ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ৫/১ পৃষ্ঠা ১৬-২০
  • বিশুদ্ধ ওষ্ঠের মাধ্যমে এক হোন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • বিশুদ্ধ ওষ্ঠের মাধ্যমে এক হোন
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • আজকের দিনে এক ঈশ্বর দত্ত ভাষা!
  • বিশুদ্ধ ওষ্ঠের সংজ্ঞা
  • বিশুদ্ধ ওষ্ঠ এখন শিখুন!
  • বিশুদ্ধ ওষ্ঠে কথা বলুন ও চিরকাল বেঁচে থাকুন!
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনি কি সাবলীলভাবে ‘বিশুদ্ধ ওষ্ঠে’ কথা বলছেন?
    ২০০৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবার সংগৃহীত লোকেরা সারা পৃথিবীতে তাঁর প্রশংসা করেন
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ‘সমস্ত পৃথিবীতে এক ভাষা ছিল’
    আমাদের খ্রিস্টীয় জীবন ও পরিচর্যা—সভার জন্য অধ্যয়ন পুস্তিকা ২০২০
আরও দেখুন
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ৫/১ পৃষ্ঠা ১৬-২০

বিশুদ্ধ ওষ্ঠের মাধ্যমে এক হোন

“আর তৎকালে আমি জাতিগণকে বিশুদ্ধ ওষ্ঠ দিব, যেন তাহারা সকলেই যিহোবার নামে ডাকে ও একযোগে তাঁহার আরাধনা করে।—সফনিয় ৩:৯.

১. লোকেরা কি কখনও যিহোবাকে কথা বলতে শুনেছে?

যিহোবা ঈশ্বরের ভাষা শুদ্ধ। কিন্তু লোকে কি কখন তাকে কথা বলতে শুনেছে? কেন, হ্যাঁ! তা ঘটে যখন তাঁর পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট, পৃথিবীতে ছিলেন ১৯ শতাব্দী পূর্বে। উদাহরণস্বরূপ, যখন যীশু বাপ্তাইজিত হন, ঈশ্বরকে বলতে শোনা যায়: “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাতে আমি প্রীত।” (মথি ৩:১৩-১৭) এই উক্তি ছিল একেবারে বিশুদ্ধ সত্য, যা যীশু এবং যোহন বাপ্তাইজক মনুষ্য ভাষায় শুনতে পায়।

২. যখন পৌল ইংগিত করেন “দূতগণের . . . ভাষার প্রতি” তা কি দেখায়?

২ কিছু বৎসর পরে খ্রীষ্টীয় প্রেরিত পৌল “মনুষ্যদের এবং দূতগণের ভাষা” সম্বন্ধে বলেন। (১ করিন্থীয় ১৩:১) ইহা কি ইঙ্গিত করে? কেন, ইহা দেখায় যে কেবলমাত্র মনুষ্যদেরই ভাষা নেই কিন্তু আত্মিক ব্যক্তিদেরও ভাষা ও বাক্‌শক্তি রয়েছে! অবশ্যই, ঈশ্বর ও দূতেরা সেই আওয়াজে বা ভাষায় কথোপকথন করে না যা আমরা শুনতে বা বুঝতে পারি। কেন নয়? কারণ এমন একটি বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজন যা পৃথিবীকে ঘিরে আছে যাতে শব্দ তরঙ্গ ভেসে আসে এবং আমরা মনুষ্যরা শুনতে ও বুঝতে পারি।

৩. মনুষ্য ভাষার কিভাবে উৎপত্তি হয়?

৩ মনুষ্য ভাষা কি ভাবে আরম্ভ হয়? অনেকে বলে থাকে যে আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেক কষ্ট করে একজন আরেকজনের সাথে ঘোষ নির্ঘোষ করে। এভলিউশন (লাইফ নেচার লাইব্রেরী) বই এই সম্বন্ধে বলে: “প্রায় দশ লক্ষ্য বৎসর পূর্বে একজন এপ ম্যান . . . সম্ভবত কয়েকটি কথার আওয়াজ করায়ত্ব করে।” কিন্তু বিখ্যাত লেক্‌সিকোগ্রাফার লুডউইগ কোহেলার বলেন: “মনুষ্যের যে বাক্‌শক্তি তা এক রহস্য; এটা ঐশিক দান, একটি অলৌকিক ব্যাপার।” হ্যাঁ, মনুষ্য ভাষা এক ঐশিক দান, কারণ ঈশ্বর প্রথম মনুষ্য, আদমকে, একটি ভাষা দিয়েছিলেন। সম্ভবত ইহাকেই পরে হিব্রু বলা হয়। সেই ভাষা ইস্রায়েলীয়রা বলত যারা ছিল “অব্রাহাম সেই ইব্রীয়ের” বংশধর, বিশ্বস্ত একজন কুলপতি যার পূর্বপুরুষ সেম ছিল সেই জাহাজ নির্ম্মানকর্ত্তা নোহের পুত্র। (আদিপুস্তক ১১:১০-২৬; ১৪:১৩; ১৭:৩-৬, NW) ঈশ্বর যে ভাববাণীমূলক আশীর্বাদ সেমকে করেন তা দৃষ্টিতে রেখে, এই উপসংহারে পৌঁছান সঠিক হবে যে যিহোবা ৪৩ শতাব্দী পূর্বে যে আশ্চর্য্য কাজ করেন তার দ্বারা তার ভাষা প্রভাবিত হয়নি।

৪. নিম্রোদ কে ছিল, এবং তাকে শয়তান দিয়াবল কি ভাবে ব্যবহার করে?

৪ সেই সময় ‘সমস্ত পৃথিবীতে এক ভাষা ও একইরূপ কথা ছিল।’ (আদিপুস্তক ১১:১) তখন নিম্রোদ নামে এক ব্যক্তি জীবিত ছিল, “তিনি যিহোবার বিপক্ষে এক পরাক্রমি ব্যাধ ছিলেন।” (আদিপুস্তক ১০:৮, ৯, NW) মানবজাতির অদৃশ্য প্রধাণ শত্রু, শয়তান বিশেষ করে ব্যবহার করে নিম্রোদকে যাতে পৃথিবীতে দিয়াবলের সংগঠনের অংশ স্থাপন করতে পারে। নিম্রোদ তার নিজের জন্য এক নাম তৈরী করেত চায়, আর তার সেই উদ্ধত মনোভাব তার অনুগামীদের মধ্যেও বিস্তৃত হয়, যারা শিনয়ের সমস্থলীতে এক নির্মাণ কর্ম-পরিকল্পনায় নিজেদের নিযুক্ত করে। আদিপুস্তক ১১ অধ্যায় ৪ পদ অনুযায়ী, তারা বলে: “পরে তাহারা কহিল আইস, আমরা আপনাদের নিমিত্তে এক নগর ও গগণস্পর্শী এক উচ্চগৃহ নির্ম্মাণ করিয়া আপনাদের নাম বিখ্যাত করি, পাছে সমস্ত ভূমণ্ডলে ছিন্নভিন্ন হই।” এই কর্ম্মপ্রচেষ্টা যা ছিল “পৃথিবী পরিপূর্ণ কর” ঈশ্বরের সেই আজ্ঞার বিরুদ্ধে তা শেষ হয় যখন যিহোবা সেই বিদ্রোহীদের যে ভাষা তার ভেদ করেন। “সেইকারণে” বাইবেলের বিবরণ বলে, “যিহোবা তথা হইতে সমস্ত ভূমণ্ডলে তাহাদিগকে ছিন্নভিন্ন করিলেন, এবং তাহারা নগর পত্তন হইতে নিবৃত্ত হইল।” (আদিপুস্তক ৯:১; ১১:২-৯, NW) সেই নগরের নামকরণ করা হয় বাবিল, অথবা বাবিলন (অর্থ, “বিভ্রান্তি”), “কেননা সেই স্থানে যিহোবা সমস্ত পৃথিবীর ভাষার তালগোল পাকান।”—বাইংটন।

৫. (ক) যখন ঈশ্বর ভাষার ভেদ করেন তা কি রোধ করে? (খ) নোহ এবং সেমের ভাষা সম্বন্ধে আমরা কি উপসংহারে আসতে পারি?

৫ সেই আশ্চর্য্য কাজ—মনুষ্য ভাষার বিভ্রান্তি—পরিচালিত করে পৃথিবী পরিপূর্ণ করতে যে আজ্ঞা ঈশ্বর নোহকে দেন তাতে, এবং তা বাধা দেয় সেই সব কোন পরিকল্পনাকে যা শয়তানের হয়ত ছিল এক অশুদ্ধ উপাসনার সংযুক্তি স্থাপন করার তার নিজের জন্য সেই বিদ্রোহী মনুষ্যদের দ্বারা যারা স্বর্গ ও পৃথিবীর সার্বভৌম প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করেছে। সত্য, যে কোন উপায়ে মিথ্যা ধর্ম্ম পালন করে, লোকেরা দিয়াবলের শিকার হয়, এবং তারা মন্দ আত্মাদের সেবা করছিল যখন তারা দেবদেবীগণকে তৈরী করে, তাদের বিভিন্ন ভাষায় তাদের নাম দেয়, এবং তাদের উপাসনা করে। (১ করিন্থীয় ১০:২০) কিন্তু যে ক্রিয়া সত্য ঈশ্বর সাধন করেন বাবিলে তা এক মিথ্যা ধর্ম্মের সংযুক্তি সাধণ করতে বাধা দেয় যা সম্ভবত দিয়াবল তার নিজের জন্য আকাঙ্খা করে। অবশ্য, ধার্ম্মিক নোহ ও তার পুত্র সেম সেই শিনয়ের যে বিশৃঙ্খলতার মধ্যে কখন জড়িয়ে পড়েনি। তাই যুক্তিযুক্ত ভাবে বলা যেতে পারে যে তাদের যে ভাষা তাহাই একমাত্র থাকে যা অব্রাম (অথবা অব্রাহাম) বলে—যে ভাষায় ঈশ্বর আদম নামের ব্যক্তির সাথে এদোনে কথা বলেন।

৬. সাধারণ শতাব্দীর ৩৩ সালে, যিহোবা কি করে দেখান যে তাঁর শক্তি আছে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলাবার?

৬ যিহোবা যিনি মনুষ্যজাতির প্রথম ভাষার বিভ্রান্তি ঘটান, তিনি সেই ক্ষমতাও প্রদান করতে পারেন যাতে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা যেতে পারে। কেন, তিনি এইরূপ কাজ করেন আমাদের সাধারণ শতাব্দীর ৩৩ সালে পঞ্চাশত্তমীর দিনে! প্রেরিত ২:১-১১ অনুসারে, প্রায় ১২০ জন যীশু খ্রীষ্টের অনুগামী তারা যিরূশালেমে এক উপরের কুঠরীতে একত্রিত হয়। (প্রেরিত ১:১৩, ১৫, NW) হঠাৎ, স্বর্গ থেকে এক বিরাট শব্দ হয় “বায়ুর বেগের শব্দবৎ একটা শব্দ।” “অগ্নিবৎ জিহ্বা” তাদের দৃষ্টিগোচর হল ও সকলের উপর বসল। আর শিষ্যরা “তাহাতে তাহারা পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইলেন, এবং আত্মা তাহাদিগকে যেরূপ ভাষা দান করিলেন তাহারা সেইরূপ ভাষায় কথা কহিতে লাগিলেন।” সেই ঐশিকরূপে প্রাপ্ত ভাষায়, তারা “ঈশ্বরের আশ্চর্য্য কার্য্য সম্বন্ধে বর্ণনা করেন।” আর তা কি আশ্চর্য্যের কার্য্য না ছিল কারণ, যিহৃদী এবং ধর্ম্মান্তরিত যিহৃদী যারা অন্য ভাষাভাষী, সেই সব দূর দেশ থেকে আগত যেমন মিসপতামিয়া, মিশর, লিবিয়া, এবং রোম, সকলে এই জীবন-দায়ী ভাষা বুঝতে পারে!

আজকের দিনে এক ঈশ্বর দত্ত ভাষা!

৭. কি সম্ভাব্য আশা ছিল যদি সমস্ত বিশ্বে একটি ভাষা বলা ও বোঝা যেত?

৭ যেহেতু ঈশ্বর আশ্চর্য্যভাবে বিভিন্ন ভাষা দান করতে পারেন, তবে কি তা খুব সুন্দর হত না যদি তিনি ব্যবস্থা করতেন যাতে সম্ভবপর হয় বিশ্বব্যাপী একটি ভাষা বলা ও বোঝা? তা মনুষ্যপরিবারের মধ্যে বোধগম্যতা আরও বৃদ্ধি করত। যেমন দ্যা ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া এইভাবে বলে: “যদি সব লোক একই ভাষায় কথা বলত, তাহলে সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক সম্বন্ধ আরও নিকটের হত, এবং দেশগুলির মধ্যে সত সম্পর্কের আরও উন্নতি হত।” প্রায় ৬০০ বিশ্বভাষার উপস্থাপনা করা হয়েছে বিগত বৎসরগুলিতে। এর মধ্যে, এসপারানটো সব থেকে বেশী প্রভাবশালী প্রমাণিত হয়েছে কারণ ১০,০০০,০০০ লোক এই ভাষাটি শিখেছে ১৮৮৭-এ তা সৃষ্টির পর থেকে। তবুও, মনুষ্যপ্রচেষ্টা মানবজাতিকে এক করার একটি ভাষার মাধ্যমে সফলতা পায়নি। বাস্তবে, আরও বেশী সমস্যা দেখা দিচ্ছে যা এই জগতকে বিভক্ত করছে ‘যখন দুষ্ট লোকেরা উত্তর উত্তর কুপথে অগ্রসর হচ্ছে।’—২ তীমথিয় ৩:১৩.

৮. যদিও আজকের জগতে একটি বিশ্বব্যাপী ভাষা গ্রহণ করা হয়, তবুও কি বিরাজ করবে, এবং কেন?

৮ ধর্ম্মীয়ভাবে বলতে গেলে, দারুণ গোলযোগ আছে। কিন্তু আমাদের কি এইরূপ আশা করা উচিত নয়, যেহেতু বাইবেলের বই প্রকাশিত বাক্য মিথ্যা ধর্ম্মের বিশ্ব সাম্রাজ্যকে “মহতী বাবিল” বলে? (প্রকাশিত বাক্য ১৮:২) হ্যাঁ, কারণ “বাবিলন” কথার অর্থ হচ্ছে “বিভ্রান্তি।” যদি কোন কৃত্রিম অথবা সাভাবিক ভাষাকে যেমন ইংরাজি, ফরাসি, জার্মান, অথবা রাশিয়ানকে বিশ্বভাষা বলে গ্রহণ করা হয় আজকের জগতে, তবুও ধর্ম্মীয় ও অন্যভাবে ঐক্যের অভাব থাকবে। কেন? কারণ “সমস্ত জগত সেই পাপাত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছে,” শয়তান দিয়াবলের। (১ যোহন ৫:১৯) সে হল স্বার্থপরতার প্রধান, আর সে আকুলভাবে আকাঙ্খা করে যাতে সব মনুষ্য তাকে উপাসনা করে, যেমন সে চেয়েছিল নিম্রোদের সময় এবং বাবিলের সেই দুর্গ নির্ম্মাণ কালে। কেন, একটি বিশ্বব্যাপী ভাষা যা অসিদ্ধ মানুষ বলবে তা হয়ত শয়তানকে সুযোগ দিতে পারে এক সংযুক্ত দিয়াবলের উপাসনা গড়তে! কিন্তু যিহোবা তা কখন অনুমতি দেবেন না; অবশ্যই, তিনি খুব শীঘ্র সমস্ত মিথ্যা, দিয়াবল-অনুপ্রাণিত ধর্ম্মের শেষ করবেন।

৯. কি করে আজ সকল জাতি ও বংশের লোকদের একতায় আনা হচ্ছে?

৯ তবুও, আশ্চর্য্যের বিষয় হল যে সমস্ত জাতির ও বংশের সৎ ব্যক্তিরা এখনই ঐক্যে আসছে। ইহা ঘটছে ঈশ্বরের শর্তাবলী অনুসারে এবং তার উপাসনার সার্থে। আজ, ঈশ্বর মনুষ্যদের জন্য সম্ভব করছেন যাতে তারা পৃথিবীতে একমাত্র যে বিশুদ্ধ ওষ্ঠ আছে তা শিখতে পারে। আর তা সত্যই এক বিশ্বব্যাপী ভাষা। বর্ত্তমানে, যিহোবা ঈশ্বর এই বিশুদ্ধ ওষ্ঠ অনেক লোককে যারা পৃথিবীর অনেক জাতির মধ্যে থেকে এসেছে তাদের শিক্ষা দিচ্ছেন। এই পূর্ণতা ঈশ্বরের ভাববানীমূলক প্রতিজ্ঞার পূর্ণতা যা তিনি তার ভাববাদী ও সাক্ষী সফনিয়কে দিয়ে করান: “তৎকালে আমি জাতিগণকে বিশুদ্ধ ওষ্ঠ দিব, [বাস্তবপক্ষে, “পরিষ্কৃত ওষ্ঠ] যেন তাহারা সকলেই যিহোবার নামে ডাকে ও স্কন্ধে স্কন্ধ মিলিয়ে তাঁহার আরাধনা করে।” (সফনিয় ৩:৯, NW) এই বিশুদ্ধ ওষ্ঠ কি?

বিশুদ্ধ ওষ্ঠের সংজ্ঞা

১০. বিশুদ্ধ ওষ্ঠ কি?

১০ বিশুদ্ধ ওষ্ঠ হচ্ছে সেই সত্য যা ঈশ্বরের নিজের বাক্যে, পবিত্র শাস্ত্রে পাওয়া যায়। ইহা হল বিশেষ করে ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে সত্যগুলি, যা শান্তি ও অন্যান্য আশির্বাদগুলি মানবজাতির জন্য নিয়ে আসবে। বিশুদ্ধ ওষ্ঠ ধর্ম্মীয় যে ভ্রম আছে ও মিথ্যা উপাসনা আছে তার থেকে মুক্ত করে। ইহা সকলকে যারা এই ভাষা বলে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এক বিশুদ্ধ, পরিষ্কৃত, সাস্থ্যকর জীবন্ত সত্য ঈশ্বর যিহোবার, উপাসনায়। আজ, প্রায় ৩,০০০ ভাষা বোধগম্যতার বিপক্ষে বাধাস্বরূপ, এবং শত শত যে মিথ্যা ধর্ম্ম তা মানবজাতিকে বিভ্রান্ত করে। তাই আমরা কত খুশী যে ঈশ্বর লোকদের তার অপূর্ব, বিশুদ্ধ ভাষায় পরিবর্ত্তন দিচ্ছেন!

১১. বিশুদ্ধ ওষ্ঠ সব জাতির ও বংশের লোকদের জন্য কি করেছে?

১১ হ্যাঁ, এই বিশুদ্ধ ভাষাকে সমস্ত জাতির ও বংশের লোকেরা করায়ত্ত করছে। আত্মিকভাবে যা পৃথিবীতে এখন একমাত্র বিশুদ্ধ ভাষা, তা ঐক্য সাধনের এক প্রবল শক্তিরূপে কাজ করছে। আর ইহা সকলকে যারা এই ভাষা বলে তাদের সাহায্য করে “যেন তাহারা যিহোবার নামে ডাকে, যাতে তারা তাকে স্কন্ধে স্কন্ধ মিলিয়ে সেবা করতে পারে,” অথবা আক্ষরিকভাবে “এক স্কন্ধে।” তাই তারা ঈশ্বরকে “একমতে,” “সর্বসম্মতভাবে একমতে এক স্কন্ধে” সেবা করতে পারে। (দ্যা নিউ ইংলিশ বাইবেল; দ্যা অ্যাম্পলিফাইড বাইবেল) স্টিফান টি. বাইংটনের অনুবাদ এই মত পড়ে: “তখন আমি [যিহোবা ঈশ্বর] সকল লোকেদের ওষ্ঠ পরিষ্কৃত করিব, যেন তারা যিহোবার নামে ডাকে এবং তার সেবায় সহযোগিতা করে।” এইরকম বিশ্বব্যাপী বহুভাষাবিশিষ্ট সহযোগিতা ঈশ্বরের সেবায় কেবলমাত্র আজ যিহোবার সাক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করে। আজ ২১২ দেশে, প্রায় চল্লিশ লক্ষ্যের উপর রাজ্যের প্রচারকেরা এই সুসমাচার অনেক ভাষায় প্রচার করছে। তবুও, সাক্ষীরা “একই কথা বলে” এবং “এক মনে ও এক বিচারে পরিপক্ক হয়।” (১ করিন্থীয় ১:১০, NW) ইহা এইরূপ কারণ, তারা পৃথিবীর যে কোন স্থানে থাকুক না কেন, সব যিহোবার সাক্ষীরা একই বিশুদ্ধ ওষ্ঠ বলে, তাদের স্বর্গীয় পিতার প্রসংশায় ও গৌরবার্থে।

বিশুদ্ধ ওষ্ঠ এখন শিখুন!

১২, ১৩. (ক) আপনি কেন বিশুদ্ধ ভাষা বলার জন্য চিন্তিত হবেন? (খ) সফনিয় ৩:৮, ৯ পদের কথা আজ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

১২ আপনি বিশুদ্ধ ওষ্ঠে কথা বলার ব্যাপারে এত চিন্তিত হবেন কেন? একটি কারণ হল, তা শেখা ও বলার উপর আপনার জীবন নির্ভর করছে। ঈশ্বর লোকেদের “বিশুদ্ধ ওষ্ঠে পরিবর্তন” দেবার প্রতিজ্ঞা করার পূর্বে, তাদের সাবধান করেন: “‘তোমরা সেই দিন পর্য্যন্ত আমার অপেক্ষায় থাক,’ ইহা যিহোবা কহেন, ‘যে দিন আমি হরণ করিতে উঠিব; কেননা আমার বিচার এই; আমি জাতিগণকে সংগ্রহ করিয়া ও রাজ্য সকল একত্র করিয়া তাহাদের উপরে আমার ক্রোধ, আমার সমস্ত কোপাগ্নি ঢালিয়া দিব; বস্তুতঃ আমার অন্তর্জ্বালার তাপে সমস্ত পৃথিবী অগ্নিভক্ষিত হইবে।’”—সফনিয় ৩:৮, NW.

১৩ সর্বশক্তিমান প্রভু যিহোবার এই কথাগুলি প্রথম বলা হয় ২৬ শতাব্দী পূর্বে যিহৃদায়, যার রাজধানী ছিল যিরূশালেম। কিন্তু সেই উক্তি বিশেষ করে আমাদের দিনের জন্য অর্থ রাখে কারণ যিরূশালেম ছিল খ্রীষ্টীয় জগতের এক নমূনাস্বরূপ। আমাদের সময়, যখন থেকে ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্য স্থাপিত হয়েছে ১৯১৪ সাল থেকে, তখন থেকে যিহোবার সময় জাতিগণকে এবং রাজ্যগুলিকে একত্র করার। তিনি তাদের সকলকে তাঁর বিরাট সাক্ষ্যের কাজের মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টির অধীনে নিয়ে এসেছেন। এর ফলে, ইহা তাদেরকে তাঁর উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুলেছে। যাহাহোক, যিহোবা ঈশ্বর করুণার সাথে সমস্ত জাতি থেকে লোকদের সাহায্য করছেন যাতে তারা একত্রে বিশুদ্ধ ওষ্ঠ বলতে পারে। তার সাথে, যারা তাঁর প্রতিজ্ঞাত নতুন জগতে জীবন চায় যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর সেবা করে জাতিগণ তাঁর অগ্নিতুল্য ঐশিক ক্রোধের অভিব্যক্তিতে ধ্বংস হবার জন্য “ঈশ্বরের মহাদিনের সেই যুদ্ধার্থে তাহাদিগকে একত্রিত,” করবার পূর্বে, যাকে সাধারণতঃ হর্‌মাগিদোন বলে।

১৪. সফনিয়ের মাধ্যমে যিহোবা কি করে দেখান যে, এই জগত পরিস্থিতির শেষ থেকে বাঁচতে হলে তা সত্বর কাজের চাহিদা করে?

১৪ তাঁর ভাববাদী সফনিয়কে দিয়ে, যিহোবা পরিষ্কার করেন যে যারা আশা করছে বর্ত্তমান দুষ্ট পরিস্থিতি থেকে বেঁচে যেতে তারা যেন অবিলম্বে কাজ করে। সফনিয় ২:১-৩ অনুযায়ী, ঈশ্বর বলেন: “হে লজ্জাহীন জাতি, তোমরা একত্র হও, হাঁ, একত্র হও, কেননা দণ্ডাজ্ঞা সফল হইবার সময় হইল, দিন ত তুষের ন্যায় উড়িয়া যাইতেছে; যিহোবার ক্রোধাগ্নি তোমাদের উপরে আসিয়া পড়িল, যিহোবার ক্রোধের দিন তোমাদের উপরে আসিয়া পড়িল। হে দেশস্থ সমস্ত নম্র লোক, তাঁহার শাসন পালন করিয়াছ যে তোমরা, তোমরা যিহোবার অন্বেষণ কর, ধর্ম্মের অনুশীলন কর, নম্রতার অনুশীলন কর; হয় ত যিহোবার ক্রোধের দিনে তোমরা গুপ্তস্থানে রক্ষা পাইবে।”

১৫. (ক) সফনিয় ২:১-৩ প্রথমে কখন পূর্ণ হয়? (খ) কে যিহৃদার সেই ঈশ্বরের বিচার থেকে বেঁচে যায়, আজ কারা সমভাবে আমাদের দিনে রক্ষা পেয়ে যাবে?

১৫ এই কথাগুলি প্রাচীনকালে যিহৃদা ও যিরূশালেমের উপর প্রাথমিক পরিপূর্ণতা লাভ করে। যিহৃদার যে পাপী লোকেরা ছিল তারা ঈশ্বরের যে আবেদন তাতে অনুগ্রহপূর্বক সাড়া দেয়নি, যা ৬০৭ খ্রীষ্টপূর্বের বাবিলনিয়দের দ্বারা যে বিচারাজ্ঞা তা প্রদর্শণ করে। যদিও যিহৃদা সেই জাতি ছিল যে “জাতি লজ্জায় নত হয়নি” ঈশ্বরের সাক্ষাতে, ঠিক তেমনি খ্রীষ্টীয় জগত যিহোবার সাক্ষাতে লজ্জাহীন “জাতি” হয়েছে। যেহেতু কিছু যিহৃদীরা ও অন্যরা, ঈশ্বরের বাক্য শুনেছিল তারা বেঁচে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন যিহোবার বিশ্বস্ত ভাববাদী যিরমিয়। অন্য যারা বেঁচে গিয়েছিল তার মধ্যে ছিল এবেদ-মেলক নামক একজন ইথিওপিয় এবং যোনাদবের বংশধর ছিল । (যিরমিয় ৩৫:১৮, ১৯; ৩৯:১১, ১২, ১৬-১৮) একইভাবে আজও, “বিরাট জনতা” যারা যীশুর “অপর মেষ” তাদের একত্র করা হচ্ছে সমস্ত জাতি থেকে যেন তারা হরমাগিদোন পার হয়ে ঈশ্বরের নতুন রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে। (প্রকাশিত বাক্য ৭:৯; যোহন ১০:১৪-১৬) কেবলমাত্র যারা বিশুদ্ধ ওষ্ঠ শেখে ও বলে তারাই এই আনন্দপূর্ণ রক্ষাপ্রাপ্তদের মধ্যে হবে।

১৬. “যিহোবার সেই ক্রোধের দিনে” রক্ষা পাওয়ার জন্য এখন একজনকে কি করতে হবে?

১৬ ঠিক যেমন যিহোবা বিধিবদ্ধ করেন যে যিহৃদা এবং যিরূশালেম মুছে যাবে, ঠিক তেমনি খ্রীষ্টীয় জগতকে ধ্বংস হতে হবে। সমস্ত মিথ্যা ধর্ম্মের ধ্বংস, অবশ্যই নিকটে, এবং যারা বেঁচে যেতে চায় তাদের শীঘ্রই কাজ করতে হবে। তাদের তা করতে হবে “দিন তুষের ন্যায় উড়িয়া যাইবার পূর্বে,” হাওয়া তাড়াতাড়ি ঠিক যেমন মর্দন ক্ষেত্রে শষ্যকে হাওয়া বয়ে নিয়ে যায়। ঈশ্বরের আগত ক্রোধ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, আমাদের বিশুদ্ধ ওষ্ঠ বলা উচিত এবং ঈশ্বরের যে সতর্কবাণী তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত যিহোবার সেই প্রজ্জ্বলিত ক্রোধ আমাদের উপর আসার আগে। সফনিয়ের দিনের মত আজও, যারা নম্র তারা ধার্ম্মিকতা এবং নম্রতার সাথে যিহোবার অন্বেষন করে। আমাদের যিহোবাকে অন্বেষন করার অর্থ হচ্ছে আমাদের সমস্ত হৃদয় দিয়ে, প্রাণ, মন, এবং শক্তি দিয়ে তাঁকে প্রেম করা। (মার্ক ১২:২৯, ৩০) “হয় ত [যারা এইরূপ করছে] যিহোবার ক্রোধের দিনে রক্ষা পাবে।” কিন্তু এই ভাববাণী কেন বলে “হয় ত”? কারণ মুক্তি নির্ভর করছে বিশ্বস্ততা ও ধৈর্য্যের উপর। (মথি ২৪:১৩) তারা যারা ঈশ্বরের যে ধার্ম্মিক মান আছে তার সাথে মান বজায় রাখে এবং বিশুদ্ধ ওষ্ঠ বলতে থাকে তারা যিহোবার ক্রোধের দিনে রক্ষা পাবে।

১৭. কি প্রশ্নগুলি আমাদের বিবেচনার জন্য রয়ে গেছে?

১৭ যেহেতু যিহোবার ক্রোধের দিন নিকটে এবং আমাদের মুক্তি নির্ভর করে বিশুদ্ধ ওষ্ঠ শেখা ও তা ব্যবহার করার উপর, এখন হচ্ছে সময় গভীরভাবে তা অধ্যয়নে ও বলাতে লিপ্ত হওয়া। কিন্তু কি করে ব্যক্তিরা এই বিশুদ্ধ ওষ্ঠ শিখতে পারে? আর আপনি কি করে তা বলার দ্বারা উপকার পেতে পারেন? (w91 5/1)

আপনি কি ভাবে উত্তর দেবেন?

▫ মনুষ্য ভাষার কি করে উৎপত্তি হয়?

▫ বিশুদ্ধ ওষ্ঠ কি?

▫ সফনিয় ৩:৮, ৯ পদের কথাগুলি আজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

▫ “যিহোবার ক্রোধের দিনে” রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের কি করা উচিত?

[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

বাবিলে, ঈশ্বর মানবজাতিকে বিভ্রান্ত করেন তাদের ভাষা ভেদ করে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার