ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ৫/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৬
  • ধন কি আপনাকে সুখী করতে পারে?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ধন কি আপনাকে সুখী করতে পারে?
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • অর্থপ্রিয়তা সুখে পরিচালিত করে না
  • আমাদের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা
  • সুখের চাবিটি
  • টাকাপয়সার বিষয়ে বিজ্ঞ দৃষ্টিভঙ্গি কী?
    ২০০৭ সচেতন থাক!
  • সম্পদশালী ও প্রজ্ঞাবান এক রাজা
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ঈশ্বরের নতুন জগতে প্রকৃত সমৃদ্ধি
    ২০০৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনাকে সুখী করতে কিসের প্রয়োজন?
    ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ৫/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৬

ধন কি আপনাকে সুখী করতে পারে?

রাজা শলোমন অর্থের মূল্য জানতেন। তিনি লিখেছিলেন: “হাস্যের নিমিত্ত ভোজ প্রস্তুত করা হয়, এবং দ্রাক্ষারস জীবন আনন্দযুক্ত করে, আর রৌপ্য [“অর্থ,” “NW”] সকলই যোগায়।” (উপদেশক ১০:১৯) বন্ধুদের সাথে একত্রে খাওয়া দাওয়া করা হয়ত খুবই উপভোগ্য হতে পারে কিন্তু রুটি ও পানীয়ের জন্য আপনার অর্থ প্রয়োজন। যেহেতু অর্থই হল বস্তুগত দ্রব্য অর্জন করার মাধ্যম, তাই এটি “সকলই যোগায়।”

যদিও শলোমন অসাধারণ সম্পদশালী ছিলেন, তিনি জানতেন যে ধনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এক বস্তুবাদী জীবনধারা সুখের দরজাকে উন্মুক্ত করে দেয় না। তিনি লিখেছিলেন: “যে ব্যক্তি রৌপ্য ভালবাসে, সে রৌপ্যে তৃপ্ত হয় না; আর যে ব্যক্তি ধনরাশি ভালবাসে, সে ধনাগমে তৃপ্ত হয় না।”—উপদেশক ৫:১০.

ধরুন কোন সম্পদশালী ব্যক্তি প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন। শলোমন বলেন: “সম্পত্তি বাড়িলে ভোক্তাও বাড়ে।” (উপদেশক ৫:১১) একজন ব্যক্তির “সম্পত্তি” অথবা সম্পদ বৃদ্ধি পেলে সেগুলির যত্ন নেওয়ার জন্য আরও বেশি লোকের প্রয়োজন হয়। মেরামতকারী, তত্ত্বাবধায়ক, পরিচারক, নিরাপত্তাবাহিনী এবং আরও অন্যান্যেরা যাদের সকলকে তাদের কাজের বিনিময়ে অবশ্যই পারিশ্রমিক দিতে হয়। ফলে, আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়।

একজন ব্যক্তির সুখের উপর এইধরনের এক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব আছে। গ্রীক ইতিহাসবেত্তা জেনোফোন যিনি সা.কা.পূ. চতুর্থ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন, একজন দরিদ্র লোক যিনি পরে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেছিলেন:

“আপনার কি প্রকৃতপক্ষেই মনে হয় যে . . . যত বেশি সম্পত্তির অধিকারী আমি হব, ততবেশি সুখে আমি জীবনযাপন করব? আপনি এই বিষয়ে অবগত নন,” তিনি আরও বলেন, “আমি যখন গরীব ছিলাম তখন আমার খাওয়া দাওয়া করে ও ঘুমিয়ে যত আনন্দ ছিল এখন তার এক কণাও বেশি আনন্দ আমার নেই। এত বেশি থাকার ফলে আমার একমাত্র লাভ যা হয়েছে তা হল আমি এগুলির যত্ন নিতে বাধ্য হয়েছি, অন্যদের আরও বেশি ভাগ করে দিতে হয়েছে আর যতখানি আমি করতাম তার চেয়ে অনেক বেশি দেখাশোনা করার ঝামেলা এসে পড়েছে। কারণ এখন গৃহকর্মে নিযুক্ত অনেক লোকেরা খাদ্য, পানীয়, কাপড়ের জন্য আমার উপর নির্ভর করে, আবার কখনও কখনও কারও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়; আর হয়ত একজন এসে বলে যে নেকড়ে ভেড়ার পালকে আক্রমণ করেছে অথবা বলদগুলি গর্তে পড়ে মারা গিয়েছে বা গবাদি পশুগুলির মধ্যে কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। আর তাই আমার মনে হয় . . . যেন আগে আমার যখন অল্প ছিল তখনকার চেয়ে এখন বেশি কিছুর মালিক হওয়ায় আমার ঝামেলা অনেক বেশি বেড়ে গেছে।”

লোকেরা কেন আরও বেশি সম্পদের পিছনে ছোটেন তার আরেকটি কারণ হল যীশু খ্রীষ্ট যাকে “ধনের মায়া” হিসাবে অভিহিত করেছিলেন তার দ্বারা তারা প্রতারিত হয়ে থাকেন। (মথি ১৩:২২) তারা প্রবঞ্চিত হয়ে থাকেন কারণ যে ধন তারা অত্যুৎসাহীভাবে অন্বেষণ করে থাকেন, তাতে কখনও পরিতৃপ্তি অথবা সুখ খুঁজে পান না যতখানি পাওয়ার প্রত্যাশা তারা করেন। তারা যুক্তি দেখান যে সীমিত সম্পদ যা করতে ব্যর্থ হয়, বেশি সম্পদ তা করবে। তাই আরও পাওয়ার জন্য অবিরত প্রচেষ্টা চলতে থাকে।

অর্থপ্রিয়তা সুখে পরিচালিত করে না

সম্পদের জন্য উদ্বেগ হয়ত একজন ধনী ব্যক্তির রাতের সুনিদ্রাকে ব্যাহত করতে পারে। শলোমন লেখেন: “শ্রমজীবী অধিক বা অল্প আহার করুক, নিদ্রা তাহার মিষ্ট লাগে; কিন্তু ধনবানের পূর্ণতা তাহাকে নিদ্রা যাইতে দেয় না।”—উপদেশক ৫:১২.

যখন একজনের সম্পদ হারানোর সম্ভাবনাজনিত উদ্বিগ্নতা এক চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন তা ঘুমের অভাবের চেয়েও আরও বেশি কিছুকে জড়িত করে। এক কৃপণ ব্যক্তি সম্বন্ধে বর্ণনা করতে গিয়ে শলোমন লেখেন: “সে ত যাবজ্জীবন অন্ধকারে আহার করে, এবং তাহার বিষম বিরক্তি, পীড়া ও ক্রোধ উপস্থিত হয়।” (উপদেশক ৫:১৭) তার সম্পদের মাঝে সুখ খুঁজে পাওয়ার পরিবর্তে তিনি ‘বিরক্তিতে’ আহার করেন, এটি যেন এমন যে, খাদ্যের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তাও তিনি খরচ করতে চান না। এইধরনের এক বিকৃত মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি হয়ত ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে আসতে পারে। অপরদিকে ভগ্ন স্বাস্থ্য সেই কৃপণ ব্যক্তির উদ্বিগ্নতা আরও বাড়িয়ে তোলে কারণ তা অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

সম্ভবত এটি আপনাকে প্রেরিত পৌল যা লিখেছিলেন সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়: “যাহারা ধনী হইতে বাসনা করে, তাহারা পরীক্ষাতে ও ফাঁদে এবং নানাবিধ মূঢ় ও হানিকর অভিলাষে পতিত হয়, সে সকল মনুষ্যদিগকে সংহারে ও বিনাশে মগ্ন করে। কেননা ধনাসক্তি সকল মন্দের একটা মূল; তাহাতে রত হওয়াতে কতক লোক . . . অনেক যাতনারূপ কন্টকে আপনারা আপনাদিগকে বিদ্ধ করিয়াছে।” (১ তীমথিয় ৬:৯, ১০) অর্থের পিছনে ছোটার জন্য লোকেরা ঠকায়, মিথ্যা বলে, চুরি করে, বেশ্যাবৃত্তি করে আর এমনকি খুনও করে থাকে। ধনকে আঁকড়ে রাখা বা নিজ অধিকারে রাখতে চেষ্টা করার পরিণাম হল আবেগগত, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক যন্ত্রণাগ্রস্ত এক ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া। এটিকে কি সুখী হওয়ার পথ বলে মনে হয়? কখনই নয়!

আমাদের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা

ধনের প্রতি এক ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখা সম্পর্কে শলোমনের আরও কিছু বলার ছিল। তিনি লিখেছিলেন: “সে মাতৃগর্ব্ভ হইতে উলঙ্গ আইসে; যেমন আইসে তেমনি উলঙ্গই পুনরায় চলিয়া যায়; পরিশ্রম করিলেও সে যাহা সঙ্গে করিয়া লইয়া যাইতে পারে, এমন কিছুই নাই। দেখ, আমি দেখিয়াছি, ইহাই উত্তম ও মনোরঞ্জক, ঈশ্বর মনুষ্যকে যে কয় দিন পরমায়ু দেন, সেই সমস্ত দিন সে যেন সূর্য্যের নীচে আপনার কর্ত্তব্য সমস্ত পরিশ্রমের মধ্যে ভোজন পান ও সুখভোগ করে, কারণ ইহাই তাহার অংশ।”—উপদেশক ৫:১৫, ১৮.

এই বাক্যগুলি দেখায় যে সুখ এমন একটি সময়ের জন্য সম্পদ মজুতকৃত করার প্রচেষ্টার মধ্যে শায়িত নেই যে সময়টি হয়ত আমাদের জীবনে কখনও আসবে না। এর চেয়ে আমাদের পরিশ্রমের ফলে পরিতৃপ্ত থাকা ও আনন্দ করা অনেক বেশি ভাল। তীমথিয়ের প্রতি লেখা তার অনুপ্রাণিত পত্রে প্রেরিত পৌল এই বলে অনুরূপ এক চিন্তাধারা প্রকাশ করেছিলেন: “আমরা জগতে কিছুই সঙ্গে আনি নাই, কিছুই সঙ্গে করিয়া লইয়া যাইতেও পারি না; কিন্তু গ্রাসাচ্ছাদন পাইলে আমরা তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকিব।”—১ তীমথিয় ৬:৭, ৮. লূক ১২:১৬-২১ পদের সাথে তুলনা করুন।

সুখের চাবিটি

শলোমন প্রচুর ধন এবং ঈশ্বরীয় প্রজ্ঞা উভয়েরই অধিকারী ছিলেন। কিন্তু তিনি সুখকে প্রজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত করেছিলেন, অর্থের সাথে নয়। তিনি বলেছিলেন: “ধন্য [“সুখী,” “NW”] সেই ব্যক্তি যে প্রজ্ঞা পায়, সেই ব্যক্তি যে বুদ্ধি লাভ করে; কেননা রৌপ্যের বাণিজ্য অপেক্ষাও তাহার বাণিজ্য উত্তম, সুবর্ণ অপেক্ষাও প্রজ্ঞা-লাভ উত্তম। তাহা মুক্তা হইতেও বহুমূল্য; তোমার অভীষ্ট কোন বস্তু তাহার সমান নয়। তাহার দক্ষিণ হস্তে দীর্ঘ পরমায়ু, তাহার বাম হস্তে ধন ও সম্মান থাকে। তাহার পথ সকল মনোরঞ্জনের পথ, তাহার সমস্ত মার্গ শান্তিময়। যাহারা তাহাকে ধরিয়া রাখে, তাহাদের কাছে তাহা জীবনবৃক্ষ; যে কেহ তাহা গ্রহণ করে, সে ধন্য।”—হিতোপদেশ ৩:১৩-১৮.

কেন প্রজ্ঞা বস্তুগত সম্পদ থেকে শ্রেষ্ঠ? শলোমন লিখেছিলেন: “প্রজ্ঞা আশ্রয়, ধনও আশ্রয় বটে, কিন্তু জ্ঞানের উৎকৃষ্টতা এই যে, প্রজ্ঞা আপন অধিকারীর জীবন রক্ষা করে।” (উপদেশক ৭:১২) অর্থ যেমন কিছু পরিমাণ সুরক্ষা যুগিয়ে থাকে, এর অধিকারীকে তার প্রয়োজনীয় বস্তু কেনার ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে, তেমনি প্রজ্ঞা একজন ব্যক্তিকে সেই ঝুঁকিগুলি নেওয়া থেকে রক্ষা করে যা তার জীবনকে বিপন্ন করতে পারে। প্রজ্ঞা একজন ব্যক্তিকে কেবল অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষাই করে না কিন্তু যেহেতু এটি ঈশ্বরের প্রতি উপযুক্ত ভয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাই এটি অনন্ত জীবন লাভ করার দিকেও পরিচালিত করবে।

কেন ঈশ্বরীয় প্রজ্ঞা সুখে পরিচালিত করে? কারণ প্রকৃত সুখ কেবল যিহোবা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসতে পারে। অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে অকৃত্রিম সুখ কেবলমাত্র সর্বশক্তিমানের প্রতি বাধ্যতার দ্বারাই এসে থাকে। স্থায়ী সুখ ঈশ্বরের সাথে এক অনুমোদনযোগ্য অবস্থানে থাকার উপর নির্ভর করে। (মথি ৫:৩-১০) বাইবেল অধ্যয়ন থেকে আমরা যা শিখি তা প্রয়োগ করার মাধ্যমে আমরা “যে জ্ঞান উপর হইতে আইসে” তা উৎপন্ন করতে পারব। (যাকোব ৩:১৭) এটি আমাদের সেই সুখ এনে দেবে যা ধন কখনও দিতে পারে না।

[Pictures on page 4, 5]

রাজা শলোমন জানতেন যে কী একজন ব্যক্তিকে সুখী করে। আপনিও কি জানেন?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার