পাথর থেকে রত্ন
বেলজিয়ামের সচেতন থাক! সংবাদদাতা কর্তৃক
অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য যুগ যুগ ধরে এটা সবারই প্রিয় রত্ন। মানুষ যতদূর জানে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন পদার্থ, তাই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম তৈরিতে এটাকে খুব বেশি ব্যবহার করা হয়। এই আকর্ষণীয় পাথরটার নাম হীরে।
প্রসিদ্ধ কিছু হীরে নিয়ে বেশ কৌতূহলজনক কিছু গল্পও রয়েছে। কোহিনূর নামের অর্থ হল “আলোর পাহাড়” আর সাতশ বছর আগে এটা ভারতে পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমে পাথরটা ছিল ১৯১ ক্যারেট কিন্তু পরে এটাকে কেটে ১০৯ ক্যারেট করা হয়েছিল।a এছাড়াও আছে কালিনান হীরে যেটা ব্রিটিশ মুকুটের বিভিন্ন রত্নের মধ্যে একটা আর এটাই হল এ পর্যন্ত পাওয়া ও কাটা সবচেয়ে বড় হীরে।
শিলা থেকে রত্ন
প্রথমে হীরে এত সুন্দর থাকে না। বেশিরভাগ হীরেই মাটির নিচ থেকে খুঁড়ে বের করতে হয়। গড়ে প্রায় ২৫০ টন মাটি খুঁড়ে ও ছেঁকে তবেই এক ক্যারেট বিশুদ্ধ হীরে পাওয়া যায়। প্রতি বছর প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি ক্যারেট হীরে তোলা হয় কিন্তু তার মধ্যে খুব কম হীরেই গয়না বানানোর উপযুক্ত হয়।
কাঁচা হীরেকে এর আকৃতি, বিশুদ্ধতা, রং ও আকার অনুসারে আলাদা করা হয়। প্রাকৃতিক অবস্থায়, প্রায় প্রত্যেক হীরের মধ্যেই খাদ থাকে। কিন্তু কখনও কখনও এমন কোন অংশ হয়ত পাওয়া যায় যেটা বিশুদ্ধ বা খুব কম খাদ থাকে। এরকম হলে যে অংশে কোন খাদ থাকে না সেটাকে কেটে আলাদা করা হয়। যখন বড় ও দামি পাথরের কথা আসে তখন তা কাটার আগে কখনও কখনও কারিগরেরা ভাবতে ভাবতে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেন। আর এ কথা বুঝতে কষ্ট হয় না যে এই চিন্তা স্বাভাবিক কারণ কাটার সময় যদি একটু ভুল হয়, তাহলে হীরের মূল্য অনেকটা কমে যেতে পারে কিংবা পুরো পাথরটাই হয়ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত, পালিশ করার ফলে হীরের বিভিন্ন পার্শ্ব পাওয়া যায় যেগুলোর এর আকারের সঙ্গে মিল রাখা দরকার। এই পার্শ্বগুলো থাকায় এই রত্ন আলো বিচ্ছুরিত করার ক্ষমতা পায় আর এই জন্যই হীরে এত প্রসিদ্ধ ধাতু।
এর পরে যখন হীরে এর ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্যে আপনার মন কেড়ে নেবে, তখন খনির শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম ও কারিগরদের নিখুঁততা ও নিপুণতার কথা মনে করবেন। তাদের ছাড়া হীরেকে কখনই কাচের মতো আকর্ষণশূন্য এক শিলাখণ্ড থেকে অপূর্ব রত্ন করে তোলা যেত না।
[পাদটীকাগুলো]
a ক্যারেট হল ওজনের একক আর এক ক্যারেট হল এক গ্রামের এক পঞ্চমাংশ।