ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৪ ১/১ পৃষ্ঠা ২৭-৩২
  • এক ঈশতন্ত্রে পালক এবং পালেরা

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • এক ঈশতন্ত্রে পালক এবং পালেরা
  • ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বর্তমানে আমরা কিরূপে ঐশিক?
  • এক আধুনিক ঈশতন্ত্র
  • ঈশতন্ত্রে প্রাচীনেরা
  • খ্রীষ্টীয় মনোভাবের সাথে সেবা করা
  • ঈশতন্ত্রে পালেরা
  • পালক এবং পালেরা একত্রে কাজ করেন
  • বিশ্বাসের সাক্ষ্য
  • ঈশতন্ত্রের সান্নিধ্যে থাকুন
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা শাসন করেন—ঈশতন্ত্রের মাধ্যমে
    ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • খ্রিস্টীয় মণ্ডলীকে কীভাবে সংগঠিত করা হয়েছে?
    চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
  • “তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তাহা পালন কর”
    ২০১১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৪ ১/১ পৃষ্ঠা ২৭-৩২

এক ঈশতন্ত্রে পালক এবং পালেরা

“যিহোবা আমাদের বিচারকর্ত্তা, যিহোবা আমাদের ব্যবস্থাপক, যিহোবা আমাদের রাজা; তিনিই আমাদিগকে পরিত্রাণ করিবেন।”​—⁠যিশাইয় ৩৩:​২২, NW.

১. প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানেরা এবং বর্তমানের খ্রীষ্টানেরা যে এক ঈশতন্ত্র তা কিভাবে বলা যেতে পারে?

ঈশতন্ত্রের অর্থ হল ঈশ্বর দ্বারা শাসন। এর অর্থ হল যিহোবার অধিকারকে স্বীকার করা এবং জীবনের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশ ও পরামর্শগুলি পালন করা। প্রথম শতাব্দীর মণ্ডলী ছিল এক খাঁটি ঈশতন্ত্র। তাই খ্রীষ্টানেরা তখন সততার সাথে বলতে পারত: “যিহোবা আমাদের বিচারকর্ত্তা, যিহোবা আমাদের ব্যবস্থাপক, যিহোবা আমাদের রাজা।” (যিশাইয় ৩৩:২২) অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে, অনুরূপে যিহোবা ঈশ্বরের সংগঠন বর্তমানেও প্রকৃতই এক ঈশতন্ত্র।

বর্তমানে আমরা কিরূপে ঐশিক?

২ কোন্‌ একটি উপায়ে যিহোবার সাক্ষীরা যিহোবার শাসনের বশীভূত হয়?

২ আমরা কিভাবে বলতে পারি যে যিহোবার পার্থিব সংগঠন হল ঈশতন্ত্র? কারণ যারা এই সরকারের অন্তর্ভুক্ত তারা অবশ্যই যিহোবার শাসনের বশীভূত থাকে। আর তারা যীশু খ্রীষ্টের নেতৃত্বকে অনুসরণ করে, যাকে যিহোবা রাজা হিসাবে সিংহাসনে বসিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, শেষ কালে মহান ঈশ্বরের কাছে থেকে সরাসরি এই আজ্ঞাটি যীশুকে দেওয়া হয়: “আপনার কাস্ত্যা লাগাউন, শস্য চ্ছেদন করুন; কারণ শস্যচ্ছেদনের সময় আসিয়াছে;” কেননা পৃথিবীর শস্য শুকাইয়া গেল।” (প্রকাশিত বাক্য ১৪:১৫) যীশু আজ্ঞা পালন করেন এবং পৃথিবীর শস্য ছেদনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই মহান কার্যে খ্রীষ্টানেরা সুসমাচার প্রচার ও শিষ্যকরণের মাধ্যমে তাদের রাজাকে সমর্থন করেন। (মথি ২৮:১৯; মার্ক ১৩:১০; প্রেরিত ১:⁠৮) তা করার দ্বারা, তারা মহান ঈশ্বর, যিহোবার সহকার্যকারীও হয়।​—⁠১ করিন্থীয় ৩:⁠৯.

৩. নৈতিকতার ক্ষেত্রে খ্রীষ্টানেরা কিরূপে বশীভূত থাকে?

৩ আচরণেও, খ্রীষ্টানেরা ঈশ্বরের শাসনের বশীভূত হন। যীশু বলেছেন: “যে সত্য সাধন করে, সে জ্যোতির নিকেট আইসে, যেন তাহার কর্ম্ম সকল ঈশ্বরে সাধিত বলিয়া সপ্রকাশ হয়।” (যোহন ৩:২১) বর্তমানে, নৈতিক মান সম্পর্কে অশেষ তর্কবিতর্ক আছে কিন্তু খ্রীষ্টানদের মাঝে এই বিতর্কের কোন স্থানই নেই। যিহোবা যেটিকে অনৈতিক কার্য বলেন তারা সেটিকে অনৈতিকরূপে দেখে এবং তারা অনৈতিকতাকে মহামারীর মত এড়িয়ে চলে! তারা তাদের পরিবারের যত্ন নেয়, পিতামাতার বাধ্য হয় এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বশীভূত থাকে। (ইফিষীয় ৫:​৩-৫, ২২-৩৩;৬:​১-৪; ১ তীমথিয় ৫:৮; তীত ৩:⁠১) সুতরাং, ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে তারা ঐশিকরূপে কার্য করে।

৪ আদম ও হবা এবং শৌল কোন্‌ ভুল মনোভাব প্রকাশ করে এবং খ্রীষ্টানেরা কিভাবে ভিন্ন মনোভাব দেখায়?

৪ ভাল-মন্দের বিচার নিজেরাই করতে চাওয়ার কারণে আদম ও হবা পরমদেশ হারায়। যীশু সম্পূর্ণ বিপরীতটি চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “আমি আপনার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি না, কিন্তু আমার প্রেরণকর্ত্তার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্ট করি।” (যোহন ৫:৩০; লূক ২২:৪২; রোমীয় ১২:২; ইব্রীয় ১০:⁠৭) শৌল, ইস্রায়েলের প্রথম রাজা, যিহোবার বাধ্য হন​—⁠কিন্তু শুধুমাত্র আংশিকরূপে। এই কারণে তাকে পরিত্যাগ করা হয়। শমূয়েল তাকে বলেন: “বলিদান অপেক্ষা আজ্ঞাপালন উত্তম, এবং মেষের মেদ অপেক্ষা অবধান করা উত্তম।” (১ শমূয়েল ১৫:২২) যিহোবার ইচ্ছা অন্তত কিছুটা পালন করা কি ঐশিক কাজ হবে, যেমন প্রচার কাজে বা সভাতে নিয়মিত যোগদান করা এবং তার সাথে নৈতিকতা অথবা অন্যান্য ক্ষেত্রে আপোশ করা? নিশ্চয় নয়! আমরা ‘প্রাণের সহিত ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করিতে’ চেষ্টা করি। (ইফিষীয় ৬:৬; ১ পিতর ৪:​১, ২) শৌলের বিপরীতে, আমরা যিহোবার শাসনের সম্পূর্ণ বশীভূত হই।

এক আধুনিক ঈশতন্ত্র

৫, ৬. বর্তমানে যিহোবা মানবজাতির সাথে কিরূপে ব্যবহার করেন এবং এই ব্যবস্থার সাথে সহযোগিতায় কী ফল হয়?

৫ অতীতে, যিহোবা মানুষের মাধ্যমে শাসন করেন ও সত্য প্রকাশ করেন, যেমন ভাববাদী, রাজা, ও প্রেরিতদের মাধ্যমে, বর্তমানে, তা আর হয় না; অনুপ্রাণিত কোন ভাববাদী বা প্রেরিতগণ নেই। পরিবর্তে, যীশু বলেন যে তাঁর রাজকীয় উপস্থিতিতে, তিনি অনুসরণকারীদের এক বিশ্বস্ত গোষ্ঠীকে শনাক্ত করবেন, এক “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস,” এবং তাঁর সর্বস্বের উপর তাদের নিযুক্ত করবেন। (মথি ২৪:​৪৫-৪৭; যিশাইয় ৪৩:১০) সেই দাসকে ১৯১৯ সালে অভিষিক্ত খ্রীষ্টানদের অবশিষ্টাংশ হিসাবে শনাক্ত করা হয়। সেই সময় থেকে যিহোবার সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠী হিসাবে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে, এটি পৃথিবীতে ঈশতন্ত্রের কেন্দ্র হয়েছে। সারা জগদ্ব্যাপী শাখা কমিটিগুলি, ভ্রমণ অধ্যক্ষেরা এবং মণ্ডলীর প্রাচীনেরা পরিচালক গোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে।

৬ ঐশিক সংস্থার সাথে সহযোগিতা করা হল ঈশতন্ত্রের প্রতি বশীভূত হওয়ার একটি মুখ্য অংশ। সেই ধরনের সহযোগিতা জগদ্ব্যাপী “ভ্রাতৃসমাজ”এর প্রতি একতা ও সঙ্গতি নিয়ে আসে। (১ পিতর ২:১৭) ফলে, সেটি যিহোবাকে খুশি করে, যিনি “গোলযোগের ঈশ্বর নহেন, কিন্তু শান্তির” ঈশ্বর।​—⁠১ করিন্থীয় ১৪:৩৩.

ঈশতন্ত্রে প্রাচীনেরা

৭. কেন বলা পারে যে খ্রীষ্টীয় প্রাচীনদের ঈশতন্ত্র অনুযায়ী নিযুক্ত করা হয়?

৭ অধিকারের যে কোন স্থানই থাকুক না কেন, সকল নিযুক্ত প্রাচীনেরা বাইবেলে নির্দেশিত অধ্যক্ষ বা প্রাচীন পদের যোগ্যতাগুলি পূর্ণ করে থাকেন। (১ তীমথিয় ৩:​১-৭; তীত ১:​৫-৯) এছাড়া, ইফিষীয় প্রাচীনদের প্রতি পৌলের বাক্য সকল প্রাচীনদের প্রতিও প্রযোজ্য: “তোমরা আপনাদের বিষয়ে সাবধান, এবং পবিত্র আত্মা তোমাদিগকে অধ্যক্ষ করিয়া যাহার মধ্যে নিযুক্ত করিয়াছেন, সেই সমস্ত পালের বিষয়ে সাবধান হও, ঈশ্বরের সেই মণ্ডলীকে পালন কর।” (প্রেরিত ২০:২৮) হ্যাঁ, প্রাচীনেরা পবিত্র আত্মা দ্বারা নিযুক্ত, যেটি যিহোবার কাছ থেকে আসে। (যোহন ১৪:২৬) তাদের নিযুক্তিকরণ হল ঐশিক। আরও, তারা ঈশ্বরের পালকে পালন করেন। পাল হল যিহোবার, প্রাচীনদের নয়। ঈশ্বরের সংগঠন হল ঈশতন্ত্র।

৮. বর্তমানে প্রাচীনদের সাধারণ দায়িত্বগুলি কী কী?

৮ ইফিষীয়দের প্রতি লেখা তার পত্রে, প্রেরিত পৌল প্রাচীনদের সাধারণ দায়িত্বভার সম্বন্ধে পরিলেখ দেন, এই বলে: “তিনিই কয়েক জনকে প্রেরিত, কয়েক জনকে ভাববাদী, কয়েক জনকে সুসমাচার-প্রচারক ও কয়েক জনকে পালক ও শিক্ষাগুরু করিয়া দান করিয়াছেন, পবিত্রগণকে পরিপক্ব করিবার নিমিত্ত করিয়াছেন, যেন পরিচর্য্যা-কার্য্য সাধিত হয়, যেন খ্রীষ্টের দেহকে গাঁথিয়া তোলা হয়।” (ইফিষীয় ৪:​১১, ১২) ‘খ্রীষ্টের দেহের’ শিশুকালের পর আর প্রেরিত ও ভাববাদীরা ছিলেন না। (তুলনা করুন ১ করিন্থীয় ১৩:⁠৮.) কিন্তু প্রাচীনেরা সুসমাচার প্রচার করতে, পালন করতে এবং শিক্ষা দিতে এখনও খুব ব্যস্ত।​—⁠২ তীমথিয় ৪:২; তীত ১:⁠৯.

৯. মণ্ডলীতে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে প্রতিনিধিত্ব করতে প্রাচীনেরা নিজেদের কিভাবে প্রস্তুত করবেন?

৯ যেহেতু ঈশতন্ত্র হল ঈশ্বরের শাসন তাই কার্যকারী প্রাচীনেরা ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে পরিচিত থাকেন। যিহোশূয়কে প্রতিদিন নিয়ম পড়তে আজ্ঞা দেওয়া হয় বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল সাহিত্যাদির সাথে সম্পূর্ণরূপে পরিচিত হতে প্রাচীনদেরও প্রতিদিন পড়তে ও আলোচনা করতে হবে। (২ তীমথিয় ৩:​১৪, ১৫) এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত আছে প্রহরীদুর্গ এবং আওয়েক! পত্রিকা ও অন্যান্য প্রকাশনা যা দেখায় বাইবেল নীতিগুলি বিশেষ পরিস্থিতিতে কিভাবে প্রয়োগ হয়।a কিন্তু, ওয়াচ টাওয়ার সমিতির সাহিত্যাদিতে প্রকাশিত নির্দেশ জানা ও অনুসরণ করা এক প্রাচীনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ভিত্তিস্বরূপ শাস্ত্রীয় নীতিগুলির সাথেও তার সম্পূর্ণরূপে পরিচিত হওয়া দরকার। তখনই সে শাস্ত্রীয় নির্দেশগুলি উপলব্ধি ও সমবেদনার সাথে প্রয়োগ করতে পারবে।​—⁠তুলনা করুন মীখা ৬:⁠৮.

খ্রীষ্টীয় মনোভাবের সাথে সেবা করা

১০. কোন্‌ মন্দ মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রাচীনদের সাবধান হতে হবে এবং কিভাবে?

১০ প্রায় সা.শ. ৫৫ সালে প্রেরিত পৌল করিন্থীয় মণ্ডলীতে তার প্রথম পত্রটি লেখেন। যে সমস্যাটির তিনি মোকাবিলা করছিলেন তা হল কিছু ব্যক্তিরা মণ্ডলীতে জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল। পৌল লিখেছিলেন: “তোমরা এখন পূর্ণ হইয়াছ! এখন ধনবান্‌ হইয়াছ! আমাদের ছাড়া রাজত্ব পাইয়াছ! আর রাজত্ব পাইলে ভালই হইত, তোমাদের সহিত আমরাও রাজত্ব পাইতাম।” (১ করিন্থীয় ৪:⁠৮) সা.শ. প্রথম শতাব্দীতে, সকল খ্রীষ্টানদের আশা ছিল যে তারা যীশুর সাথে স্বর্গীয় রাজা ও যাজক হিসাবে রাজত্ব করবে। (প্রকাশিত বাক্য ২০:​৪, ৬) কিন্তু, করিন্থের কিছু ব্যক্তি ভুলে যায় যে খ্রীষ্টীয় ঈশতন্ত্রে পৃথিবীতে কোন রাজা নেই। জগতের রাজাদের মত আচরণ না করে খ্রীষ্টীয় পালকেরা নম্রতা অর্জন করেন, যে গুণটি যিহোবাকে খুশি করে।​—⁠গীতসংহিতা ১৩৮:৬; লূক ২২:​২৫-২৭.

১১. (ক) নম্রতার কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলি কী কী? (খ) নিজেদের সম্পর্কে প্রাচীনদের ও অন্যদের কী দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার?

১১ নম্রতা কি দুর্বলতা? কখনই নয়! স্বয়ং যিহোবাকেই নম্র বলে বর্ণনা করা হয়। (গীতসংহিতা ১৮:৩৫) ইস্রায়েলের রাজারা সৈন্যদের যুদ্ধে পরিচালিত করেন এবং যিহোবার অধীনে জাতির উপরে রাজত্ব করেন। তবুও, প্রত্যেককে সাবধান থাকতে হত “যেন আপন ভ্রাতাদের উপরে তাহার চিত্ত উদ্ধত না হয়।” (দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:২০) পুনরুত্থিত যীশু হলেন স্বর্গীয় রাজা। কিন্তু পৃথিবীতে থাকাকালীন তিনি তাঁর শিষ্যদের পা ধুইয়ে দেন। কতই না নম্রতা! আর তিনি যে চেয়েছিলেন তাঁর প্রেরিতেরা যাতে অনুরূপ নম্র হয় তা প্রদর্শন করে তিনি বলেন: “আমি প্রভু ও গুরু হইয়া যখন তোমাদের পা ধুইয়া দিলাম তখন তোমাদেরও পরস্পরের পা ধোয়ান উচিত।” (যোহন ১৩:১৪; ফিলিপীয় ২:​৫-৮) সমস্ত মহিমা ও প্রশংসা যিহোবার কাছে যাওয়া উচিত, কোন মানুষের প্রতি নয়। (প্রকাশিত বাক্য ৪:১১) তারা প্রাচীন হোক বা না হোক, সকল খ্রীষ্টানদের যীশুর বাক্যের আলোকে নিজেদের দেখা দরকার: “তোমরাও বলিও আমার অনুপযোগী দাস, যাহা করিতে বাধ্য ছিলাম, তাহাই করিলাম।” (লূক ১৭:১০) অন্য যে কোন দৃষ্টিভঙ্গিই অনৈশিক।

১২. খ্রীষ্টীয় প্রাচীনের পক্ষে প্রেম গুণটি অর্জন করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১২ নম্রতার সাথে সাথে খ্রীষ্টীয় প্রাচীনেরা প্রেমও অর্জন করেন। প্রেরিত যোহন প্রেমের গুরুত্বপূর্ণ দেখান যখন তিনি বলেন: “যে প্রেম করে না, সে ঈশ্বরকে জানে না, কারণ ঈশ্বর প্রেম” (১ যোহন ৪:⁠৮) যারা প্রেম প্রদর্শন করে না তারা অনৈশিক। তারা যিহোবাকে জানে না। ঈশ্বরের পুত্র সম্বন্ধে বাইবেল বলে: “যীশু . . . আপনার নিজস্ব যে লোকদিগকে প্রেম করিতেন, তাহাদিগকে শেষ পর্য্যন্ত প্রেম করিলেন।” (যোহন ১৩:⁠১) যারা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর পরিচালক গোষ্ঠীর অংশ হবেন সেই ১১ জন পুরুষদের সাথে কথা বলার সময় যীশু বলেন: “আমার আজ্ঞা এই, তোমরা পরস্পর প্রেম কর, যেমন আমি তোমাদিগকে প্রেম করিয়াছি।” (যোহন ১৫:১২) সত্য খ্রীষ্টতত্ত্বের শনাক্তিকরণ চিহ্ন হল প্রেম। ভগ্নহৃদয়, শোকার্ত এবং যারা আধ্যাত্মিক বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে চায় তাদের এটি আকর্ষণ করে। (যিশাইয় ৬১:​১, ২ যোহন ১৩:৩৫) প্রেম প্রদর্শন করতে প্রাচীনদের উদাহরণযোগ্য হওয়া উচিত।

১৩. বর্তমানে যদিও সমস্যাগুলি কঠিন হয়ে থাকে তবুও একজন প্রাচীন কিভাবে সমস্ত পরিস্থিতিতে উত্তম বিষয়ের এক প্রভাব হতে পারেন?

১৩ বর্তমানে, প্রাচীনদের জটিল সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়ে থাকে। বিবাহ সমস্যাগুলি গভীর ও দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে। যুবক-যুবতীদের সমস্যা থাকতে পারে যা উপলব্ধি করতে বয়স্কদের অসুবিধা হতে পারে। মানসিক অসুস্থতা অনেকসময় বোঝা অসম্ভব হতে পারে। এক প্রাচীন সেই সকলের সম্মুখীন হলে কী করতে হবে সেই সম্পর্কে হয়ত অনিশ্চিত থাকতে পারেন। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চিত থাকতে পারেন যে তিনি যদি প্রার্থনাপূর্বক যিহোবার প্রজ্ঞার উপর নির্ভর করেন, তিনি যদি বাইবেল এবং বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসশ্রেণীর দ্বারা প্রকাশিত তথ্যাদির উপর গবেষণা করেন এবং তিনি যদি নম্রতা ও প্রেম সহকারে মেষের সাথে ব্যবহার করেন তাহলে তিনি এক উত্তম প্রভাব হতে পারেন, এমনকি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিতেও।

১৪, ১৫. কোন্‌ অভিব্যক্তিগুলি দেখায় যে যিহোবা তাঁর লোকেদের বহু উত্তম প্রাচীন দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন?

১৪ মনুষ্যদিগকে নানা বর দান করে যিহোবা তাঁর সংগঠনকে প্রচুর আশীর্বাদ করেছেন। (ইফিষীয় ৪:⁠৮) প্রায়ই ওয়াচ টাওয়ার সমিতি, হৃদয়গ্রাহী পত্র পেয়ে থাকে যা নম্র প্রাচীনদের প্রেম প্রদর্শন সম্পর্কে বলে, যারা ঈশ্বরের পালকে করুণার সাথে পালন করেন। উদাহরণস্বরূপ, মণ্ডলীর এক প্রাচীন লিখেছিলেন: “এক সীমা অধ্যক্ষের পরিদর্শন আমাকে আগে এত বেশি প্রভাবিত করেছে অথবা মণ্ডলীতে সেই সম্বন্ধে ক্রমাগত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না। ভাই-বোনদের সাথে ব্যবহার করার সময়ে প্রশংসার উপর জোর দিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখার গুরুত্বপূর্ণতা সম্পর্কে দেখতে সীমা অধ্যক্ষ আমাকে সাহায্য করেন।”

১৫ একজন বোন যাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বহু দূর যাত্রা করতে হয়, তিনি লেখেন: “ঘর থেকে বহু দূরে হাসপাতালে উদ্বেগপূর্ণ প্রথম রাতে এক প্রাচীনের সাথে সাক্ষাৎ হওয়াটি কতই না প্রত্যয় দান করে! তিনি এবং অন্যান্য ভাইয়েরা আমার সাথে অনেক সময় ব্যয় করেন। এমনকি জগতের লোকেরা, যারা আমার অসুস্থতা সম্পর্কে জানতেন তারাও মনে করেন যে সেই প্রেমময় ও নিষ্ঠাবান ভাইদের সান্ত্বনা, যত্ন এবং প্রার্থনা ব্যতীত আমার বাঁচা সম্ভব হত না।” আর একজন বোন লেখেন: “আজকে আমি বেঁচে আছি তার কারণ প্রচণ্ড অবসাদের সাথে আমার যুদ্ধের সময়ে, প্রাচীনগোষ্ঠী ধৈর্য ধরে আমাকে নির্দেশ দেন। . . . এক ভাই ও তার স্ত্রী, আমাকে কী বলবেন তা ভেবে পান না তাই তারা দুজনেই আমাকে জড়িয়ে ধরেন। যেটি আমাকে সবথেকে বেশি স্পর্শ করে তা হল, যদিও তারা জানতেন না যে আমি কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তবুও তারা প্রেমের সাথে আমার প্রতি যত্ন নেন।”

১৬. প্রাচীনদের পিতর কী পরামর্শ দেন?

১৬ হ্যাঁ, বহু প্রাচীনেরাই প্রেরিত পিতরের পরামর্শটি মেনে চলেন: “তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তাহা পালন কর; অধ্যক্ষের কার্য্য কর, আবশ্যকতা প্রযুক্ত নয়, কিন্তু ইচ্ছাপূর্ব্বক, ঈশ্বরের অভিমতে, কুৎসিত লাভার্থে নয়, কিন্তু উৎসুক ভাবে কর; নিরূপিত অধিকারের উপরে কর্ত্তৃত্বকারীরূপে নয়, কিন্তু পালের আদর্শ হইয়াই কর।” (১ পিতর ৫:​১-৩) সেইরূপ ঐশিক প্রাচীনেরা কতই না আশীর্বাদস্বরূপ!

ঈশতন্ত্রে পালেরা

১৭ কিছু গুণাবলির নাম করুন যা মণ্ডলীতে সকলের অর্জন করা উচিত।

১৭ যাইহোক, ঈশতন্ত্র শুধুমাত্র প্রাচীনদের গঠিত নয়। যদি পালকদের ঐশিক হতে হয় তাহলে পালদেরও ঐশিক হতে হবে। কিরূপে? পালকদের যে নীতিগুলি নির্দেশ দেয় সেইগুলি পালদেরও পরিচালিত করবে। যিহোবার আশীর্বাদ পেতে হলে শুধুমাত্র প্রাচীনেরাই নয়, সকল খ্রীষ্টানদেরও নম্র হতে হবে। (যাকোব ৪:⁠৬) সকলকে প্রেম অর্জন করতে হবে কারণ প্রেম ব্যতিরেকে যিহোবার প্রতি আমাদের বলিদান তাঁকে খুশি করবে না। (১ করিন্থীয় ১৩:​১-৩) কেবলমাত্র প্রাচীনেরাই নয়, আমাদের সকলকেও “সমস্ত আত্মিক জ্ঞানে ও বুদ্ধিতে [যিহোবার] ইচ্ছার তত্ত্বজ্ঞানে পূর্ণ” হতে হবে।​—⁠কলসীয় ১:⁠৯.

১৮. (ক) সত্যের বাহ্যিক জ্ঞান যথেষ্ট নয় কেন? (খ) আমরা সকলেই কিভাবে যথার্থ জ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণ হতে পারি?

১৮ এই শয়তানের জগতে থেকেও বিশ্বস্ত থাকার জন্য ছোট-বড় সকলেই ক্রমাগত কষ্টকর সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হয়। বেশ-ভূষা, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং সাহিত্যাদি সম্বন্ধে জগতের প্রবণতা কিছু জনের আধ্যাত্মিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে। আমাদের ভারসাম্য রাখতে সত্যের সম্পর্কে আমাদের বাহ্যিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। বিশ্বস্ত থাকার জন্য দৃঢ় নিশ্চিত হতে, আমাদের যথার্থ জ্ঞানে পরিপূর্ণ হতে হবে। আমাদের প্রয়োজন বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার, যা একমাত্র ঈশ্বরের বাক্য দিতে পারে। (হিতোপদেশ ২:​১-৫) অর্থাৎ অধ্যয়নের উত্তম অভ্যাস করা, আমরা যা শিখেছি সেই সম্পর্কে ধ্যান করা এবং তা কাজে লাগানো। (গীতসংহিতা ১:​১-৩; প্রকাশিত বাক্য ১:⁠৩) শুধুমাত্র প্রাচীনদেরই নয়, পৌল সকল খ্রীষ্টানদের লিখেছিলেন, যখন তিনি বলেন: “কিন্তু কঠিন খাদ্য সেই সিদ্ধবয়স্কদেরই জন্য, যাহাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় সকল অভ্যাস প্রযুক্ত সদসৎ বিষয়ের বিচারণে পটু হইয়াছে।”​—⁠ইব্রীয় ৫:১৪.

পালক এবং পালেরা একত্রে কাজ করেন

১৯, ২০. প্রাচীনদের সাথে সহযোগিতা করতে সকলকে কী পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কেন?

১৯ অবশেষে, এটি বলা দরকার যে যারা প্রাচীনদের সাথে সহযোগিতা করে তারা প্রকৃতই ঐশিক আত্মা প্রদর্শন করেন। পৌল তীমথিয়কে লেখেন: “যে প্রাচীনেরা উত্তমরূপে শাসন করেন, বিশেষতঃ যাঁহারা বাক্যে ও শিক্ষাদানে পরিশ্রম করেন, তাঁহারা দ্বিগুণ সমাদরের যোগ্য গণিত হউন।” (১ তীমথিয় ৫:১৭; ১ পিতর ৫:​৫, ৬) প্রাচীনের পদে কাজ করা হল এক অপূর্ব সুযোগ, কিন্তু বেশির ভাগ প্রাচীনদের সংসার আছে যাদের প্রতিদিন চাকুরি করতে যেতে এবং যাদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করতে হয়। তারা পরিচর্যা করতে খুশি থাকেন, যখন মণ্ডলী তাদের অতিরিক্ত সমালোচনা এবং তাদের কাছ থেকে বেশি আশা না করে, তাদের সমর্থন করে তখন তাদের পরিচর্যা হয়ে ওঠে সহজ ও পুরস্কারস্বরূপ।​—⁠ইব্রীয় ১৩:১৭.

২০ প্রেরিত পৌল বলেছেন: “যাঁহারা তোমাদিগকে ঈশ্বরের বাক্য বলিয়া গিয়াছেন, তোমাদের সেই নেতাদিগকে স্মরণ কর, এবং তাঁহাদের আচরণের শেষগতি আলোচনা করিতে করিতে তাঁহাদের বিশ্বাসের অনুকারী হও।” (ইব্রীয় ১৩:⁠৭) না, পৌল প্রাচীনদের অনুসরণ করতে ভ্রাতাদের বলেননি। (১ করিন্থীয় ১:১২) মানুষকে অনুসরণ করা ঐশিক নয়। কিন্তু ঐশিক প্রাচীনদের প্রমাণিত বিশ্বাসকে অনুকরণ করা নিশ্চয়ই বিজ্ঞতার কাজ হবে, যারা সুসমাচার প্রচার কাজে সক্রিয়, যারা সভাতে নিয়মিত আসেন এবং যারা মণ্ডলীর সাথে নম্রভাবে ও প্রেমের সাথে ব্যবহার করেন।

বিশ্বাসের সাক্ষ্য

২১. খ্রীষ্টানেরা কিভাবে মোশির মত দৃঢ় বিশ্বাস প্রদর্শন করে?

২১ সত্যই, মানব ইতিহাসের এই অত্যন্ত অধঃপতিত সময়ে ঐশিক সংগঠনের অস্তিত্ব হল মহান ঈশ্বরের শক্তির সাক্ষ্য। (যিশাইয় ২:​২-৫) এটি প্রায় ৫০ লক্ষ নারী, পুরুষ ও ছেলেমেয়েদেরও বিশ্বাসের সাক্ষ্য, যারা জীবনের দৈনন্দিন সমস্যার সাথে মোকাবিলা করে কিন্তু কখনও ভুলে যায় না যে যিহোবা হলেন তাদের শাসনকর্তা। বিশ্বস্ত মোশি যেমন “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে যেন দেখিয়াই স্থির থাকিলেন,” সেইরূপ বর্তমানে খ্রীষ্টানদেরও অনুরূপ দৃঢ় বিশ্বাস আছে। (ইব্রীয় ১১:২৭) তারা ঈশতন্ত্রে বাস করার সুযোগ পেয়ে ধন্যবাদ দেয়। (গীতসংহিতা ১০০:​৪, ৫) তারা যিহোবার রক্ষা করার শক্তি সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা করে এটি ঘোষণা করতে আনন্দিত: “যিহোবা আমাদের বিচারকর্ত্তা, যিহোবা আমাদের ব্যবস্থাপক, যিহোবা আমাদের রাজা; তিনিই আমাদিগকে পরিত্রাণ করিবেন।”​—⁠যিশাইয় ৩৩:২২.

[পাদটীকাগুলো]

a সেই ধরনের প্রকাশনার মধ্যে হল এই বইটি “আপনাদের ও সকল পালের বিষয়ে মনোযোগ দান কর,” যাতে শাস্ত্রীয় নির্দেশাবলি রয়েছে এবং মণ্ডলীতে নিযুক্ত অধ্যক্ষ অথবা প্রাচীনদের জন্য যেটি দেওয়া হয়েছে।

বাইবেল কী দেখায়?

▫ খ্রীষ্টানেরা কিরূপে ঈশতন্ত্রের প্রতি বশীভূত হয়?

▫ বর্তমানে ঈশতন্ত্র কিভাবে সংগঠিত?

▫ প্রাচীনদের দায়িত্ব পূর্ণ করতে কিরূপে নিজেদের প্রস্তুত করা উচিত?

▫ প্রাচীনদের কোন্‌ খ্রীষ্টীয় গুণ অর্জন এবং প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ?

▫ ঈশতন্ত্রে, পালক ও পালের মধ্যে কোন্‌ সম্পর্ক থাকা দরকার?

[Pictures on page 28]

আদম ও হবা পরমদেশ হারায় কারণ তারা ভাল-মন্দ সম্পর্কে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিল

[Pictures on page 30]

যদি এক প্রাচীন মেষের সাথে নম্রতা ও প্রেমের সাথে ব্যবহার করেন তাহলে তিনি সর্বদা এক উত্তম প্রভাব হবেন

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার