে ঈশ্বর অন্যায়কারী নন যে তাদের কার্য এবং তাঁর নামের প্রতি যে প্রেম প্রদর্শন করেছেন তা তিনি ভুলে যাবেন। যুবক সহবিশ্বাসীদের সাথে বয়স্ক ব্যক্তিরাও ঈশ্বরের পরিচর্যার প্রতি বিশ্বাস প্রদর্শন করুন আর ধৈর্য দেখিয়ে যতদূর আপনি পারেন এগিয়ে চলুন। (ইব্রীয় ৬:১০-১২) তাহলে, পুনরুত্থানের দ্বারা প্রাচীন ভাববাদীদের মত অথবা আগত “মহাক্লেশ” পার করে তারা মূল্যবান্ পুরস্কার অনন্তজীবন লাভ করতে পারেন।—মথি ২৪:২১.
২০. (ক) ভাববাদীদের “দৃষ্টান্ত” থেকে আপনি কী শিখেছেন? (খ) ভাববাদীদের মত ধৈর্য আমাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারে?
২০ কত সুন্দর দৃষ্টান্ত ঈশ্বরের ভাববাদীরা আমাদের জন্যে রেখে গেছেন! যেহেতু তারা নির্যাতন সহ্য করেছিলেন, ধৈর্য দেখিয়েছিলেন আর অন্য ঈশ্বরীয় গুণাবলি প্রদর্শন করেছিলেন, তাই তারা যিহোবার নামে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন। আধুনিক কালের সাক্ষী হিসাবে আসুন আমরা তাদের মত হই এবং ভাববাদী হবক্কূকের মত দৃঢ় হই যিনি বলেছিলেন: “আমি আপন প্রহরীকার্য্যের স্থানে দাঁড়াইব, দুর্গের উপরে অবস্থিত থাকিব; আমার আবেদনের বিষয়ে [ঈশ্বর] আমাকে কি বলিবেন . . . তাহা দেখিয়া বুঝিব।” (হবক্কূক ২:১) আসুন আমাদের যেন সেই একই দৃঢ় চরিত্র ধৈর্য দেখানোর বিষয়ে থাকে আর আনন্দ সহকারে নিয়মিত জনসাধারণ্যে আমাদের মহান্ সৃষ্টিকর্তার অতি বিশিষ্ট নাম ঘোষণা করি!—নহিমিয় ৮:১০; রোমীয় ১০:১০.
আপনি কি এই বিষয়গুলি বুঝতে পেরেছেন?
▫ ভাববাদী আমোষ সাহসের কোন্ উদাহরণ স্থাপন করেছেন?
▫ কী কী ক্ষেত্রে ভাববাদী মোশি উদাহরণের যোগ্য ছিল?
▫ যিহোবার আধুনিক দিনের সাক্ষীরা কিভাবে আমোষ আর যিশাইয়ের মত কার্য করতে পারে?
▫ হোশেয় আর যোয়েলের আচরণ থেকে খ্রীষ্টীয় পরিচারকেরা কী শিখতে পারে?
▫ যিহিষ্কেল আর মীখার উদাহরণ থেকে আমরা কিভাবে উপকৃত হতে পারি?
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
অমৎসিয়ের কঠোর বিরোধিতা সত্ত্বেও যিহোবার আত্মা আমোষকে সাহসের সাথে ভাববাণী করতে শক্তি যুগিয়েছিল
[২৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
যিহোবার সেবায় ধৈর্য দেখানোর ক্ষেত্রে বিশ্বাসী অভিষিক্ত ব্যক্তিরা উত্তম উদাহরণ দেখিয়েছেন