ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৩ ১২/১ পৃষ্ঠা ১১-১৬
  • নম্র লোকেরাই সুখী

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • নম্র লোকেরাই সুখী
  • ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • যিহোবার প্রতি বিশ্বাস আমাদের নম্র হতে সাহায্য করে
  • নম্রতা—বিজ্ঞতার কাজ
  • নম্রতার জন্য অন্যদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে
  • প্রেম আমাদের নম্র হতে সাহায্য করবে
  • অকৃত্রিম নম্রতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করুন
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনি কিভাবে প্রকৃত নম্রতা দেখাতে পারেন?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা নম্র ব্যক্তিদের কাছে তাঁর গৌরব প্রকাশ করেন
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা তাঁর নম্র দাসদের মূল্যবান হিসেবে দেখেন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৯
আরও দেখুন
১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৩ ১২/১ পৃষ্ঠা ১১-১৬

নম্র লোকেরাই সুখী

“ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন।”—১ পিতর ৫:৫.

১, ২. পর্বতে দত্ত উপদেশে, যীশু কিভাবে দেখিয়েছিলেন যে সুখী হওয়ার সাথে নম্র হওয়ার সম্পর্ক আছে?

নম্র হওয়া এবং সুখী হওয়ার মধ্যে কি কোন সম্পর্ক আছে? সর্বকালের সর্বমহান ব্যক্তি, ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্ট, তাঁর সব থেকে বিখ্যাত উপদেশে নয়টি সুখের অথবা আনন্দের বিষয় সম্বন্ধে বর্ণনা করেছিলেন। (মথি ৫:১-১২) নম্র হওয়ার সঙ্গে সুখী হওয়ার সম্পর্ক কি যীশু দেখিয়েছিলেন? হ্যাঁ, দেখিয়েছিলেন কারণ তাঁর উল্লিখিত সুখের বিষয়গুলির অনেকগুলির সঙ্গে নম্র হওয়া জড়িত ছিল। উদাহরণস্বরূপ, নিজের আত্মিক চাহিদা সম্বন্ধে সচেতন হওয়ার জন্য কোন ব্যক্তিকে নম্র হতে হবে। একমাত্র নম্র ব্যক্তিরাই ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধিত ও তৃষ্ণার্ত। তার অহঙ্কারীরা মৃদুশীল, দয়াশীল অথবা শান্তিপ্রিয় নয়।

২ নম্র ব্যক্তিরা সুখী কারণ নম্র হওয়া উপযুক্ত এবং সততাপূর্ণ। আরও, নম্র ব্যক্তিরা সুখী কারণ নম্র হওয়া বিজ্ঞতার কাজ; এর জন্য যিহোবা এবং সহখ্রীষ্টানদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়াও, নম্র লোকেরা সুখী হয় কারণ নম্র হওয়া হল তাদের দিক থেকে প্রেমের এক অভিব্যক্তি।

৩. সততা রাখতে হলে আমাদের কেন নম্র হতে হবে?

৩ সততা দেখানোর জন্য কেন নম্র হওয়ার প্রয়োজন আছে? একটি কারণ হল, আমরা সকলে উত্তরাধিকারসূত্রে অসিদ্ধতা পেয়েছি এবং প্রায়ই ভুল করে থাকি। প্রেরিত পৌল নিজের সম্বন্ধে বলেছিলেন: “আমি জানি যে আমাতে, অর্থাৎ আমার মাংসে, উত্তম কিছুই বাস করে না; আমার ইচ্ছা উপস্থিত বটে, কিন্তু উত্তম ক্রিয়া সাধন উপস্থিত নয়।” (রোমীয় ৭:১৮) হ্যাঁ, আমরা সকলে পাপ করেছি ও ঈশ্বরের গৌরববিহীন হয়েছি। (রোমীয় ৩:২৩) অকপটতা আমাদের অহঙ্কারী হওয়া থেকে রক্ষা করবে। ভুল স্বীকার করতে নম্রতার প্রয়োজন হয় আর ভুল করার দোষ মেনে নিতে সততা আমাদের সাহায্য করবে। যেহেতু আমরা যা করতে চেষ্টা করি তা করতে পারি না, সেই জন্য নম্র হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

৪. নম্র হওয়ার জন্য, ১ করিন্থীয় ৪:৭ পদে কোন্‌ উপযুক্ত কারণ দেওয়া আছে?

৪ সততা কেন আমাদের নম্র করবে, সেই বিষয়ে প্রেরিত পৌল আমাদের আরেকটি কারণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “কে তোমাকে বিশিষ্ট করে? আর যাহা না পাইয়াছ, এমনই বা তোমার কি আছে? আর যখন পাইয়াছ; তখন যেন পাও নাই, এরূপ শ্লাঘা কেন করিতেছ?” (১ করিন্থীয় ৪:৭) কোন সন্দেহ নেই যে নিজেদের মহিমা প্রকাশ করা, আমাদের বিষয়সম্পত্তি, ক্ষমতা অথবা কৃতিত্ব সম্বন্ধে গর্ব করা সততার কাজ হবে না। সততা রাখলে আমরা ঈশ্বরের সামনে শুদ্ধ বিবেক রাখতে পারব, যাতে আমরা “সর্ব্ববিষয়ে সদাচরণ” করতে পারি।—ইব্রীয় ১৩:১৮.

৫. যখন আমরা কোন ভুল করি, তখন সততা আমাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারে?

৫ ভুল করলে, সততা আমাদের নম্র হতে সাহায্য করে। অজুহাত দেখানো অথবা অন্য কাউকে দোষ দেওয়ার বদলে, নিজের ভুল স্বীকার করে নিতে সততা আমাদের সাহায্য করবে। সুতরাং, আদম হবাকে দোষ দিলেও, দায়ূদ বৎশেবাকে দোষ দিয়ে এই বলেননি যে, ‘সকলের সামনে স্নান করা ওর উচিত হয়নি। আমি স্বভাবতই প্রলোভন এড়িয়ে যেতে পারিনি।’ (আদিপুস্তক ৩:১২; ২ শমূয়েল ১১:২-৪) প্রকৃতপক্ষে বলা যেতে পারে যে, একদিকে যেমন সত্যনিষ্ঠ হওয়া আমাদের নম্র হতে সাহায্য করে, অপরপক্ষে নম্র হওয়া আমাদের সত্যনিষ্ঠ হতে সাহায্য করে।

যিহোবার প্রতি বিশ্বাস আমাদের নম্র হতে সাহায্য করে

৬, ৭. ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আমাদের কিভাবে নম্র হতে সাহায্য করে?

৬ যিহোবার প্রতি বিশ্বাসও আমাদের নম্র হতে সাহায্য করবে। সার্বিক সার্বভৌম স্রষ্টা সত্যিই কত মহান, তা উপলব্ধি করলে আমাদের নিজেদের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া থেকে আমরা বিরত হব। ভাববাদী যিশাইয় আমাদের কত ভালভাবে এই সম্বন্ধে মনে করিয়ে দিয়েছেন! যিশাইয় ৪০:১৫, ২২ পদে তিনি বলেছেন: “দেখ, জাতিগণ কলসের একটী জলবিন্দুর তুল্য, আর পাল্লাতে লগ্ন ধূলিকণার ন্যায় গণ্য; . . . তিনিই পৃথিবীর সীমাচক্রের উপরে উপবিষ্ট; তন্নিবাসিগণ ফড়িঙ্গস্বরূপ।”

৭ যখন আমরা মনে করি যে আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, তখনও যিহোবার প্রতি বিশ্বাস আমাদের সাহায্য করতে পারে। সেই বিষয়ে অস্থির না হয়ে, আমরা নম্রতার সাথে যিহোবার প্রতি নির্ভর করব, যেমন গীতসংহিতা ৩৭:১-৩, ৮, ৯ পদে গীতরচক আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। প্রেরিত পৌলও একই বিষয় উল্লেখ করেছেন: “হে প্রিয়েরা, তোমরা আপনারা প্রতিশোধ লইও না, বরং ক্রোধের জন্য স্থান ছাড়িয়া দেও, কারণ লেখা আছে, ‘প্রতিশোধ লওয়া আমারই কর্ম্ম, আমিই প্রতিফল দিব,’ ইহা প্রভু বলেন।”—রোমীয় ১২:১৯.

নম্রতা—বিজ্ঞতার কাজ

৮. নম্রতার জন্য কেন যিহোবার সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে?

৮ নম্র হওয়া কেন বিজ্ঞতার কাজ, সেই সম্পর্কে অনেক কারণ আছে। যেমন আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, একটি হল, এই জন্য আমাদের স্রষ্টার সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হিতোপদেশ ১৬:৫ পদে ঈশ্বরের বাক্য স্পষ্ট বলেছে: “যে কেহ হৃদয়ে গর্ব্বিত, সে সদাপ্রভুর ঘৃণাস্পদ।” হিতোপদেশ ১৬:১৮ পদে আমরা আরও পড়তে পারি: “বিনাশের পূর্ব্বে অহঙ্কার, পতনের পূর্ব্বে মনের গর্ব্ব।” একদিন না একদিন অহঙ্কারী লোকেদের দুঃখ পেতে হবেই। তা হতে হবেই কারণ ১ পিতর ৫:৫ পদে আমরা পড়ি: “তোমরা সকলেই এক জন অন্যের সেবার্থে নম্রতায় কটিবন্ধন কর, কেননা ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন।” ফরীশী এবং করগ্রাহী সম্বন্ধে যীশুর দেওয়া উদাহরণে, যারা দুজনেই প্রার্থনা করছিল, আপনি একই বিষয় দেখতে পাবেন। নম্র করগ্রাহী বেশি ধার্মিক বলে নিজেকে প্রমাণ করেছিল।—লূক ১৮:৯-১৪.

৯. প্রতিকূল অবস্থায় নম্রতা কিভাবে সাহায্য করে?

৯ নম্রতা বিজ্ঞতার কাজ কারণ যাকোব ৪:৭ পদের উপদেশ গ্রহণ করতে নম্রতা আমাদের সাহায্য করে: “অতএব তোমরা ঈশ্বরের বশীভূত হও।” আমরা যদি নম্র হই, তাহলে যিহোবা যখন আমাদের দুঃখকষ্ট পেতে দেন, তখন আমরা বিদ্রোহ করব না। আমাদের পরিস্থিতি সম্বন্ধে সন্তুষ্ট থাকতে এবং ধৈর্য রাখতে, নম্রতা আমাদের সাহায্য করবে। একজন অহঙ্কারী ব্যক্তি অসন্তুষ্ট থাকে, সবসময়ে আরও বেশি চায় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখে বিদ্রোহ করে। অপরপক্ষে, নম্র ব্যক্তি দুঃখকষ্ট সহ্য করে, যেমন ইয়োব করেছিলেন। ইয়োব তার সমস্ত সম্পত্তি হারিয়েছিলেন এবং একটি কষ্টকর রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর তারপর এমনকি তার স্ত্রী তাকে গর্বিত মনোভাব রাখতে উপদেশ দিয়ে বলেছিল: “ঈশ্বরকে জলাঞ্জলি দিয়া প্রাণত্যাগ কর।” তিনি কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন? বাইবেলের বিবরণ আমাদের জানায়: “তিনি তাঁহাকে কহিলেন, তুমি একটা মূঢ়া স্ত্রীর মত কথা কহিতেছ। বল কি? আমরা ঈশ্বর হইতে কি মঙ্গলই গ্রহণ করিব, অমঙ্গল গ্রহণ করিব না? এই সকলেতে ইয়োব আপন ওষ্ঠাধরে পাপ করিলেন না।” (ইয়োব ২:৯, ১০) যেহেতু ইয়োব নম্র ছিলেন, তিনি বিদ্রোহ করেননি কিন্তু যিহোবা যা কিছু তার প্রতি ঘটতে দিয়েছিলেন তা বিজ্ঞতার সাথে সহ্য করেছিলেন। কিন্তু শেষে, তিনি প্রচুর পুরস্কার পেয়েছিলেন।—ইয়োব ৪২:১০-১৬; যাকোব ৫:১১.

নম্রতার জন্য অন্যদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে

১০. সহখ্রীষ্টানদের সাথে নম্রতা কিভাবে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি করে?

১০ নম্রতা বিজ্ঞতার কাজ কারণ এর জন্য আমাদের সহখ্রীষ্টানদের সাথেও ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই প্রেরিত পৌল উপযুক্তরূপেই আমাদের উপদেশ দিয়েছেন: “প্রতিযোগিতার কিম্বা অনর্থক দর্পের বশে কিছুই করিও না, বরং নম্রভাবে প্রত্যেক জন আপনা হইতে অন্যকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান কর; এবং প্রত্যেক জন আপনার বিষয়ে নয়, কিন্তু পরের বিষয়েও লক্ষ্য রাখ।” (ফিলিপীয় ২:৩, ৪) একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করা অথবা নিজেকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা থেকে নম্রতা আমাদের বাধা দেবে। এই ধরনের মনোভাব আমাদের এবং আমাদের সহখ্রীষ্টানদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

১১. ভুল করা এড়িয়ে চলতে নম্রতা কিভাবে আমাদের সাহায্য করে?

১১ ভুল করা এড়িয়ে যেতে, নম্রতা আমাদের বার বার সাহায্য করতে পারে। কিভাবে? কারণ, নিজের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা রাখা থেকে নম্রতা আমাদের বিরত করবে। বরঞ্চ, ১ করিন্থীয় ১০:১২ পদে পৌলের উপদেশ আমরা উপলব্ধি করব: “যে মনে করে, আমি দাঁড়াইয়া আছি, সে সাবধান হউক, পাছে পড়িয়া যায়।” অহঙ্কারী ব্যক্তি অতিরিক্ত আত্মনির্ভরশীল আর সেইজন্য বাইরের প্রভাব অথবা নিজের দুর্বলতার জন্য সহজেই ভুল করতে পারে।

১২. কোন্‌ শাস্ত্রীয় বাধ্যতা রক্ষা করতে নম্রতা আমাদের সাহায্য করবে?

১২ বশীভূত থাকার প্রয়োজন মিটাতে নম্রতা আমাদের সাহায্য করবে। ইফিষীয় ৫:২১ পদে আমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে: “খ্রীষ্টের ভয়ে এক জন অন্য জনের বশীভূত হও।” আমাদের সকলেরই কী বশীভূত হওয়ার প্রয়োজন নেই? ছেলেমেয়েদের তাদের পিতামাতার প্রতি, স্ত্রীকে স্বামীর প্রতি এবং স্বামীকে খ্রীষ্টের প্রতি বশীভূত থাকতে হবে। (১ করিন্থীয় ১১:৩; ইফিষীয় ৫:২২; ৬:১) তারপর, যে কোন খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে পরিচারক দাসসহ সকলকে প্রাচীনদের বশীভূত থাকতে হবে। আর প্রাচীনেরা যে বিশ্বস্ত দাসশ্রেণীর বিশেষ প্রতিনিধি সীমা অধ্যক্ষের বশীভূত, তা কি সত্য নয়? আবার সীমা অধ্যক্ষকে জেলা অধ্যক্ষের প্রতি ও জেলা অধ্যক্ষকে সেই দেশের শাখা কমিটির প্রতি আনুগত্য দেখাতে হবে। শাখা কমিটি সম্বন্ধে কী? তাদের “এক জন অন্য জনের” প্রতি এবং “বিশ্বস্ত এবং বুদ্ধিমান দাসশ্রেণীর” প্রতিনিধি পরিচালক গোষ্ঠীকে, সিংহাসনে আসীন রাজা যীশুর কাছে জবাবদিহি দিতে হবে, তাঁর প্রতি অনুগত থাকতে হবে। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) যে কোন প্রাচীনগোষ্ঠীর মত, পরিচালক গোষ্ঠীর সদস্যদের একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান দেখাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন হয়ত মনে করতে পারেন যে তার মাথায় একটি ভাল পরিকল্পনা এসেছে। কিন্তু অন্য সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যদি তার সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে তাকে সেই পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে। প্রকৃতই, আমাদের সকলের নম্রতা প্রয়োজন, কারণ আমাদের সকলকেই আনুগত্য দেখাতে হবে।

১৩, ১৪. (ক) কোন্‌ বিশেষ পরিস্থিতিতে নম্রতা আমাদের সাহায্য করতে পারে? (খ) উপদেশ গ্রহণ করা সম্বন্ধে পিতর কি উদাহরণ দিয়েছিলেন?

১৩ নম্রতা বিশেষভাবে বিজ্ঞতার কাজ কারণ উপদেশ এবং অনুশাসন গ্রহণ করতে নম্রতা আমাদের পক্ষে সহজ করে দেয়। কখনও কখনও আমাদের সকলের অনুশাসনের প্রয়োজন হয় আর তাই হিতোপদেশ ১৯:২০ পদের উপদেশ গ্রহণ করলে আমরা ভালই করব: “পরামর্শ শুন, শাসন গ্রহণ কর, যেন তুমি শেষকালে জ্ঞানবান হও।” উপযুক্তরূপেই বলা হয়েছে যে নম্রতা সংশোধন অথবা অনুশাসনের আঘাত কমিয়ে দেয়। এছাড়াও, ইব্রীয় ১২:৪-১১ পদে প্রেরিত পৌল নম্রভাবে অনুশাসন মেনে নেওয়ার প্রজ্ঞা সম্বন্ধে উপদেশ দিয়েছেন। একমাত্র এইভাবেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ পথ বিজ্ঞভাবে পরিচালিত করতে পারি আর তার পরিবর্তে অনন্ত জীবন উপহার পেতে পারি। তা কী আনন্দময় ভবিষ্যতই না হবে!

১৪ এই বিষয়ে আমরা প্রেরিত পিতরের উদাহরণ উল্লেখ করতে পারি। প্রেরিত পৌলের কাছে তিনি কঠোর অনুশাসন পেয়েছিলেন, যেমন আমরা গালাতীয় ২:১৪ পদের বিবরণে দেখতে পাই: “আমি যখন দেখিলাম, তাঁহারা সুসমাচারের সত্য অনুসারে সরল পথে চলেন না, তখন আমি সকলের সাক্ষাতে কৈফাকে [পিতরকে] কহিলাম, তুমি নিজে যিহূদী হইয়া যদি যিহূদীদের মত নয়, কিন্তু পরজাতিগণের মত আচরণ কর, তবে কেন পরজাতিগণকে যিহূদীদের মত আচরণ করিতে বাধ্য করিতেছ?” প্রেরিত পিতর কি অপমানিত বোধ করেছিলেন? একটু করলেও, খুব বেশি দিনের জন্য নয়, যেমন পরে ২ পিতর ৩:১৫, ১৬ পদে “আমাদের প্রিয় ভ্রাতা পৌল” সম্বন্ধে তাঁর উল্লেখ থেকে বোঝা যায়।

১৫. আমাদের নম্র হওয়া এবং সুখী হওয়ার মধ্যে কী সম্পর্ক আছে?

১৫ স্বয়ংসম্পূর্ণ অথবা সন্তুষ্ট হওয়ার ব্যাপারও আছে। আমাদের অবস্থা, সুযোগ অথবা আশীর্বাদ সম্বন্ধে সন্তুষ্ট না হলে আমরা কিছুতেই সুখী হতে পারব না। একজন নম্র খ্রীষ্টান এই মনোভাব রাখে: “ঈশ্বর যদি ঘটতে দেন, তাহলে আমিও সহ্য করতে পারব,” যা প্রেরিত পৌল ১ করিন্থীয় ১০:১৩ পদে বলেছিলেন: “মনুষ্য যাহা সহ্য করিতে পারে, তাহা ছাড়া অন্য পরীক্ষা তোমাদের প্রতি ঘটে নাই; আর ঈশ্বর বিশ্বাস্য; তিনি তোমাদের প্রতি তোমাদের শক্তির অতিরিক্ত পরীক্ষা ঘটিতে দিবেন না, বরং পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষার পথও করিয়া দিবেন, যেন তোমরা সহ্য করিতে পার।” সুতরাং আমরা আবার বুঝতে পারি নম্রতা কেন বিজ্ঞতার কাজ, কারণ আমাদের পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আমরা সুখী থাকতে সাহায্য পাব।

প্রেম আমাদের নম্র হতে সাহায্য করবে

১৬, ১৭. (ক) নম্র হতে সাহায্য করতে সবচেয়ে বড় গুণটি কোন্‌ শাস্ত্রীয় উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে? (খ) কোন্‌ জাগতিক উদাহরণও এই বিষয়টিকে চিত্রিত করে?

১৬ নিঃস্বার্থ প্রেম, আ·গাʹপে, নম্র হতে অন্য সবকিছুর থেকে আমাদের বেশি সাহায্য করবে। কেন যীশু এত নম্রতার সাথে যাতনাদণ্ড সহ্য করতে পেরেছিলেন, যা পৌল ফিলিপীয়দের কাছে বর্ণনা করেছেন? (ফিলিপীয় ২:৫-৮) কেন তিনি ঈশ্বরের সমান হওয়ার কথা চিন্তাও করেননি? কারণ তিনি নিজেই বলেছিলেন: “আমি পিতাকে প্রেম করি।” (যোহন ১৪:৩১) সেইজন্য তিনি সবসময়ে তাঁর স্বর্গীয় পিতা যিহোবাকে মহিমা ও সম্মান দিয়েছিলেন। সুতরাং, আরেক সময়ে তিনি জোর দিয়েছিলেন যে একমাত্র তাঁর স্বর্গীয় পিতাই উত্তম।—লূক ১৮:১৮, ১৯.

১৭ আমেরিকার প্রথমদিকের একজন কবি, জন গ্রীন্‌লিফ উইটিয়ার-এর জীবনের একটি ঘটনা থেকে এই বিষয়টি চিত্রিত করা যায়। ছোটবেলায় তার একজন বান্ধবী ছিল, যে একবার বানান করার খেলায় একটি বানান ঠিক লিখেছিল, কিন্তু উইটিয়ার ভুল করেছিলেন। তার বান্ধবীর খুব খারাপ লেগেছিল। কেন? সেই কবি যেমন বলেছেন, তার বান্ধবী বলেছিল: “ঠিক বানান করার জন্য আমি দুঃখিত। তোমার চেয়ে বড় হতে আমি চাই না . . . কারণ, আমি তোমাকে ভালবাসি।” হ্যাঁ, যদি আমরা কাউকে ভালবাসি তাহলে আমরা চাইব সে আমাদের থেকে বড় হোক, ছোট নয়, কারণ প্রেম নম্র।

১৮. কোন্‌ শাস্ত্রীয় উপদেশ মেনে চলতে নম্রতা আমাদের সাহায্য করবে?

১৮ সকল খ্রীষ্টান, বিশেষত ভাইয়েদের জন্য এটি একটি ভাল শিক্ষা। পরিচর্যায় কোন বিশেষ সুযোগ সম্বন্ধে, আমরা কি আনন্দ করব যে আমাদের পরিবর্তে আমাদের ভাই তা পেয়েছে অথবা আমরা কিছুটা ঈর্ষা বা হিংসা বোধ করব? আমরা যদি সত্যিই আমাদের ভাইকে ভালবাসি তাহলে আমরা উল্লসিত হব যে সে সেই কাজ অথবা কৃতিত্ব বা পরিচর্যার সুযোগ পেয়েছে। হ্যাঁ, নম্রতা এই উপদেশ গ্রহণ করতে সহজ করে দেবে: “সমাদরে এক জন অন্যকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান কর।” আরেকটি অনুবাদ বলেছে: “অন্যদের নিজের থেকেও বেশি সম্মান দেখাও।” (নিউ ইন্টারন্যাশনাল সংস্করণ) এছাড়াও, প্রেরিত পৌলের মাধ্যমে, আমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে: “প্রেমের দ্বারা এক জন অন্যের দাস হও।” (গালাতীয় ৫:১৩) হ্যাঁ, আমরা যদি প্রেম দেখাই, তাহলে ভাইদের কাজ করতে আমরা খুশি হব, তাদের জন্য দাসত্ব করব, তাদের ইচ্ছা এবং সুবিধাকে প্রাধান্য দেব, যে জন্য নম্রতার প্রয়োজন। গর্ব করা থেকেও নম্রতা আমাদের রক্ষা করবে যে জন্য অন্যদের মধ্যে ঈর্ষা বা হিংসা জেগে উঠবে না। পৌল লিখেছিলেন যে প্রেম “আত্মশ্লাঘা করে না, গর্ব্ব করে না।” কেন করে না? কারণ আত্মশ্লাঘা বা গর্ব করার পিছনে উদ্দেশ্য হল স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, কিন্তু প্রেমের সাথে নিঃস্বার্থপরতা জড়িয়ে আছে।—১ করিন্থীয় ১৩:৪.

১৯. বাইবেলের কোন্‌ উদাহরণ দেখায় যে নম্রতা ও প্রেমের মধ্যে সম্পর্ক আছে, যেমন আছে অহঙ্কার ও স্বার্থপরতার মধ্যে?

১৯ প্রেম ও নম্রতার মধ্যে এবং অহঙ্কার ও স্বার্থপরতার মধ্যে কিভাবে সম্পর্ক আছে, রাজা শৌল ও যোনাথনের সাথে দায়ূদের সম্পর্ক তার একটি ভাল উদাহরণ। যুদ্ধে দায়ূদের সাফল্যের জন্য, ইস্রায়েলের নারীরা গান করেছিল: “শৌল বধিলেন সহস্র সহস্র, আর দায়ূদ বধিলেন অযুত অযুত।” (১ শমূয়েল ১৮:৭) কিছুমাত্র নম্র না হওয়ার পরিবর্তে গর্বের বশে এসে, তখন থেকে শৌল দায়ূদকে মারাত্মক ঘৃণা করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার পুত্র যোনাথনের মনোভাবের মধ্যে কতই না পার্থক্য ছিল! আমরা পড়তে পারি যে যোনাথন দায়ূদকে নিজের মত ভালবাসতেন। (১ শমূয়েল ১৮:১) সুতরাং, ক্রমে যখন দেখা গেল যে যিহোবা দায়ূদকে আশীর্বাদ করছিলেন এবং যোনাথনের পরিবর্তে দায়ূদ ইস্রায়েলের রাজা হতে চলেছিলেন, তখন যোনাথনের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল? তিনি কি ঈর্ষান্বিত অথবা হিংসাগ্রস্ত হয়েছিলেন? একদম নয়! যেমন আমরা ১ শমূয়েল ২৩:১৭ পদে পড়ি, দায়ূদের প্রতি তার অটুট প্রেমের জন্য তিনি বলতে পেরেছিলেন: “ভয় করিও না, আমার পিতা শৌলের হস্ত তোমাকে পাইবে না, আর তুমি ইস্রায়েলের উপরে রাজা হইবে, এবং আমি তোমার দ্বিতীয় হইব, ইহা আমার পিতা শৌলও জানেন।” ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে কে তার পিতার উত্তরাধিকারী হবে, সেই সম্বন্ধে ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করতে ও নম্রভাবে মেনে নিতে, দায়ূদের প্রতি যোনাথনের একান্ত ভালবাসা তাকে পরিচালিত করেছিল।

২০. প্রেম এবং নম্রতার মধ্যে নিকট সম্পর্ক যীশু কিভাবে দেখিয়েছিলেন?

২০ প্রেম ও নম্রতার মধ্যে যে সম্পর্ক আছে তার উপরে আরও জোর দিয়েছিল মৃত্যুর আগের রাতে যীশু যখন তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে ছিলেন, সেই রাতের ঘটনাটি। যোহন ১৩:১ পদে আমরা পড়ি যে যীশু “জগতে অবস্থিত আপনার নিজস্ব লোকদিগকে প্রেম করিতেন, তাহাদিগকে শেষ পর্য্যন্ত প্রেম করিলেন।” এর পরে, আমরা পড়ি যে যীশু তাঁর প্রেরিতদের পা ধুইয়ে দিয়েছিলেন, একজন সামান্য ভৃত্যের কাজ করেছিলেন। নম্রতা সম্বন্ধে কী অপূর্ব শিক্ষা!—যোহন ১৩:১-১১.

২১. সংক্ষেপে, কেন আমাদের নম্র হওয়া উচিত?

২১ সত্যই, নম্র হওয়ার বহু কারণ রয়েছে। নম্র হওয়া হল সঠিক, সততাপূর্ণ কাজ। তা হল বিশ্বাসের কাজ। যিহোবা ঈশ্বর এবং আমাদের সহবিশ্বাসীদের সাথে তা ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলে। তা বিজ্ঞতার কাজ। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল প্রেমের কাজ যা প্রকৃত সুখ নিয়ে আসে। (w93 12/1)

আপনি কিভাবে উত্তর দেবেন?

▫ কোন্‌ কোন্‌ উপায়ে সততা আমাদের নম্র হতে সাহায্য করে?

▫ যিহোবার প্রতি বিশ্বাস কেন আমাদের নম্র হতে সাহায্য করে?

▫ কী দেখায় যে নম্র হওয়া বিজ্ঞতার কাজ?

▫ প্রেম কেন নম্র হতে বিশেষভাবে সাহায্য করে?

[Pictures on page 13]

ইয়োব নম্রভাবে নিজেকে যিহোবার প্রতি সমর্পণ করেছিলেন। তিনি “ঈশ্বরকে জলাঞ্জলি দিয়ে প্রাণত্যাগ” করেননি

[Pictures on page 15]

পৌল যখন প্রকাশ্যে পিতরকে অনুশাসন করেছিলেন, তখন তিনি নম্রভাবে তা মেনে নিয়েছিলেন

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার