অপূর্ব আশীর্বাদ “জ্যোতি বাহকগণ” জেলা সম্মেলনে
প্রায় ২,৭০০ বছর আগে, ভাববাদী যিশাইয় লিখেছিলেন: “দেখ, অন্ধকার পৃথিবীকে, ঘোর তিমির জাতিগণকে, আচ্ছন্ন করিতেছে।” (যিশাইয় ৬০:২) এই কথাগুলি কত সত্য প্রমাণিত হয়েছে! কিন্তু, আশা এখনও আছে, কারণ যিহোবা জ্যোতি প্রকাশ হতে দিয়েছেন। গত বছর, যারা ঈশ্বরের জ্যোতি ভালবাসে, তাদের “জ্যোতি বাহকগণ” জেলা সম্মেলনে সাদর অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল।
সম্মেলনের বিষয়বস্তু জুন মাসে প্রথম উত্তর আমেরিকায় পরিবেশন করা হয়েছিল। তার পরের মাসগুলিতে, পূর্ব এবং পশ্চিম ইউরোপ, মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, এবং সমুদ্রের দ্বীপগুলিতে এই বিষয় পরিবেশন করা হয়েছিল। উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা বহু লক্ষ ছিল। আর কী উত্তম আত্মিক ভোজ তারা উপভোগ করেছে!
“জ্যোতি বাহকগণ আপনাদের সকলকে, স্বাগতম!”
অধিকাংশ স্থানে সম্মেলন শুক্রবারে শুরু হয়ে রবিবার অপরাহ্নে শেষ হয়েছিল। শুক্রবার সকালে সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা আসন গ্রহণ করার পর, শেষ কালে যিহোবার জ্যোতি কিভাবে ক্রমাগত উজ্জ্বলতর হয়েছে সেই সম্বন্ধে তাদের সংক্ষেপে জানানো হয়েছিল। তারপর সম্মেলনের সভাপতি মঞ্চে উঠে এসেছিলেন। সত্য খ্রীষ্টানদের যে জ্যোতি বহন করা উচিৎ তার উপর তিনি জোর দিয়েছিলেন এবং উৎসাহসহকারে বলেছিলেন: “জ্যোতি বাহকগণ আপনাদের সকলকে, স্বাগতম!” সম্মেলনের বিষয়বস্তু উপস্থিত সদস্যদের সাহায্য করবে ক্রমাগত যিহোবার জ্যোতি প্রতিফলিত করতে।
মুখ্য বক্তৃতাটি সম্পূর্ণ সম্মেলনের বক্তব্যটি তুলে ধরেছিল। এই বক্তা সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে বহু আগে এদোন উদ্যানে মানবজাতির জন্য জ্যোতি নির্বাপিত হয়েছিল। তখন থেকে সত্যের জ্যোতির প্রতি মানুষের মন শয়তান অন্ধ করেছে। (২ করিন্থীয় ৪:৪) কিন্তু, যীশু “জাতিগণের জ্যোতিস্বরূপ” হয়ে এসেছিলেন। (যিশাইয় ৪২:১-৬, NW) তিনি ধর্মীয় মিথ্যা শিক্ষা প্রকাশ করেছিলেন, অন্ধকারের অসৎ ক্রিয়াসকল শনাক্ত করেছিলেন, যিহোবার সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেছিলেন, এবং রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করেছিলেন। যীশুর অনুগামীরাও তাই করেছিলেন—এবং এখনও তারা করেন! (মথি ২৮:১৯, ২০) বক্তা উৎসাহ-সহকারে বলেছিলেন: ‘যীশুর মত আমরাও জ্যোতি বাহক হতে পারি। আমাদের সময়ে, আর কোন কাজ এর থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। আর এর থেকে বড় সুযোগও হতে পারে না।’
সম্মেলনের প্রথম সভা শেষ হয়ে আসার সময়ে, সকলকে আশ্চর্য করে দেওয়া হয়েছিল। সম্মেলনের সভাপতি মঞ্চে ফিরে এসে চারটি ধারাবাহিক নতুন ট্র্যাক্টের প্রকাশনা সম্বন্ধে ঘোষণা করেছিলেন। এই ব্যবস্থাকে সকলে উৎসাহ-সহকারে সমর্থন করেছিলেন, এবং উপস্থিত সকল সদস্যকে প্রত্যেক ট্র্যাক্টের একটি কপি দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার অপরাহ্নে, সম্মেলনের বিষয়বস্তুতে জ্যোতি বাহক খ্রীষ্টানদের জন্য কিছু মৌলিক উপদেশ দেওয়া হয়। প্রথম দুটি বক্তৃতা, কিভাবে জগতের অন্ধকার কাজের দ্বারা কলুষিত না হয়ে পড়া যায় সেই সম্বন্ধে উত্তম উপদেশ দিয়েছিল। যেহেতু শয়তানকে জ্যোর্তিময় দূত মনে হতে পারে, সেই জন্য আত্মিক মনোভাব রাখা গুরুত্বপূর্ণ যাতে জগতের ঘৃণার্হ বিষয়গুলির দ্বারা আমরা প্রলুব্ধ না হই। (২ করিন্থীয় ১১:১৪) পৌল উপদেশ দিয়েছিলেন: “আর এই যুগের অনুরূপ হইও না, কিন্তু মনের নূতনীকরণ দ্বারা স্বরূপান্তরিত হও; যেন তোমরা পরীক্ষা করিয়া জানিতে পার, ঈশ্বরের ইচ্ছা কি, যাহা উত্তম ও প্রীতিজনক ও সিদ্ধ।” (রোমীয় ১২:২) সম্মেলনের সদস্যদের জানানো হয় যে একজন খ্রীষ্টানের পরিবর্তন একটি পদ্ধতি যা চলতেই থাকে। ঈশ্বরের বাক্য পড়া এবং প্রয়োগ করার সাথে সাথে আমাদের মন ক্রমাগত শুচি হয় এবং গড়ে ওঠে। এইভাবে, আমরা ক্রমে ক্রমে যীশুর মত হয়ে উঠি, যিনি ছিলেন “অনুগ্রহে ও সত্যে পূর্ণ।”—যোহন ১:১৪.
জ্যোতি বাহক যুবক-যুবতীরা
শুক্রবার অপরাহ্নের দ্বিতীয় ভাগটি যুবক-যুবতীদের প্রতি উদ্দেশ্য করা হয়েছিল। প্রথম বক্তৃতাটি (“তরুণ সম্প্রদায়—আপনারা কি পন্থানুসরণ করছেন?”) অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টানদের প্রশংসা করেছিল, যারা বিশ্বস্ততার অতি উত্তম উদাহরণ। কিন্তু সেখানে তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে তারা শয়তানের বিশেষ লক্ষ্যবস্তু। এমনকি একজন সুশিক্ষিত ক্রীড়াবিদেরও একজন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হয়। একইভাবে যুবক-যুবতীরা যদি জ্যোতিতে গমন করা বজায় রাখতে চায় তাহলে তাদের পিতামাতার এবং মণ্ডলীর সাহায্য তাদের প্রয়োজন।
এই বিষয়টিকে অপূর্ব একটি নাটকের মাধ্যমে জোর দেওয়া হয়, যিহোবার দৃষ্টিতে যাহা ন্যায়সঙ্গত তাহা সম্পাদন করা, যার দ্বারা শুক্রবারের অনুষ্ঠান শেষ হয়। রাজা যোশিয়ের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছিল। এমনকি একজন বালক হিসাবেও, তিনি যিহোবার সেবা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তার চারিধারে মন্দ প্রভাব থাকলেও, মহাযাজক হিল্কিয়ের নির্দেশে এবং ঈশ্বরের নিয়মের প্রতি তার নিজের ভালবাসার জন্য, যোশিয় যিহোবার দৃষ্টিতে যা ন্যায়সঙ্গত, তাই করেছিলেন। বর্তমানেও অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টানরা যেন একই পথ অনুসারে চলে।
আপনার জ্যোতি উজ্জ্বলিত করুন
এক রাত্রি বিশ্রাম নেওয়ার পর, শনিবার সকালে সদস্যরা আরও গঠনমূলক শাস্ত্রীয় উপদেশ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে সম্মেলনে এসেছিলেন। তারা নিরাশ হননি। সেই দিনের শাস্ত্রপাঠের একটি আলোচনার পর, সভা চলতে থাকে একটি সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে, যেখানে বিভিন্ন যে উপায়ে একজন খ্রীষ্টান তার জ্যোতি উজ্জ্বলিত করতে পারেন, তা জানানো হয়েছিল। (মথি ৫:১৪-১৬) প্রচার করা একটি জরুরী বিষয়, আর উত্তম আচরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যেমন বক্তা বলেছিলেন, “প্রচার করা অন্যদের জানায় আমরা কী বিশ্বাস করি, কিন্তু প্রেম দেখানো তা প্রদর্শন করে।”
তারপর প্রচার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়কের প্রতি সদস্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছিল—ট্র্যাক্ট। গত দিনের ঘোষণা এখনও স্মরণে থাকতে থাকতে, এই ছোট সরঞ্জামগুলি কত শক্তিশালী হতে পারে সেই সম্পর্কে কিছু অভিজ্ঞতা শুনেছিলেন সদস্যরা। তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হয়ে সবসময়ে কিছু ট্র্যাক্ট সঙ্গে রাখতে।
এরপর অগ্রগামীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যের সেই পূর্ণ-সময় প্রচারকরা যারা জ্যোতি বহন করার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করেন। আমাদের কঠোর পরিশ্রমী অগ্রগামীদের কাজ আমরা কতই না উপলব্ধি করি! আর তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি যে সব দেশে উপাসনার স্বাধীনতা সম্প্রতি দেওয়া হয়েছে, সেখানেও অগ্রগামীরা সংখ্যায় প্রচুরভাবে বেড়ে উঠছে। অগ্রগামীদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল তাদের সুযোগের প্রতি উপযুক্ত মর্যাদা দেখাতে। যারা এখনও অগ্রগামী নন, নিজেদের পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখতে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। হয়ত তারাও তাদের কাজ গুছিয়ে নিয়ে পূর্ণ-সময় পরিচর্যায় তাদের জ্যোতি উজ্জ্বলিত করতে পারবেন।
জ্যোতি বাহক হওয়ার সাথে প্রায়ই কিছু ত্যাগ স্বীকার করা জড়িত থাকে, এবং পরবর্তী বক্তৃতাটিতে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল, “আত্মত্যাগমূলক মনোভাব নিয়ে যিহোবাকে সেবা করা।” পৌল বিনতি করেছিলেন: “তোমরা আপন আপন দেহকে জীবিত, পবিত্র, ঈশ্বরের প্রীতিজনক বলিরূপে উৎসর্গ কর।” (রোমীয় ১২:১) যারা তাড়না সহ্য করেন, তারা আত্মত্যাগমূলক মনোভাব দেখান। পূর্ণ-সময় পরিচর্যায় থাকার জন্য, অগ্রগামীরা প্রতিদিন ত্যাগ স্বীকার করেন। প্রকৃতপক্ষে, সমস্ত সত্য খ্রীষ্টানরা ত্যাগ স্বীকার করেন, জগতের স্বার্থপর, বস্তুবাদী কাজকর্মের পরিবর্তে যিহোবার পরিচর্যায় নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। এইরকম জীবনধারা যিহোবার প্রচুর আশীর্বাদ নিয়ে আসে।
এই বক্তৃতাটি পরেরটির জন্য খুবই উপযুক্ত ভূমিকা ছিল—বাপ্তিস্ম বক্তৃতা। যারা “জ্যোতি বাহকগণ” জেলা সম্মেলনে বাপ্তাইজিত হয়েছেন তারা নিঃসন্দেহে এই বক্তৃতাটি ভুলবেন না। তাদের বাপ্তিস্ম চিরকাল তাদের জীবনের একটি মুখ্য বিষয় হয়ে থাকবে। তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে তারা যীশু খ্রীষ্টকে অনুসরণ করছে, যিনি ৩০ বছর বয়সে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। এছাড়াও, তারা যে “অন্ধকারের ক্রিয়া সকল ত্যাগ” করে যিহোবার “দাসত্ব” করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা মনে করে বাপ্তিস্মপ্রার্থীরা আনন্দিত হয়। (রোমীয় ১২:১১; ১৩:১২) বাপ্তিস্ম নিতে যাওয়ার আগে, সম্মেলনে উপস্থিত জনতার সামনে দাঁড়িয়ে আনন্দের সাথে সর্বসমক্ষে উচ্চস্বরে একটি ঘোষণা করেছিলেন। (রোমীয় ১০:১০) “জ্যোতি বাহকগণ” জেলা সম্মেলনে জলে বাপ্তিস্ম নিয়ে যারা তাদের উৎসর্গীকরণ চিহ্নিত করেছেন, তাদের উপর যিহোবার আশীর্বাদ আমরা প্রার্থনা করি।
শনিবার অপরাহ্নে স্পষ্টভাবে কিছু সাবধানবাণী দেওয়া হয়েছিল। এইগুলি দেওয়া হয় “লোভের ফাঁদকে পরিহার করুন,” “কেউ কি আপনার শিষ্টাচার নষ্ট করছে?” এবং “সর্বপ্রকার প্রতিমাপূজা থেকে সাবধান থাকুন,” এই বক্তৃতাগুলির মাধ্যমে। এই তিনটি বক্তৃতায় একজন খ্রীষ্টানকে দুর্বল করে দিতে শয়তান যে পন্থাগুলি ব্যবহার করে, তার কয়েকটিকে শনাক্ত করা হয়েছিল। ঈষ্করিয়োতীয় যিহূদা একজন প্রেরিত ছিলেন, কিন্তু তিনি অর্থের জন্য যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। কিশোর শমূয়েল যিহোবার জাতির উপাসনাকেন্দ্রে বড় হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু তাকে বাধ্য হয়ে অতি অসৎ সঙ্গের সংস্পর্শে আসতে হয়েছিল। (১ শমূয়েল ২:১২, ১৮-২০) যৌন অনৈতিকতা এবং অন্যায় লালসা প্রতিমাপূজার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। (ইফিষীয় ৫:৫; কলসীয় ৩:৫) হ্যাঁ, লোভ, অসৎ সঙ্গ, এবং প্রতিমাপূজা বিপদজনক এবং এই সমস্ত এড়িয়ে চলা উচিৎ।
এরপর, বলা যেতে পারে যে সম্মেলনের কার্যক্রমের বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এসেছিল। পরের বক্তৃতা, বাইবেল থেকে অনেকগুলি আগ্রহজনক প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং সেগুলির উত্তর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন, যে লোকেরা সত্য গ্রহণ করেনি এবং মহাক্লেশের আগে মারা যায়, তারা পুনরুত্থিত হবে কিনা? যদি একজন খ্রীষ্টান উপযুক্ত বিবাহ-সঙ্গী না পায়, তাহলে তার কী করা উচিৎ? বাইবেল সম্বন্ধে জ্ঞান আরও বাড়াতে, সদস্যদের উৎসাহ দেওয়া হয় ওয়াচ টাওয়ার পাব্লিকেশন্স্ ইন্ডেক্স, বিশেষত “পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল” এই শিরোনামের পূর্ণ ব্যবহার করতে।
খ্রীষ্টের উপস্থিতি এবং প্রকাশ
শনিবারের কার্যক্রমের শেষ ভাগে ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে মনোযোগ দেওয়া হয় এই সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে যার শিরোনাম “খ্রীষ্টের উপস্থিতি ও প্রকাশপ্রাপ্তির প্রতি আলোকপাত করা।” যীশু খ্রীষ্টের উপস্থিতির প্রমাণস্বরূপ “চিহ্নের” কিছু বৈশিষ্ট্য পুনরালোচলা করা হয়েছিল। (মথি ২৪:৩) দ্বিতীয় অংশে, “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস”-শ্রেণীর বর্তমান দিনের কাজকর্ম আলোচনা করা হয়েছিল। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) উল্লেখ করা হয়েছিল যে ১৯১৯ সাল থেকে দাসশ্রেণী বিশ্বস্তভাবে রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারপর অভিষিক্ত খ্রীষ্টানদের সাথে যোগ দিয়ে যিহোবার জ্যোতি প্রতিফলিত করার জন্য সমস্ত জাতি থেকে এক বিরাট জনতা একত্রিত করা হয়। বক্তা এই বলে শেষ করেছিলেন: “আসুন, সকলে উদ্যোগসহকারে বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসকে সমর্থন করি। একমাত্র তাই করলে, শীঘ্রই কোন এক দিন সমস্ত মেষতুল্য ব্যক্তিরা এই আনন্দজনক বার্তা শুনতে পাবে: ‘আইস, আমার পিতার আশীর্ব্বাদ-পাত্রেরা, জগতের পত্তনাবধি যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা গিয়াছে, তাহার অধিকারী হও।’”—মথি ২৫:৩৪.
শেষ বক্তা যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশপ্রাপ্তির অর্থ এবং প্রভাব সম্বন্ধে আলোচনা করেছিলেন। (১ করিন্থীয় ১:৭) সেই প্রকাশপ্রাপ্তি কী আশ্চর্য এক অভিজ্ঞতা হবে! মহতী বাবিল ধ্বংস হবে। শয়তানের জগৎ এবং যীশু ও তাঁর স্বর্গদূতদের মধ্যে যে মহাযুদ্ধ হবে তার শেষ হবে এই বিধিব্যবস্থার ধ্বংসের মাধ্যমে। অবশেষে, শয়তানকে অগাধলোকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে নিষ্ক্রিয় করা হবে। কিন্তু, স্বর্গে মেষশাবকের বিবাহ এবং একটি নতুন পৃথিবী স্থাপনের সাথে ঈশ্বরের ব্যক্তিদের জন্য পরিত্রাণ আসবে। নতুন ব্রোশার ডাজ্ গড রিয়েলী কেয়ার অ্যাবাউট আস্? প্রকাশিত করে বক্তা শ্রোতাদের উল্লসিত করেছিলেন। যে নম্র ব্যক্তিরা আমাদের যত্নশীল সৃষ্টিকর্তা এবং আমাদের জন্য তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানতে চায়, তাদের জন্য এই ব্রোশারটি কত উত্তম এক সহায়ক হবে!
খ্রীষ্টীয় গৃহ
এবার আমরা রবিবার, সম্মেলনের শেষ দিনে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু, এখনও অনেক কিছু জানানো বাকি আছে। সেই দিনের শাস্ত্র পাঠের পর, খ্রীষ্টীয় পরিবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল, “খ্রীষ্টীয় গৃহে একে অপরের প্রতি যত্ন নেওয়া” এই সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে। প্রথম অংশে, একটি সফল খ্রীষ্টীয় পরিবারের চাবিকাঠি সম্বন্ধে সদস্যদের বুঝতে সাহায্য করা হয়েছিল: আত্মিক বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। দ্বিতীয় অংশে, পরিবারের সদস্যদের সবকিছু একসঙ্গে করতে উৎসাহ দেওয়া হয়, তা সভায় উপস্থিতি, ক্ষেত্রের পরিচর্যা, পরিবারগতভাবে অধ্যয়ন, অথবা মনোরঞ্জন, যাই হোক। আর সিম্পোজিয়ামের তৃতীয় অংশে বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার সুযোগ ও দায়িত্ব সম্বন্ধে সদস্যদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়। “আমাদের বয়স্ক ভাই-বোনেরা মণ্ডলীর জন্য মূল্যবান সম্পদ,” বক্তা বলেছিলেন। আসুন আমরা তাদের অভিজ্ঞতাকে যথাযোগ্য সম্মান দেখাই এবং তাদের বিশ্বস্ততা অনুকরণ করি।
এরপর, “সংযমশীল” কথাটির অর্থ পরীক্ষা করা হয়। (১ পিতর ৪:৭) একজন সংযমশীল ব্যক্তি মিতাচারী, বিচক্ষণ, বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, নম্র এবং বাস্তববাদী। সে ভুল এবং সঠিক, সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। এছাড়াও, সে উত্তম আত্মিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার চেষ্টা করে।
রবিবার সকালের কার্যক্রমের শেষ বক্তৃতায় ঈশ্বর এবং খ্রীষ্টের প্রতি আমাদের বব্যতা সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছিল। “যিহোবা ঈশ্বর এবং তাঁর পুত্র, যীশু খ্রীষ্টের প্রতি বিশ্বস্তভাবে অনুগত থাকার গুরুত্ব সম্বন্ধে যাই বলা হোক না কেন, যথেষ্ট জোর দেওয়া হবে না,” বক্তা বলেছিলেন। তারপর তিনি আরও দেখিয়েছিলেন কিভাবে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। অনুগত থাকতে কী আমাদের সাহায্য করবে? চারটি গুণ: প্রেম, ঐশ্বরিক ভয়, বিশ্বাস, এবং নম্রতা।
রবিবার অপরাহ্ন
হঠাৎ, রবিবার অপরাহ্ন উপস্থিত হয় আর সম্মেলনের শেষ সভার সময় এসে পড়ে। অনেকের মনে হয়েছিল সম্মেলন এইমাত্র শুরু হয়েছে, আর এরই মধ্যে শেষ হতে চলেছে।
জনসাধারণের জন্য বক্তৃতার শিরোনাম ছিল “জগতের জ্যোতিকে অনুসরণ করুন।” যারা উপস্থিত ছিলেন, জীবন বজায় রাখতে পার্থিব জ্যোতির ভূমিকা সম্বন্ধে এক অপূর্ব ব্যাখ্যা তাদের দেওয়া হয়েছিল। তারপর বক্তা আত্মিক জ্যোতির আরও অধিক গুরুত্ব সম্বন্ধে দেখিয়েছিলেন। পার্থিব জ্যোতি কয়েক দশকের জন্য আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু আত্মিক আলোর মাধ্যমে অনন্তকাল আমরা জীবন পেতে পারি। সেই বক্তৃতার মুখ্য বিষয় ছিল যোহন ১:১-১৬ পদের প্রত্যেকটির আলোচনা, যেখানে যীশুকে জগতের জ্যোতি বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে, এই দুষ্ট বিধিব্যবস্থার শেষ কয়েকটি বছরে, এই ভূমিকায় যীশুর অনুসরণ করা সর্বাধিক জরুরী বিষয়।
সেই সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত প্রহরীদুর্গ প্রবন্ধের একটি সারাংশ করার পর, শেষ বক্তৃতার সময় আসে। আনন্দের বিষয় যে বক্তা দেখিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বহু বিষয় সম্বন্ধে আশা রাখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, তিনি একটি নতুন অডিও-ক্যাসেট, ডুইং গড্স্ উইল উইথ্ জীল। এই নাটকটির প্রকাশনা ঘোষণা করেছিলেন। আর শুধু তাই নয়। ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি নুতন ভিডিও-ক্যাসেট প্রকাশিত হবে, যার শিরোনাম দ্যা বাইবেল—এ বুক অফ ফ্যাক্ট অ্যান্ড প্রফেসী, এবং প্রথমটির বিষয় দ্যা বাইবেল—অ্যাকিউরেট হিস্টরী, রিলায়েবল প্রফেসী।
অবশেষে, বক্তা ঘোষণা করেছিলেন যে ১৯৯৩ সালে চার-দিনের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যার অন্তর্ভুক্ত আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, এবং দক্ষিণ আমেরিকায় বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। যদিও “জ্যোতি বাহকগণ” জেলা সম্মেলন শেষ হতে চলেছিল, সদস্যরা পরবর্তী বছরের জন্য পরিকল্পনা করা শুরু করতে পারেন।
তারপর, সদস্যদের ঘরে ফিরে যাওয়ার সময় আসে। অবশ্যই, এই অন্ধকার জগতে জ্যোতি প্রতিফলিত করতে তারা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী নিশ্চিৎ হয়েছেন। সম্পূর্ণ তিন দিন ধরে উত্তম আত্মিক বিষয় পাওয়ার পর, শেষ বক্তৃতায় শেষ যে শাস্ত্রটি উল্লেখ করা হয়েছিল সেটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল: “যিহোবাই ঈশ্বর; তিনি আমাদিগকে জ্যোতি দিয়াছেন; . . . তোমরা যিহোবার স্তব কর, কেননা তিনি মঙ্গলময়; তাঁহার দয়া অনন্তকালস্থায়ী।”—গীতসংহিতা ১১৮:২৭, ২৯, NW. (w93 1⁄15)