আপনি কি নির্দেশ মেনে চলেন?
ছেলেমেয়েরা যাতে জীবনে উন্নতি করতে পারে ও পরিণত বয়সে সুখী হতে পারে সেই উদ্দেশ্যে একজন প্রেমময় পিতা তাদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আর যে ছেলেমেয়েরা তাদের পিতামাতাকে প্রেম ও সম্মান করে তারা ঐ শিক্ষা গ্রহণ করবে কারণ তারা জানে যে সেটা তাদেরই মঙ্গলের জন্য। ঠিক সেইভাবে আমাদের প্রেমময় পিতা তাঁর সেবকদের পরিচালনা দিয়ে থাকেন যা তাদের জীবনে উন্নতি ও আনন্দ আনে। তাই তাঁর বাক্য, বাইবেল, ও তাঁর পার্থিব সংগঠনের মাধ্যমে যে নির্দেশ ঈশ্বর আমাদের দিনে দিয়ে থাকেন তা মেনে চলা আমাদের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারের মধ্যে
বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটা হল পারিবারিক চক্র। বিবাহ ও পরিবারের উৎস হলেন ঈশ্বর। বাইবেল বলে ঈশ্বর প্রথম মানব দম্পতির বিবাহ দেন ও তাদের সন্তান উৎপন্ন করতে আজ্ঞা দেন। (আদিপুস্তক ১:২৭, ২৮; ২:২২-২৪) সৃষ্টিকর্তা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যাকে তাদের কর্তব্য সম্বন্ধে নির্দেশ দেন। যেমন, স্বামী ও পিতা হল পরিবারের মস্তক, তাই তিন পরিবারের ভরন-পোষণ, নির্দেশ, সুরক্ষা, অনুশাসনের জন্য দায়ী। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি নেন। স্বামী হিসাবে তার উচিৎ হবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাত্র বলে, তার স্ত্রীর প্রতি বিবেচক হওয়া। (ইফিষীয় ৫:২২, ২৩; ১ তীমথিয় ৫:৮; ১ পিতর ৩:৭) স্ত্রীর উচিৎ স্বামীর বশীভূত হয়ে তাকে সম্মান প্রদর্শন করা ও তার সঙ্গে কাজ করা। আর শাস্ত্র দেখায় যে সন্তানদের উচিৎ তাদের পিতামাতার বাধ্য হয়ে চলা।—আদিপুস্তক ২:১৮; ইফিষীয় ৬:১-৩; ১ পিতর ৩:১, ২।
এই নির্দেশনা সকল না মানলে ফল কি হবে? স্ত্রীদের প্রতি স্বামী বিবেচক না হওয়ায় ও স্ত্রীরা স্বামীদের মস্তক হিসাবে সম্মান না দেখালে মতভেদ ও তর্কবিতর্ক আরম্ভ হতে পারে। এমনকি তা অনেক বিবাহের ভাঙ্গন ধরিয়েছে। সন্তানদের অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ মনোভাব অনেক পিতামাতার মনে দুঃখ এনেছে। উপযুক্তভাবে শাসন না করে মানুষ করে তোলায় সন্তানদের বিরক্তিভাবাপন্ন করার জন্য প্রায়ই পিতামাতাদের দায়ী হতে হয়।—ইফিষীয় ৬:৪.
সমাজসেবীরা, মনোবিজ্ঞানীরা ও অন্যেরা যদিও পারিবারিক সমস্যার সমাধান সম্বন্ধে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন, বাইবেলের মধ্যে দেওয়া পরিবারের সৃষ্টিকর্তার নির্দেশাবলীর থেকে বেশী উপযুক্ত পরামর্শ আর কি হতে পারে। তা মেনে চললে প্রকৃত সুখ ও তৃপ্তি আনে।—গীতসংহিতা ১৯:৭-৯.
মণ্ডলীর মধ্যে
মণ্ডলীর মস্তক যীশু খ্রীষ্ট পৃথিবীতে স্থিত ঈশ্বরের নিযুক্ত প্রণালী, “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসের” মাধ্যমে যে নির্দেশ দিয়ে থাকেন তা আমাদের মেনে চলা উচিৎ। (মথি ২৪:৪৫-৪৭; ইফিষীয় ৫:২৩) মণ্ডলীর মধ্যে শান্তি ও একতা বজায় রাখতে হলে প্রত্যেক সদস্যকে পরিচালনা অনুযায়ী চলতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, মণ্ডলীতে শিক্ষা দিতে ও অন্যদের সাহায্য করে থাকেন যারা, তাদের যিহোবার সংগঠন থেকে পাওয়া পরিচালনাতে লেগে থাকতে হবে। তাদের কাজে দক্ষ হতে সেটাই তাদের সাহায্য করবে। তাদের প্রতি নির্দেশ হতে পারে, প্রচার কাজে কিভাবে অংশ নেওয়া যায়, মণ্ডলীর মধ্যে সমস্যার সমাধান কিভাবে করা যায়, পরামর্শ ও উৎসাহ কিভাবে দেওয়া যায়, কিভাবে শোকার্ত্তকে সান্ত্বনা দেওয়া যায় ইত্যাদি। খ্রীষ্টিয় মণ্ডলীর সভ্যদের জন্য কিভাবে শিক্ষামূলক ও গঠণমূলক সভা প্রস্তুত করা যায়, সেবিষয়েও পরিচালনা দেওয়া হয়।—প্রেরিত ২০:২০; রোমীয় ১২:৬-৮; গালাতীয় ৬:১; ১ থিষলনীকীয় ৩:১-৩.
এ ব্যাপারে মণ্ডলীর প্রাচীন বা অধ্যক্ষেরা বিশেষভাবে আদর্শ স্থাপন করতে পারেন। বা গভর্নিং বডি যে নির্দেশাবলী পাঠিয়ে থাকেন প্রাচীনেরা যেন যত্ন সহকারে ও বিশ্বস্তভাবে তা মেনে চলেন। তারা যেন স্থানীয় অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নির্দেশগুলি প্রয়োগ করেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে খ্রীষ্টিয় মণ্ডলীর পরিচালনা যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং করেন। সারা পৃথিবীর প্রত্যেক মণ্ডলীর চাহিদা সম্বন্ধে তিনি ভাল ভাবেই জানেন ও প্রয়োজনীয় উৎসাহ ও সাহায্য দিয়ে থাকেন। তাই ঈশ্বরের ঐশিক সংগঠন থেকে পাওয়া কোন পরিচালনা কাজে প্রয়োগ করতে প্রাচীনেরা যেন কখনই ইতস্ততঃ না করেন। প্রত্যেক মণ্ডলীর সকল সভ্যদের জন্য এটি একটি উত্তম আদর্শ হয়ে উঠবে ও সেটিই তাদের নিজেদের মধ্যে ও পৃথিবীব্যাপী খ্রীষ্টিয় ভ্রাতৃত্বের মধ্যে একতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।—প্রেরিত ১৫:১-৩১; ইব্রীয় ১৩:৭; প্রকাশিত বাক্য ৫:৬.
আনন্দদায়ক ফলাফল
গৃহনির্মাতা যখন কোন বহুতল বাড়ি নির্মাণ করেন, তখন তিনি সযত্নে স্থাপত্যবিদের নকশা অনুসারে কাজ করেন যাতে তার ইমারৎ স্থায়ী হয়। প্লাবনের পূর্ববর্ত্তী দৌরাত্মপূর্ণ দিনগুলিতে নোহকে এক জাহাজ তৈরী করার কার্য্যভার দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়েছিল যে তিনি কিভাবে তা করবেন, ও প্লাবন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কি ধরণের মানুষ ও যারা পশু তার সাথে জাহাজে ছিল মধ্যে আনতে হবে। নোহ কিভাবে তাতে সাড়া দেন? বাইবেল বলে: “তাহাতে নোহ সেইরূপ করিলেন, ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে সকল কর্ম্ম করিলেন।” কেবল নোহ ও তার সঙ্গী জাহাজের প্রাণীরা প্লাবন থেকে রক্ষা পেয়েছিল। (আদিপুস্তক ৬:৫, ১৩-২২; ৭:২৩) আজ, আমরা নোহের সময়ের মত একই পরিস্থিতিতে বাস করছি এবং এই কারণেই ঈশ্বর সমস্ত দুষ্টলোকদের ধ্বংস করবেন। উদ্ধার পেতে হলে আমাদের কি করতে হবে, বাইবেল সে বিষয় আমাদের বলে।—মথি ২৪:৩৭-৩৯; ২ পিতর ৩:৫-৭, ১১.
সুতরাং, যিহোবা তাঁর লিখিত বাক্য ও তাঁর পার্থিব সংগঠনের মারফৎ যে সব নির্দেশ দিয়ে থাকেন তা যেন আমরা উপলব্ধির সাথে গ্রহণ করি ও মেনে চলি। তা করলে আমাদের জন্যে আসবে উন্নতি ও আনন্দ, এবং তাছাড়াও আমাদের জীবনকে রক্ষা করবে।