ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৫-৩০
  • জাগতিক স্বপ্নবিলাস পরিত্যাগ করুন, রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করুন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • জাগতিক স্বপ্নবিলাস পরিত্যাগ করুন, রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করুন
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • সাবধানকারী উদাহরণসকল
  • জাগতিক স্বপ্নবিলাসিতাকে পরিহার করুন
  • রাজ্যের বাস্তবতা
  • রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুধাবন করা
  • রাজ্যের অনুসরণরত থাকুন
  • আপনার উন্নতির পথে আসা বাধাগুলোকে কাটিয়ে উঠুন!
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ঈশ্বরের রাজ্য শাসন করে
    জ্ঞান যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে
  • ‘প্রথমে রাজ্যের বিষয়ে চেষ্টা কর’
    একমাত্র সত্য ঈশ্বরের উপাসনা করুন
  • ঈশ্বরের রাজ্য—আপনি কি এর অর্থ বুঝতে পারছেন?
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৫-৩০

জাগতিক স্বপ্নবিলাস পরিত্যাগ করুন, রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করুন

“প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।”—মথি ৬:৩৩.

১. ঈশ্বরের বাক্য রূপক হৃদয় সম্বন্ধে কী সাবধানবাণী দেয়, এবং একটি প্রধান উপায় কী যার দ্বারা এটি আমাদের প্রতারণা করে?

“সমস্ত রক্ষণীয় অপেক্ষা তোমার হৃদয় রক্ষা কর কেননা তাহা হইতে জীবনের উদ্গম হয়।” (হিতোপদেশ ৪:২৩) জ্ঞানী রাজা সলোমন কেন এই প্রয়োজনীয় সাবধানবাণী দেন? কারণ “অন্তঃকরণ সর্ব্বপেক্ষা বঞ্চক, তাহার রোগ অপ্রতিকার্য্য।” (যিরমিয় ১৭:৯) একটি প্রধান উপায়ে আমাদের রূপক হৃদয় আমাদের প্রবঞ্চনা করতে পারে তা হল জাগতিক স্বপ্নবিলাসের দ্বারা। কিন্তু স্বপ্নবিলাস কী? এইগুলি হল অবাস্তব কল্পনা, দিবাস্বপ্ন দেখা, অলসভাবে চিন্তাকে বিচরণ করতে দেওয়া। যখন এই দিবাস্বপ্ন জাগতিক স্বপ্নবিলাসে পরিণত হয়, তখন কেবল তা সময়ের অপচয় নয় কিন্তু খুব ক্ষতিকারকও হয়। সেইজন্য, আমাদের সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা উচিৎ। বাস্তবে, যদি আমরা অধার্মিকতাকে ঘৃণা করি যেমন যীশু করেছিলেন, তাহলে জাগতিক স্বপ্নবিলাসে রত হওয়া থেকে আমরা আমাদের হৃদয়কে রক্ষা করব ।—ইব্রীয় ১:৮, ৯.

২. জাগতিক স্বপ্নবিলাস কী, এবং কেন আমরা তা পরিত্যাগ করব?

২ কিন্তু জাগতিক স্বপ্নবিলাস কী? তা হল শয়তানের শক্তির কবলিত এই জগতের বৈশিষ্ট্যমূলক কল্পনাগুলি। এই সম্বন্ধে প্রেরিত যোহন লেখেন: “কেননা জগতে যে কিছু আছে—মাংসের অভিলাষ, চক্ষুর অভিলাষ, ও জীবিকার দর্প, এ সকল পিতা হইতে নয়, কিন্তু জগৎ হইতে হইয়াছে।” (১ যোহন ২:১৬; ৫:১৯) কেন খ্রীষ্টানদের জাগতিক স্বপ্নবিলাস পরিত্যাগ করতে হবে? কারণ এইরূপ স্বপ্নবিলাস মনে ও হৃদয়ে স্বার্থপরতা উৎপন্ন করে। যা ভুল তা করা সম্বন্ধে দিবাস্বপ্ন দেখা, কোন ব্যক্তি বাস্তবিকই যা করবে প্রকৃতপক্ষে মনের মধ্যে তারই এক মহড়া হতে পারে। শিষ্য যাকোব আমাদের সাবধান করেন: “কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কামনা দ্বারা আকর্ষিত ও প্ররোচিত হইয়া পরীক্ষিত হয়। পরে কামনা সগর্ভা হইয়া পাপ প্রসব করে, এবং পাপ পরিপক্ক হইয়া মৃত্যুকে জন্ম দেয়।”—যাকোব ১:১৪, ১৫.

সাবধানকারী উদাহরণসকল

৩. স্বার্থপর স্বপ্নবিলাস কত ক্ষতিকর হতে পারে সেই সম্বন্ধে সাবধানকারী প্রধানতম উদাহরণটি কার?

৩ আসুন আমরা সেই উদাহরণ সকল পরীক্ষা করি যা প্রদর্শন করে যে কেন আমাদের জাগতিক স্বপ্নবিলাস পরিত্যাগ করা উচিৎ। শয়তান দিয়াবলের যে ঘটনা তা সব থেকে উত্তম উদাহরণ স্থাপন করে যে স্বার্থপর স্বপ্নবিলাসে রত হলে কী ক্ষতি হতে পারে। সে তাঁর মনে আত্ম-শ্লাঘা গড়ে উঠতে দেয় এবং সেই পর্য্যায়ে পৌঁছাতে দেয় যে বিশ্বের সর্বমহান কর্তা হিসাবে যিহোবার যে অদ্বিতীয় স্থান তাকে হিংসা করে এবং নিজে উপাসনা পেতে চায়। (লূক ৪:৫-৮) এক অবাস্তব স্বপ্নবিলাস? অবশ্যই তাই ছিল! আর প্রশ্নাতীত ভাবে তা প্রমাণিত হবে যখন শয়তানকে সহস্র বৎসরের জন্য বদ্ধ করা হবে এবং বিশেষভাবে যখন সে নিক্ষিপ্ত হবে “অগ্নি ও গন্ধকের হ্রদে,” যা হল দ্বিতীয় মৃত্যু।—প্রকাশিত বাক্য ২০:১-৩, ১০.

৪. শয়তান কিভাবে হবাকে প্রতারণা করে?

৪ প্রথম নারী হবার ঘটনায়, আমাদের জন্য আরও একটি সাবধানকারী উদাহরণ আছে। শয়তান তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবে পরিণত করার প্রচেষ্টায়, হবাকে প্রবঞ্চিত করে তার মনে এই কল্পনা দিয়ে যে সে যদি সেই নিষিদ্ধ ফল খায়, তাহলে সে মরবে না কিন্তু ঈশ্বরের তুল্য হবে, এবং ভাল মন্দ বিচার করার শক্তি প্রাপ্ত হবে। সেই কল্পনা কি অবাস্তব, স্বার্থপর ছিল? অবশ্যই তা ছিল, যা আমরা দেখতে পাই বিচারের সময় হবা ও তার স্বামী আদমকে যিহোবার দেওয়া দণ্ডাদেশ দ্বারা। যার ফলস্বরূপ তারা তাদের জন্য ও তাদের সমস্ত অসিদ্ধ বংশধরদের জন্য পরমদেশে জীবন ভোগ করার অধিকার হারায়।—আদিপুস্তক ৩:১-১৯; রোমীয় ৫:১২.

৫. ঈশ্বরের কোন কোন স্বর্গীয় দূতপুত্রদের কিভাবে পতন আসে, আর তার ফল তাদের জন্য কী হয়?

৫ আমাদের কাছে সাবধানকারী উদাহরণস্বরূপ ঈশ্বরের কোন কোন দূতপুত্রদের উদাহরণও আছে। (আদিপুস্তক ৬:১-৪) যিহোবার স্বর্গীয় সান্নিধ্যে যে আশীর্বাদ তারা উপভোগ করছিল তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে, তারা কল্পনা করতে থাকে পৃথিবীতে নারীদের সম্পর্কে এবং তাদের সাথে যৌন মিলন কত মধুর হবে সেই সম্বন্ধে। এই স্বপ্নবিলাসিতা অনুযায়ী কাজ করার দরুন, সেই অবাধ্য দূতেরা এখন টার্টারাসে আত্মিক অন্ধকারে বদ্ধ আছে, এবং যীশু খ্রীষ্টের হাজার বৎসরের রাজত্বকালের শেষে ধ্বংসের অপেক্ষা করছে।—২ পিতর ২:৪; যিহূদা ৬; প্রকাশিতবাক্য ২০:১০.

জাগতিক স্বপ্নবিলাসিতাকে পরিহার করুন

৬, ৭. ধনসম্পদ সম্বন্ধে জাগতিক স্বপ্নবিলাস কেন ক্ষতিকারক ও প্রতারণাকারী?

৬ আসুন আমরা এখন একটি সব থেকে সাধারণ ও বিপজ্জনক স্বপ্নবিলাসিতা বিবেচনা করি যা শয়তান উৎসাহিত করে থাকে। সমস্ত ধরনের যে মাধ্যমগুলি আছে, তার দ্বারা আমাদের প্রলুব্ধ করা হয় জাগতিক স্বপ্নবিলাসে লিপ্ত হওয়ার জন্য। আর তা প্রায়ই করা হয় ধনসম্পদের বাসনা জাগিয়ে। ধনসম্পদ থাকার মধ্যে কোন দোষ নেই। ধার্মিক অব্রাহাম, ইয়োব, এবং রাজা দায়ূদ খুব ধনী ছিলেন, কিন্তু তাঁরা ধনসম্পদের জন্য কখনও আকুল আকাঙ্ক্ষা করেননি। বস্তুবাদী কল্পনাবিলাসিতা মানুষকে পরিচালিত করে অনেক বৎসর ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে, যাতে তারা ধনসম্পদ অর্জন করতে পারে। আর এই সকল কল্পনা তাদের প্রশ্রয় দেয় সব রকমের জুয়া খেলতে, যেমন ঘোড়ার উপর বাজি ধরা ও লটারির টিকিট কেনা। আসুন আমরা যেন ধনসম্পদের বিষয় কোন কল্পনাকে স্থান না দিই। যদি আমরা মনে করি যে জাগতিক ধনসম্পদ আমাদের নিরাপত্তা দেবে, তাহলে এই বাস্তব উপদেশটি বিবেচনা করুন: “ক্রোধের দিনে ধন উপকার করে না; কিন্তু ধার্ম্মিকতা মৃত্যু হইতে রক্ষা করে।” (হিতোপদেশ ১১:৪) অবশ্যই, জাগতিক ধনসম্পদ “মহাক্লেশে” রক্ষা পেতে কোন সাহায্যে আসবে না।—মথি ২৪:২১; প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১৪.

৭ জাগতিক ধনসম্পদ সহজেই আমাদের প্রতারণা করতে পারে। সেই কারণে আমাদের বলা হয়েছে: “ধনবানের ধনই তাহার দৃঢ় নগর, তাহার বোধে তাহা উচ্চ প্রাচীর।” (হিতোপদেশ ১৮:১১) হ্যাঁ, কেবল “তাহার বোধে”, কারণ জাগতিক ধনসম্পদ অল্পই নিরাপত্তা দেয় যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় যেমন মুদ্রাষ্ফীতি, অর্থনৈতিক পতন, রাজনৈতিক বিপ্লব, অথবা মৃত্যু আনয়নকারী রোগব্যাধির সময়। যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সাবধান করেন জাগতিক ধনসম্পদের উপর আমাদের আস্থা রাখার মূর্খতা সম্বন্ধে। (লূক ১২:১৩-২১) প্রেরিত পৌলের সাবধানকারী বাক্যগুলিও আমাদের কাছে আছে: “কেননা ধনাসক্তি সকল মন্দের একটা মূল; তাহাতে রত হওয়াতে কতক লোক বিশ্বাস হইতে বিপথগামী হইয়াছে, এবং অনেক যাতনারূপ কন্টকে আপনারা আপনাদিগকে বিদ্ধ করিয়াছে।”—১ তীমথিয় ৬:১০.

৮. যৌনসংক্রান্ত জাগতিক স্বপ্নবিলাস কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে, আর এটি কী বিপদ নিয়ে আসে?

৮ অন্য স্বপ্নবিলাস হচ্ছে অবৈধ যৌন সম্পর্ক সম্বন্ধে। কতদূর অবধি পাপী মনুষ্যস্বভাব এই যৌন স্বপ্নবিলাসে রত হতে চায় তা দেখা যায় টেলিফোনে কিছু সংখ্যা ডায়াল করে যে মৌখিক যৌন অশ্লীলতার বার্তা শুনতে পাওয়া যায় তার জনপ্রিয়তার দ্বারা। যুক্তরাষ্ট্রে, টেলিফোনের মাধ্যমে যৌন অশ্লীলতার বিষয় শোনানো এক সহস্র কোটি ডলারের ব্যবসা। যদি আমরা আমাদের মনকে অবৈধ যৌনসম্পর্কের বিষয় চিন্তা করতে অনুমতি দিই, আমরা কি ভণ্ড হব না, যারা কেবল দেখায় যে তারা বিশুদ্ধ খ্রীষ্টান? আর সেই বিপদ কি নেই যে তা আমাদের অবৈধ মেলামেশাতে পরিচালিত করতে পারে? এইরূপ ঘটেছে এবং তার ফলে খ্রীষ্টীয় মণ্ডলী থেকে কিছু ব্যক্তিকে সমাজচ্যুত করতে হয়েছে কারণ তারা প্রাক-বিবাহ যৌন অপরাধ অথবা ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়েছিল। যীশু যে কথা বলেন মথি ৫:২৭, ২৮ পদে তা দৃষ্টিতে রেখে, যারা নিয়মিতভাবে এইরূপ স্বপ্নবিলাসে রত হয় তারা কি তাদের হৃদয়ে ব্যভিচার করছে না?

৯. কী উত্তম উপদেশ শাস্ত্রে আছে যা আমাদের সাবধান করে জাগতিক স্বপ্নবিলাসের বিরুদ্ধে?

৯ যাতে আমরা আমাদের পাপী হৃদয়ে এইরূপ স্বপ্নবিলাসে রত হওয়ার প্রবণতাকে ব্যর্থ করতে পারি, আমাদের পৌলের সাবধানবাণী স্মনরণে রাখা দরকার: “আর তাঁহার [ঈশ্বরের] সাক্ষাতে কোন সৃষ্ট বস্তু অপ্রকাশিত নয়; কিন্তু তাহার চক্ষুগোচরে সকলই নগ্ন ও অনাবৃত রহিয়াছে, যাঁহার কাছে আমাদিগকে নিকাশ দিতে হইবে।” (ইব্রীয় ৪:১৩) আমরা সব সময় মোশির মত হতে চাইব, যিনি “কারণ যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে যেন দেখিয়াই স্থির থাকিলেন।” (ইব্রীয় ১১:২৭) হ্যাঁ, আমরা যেন নিজেদের বলতে থাকি যে জাগতিক স্বপ্নবিলাস যিহোবাকে অসুখী করে এবং তা কেবল আমাদের ক্ষতি সাধন করতে পারে। আমাদের উদ্বিগ্ন থাকা উচিৎ ঈশ্বরের আত্মার সমস্ত ফলগুলি অনুশীলন করার জন্য, বিশেষ করে আত্মসংযম, কারণ আমরা এই বাস্তবকে এড়াতে পারি না যে আমরা যদি মাংসের উদ্দেশ্যে বুনি তবে, মাংস হইতে ক্ষয়রূপ শস্য পাইব।—গালাতীয় ৫:২২, ২৩; ৬:৭, ৮.

রাজ্যের বাস্তবতা

১০, ১১. (ক) কোন সত্যগুলি সৃষ্টিকর্তার বাস্তবতার পক্ষে যুক্তি দেয়? (খ) কী প্রমাণ আছে যে বাস্তবে বাইবেল ঈশ্বরের বাক্য? (গ) ঈশ্বরের রাজ্যের রাজার বাস্তবতা সম্বন্ধে কী প্রমাণ আছে?

১০ সব থেকে ভাল উপায় জাগতিক স্বপ্নবিলাসকে পরিহার করার হল রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুধাবন করা। রাজ্যের বাস্তবতা যেগুলি ঈশ্বরের দ্বারা নির্মিত হয় তা জাগতিক স্বপ্নবিলাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। ঈশ্বর কী বাস্তব? তাঁর অস্তিত্ব সম্বন্ধে কোন প্রশ্নই উঠে না। দৃশ্য জগৎসৃষ্টি তার প্রমাণ দেয়। (রোমীয় ১:২০) আজ থেকে একশ বৎসরেরও পূর্বে ওয়াচটাওয়ার সোসাইটির দ্বারা প্রকাশিত, দ্যা ডিভাইন প্ল্যান অফ দি এজেস্‌ বইতে যা বলা হয়েছিল আমাদের তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি বলে: “যে কেউ আকাশের দিকে কোন টেলিস্কোপ অথবা সাধারণ চোখ দিয়ে তাকায়, আর সেখানে সৃষ্টির বিশালতা, তার সামঞ্জস্যতা, সৌন্দর্য্য, শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং বৈচিত্র্য লক্ষ্য করে, এবং তা সত্ত্বেও সন্দেহ করে যে এই সকলের সৃষ্টিকর্তা প্রজ্ঞা ও শক্তি উভয়েই তার থেকে প্রভূত মহান কিনা, অথবা যে চিন্তা করতে পারে মুহুর্তের জন্যও যে এরূপ শৃঙ্খলা আকস্মিকভাবে এসেছে, কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই, সে এরূপ বহুল পরিমাণে হয় তার চিন্তাশক্তি হারিয়েছে নয় উপেক্ষা করছে এবং এইরূপ কাউকে সঠিকভাবেই বাইবেল আখ্যা দেয়, যেমন বিবেচনা করা যায় মূর্খ বলে।”—গীতসংহিতা ১৪:১.

১১ রাজ্য সম্বন্ধে আমরা সবকিছু পবিত্র বাইবেল থেকে শিখি। বাইবেল কি বাস্তবে ঈশ্বরের লিখিত বাক্য? নিশ্চিতরূপেই, যা লক্ষ্য করা যেতে পারে এর সমন্বয়তা, বৈজ্ঞানিক সঠিকতা, এবং তার যে শক্তি রয়েছে মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করার এবং বিশেষ করে তার ভাববাণীগুলির পরিপূর্ণতায়।a ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধেই বা কী? তিনি কি সত্যই অস্তিত্বে ছিলেন? সুসমাচারের বিবরণ এবং ঐশিক প্রেরণায় লেখা খ্রীষ্টীয় গ্রীক শাস্ত্রের পত্রগুলি সুস্পষ্টভাবে ও বাক্‌পটুতার সাথে যীশু খ্রীষ্টের ঐতিহাসিক সত্যতা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয়। যীশুর ঐতিহাসিক সত্যতা সম্বন্ধে, আরও সাক্ষ্য পাওয়া যায় যিহূদী তালমুডে, যেখানে একজন ব্যক্তি হিসাবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম সাধারণ শতাব্দীর যিহূদী ও রোমীয় ঐতিহাসিকেরাও তদ্রূপ করেন।

১২, ১৩. কোন্‌ ঘটনাগুলি ঈশ্বরের রাজ্যের বাস্তবতা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয়?

১২ রাজ্যের বাস্তবতা সম্বন্ধেই বা কি বলা যেতে পারে? খ্রীষ্টজগতের দ্বারা এটি বহুলাংশে উপেক্ষিত, যেমন একজন বিশিষ্ট প্রেসবিটেরিয়ানের এই অভিযোগ দেখায়: “অবশ্যই প্রায় তিরিশ বৎসরের বেশী হয়েছে আমি শুনে আসছি একজন পরিচারককে চেষ্টা করতে তার লোকদের শিক্ষা দিতে যে রাজ্যের বাস্তবতা তাদের জন্য কী বোঝাবে।” অথচ, রাজ্যের মাধ্যমে যিহোবার নাম পবিত্রীকৃত করাই হল ঈশ্বরের বাক্যের মূল বিষয়বস্তু। ঈশ্বর নিজেই প্রথম রাজ্যের প্রতিজ্ঞা করেন, বলেন: “আর আমি তোমাতে ও নারীতে, তোমার বংশে ও তাহার বংশে পরস্পর শত্রুতা জন্মাইব; সে তোমার মস্তক চূর্ণ করিবে, এবং তুমি তাহার পাদমূল চূর্ণ করিবে।” (আদিপুস্তক ৩:১৫) রাজ্যের পূর্বাভাস দেওয়া হয় ইস্রায়েল জাতির মাধ্যমে, বিশেষ করে রাজা সলোমনের রাজত্বকালে। (গীতসংহিতা ৭২) আরও, যীশুর প্রচারের প্রধান বিষয় ছিল রাজ্য। (মথি ৪:১৭) তিনি তা তাঁর অনেক দৃষ্টান্তে তুলে ধরেন, যেমন রয়েছে মথি ১৩ অধ্যায়ে। যীশু আমাদের প্রার্থনা করতে বলেন রাজ্য সম্বন্ধে এবং সেই সম্বন্ধে প্রথমে সচেষ্ট হতে বলেন। (মথি ৬:৯, ১০, ৩৩) বাস্তবে, ঈশ্বরের রাজ্যের উল্লেখ গ্রীক শাস্ত্রে প্রায় ১৫০ বারের মত পাওয়া যায়।

১৩ রাজ্য একটি বাস্তব সরকার, যার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আছে, আর তা সকল ন্যায্য চাহিদা পূর্ণ করবে। তার কিছু নিয়মাবলী আছে, যা বাইবেলে পাওয়া যায়। রাজ্য ইতিমধ্যেই অনেক কিছুকে বাস্তবে পরিণত করেছে। এর বিশ্বস্ত প্রজারা আছে—৪০,০০,০০০ অধিক যিহোবার সাক্ষীরা। ২১১টি দেশে তারা ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করছেন, মথি ২৪:১৪ পদের পরিপূর্ণতা হিসাবে। তাদের ১৯৯১ পরিচর্য্যা বৎসরে, তারা ৯৫,১৮,৭০,০২১ ঘন্টা রাজ্যের বার্তা ঘোষণায় ব্যয় করেছেন। এই কাজ প্রকৃত, স্থায়ী ফল উৎপন্ন করছে যেমন বহুসংখ্যকেরা বাইবেলের সত্যের “বিশুদ্ধ ওষ্ঠ” শিখছে।—সফনিয় ৩:৯.

রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুধাবন করা

১৪. কী করে আমরা রাজ্যের বাস্তবতার প্রতি আমাদের উপলব্ধি বোধকে বৃদ্ধি করতে পারি?

১৪ কী করে, তাহলে, আমরা রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে পারি? আমাদের আশাকে অবশ্যই দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর স্থাপন করতে হবে। ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত নতুন জগত যেন আমাদের কাছে বাস্তব হয়। (২ পিতর ৩:১৩) আর আমাদের বিশ্বাস থাকা দরকার ঈশ্বরের সেই প্রতিজ্ঞায় “তিনি তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না।” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৪) আমরা কী করে নিশ্চিত হতে পারি এটা কাল্পনিক কোন কিছু নয়? ঈশ্বরের নির্দ্ধারিত সময় তা সম্পন্ন হবেই, কারণ তাঁর পক্ষে মিথ্যা বলা অসম্ভব। (তীত ১:১, ২; ইব্রীয় ৬:১৮) আমাদের এই প্রতিজ্ঞাগুলির বিষয় ধ্যান করা উচিৎ। ঈশ্বরের নতুন জগতে তাঁর আশীর্বাদ সকল উপভোগ করছি সেই চিত্র দেখা কোন অবাস্তব স্বপ্নবিলাস নয় কিন্তু তা বিশ্বাসের প্রমাণ দেয়। যেমন পৌল এর সঠিক বর্ণনা দেন, “বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি।” (ইব্রীয় ১১:১) আসুন আমরা আমাদের যে বিশ্বাস তাকে দৃঢ় করি নিয়মিতভাবে ঈশ্বরের বাক্য এবং খ্রীষ্টীয় সাহিত্যাদি পড়ার মাধ্যমে যা এটি বুঝতে ও প্রয়োগ করতে সাহায্য করে। আরও যত বেশী সময় আমরা ব্যয় করি অন্যদের রাজ্য সম্বন্ধে বলতে, রীতিমাফিক এবং রীতিবহির্ভূত উপায়ে, তত বেশী আমরা আমাদের বিশ্বাসকে দৃঢ় ও উদ্দীপিত করি।

১৫. খ্রীষ্টীয় পরিচর্য্যা সম্বন্ধে আমাদের কী কর্তব্য আছে?

১৫ আমাদের পরিচর্য্যার মানকে উন্নত করে রাজ্যের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করা আমাদের প্রয়োজন। যেহেতু এখনও অনেক কিছু করার আছে, আমরা কী করে তা করতে পারি? (মথি ৯:৩৭, ৩৮) এই কথা সত্য যে শেখার ব্যাপারে কেউ কখনও বৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা কত বৎসর সাক্ষ্যের কাজে রত আছি তাতে কিছু যায় আসে না, আমরা আরও উন্নতি করতে পারি। ঈশ্বরের বাক্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আরও কার্য্যকারী হয়ে, আমরা অধিক সক্ষম হই রাজা, যীশু খ্রীষ্টের কণ্ঠস্বর অন্যদের শোনাতে সাহায্য করতে। (তুলনা করুন যোহন ১০:১৬.) যখন আমরা বিবেচনা করি যে লোকেদের অনন্ত ভবিষ্যৎ এর সাথে জড়িত, আমরা চাইব আমাদের যে ক্ষেত্র আছে তাতে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে প্রচার করতে যাতে তাদের বারবার সুযোগ দেওয়া যায় যেন তারা দেখাতে পারে যে তারা কোন পক্ষ নিয়েছে, “মেষদের” অথবা “ছাগদের।” (মথি ২৫:৩১-৪৬) অবশ্যই, এর অর্থ হল যারা গৃহে ছিল না তাদের এবং বিশেষভাবে যারা আগ্রহ প্রকাশ করে রাজ্যের সংবাদের প্রতি যত্নপূর্বক তাদের তালিকা রাখা।

রাজ্যের অনুসরণরত থাকুন

১৬. কারা রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছেন, এবং কিভাবে তাঁরা রাজ্যকে “আক্রান্ত” করছেন?

১৬ রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করার জন্য আন্তরিক চেষ্টার প্রয়োজন। অবশিষ্ট যে অভিষিক্ত খ্রীষ্টানেরা আছেন তাদের উদ্দীপনাপূর্ণ উদাহরণ কী আমাদের উৎসাহিত করে না? তাঁরা বহু দশক ধরে রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করে আসছেন। অনুসরণের বিষয়টি যীশু এই কথার মাধ্যমে বর্ণনা করেন: “আর যোহন বাপ্তাইজকের কাল হইতে এখন পর্য্যন্ত স্বর্গ-রাজ্য বলে আক্রান্ত হইতেছে, এবং আক্রমীরা সবলে তাহা অধিকার করিতেছে।” (মথি ১১:১২) এখানে এই ধারণা দেওয়া হচ্ছে না যে শত্রুরা রাজ্যকে অধিকার করে নিচ্ছে। বরং, এটি তাদের কার্য্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত যারা রাজ্যের পথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে রয়েছেন। একজন বাইবেল পণ্ডিত বলেন: “আগত মশীহ রাজ্যের জন্য সেই আগ্রহী, দুর্দমনীয় প্রচেষ্টা ও সংগ্রামকে এইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।” অভিষিক্তগণ কোন চেষ্টার ত্রুটি করেননি রাজ্যকে তাদের নিজের করে নেওয়ার জন্য। একই সক্রিয় চেষ্টার প্রয়োজন “অপর মেষদের” পক্ষে যাতে তারা ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্যের পার্থিব প্রজা হতে পারেন।—যোহন ১০:১৬.

১৭. যারা জাগতিক স্বপ্নবিলাসকে অনুসরণ করে তাদের অংশ কী হবে?

১৭ সত্যই, আমরা সুযোগের এক বিশেষ সময় বাস করছি। যারা জাগতিক স্বপ্নবিলাসে বাস করছে তারা একদিন হঠাৎ জেগে উঠবে এর রূঢ় বাস্তবতার প্রতি। তাদের অংশ ভালভাবে বর্ণিত হয়েছে এই কথাগুলির দ্বারা: “এইরূপ হইবে, যেমন ক্ষুধিত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে, যেন সে ভোজন করিতেছে; কিন্তু সে জাগ্রৎ হয়, আর তাহার প্রাণ শূণ্য; অথবা যেমন পিপাসিত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে, যেন সে পান করিতেছে; কিন্তু সে জাগ্রৎ হয়, আর দেখ, সে দুর্ব্বল, তাহার প্রাণে পিপাসা রহিয়াছে।” (যিশাইয় ২৯:৮) এটি নিশ্চিৎ, যে জগতের স্বপ্নবিলাস কখনও কাউকে তৃপ্ত বা সুখী করবে না।

১৮. রাজ্যের বাস্তবতাকে দৃষ্টিতে রেখে, কী পথ আমাদের অনুসরণ করা উচিৎ, কী আশা সম্মুখে রেখে?

১৮ যিহোবার রাজ্য বাস্তব। তা সক্রিয়ভাবে শাসন করছে, যেখানে এই দুষ্ট পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই, অনন্ত ধ্বংস ভোগ করতে চলেছে। সেইকারণে, পৌলের উপদেশ আপনি হৃদয়ে গ্রহণ করতে পারেন: “অতএব আইস, আমরা অন্য সকলের ন্যায় নিদ্রা না যাই, বরং জাগিয়া থাকি ও মিতাচারী হই।” (১ থিষলনীকীয় ৫:৬) আমরা যেন আমাদের হৃদয় ও মনকে রাজ্যের বাস্তবতার প্রতি কেন্দ্রীভূত রাখি এবং এইরূপে অনন্ত আশীর্বাদ সকল উপভোগ করি। আর আমাদের অংশ যেন হয় এই শোনার যে রাজ্যের রাজা আমাদের বলছেন “আইস, আমার পিতার আশীর্বাদ-পাত্রেরা, জগতের পত্তনাবধি যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা গিয়াছে, তাহার অধিকারী হও।”—মথি ২৫:৩৪. (w92 7/15)

[পাদটীকাগুলো]

a দেখুন দ্যা বাইবেল—গড্‌স্‌ ওয়ার্ড অর ম্যানস্‌? ওয়াচটাওয়ার বাইবেল এণ্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি অফ নিউ ইয়র্ক, আই এন সি. দ্বারা প্রকাশিত।

আপনি কিভাবে উত্তর দেবেন?

▫ জাগতিক স্বপ্নবিলাস কী এবং কেন আমরা তা পরিত্যাগ করতে চাই?

▫ কী উদাহরণ সকল দেখায় জাগতিক স্বপ্নবিলাসে রত হওয়া মূর্খতা?

▫ কোন সত্যগুলি সৃষ্টিকর্তার, তাঁর লিখিত বাক্য, যীশু খ্রীষ্ট, এবং রাজ্যের বাস্তবতা প্রমাণ করে?

▫ কী করে আমরা রাজ্যের বাস্তবতার প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে পারি?

[Pictures on page 27]

জাগতিক স্বপ্নবিলাসের কারণ প্রায়ই হয়ে থাকে জাগতিক ধনসম্পদের লালসা

[Pictures on page 28]

সুসমাচার প্রচার করা হল রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করার একটি উপায়

[Pictures on page 29]

আপনি কী রাজ্যের বাস্তবতাকে অনুসরণ করছেন অধ্যবসায়ের সাথে ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার দ্বারা?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার