আমাদের মহান স্রষ্টার সঙ্গে পালকের কাজ করা
“যিহোবা আমার পালক, আমার অভাব হইবে না। তিনি আমার প্রাণ ফিরাইয়া আনেন, তিনি নিজ নামের জন্য আমাকে ধর্ম্মপথে গমন করান।”—গীতসংহিতা ২৩:১, ৩, NW.
১. যিহোবা কোন প্রেমপূর্ণ তৃপ্তি প্রদান করেন?
গীত ২৩, “দায়ূদের সঙ্গীত,” অনেক ক্লান্ত প্রাণকে তৃপ্ত করেছে। এটি তাদের সেই আস্থা রাখতে উৎসাহ দেয় যা ৬ পদে বর্ণিত আছে: “কেবল মঙ্গল ও দয়াই আমার জীবনের সমুদয় দিন আমার অনুচর হইবে, আর আমি সদাপ্রভুর গৃহে চিরদিন বসতি করিব।” যারা এখন পৃথিবীর সকল জাতি থেকে সংগৃহীত হচ্ছে, যিহোবার সেই লোকদের সাথে একত্রিত হয়ে আপনারও কী যিহোবার উপাসনা-গৃহে চিরদিন থাকতে ইচ্ছা করে? ‘প্রাণের পালক ও অধ্যক্ষ’ আমাদের মহান স্রষ্টা, যিহোবা ঈশ্বর আপনাকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন।—১ পিতর ২:২৫.
২, ৩. (ক) কিরূপে যিহোবা প্রেমের সাথে তাঁর লোকদের পালন করেন? (খ) কিভাবে যিহোবার “পাল” চমকপ্রদরূপে বৃদ্ধি পেয়েছে?
২ “নূতন আকাশমন্ডল ও নূতন পৃথিবীর” স্রষ্টা আবার খ্রীষ্টীয় মণ্ডলী যা হল “ঈশ্বরের গৃহ” তার সংগঠক এবং সর্বোচ্চ অধ্যক্ষও। (২ পিতর ৩:১৩; ১ তীমথিয় ৩:১৫) তাঁর লোকদের পালন করতে তিনি গভীরভাবে আগ্রহী, যা যিশাইয় ৪০:১০, ১১ পদ স্পষ্টরূপে বলে: “দেখ, প্রভু সদাপ্রভু সপরাক্রমে আসিতেছেন, তাঁহার বাহু তাঁহার জন্য কর্ত্তৃত্ব করে; দেখ, তাঁহার সঙ্গে তাঁহার [দাতব্য] বেতন আছে, তাঁহার অগ্রে তাঁহার [দাতব্য] পুরস্কার আছে। তিনি মেষপালকের ন্যায় আপন পাল চরাইবেন, তিনি শাবকদিগকে বাহুতে সংগ্রহ করিবেন, এবং কোলে করিয়া বহন করিবেন; দুগ্ধবতী সকলকে তিনি ধীরে ধীরে চালাইবেন।”
৩ বর্দ্ধিত অর্থে, এই “পাল”-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যারা অনেক দিন খ্রীষ্টীয় সত্যে চলছেন এবং “শাবকগণ” যারা সাম্প্রতিক কালে একত্রিত হয়েছে—যেমন যারা এখন বৃহৎ সংখ্যায় আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপে বাপ্তিস্মিত হয়েছেন। যিহোবার বলিষ্ঠ, রক্ষণশীল বাহু তাদের তাঁর বক্ষে সংগ্রহ করে। যদিও তারা এতদিন পথভ্রষ্ট ছিল, কিন্তু এখন তারা তাদের প্রিয় ঈশ্বর ও পালকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে এসেছে।
যিহোবার সহযোগী পালক
৪, ৫. (ক) কে “উত্তম মেষপালক” এবং কিভাবে ভাববাণী তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করায়? (খ) কোন্ পৃথকীকরণের কাজ যীশু তত্ত্বাবধান করছেন, এবং কী বিশিষ্ট ফলাফলের সাথে?
৪ “উত্তম মেষপালক” যীশু খ্রীষ্ট, স্বর্গে তাঁর পিতার দক্ষিণ হস্তে থেকে সেবা করাকালীন, তিনিও “মেষ”-দের প্রতি করুণাময় দৃষ্টি দেন। প্রথমে অভিষিক্তদের “ক্ষুদ্র মেষপাল” এবং তারপর বর্তমানে তাঁর “অপর মেষ”-দের বিরাট জনতার উপকারের জন্য তিনি তাঁর জীবন দান করেন। (লূক ১২:৩২; যোহন ১০:১৪, ১৬) মহান পালক, যিহোবা ঈশ্বর, এই সকল মেষদের উদ্দেব্য করে বলেন: “দেখ, আমি, আমিই . . . মেষ ও মেষের মধ্যে বিচার করিব। আর আমি তাহাদের উপরে একমাত্র পালককে উৎপন্ন করিব, তিনি তাহাদিগকে পালন করিবেন, তিনি আমার দাস দায়ূদ; তিনিই তাহাদিগকে চরাইবেন, এবং তিনিই তাহাদের পালক হইবেন। আর আমি সদাপ্রভু তাহাদের ঈশ্বর হইব, এবং আমার দাস দায়ূদ তাহাদের মধ্যে অধ্যক্ষ হইবেন; আমি সদাপ্রভুই ইহা কহিলাম।”—যিহিষ্কেল ৩৪:২০-২৪.
৫ “আমার দাস দায়ূদ” পদমর্য্যাদাটি ভাববাণীমূলকরূপে খ্রীষ্ট যীশুকে তুলে ধরে, “বংশ” হিসাবে যিনি উত্তরাধিকারসূত্রে দায়ূদের সিংহাসন লাভ করেন। (গীতসংহিতা ৮৯:৩৫, ৩৬) জাতিগণের বিচারের এই দিনে, যিহোবার সহযোগী পালক ও রাজা, খ্রীষ্ট যীশু যিনি হলেন দায়ূদের সন্তান, তিনি “মেষ” বলে হয়ত যারা দাবী করে কিন্ত আসলে “ছাগ”, তাদের থেকে তিনি মানবজাতির “মেষ”-দের ক্রমাগত পৃথক করে চলেছেন। (মথি ২৫:৩১-৩৩) এই “একমাত্র পালক” উৎপন্ন করা হয়েছে মেষপালকে পালন করতে। বর্তমানে এই ভাববাণীর কী মহিমাপূর্ণ পরিপূর্ণতা আমরা লক্ষ্য করছি! রাজনৈতিক নেতারা যখন নতুন জগত পরিস্থিতি দ্বারা মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলছে, তখন বহু ভাষায় সাক্ষ্য অভিযানের মাধ্যমে, একমাত্র পালক প্রকৃতপক্ষে সকল জাতির মেষদের একত্রিত করছেন, যে দায়িত্বভার পৃথিবীতে একমাত্র ঈশ্বরের সংগঠনই গ্রহণ করতে পারে।
৬, ৭. কিভাবে “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস” দেখেন যে মেষেরা যেন “উপযুক্ত সময়ে খাদ্য” পায়?
৬ রাজ্যের বার্তা ক্রমাগত নতুন ক্ষেত্রগুলিতে বিস্তারিত হওয়ার সাথে সাথে, একমাত্র পালকের দ্বারা নিয়োজিত অভিষিক্ত খ্রীষ্টীয়দের “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস”, “উপযুক্ত সময়ে খাদ্য” প্রেরণ করতে যাতে প্রতিটি ব্যবস্থা করা হয়, তা নিশ্চিত করেন। (মথি ২৪:৪৫) আরও উত্তম বাইবেল পাঠ্যপুস্তক এবং পত্রিকার বৃদ্ধিপ্রাপ্ত চাহিদার জন্য, পৃথিবীব্যাপী ওয়াচটাওয়ার সোসাইটির বহু ছাপানোর শাখাগুলির মধ্যে ৩৩টি উৎপাদনের হার বাড়িয়েছে।
৭ যিহোবার সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠী, প্রায় ২০০টি ভাষায় অনুবাদের মানের উন্নতি করতে এবং এর থেকেও অধিক ভাষায় অনুবাদ করা শুরু করতে যত দূর সবে সব কিছু করছেন, যা জগতের সম্পূর্ণ ক্ষেত্রকে পরিব্যাপ্ত করতে দরকার আছে। এটি যীশুর শিষ্যদের প্রতি আজ্ঞার সমর্থনে যা প্রেরিত ১:৮ পদ বলে: “পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে আসিলে তোমরা শক্তি প্রাপ্ত হইবে; . . . পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে।” এছাড়াও, নিউ ওয়ার্ল্ড ট্রান্সলেশন অফ দ্যা হোলি স্ক্রিপচারস্ যা ইতিমধ্যে সম্পূর্ণরূপে অথবা অংশে ১৪টি ভাষায় ছাপানো হয়ে গেছে, তা এখন আফ্রিকা, ইউরোপ ও প্রাচ্যের অন্যান্য আরও ১৬টি ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।
“ঈশ্বরের শান্তি” উপভোগ করা
৮. যিহোবা যে শান্তির নিয়ম মেষদের সঙ্গে স্থাপন করেন তার থেকে তারা কিভাবে উত্তমরূপে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়?
৮ যিহোবা তাঁর উত্তমরূপে পুষ্ট মেষেদের সঙ্গে একমাত্র পালক খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে এক শান্তির নিয়ম করেন। যীশুর পাতিত রক্তে বিশ্বাস স্থাপন করে মেষেরা জ্যোতিতে চলতে সক্ষম হয়েছে। (১ যোহন ১:৭) ‘সমস্ত চিন্তার অতীত যে ঈশ্বরের শান্তি, যা তাদের হৃদয় ও মন খ্রীষ্ট যীশুতে রক্ষা করে’ তা তারা উপভোগ করে। (ফিলিপীয় ৪:৭) যেমন যিহিষ্কেল ৩৪:২৫-২৮ বর্ণনা করে, যিহোবা তাঁর মেষদের এক আত্মিক পরমদেশে পালন করেন, যেখানে সুরক্ষার মনোরম পরিস্থিতি, তৃপ্তিদায়ক সমৃদ্ধি এবং সফলতা আছে। তাঁর মেষ সম্বন্ধে এই প্রেমময় পালক বলেন: “তাহারা জানিবে যে, আমিই সদাপ্রভু, যখন আমি তাহাদের যোঁয়ালির খিল ভাঙ্গিয়া ফেলিব, এবং যাহারা তাহাদিগকে দাসত্ব করাইয়াছে, তাহাদের হস্ত হইতে তাহাদিগকে উদ্ধার করিব। তাহারা আর জাতিগণের লুটদ্রব্য হইবে না, . . . কিন্তু তাহারা নির্ভয়ে বাস করিবে, কেহ তাহাদিগকে ভয় দেখাইবে না।”
৯. ‘যোঁয়ালির খিল’ ভাঙ্গাতে যিহোবার লোকদের জন্য কোন্ সুযোগগুলি উন্মুক্ত হয়েছে?
৯ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ইতিমধ্যেই যিহোবার সাক্ষীরা বহুদেশে ‘তাহাদের যোঁয়ালির খিল’ ভেঙ্গে ফেলার অভিজ্ঞতা করেছে। তারা এখন প্রচার করতে আরও স্বাধীন। আমরা সকলেই, প্রত্যেক দেশেতে, কার্যটি সম্পাদন করতে অগ্রসর হওয়ার সময়ে যিহোবা যে সুরক্ষা প্রদান করেছেন তার যেন সদ্ব্যবহার করি। মানবজাতি যা পূর্বে কখনও দেখেনি সেই মহা সঙ্কটের সম্মুখীন হওয়ার সময়, যিহোবা আমাদের কতই না পুনরায় আশ্বাস দিচ্ছেন!—দানিয়েল ১২:১; মথি ২৪:২১, ২২.
১০. উত্তম মেষপালক, যীশু খ্রীষ্টকে সাহায্য করতে যিহোবা কাদের প্রদান করেছেন, এবং এদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিদের প্রেরিত পৌল কিভাবে সম্বোধন করেন?
১০ দুষ্টদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিশোধের দিনের প্রস্তুতি করতে, পালকে যত্ন নিতে উত্তম মেষপালক খ্রীষ্ট যীশুকে সাহায্য করতে যিহোবা অধীনস্থ মেষপালকদের প্রদান করেছেন। যীশুর দক্ষিণ হস্তে “সপ্ত তারা”-র সম্পূর্ণ সংখ্যারূপে, এদের সম্বন্ধে প্রকাশিত বাক্য ১:১৬ পদে বর্ণনা করা আছে। প্রথম শতাব্দীতে, এই অধীনস্থ পালকদের প্রতিনিধিবর্গকে উদ্দেশ্য করে প্রেরিত পৌল বলেন: “তোমরা আপনাদের বিষয়ে সাবধান, এবং পবিত্র আত্মা তোমাদিগকে অধ্যক্ষ করিয়া যাহার মধ্যে নিযুক্ত করিয়াছেন, সেই সমস্ত পালের বিষয়ে সাবধান হও, ঈশ্বরের সেই মণ্ডলীকে পালন কর, যাহাকে তিনি নিজ রক্ত দ্বারা ক্রয় করিয়াছেন।” (প্রেরিত ২০:২৮) বর্তমানে, সমস্ত পৃথিবীব্যাপী হাজার হাজার অধীনস্থ পালকেরা ৬৯,৫৫৮টি মণ্ডলীতে পরিচর্য্যা করছেন।
অগ্রবর্তী অধীনস্থ পালকগণ
১১. বারবার প্রচারিত ক্ষেত্রগুলিতে কিছু পালকেরা কিভাবে সাফল্যতার সাথে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন?
১১ বহু স্থানে ক্ষেত্রগুলিতে এই পালকদের নেতৃত্ব নিতেই হচ্ছে, যে ক্ষেত্রগুলিতে এই শেষকালে বারবার প্রচার করা হয়েছে। কিরূপে তারা পালের উৎসাহকে উচ্চ মাত্রায় বজায় রাখতে পারবে? পালকেরা খুব প্রশংসনীয়রূপে তা করে যাচ্ছেন, এবং এই বিষয়ে যে একটি উপায়ে তারা সফলকামী হচ্ছেন, তা হল সাময়িক এবং নিয়মিত অগ্রগামীর কাজকে উদ্দীপিত করে। বহু পালকেরা স্বয়ং এই কাজে যোগ দিয়েছেন, এবং এমনকি যে সব প্রকাশকেরা সেই কাজ করতে পারছেন না তারাও অগ্রগামীর মনোভাব দেখিয়েছেন, আনন্দের সাথে পরিচর্য্যা করে যা ক্ষেত্রে উদাসীনতা জয় করতে সাহায্য করে। (গীতসংহিতা ১০০:২; ১০৪:৩৩, ৩৪; ফিলিপীয় ৪:৪, ৫) তাই, যতই দুষ্টতা এবং অরাজকতার বৃদ্ধি হচ্ছে পৃথিবীতে, বহু মেষতুল্য লোক রাজ্যের আশায় জাগরিত হচ্ছে।—মথি ১২:১৮, ২১; রোমীয় ১৫:১২.
১২. দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত এলাকাগুলিতে কী গুরুতর সমস্যা রয়েছে, এবং তা অনেক সময় কিভাবে মোকাবিলা করা হয়?
১২ আর একটি সমস্যা হল, পালকে যত্ন নেওয়ার জন্য অনেক সময় যোগ্যতা সম্পন্ন যথেষ্ট পালকের অভাব রয়েছে। যেখানে দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে, যেমন পূর্ব ইউরোপ, সেখানে কোন নিয়োজিত প্রাচীন ব্যতিরেকেই অনেক নতুন মণ্ডলীগুলি হয়েছে। ইচ্ছুক মেষেরা ভার বহন করছে কিন্তু তারা খুবই অনভিজ্ঞ, এবং যে মেষেরা মণ্ডলীতে একত্রিত হচ্ছে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্যের প্রয়োজন। ব্রাজিল, মেক্সিকো ও জাইরের মত দেশগুলিতে যেখানে বৃদ্ধি খুব দ্রুত হচ্ছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে যুব ব্যক্তিদের ব্যবহার করতে হচ্ছে পরিচর্য্যা সংগঠিত করতে ও অন্যান্য নতুন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিতে। অগ্রগামীরা অপূর্বভাবে সাহায্য করছেন এবং এই একটি ক্ষেত্র আছে যেখানে ভগ্ণীরা নতুন ভগ্ণীদের প্রশিক্ষিত করতে পারে। যিহোবা তাঁর আত্মার মাধ্যমে ফলসমূহকে আশীর্বাদ করছেন। বৃদ্ধি ক্রমাগত হয়ে চলেছে।—যিশাইয় ৫৪:২, ৩.
১৩. (ক) যেহেতু শস্য প্রচুর তাই সকল সাক্ষীদের কী প্রার্থনা করা উচিৎ? (খ) দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ও তার পূর্বে কিরূপে ঈশ্বরের লোকদের প্রার্থনার উত্তর মেলে?
১৩ যে সমস্ত দেশে প্রচার কাজ উত্তমরূপে প্রতিষ্ঠিত, যে সব জায়গায় সাম্প্রতিক কালে নিষেধাজ্ঞা অপসারিত করা হয়েছে, এবং নতুন ক্ষেত্রগুলিতে মথি ৯:৩৭, ৩৮ পদের যীশুর কথাগুলি এখনও প্রযোজ্য: “শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্য্যকারী লোক অল্প; অতএব শস্যক্ষেত্রের স্বামীর নিকটে প্রার্থনা কর, যেন তিনি নিজ শস্যক্ষেত্রে কার্য্যকারী লোক পাঠাইয়া দেন।” যিহোবা যাতে আরও পালকের বৃদ্ধি করেন সেই সম্বন্ধে আমাদের প্রার্থনা করা দরকার। তিনি তা করতে পারেন সেই সম্বন্ধে তিনি প্রদর্শনও করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ও তার পূর্বে, নিষ্ঠুর অশূরীয় সমান একনায়কেরা যিহোবার সাক্ষীদের ধ্বংস করতে প্রচেষ্টা করেছিল। কিন্তু সাক্ষীদের প্রার্থনার উত্তরে যিহোবা তাদের সংগঠনকে প্রকৃতভাবে ঐশিক, এবং প্রয়োজনীয় “পালকগণ” প্রদান করে তার উন্নতিসাধন করেন।a এটি এই ভাববাণীর সঙ্গে মিল রাখে: “অশূর যখন আমাদের দেশে আসিবে, ও আমাদের অট্টালিকা সকল দলিত করিবে, তখন আমরা তাহার বিপক্ষে সাত জন পাল রক্ষক ও আট জন নরপতিকে উত্থাপন করিব”—এমনকি নেতৃত্ব গ্রহণ করতে প্রয়োজনের অধিক উৎসর্গীকৃত প্রাচীনগণকে নেওয়া হবে।—মীখা ৫:৫.
১৪. সংগঠনে কোন্ উল্লেখযোগ্য প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং ভাইদের কী উৎসাহ দান করা হয়েছে?
১৪ আরও সুযোগ গ্রহণ করতে এগিয়ে আসতে, বাপ্তিস্মিত পুরুষ সাক্ষীদের উল্লেখযোগ্যরূপে প্রয়োজন আছে। (১ তীমথিয় ৩:১) পরিস্থিতি জরুরী। এই ব্যবস্থার শেষ দ্রুত আগতপ্রায়। হবক্কূক ২:৩ বলে: “কেননা এই দর্শন এখনও নিরূপিত কালের নিমিত্ত, ও তাহা পরিনামের আকাঙ্ক্ষা করিতেছে, আর মিথ্যা হইবে না; . . . কেননা তাহা অবশ্য উপস্থিত হইবে, যথাকালে বিলম্ব করিবে না।” ভাইয়েরা, আপনারা কি এই পালনের কাজে আরও সুযোগ গ্রহণ করতে যোগ্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে পারেন—শেষ আসার পূর্বে?—তীত ১:৬-৯.
ঐশিক পালনের কাজ
১৫. কি উপায়ে যিহোবার লোকেরা এক ঈশতন্ত্র?
১৫ যিহোবার সংগঠনের প্রসারে সম্পূর্ণ অংশ গ্রহণ করতে, তাঁর লোকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ঐশিক হতে হবে। তারা সেটি কিরূপে সাধন করবে? ভেবে দেখুন, “ঐশিক” এই শব্দটির অর্থ কী? ওয়েবস্টারস্ নিউ টোয়েন্টিয়েথ সেণ্চুরি ডিকশনারি “ঈশতন্ত্র”-কে ব্যাখ্যা করে, “যে রাজ্য ঈশ্বর দ্বারা শাসিত।” তাই এই অর্থে, যিহোবার লোকদের “পবিত্র জাতি” হল ঈশতন্ত্র। (১ পিতর ২:৯; যিশাইয় ৩৩:২২) সেই ঐশিক জাতির সদস্য বা সহযোগী হিসাবে, সত্য খ্রীষ্টীয়দের ঈশ্বরের বাক্য ও তার নীতির বাধ্যতায় জীবনযাপন ও সেবা করা দরকার।
১৬. মুখ্যত কিরূপে প্রদর্শন করতে পারি যে আমরা ঐশিক?
১৬ প্রেরিত পৌল স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন যে কিভাবে খ্রীষ্টীয়দের ঐশিক হওয়া দরকার। প্রথমে তিনি বলেন, যে তাদের ‘নূতন মনুষ্যকে পরিধান করিতে হইবে, যাহা সত্যের ধার্ম্মিকতায় ও সাধুতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট।’ খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিত্ব ঈশ্বরের বাক্যের ধার্ম্মিক নীতিগুলি অনুসারে গঠিত থাকা দরকার। যিহোবা ও তাঁর নিয়মের প্রতি তাকে অনুগত হতে হবে। সেটি কিভাবে সবে সেই সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করার পর, পৌল অনুরোধ করেন: “প্রিয় বৎসদের ন্যায় তোমরা ঈশ্বরের অনুকারী হও।” (ইফিষীয় ৪:২৪–৫:১) বাধ্য সন্তানদের মত আমাদের ঈশ্বরের অনুকরণ করা উচিৎ। সেটি হল সত্য ঈশতন্ত্রের কার্যে প্রকাশ, যা প্রদর্শন করে যে আমরা প্রকৃতই ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত!—আরও দেখুন কলসীয় ৩:১০, ১২-১৪.
১৭, ১৮. (ক) ঈশ্বরের কোন্ উল্লেখযোগ্য গুণ ঐশিক খ্রীষ্টীয়েরা অনুকরণ করে? (খ) মোশির প্রতি বাক্যতে, যিহোবা কিভাবে তাঁর প্রাথমিক গুণটির উপর জোর দেন, কিন্তু তার সাথে তিনি কী সাবধানতা যোগ করেন?
১৭ ঈশ্বরের কোন্ মুখ্য গুণটি আমাদের অনুকরণ করা দরকার? প্রেরিত যোহন এর উত্তর ১ যোহন ৪:৮ পদে দেন, যখন তিনি বলেন: “ঈশ্বর প্রেম।” আটটি পদ পরে, ১৬ পদে, তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নীতির পুনর্বার উল্লেখ করেন: “ঈশর প্রেম; আর প্রেমে যে থাকে, সে ঈশ্বরে থাকে, এবং ঈশ্বর তাহাতে থাকেন।” মহান পালক যিহোবা হলেন প্রেমের প্রতিমূর্তি। যিহোবার মেষদের প্রতি গভীর প্রেম প্রদর্শন করে ঐশিক পালকেরা তাঁকে অনুকরণ করেন।—তুলনা করুন ১ যোহন ৩:১৬, ১৮; ৪:৭-১১.
১৮ মহান শাসক ঈশ্বর মোশির কাছে নিজেকে এইরূপ প্রকাশ করেন “সদাপ্রভু, সদাপ্রভু, স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্; সহস্র সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়ারক্ষক, অপরাধের, অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী; তথাপি তিনি অবব্য [পাপের] দন্ড দেন; পুত্ত্র পৌত্ত্রদের উপরে, তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্য্যন্ত, তিনি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল বর্ত্তান।” (যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬, ৭) প্রয়োজন হলে পাপের প্রতিফল দেবেন বলে দৃঢ়রূপে সাবধান করার সাথে, যিহোবা তাঁর উল্লেখযোগ্য ঐশিক গুণ, প্রেমের বিভিন্ন দিকগুলির প্রতি এইভাবে জোর দেন।
১৯. ফরীশীদের বৈসাদৃশ্যে, কিরূপে খ্রীষ্টীয় পালকগণ ঐশিকভাবে ব্যবহার করবেন?
১৯ যাদের সংগঠনে দায়িত্বভার আছে তাদের পক্ষে ঐশিক হওয়ার অর্থ কী বোঝায়? যীশু তাঁর সময়ের অধ্যাপক এবং ফরীশীদের সম্বন্ধে বলেন: “তাহারা ভারী দুর্ব্বহ বোঝা বাঁধিয়া লোকদের কাঁধে চাপাইয়া দেয়, কিন্তু আপনারা অঙ্গুলি দিয়াও সরাইতে চাহে না।” (মথি ২৩:৪) কী অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর! সত্য ঈশতন্ত্র অথবা ঈশ্বর-শাসন হল বাইবেলের প্রেমপূর্ণ নীতির মাধ্যমে পালন করা, কিন্তু বহু মনুষ্য-নির্ম্মিত নিয়মের বোঝা মেষদের উপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। (তুলনা করুন মথি ১৫:১-৯.) তার সাথে, মণ্ডলীর শুদ্ধতা বজায় রাখতে, প্রেমের সঙ্গে দৃঢ়তা রেখে ঐশিক পালকদের ঈশ্বরকে অনুকরণ করা দরকার।—তুলনা করুন রোমীয় ২:১১; ১ পিতর ১:১৭.
২০. ঐশিক পালকেরা কোন্ সাংগঠনিক ব্যবস্থাগুলি উপলব্ধি করে?
২০ সত্য পালকেরা এটি উপলব্ধি করেন যে এই শেষকালে যীশু তাঁর বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসদের তাঁর সর্ব্বস্বের উপরে নিযুক্ত করেছেন এবং মেষদের পালন করার জন্য তাঁর পবিত্র আত্মা এই দাসদের পরিচালিত করেছে প্রাচীনদের নিযুক্ত করতে। (মথি ২৪:৩, ৪৭; প্রেরিত ২০:২৮) তাই, ঐশিক হওয়ার অর্থ হল তাঁর দাসদের প্রতি, দাসদের স্থাপিত সাংগঠনিক ব্যবস্থার প্রতি এবং মণ্ডলীর মধ্যে প্রাচীন ব্যবস্থার প্রতিও গভীর সম্মান প্রদর্শন করা।—ইব্রীয় ১৩:৭, ১৭.
২১. অধীনস্থ পালকদের জন্য যীশু কোন্ উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছেন?
২১ পরিচালনার জন্য যিহোবা ও তাঁর বাক্যের প্রতি ক্রমাগত দৃষ্টিপাত করে যীশু স্বয়ং এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। তিনি বলেন: “আমি আপনা হইতে কিছুই করিতে পারি না; যেমন শুনি তেমনি বিচার করি; আর আমার বিচার ন্যায্য, কেননা আমি আপনার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি না, কিন্তু আমার প্রেরণকর্ত্তার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি।” (যোহন ৫:৩০) যীশু খ্রীষ্টের অধীনস্থ পালকদের অনুরূপ নম্র মনোভাব অর্জন করা প্রয়োজন। যদি একজন প্রাচীন নির্দেশের জন্য সবসময় ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, যেমন যীশু করেছিলেন, তাহলে তিনি প্রকৃতই ঐশিক।—মথি ৪:১-১১; যোহন ৬:৩৮.
২২. (ক) কি উপায়ে সকলে ঐশিক হতে প্রচেষ্টা করতে পারে? (খ) যীশু মেষদের কোন্ সদাশয় আমন্ত্রণ জানান?
২২ বাপ্তিস্মিত পুরুষগণ, আপনারা মণ্ডলীতে সুযোগ গ্রহণ করার জন্য যোগ্য হোতে এগিয়ে আসুন! প্রেম প্রদর্শনে যিহোবা ও যীশুকে অনুকরণ করে, প্রিয় মেষেরা, আপনারা সকলে ঐশিক হওয়ার জন্য লক্ষ্য রাখুন! পালক ও পালেরা অনুরূপে আনন্দসহ সাড়া দিয়েছে যীশুর আমন্ত্রণে: “হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোক সকল, আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম দিব। আমার যোঁয়ালি আপনাদের উপরে তুলিয়া লও, এবং আমার কাছে শিক্ষা কর, কেননা আমি মৃদুশীল ও নম্রচিত্ত; তাহাতে তোমরা আপন আপন প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাইবে। কারণ আমার যোঁয়ালি সহজ ও আমার ভার লঘু।”—মথি ১১:২৮-৩০. (w93 1⁄1)
a ওয়াচটাওয়ার পত্রিকার জুন ১ এবং ১৫, ১৯৩৮ সালের “অরগানাইজেশন” নামক প্রবন্ধটি দেখুন।
আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?
▫ যিহোবার “পাল” কী এবং এতে কাদের অন্তর্ভুক্ত করে?
▫ প্রথম শতাব্দীতে এবং বর্তমানে কিরূপে যীশু “উত্তম পালক” হিসাবে ব্যবহার করেন?
▫ পালের যত্ন নিতে অধীনস্থ পালকেরা কী মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন?
▫ “ঈশতন্ত্র” শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
▫ একজন খ্রীষ্টীয়—বিশেষকরে কোন অধীনস্থ পালক—ঐশিক হওয়ার জন্য কিরূপ ব্যবহার করে?
[Pictures on page 14]
উৎসর্গীকৃত মেষপালকের মত যিহোবা তাঁর পালের যত্ন নেন
[Pictures on page 17]
যিহোবা ঈশ্বরের প্রেমের গুণটি অনুকরণ করা হল ঈশতন্ত্র কর্মে প্রদর্শন