যিহোবার জন্য প্রেম সত্য উপাসনাকে উদ্দীপিত করে
“কেননা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এই, যেন আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি।”—১ যোহন ৫:৩.
১, ২. কি উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের ঈশ্বরকে সেবা করা দরকার?
জাপান থেকে ৮০ জন সদস্যের একটি দল যিহোবার সাক্ষীদের একটি সম্মেলনের হল পরিদর্শন করে ইউ. এস. এর. ক্যালিফোর্নিয়াতে, অপূর্ব পরিবেশ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত একটি অপূর্ব বাগান যার মধ্যে উড়ে বেড়াচ্ছে সুন্দর পালকওয়ালা পক্ষী, বনকপোত, এবং হামিংবার্ড, এই সব, তাদের মহান্ সৃষ্টিকর্ত্তা যিহোবা ঈশ্বরের অনেক কাছে নিয়ে আসে। যে তাদের এই পরিদর্শন পরিচালনাকারী ছিলেন তিনি বুঝতে পারেন যে প্রায় সকলে সেই পর্যটকদের মধ্যে পূর্ণ-সময়ের অগ্রগামী ছিলেন। সেইকারণে পরে সেই দলকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় যা প্রায়ই করা হয়ে থাকে: “কেন জাপানে এত অগ্রগামী?” কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা লক্ষ্য করা যায়। তারপর একজন যুবতী স্ত্রীলোক স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে এই উত্তর দেয়: “কারণ আমরা যিহোবাকে ভালবাসি।”
২ যিহোবার প্রতি প্রেম—ইহা কি ভাবেই না আমাদের অনুপ্রাণিত করে তার সেবায় উদ্দীপনাপূর্ণ হতে! সত্য, সকলে অগ্রগামীর কাজ করতে পারে না। আমাদের ৪০ লক্ষ্যের উপরে যে রাজ্যের ঘোষকেরা আছেন তাদের বেশীরভাগই এই সুযোগের জন্য স্থান করে নিতে পারেননি। কিন্তু অনেকে যাদের পরিস্থিতি তাদের সামর্থ দেয় তারা সেই সুযোগ নিয়েছেন। আমরা বাকিরা “যিহোবাতে নির্ভর করতে পারি ও মঙ্গল সাধণ করতে পারি,” তাহল শিষ্যকরণের কাজে কিছু অংশ নিয়ে আমাদের প্রেম প্রদর্শন করে। (গীতসংহিতা ৩৭:৩, ৪, NW) যিহোবার প্রত্যেক উপাসক অংশ নিতে পারে অগ্রগামীর মনোভাবকে উৎসাহিত করতে, তাদের প্রেমের সাথে সমর্থন করে যারা অগ্রগামীর কাজ করছে।—মথি ২৪:১৪; ২৮:১৯.
৩. বেশীরভাগ নামধারী খ্রীষ্টানদের ও যিহোবার সাক্ষীদের মধ্যে কি পার্থক্য দেখা যায়?
৩ বেশীরভাগ নামধারী খ্রীষ্টানদের সাথে তুলনা করলে, যারা তাদের ধর্মকে জীবনের আনুষঙ্গিক বস্তু হিসাবে দেখে, যিহোবার সাক্ষীরা ঈশ্বরের জন্য প্রগাঢ় প্রেম দেখায় যা তাদের পরিচালনা করে “তাহার রাজ্য ও ধার্ম্মিকতার জন্য” সচেষ্ট হতে। এর জন্য প্রয়োজন হয়েছে ত্যাগের, কিন্তু সেই ত্যাগ কতই না সময়সার্থ্যক হয়েছে! (মথি ৬:৩৩; ১৬:২৪) ইহা সেই প্রথম মহৎ আজ্ঞা যা প্রথমে মোশি এবং পরে যীশু খ্রীষ্ট পুনরায় বলেন: “আমাদের ঈশ্বর যিহোবা একই যিহোবা; আর তুমি তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত শক্তি দিয়া তোমার ঈশ্বর যিহোবাকে প্রেম করিবে।”—মার্ক ১২:২৯, ৩০; দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৪, ৫, NW.
৪, ৫. কাদের বিশ্বস্ত বলা যায়, কি করে বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করা যায়?
৪ যিহোবার সাক্ষীদের কেন্দ্রীয় দফতরের একজন কর্মরত ব্যক্তি সাম্প্রতিক, ওয়াচটাওয়ার সমিতির ৯৮ বৎসর বয়স্ক প্রেসিডেন্ট এফ. ডাবলু. ফ্রানস, যিনি ৭০ বৎসর যাবৎ পূর্ণ সময়ের সেবায় আছেন তাকে বলেন: “আপনি বিশ্বস্ততার এক অপূর্ব নমুনা, ভাই ফ্রানস। ভাই ফ্রানস উত্তর দেন: “হ্যাঁ, আপনাকে বিশ্বস্ত হতে হবে।” ইহাই বিষয়টি পরিসমাপ্তি করে। আমরা রাজ্যের যে কোন কাজে অংশ নিই না কেন, আমরা বিশ্বস্ত হতে পারি।—১ করিন্থীয় ৪:২; গালাতীয় ৩:৯.
৫ ইহা সত্য, যে অনেকে যিহোবার সেবায় আরও বেশী কাজ করতে চাইবেন, কিন্তু শাস্ত্রিয় দায়িত্ব বা সাস্থ্যগত সমস্যা হয়ত তাদের কাজকে সীমাবদ্ধ করে। যারা অগ্রগামীর কাজ করতে পারে না তারা যে কম বিশ্বস্ত এমন ভাবা উচিত নয়। অনেকে খুব কষ্টকর সময়ের মধ্যে বিশ্বস্ত থেকেছে অনেক বৎসর ধরে। হ্যাঁ, তারা বিশ্বস্ত থেকেছে! তারা যিহোবার জন্য প্রেম দেখিয়েছে এবং তাঁর ঐশিক ব্যবস্থাকে পূর্ণ হৃদয় দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে। তারা অগ্রগামীদের কাজে তীক্ষ্ণ আগ্রহ দেখিয়েছে, ও সম্ভাব্য অগ্রগামীদের উৎসাহ দিয়েছে, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ছেলেমেয়েদের, যাতে তারা অগ্রগামীর কাজকে তাদের জীবনের ব্রত করে, যা যে কোন অন্য জীবন-উপায় থেকে শ্রেষ্ঠ।—তুলনা করুন দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৯, ২০.
৬, ৭. ১ শমূয়েল ৩০:১৬-২৫ পদে যে নজির দেওয়া আছে তা আজ কি ভাবে প্রজোয্য?
৬ আজ ঈশ্বরের লোকদের সমস্ত প্রেমময় কাজকে উদাহরণস্বরূপ তুলনা করা যেতে পারে ১ শমূয়েল ৩০:১৬-২৫ পদের বিবরণের সাথে। অমালেকীয়দের বিরুদ্ধে দায়ূদ যুদ্ধে রত ছিলেন, “দায়ূদ সন্ধ্যাকাল অবধি পরদিনের সন্ধ্যা পর্য্যন্ত তাহাদিগকে আঘাত করিলেন” ও অনেক লুঠ দ্রব্য গ্রহণ করলেন। তাদের শিবিরে ফিরে আসার পর, দায়ূদের কিছু যুদ্ধে রত ব্যক্তিরা বলে যে তাদের কোন লুঠদ্রব্যের অংশ দেওয়া হবে না যারা তাদের সাথে আসল যুদ্ধস্থানে গমন করেনি। কিন্তু দায়ূদ উত্তর দেন: “কেই বা এ বিষয়ে তোমাদের কথা শুনিবে? যে যুদ্ধে যায়, সে যেমন অংশ পাইবে, যে জিনিষ পত্রের নিকটে থাকে, সেও তদ্রুপ অংশ পাইবে; উভয়ের সমান অংশ হইবে।”
৭ আজও একই নীতি প্রযোজ্য। অগ্রগামীরা আমাদের আত্মিক যুদ্ধের অগ্রভাগে আছে। কিন্তু অন্যরা মণ্ডলীতে তাদের পূর্ণ হৃদয় দিয়ে, বিশ্বস্তভাবে সমর্থন করে থাকে। এইভাবে একত্রে কাজ করার যে ফল হয়েছে ১৯৯১ সালে তা আমাদের পরবর্ত্তি যে চার্ট তাতে দেখান হল।
এক উল্লেখযোগ্য রিপোর্ট
৮. (ক) বিশ্বব্যাপী প্রকাশকরা যে সময় যিহোবার সেবায় ব্যয় করেছে তা কি প্রকাশ করে? (খ) যে দেশগুলির রির্পোট আপনি প্রথমবার দেখছেন তার মধ্যে কোন বিষয়গুলি আপনাকে আগ্রহী করে?
৮ হ্যাঁ, বিগত চারটে পৃষ্ঠা এই পত্রিকার দেখায় যে যিহোবার উপাসকদের উৎসাহের সাথে সেবা সাহায্য করছে ১৯৯১ সালে বিশ্বব্যাপী রোমাঞ্চকর বৃদ্ধিতে। ৪,২৭৮,৮২০ প্রকাশকদের এক নতুন শীর্ষ সংখ্যা দেখা গেছে—যাহা হল ৬.৫-সতাংশ বৃদ্ধি। এরা ৯৫১,৮৭০,০২১ ঘন্টা প্রচারে ব্যয় করেছে। আরও লক্ষ্য করুন সেই দেশগুলিতে যেখানে ভাইরা দারুণ কাজ করছেন যেখানে আগে কাজ নিশিদ্ধ ছিল কিন্তু এখন প্রথমবারের মত তা বিশ্বব্যাপী রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে—এনগোলা, বুলগেরিয়া, চেকস্লোভাকিয়া, রোমানিয়া, ইউ. এস. এস. আর।
৯, ১০. (ক) অগ্রগামীরা এই কঠিন সময় মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জে কি ভাবে সাড়া দিয়েছে? (খ) কি উৎসাহ দেওয়া হয় অগ্রগামীর কাজে প্রবেশ করার জন্য?
৯ সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে অগ্রগামীর যে আত্মা তাহা সমস্ত পৃথিবীতে প্রসার লাভ করেছে। সেই সব দেশগুলিতেও যেখানে উপাসনা করার যে স্বাধীণতা তা কেবলমাত্র হালে দেওয়া হয়েছে, অগ্রগামীদের যে সংখ্যা তা বেড়েই চলেছে। কঠিন আর্থিক পরিস্থিতি এই স্থিরসঙ্কল্পকারী সাক্ষীদের যিহোবার উপাসনায় সমস্ত-কিছু দেওয়া থেকে বিরত করতে পারেনি। (তুলনা করুন ২ করিন্থীয় ১১:২৩, ২৭) প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ রাজ্যের প্রকাশকরা অগ্রগামীর কাজ করেছেন। অগ্রগামীদের সর্ব্বোচ্য সংখ্যা ছিল ৭৮০,২০২ যা হল সস্পূর্ণ প্রকাশকের ১৮ ভাগ।
১০ যে আনন্দ যারা অগ্রগামীর কাজ করছে তারা ভোগ করছে তা দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে এই পরিচর্য্যা গ্রহণ করতে। যদি আপনি এখন অগ্রগামীর কাজ না করছেন, আপনার যিহোবার প্রতি প্রেম কি আপনাকে পরিচালিত করবে, যা আমরা পাই যিশাইয় ৬:৮ পদে সেই কথা বলতে, “এই আমি, আমাকে পাঠাও”? অথবা আপনার অধ্যাবসায় সহকারে বাইবেল অধ্যয়ন, কি আপনার মনে সেই বাক্যের আগুন ধরিয়ে দেবে, যাতে আপনি আরও এক পদক্ষেপ নিতে পারেন যাতে অগ্রগামীর কাজে প্রবেশ করতে পারেন? কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যিহোবার বাক্য যিরমিয়কে উদ্দীপিত করে, যে সে তা নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারে না।—যিরমিয় ২০:৯.
মানবজাতির প্রতি প্রেমময় পরিচর্য্যা
১১. কি ভাবে গৃহ বাইবেল অধ্যয়নের কাজ তা প্রসার লাভ করেছে?
১১ বাৎসরিক রিপোর্টে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হল গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন, ৩,৯৪৭,২৬১, নিয়মিতরূপে প্রতি মাসে সারা বিশ্বব্যাপী করা হয়েছে। ইহা এক প্রেমময় ব্যবস্থা যার মাধ্যমে যিহোবার সাক্ষীরা গৃহে গৃহে তাদের কাজে যে আগ্রহ পরিলক্ষিত করে সেখানে আবার ফিরে যায় ও তা বৃদ্ধি করে। আমরা সকল ধরণের জাতি ও বর্ণের লোকেদের সাথে বাইবেল অধ্যয়ন করতে খুব আনন্দিত, এবং একই আন্তরিকতা তারা দেখায় এই কাজে যা প্রেরিত পৌল দেখিয়েছিলেন। তিনি ‘যিহুদী ও গ্রীকদের কাছে যে সাক্ষ্য দিয়ে আসছিলেন’ কোন সন্দেহ নেই যে সত্য শেখাবার জন্য অনেক ঘন্টা তাকে ব্যয় করতে হয়। (প্রেরিত ২০:২০, ২১) আজ ঠিক তেমন। যিহোবার সাক্ষীরা লোকদের সাহায্য করছে “যেন সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায়, ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পারে।”—১ তীমথিয় ২:৪.
১২-১৪. ইউরোপ থেকে কি আনন্দের খবর আসছে?
১২ কি উৎসাহজনক পূর্ব ইউরোপের বাইবেল অধ্যয়নের রিপোর্ট সকল! অনেক দশক ধরে আমাদের ভাইদের সেখানে ছোট দলে মিলিত হতে হয়েছে, হয়ত অনেকবার ব্যবহার করা কেবলমাত্র একটি ওয়াচটাওয়ার কপি তাদের সমস্ত দলকে ব্যবহার করতে হয়েছে। কিন্তু এখন এইসব দেশে প্রচুর বাইবেল ও বাইবেল সাহিত্যাদি শ্রোতের ন্যায় প্রবাহিত হচ্ছে। ইহা আমাদের এক পরমগীত মনে করিয়ে দেয় যা কিং জেমস্ ভারসনে ২:৪ পদে এইরূপ পড়া হয়: “তিনি [যীশু খ্রীষ্ট] আমাকে পান-শালাতে [আত্মিক] লইয়া গেলেন, আমার উপরে প্রেমই তাঁহার পতাকা হইল।” তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত পত্রিকার কপি থাকাতে, অনেকে এখন “সত্যের বাক্য যথার্থরূপে ব্যবহার করতে জানে।”—২ তীমথিয় ২:১৫.
১৩ সেন্ট পিটারস্বার্গ রাশিয়াতে ১০৩ জনের এক মণ্ডলী, হালে ৩০০ বাইবেল অধ্যয়ন রিপোর্ট করে। বাইবেল অধ্যয়নের ফলস্বরূপ, কেবলমাত্র আঠ মাসে ৫৩ জন সাক্ষী বাপ্তিস্ম নেন। মণ্ডলীর অর্ধেক ব্যক্তিরা সত্যে এসেছেন আঠ মাস বা তারও কম সময়! এবং তাদের কোন প্রাচীন নেই—কেবলমাত্র একজন পরিচারক দাস আছেন যিনি তাদের আত্মিক অগ্রগতির দেখাশোনা করেন।
১৪ এস্টোনিয়াতে একজন প্রকাশকের ছাত্র জিজ্ঞাসা করে যে তার বাইবেল অধ্যয়নে সে তার কিছু বন্ধুদের ডাকতে পারে কিনা। যখন সেই প্রকাশক তার পরের সপ্তাহে সেখানে উপস্থিত হয় সে দেখে যে প্রায় ৫০ জন সেখানে উপস্থিত! অবশ্যই, সকলে যারা আগ্রহী ছিল তাদের ক্রমাগতভাবে দেখাশোনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল।
১৫. স্মরনার্থক দিবসে উপস্থিতি ও বাপ্তিস্ম সম্বন্ধে কি বলা যেতে পারে?
১৫ অনেকে যারা অধ্যয়ন করেন তারা খ্রীষ্টীয় মেলামেশার প্রথম স্বাদ পান যীশুর মৃত্যুর স্মরণার্থে যোগ দিয়ে। বিগত বৎসরে, উপস্থিতির সংখ্যা প্রথমবার ১০,০০০,০০০ পার হয়ে যায়, বিশ্বব্যাপী ৬৬,২০৭টি মণ্ডলীতে ১০,৬৫০,১৫৮ এই আনন্দপূর্ণ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন। অনেক লাতিন-আমেরিকার, আফ্রিকার, এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশে, উপস্থিতির সংখ্যা রাজ্যের ঘোষকদের থেকে তিন চার গুন বেশী ছিল। এখন আমাদের এই বৎসর শুক্রবার, এপ্রিল ১৭ তারিখে যে স্মরণার্থক ভোজ হবে তার প্রস্তুতি করা উচিত। ইহা আশা করা হচ্ছে যে বিরাট সংখ্যক বাইবেলের নতুন ছাত্ররা স্মরনার্থক সভায় যোগ দেয় তারা বাপ্তিস্মের দিকে অগ্রসর হবে। ১৯৯১ সালে বাপ্তিস্ম সম্বন্ধে ৩০০,৯৪৫ এক নতুন শীর্ষ সংখ্যা তাদের উৎস্বর্গীকরণ প্রদর্শণ করে জলে অবগাহন নিয়ে।
ঈশ্বরীয় স্বাধীনতার প্রেমীক
১৬. “স্বাধীনতার প্রেমিক” জেলা অধিবেশন থেকে কি লোমহর্ষক রির্পোট আসছে?
১৬ ১৯৯১ পরিচর্য্যা বৎসরের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট ছিল “স্বাধীনতার প্রেমীক” জেলা সম্মেলন, এখন উত্তর গোলার্ধে শেষ হয়েছে কিন্তু ১৯৯২ সালে দক্ষিণ গোলার্ধে তা চলছে। প্রথমবার, সমস্ত অধিবেশন প্রোগ্রাম পূর্ব ইউরোপীয় অনেক দেশে উপস্থাপনা করা হয়, যেখানে আমাদের ভাইরা তাদের নতুন পাওয়া স্বাধীনতাকে যিহোবার গৌরবের জন্য ব্যবহার করতে পেরে খুব আনন্দিত। অক্টোবর ১৯৯১ সালে প্রথম ৫৪টি দেশ থেকে পাওয়া ৭০৫টি সম্মেলনের সর্বমোট যোগদানকারীর সংখ্যা ছিল ৪,৭৭৪,৯৩৭।
১৭, ১৮. (ক) কি স্বাধীনতা যিহোবার সেবকেরা উপভোগ করে এবং প্রত্যাশা করে? (খ) ঈশ্বরীয় স্বাধীনতা কি করে জগতের স্বাধীনতা থেকে আলাদা?
১৭ যীশু তার শিষ্যদের বলেন: “সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে।” (যোহন ৮:৩২) আজ, বাইবেলের সত্য লক্ষ্য লক্ষ্য ব্যক্তিদের মুক্ত করেছে খ্রীষ্টীয় জগতের মতবাদ থেকে। এই লক্ষ্য লক্ষ্য ব্যক্তিরা শিখেছে যে যিহোবা ব্যবস্থা করেছেন যীশুর মুক্তির মূল্যের মাধ্যমে যাতে মানবজাতি “ক্ষয়ের দাসত্ব হইতে মুক্ত হইয়া ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বাধীনতা পাইবে।” (রোমীয় ৮:১৯-২২) তা কি গৌরবজনক স্বাধীনতাই না হবে—পরমদেশরূপ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যিহোবা যে সীমাগুলি প্রেমের সাথে স্থির করেছেন তার মধ্যে!—যিশাইয় ২৫:৬-৮; তুলনা করুন প্রেরিত ১৭:২৪-২৬.
১৮ যে স্বাধীনতা যিহোবার সাক্ষীরা উপভোগ করে, এবং ঈশ্বরের নতুন পরিস্থিতিতে আরও অধিকভাবে উপভোগ করার আশা রাখে, তা সব আসবে আমাদের ঈশ্বর, যিহোবার কাছ থেকে। (২ করিন্থীয় ৩:১৭) তারা কোন রাজনৈতিক বিপ্লবের উপর এর জন্য নির্ভরশীল নয়। (যাকোব ১:১৭) এই বিষয়ের উপর যেন কোন ভুল বোঝাবুঝি না হয় তাই কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশে যিহোবার সাক্ষীরা যে ব্যাজ পরে তাতে লেখা ছিল: “ঈশ্বরীয় স্বাধীনতার প্রেমিক জেলা সম্মেলন।”
যিহোবার জন্য প্রগাঢ় প্রেম
১৯. যিহোবার সাথে প্রার্থনায় ঘনিষ্টতা কি করে আমাদের সাহায্য করতে পারে?
১৯ যিহোবার প্রতি আমাদের প্রেম ও তার প্রতি আমাদের আস্থা আমাদের পরিচালিত করবে প্রার্থনায় তার খুব নিকটে থাকতে। যিহোবার সাথে এই ঘনিষ্টতা আমাদের ভাইদের সাহায্য করছে অত্যাচার ও কষ্টের মধ্যে। (গীতসংহিতা ২৫:১৪, ১৫) তার মহা পরীক্ষার সময়, যীশু তার পিতার সাথে ঘনিষ্টতা বজায় রেখেছিলেন প্রার্থনার মাধ্যমে। (লূক ২২:৩৯-৪৬) এইরূপ প্রার্থনার মাধ্যমে যিহোবার সাথে ঘনিষ্টতা স্তিফানকে সাহায্য করে যখন তিনি শহীদের যে মৃত্যু যন্ত্রণা তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন তাকে পাথর মারা হবে সেই সময় স্বর্গের দিকে তাকিয়ে, তিনি বলেন: “দেখ! আমি দেখিতেছি, স্বর্গ খোলা রহিয়াছে, এবং মনুষ্যপুত্র [যীশু] ঈশ্বরের দক্ষিণে দাঁড়াইয়া আছেন।”—প্রেরিত ৭:৫৬.
২০-২২. একটি অভিজ্ঞতা কি করে প্রদর্শন করে যে ঈশ্বর প্রার্থনা শ্রবণ করেন?
২০ যিহোবার সেবকেরা যেমন প্রায়ই অভিজ্ঞতা করেছে, যিহোবা যে প্রার্থনা তাঁর উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে করা হয় তিনি তার উত্তর দিয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি আফ্রিকান দেশে যেখানে সাক্ষীদের কাজ বন্ধ, একজন অগ্রগামী বাসে করে উত্তরদিকে যাচ্ছিল তার সঙ্গে ছিল অনেক রাজ্যের সাহিত্যাদি ও চিঠি যা তার দেবার ছিল। যে পরিচারকটি বাসে জিনিষগুলি তুলছিল সে জিজ্ঞাসা করে: “এই বস্তার মধ্যে কি আছে?” ভাই যে কথা প্রথমে তার মনে আসে তাই বলে “ডাক।”
২১ তার গন্তব্য পথ ধরে বাস চলতে থাকে এবং একটি চেক্ পোস্ট পার হয়, তারপরই ট্রাফিক পুলীশ বাসটিকে ধাওয়া করে, এবং বাসকে থামায়, তারা মনে করে যে তাতে বেআইনী কিছু জিনিষ আছে। তারা আদেশ করে সব যাত্রীকে নেমে যেতে ও সব জিনিষ খুঁজে দেখতে। ইহা এক সঙ্কটকাল! সেই ভাই ওই কথায় রত ভীড়কে এড়িয়ে অল্পদূর এগিয়ে যায়, এবং যিহোবার কাছে হাঁটু গেড়ে বসে প্রার্থনা করে। যখন সে সেই ভীড়ের মধ্যে ফিরে আসে, প্রত্যেক যাত্রীর জিনিষপত্র খোলা হয় এবং খুব সতর্কতার সাথে সব খুটিনাটি পরীক্ষা করা হয়। যখন ভাইয়ের বস্তা খোলার সময় হয়, সে নীরবে যিহোবার নিকটে প্রার্থনা করে সাহায্যের জন্য।
২২ “এটা কার বস্তা আর এর মধ্যে কি আছে?” পুলীশের লোকটি চেঁচিয়ে ওঠে! ভাই মুখ খোলার আগেই, বাসের সেই পরিচারকটি উত্তর দেয়: “এটা ডাক -- পোস্ট অফিস থেকে -- পোস্ট অফিস যাচ্ছে।” অফিসার বলে “খুব ভাল।” “যাত্রার সময় এটা যেন ভাল করে রেখ সেই সম্বন্ধে দেখ,” এই আদেশ দেয়। সেই বিশেষ অগ্রগামী আবার তার জানু পাত করে প্রার্থনার শ্রবণকর্ত্তাকে ধন্যবাদ দেয়।—গীতসংহিতা ৬৫:২; হিতোপদেশ ১৫:২৯.
২৩. যিহোবা কি প্রমাণ করেছেন, কিন্তু কেন তবু কোন কোন সময় তিনি তাড়নার পূর্ণ সময়কাল পর্য্যন্ত চলতে দেন?
২৩ এর অর্থ এই নয়, যে যিহোবার লোকরা যে কোন বিপদ থেকে মুক্ত। কোন ক্ষেত্রে যেমন বাইবেলের সময় ও বর্ত্তমান দিনে, যিহোবা প্রদর্শন করেছেন যে তিনি তার লোকদের নিস্তার করতে পারেন। কিন্তু বিশ্বস্ততার উপর যে প্রশ্ন উঠেছে তার সাথে মিল রেখে, তিনি তাড়নার সম্পূর্ণ সময় সীমা আমাদের উপর দিয়ে যেতে দেন, (তুলনা করুন মথি ২৬:৩৯) যিহোবা, আপনা আপনি তার লোকেদের রক্ষা করেন না যেমন এক্সিডেন্ট, গৃহ যুদ্ধ, অথবা অপরাধের সময়, যদিও বাইবেল ভিত্তিক প্রজ্ঞা মূল্যবান প্রমাণিত হতে পারে। (হিতোপদেশ ২২:৩; উপদেশক ৯:১১) আমরা আস্থা রাখতে পারি যে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমরা নিস্তার পাই না পাই, আমাদের যে বিশ্বস্ততা তা পুরস্কৃত হবে যদি দরকার হয় পুনরুত্থানের মাধ্যমে।—মথি ১০:২১, ২২; ২৪:১৩.
২৪. কি প্রেমময় দান যিহোবা দিয়েছেন, কি করে আমরা তার প্রেমের প্রতি সাড়া দিতে পারি?
২৪ যিহোবার দানগুলি কত অপূর্ব! তিনি মানবজাতিকে দানস্বরূপ যে এই পৃথিবী ও অন্য সমস্ত কিছু দিয়েছেন তা সব হচ্ছে তার প্রেমের অপূর্ব অভিব্যক্তি। (গীতসংহিতা ১০৪:১, ১৩-১৬; ১১৫:১৬) ঈশ্বর করুণার সাথে তার পুত্র, যীশু খ্রীষ্টকে দানস্বরূপ দিয়েছেন, যাতে তার মাধ্যমে মানবজাতি পাপ ও মৃত্যু থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং তা হল সব থেকে প্রেমময় দান যা কখন দেওয়া হয়েছে। “আমাদিগেতে ঈশ্বরের প্রেম ইহাতেই প্রকাশিত হইয়াছে যে, ঈশ্বর আপনার একজাত পুত্রকে জগতে প্রেরণ করিয়াছেন, যেন আমরা তাঁহা দ্বারা জীবন লাভ করি। ইহাতেই প্রেম আছে; আমরা যে ঈশ্বরকে প্রেম করিয়াছিলাম, তাহা নয়; কিন্তু তিনিই আমাদিগকে প্রেম করিলেন, এবং আপন পুত্রকে আমাদের পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত হইবার জন্য প্রেরণ করিলেন। (১ যোহন ৪:৯, ১০) সেই প্রেমের প্রতি সাড়া দিতে গিয়ে, আমরা যেন দৃঢ়প্রত্যয় হই যে “কি মৃত্যু, কি জীবন, কি দূতগণ, কি আধিপত্য সকল, কি পরাক্রম সকল, কি ঊর্দ্ধ স্থান, কি গভীর স্থান, কি অন্য কোন সৃষ্ট বস্তু, কিছুই আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অবস্থিত ঈশ্বরের প্রেম হইতে আমাদিগকে পৃথক্ করিতে পারিবে না।”—রোমীয় ৮:৩৮, ৩৯. (w92 1/1)
[পাদটীকাগুলো]
This footnote is missing in Bengali.
এই প্রবন্ধের পুনরালোচনা
▫ বিশ্বস্ত থাকার অর্থ কি?
▫ কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা যিহোবার জন্য প্রেম প্রদর্শন করব?
▫ এই পরিচর্য্যা বৎসরের কোন রিপোর্ট আপনাকে সব থেকে বেশী আগ্রহী করেছে?
▫ যিহোবার প্রেমময় দান সম্বন্ধে আমরা কি করে উপলব্ধি দেখাতে পারি?
[১৩ পৃষ্ঠার বাক্স]
কেন এতজন অগ্রগামী?
প্রচলিত আছে, প্রায় ২,৬০০ বছর ধরে জাপানীরা তাদের সম্রাটদের একাগ্র উপাসক ছিল। বিংশ শতাব্দীর যুদ্ধগুলিতেই ৩০ লক্ষ্যেরও অধিক জাপানী যোদ্ধা তাদের প্রাণ দিয়েছে, কারণ তারা মনে করে যে তাদের সম্রাট-ঈশ্বরের জন্য মৃত্যুবরণ করার চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু নেই। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৌদ্ধ-শিনটো রণনীতি পরাস্ত হয়, এবং তার পরে সম্রাট তার ঈশ্বর-পদ অস্বীকার করেন। এই ধর্মীয় শূণ্যতা কিভাবে পূরণ করা যায়? আনন্দজনকভাবে, যিহোবার সাক্ষীদের মিশনারীদের দ্বারা এবং পরে স্থানীয় সাক্ষীদের দ্বারা কৃত গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন, অনেককে সত্য ঈশ্বর যিহোবাকে খুজেঁ পেতে এবং তাদের জীবন তাঁকে উৎসর্গ করতে সাহায্য করেছে। এই উৎসর্গীকরণ জাপানীদের কাছে অনেক অর্থ রাখে। যদি পূর্বে তারা একজন সম্রাট-ঈশ্বরের জন্য তাদের জীবন দান করতে সম্মত ছিল, তাহলে এখন আরও কত বেশী উদ্যোগের সাথে তারা অগ্রগামী হিসাবে তাদের শক্তি কাজে লাগাবে তাঁর সেবা করতে যিনি জীবন্ত ঈশ্বর এবং বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা—সার্বভৌম প্রভু যিহোবা!
[Pictures on page 14]
ঈশ্বরীয় স্বাধীনতার প্রেমীক—যিহোবার উপাসকেরা সম্মেলনে প্রাগ্, অগাস্ট ৯-১১, ১৯৯১