পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
যিহোবার সাক্ষীরা চুরি করা জিনিষপত্র কেনাকে কি ভাবে দেখে?
খ্রীষ্টানেরা জেনেশুনে চুরি করা কোন পণ্যদ্রব্য অথবা জিনষপত্র কেনে না।
চুরি করা অবশ্যই নিয়মবিরুদ্ধ। ঈশ্বরের আইন ইস্রায়েলীয়দের জন্য ঈশ্বরের আইন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে: “চুরি করিও না।” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৫; লেবীয়পুস্তক ১৯:১১) যদি কোন চোর ধরা পড়ে, তবে তাকে দ্বিগুন, চতুর্গণ অথবা পঞ্চধা ফিরিয়ে দিতে হত, সব নির্ভর করত পরিস্থিতির উপরে।
পুরাকাল থেকে, চোররা তাদের চুরি করা জিনিষ তাড়াতাড়ি করে অন্যদের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছে যাতে তাড়াতাড়ি মুনাফা করতে পারে ও তাদের যে দোষ তা যেন প্রমান সমেত ধরা না পড়ে। সেইকারণে তারা তাদের চুরি করা জিনিষপত্র প্রায়ই এত কম দামে বিক্রি করে যে খরিদাররা তা না কেনা থেকে বিরত থাকা খুব কঠিন বোধ করে। এইরূপ কিছু মনে হয় জড়িত ছিল যে বিবরণ আমরা পাই যাত্রাপুস্তক ২২:১পদে তাতে: “যে কেহ গোরু কিম্বা মেষ চুরি করিয়া বধ করে, কিম্বা বিক্রয় করে, সে এক গরুর পরিশোধ পাঁচ গোরু, ও এক মেষের পরিশোধ চারি মেষ দিবে।”
এই আইনের নিহিতার্থ বুঝে, রাবাই আব্রাহাম চিল লেখেন: “চুরি করা সম্পত্তি কেনা অথবা তা গ্রহণ করা নিষেধ করা হয়েছে, এমনকি যদিও সেই সম্পত্তিকে সেইভাবে নাও দেখা হয়ে থাকে। সেইকারণে একজনের কোন পালকের কাছ থেকে ছাগ কেনা উচিত নয়, এইজন্য যে সে হয়ত তা তার মালিকে না জানিয়ে বিক্রয় করছে এবং পয়সা নিজের কাছে রাখার জন্য।”—দ্যা মিটজভোট—দ্যা কমাণ্ডমেন্টস অ্যাণ্ড দেয়ার রেশানালে।
বাস্তবে, যদিও ঈশ্বরের বাক্য একজনকে ‘পালকের নিকট থেকে ছাগ কিনতে মানা করে না’ কেবলমাত্র এই সন্দহে যে সে হয়ত তার নিয়োগকর্ত্তার পয়সা রেখে দিতে পারে, যার অর্থ দাঁড়ায় চুরি করা ছাগ বিক্রয় করা। এই বিষয়ের অন্য যে দিকটি বিবেচনা করা দরকার তা হল যে, যিহোবার সেবকেরা সজ্ঞানে এমন কোন ক্রয়ে অংশগ্রহণ করবে না (তা ছাগ বা অন্য যে কোন জিনিষ হোক) যখন এই বিষয় পরিষ্কার হয় যে, যে বিক্রয় করছে সে তার মালিক নয় এবং বস্তুটি হয়ত চুরি করা হতে পারে। ঈশ্বরের আইন দেখায় যে তিনি [ঈশ্বর] ব্যক্তিগত সম্পতিকে মেনে নেন, কি একজন চোর তার মালিককে তার সম্পতি থেকে বঞ্চিত করে। কেউ যে তা ক্রয় করে জেনে যে সে যা কিনছে তা চোরাই করা জিনিষ সে নিজে হয়ত চুরি করছে না, কিন্তু তার তা ক্রয় করা যে সেই বস্তুর মালিক তার সেই বস্তু ফেরৎ পাওয়ার যে সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দিচ্ছে।—হিতোপদেশ ১৬:১৯; তুলনা করুন ১ থিষলনীকীয় ৪:৬.
আমরা সকলে জানি যে ক্রেতারা—তারা কোন গৃহবধূ অথবা কোন কোম্পানির প্রতিনিধিরা হোক না কেন—তারা চেষ্টা করে তাদের সউদা সব থেকে কম দামে কিনতে। সারা পৃথিবীতে নারীরা ভাল দামে জিনিষ কেনার অপেক্ষা করে থাকে, তারা জিনিষ কেনার জন্য সেই সময়কাল পর্য্যন্ত অপেক্ষা করে যখন দাম কম থাকে, অথবা তারা হয়ত সেই বাজারে বা দোকান যায় যেখানে ডজন হিসাবে জিনিষপত্র বিক্রিত হয় এবং যাদের দোকান খুব বড় নয় সেইকারণে দামও ভাল পাওয়া যায়। (হিতোপদেশ ৩১:১৪) তবুও, এইরূপ কেনাবেচার আগ্রহের যেন এক নৈতিক সীমা থাকে। নহিমিয়ের দিনে যে বিশ্বস্ত ব্যক্তিরা ছিলেন তারা বিশ্রামবারে কোন কেনাকাটা করতে অসম্মত হয়, এমনকি যদিও সেই দিনগুলিতে তারা হয়ত ভাল দামে জিনিষ পেত। (নহিমিয় ১০:৩১; তুলনা করুন আমোষ ৮:৪-৬) খ্রীষ্টানদের সাথেও সেইরূপ। তাদের চুরি প্রত্যাখান করা তাদের সাহায্য করে নিজেদের বসে রাখতে যেন তারা কম-দামের এমন কোন জিনিষ না কেনে যা হয়ত চুরি করা।
ইহা হয়ত স্বাধারণ্যে জ্ঞাত হতে পারে যে কোন কোন বিক্রেতারা চুরি করা সামগ্রীতে লেনদেন করে। অথবা এমন দামে জিনিষ দেয় যা কেবল গোপনে বলা হয় যা এত কম যে, যে কোন স্বাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে যে তা কোন অসৎভাবে পাওয়া গেছে। এমনকি দেশের আইনও হয়ত এমন যুক্তিযুক্তাকে সমর্থন করে। বিচারব্যবস্থার উপর একটি বই এইরূপ মন্তব্য করে:
“ইহা জরুরী নয় যে দোষী জানুক যে কোথা থেকে এবং কার দ্বারা দ্রবটি চুরি হয়েছিল, অথবা কোথায় এবং কখন তা চুরি হয়েছিল, কিন্তু ইহা জানাই যথেষ্ট যে তা চুরি হয়েছিল। . . . কোন কোন আদালত এমন দৃষ্টিকোন নেয় যে দোষী হওয়া তার উপর নির্ভর করে যে প্রতিবাদী জানত সেই পরিস্থিতে যা একজন স্বাধারণ বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রত্যয় দেবে যে বস্তুটি চুরি করা।
ইহা পূর্ণ যুক্তি দেয় যে কেন একজন খ্রীষ্টানের চুরি করা দ্রব্যসামগ্রী কেনা উচিৎ নয়। কারণ তার ঐরূপ জিনিষ কেনা তাকে একজন আইনভঙ্গকারী করে। অনেকে কোন দ্বিধাবোধ করে না যদি তারা কোন আইন ভঙ্গ করতে পারে এবং ধরা না পড়ে। খ্রীষ্টানদের ক্ষেত্রে তা সত্য নয়, যারা চায় “প্রধান্যপ্রাপ্ত কর্ত্তৃপক্ষদের বশীভূত হতে।” আইন মান্য করার দ্বারা তারা সহায্য করে যেন অভিযুক্তদের মত শাস্তি না পায়, আর ইহা সাহায্য করে তাদের যিহোবার সাক্ষাতে উত্তম বিবেক রাখতে।—রোমীয় ১৩:১, ৪, ৫.
ঈশ্বরের বন্ধু অব্রাহাম বিবেকের ব্যাপারে উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। তার দিনে, চারজন পূর্বদেশীয় শাসক এসে লোট যেখানে বাস করতেন সেখানকার রাজাকে পরাস্ত করে, আর তারা সামরিক লুণ্ঠনে অনেক মূল্যবান জিনিষপত্র নিয়ে যায়। অব্রাহাম, তাদের পিছু ধাওয়া করে, শত্রুদের পরাস্ত করে, এবং লুণ্ঠিত সব দ্রব্য ফেরৎ নিয়ে আসে। সদোমের রাজা অব্রামকে বলেন: “সম্পত্তি আপনার জন্য লউন” পুরষ্কার হিসাবে। তার পরিবর্তে, অব্রাহাম সব দ্রবাদি সঠিক মালিকের কাছে ফেরৎ দেন, এই বলে: “আমি আপনার কিছুই লইব না, এক গাছি সূতা কি পাদুকার বন্ধনীও লইব না; পাছে আপনি বলেন, আমি অব্রাহামকে ধনবান করিয়াছি।”—আদিপুস্তক ১৪:১-২৪.
খ্রীষ্টানরা সেইরূপ কোন আর্থিক লাভেতে আগ্রহী নয় যা হয়ত সম্ভপর হবে কোন চুরি করা জিনিষপত্রের দ্বারা, যিরমিয় লেখেন: “প্রসব না করিলেও যেমন তিত্তির পক্ষী শাবকদিগকে সংগ্রহ করে, তেমনি সেই ব্যক্তি যে অন্যায়ে ধন সঞ্চয় করে।” (যিরমিয় ১৭:১১) কেবলমাত্র চুরি করা জিনিষপত্র না কিনে কৈসরের আইন ভঙ্গ না করে প্রজ্ঞা দেখানো ছাড়া, খ্রীষ্টানরা ইচ্ছা করে ঈশ্বরের ন্যায়ের মানকে ধরে রাখতে সেইসব কোন প্রকার কিছুতে জড়িত না হয়ে যার যোগ চুরির সাথে আছে। দায়ূদ ভালই লেখেন: “ধার্ম্মিকের অল্প সম্পত্তি ভাল, দুষ্টদের ধনরাশি অপেক্ষা ভাল।”—গীতসংহিতা ৩৭:১৬. (w92 6/15)