বিশ্বনিরীক্ষা
মায়ের দুধই সেরা
নিউজউইক পত্রিকা বলে, ‘বুকের দুধ হল সবচেয়ে বড় ওষুধ। যে শিশুরা মায়ের দুধ খায় তারা মায়ের দুধ থেকেই সেই সমস্ত পুষ্টি পায় যা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য দরকার। এছাড়াও তা এলার্জি এবং ডায়রিয়া, একজিমা ও নিউমোনিয়া রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিকে কমিয়ে দেয়।’ তাই, আমেরিকার চিকিৎসা পরিষদ ও আমেরিকার আহার-সংঘ মায়েদের কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত তাদের শিশুদেরকে বুকের দুধ খাওয়াতে পরামর্শ দেয়। “কিন্তু এই অসাধারণ উৎসকে প্রায়ই ঠিকমতো কাজে লাগানো হয় না,” নিউজউইক পত্রিকা বলে। কেন? কারণ এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে। কিছু মায়েরা মনে করেন যে তাদের শিশুদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার মতো যথেষ্ট দুধ তাদের হবে না। আবার কেউ কেউ ভাবেন যে শিশুদের তাড়াতাড়িই অন্য খাবারের দরকার আছে। “সত্যি বিষয়টা হল, প্রত্যেক মা-ই ছয় মাস পর্যন্ত তাদের শিশুর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারেন, এরপর ধীরে ধীরে তাদেরকে অন্যান্য কঠিন খাবার দিতে হয়,” ওই প্রবন্ধ বলে। “মায়ের দুধ থেকে রোগ প্রতিষেধক ও ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় যার মাধ্যমে শিশু দুই বছর পর্যন্ত উপকার পেতে পারে, তা সে এর সঙ্গে অন্য যা কিছুই খাক না কেন।” এটা মায়েদের জন্যও ভাল: বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা কমে যায় ও সন্তান প্রসবের পর তাড়াতাড়ি ওজন কমে যায়।
তন্দ্রালু চালকেরা
দ্যা জার্নাল অফ দি আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশন বিবৃতি দেয়, “কিছু বিশেষজ্ঞরা বলেন যে তন্দ্রালু চালকেরা মাতাল চালকদের মতোই বিপদজনক। আমরা কখনও ভেবেই দেখি না যে [মোটর গাড়ির] দুর্ঘটনায় ঘুম পাওয়ার কত বড় ভূমিকা আছে আর তন্দ্রালু চালকেরা জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।” দ্যা টরোন্টো স্টার অনুসারে, পর্যবেক্ষণ দেখায় যে লোকেরা আগে বলতে পারে না যে কখন তারা ঘুমিয়ে পড়বেন কিংবা আসলেই তাদের ঘুম পেয়েছে কি না। “ক্ষিদে পাওয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মতো এক চাহিদা হল ঘুম,” আমেরিকান অটোমোবাইল এসোসিয়েশন ফাউন্ডেশন ফর ট্রাফিক সেফটির মুখপাত্রী স্টেফানি ফোল বলেন। “আপনার শরীরে যখন ঘুমের দরকার হয় ঠিক তখনই আপনার ঘুম পেতে পারে।” চালকেরা যখন বার বার হাই তোলেন, ঘুমে ঢলে পড়েন কিংবা তাদের গাড়ি যখন আকাবাঁকা চলতে থাকে তখন তাদের কী করা উচিত? “জানালা খুলে দেওয়া কিংবা জোরে রেডিও বাজিয়ে জেগে থাকার সাধারণ চেষ্টা তখন কাজে লাগে না,” দ্যা টরোন্টো স্টার বলে। “চা বা কফি হয়ত কিছুক্ষণ জেগে থাকতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু তা একজনের ঘুমের শারীরিক চাহিদাকে কমিয়ে দেবে না।” তন্দ্রালু চালকদের জন্য পরামর্শ হল, একটা নিরাপদ জায়গায় থেমে, একটু সময় ঘুমিয়ে নিন।
দারিদ্র—কাওকেই রেহাই দেয় না
ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন অনুসারে, রাষ্ট্র সংঘের সাম্প্রতিক হিসাব দেখায় যে এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোতেও দরিদ্রতা কেবল বেড়েই চলেছে। শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলোতেও অনেক লোকেদের “মৌলিক চাহিদাগুলো,” পূরণ করা যাচ্ছে না যেমন চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসা। ওই হিসাব অনুসারে, আমেরিকার জনসংখ্যার ১৬.৫ শতাংশ লোক দরিদ্র। ব্রিটেনে এর পরিমাণ ১৫ শতাংশ। শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলোতে, ১০ কোটি লোক গৃহহীন, ৩.৭ কোটি লোক বেকার আর প্রায় ২০ কোটি লোকেদের “সম্ভাব্য আয়ু ৬০ বছরেরও নিচে।”
ছেলেমেয়েরা—যুদ্ধের শিকার
জার্মান সংবাদপত্র গ্রিভেনার জেইটাং রিপোর্ট করে, “রাষ্ট্র সংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ওলারা ওটুনুর মতে, গত দশ বছরে যুদ্ধ ও মারামারিতে প্রায় ২০ লক্ষ ছেলেমেয়ে প্রাণ হারিয়েছে, ১০ লক্ষ ছেলেমেয়ে অনাথ হয়েছে আর ৬০ লক্ষ ছেলেমেয়ে গুরুতরভাবে আহত কিংবা বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে।” রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ছেলেমেয়েদেরকে তাদের আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে নেয় এমন সব কাজের নিন্দা করেছে। এর চেয়েও চিন্তার বিষয় হল যে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩,০০,০০০ এরও বেশি ছেলেমেয়েকে সৈনিক হিসেবে কাজ করানো হচ্ছে। কথিত আছে যে এদের মধ্যে অনেককেই জোর করে সামরিক কাজে নিয়ে আসা হয় আর তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ হল মেয়ে। শিশু সৈনিকদের প্রায়ই আত্মঘাতী হত্যাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বেসরকারি সংগঠনগুলো মিলে এক নতুন সংঘ তৈরি করেছে আর তারা এক আন্তর্জাতিক আইন তৈরির দাবি করছে যাতে সৈনিকদের ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে ১৮ বছর করা হয়।
তারা অসুস্থই থাকতে চান
কেপ টাইমস সংবাদপত্র বিবৃতি দেয়, “যক্ষ্মারোগ এখনও বিশ্বের এক নম্বর প্রাণঘাতী রোগ।” দক্ষিণ আফ্রিকার একেবারে গরিব লোকেদের এই রোগ খুব বেশি হয় যেখানে প্রত্যেক বছর ১৩,০০০ জনেরও বেশি লোক যক্ষ্মায় মারা যায়। অনেকে এই রোগে একেবারে অক্ষম হয়ে পড়েন। আজকাল, অক্ষমদের জন্য সরকারি ভাতা দেওয়া হচ্ছে আর সরকার যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু সেখানে চাকরি বলতে গেলে নেইই এবং বেতনও খুব অল্প, তাই কিছু রোগীরা ভাতার টাকাটা পেয়ে চলার জন্য যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা করানো ছেড়ে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার যক্ষ্মারোগ চিকিৎসা সংস্থার পরিচালিকা, রিয়া গ্রান্ট বলেন, “তারা তাদের ছোটখাটো চাকরি করে যে টাকা পান ভাতা হিসেবে তার দশ গুণ বেশি টাকা তারা পেয়ে থাকেন। এত বেশি টাকা পাওয়ায় তারা সুস্থ না হয়ে বরং অসুস্থই থাকতে চান।”
কত ব্যাকটেরিয়া আছে?
পৃথিবীর সব জায়গায় ব্যাকটেরিয়া আছে। সাগরের গভীর তলদেশে আর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৬০ কিলোমিটার উঁচুতেও তারা আছে। তাদের মোট ঘনত্ব অন্য যে কোন ধরণের জীবের চেয়ে বেশি। সেগুলোর সংখ্যাকে গণনা করার প্রথম প্রাণপণ প্রচেষ্টাকে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিকেরা প্রকাশ করেছেন। তারা যে সংখ্যাটা বলেছেন তা হল ৫ এর পরে ৩০টা শূন্য। “বেশিরভাগ লোকেরা মনে করেন যে ব্যাকটেরিয়া রোগের সৃষ্টি করে,” লন্ডনের দ্যা টাইমস পত্রিকা বলে। “কিন্তু আসলে শুধু অল্প সংখ্যক রোগের সৃষ্টি করে। যদি সব প্রাণীর দেহে বাস করে এমন সমস্ত ব্যাকটেরিয়া যোগ করা হয়, তাহলে তা পুরো ব্যাকটেরিয়ার মাত্র শতকরা এক ভাগ হবে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই শুধু যে ক্ষতিকর নয় তাই-ই নয়, এগুলো খুবই জরুরি আর এগুলো হজমে সাহায্য করে।” আশ্চর্যের বিষয় যে, সমস্ত ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ৯২ থেকে ৯৪ শতাংশ ব্যাকটেরিয়াই সমুদ্রতল থেকে দশ সেন্টিমিটার নিচে আর জমি থেকে নয় মিটারের বেশি নিচে থাকে। আগে মনে করা হতো যে এইরকম জায়গায় জীবন সম্ভব নয়। ব্যাকটেরিয়ার শুষ্ক অংশের অর্ধেকই কার্বন যা জীবনের জন্য একটা প্রয়োজনীয় উপাদান। “ব্যাকটেরিয়ায় সঞ্চিত কার্বনের পরিমাণ বিশ্বের সমস্ত গাছপালায় যে কার্বন রয়েছে প্রায় তার সমান,” দ্যা টাইমস পত্রিকা বলে।
কখনই খুব বেশি দেরি হবে না
ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ বিবৃতি দেয়, ৪০ বছরের এক গবেষণা দেখায়, যে লোকেরা যদি ধূমপান করা ছেড়ে দেন এমনকি যদি তা ৬০ বছরেও হয়, তবুও তা ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিকে অনেক কমিয়ে দিতে পারে। ইংল্যান্ডের সাটনের ক্যানসার গবেষণা সংস্থার অধ্যাপক, জুলিয়ান পেটো বলেন: “গত বছরই আমরা ঠিক মতো বুঝতে পেরেছি যে ধূমপান কত ক্ষতিকর, এটা যারা ধূমপান করেন তাদের এক চতুর্থাংশকে নয় যেমন আগে ভাবা হতো কিন্তু অর্ধেক লোকেদেরই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। আর সঙ্গে সঙ্গে আমরা এও দেখেছি যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ফলে অনেক উপকার হয় এমনকি বুড়ো বয়সে ছাড়লেও।” প্রায়ই দেখা যায় যে ছোট ছেলেমেয়েদের ধূমপান না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। পেটো আরও বলেন, কিন্তু বয়স্ক লোকেদের জানা দরকার যে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিলে ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।