ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ৪/১ পৃষ্ঠা ১৬-২০
  • যিহোবাকে ভয় কর ও তাঁর পবিত্র নামের গৌরব কর

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যিহোবাকে ভয় কর ও তাঁর পবিত্র নামের গৌরব কর
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ঈশ্বরীয় ভয় বিজয়ী হয়
  • যিহোবার ভয়ে কাজ করা
  • উত্তমকে ভালবাস, মন্দকে ঘৃণা কর
  • যিহোবাকে ভয় কর ও তাঁর গৌরব কর
  • অনন্তকাল ধরে যিহোবার গৌরব করা
  • আপনার হৃদয়ে যিহোবার প্রতি ভয় গড়ে তুলুন
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবার ভয়েতে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষালাভ করা
    ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবাকে ভয় করুন ও তাঁর আজ্ঞা সকল পালন করুন
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সত্য ঈশ্বরকে ভয় করার উপকারসকল
    ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ৪/১ পৃষ্ঠা ১৬-২০

যিহোবাকে ভয় কর ও তাঁর পবিত্র নামের গৌরব কর

“কে না তোমায় ভয় করিবে, যিহোবা, ও তোমার নামের না গৌরব করিবে, কেননা একমাত্র তুমিই সাধু?”—প্রকাশিত বাক্য ১৫:৪, NW.

১, ২. (ক) যিহোবা আকাশের দ্বার সকল কিভাবে খুলে দেন ১৯৯১ সালে? (খ) কি জীবনের অভিজ্ঞতা পরিচালিত করে একজন বিশ্বস্ত মিশনারীকে এই উক্তি করতে “যিহোবাকে ভয় কর”? (দেখুন ১৯৯১ ইয়ারবুক, পৃষ্ঠা ১৮৭-৯.)

যিহোবা ‘আকাশের দ্বার মুক্ত করে তাঁর আশীর্বাদ সকল বর্তান যতক্ষণ আমাদের চাহিদা পূর্ণ না হয়ে যায়।’ এই কথাগুলি যিহোবার সাক্ষীদের প্রতি বারংবার প্রয়োগ করা যায় আমাদের বর্তমান সময়। (মালাখি ৩:১০) উদাহরণস্বরূপ, সারা জগতব্যাপী যে সাক্ষীদের সম্মেলন হয় তা স্থানীয় ও পরিদর্শী ভাইদের উদ্যম ও মেলামেশায় উপচিয়ে পড়ে—সাও পাওলো (আগাস্ট ১৭-১৯, ১৯৯০) এবং দক্ষিণ আমেরিকার বুয়েনস্‌ এয়ারেস্‌ থেকে নিয়ে মানিলা, তাইপে, এবং প্রাচ্য জগতে ব্যাংকক এবং পূর্ব ইউরোপে বুডাপেস্ট, প্রাগ্‌, এবং জেগরেব (আগাস্ট ১৬-১৮, ১৯৯১)।

২ এই প্রতিনিধিত্বকারী ভাইরা যারা বিদেশ থেকে এসেছিলেন তারা কি আনন্দিত হন অনেক সময় ধরে যারা বিশ্বস্ত সাক্ষী তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পেরে! উদাহরণস্বরূপ ফ্র্যাঙ্ক ডিওয়ার—যিনি থাইল্যাণ্ডে একসময় একমাত্র প্রকাশক ছিলেন—তার ৫৮ বৎসরের মিশনারি পরিচর্য্যার কথা বলেন। তার কর্ম্ম তাকে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্যাসিফিকের দীপগুলিতে নিয়ে যায়, এবং চায়না দেশেও। তিনি নৌকাভঙ্গ সহ্য করেন, বন্য জন্তুদের সামনা করেন জঙ্গলে, গ্রীষ্মদেশের রোগ ভোগ করেন, এবং জাপানি যুদ্ধেরত মালিকদের নিষ্ঠুর শাসনও সামনা করেন। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে তিনি সম্মেলনে যোগদানকারীদের কি পরামর্শ দেবেন, তিনি কেবল একটি উত্তর দেন তা হল: “যিহোবাকে ভয় কর!”

৩. কেন আমাদের ঈশ্বরীয় যে ভয় তা প্রদর্শন করা দরকার?

৩ “যিহোবাকে ভয় কর!” আমাদের সকলের জন্য ইহা কত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা এইরূপ ভয় গড়ে তুলি! “যিহোবার ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ।” (গীতসংহিতা ১১১:১০, NW) এই ভয় যিহোবার প্রতি কোন অস্বাস্থ্যকর ভয় নয়। বরঞ্চ, ইহা হচ্ছে শ্রদ্ধা যার ভিত্তি হল তাঁর ঈশ্বরীয় মহত্ত্ব ও গুণাবলী সকল, এবং যে অন্তর্দৃষ্টি আমরা পাই ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার মাধ্যমে। প্রকাশিত বাক্য ১৫:৩, ৪ পদে মোশীর গান ও মেষশাবক ঘোষণা করেন: “মহৎ ও আশ্চর্য্য তোমার ক্রিয়া সকল, হে প্রভু যিহোবা, সর্বশক্তিমান্‌; ন্যায্য ও সত্য তোমার মার্গ সকল, হে জাতিগণের রাজন্‌, কে না তোমাতে ভীত হইবে, এবং তোমার নামের গৌরব কে না করিবে, কেননা একমাত্র তুমিই সাধু?” তার উপাসকদের প্রতি বিশ্বস্ততা দেখিয়ে, যিহোবার একটি “স্মরণের পুস্তক আছে . . . যা লিখে রাখা হয়েছে যারা যিহোবাকে ভয় করে ও তাঁর নামের বিষয় চিন্তা করে তাদের নিমিত্ত।” তাদের তিনি অনন্ত জীবনে পুরষ্কৃত করেন।—মালাখি ৩:১৬; প্রকাশিত বাক্য ২০:১২, ১৫, NW.

ঈশ্বরীয় ভয় বিজয়ী হয়

৪. পৌরাণিক কোন মুক্তি আমাদের উৎসাহ যোগায় যিহোবাকে ভয় করতে?

৪ যখন ইস্রায়েলিয়রা ফরৌণের মিশর থেকে বের হয়ে আসে, মোশি পরিষ্কার করে দেখান যে তিনি কেবল যিহোবাকে ভয় করেন। শীঘ্রই ইস্রায়েলিয়রা লহিত সমুদ্র ও ফরৌণের সৈন্য সামন্তের মাঝখানে ফাঁদে পড়েন। তারা কি করবে? “তখন মোশি লোকদিগকে কহিলেন: ‘ভয় করিও না। সকলে স্থির হইয়া দাঁড়াও। যিহোবা তোমাদের আজ যে নিস্তার করেন তাহা দেখ। কেননা এই যে মিস্রীয়দিগকে অদ্য দেখিতেছ, ইহাদিগকে আর কখনই দেখিবে না। না, আর কখন না। যিহোবা তোমাদের পক্ষ হইয়া যুদ্ধ করিবেন, তোমরা নীরব থাকিবে।’” আশ্চর্য্যভাবে, যিহোবা সেই জলকে দুইভাগে ভাগ করেন। ইস্রায়েলিয়রা সেই সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে শুষ্ক জমিতে হেঁটে যায়। তারপর সেই জল আবার বেগে ফিরে আসে। ফরৌণ ও তার সৈন্যসামন্ত নিশ্চিহ্ন হয়। যিহোবা সেই ঈশ্বর-ভয়শীল জাতিকে রক্ষা করেন, এবং একই সময় ঈশ্বর-নিন্দাকারী মিশরকে ধ্বংস করেন। ঠিক তেমন আজ, তিনি তার বিশ্বস্ততা দেখাবেন শয়তানের জগত থেকে তার ঈশ্বর-ভয়শীল সাক্ষীদের উদ্ধার করে।—যাত্রাপুস্তক ১৪:১৩, ১৪; রোমীয় ১৫:৪.

৫, ৬. যিহোশূয়ের সময় কি ঘটনা দেখায় যে আমাদের মনুষ্য অপেক্ষা যিহোবাকে ভয় করতে হবে?

৫ মিশর থেকে যাত্রা করার পর মোশি সেই প্রতিজ্ঞাত দেশ দেখবার জন্য ১২ জন চরদের পাঠান। তাদের মধ্যে দশজন সেই স্থানের লোকদের বিশালকায় চেহারা দেখে ইস্রায়েলকে সেখানে প্রবেশ করা থেকে বিরত করার চেষ্টা করে। কিন্তু অন্য দুইজন, যিহোশূয় ও কালেব, তারা এইরূপ রিপোর্ট দেয়: “যে দেশ নিরিক্ষণ করিতে গিয়াছিলাম, সে যার পর নাই উত্তম দেশ। যিহোবা যদি আমাদিগেতে প্রীত হন, তবে তিনি আমাদিগকে সেই দেশে প্রবেশ করাইবেন, ও সেই দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশ আমাদিগকে দিবেন। কিন্তু তোমরা কোন মতে যিহোবার বিদ্রোহী হইও না, ও সে দেশের লোকদিগকে ভয় করিও না, কেননা তাহারা আমাদের ভক্ষ্যস্বরূপ, তাহাদের আশ্রয়-ছত্র তাহাদের উপর হইতে নীত হইল, যিহোবা আমাদের সহবর্ত্তী। তাহাদিগকে ভয় করিও না।”—গণনাপুস্তক ১৪:৭-৯, NW.

৬ যাহাহোক, সেই ইস্রায়েলিয়রা মানুষের ভয়ে পতিত হয়। যার ফলস্বরূপ, তারা সেই প্রতিজ্ঞাত দেশে পোঁছাতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু যিহোশূয় ও কালেব এবং তাদের সাথে ইস্রায়েলের এক নতুন বংশ, তারা সুযোগ পায় সেই উত্তম দেশে প্রবেশ করতে এবং সেখানকার দ্রাক্ষাক্ষেত্র ও জলপাইয়ের বাগান সকল চাষ করতে। যিহোশূয় ইস্রায়েল জাতির কাছে তার বিদায় ভাষণে, এই উপদেশ দেন: “তোমরা যিহোবাকে ভয় কর, সত্যে ও সরলতায় তার সেবা কর।” যিহোশূয় আরও যোগ দেন: “কিন্তু আমি ও আমার পরিবার আমরা যিহোবার সেবা করিব।” (যিহোশূয়ের পুস্তক ২৪:১৪, ১৫, NW) কি উৎসাহজনক কথাগুলি পরিবারের মস্তকদের জন্য এবং অন্য সকলের জন্য যেন তারা যিহোবাকে ভয় করে, সকলে যারা ঈশ্বরের ধার্ম্মিক নতুন পরিস্থিতিতে প্রবেশ করতে চায়!

৭. কি ভাবে দায়ূদ ঈশ্বরকে ভয় করার উপর গুরুত্ব দেন?

৭ মেষপালক বালক হিসাকে দায়ূদ যিহোবার প্রতি ভয় দেখান যখন তিনি ঈশ্বরের নামে গলিয়াথকে তার সামনা করতে আমন্ত্রণ করেন। (১ শমূয়েল ১৭:৪৫, ৪৭) তার মৃত্যু শয্যায়, দায়ূদ ঘোষণা করতে পেরেছিলেন: “আমার দ্বারা যিহোবার আত্মা বলিয়াছেন, তাঁহার বাণী আমার জিহ্বাগ্রে রহিয়াছে। ইস্রায়েলের ঈশ্বর কহিয়াছেন, ইস্রায়েলের শৈল আমাকে বলিয়াছেন, ‘যিনি মনুষ্যর উপর ধার্ম্মিকতায় কর্ত্তৃত্ব করেন, যিনি ঈশ্বর-ভয়ে কর্ত্তৃত করেন, তিনি প্রাতঃকালের, সুর্য্যোদয় কালের, মেঘরহিত প্রাতঃকালের দীপ্তির ন্যায় হইবেন।’” (২ শমূয়েল ২৩:২-৪, NW) ঈশ্বরের এই ভয় আজ যারা জগতের শাসনকর্ত্তা তাদের মধ্যে পাওয়া যায় না, আর তার ফল কতই দুঃখদায়ক না হয়েছে! তখন পরিস্থিতি কত আলাদা হবে যখন যীশু, যিনি “দায়ূদ সন্তান,” তিনি এই পৃথিবীকে যিহোবার ভয়ে শাসন করবেন!—মথি ২১:৯.

যিহোবার ভয়ে কাজ করা

৮. কেন যিহৃদা যিহোশাফটের সময় উন্নতিলাভ করে, যা আজকের জন্য কি ইংঙ্গিত দেয়?

৮ দায়ূদের মৃত্যুর প্রায় একশত বৎসর পরে, যিহোশাফট যিহৃদার রাজা হন। আবার আমরা একজন রাজাকে দেখতে পাই যিনি যিহোবার ভয়ে সেবা করেছেন। তিনি যিহৃদায় ঐশিক যে পদ্ধতি তা ফিরিয়ে আনেন, সমগ্র দেশে বিচারকর্ত্তাদের নিযুক্ত করেন, এবং তাদের এই আদেশ দেন: “কেননা তোমরা মনুষ্যদের জন্য নয়, কিন্তু যিহোবার জন্য বিচার করিবে, এবং বিচার ব্যাপারে তিনি তোমাদের সহকারী। অতএব যিহোবার ভয় তোমাদিগতে অধিষ্ঠিত হউক কেননা অন্যায়, কি মুখাপেক্ষ, কি উৎকোচ গ্রহণে আমাদের ঈশ্বর যিহোবার সম্মতি নাই। . . . তোমরা যিহোবার ভয়ে বিশ্বস্ত ভাবে একাগ্রচিত্তে এইরূপ কার্য্য কর।” (২ বংশাবলি ১৯:৬-৯, NW) সেইকারণে, যিহৃদা যিহোবার ভয়ে সাফল্য লাভ করতে থাকে, ঠিক যেমন আজ ঈশ্বরের লোকেরা উপকার পায় করুণাপূর্ণ অধ্যক্ষদের সেবার মাধ্যমে।

৯, ১০. কি ভাবে যিহোশাফট যিহোবার ভয়ে বিজয়ী হয়?

৯ যাহাহোক, যিহৃদার শত্রুরা ছিল। তারা সঙ্কল্প করে ঈশ্বরের জাতিকে মুছে ফেলতে। আম্মোন, মোয়াব ও মায়োনীয়রা একসাথে যিহৃদার দিকে ঝাক বেঁধে এগিয়ে আসে তাদের সৈন্য সামন্ত নিয়ে এবং যিরূশালেমকে দখল করার ভয় দেখায়। সেই সৈন্য দল সত্যই খুব শক্তিসম্পন্ন ছিল। যিহোশাফট প্রার্থনায় যিহোবার দিকে ফেরেন “এইরূপে শিশু, স্ত্রীলোক ও সন্তানগণের সহিত সমস্ত যিহৃদা যিহোবার সাক্ষাতে দন্ডায়মান হইল।” তারপর, সেই প্রার্থনার উত্তর হিসাবে, যিহোবার আত্মা লেবীয় যহসীয়েলের উপর আসল, যিনি বলেন: “যিহোবা তোমাদিগকে এই কথা কহেন, ‘তোমরা ঐ বৃহৎ লোকসমারোহ হইতে ভীত কি নিরাশ হইও না, কেননা এই যুদ্ধ তোমাদের নয়, কিন্তু ঈশ্বরের। তোমরা কল্য উহাদের বিরুদ্ধে নামিয়া যাও। . . . এবার তোমাদিগকে যুদ্ধ করিতে হইবে না। হে যিহৃদা ও যিরূশালেম, তোমরা শ্রেণীবদ্ধ হও, দাঁড়াইয়া থাক, আর তোমাদের সহবর্ত্তী যিহোবা যে নিস্তার করিবেন, তাহা দেখ। ভীত কি নিরাশ হইও না; কল্য তাহাদের বিরুদ্ধে যাত্রা কর কেননা যিহোবা তোমাদের সহবর্ত্তী।’”—২ বংশাবলি ২০:৫-১৭.

১০ পরেরদিন সকালে, যিহৃদার লোকেরা উঠে। তারা বাধ্যতার সাথে শত্রুদের মোকাবিলা করতে যায়, যিহোশাফট তাদের উদ্দেশ্যে বলেন: “হে যিহৃদা, হে যিরূশালেম-নিবাসিগণ, আমার কথা শুন! তোমরা আপন ঈশ্বর যিহোবাতে বিশ্বাস কর, তাহাত সুস্থির হইবে; তাঁহার ভাববাদিগণে বিশ্বাস কর, তাহাত কৃতকার্য্য হইবে।” সেই অস্ত্রে সজ্জিত লোকদের অগ্রে অগ্রে তিনি যান, গায়কেরা সঙ্গবদ্ধভাবে যিহোবার উদ্দেশ্যে গান করে: “যিহোবার স্তবগান কর, কেননা তাঁহার দয়া অন্তকালস্থায়ী।” যিহোবা তাঁর প্রেম ও করুণা প্রদর্শন করেন সেই শত্রু শিবিরকে এমন বিভ্রান্তিতে ফেলে যে তারা একজন আরেক জনকে হত্যা করে। যখন যিহৃদার লোকেরা প্রহরীদুর্গে উপস্থিত হয়, তারা কেবল মৃত ব্যক্তিদের শব দেহ দেখতে পায়।—২ বংশাবলি ২০:২০-২৪.

১১. ভয় সম্বন্ধে, যিহোবার লোকদের থেকে কি ভাবে অন্য জাতিরা আলাদা?

১১ যখন প্রতিবেশী জাতিরা এই আশ্চর্য্য মুক্তির কথা শুনে, “ঈশ্বর হইতে ভয়” তাদের উপরে আসে। অন্যদিকে, যে জাতি যিহোবাকে ভয়ে বাধ্যতা প্রদর্শন করে “তাঁহার ঈশ্বর চারিদিকে তাঁহাকে বিশ্রাম দিলেন।” (২ বংশাবলী ২০:২৯, ৩০) একইরূপে, যিহোবা যখন তাঁর বিচার নিয়ে আসবেন আরমাগেদনে, সমস্ত জাতি “ঈশ্বরের ভয়ে থাকবে” এবং তার ঘাতক পুত্র, যীশু খ্রীষ্টের সম্মুখে তাঁর সেই মহাদিনে দাঁড়াতে সক্ষম হবে না।—প্রকাশিত বাক্য ৬:১৫-১৭.

১২. যিহোবার ভয় কি করে পূরাকালে পুরষ্কৃত হয়েছে?

১২ যিহোবার প্রতি সাস্থ্যবান ভয় অনেক আশীর্বাদ নিয়ে আসে। নোহ “ঈশ্বরীয় ভক্তি প্রদর্শন করেন ও তার পরিবারের ত্রানার্থে এক জাহাজ নির্ম্মান করিলেন।” (ইব্রীয় ১১:৭, NW) প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের সম্বন্ধে, রেকর্ড দেখায়, কিছুকাল তাড়না সহ্য করার পর, মণ্ডলী “শান্তিভোগ করিতে ও গ্রথিত হইতে লাগিল, এবং প্রভুর ভয়ে ও পবিত্র আত্মার আশ্বাসে চলিতে চলিতে বহুসংখ্যক হইয়া উঠিল”—ঠিক যেমন আজ পূর্ব ইউরোপে হচ্ছে।—প্রেরিত ৯:৩১.

উত্তমকে ভালবাস, মন্দকে ঘৃণা কর

১৩. কি করে কেবলমাত্র আমরা যিহোবার আশীর্বাদ সকল অনুভব করতে পারি?

১৩ যিহোবা হচ্ছেন উত্তম। সেইকারণে, “যিহোবার ভয় দুষ্টতার প্রতি ঘৃণা।” (হিতোপদেশ ৮:১৩) যীশু সম্বন্ধে লেখা হয়েছে: “তুমি ধার্ম্মিকতাকে প্রেম, ও দুষ্টতাকে ঘৃণা করিয়াছ। এই কারণ ঈশ্বর, তোমার ঈশ্বর, তোমাকে অভিষিক্ত করিয়াছেন।” (ইব্রীয় ১:৯) যদি আমরা, যীশুর মতন, যিহোবার আশীর্বাদ বাঞ্ছা করি, তাহলে আমাদের মন্দকে ঘৃণা করতে হবে, অনৈতিকতা, প্রচণ্ডতা, ও শয়তানের উদ্ধত জগতের যে লোভ আছে তা সব ত্যাগ করতে হবে। (তুলনা করুন হিতোপদেশ ৬:১৬-১৯) আমাদের সেই সবকিছু ভালবাসতে হবে যা যিহোবা ভালবাসেন এবং সেই সমস্ত ঘৃণা করতে হবে যা তিনি ঘৃণা করেন। আমরা ভয় করব এমন কিছু করতে যা যিহোবাকে অখুশী করবে। “আর যিহোবার ভয়ে মনুষ্য মন্দ হইতে সরিয়া যায়।”—হিতোপদেশ ১৬:৬, NW.

১৪. যীশু কি করে আমাদের জন্য নমুনা রেখেছেন?

১৪ যীশু আমাদের জন্য এক নমুনা রেখে গেছেন আমাদের তা কাছ থেকে অনুকরণ করা উচিত। “তিনি নিন্দিত হইলে প্রতিনিন্দা করিতেন না দুঃখভোগ কালে তর্জ্জন করিতেন না, কিন্তু যিনি ন্যায় অনুসারে বিচার করেন, তাঁহার উপর ভার রাখিতেন।” (১ পিতর ২:২১-২৩) যিহোবার ভয়ে আমরাও, নিন্দা, উপহাস, তাড়না যা এই শয়তানের জগত আমাদের উপরে নিয়ে আসে সব সহ্য করতে পারি।

১৫. কেন আমরা যিহোবাকে ভয় করব, তাদের নয় যারা দেহ বধ করতে পারে?

১৫ মথি ১০:২৮ পদে, যীশু আমাদের উপদেশ দেন: “যাহারা শরীর বধ করে, কিন্তু প্রাণ বধ করিতে পারে না তাহাদিগকে ভয় করিও না; কিন্তু যিনি প্রাণ ও শরীর উভয়ই গিহেনায় বধ করিতে পারেন, বরং তাহাকেই ভয় কর।” একজন যে যিহোবাকে ভয় করে যদিও তার শত্রু হস্তে মৃত্যু হয়, সেই মৃত্যুর যে যন্ত্রনা তা ক্ষণিকের জন্য। (NW) (হোশেয় ১৩:১৪) পুনরুত্থানের পর, সেই ব্যক্তি বলতে পারবেন: “মৃত্যু তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু, তোমার হুল কোথায়?”—১ করিন্থীয় ১৫:৫৫.

১৬. কি করে যীশু যিহোবার ভয় দেখান এবং তাঁর গৌরব করেন?

১৬ যারা সকলে যিহোবার ধার্ম্মিকতাকে ভালবাসে ও যাহা মন্দ তাহাকে ঘৃণা করে যীশু নিজে তাদের সকলের জন্য এক দারুণ উদাহরণ স্থাপন করেন। তার যিহোবার প্রতি যে ভয় তা প্রদর্শিত হয় যখন তিনি তার শেষ কথাগুলি বলছিলেন তার শিষ্যদের, যা আমরা পাই যোহন ১৬:৩৩ পদে: “এই সমস্ত তোমাদিগকে বলিলাম, যেন তোমরা আমাতে শান্তি প্রাপ্ত হও। জগতে তোমরা ক্লেশ পাইতেছ; কিন্তু সাহস কর, আমিই জগৎকে জয় করিয়াছি।” যোহনের বিবরণ বলে চলে: “যীশু এই সকল কথা কহিলেন, আর স্বর্গের দিকে চক্ষু তুলিয়া বলিলেন: ‘পিতঃ, সময় উপস্থিত হইল; তোমার পুত্রকে মহিমান্বিত কর, যেন তোমার পুত্র তোমাকে মহিমান্বিত করে . . . জগতের মধ্যে হইতে তুমি আমাকে যে লোকদের দিয়াছ আমি তাহাদের কাছে তোমার নাম প্রকাশ করিয়াছি।’”—যোহন ১৭:১-৬.

যিহোবাকে ভয় কর ও তাঁর গৌরব কর

১৭. কি কি উপায়ে আমরা যীশুর উদাহরণ অনুকরণ করতে পারি?

১৭ আজ আমরা কি যীশুর সাহসপূর্ণ উদাহরণ অনুকরণ করতে পারি? অবশ্যই আমরা পারি যিহোবার ভয়ে! যীশু আমাদের কাছে যিহোবার অতি বিশিষ্ট নাম ও গুণাবলী সকল প্রকাশ করেছেন। যিহোবাকে সর্বশক্তিমান প্রভুরূপে ভয় করে, আমরা তাঁকে অন্য সব ঈশ্বরের উপরে স্থাপন করি, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, খ্রীষ্টীয় জগতের নামহীন রহস্যমূলক ত্রিত্বের শিক্ষা। যীশু যিহোবার সেবা করেন সাস্থ্যকর ভয়ে, তিনি নিজেকে মরণশীল মানুষের ভয়ের যে ফাঁদ তাতে পড়তে দেননি। “ইনি মাংসে প্রবাসকালে প্রবল আর্ত্তনাদ ও অশ্রুপাত সহকারে তাঁহারই নিকটে প্রার্থনা ও বিনতি উৎসর্গ করিয়াছিলেন, যিনি মৃত্যু হইতে তাঁহাকে রক্ষা করিতে সমর্থ, এবং আপন ঈশ্বরীয় ভয় প্রযুক্ত উত্তর পাইলেন।” যীশুর মত, আমরাও যেন যিহোবাকে ভয় করি যখন আমরা কষ্টভোগ করি তার থেকে যেন বাধ্যতা শিখি—এবং সব সময় যেন অনন্ত জীবনকে আমাদের লক্ষ্য হিসাবে রাখি।—ইব্রীয় ৫:৭-৯, NW.

১৮. কি করে আমরা ঈশ্বরকে পবিত্র উপাসনা দিতে পারি ঈশ্বরীয় ভয়ে?

১৮ পরে ইব্রীয় খ্রীষ্টানদের পত্র লেখার সময়, পৌল মনোনীত খ্রীষ্টানদের পরামর্শ দেন: “অতএব অকল্পনীয় রাজ্য পাইবার অধিকারী হওয়াতে, আইস, আমরা সেই অনুগ্রহ অবলম্বন করি, যদ্দ্বারা ভক্তি ও ভয় সহকারে ঈশ্বরের প্রীতিজনক আরাধনা করিতে পারি।” আজ, “বিরাট জনতা” সেই ঐশিক সেবায় অংশ নেয়। আর তার মধ্যে কি অন্তর্ভুক্ত আছে? যিহোবা ঈশ্বর তাঁর অযাচিত দয়া দেখিয়েছেন তাঁর পুত্র, যীশু খ্রীষ্টকে প্রায়শ্চিত্ত রূপে দিয়ে সেই সম্বন্ধে আলোচনা করার পর পৌল বলেন: “অতএব আইস, তাহারই দ্বারা ঈশ্বরের উদ্দেশে স্তব-বলি, অর্থাৎ তাঁহার নাম স্বীকারকারী ওষ্ঠাধরের ফল, উৎসর্গ করি।” (ইব্রীয় ১২:২৮; ১৩:১২, ১৫) যিহোবা যে অযাচিত করুণা দেখিয়েছেন তার প্রতি উপলব্ধি দেখিয়ে, আমরা চাইব যতটা সম্ভব আমাদের সময়ের প্রতি ঘন্টা তাঁর পবিত্র সেবায় ব্যায় করার জন্য। মনোনীত খ্রীষ্টীয় অবশিষ্টাংশের সাথী হিসাবে আজ বিরাট জনতা, এই কাজের বেশীর ভাগ অংশ সাধণ করছে। তারা তাদের পরিত্রাণ আরোপ করে ঈশ্বর ও খ্রীষ্টের প্রতি, যখন তারা রূপকভাবে ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, “এবং তাহারা দিবারাত্র তাঁহার মন্দিরে তাঁহার আরাধনা করে।”—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১০, ১৫.

অনন্তকাল ধরে যিহোবার গৌরব করা

১৯, ২০. “যিহোবার দিনে” কি দুই ধরনের ভয় প্রকাশ পাবে?

১৯ যিহোবার নামের সত্যতা প্রমাণ করার যে গৌরব-উজ্জ্বল দিন তা খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসছে! “‘কারণ দেখ, সেই দিন আসিতেছে, তাহা হাপরের ন্যায় জ্বলিবে, এবং দর্পী ও দুষ্টাচারীরা সকলে খড়ের ন্যায় হইবে; আর সেই যে দিন আসিতেছে, তাহা তাহাদিগকে পোড়াইয়া দিবে,’ ইহা বাহিনীগণের যিহোবা কহেন।” সেই বিপর্যয়ের সময় “তাহাই হল যিহোবার সেই মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিন।” (মালাখি ৪:১, ৫, NW) তাহা দুষ্টদের হৃদয়ে মধ্যে “ভীতি” সঞ্চার করবে, এবং তারা “কোন ক্রমে এড়াইতে পারবে না।”—যিরমিয় ৮:১৫; ১ থিষলনীকীয় ৫:৩.

২০ যিহোবার লোকেরা, অবশ্য, অন্য ধরনের ভয়ের দ্বারা অনুপ্রানীত। যে দূত তাদের “অনন্তকালীন সুসমাচার” দিয়েছেন তিনি তাদের উচ্চস্বরে ডেকে, বলেন, “ঈশ্বরকে ভয় কর, ও তাঁহাকে গৌরব প্রদান কর, কেননা তাঁহার বিচার সময় উপস্থিত।” (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬, ৭) আমরা সশ্রদ্ধ ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকব যখন সেই বিচারের যে দুঃসহ অগ্নি তা শয়তানের জগতকে ভস্মীভূত করবে। যিহোবার জন্য সাস্থ্যকর যে ভয় তা আমাদের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবে না এমনভাবে লেখা থাকবে। আসুন আমরা যেন নিজেদের সেই দিকে পাই যারা তাদের মধ্যে থাকবে যারা অনুগ্রহ পেয়েছে ‘রক্ষা পেয়েছে কারণ তারা যিহোবার নামে ডাকে’!—যোয়েল ২:৩১, ৩২; রোমীয় ১০:১৩.

২১. যিহোবার ভয় আমাদের কোন আশীর্বাদের দিকে পরিচালিত করবে?

২১ অপূর্ব আশীর্বাদ সকল অনুগমন করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে “জীবনের বৎসর-সংখ্যা” যা প্রসারিত হবে অনন্তকাল অবধি! (হিতোপদেশ ৯:১১; গীতসংহিতা ৩৭:৯-১১, ২৯) সেইকারণে আমাদের আশা যাই হোক রাজ্যের অধিকারী হওয়া অথবা তার পার্থিব এলাকায় থাকা, আসুন আমরা এখন ঈশ্বরকে পবিত্র সেবা দিই ভয়ে ও শ্রদ্ধায়। আসুন আমরা তার পবিত্র নামের গৌরব করতে থাকি। আর তার আশীর্বাদ যুক্ত ফল কি হবে? ধন্যবাদ দেওয়া চিরকাল ধরে যে আমরা আমাদের হৃদয়ে সেই উপদেশ নিয়েছিলাম যা হল সর্বদা যিহোবাকে ভয় কর! (w92 1/1)

আপনি কি ভাবে উত্তর দেবেন?

▫ “যিহোবার ভয়” এর অর্থ কি?

▫ ঈশ্বরের ভয় কি ভাবে প্রাচীনকালে তার লোকদের সাহায্য করে?

▫ ঈশ্বরীয় ভয়ের কি নমুনা যীশু আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন?

▫ কি করে আমরা যিহোবার ভয়ে বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে পারি?

[২০ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]

জীবন যা অনন্তকাল পর্য্যন্ত ব্যাপৃত হবে তাদের পুরষ্কার স্বরূপ হবে যারা যিহোবাকে ভয় করে

[Pictures on page 16]

প্রকাশিত বাক্যের বইয়ে, যীশুর ভাইরা দেখা যাচ্ছে যে তারা “মোশির গান গাইছে” যে গান যিহোবার প্রসংশা করছে

[Pictures on page 18]

যিহোশাফটের সৈন্যরা বিজয়ী হয় যিহোবার ভয়ে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার