কিশোর অপরাধ—কারণগুলো কী?
সবার মতো আপনিও কি মনে করেন যে সাধারণত গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরাই অপরাধ করে থাকে আর “ভদ্র” পরিবারের ছেলেমেয়েদের এইসব কাজে খুব একটা দেখা যায় না? এশিয়ায় কেউ কেউ এইরকম ভেবে থাকেন। কিন্তু এশিয়া ম্যাগাজিন বলে ‘এই কথা এখন আর সত্যি নয়। এশিয়ার বিভিন্ন জায়গার পুলিশদের পরিসংখ্যান এবং অপরাধের ঘটনাগুলো দেখায় যে ভদ্র ঘরের ছেলেমেয়েরাই চুরি, ছিনতাই, নেশাকর ওষুধ সেবন এবং পতিতাবৃত্তি আরও বেশি বেশি করে করছে।’
উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে জাপানে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কিশোর-কিশোরীদের অর্ধেকই মধ্যবিত্ত পরিবারের। ব্যাংককের ক্ষেত্রেও তাই। মুহিতা প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের প্রধান, আদিসাই আহাপানুন বলেন, ‘আগে বেশিরভাগ কিশোর অপরাধের পেছনে আসল কারণটা ছিল পয়সার অভাব। কিন্তু আজকে অর্ধেকেরও বেশি অপরাধী কিশোর-কিশোরী মধ্যবিত্ত পরিবারের, যাদের টাকাপয়সার কোন অভাব নেই।’
কেউ কেউ এই অবস্থার কারণ হিসাবে চাকরিজীবী মা, বিবাহবিচ্ছেদের হার বেড়ে যাওয়া এবং টাকাপয়সার পেছনে ছোটাকে দায়ী করেন। সিঙ্গাপুরে, অসহায় কিশোর-কিশোরীদের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক, ইডি জেকব বলেন: “এর মূল কারণ হল বিশৃঙ্খল পরিবার—যেখানে হয়তো বাবামার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে অথবা যেখানে বাবা কিংবা মা যে কোন একজন অভিভাবক আছেন কিংবা বাবা-মা দুজনেই চাকরি করেন বলে ছেলেমেয়েরা অবহেলিত হয়। ছেলেমেয়েরা ঘর থেকেই তাদের নীতিশিক্ষা শুরু করে।”
বাইবেল আগেই বলেছিল যে আমাদের সময়ে ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিদ্রোহ বেড়ে যাবে। (২ তীমথিয় ৩:১, ২) কিন্তু এই একই বই পরিবারের জন্য কিছু নীতিও দেয় যা তাদের অবহেলা না করে মেনে চলা উচিত তা সে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা যাই হোক না কেন। বাইবেলে খোঁজ করা যায় কারণ “ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি আবার শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের, ধার্ম্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের নিমিত্ত উপকারী।” (২ তীমথিয় ৩:১৬) এশিয়ায় এবং পৃথিবীর সব জায়গার যিহোবার সাক্ষীরা পারিবারিক বাইবেল অধ্যয়ন করে অনেক ভাল ফল পান। আর আপনাকেও বাইবেল পড়ায় সাহায্য করতে তারা আনন্দিত হবেন।
[৩১ পৃষ্ঠার চিত্র]
তুমি বেছে নাও—তুমি অপরাধে জড়াবে না ঈশ্বরের পক্ষ নেবে