ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৩ ৬/১ পৃষ্ঠা ৩-৬
  • আপনাকে সুখী করতে কিসের প্রয়োজন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনাকে সুখী করতে কিসের প্রয়োজন?
  • ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • অসন্তুষ্ট রৌপ্য প্রেমিকেরা
  • সুখ পাওয়া যায় কিন্তু কিভাবে?
  • আত্মিক প্রয়োজনগুলি উপলব্ধি করা
  • যিহোবার উপর নির্ভর করা
  • ঐশিক অনুযোগ গ্রহণ করা
  • নির্ম্মলান্তঃকরণ এবং শান্তিপ্রিয় হওয়া
  • স্থিরতা দেখানো
  • সুখলাভ এখন ও চিরকালের জন্য
  • প্রকৃত সুখ আসে যিহোবার সেবায়
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সুখী তারাই, যারা সুখী ঈশ্বরের সেবা করে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৮
  • ধন কি আপনাকে সুখী করতে পারে?
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • প্রকৃত সুখ কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৩ ৬/১ পৃষ্ঠা ৩-৬

আপনাকে সুখী করতে কিসের প্রয়োজন?

লোকেদের দ্বারা নির্বাচিত রাজনীতিবিদগণ এইরূপ লোকেদের সুখী করতে কঠোর প্রচেষ্টা করে। বাস্তবিক, এর উপরেই তাদের কর্মকাল নির্ভর করে। কিন্তু একটি সংবাদ পত্রিকা পোল্যান্ডে “এক মোহমুক্ত ও বিরোধী নির্বাচক-মণ্ডলী” সম্বন্ধে বলে। এক সাংবাদিক ব্যাখ্যা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র “প্রথামাফিক রাজনীতির প্রতি অবিশ্বাসে পূর্ণ” একটি সমাজ। অপর এক লেখক “ফ্রান্সে রাজনীতির প্রতি ক্রমবর্ধমান অনাগ্রহ“ সম্বন্ধে আমাদের বলে। এরূপ ব্যাপক অনাগ্রহ ও অসন্তোষ—যা শুধু এই তিনটি দেশেই সীমিত নয়—ইঙ্গিত দেয় যে রাজনীতিবিদগণ লোকেদের সুখী করতে তাদের চেষ্টায় বিফল হচ্ছে।

ধর্মীয় নেতারাও সুখের প্রতিশ্রুতি দেন, যদি এ জীবনে নাও আসে, তাহলে অন্তত ভবিষ্যতে কোন এক জীবনে। তারা এই যুক্তির উপর ভিত্তি করে যে মানুষের এক অবিনশ্বর অথবা দেহান্তরিত আত্মা আছে, একটি ধারনা যা নানা কারণের জন্য বহু লোকে মানে না, এবং বাইবেল যা পরিষ্কারভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। শূন্য গির্জ্জাগুলি এবং হ্রাসপ্রাপ্ত সদস্য তালিকা দেখায় যে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিরা সুখের জন্য ধর্মকে আর গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না।—তুলনা করুন আদিপুস্তক ২:৭, ১৭; যিহিষ্কেল ১৮:৪, ২০.

অসন্তুষ্ট রৌপ্য প্রেমিকেরা

যদি রাজনীতি অথবা ধর্মে পাওয়া না যায়, তাহলে সুখ কোথায় পাওয়া যাবে? হয়ত ব্যবসার জগতে? এটিও দাবী করে যে সুখ দিতে পারবে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর সপক্ষে যুক্তি দেয়, পরিষ্কারভাবে বলে: অর্থ যা কিনতে পারে সেই সমস্ত জাগতিক বস্তু ও সেবা পাওয়া থেকেই আসে সুখ।

এইভাবে সুখের অন্বেষণে ধাবিত হওয়া লোকেদের সংখ্যা মনে হয় বেড়েই চলেছে। কয়েক বছর আগে বলা হয়েছিল যে জার্মানীতে প্রতি দুটি পরিবারের মধ্যে একটি গভীরভাবে ঋণগ্রস্ত। তাই আশ্চর্য নয়, যে খ্যাতিসম্পন্ন জার্ম্মান সংবাদপত্র দি সাইট্‌ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে “[এদের মধ্যে] অনেকেরই ঋণমুক্ত হওয়ার আর কোন আশাই নেই।” ব্যাখ্যা করেছিল: “ব্যাঙ্ক প্রায়ই যে সুবিধা দেয় জমা টাকার চেয়ে যতটা সবে বেশী টাকা তোলা, তার সুযোগ নেওয়া কত সহজ—কিন্তু সেই ফাঁদ থেকে আপনার গলা বার করে নেওয়া কত শক্ত।”

অন্যান্য উন্নত শিল্পসমৃদ্ধ জাতিগুলির পরিস্থিতিও একই। কয়েক বছর আগে, ডেভিড্‌ ক্যাপ্‌লোভিত্‌জ, নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভারসিটির একজন সমাজ-বিজ্ঞানী, হিসাব করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে, দুই থেকে আড়াই কোটির মধ্যে পরিবার গভীরভাবে ঋণগ্রস্ত। “লোকে ঋণের দায়ে জর্জ্জরিত,” তিনি বলেছিলেন, “এবং তা তাদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে।”

এটি খুব কমই সুখকর শোনাচ্ছে! কিন্তু আমাদের কি আশা করা উচিৎ যে ব্যবসা জগৎ তা করতে সক্ষম হবে যা অন্য দুটি (রাজনীতি ও ধর্ম) সুস্পষ্টভাবেই করতে পারে না? ঐশ্বর্যশালী রাজা শলোমন একবার লিখেছিলেন: “যে ব্যক্তি রৌপ্য ভালবাসে, সে রৌপ্যে তৃপ্ত হয় না; আর যে ব্যক্তি ধনরাশি ভালবাসে, সে ধনাগমে তৃপ্ত হয় না; ইহাও অসার।”—উপদেশক ৫:১০.

জাগতিক বস্তুসমূহের মধ্যে সুখের অন্বেষণ আকাশকুসুম রচনা করার মতই। হ্যাঁ, রচনা করা খুবই রোমাঞ্চকর হতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে বাস করার চেষ্টা করলে আপনি বিপদে পড়বেন।

সুখ পাওয়া যায় কিন্তু কিভাবে?

প্রেরিত পৌল যিহোবাকে বলেছেন “সুখী ঈশ্বর।” (১ তীমথিয় ১:১১, NW) তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করে, সুখী ঈশ্বর তাদের সুখী হওয়ার ক্ষমতাও দিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ১:২৬) কিন্তু তাদের সুখ নীর্ভর করবে ঈশ্বরকে তাদের সেবা করার উপর, যেমন গীতরচক দেখিয়েছিলেন: “সুখী সেই জাতি, যিহোবা যাহার ঈশ্বর!” (গীতসংহিতা ১৪৪:১৫খ, NW) যদি আমরা নিউ ওয়ার্ল্ড ট্রান্সলেশনে ১১০টি জায়গায় যেখানে “সুখী” ও “সুখ” শব্দগুলি রয়েছে তার কয়েকটি বিবেচনা করি তাহলে ঈশ্বরকে আমাদের সেবা করার অন্তর্ভূক্ত কি কি এবং তাঁকে সেবা করা কিভাবে প্রকৃত সুখের সন্ধান দেবে তা ভালভাবে বোঝা যেতে পারে।

আত্মিক প্রয়োজনগুলি উপলব্ধি করা

ঈশ্বরের পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট, তাঁর বিখ্যাত পর্বতে-দত্ত উপদেশে বলেছিলেন: “সুখী তারা যারা তাদের আত্মিক প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন।” (মথি ৫:৩, NW) ব্যবসাজগৎ আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণায় পরিচালিত করে যে বিলাস বস্তুসকল কেনাই সুখের জন্য যথেষ্ট। আমাদের বলে যে একটি গৃহ কম্পিউটার, একটি ভিডিও ক্যামেরা, একটি টেলিফোন, একটি গাড়ি, খেলাধূলার আধুনিক সাজসরঞ্জামগুলি, হালফ্যাশানের পোশাকপরিচ্ছদ থাকাটাই হচ্ছে সুখ। যা বলে না তা হচ্ছে এই যে জগতে কোটি কোটি লোকের এই সব বস্তুর অভাব রয়েছে কিন্তু তবুও তারা অবশ্যম্ভাবীরূপেই অসুখী নয়। যদিও সম্ভবত জীবনকে অধিক স্বচ্ছন্দ ও সুবিধাজনক করে তোলে, এই সকল বস্তু সুখের জন্য অত্যাবশ্যক নয়।

পৌলের মত, আত্মিক প্রয়োজন সম্বন্ধে সচেতন ব্যক্তিরা বলেন: “গ্রাসাচ্ছাদন পাইলে আমরা তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকিব।” (১ তীমথিয় ৬:৮) কেন? কারণ আত্মিক প্রয়োজনগুলি পূরণ করাই অনন্ত জীবনের পথে পরিচালিত করবে।—যোহন ১৭:৩.

যদি আমাদের অর্থ থাকে কেনবার জন্য, তাহলে ভাল জিনিসগুলি উপভোগ করার মধ্যে অন্যায় কি কিছু আছে? সম্ভবত নেই। তবুও, প্রতিটি খেয়াল চরিতার্থ করতে অথবা সামর্থ্য আছে বলেই কিছু কিনতে না শেখার দ্বারাই আমাদের আত্মিক দিকটি সবল হয়। এইভাবে আমরা সন্তুষ্ট হতে শিখি ও সুখ বজায় রাখি, যেমন যীশু রেখেছিলেন, যদিও জাগতিক মান অনুযায়ী তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থা সবচেয়ে উত্তম ছিল না। (মথি ৮:২০) আর পৌল অসুখী মনোভাব প্রকাশ করছিলেন না যখন তিনি লেখেন: “আমি যে অবস্থায় থাকি, তাহাতে সন্তুষ্ট থাকিতে শিখিয়াছি। আমি অবনত হইতে জানি, উপচয় ভোগ করিতেও জানি; প্রত্যেক বিষয়ে ও সর্ব্ববিষয়ে আমি তৃপ্ত কি ক্ষুধিত হইতে, উপচয় কি অনাটন ভোগ করিতে দীক্ষিত হইয়াছি।”—ফিলিপীয় ৪:১১, ১২.

যিহোবার উপর নির্ভর করা

আত্মিক প্রয়োজন সম্বন্ধে সচেতনতা কোন ব্যক্তির ঈশ্বরের উপর নির্ভর করার ইচ্ছাকে প্রকাশ করে। যা সুখের সৃষ্টি করে, যেমন রাজা শলোমন ব্যাখ্যা করেন: “যে যিহোবাতে নির্ভর করে, সে সুখী।”—হিতোপদেশ ১৬:২০, NW.

যদিও, এটি কি সত্য নয় যে বহু লোকেই ঈশ্বরের চেয়ে অর্থ এবং সম্পদের উপরেই অধিক নির্ভর করে? এই পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে, “ঈশ্বরের উপর আমরা নির্ভর করি” নীতিবাক্যটি মুদ্রার উপরে প্রদর্শন করার চেয়ে আর অধিক কোন অনুপযুক্ত স্থান থাকতে পারে না, যদিও ইউ. এস. মুদ্রার উপর ওই কথাগুলিকেই দেখা যায়।

রাজা শলোমন, অর্থ দিয়ে কেনা যায় এরূপ কোন কিছু উত্তম বস্তুর অভাব যার ছিল না, তিনি স্বীকার করেছিলেন যে জাগতিক সম্পদের উপর নির্ভরতা চিরস্থায়ী সুখের পথ দেখায় না। (উপদেশক ৫:১২-১৫) ব্যাঙ্কে রাখা অর্থ ব্যাঙ্ক ফেল অথবা মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিনষ্ট হতে পারে। ঘর বাড়ি প্রচণ্ড ঝড়ে ধ্বংস হতে পারে। ইনসিওরেন্স পলিসিগুলি, যদিও বস্তুক্ষতির অংশতঃ পুনঃস্থাপন করে, মানসিক ক্ষতিসকল কখনই পূরণ করতে পারে না। শেয়ারের ও অন্যান্য কাগজপত্র হঠাৎ বাজার পড়ে যাওয়ার জন্য একরাত্রে মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে। এমনকি একটি ভাল-মাহিনার চাকুরীও—বিভিন্ন কারণের জন্য—আজ আছে কাল নাও থাকতে পারে।

এই সব কারণের জন্য যিনি যিহোবার উপর নির্ভর করেন তিনি যীশুর সাবধানবাণী শোনার মধ্যে প্রজ্ঞার পরিচয় পান: “তোমরা পৃথিবীতে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় করিও না; এখানে ত কীটে ও মর্চ্চ্যায় ক্ষয় করে, এবং এখানে চোরে সিঁধ কাটিয়া চুরি করে। কিন্তু স্বর্গে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় কর; সেখানে কীটে ও মর্চ্চ্যায় ক্ষয় করে না, সেখানে চোরেও সিঁধ কাটিয়া চুরি করে না।”—মথি ৬:১৯, ২০.

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, যিনি সর্বদাই সহায় হন, তাঁর উপর কোন ব্যক্তি যে নির্ভরতা রেখেছে এটি জানার চেয়ে তার পক্ষে আর অধিক নিরাপত্তাবোধ ও সুখের অনুভূতি কিছু থাকতে পারে কি?—গীতসংহিতা ৯৪:১৪; ইব্রীয় ১৩:৫, ৬.

ঐশিক অনুযোগ গ্রহণ করা

উপদেশ, এমনকি অনুযোগও, সাদরে গ্রহণযোগ্য যখন তা কোন প্রকৃত বন্ধুর কাছ থেকে প্রেমের মনোভাব সহ আসে। ঈশ্বরের সেবক ইয়োবের এক কপট বন্ধু একবার আত্ম-ধার্মিকতায় তাকে বলেছিল: “ধন্য সেই ব্যক্তি, যাহাকে ঈশ্বর অনুযোগ করেন।” যদিও বক্তব্যটি সত্য, ইলীফস এই কথাগুলির দ্বারা যা বোঝাতে চেয়েছিল—যে ইয়োব গুরুতর অপরাধের জন্য দোষী—তা সত্য ছিল না। কি ‘কষ্টজনক সান্ত্বনাকারী’! যদিও, পরে যখন যিহোবা ইয়োবকে প্রেমের সাথে অনুযোগ করেন, ইয়োব নম্রভাবে সেই অনুযোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং অধিক সুখের পথে নিজেকে স্থাপন করেন।—ইয়োব ৫:১৭; ১৬:২; ৪২:৬, ১০-১৭.

বর্তমানে, ঈশ্বর তাঁর সেবকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন না যেমন তিনি ইয়োবের সাথে বলেছিলেন। পরিবর্তে, তাঁর বাক্য এবং তাঁর আত্মা-পরিচালিত সংগঠনের মাধ্যমে তাদের অনুযোগ করেন। খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিরা যারা জাগতিক আগ্রহগুলির প্রতি ধাবিত হয়, প্রায়ই, তাদের না থাকে সময়, শক্তি, অথবা নিয়মিত বাইবেল অধ্যয়ন এবং যিহোবার সংগঠন দ্বারা আয়োজিত সমস্ত সভাগুলিতে উপস্থিত হওয়ার প্রতি আগ্রহ।

যাকে ঈশ্বর অনুযোগ করেন, সেই ব্যক্তি হিতোপদেশ ৩:১১-১৮ পদ অনুযায়ী, এইরূপ অনুযোগ গ্রহণ করার মধ্যে প্রজ্ঞার পরিচয় পান: “ধন্য সেই ব্যক্তি যে প্রজ্ঞা পায়, সেই ব্যক্তি যে বুদ্ধি লাভ করে; কেননা রৌপ্যের বাণিজ্য অপেক্ষাও তাহার বাণিজ্য উত্তম, সুবর্ণ অপেক্ষাও প্রজ্ঞা-লাভ উত্তম। তাহা মুক্তা হইতেও বহুমূল্য; তোমার অভীষ্ট কোন বস্তু তাহার সমান নয়। তাহার দক্ষিণ হস্তে দীর্ঘ পরমায়ু, তাহার বাম হস্তে ধন ও সম্মান থাকে। তাহার পথ সকল মনোরঞ্জনের পথ, তাহার সমস্ত মার্গ শান্তিময়। যাহারা তাহাকে ধরিয়া রাখে, তাহাদের কাছে তাহা জীবনবৃক্ষ; যে কেহ তাহা গ্রহণ করে, সে ধন্য।”

নির্ম্মলান্তঃকরণ এবং শান্তিপ্রিয় হওয়া

যীশু সুখী ব্যক্তিদের বর্ণনা দিয়েছিলেন “নির্ম্মলান্তঃকরণ” ও “শান্তিপ্রিয়” বলে। (মথি ৫:৮, ৯) কিন্তু একটি বস্তুবাদী জীবন-ধারায় উৎসাহিত করে এরূপ এক জগতে, স্বার্থপর, হয়ত বা কলুষিতও, বাসনাসকল আমাদের হৃদয়ের গভীরে বদ্ধমূল হওয়া কতই না সহজ! ঐশিক প্রজ্ঞার দ্বারা চালিত না হলে, এমনকি সন্দেহজনক উপায়গুলি যা অপরের সাথে শান্তির সর্ম্পককে নষ্ট করে, সেগুলির সাহায্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চেষ্টায় ভ্রান্ত হওয়াও আমাদের পক্ষে কত সহজ! এই কারণেই, বাইবেল সাবধান করে: “ধনাসক্তি সকল মন্দের একটা মূল; তাহাতে রত হওয়াতে কতক লোক বিশ্বাস হইতে বিপথগামী হইয়াছে, এবং অনেক যাতনারূপ কন্টকে আপনারা আপনাদিগকে বিদ্ধ করিয়াছে।”—১ তীমথিয় ৬:১০.

অর্থপ্রীতি এক স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গিকে উৎসাহ দেয় যা অসন্তোষ, অকৃতজ্ঞতা এবং লোভকে পরিপোষণ করে। এরূপ ভুল মনোভাব গড়ে ওঠাকে বাধা দিতে, কিছু খ্রীষ্টীয় ব্যক্তি বৃহত্তর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের এই ধরনের প্রশ্ন করে যেমন: আমার কি সত্যিই এর প্রয়োজন আছে? যেখানে লক্ষ লক্ষ অন্যান্য ব্যক্তিদের ব্যয়সাধ্য কেনাকাটা অথবা উত্তম-উপার্জনসহ, সময়-সাপেক্ষ কোন কাজ ছাড়াই থাকতে হচ্ছে, সেখানে তাদের চেয়েও আমার কি সেগুলির বেশী প্রয়োজন রয়েছে? সত্য উপাসনায় আমার অংশ বাড়াতে আমার অর্থ বা আমার সময় কি আমি আরও ভালভাবে ব্যয় করতে পারি, বিশ্বব্যাপী প্রচার কাজকে সমর্থন করে, অথবা আমার চেয়ে কম সৌভাগ্যশালী লোকেদের সাহায্য করে?

স্থিরতা দেখানো

পরীক্ষার মধ্যে একটি যা ইয়োব সহ্য করতে বাধ্য হয়েছিলেন তা ছিল আর্থিক ক্ষতিস্বীকার। (ইয়োব ১:১৪-১৭) যেমন তার উদাহরণ দেখায়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থিরতা দেখানোর প্রয়োজন রয়েছে। কিছু খ্রীষ্টানদের স্থির থাকতে হবে তাড়নায়; অন্যদের, প্রলোভনে; আরও অনেককে, নজির-স্বরূপ নয় এমন আর্থিক অবস্থায়। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থিরতা যিহোবার কাছ থেকে আশীর্বাদ পাবে, যেমন খ্রীষ্টীয় শিষ্য যাকোব ইয়োবের উল্লেখ করে লিখেছিলেন: “যাহারা স্থির রহিয়াছে, তাহাদিগকে আমরা ধন্য বলি।”—যাকোব ৫:১১.

আমাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে আত্মিক আগ্রহগুলি অবহেলা সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে আমাদের স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যের দৃষ্টিকে তা কি উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে? এই ঝুঁকি কি নেওয়ার যোগ্য?—২ করিন্থীয় ৪:১৮.

সুখলাভ এখন ও চিরকালের জন্য

কিছু লোক স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে সুখী করতে যা প্রয়োজন সে সম্বন্ধে যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গি মানে না। অধিক গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ-কালীন উপকারসকল উপেক্ষা করে, ঈশ্বর যা উপদেশ দেন তা করার মধ্যে তারা ব্যক্তিগত আশু কোন সুবিধা দেখতে পায় না। তারা উপলব্ধি করতে অক্ষম যে বস্তুসম্পদের উপর নির্ভর করা অসারতা এবং নৈরাশ্যের প্রতি চালিত করে। বাইবেল লেখক যথার্থই জিজ্ঞাসা করেন: “সম্পত্তি বাড়িলে ভোক্তাও বাড়ে; আর দৃষ্টিসুখ ব্যতীত সম্পত্তিতে স্বামীদের কি ফল দর্শে?” (উপদেশক ৫:১১; আরো দেখুন উপদেশক ২:৪-১১; ৭:১২.) কত সহজেই আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায় এবং যে বস্তুগুলি আমরা ভেবেছিলাম পেতেই হবে সেগুলি তাকের উপর আশ্রয় নেয়, জায়গা নেওয়া ও ধূলা জমানো ছাড়া আর কিছু করে না!

একজন প্রকৃত খ্রীষ্টান কখনই বস্তুসম্পদের বিষয়ে ‘প্রতিবেশীর সাথে পাল্লা’ দেওয়ার চাপের মধ্যে নিজেকে ফেলবে না। তিনি জানেন যে প্রকৃত মূল্যায়ন হয়, তার কি আছে তা নয়, কিন্তু তিনি কিরূপ তার দ্বারা। একজন ব্যক্তিকে কী সুখী করে—প্রকৃতই সুখী, সেই সম্বন্ধে তার মনে কোন সন্দেহ নেই: যিহোবার সাথে এক সুন্দর সম্পর্ক উপভোগ করা ও তাঁর সেবায় ব্যস্ত থাকা। (w93 6/1)

[Pictures on page 4]

শুধুমাত্র বস্তুসম্পদ কখনই স্থায়ী সুখ আনতে পারে না

[Pictures on page 6]

বাইবেল বলে: “সুখী তারা যারা তাদের আত্মিক প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন”

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার