আপনার জীবন কি অদৃষ্টের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিৎ?
তালিকাতে, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি যিনি অদৃষ্টের উপর বিশ্বাস করেননি তিনি হলেন যীশু খ্রীষ্ট। তাঁর কি ধারণা ছিল?
যীশুর প্রথম শতাব্দীর জীবন-চরিত সম্বন্ধীয় বিবরণ (বাইবেল পুস্তক মথি, মার্ক, লূক এবং যোহন) তাঁর বিশ্বাস সম্পর্কে জানায় যে ব্যক্তিরা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের উপর প্রভাব আনতে পারে যে ঘটনাগুলি তাদের জীবনে ঘটে সেগুলির অর্থ করে নেওয়ার দ্বারা।
উদাহরণস্বরূপ, যীশু বলেছিলেন যে যাহারা ঈশ্বরের কাছে “যাঞ্চা করে, তাহাদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিবেন” এবং সেই ব্যক্তি যে “শেষ পর্যন্ত স্থির থাকিবে, সেই পরিত্রাণ পাইবে।” একইভাবে, যখন যিরূশালেমবাসীরা তাদের জীবনরক্ষার সাবধানবাণীকে অগ্রাহ্য করেছিল, যীশু তাদের প্রতিক্রিয়াকে অদৃষ্টের উপর দোষারোপ করেননি। তিনি বলেছিলেন: “তোমরা সম্মত হইলে না।”—মথি ৭:৭-১১; ২৩:৩৭, ৩৮; ২৪:১৩।
যিরূশালেমে যে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছিল সে সম্পর্কে যীশু যা বলেছিলেন তা থেকে আমরা যীশুর দৃষ্টিভঙ্গি কিরূপ ছিল তা উপলব্ধি করতে পারি, তিনি বলেছিলেন: “সেই আঠারো জন, যাহাদের উপরে শীলোহে স্থিত উচ্চগৃহ পড়িয়া গিয়া তাহাদিগকে মারিয়া ফেলিল, তোমরা কি তাহাদের বিষয়ে মনে করিতেছ যে, তাহারা যিরূশালেমনিবাসী অন্য সকল লোক অপেক্ষা অধিক অপরাধী ছিল? আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তাহা নয়।” (লূক ১৩:৪, ৫) লক্ষ্য করুন যে যীশু এখানে ১৮ জন ব্যক্তির মৃত্যু সম্পর্কে অদৃষ্টের দোহাই দেন নাই, তিনি এত বলেন নি যে এই ১৮ জন অন্যান্য ব্যক্তিদের তুলনায় বেশী দুষ্ট ছিল। কিন্তু তাঁর দিনের ফরীশীরা যারা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার বিশ্বাসের সঙ্গে অদৃষ্টবাদের সামঞ্জস্য দেখাতে চাইতো তাদের মত না হয়ে, যীশু শিখিয়েছিলেন যে মানুষ তার নিজের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
একইভাবে, যীশুর প্রেরিতরা শিক্ষা দিয়েছিলেন যে পরিত্রাণ ব্যক্তিগত ইচ্ছার বিষয় সকলের পাওয়ার জন্য। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “তুমি তো পবিত্র শাস্ত্রকলাপ জ্ঞাত আছ, যে সকল তোমাকে পরিত্রাণের নিমিত্ত জ্ঞানবান করিতে পারে।” আর প্রেরিত পিতর বলেছিলেন “নবজাত শিশুদের ন্যায় সেই পারমার্থিক অমিশ্রিত দুগ্ধের লালসা কর, যেন তাহার গুণে পরিত্রাণর জন্য বৃদ্ধি পাও।” (২ তীমথিয় ৩:১৫; ১ পিতর ২:২; এছাড়া দেখুন প্রেরিত ১০:৩৪, ৩৫; ১৭:২৬, ২৭.) হেস্টিংস্ এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিজিয়ন এণ্ড্ এথিক্স্ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর লেখকদের উপর আলোকপাত করে, যেমন জাস্টিন, ওরিগেন, এবং আইরিনেয়াস্ ‘শর্তহীন অদৃষ্টের পূর্বনির্ধারণ কিছুই জানতেন না; তারা স্বাধীন ইচ্ছার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন।’
কিন্তু যখন বহু ব্যক্তিরা যার অন্তর্ভূক্ত ছিল চারিদিকে বসবাসকারী বহু যিহুদীরাও, যারা অদৃষ্টবাদে বিশ্বাস করতেন, তাহলে কেন যীশু ও প্রাথমিক খ্রীষ্টানরা বিশ্বাস করতেন না যে মানুষের অদৃষ্ট স্থিরীকৃত? একটি কারণ হল এই ধারনাটি সমস্যাপূর্ণ। শুধুমাত্র দুটির উল্লেখ করা যেতে পারে: অদৃষ্টবাদ যিহোবা ঈশ্বরের গুণসকলের বিপরীত; তা প্রতিষ্ঠিত ঘটনার দ্বারা খন্ডন করা হয়েছে। এছাড়াও, ইহা আপনার বর্ত্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনকে বিপদগ্রস্থ করে তুলতে পারে। নিবিষ্টভাবে দেখার দ্বারা আপনি বুঝতে পারবেন ইহা কিরূপে সত্য।
অদৃষ্টবাদের জটিলতাসকল এবং ঈশ্বরের গুণগুলি
অতীতে সাধারণ শতাব্দীর তৃতীয় শতক পূর্বে, দার্শনিক সিটিয়ামের যেনো এথেন্সে তার ছাত্রদের শেখান যে “তারা যেন অদৃষ্টের রায়কে কোন লুকানো পথে শ্রেষ্ঠ” বলে গ্রহণ করে। যাই হোক, একদিন, যখন যেনো জানতে পারেন যে তার দাস চুরির দায়ে দোষী, তখন যেনো তার নিজের দর্শনবাদের জটিলতার সম্মুখীন হলেন। কেমন করে? যখন তিনি চোরটিকে প্রহার করেন, তখন দাসটি প্রত্যুত্তর দেয়: “কিন্তু এটা তো আমার অদৃষ্টে ছিল যে আমার চুরি করা উচিৎ।”
যেনোর দাসের একটা বিষয় ছিল। যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি মানুষের জীবনধারা পূর্বনির্ধারিত, তাহলে একজন ব্যক্তির চোরে পরিণত হওয়ার জন্য তাকে দোষী করা হল একটি কমলা লেবুর বীজকে কমলা লেবুর গাছে পরিণত হওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা। শেষপর্যন্ত, ব্যক্তিটি ও বীজটি উভয়েই বৃদ্ধি পায় তাদের অনুক্রম অনুসারে। তাহলে এই ধরনের যুক্তির চূড়ান্ত জটিলতা কোথায়?
হ্যা, যদি অপরাধীরা তাদের অদৃষ্ট অনুসরণ করে চলে, তাহলে যিনি তাদের অদৃষ্টকে নিরূপণ করেছেন, তিনিই হবেন তাদের অপরাধের জন্য দোষী। তিনি কে হবেন? অদৃষ্টবাদীদের ধারণা অনুযায়ী, ঈশ্বর নিজে। এই যুক্তিকে এক বিরাট পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়ে গেলে, অবশ্যই ঈশ্বর হবেন মনুষ্যকৃত সমস্ত দুষ্টতা, দৌরাত্ম ও যাতনার স্রষ্টা। আপনি কি ইহা মেনে নেন?
নেদারল্যাণ্ডস্ থিওলজিস্ক্ তিজ্শ্রি-ফ্ট-এর (ডাচ্ ধর্মতত্ত্ব পত্রিকা) একটি প্রবন্ধ লেখে যে এমন অদৃষ্টবাদের দৃষ্টিভঙ্গি “আগে থেকে ঈশ্বরের এক ভাবমূর্ত্তিকে অনুমান করে নেয় যা অন্তত খ্রীষ্টানদের পক্ষে অযৌক্তিক।” কেন? কারণ অনুপ্রাণীত বাইবেল লেখকদের দ্বারা উপস্থাপিত ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তির ইহা সম্পূর্ণ বিরোধী। উদাহরণস্বরূপ লক্ষ্য করুন, অনুপ্রাণীত গীতসংহিতা পুস্তক থেকে উদ্ধৃত অংশগুলি: “কেননা তুমি দুষ্টতাপ্রিয় ঈশ্বর নহ।” “দৌরাত্মপ্রিয় লোক তাঁহার প্রাণের ঘৃণাস্পদ।” “তিনি [ঈশ্বরের মনোনীত মশীহ রাজা] চাতুরী ও দৌরাত্ম হইতে তাহাদের প্রাণ মুক্ত করিবেন।” (গীতসংহিতা ৫:৪; ১১:৫; ৭২:১৪) স্পষ্টতই, অদৃষ্টবাদের জটিলতাগুলি এবং ঈশ্বরের গুণসকল সরাসরি পরস্পর বিরোধী।
অদৃষ্টবাদ ও বাস্তব ঘটনা
প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে কি বলা যেতে পারে? এগুলি কি অদৃষ্টের অধীন এবং সেজন্য প্রতিহত করা অসম্ভব?
কিন্তু বাস্তব ঘটনা কি প্রদর্শন করে? লক্ষ্য করুন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে গবেষণা করে যা পাওয়া গেছে সে সম্পর্কে একটি ডাচ্ সংবাদপত্র এন. আর. সি. হ্যাণ্ডেলস্ব্লাড কি জানায়: “এখন অবধি ভূকম্প, বন্যা, ধ্বস্ ও ঘূর্ণিঝড় . . . সবসময়েই প্রাকৃতিক লীলা বলে বিবেচনা করা হয়ে এসেছে। যাইহোক আরও সুক্ষ্ম বিবেচনায় দেখা যায় প্রকৃতির সহিত মানুষের হস্তক্ষেপ বিপর্যয়ের সময়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার আত্মরক্ষার ক্ষমতাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। তার ফলস্বরূপ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় আরও অধিক জীবনের হানি করেছে যা অতীতে আর কখনো হয়নি।”—ইটালিকস্ আমাদের।
আগের প্রবন্ধে বাংলাদেশের যেসব বন্যাগুলির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি এর উদাহরণ। বৈজ্ঞানিকেরা মন্তব্য করেন “নেপাল, উত্তরভারত ও বাংলাদেশের বিশাল বনবিভাগের ধ্বংসসাধন, সম্প্রতিকালে বাংলাদেশের বন্যাগুলির প্রধাণ কারণস্বরূপ হয়েছে।” (ভয়েস্ পত্রিকা) আর একটি রিপোর্ট জানায় যে বনবিভাগের অপসারণ বাংলাদেশের বন্যাগুলি হবার কারণ, প্রতি ৫০ বৎসরে যেখানে একটি বন্যা হত, এখন তা প্রতি ৪ বৎসরে নেমে এসেছে। পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে প্রকৃতির বিভিন্ন নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ একই রূপে বিপর্যয় ডেকে এনেছে—খরা, অরণ্যে অগ্নিকাণ্ড, ধ্বস্, ইত্যাদি। হ্যাঁ মনুষ্যের অপকার্য্য—অদৃষ্ট নয়—প্রায়ই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ।
তাই হলে, মনুষ্যের কার্য্য এর ঠিক বিপরীতও হওয়া উচিৎ: বিপর্যয় কমিয়ে দেওয়া উচিৎ। তা কি ঘটেছে? অবশ্যই। এই ঘটনাগুলি বিবেচনা করুন: UNICEF (United Nations Children’s Fund) রিপোর্ট দেখায় বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের স্থানগুলিতে শত শত শিশু তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এই ঘটনা কি অপরিবর্ত্তনীয় অদৃষ্টের জন্য ঘটছে? তা নয়। UNICEF-এর কর্মীরা সেখানে শিশুদের মায়েদের তাদের পরিবারকে শুধুমাত্র ভাত নয় বরং তার সঙ্গে ফল ও শাকসবজী খাওয়াতে বিশ্বাস জন্মানোর পর এই চক্ষুরোগের প্রকোপ অনেক কমে গেছে। খাদ্যের এই পরিবর্তনে বাংলাদেশে শত শত শিশু অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পেয়েছে।
একইভাবে, যে সব ব্যক্তিরা ধুমপান করেন না, তারা ধুমপানকারীদের তুলনায় গড়ে তিন থেকে চার বৎসর বেশী বাঁচেন। মোটরগাড়ীর যাত্রীরা যারা সীটবেল্ট পরেন, যারা পরেন না, তাদের তুলনায় অতি অল্পই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। স্পষ্টতই, আপনার নিজের কার্য্যকলাপ—অদৃষ্ট নয়—আপনার জীবনকে প্রভাবিত করে থাকে।
অদৃষ্টবাদের সাংঘাতিক পরিণতি
যেমন বলা হয়েছে, অদৃষ্টবাদ আপনার জীবনের আয়ুকে কমিয়ে দিতে পারে। কিভাবে? “আরও সংক্ষিপ্তভাবে অদৃষ্টবাদের উদাহরণ” সম্পর্কে আলোচনায়, দি এন্সাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিজিয়ন জানায়: “২য় বিশ্ব যুদ্ধ হতে আমরা জানি জাপানীদের আত্মহত্যার টর্পেডো আক্রমণ সম্পর্কে ও SS (Schutzstaffel) কোয়ার্টারে হিটলারের রাজত্বকালে যে সকল আত্মহত্যা হয়েছিল অদৃষ্টবাদের (Schicksal) প্রবণতার কারণে, যার স্থান দেওয়া হয়েছিল ব্যক্তিগত মানবজীবনের মুল্যবোধের বহু উচ্চে।” আরও সম্প্রতিকালে, এই একই উৎস থেকে খবর পাওয়া যায়, “ধর্মীয়ভাবে অনুপ্রাণীত হয়ে আত্মহত্যামূলক আক্রমণ লক্ষ্যবস্তুর প্রতি যা ইসলাম ধর্মের প্রতি ভীতিস্বরূপ . . . এটা সংবাদপত্রের একটি প্রতিদিনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিকটপ্রাচ্যে।” রিপোর্ট জানায় হাজার হাজার যুবক সৈন্যরা দৃঢ়নিশ্চিৎ হয়ে এই বিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধে যায় যে “যদি মরতে হবে না লেখা থাকে তবে কোন ক্ষতি হবে না।”
তথাপি, এমনকি সম্মানিত মুসলিম শিক্ষকরাও এরূপ হটকারী আচরণের বিরুদ্ধাচরণ করেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন খলিফা বলেন: “যে কেহ আগুনের মত উত্তপ্ত সেইরূপ ব্যক্তির উচিৎ কর্তব্য হল ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার থেকে নিজেকে বিরত করা। কিন্তু যদি কেহ এখনও সেইরূপ উত্তপ্ত না হতে পারে, তাহলে তার নিজেকে অহেতুক আগুনে নিক্ষেপ করার কোন প্রয়োজন নেই।” কিন্তু দুঃখের বিষয়, অসংখ্য সৈন্যরা খালিফার এই উপদেশ মত কাজ করেন নি। প্রায় আট বৎসর যাবৎ যুদ্ধে লিপ্ত থেকে ইরানে প্রায় ৪০০,০০০ জীবন মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে—২য় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধে নিহতদের চেয়েও বেশী সংখ্যক লোক! স্পষ্টত, অদৃষ্টবাদ আপনার জীবনের আয়ুকে কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি ইহা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকেও বিপদাপন্ন করতে পারে। কিভাবে?
যেহেতু একজন অদৃষ্টবাদী বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা অবশ্যম্ভাবী এবং পূর্বনির্দিষ্ট, সেইহেতু তিনি হয়তো অতি সহজেই একটি বিপদজনক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন করতে পারেন। কি ধরনের বৈশিষ্ট্য? এনসাইক্লোপিডিয়া অফ থিওলজি জানায়: “ব্যক্তিবিশেষ . . . অসহায় বোধ করেন, অবধারিত সামাজিক অগ্রগতির পথে একটি তুচ্ছ ও সামান্য অংশ বলে নিজেকে মনে করেন। ইহা নিষ্ক্রিয় করতে প্রবৃত্ত করে যা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যাখ্যাকে দৃঢ়রূপে ধারণ করে যে সবকিছুই কিন্তু নির্ভর করে দুর্বোধ্য অথচ পরাক্রান্ত অদৃষ্টের উপর।”
কি এই নিষ্ক্রিয়তাকে মারাত্মক করে তোলে? এটা প্রায়ই হেরে যাবার হতবুদ্ধিকারক মনোভাবের দিকে পরিচালিত করে। এটা হয়তো অদৃষ্টবাদীকে আগ্রহ নিতে বাধা দেয় অথবা এমনকি ঈশ্বরের বিষ্ময়কর আমন্ত্রণে সাড়া দিতে: “আহা, তৃষিত লোকসকল, তোমরা জলের কাছে আইস . . . শুন, আমার কথা শুন, কর্ণপাত কর, আমার কাছে আইস, শ্রবণ কর, তোমাদের প্রাণ সজ্জীবিত হইবে।” (যিশাইয় ৫৫:১-৩) যদি অদৃষ্টের প্রতি বিশ্বাস আপনাকে এগিয়ে এসে শোনার থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে এর অর্থ হল আগত পরমদেশরূপ পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকার সুযোগ হারাবেন। কি উচ্চ মূল্যই না দিতে হবে!
তাহলে আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন? আপনি যদি এমন কোন এক সম্প্রদায়ে বড় হয়ে থাকেন যেখানে মানুষের চিন্তাধারার ভিত্তিমূল হল অদৃষ্ট, তাহলে হয়তো আপনি বিনা প্রশ্নেই তা গ্রহণ করে নিয়েছেন। তথাপি, এই প্রবন্ধে যেসকল প্রতিবাদ আলোচিত হয়েছে, সেগুলি হয়তো আপনাকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবন আপনার কার্য্যকলাপের দ্বারা স্থিরিকৃত হয়।
যেমন আপনি দেখেছেন যুক্তির মাধ্যমে, প্রমাণ পেয়েছেন এবং সর্বোপরি পবিত্র শাস্ত্রলিপি দেখায় যে আপনি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক পরাজয়ের মনোভাবের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। পরিবর্তে যেমন যীশু বলেছিলেন: “প্রাণপন কর . . . সংকীর্ণ দ্বার দিয়া প্রবেশ করিতে।” (লূক ১৩:২৪, দি এম্ফ্যাটিক ডায়াগ্লট, ইন্টারলিনিয়ার রিডিং) ইহার প্রকৃত অর্থ কি? একজন বাইবেল ব্যাখ্যাকারক বলেন: “[প্রাণপন] শব্দটি গ্রীসের কোন একটি ক্রীড়া থেকে নেওয়া হয়েছে, তাদের দৌড়ে . . . তারা কঠোর চেষ্টা করত, অথবা প্রাণপন করত, অথবা তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে জয়লাভ করতে চাইত।” জীবনের পথে হেরে গিয়ে মাথা নিচু করার পরিবর্তে যীশু আমাদের উৎসাহ দিয়েছিলেন যে জয় করার বদলে আমরা যেন কোন কিছুকেই প্রশ্রয় না দিই!
অতএব অদৃষ্ট অনুপ্রাণীত কোন নিষ্ক্রিয়তার কারণকেই সম্পূর্ণরূপে দূর করুন। যেমনভাবে ঈশ্বরের বাক্য জোর দিয়ে বলে ঠিক সেইভাবে জীবনের যুদ্ধে যোগ দিন এবং অদৃষ্টবাদ যেন আপনাকে দমিয়ে দিতে না পারে তার প্রতি লক্ষ্য রাখুন। (দেখুন ১ করিন্থীয় ৯:২৪-২৭) অনুপ্রাণীত যে আমন্ত্রণ তাতে সাড়া দিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলুন: “জীবন মনোনীত কর যেন তুমি সবংশে বাঁচিতে পার।” কিভাবে আপনি এই পথ বেছে নিতে পারেন? “তোমার ঈশ্বর যিহোবাকে প্রেম কর, তাঁহার রবে অবধান কর, ও তাহাতে আসক্ত হও।” এরূপ কার্য্য আপনাকে জয়ী করবে কারণ “যিহোবা তোমার জীবন ও তোমার দীর্ঘ পরমায়ুস্বরূপ।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৯, ২০। (W90 8/15)
[Pictures on page 7]
মোশি অদৃষ্টবাদ প্রচার করেননি কিন্তু উৎসাহ দিয়েছিলেন: “জীবন মনোনীত কর, যেন তুমি বাঁচিতে পার।”