এক উদ্দেশ্যসহ শিক্ষা
“ধার্ম্মিককে জ্ঞান দেও, তাহার পাণ্ডিত্য বৃদ্ধি পাইবে।”—হিতোপদেশ ৯:৯.
১. জ্ঞান সম্বন্ধে যিহোবা তাঁর সেবকদের কাছে কী আশা করেন?
যিহোবা “জ্ঞানের ঈশ্বর।” (১ শমূয়েল ২:৩) তিনি তাঁর সেবকদের শিক্ষা দেন। মোশি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে সমসাময়িক ব্যক্তিরা ইস্রায়েল সম্বন্ধে বলবে: “সত্যই, এই মহাজাতি জ্ঞানবান্ ও বুদ্ধিমান্ লোক।” (দ্বিতীয় বিবরণ ৪:৬) সত্য খ্রীষ্টীয়দেরও সেইভাবে শিক্ষিত হতে হবে। ঈশ্বরের বাক্যের উত্তম ছাত্র হওয়া তাদের প্রয়োজন। এইরকম অধ্যয়নের উদ্দেশ্য দেখিয়ে, প্রেরিত পৌল লেখেন: “সেই কারণ আমরাও, . . . তোমাদের নিমিত্তে প্রার্থনা ও বিনতি করিতে ক্ষান্ত হই নাই, যেন তোমরা সমস্ত আত্মিক জ্ঞানে ও বুদ্ধিতে তাঁহার ইচ্ছার তত্ত্বজ্ঞানে পূর্ণ হও, আর তদ্দ্বারা প্রভুর যোগ্যরূপে সর্ব্বতোভাবে প্রীতিজনক আচরণ কর, সমস্ত সৎকর্ম্মে ফলবান্ ও ঈশ্বরের তত্ত্বজ্ঞানে বর্দ্ধিষ্ণু হও।”—কলসীয় ১:৯, ১০.
২. (ক) ঈশ্বর সম্বন্ধে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করতে হলে কিসের প্রয়োজন? (খ) যিহোবার সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠী এই বিষয়টির প্রতি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
২ ঈশ্বর এবং তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে তত্ত্বজ্ঞান অর্জন করার উদ্দেশ্য নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য অন্ততঃ প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকে যারা ঈশ্বরের বাক্যের সত্য শিখতে পেরেছে তারা যে দেশে বাস করে সেখানে ভালভাবে জাগতিক শিক্ষা লাভ করার খুব অল্প সুযোগ পেয়েছে অথবা একদমই পায়নি। তারা অসুবিধার মধ্যে ছিল। এই সমস্যা অতিক্রম করার জন্য, বহু বছর ধরে যিহোবার সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠী নির্দেশ দিয়েছে যে যেখানে প্রয়োজন সেখানে মণ্ডলীর মধ্যে যেন সাক্ষরতার ক্লাস নেওয়া হয়। ৩০ বছরেরও আগে, ব্রাজিলের সংবাদপত্র ডিয়ারিও ডি মোজি, “যিহোবার সাক্ষীরা নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে” নামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত করে। সেখানে বলা হয়: “একজন যোগ্য নির্দেশক ধৈর্য্যের সাথে অন্যদের পড়তে এবং লিখতে শেখানো শুরু করেন। . . . ঈশ্বরের পরিচারক হিসাবে ছাত্রদের পরিস্থিতির জন্য, বক্তৃতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভাষার জ্ঞান তাদের নিতেই হবে।” এইভাবে সারা পৃথিবীতে হাজার হাজার ব্যক্তিকে ঈশ্বরের বাক্যের উত্তম ছাত্র করে তোলা হয়েছে। তারা একটি মহান উদ্দেশ্য মনে রেখে এই প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করে।
কার্যকারী পরিচারক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা
৩, ৪. (ক) সত্য খ্রীষ্টীয়রা কেন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী? (খ) ইস্রায়েলে পরিস্থিতি কিরকম ছিল, আর আমাদের মণ্ডলীর মধ্যে বর্তমানে কোন্ প্রাথমিক শিক্ষা অপরিহার্য?
৩ সত্য খ্রীষ্টীয়রা শিক্ষা নিতে আগ্রহী আনন্দলাভের জন্য নয়, কিন্তু যিহোবার আরও কার্যকারী পরিচারক হওয়ার জন্য। খ্রীষ্ট সকল খ্রীষ্টীয়কে একটি দায়িত্ব দিয়েছেন “সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; . . . আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা” দেওয়ার। (মথি ২৮:১৯, ২০) অন্যদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য, প্রথমে তাদের নিজেদের শিখতে হবে, আর এর জন্য প্রয়োজন উত্তম শিক্ষা পদ্ধতি। ভালভাবে শাস্ত্র পরীক্ষা করার ক্ষমতা তাদের থাকা চাই। (প্রেরিত ১৭:১১) তাদের দায়িত্ব পূরণ করার জন্য, সাবলীল ভঙ্গিতে পড়তে পারাও তাদের পক্ষে প্রয়োজন।—হবক্কূক ২:২ দেখুন; ১ তীমথিয় ৪:১৩.
৪ যেমন আমরা পূববর্তী প্রবন্ধ থেকে দেখি, প্রাচীন ইস্রায়েলে এমনকি ছোটরাও যে সাধারণত পড়তে এবং লিখতে পারত তা বিশ্বাস করার উত্তম কারণ আছে। (বিচারকর্ত্তৃগণ ৮:১৪; যিশাইয় ১০:১৯) গৃহে-গৃহে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আজ খ্রীষ্টীয় পরিচারকদের পরিষ্কারভাবে নোট নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তারা চিঠি লেখে, সভাতে নোট নেয়, এবং তাদের অধ্যয়ন প্রবন্ধে কিছু সংক্ষিপ্ত টীকা লেখে। এই সব কিছুর জন্য স্পষ্ট হাতের লেখা প্রয়োজন। খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মধ্যে হিসাব রাখার জন্য অঙ্কশাস্ত্র সম্বন্ধে অন্তত প্রাথমিক জ্ঞান প্রয়োজন।
যথার্থ স্কুল-শিক্ষার সুবিধাগুলি
৫. (ক) “স্কুল” কথাটির উৎপত্তি কোথা থেকে? (খ) কোন্ সুযোগ অল্পবয়স্ক ব্যক্তিদের গ্রহণ করা উচিৎ?
৫ আগ্রহজনকরূপে, “স্কুল” গ্রীক শব্দ স্কো·লে’ থেকে এসেছে, যার প্রাথমিক অর্থ ছিল “অবসর” অথবা অবসর সময় কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে, যেমন শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য, ব্যয় করা। পরে এই শব্দের দ্বারা যেখানে এইরকম শিক্ষা নেওয়া হয় সেই জায়গাটিকে বোঝানো হত। এইখান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে গ্রীসে এবং অন্যান্য অধিকাংশ দেশে—শুধুমাত্র উচ্চশ্রেণীর লোকেদের শিক্ষা নেওয়ার জন্য অবসর সময় থাকত। শ্রমিক শ্রেণী সাধারণত অজ্ঞই থাকত। বর্তমানে, অধিকাংশ দেশে শিশুদের এবং অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েদের শেখার জন্য সময় দেওয়া হয়। অল্পবয়স্ক সাক্ষীদের অবশ্যই উচিৎ শিক্ষিত এবং যিহোবার যোগ্য সেবক হয়ে ওঠার জন্য সময় কিনে নেওয়া।—ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬.
৬, ৭. (ক) স্কুলে সঠিক শিক্ষালাভের কয়েকটি সুবিধা কী? (খ) একটি বিদেশী ভাষা শেখা কিভাবে উপকারী হতে পারে? (গ) স্কুল শেষ করার পরেও আজ বহু অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ের পরিস্থিতি কিরকম?
৬ ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, ইত্যাদি বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে অল্পবয়স্ক সাক্ষীদের ভারসাম্যপূর্ণ পরিচারকে পরিণত হতে সাহায্য করবে। স্কুলে যাওয়াতে তারা শুধুমাত্র বহু বিষয় নয়, কিন্তু শেখার পদ্ধতি সম্বন্ধেও জানতে পারবে। সত্য খ্রীষ্টীয়রা স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পরও শেখা ও অধ্যয়ন করা থামিয়ে দেয় না। কিন্তু, অধ্যয়ন থেকে তারা কী লাভ করছে তার অনেকটাই নির্ভর করছে কিভাবে অধ্যয়ন করতে হয় তা তারা জানে কিনা। জাগতিক এবং মণ্ডলীগত স্কুল-শিক্ষা তাদের চিন্তাশক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। (হিতোপদেশ ৫:১, ২) যখন তারা পড়বে তখন আরও ভালভাবে বুঝতে পারবে কোন্ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কোন্টি লিখে রাখা এবং মুখস্থ করা প্রয়োজন।
৭ উদাহরণস্বরূপ, একটি বিদেশী ভাষা শেখা, শুধুমাত্র অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েদের মানসিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটাবে তা নয়, কিন্তু যিহোবার সংগঠনে তাদের আরও উপকারী করে তুলবে। ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির কোন কোন শাখায়, বহু যুবক ভাইরা ভালভাবে ইংরাজি বলতে ও পড়তে পারাকে সুবিধাজনক বলে দেখেছে। এছাড়াও, প্রত্যেক খ্রীষ্টীয় পরিচারকের তার মাতৃভাষায় সুবক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। রাজ্যের সুসমাচার স্পষ্ট, ব্যাকরণের দিক দিয়ে নির্ভুল ভাবে অভিব্যক্ত হওয়ার যোগ্য। বাস্তবে দেখা যায়, যে বহু ছেলেমেয়ে স্কুল শেষ করার পরেও সঠিকভাবে লিখতে ও বলতে আর এমনকি সহজতম অঙ্ক করতেও অসুবিধা বোধ করে; আর ইতিহাস ও ভূগোল সম্বন্ধে তাদের অস্পষ্ট জ্ঞান আছে।
যথেষ্ট শিক্ষা
৮. জাগতিক শিক্ষা এবং একজন ব্যক্তির নিজেকে ভরণপোষণ করার ক্ষমতার সঙ্গে কোন্ শাস্ত্রগুলির সম্পর্ক আছে?
৮ সুতরাং, জাগতিক শিক্ষা সম্বন্ধে খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিদের মনোভাব বিবেচনা করে দেখার এখনই উপযুক্ত সময়। এই বিষয়ের সঙ্গে বাইবেলের কোন্ নীতির সম্পর্ক আছে? প্রথমত, অধিকাংশ দেশে “কৈসরের” প্রতি যথার্থ বাধ্যতা দেখাতে হলে পিতামাতাদের তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হয়। (মার্ক ১২:১৭; তীত ৩:১) অল্পবয়স্ক সাক্ষীদের উচিৎ, তাদের স্কুলের পড়া সম্বন্ধে কলসীয় ৩:২৩ পদ মনে রাখা, যেখানে বলা হয়েছে: “যাহা কিছু কর, প্রাণের সহিত কার্য্য কর, মনুষ্যের কর্ম্ম নয়, কিন্তু প্রভুরই কর্ম্ম বলিয়া কর।” একটি দ্বিতীয় নীতি যার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে তা হল যে পূর্ণ-সময়ের অগ্রগামী পরিচারক হলেও, একজন খ্রীষ্টীয় ব্যক্তির নিজের ভরণপোষণ করার সামর্থ থাকা উচিৎ। (২ থিষলনীকীয় ৩:১০-১২) যদি বিবাহিত হয়, তাহলে একজন ব্যক্তির, তার স্ত্রী এবং যদি তাদের ছেলেমেয়ে থাকে, তাদেরও ভালভাবে দেখাশোনা করার ক্ষমতা থাকা চাই, তার সঙ্গে যাদের প্রয়োজন আছে এবং স্থানীয় ও বিশ্বব্যাপী প্রচার কাজের সাহায্যার্থে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ারও সংস্থান থাকা উচিৎ।—ইফিষীয় ৪:২৮; ১ তীমথিয় ৫:৮.
৯, ১০. (ক) কোন্ প্রচলিত রীতি বহু দেশে দেখা যাচ্ছে? (খ) একজন অগ্রগামী পরিচারক ভাল উপার্জন বলতে কী বোঝেন?
৯ এই নীতিগুলির প্রতি সম্মান দেখাতে এবং খ্রীষ্টীয় দায়িত্ব পালন করতে একজন অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টীয় কতটা শিক্ষা গ্রহণ করবে? বিভিন্ন দেশে এর পার্থক্য আছে। যাইহোক, বহু দেশে দেখা যাচ্ছে যে সাধারণত কয়েক বছর আগে যথেষ্ট পরিমাণ উপার্জনের জন্য শিক্ষার যে মান প্রয়োজন হত, এখন তার থেকে আরও বেশী প্রয়োজন হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখাগুলি থেকে পাওয়া রিপোর্ট ইঙ্গিত করে যে বহু দেশে আইনত প্রয়োজনীয় মাত্রা অবধি পড়াশোনা করে অথবা কিছু দেশে এমনকি মাধ্যমিক অথবা হাই স্কুল শেষ করার পরেও ভাল উপার্জনসহ কাজ পাওয়া দুষ্কর।
১০ “ভাল উপার্জনের” অর্থ কী? এর মানে খুবই উচ্চ বেতনসহ কাজ নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ওয়েবস্টারস্ ডিকশনারী “ভাল” শব্দের ব্যাখ্যা করে “পর্য্যাপ্ত-পরিমাণ, সন্তোষজনক” হিসাবে। উদাহরণস্বরূপ, সুসমাচারের অগ্রগামী পরিচারকদের ক্ষেত্রে “পর্য্যাপ্ত-পরিমাণ” কাকে বলা যায়? তাদের সাধারণত একটি আংশিক-সময়ের কাজের প্রয়োজন হয় যাতে তাদের ভাইদের অথবা তাদের পরিবারের উপরে তারা যেন “ভারস্বরূপ” না হয়। (১ থিষলনীকীয় ২:৯) তারা যা উপার্জন করে তাকে “পর্য্যাপ্ত-পরিমাণ,” অথবা “সন্তোষজনক” বলা যায় যদি তারা খ্রীষ্টীয় পরিচর্য্যার জন্য যথেষ্ট সময় এবং শক্তি রেখেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে।
১১. কেন কিছু যুবক-যুবতী অগ্রগামীর কাজ ছেড়ে দিয়েছেন, আর কী প্রশ্ন করা যায়?
১১ বর্তমানে প্রায়ই কী পরিস্থিতি দেখা যায়? কিছু দেশ থেকে জানানো হয়েছে যে বহু অল্পবয়স্ক যুবকেরা সদুদ্দেশ্য নিয়ে ন্যুনতম প্রয়োজনীয় সীমা পর্যন্ত পড়াশোনা করে অগ্রগামীর কাজ করার জন্য স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। কোন কারিগরী শিল্প অথবা জাগতিক কোন বৃত্তির যোগ্যতা তাদের নেই। তাদের পিতামাতা তাদের সাহায্য না করলে তাদের আংশিক-সময়ের কাজ খুঁজতে হয়। জীবিকার্জনের জন্য কয়েকজনকে দীর্ঘ সময়ের কাজ গ্রহণ করতে হয়েছে। ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা অগ্রগামীর পরিচর্য্যা-কাজ ছেড়ে দিয়েছে। এইরকম ব্যক্তিরা নিজেদের সংস্থান করতে এবং অগ্রগামীর কাজে ফিরে আসার জন্য কী করতে পারে?
শিক্ষা সম্বন্ধে ভারসাম্যপূর্ণ মনোভাব
১২. (ক) শিক্ষা সম্বন্ধে, কোন্ দুটি চরম দৃষ্টিভঙ্গি খ্রীষ্টীয়রা এড়িয়ে চলবেন? (খ) যিহোবার উৎসর্গীকৃত সেবক এবং তাদের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে, শিক্ষা কোন্ উদ্দেশ্য সাধন করবে?
১২ শিক্ষার প্রতি এক ভারসাম্যপূর্ণ মনোভাব সাহায্য করতে পারে। জগতের বহু যুবক-যুবতীদের জন্য, শিক্ষা মর্যাদার একটি প্রতীক, যা তাদের সমাজে উন্নতির সিঁড়ি ভেঙে উঠতে সাহায্য করবে, যা একটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ, বস্তুবাদী জীবনধারার চাবিকাঠি। অন্যদের জন্য শিক্ষাগ্রহণ একটি নৈমিত্তিক কাজ যা যত শীঘ্র সবে শেষ করে ফেলা ভাল। সত্য খ্রীষ্টীয়দের জন্য এই দুটি দৃষ্টিভঙ্গির কোনটিই উপযুক্ত নয়। তাহলে, “ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে” কী বলা যেতে পারে? খ্রীষ্টীয়দের উচিৎ শিক্ষাকে একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ হিসাবে দেখা। এই শেষকালে, তাদের উদ্দেশ্য যত বেশী এবং যতটা কার্যকারীভাবে সবে, যিহোবার সেবা করা। যদি, তারা যে দেশে বাস করে, সেখানে ন্যুনতম অথবা এমনকি হাই স্কুল শিক্ষাও অগ্রগামী হিসাবে নিজেদের সংস্থান করার জন্য শুধুমাত্র অপর্যাপ্ত আয়ের একটি কাজ তাদের দেয়, তাহলে অতিরিক্ত শিক্ষা অথবা প্রশিক্ষণের কথা চিন্তা করা যেতে পারে। পূর্ণ-সময় পরিচর্য্যার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তা করা উচিৎ।
১৩. (ক) পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করেও, কিভাবে ফিলিপাইনস্-এ একজন ভগ্নী অগ্রগামীর কাজ বজায় রাখতে পেরেছেন? (খ) কোন্ সাবধানবাণী সময়োপযোগী?
১৩ অনেকে কিছু প্রশিক্ষণ নিয়েছে যা তাদের সামনে এমন কাজের সুযোগ নিয়ে এসেছে যার জন্যে তারা পূর্ণ-সময় পরিচর্য্যায় অংশ নিতে অথবা পুনরায় শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। ফিলিপাইনস্-এ একজন ভগ্নী পরিবারের অন্নসংস্থানকারী ছিলেন, কিন্তু তিনি অগ্রগামীর কাজ করতে চান। সেই শাখা বিবরণ দেয়: “তিনি তা করতে পারেন কারণ তিনি একজন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকারী অ্যাকাউন্টেন্ট হিসাবে যোগ্য হওয়ার জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা লাভ করেন।” সেই একই শাখার বিবরণ জানায়: “আমাদের দেশে অনেকে আছে যারা পড়ছে আর একই সময়ে অগ্রগামীর কাজ করার জন্য সুবিধা করে নিয়েছে। সাধারণত তারা আরও ভাল প্রকাশক হয়ে ওঠে কারণ তারা অধ্যবসায়ী, অবশ্য যদি তারা জাগতিক প্রতিষ্ঠালাভের আশায় অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হয়ে ওঠে।” এই শেষের উক্তিটি আমাদের চিন্তার কারণ হওয়া উচিৎ। যেখানে প্রয়োজন সেখানে অতিরিক্ত স্কুল-শিক্ষার উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া অথবা তা জাগতিক উদ্দেশ্যে পরিণত হওয়া উচিৎ নয়।
১৪, ১৫. (ক) শিক্ষা সম্বন্ধে কেন কোন বাঁধাধরা নিয়ম স্থাপন করা উচিৎ নয়? (খ) কোন্ জাগতিক শিক্ষা কিছু দায়িত্বসম্পন্ন ভাইরা পেয়েছেন, কিন্তু কী সেই অভাব পূর্ণ করেছে?
১৪ কিছু দেশে, মাধ্যমিক স্কুলে কোন পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যা গ্র্যাজুয়েশনের সময় একজন যুবক খ্রীষ্টীয়কে কোন ব্যবসা অথবা কাজের জন্য প্রস্তুত করে দেয়। এমনকি যেখানে এই ব্যবস্থা নেই, সেখানেও উদ্যোগী যুবকরা প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও আংশিক-সময়ের কাজ খুঁজে পেতে সক্ষম হয় যার ফলে অগ্রগামী হওয়ার জন্য তারা যথেষ্ট উপার্জন করে। সুতরাং অতিরিক্ত শিক্ষার পক্ষে অথবা বিপক্ষে কোন বাঁধা-ধরা নিয়ম স্থাপন করা উচিৎ নয়।
১৫ সংগঠনের প্রধান দপ্তরে অথবা যে কোন একটি শাখায় যারা বর্তমানে ভ্রমণকারী অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন তাদের মধ্যে অনেকেই শুধুমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছেন। তারা বিশ্বস্ত অগ্রগামী ছিলেন, শিক্ষা নেওয়া কখনও বন্ধ করেননি, প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন, এবং আরও অধিক দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের কোন অনুশোচনা নেই। অপরপক্ষে, তাদের কিছু সমসাময়িক ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা বেছে নিয়েছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে, বিশ্বাস-বিধ্বংসী দর্শনশাস্ত্র এবং “জগতের জ্ঞানের” দ্বারা অভিভূত হয়ে পড়েছে।—১ করিন্থীয় ১:১৯-২১; ৩:১৯, ২০; কলসীয় ২:৮.
মূল্য হিসাব করা
১৬. (ক) আরও শিক্ষা বাঞ্ছনীয় কিনা, সেই সম্বন্ধে কে নির্ণয় করবে, এবং কী বিষয় সর্বাগ্রে মনে রাখা উচিৎ? (খ) কী বিবেচনা করা উচিৎ?
১৬ কে সিদ্ধান্ত নেবে যে একজন অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টীয়ের আরও শিক্ষা অথবা প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা? এইখানে বাইবেলের মস্তক-ব্যবস্থা নীতির প্রয়োগের প্রশ্ন ওঠে। (১ করিন্থীয় ১১:৩; ইফিষীয় ৬:১) এর ভিত্তিতে পিতামাতাদের উচিৎ কোন পেশাগত বৃত্তি অথবা কাজ বেছে নিতে এবং সেই জন্য কতটা শিক্ষা প্রয়োজন হবে, সেই বিষয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের নির্দেশ দেওয়া। বহু দেশে শিক্ষা ও কাজ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রথম দিকেই। এই সময়েই খ্রীষ্টীয় পিতামাতা এবং যুবক-যুবতীদের উচিৎ রাজ্যের কাজকে প্রথম স্থানে রেখে, সঠিক নির্ণয় করার জন্য যিহোবার নির্দেশ অন্বেষণ করা। যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন ধরনের প্রবণতা এবং স্বাভাবিক ক্ষমতা আছে। বিচক্ষণ পিতামাতা এই বিষয়টি মনে রাখেন। সমস্ত সৎ-কাজই সম্মানজনক, তা অফিসে কাজ অথবা শ্রমিকের কাজই হোক। জগতে যদিও অফিসের কাজকে সম্মান দেওয়া হয় এবং নিজের হাতে পরিশ্রম করাকে অবজ্ঞা করা হয়, বাইবেল অবশ্যই তা করে না। (প্রেরিত ১৮:৩) সুতরাং পিতামাতা এবং অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টীয়রা যখন যত্ন ও প্রার্থনাসহকারে, অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পক্ষে অথবা বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নেন, তখন মণ্ডলীর অন্যদের উচিৎ নয় তাদের সমালোচনা করা।
১৭. কিছু খ্রীষ্টীয় পিতামাতা তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য কোন্ বিষয় বেছে নেন?
১৭ যদি খ্রীষ্টীয় পিতামাতারা তাদের ছেলেমেয়েদের হাই স্কুলের পরেও পড়াবার সিদ্ধান্ত দায়িত্বপূর্ণভাবে নিয়ে থাকেন, সেটি তাদের অধিকার। এই শিক্ষার সময় নির্ভর করবে যে পেশা অথবা কাজ বেছে নেওয়া হয়েছে তার উপর। আর্থিক কারণের জন্য এবং তাদের ছেলেমেয়েরা যাতে যত শীঘ্র সবে পূর্ণ-সময় পরিচর্য্যার কাজ করতে পারে সেই জন্য, বহু খ্রীষ্টীয় পিতামাতা তাদের জন্য অল্প সময়ের কোন শিল্প অথবা যন্ত্রবিদ্যাসংক্রান্ত স্কুলে শিক্ষা লাভ করা বেছে নিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদের কোন পেশায় শিক্ষানবিশ হয়ে থাকতে হয়েছে কিন্তু সর্বদা সারা জীবন যিহোবার সেবা করা তাদের লক্ষ্য ছিল।
১৮. যদি অতিরিক্ত শিক্ষাক্রম নেওয়া হয়, তাহলে কী মনে রাখা উচিৎ?
১৮ যদি অতিরিক্ত পড়াশোনা করতে হয়, তাহলে উদ্দেশ্য অবশ্যই একজন বিদ্যান হিসাবে নাম অথবা একটি গৌরবময় জাগতিক কর্মজীবন অর্জন করা নয়। সতর্কভাবে কোন্ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হবে তা বেছে নেওয়া উচিৎ। এই পত্রিকাতে উচ্চ-শিক্ষার বিপদ সম্বন্ধে জোর দেওয়া হয়েছে, আর সঙ্গত কারণেই তা করা হয়েছে যেহেতু যে উচ্চশিক্ষা প্রচলিত রয়েছে তার অনেকটাই বাইবেলের “নিরাময় শিক্ষার” বিরোধীতা করে। (তীত ২:১; ১ তীমথিয় ৬:২০, ২১) আরও, ১৯৬০-এর দশক থেকে বহু উচ্চশিক্ষার স্কুলই দৌরাত্ম্য এবং অনৈতিকতার প্রসার-স্থান হয়ে উঠেছে। “বিশ্বস্ত এবং বুদ্ধিমান দাসশ্রেণী” এইরকম পরিবেশের মধ্যে যাওয়ার প্রতি দৃঢ়ভাবে অসম্মতি জানিয়েছেন। (মথি ২৪:১২, ৪৫) যাইহোক, স্বীকার করতেই হবে যে যুবক-যুবতীদের আজ হাই স্কুলে, কারিগরি-শিক্ষা কলেজে এবং এমনকি কর্মস্থলেও এই একই বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।—১ যোহন ৫:১৯.a
১৯. (ক) যারা অতিরিক্ত শিক্ষাক্রম নিতে চান তাদের কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ? (খ) কিভাবে কয়েকজন তাদের শিক্ষার সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন?
১৯ যদি অতিরিক্ত শিক্ষার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে যদি সবে হয়, একজন অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টীয়ের উচিৎ বাড়িতে থেকে তা নেওয়া যাতে খ্রীষ্টীয় অধ্যয়নের সাধারণ অভ্যাস, সভায় উপস্থিত থাকা, এবং প্রচার কাজ বজায় রাখা যায়। প্রথম থেকেই বাইবেলের নীতি সম্বন্ধে যথার্থ মনোভাব রাখা উচিৎ। মনে রাখা উচিৎ যে দানিয়েল ও তাঁর তিন জন ইব্রীয় সঙ্গীরা যখন বাবিলনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তখন তারা নির্বাসনে বন্দী হিসাবে ছিলেন, কিন্তু তবুও সর্বসময়ে তাঁরা তাদের বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিলেন। (দানিয়েল, অধ্যায় ১) আত্মিক আগ্রহকে প্রথম স্থানে রেখে, বহু দেশে অল্পবয়স্ক সাক্ষীরা অ্যাকাউন্টেন্ট, কারিগরি কর্মী, শিক্ষক, অনুবাদক, দোভাষী, অথবা অন্যান্য আংশিক-সময়ের কাজের জন্য প্রস্তুত হতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, যাতে তাদের মুখ্য কাজ, অগ্রগামী হিসাবে পরিচর্য্যার জন্য তাদের যথেষ্ট সংস্থান থাকে। (মথি ৬:৩৩) এদের মধ্যে বহু যুবক পরে ভ্রমণকারী অধ্যক্ষ অথবা বেথেলে স্বেচ্ছাসেবক হয়েছেন।
একটি একতাবদ্ধ, শিক্ষিত জাতি
২০. যিহোবার ব্যক্তিদের মধ্যে কোন্ জাগতিক বৈষম্যতার কোন স্থান নেই?
২০ যিহোবার লোকেদের মধ্যে, একজনের কাজ অফিসে, শ্রমিক হিসাবে, কৃষিকাজ, অথবা চাকুরীই হোক, সকলকেই বাইবেলের উত্তম ছাত্র এবং যোগ্য শিক্ষক হতে হবে। জগতে দৈহিক পরিশ্রমকারী এবং অফিস কর্মীদের মধ্যে যে বৈষম্যতা করা হয় তা পড়া, অধ্যয়ন করা, আর শিক্ষা দেওয়ায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দূরীভূত হয়। এই জন্য, বিশেষত বেথেল গৃহে এবং ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির নির্মাণ-প্রকল্প স্থলে, যেখানে আত্মিক গুণাবলী অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সকলের কাছে কাম্য, সেখানে একতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা দেখা যায়। এখানে অভিজ্ঞ অফিস কর্মীরা দক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আনন্দ সহকারে কাজ করে, সকলে একে অন্যের প্রতি উপলব্ধিপূর্ণ প্রেম প্রদর্শন করে।—যোহন ১৩:৩৪, ৩৫; ফিলিপীয় ২:১-৪.
২১. অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টীয়দের লক্ষ্য কী হওয়া উচিৎ?
২১ পিতামাতারা, আপনাদের ছেলেমেয়েদের নতুন জগৎ-ব্যবস্থার উপকারী সদস্য হওয়ার লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করুন! খ্রীষ্টীয় যুবক-যুবতীরা, আপনাদের শিক্ষার সুযোগকে যিহোবার পরিচর্য্যা করায় আরও ভালভাবে কার্যকারী হওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার ব্যবস্থা হিসাবে ব্যবহার করুন! শিক্ষাগ্রাহী হিসাবে, আপনারা যেন সকলে ঐশিক সমাজের সুসজ্জিত সদস্য প্রমাণিত হন, এখন এবং ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত অনন্তকালীন “নূতন পৃথিবী”-তেও।—২ পিতর ৩:১৩; যিশাইয় ৫০:৪; ৫৪:১৩; ১ করিন্থীয় ২:১৩. (w92 11/1)
[পাদটীকাগুলো]
a সেপ্টেম্বর ১, ১৯৭৫ প্রহরীদুর্গের পৃষ্ঠা ৫৪২-৪ দেখুন।
আপনার স্মরণশক্তি পরীক্ষা করুন
▫ সত্য খ্রীষ্টীয়েরা কেন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী?
▫ সত্য খ্রীষ্টীয়েরা শিক্ষা সম্বন্ধে কোন্ চরম দৃষ্টিভঙ্গি এড়িয়ে চলবে?
▫ অতিরিক্ত শিক্ষার সঙ্গে জড়িত কোন্ বিপদগুলি বিবেচনা করা উচিৎ, এবং কী সাবধানতা নেওয়া উচিৎ?
▫ যিহোবার ব্যক্তিদের মধ্যে কোন্ জাগতিক বৈষম্যতার কোন স্থান নেই?
[Pictures on page 9]
অধ্যবসায় সহকারে পড়াশোনা করে, অল্পবয়স্ক খ্রীষ্টীয়রা নতুন জগৎ-ব্যবস্থার আরও উপকারী সদস্য হয়ে উঠতে পারেন
[Pictures on page 12]
যদি আরও পড়াশোনা করা বেছে নেওয়া হয়, তাহলে তা আরও ভালভাবে যিহোবাকে সেবা করার ইচ্ছার জন্য নেওয়া উচিৎ