আমার পরিবার কি প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?
“বাচ্চাকে এখন টীকা দিতে হবে,” ডাক্তার বলেন। একটি ছোট্ট শিশুর পক্ষে এই মন্তব্যটি যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, কিন্তু সাধারণত তা শুনে পিতামাতারা প্রত্যাশার হাসি ও স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
কিন্তু, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সাধারণভাবে প্রচলিত প্রতিষেধক ব্যবস্থার প্রতি সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে। কোন্ টীকাগুলি প্রকৃতপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ? পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে? টীকা তৈরি করাতে কি কোনরূপে রক্ত এর মধ্যে জড়িত আছে?
চিন্তিত খ্রীষ্টীয় পরিবারের ক্ষেত্রে বিবেচনার জন্য এই প্রশ্নগুলি হল উত্তম। আপনার শিশুর এবং তার সাথে আপনার নিজের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে, এর উত্তরগুলি সরাসরি প্রভাব রাখতে পারে।
পটভূমিকা
উনিশ্শো পঞ্চাশের দশকে এক কার্যকারী প্রতিষেধকের পরিচয় করান হয় যা বাস্তবিকপক্ষে বহু দেশে পোলিও রোগের নিঃশেষ করে। উনিশ্শো আশি সালে কার্যকারী টীকা প্রদান কার্যক্রমের ফলে সমস্ত জগৎ থেকে বসন্ত রোগের মহামারী নির্মূল করা হয় বলে ঘোষণা করা হয়। এটি বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলীনের কথাগুলিকে সমর্থন করে: “এক পাউণ্ড প্রতিকারের থেকে এক আউন্স প্রতিরোধ লাভজনক।”
বর্তমানে, প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম সাধারণত ফলপ্রদ বহু রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য—ধনুষ্টঙ্কার, পোলিও, ডিপথেরিয়া এবং ঘুংড়ি কাশি (হুপিং কফ) ইত্যাদি কয়েকটির নাম করা হল। এছাড়া, এও দেখা গেছে যে যখন কোন কারণে প্রতিষেধক ব্যবস্থা একটু শিথিল হয়ে পড়েছে তখন রোগ আবার দেখা গেছে। হুপিং কফের ক্ষেত্রে একটি দেশে তা দেখা যায়।
এই প্রতিষেধকগুলি কী করে? মুখ্যত, প্যাথোজেন নামক সংক্রামক বস্তু যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে জীবাণু ও ভাইরাস, আর এই সকল রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে এরা দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতি দুটি উপায়ে এক বর্মের সৃষ্টি করে। প্রথম উপায়টিকে সক্রিয় (active) প্রতিষেধক ব্যবস্থা বলা হয়। এই ক্ষেত্রে টীকার মধ্যে থাকে দুর্বল বা মৃত প্যাথোজেন (বা এর বিষ) যা এমনভাবে পরিবর্তিত যে তা দেহের কোন ক্ষতি করে না। দেহের স্ব-প্রতিরোধ ক্ষমতা এক বিনাশক অণুর সৃষ্টি করতে আরম্ভ করে যাকে বলা হয় আ্যন্টিবডি যেটি প্রকৃত রোগের জীবাণুর সাথে লড়াই করতে পারে। যদি টীকার মধ্যে প্যানথোজেনের বিষ (টক্সিন) থাকে তাহলে তাকে বলে টক্সয়েড। যদি তা জীবিত দুর্বল (আ্যটেনুএটেড) প্যানথোজেন অথবা মৃত জীবিত বস্তুর দ্বারা তৈরি হয়, তাহলে তাকে বলা হয় টীকা (vaccine)।
যেমন আপনি ধারণা করতেই পারেন যে এই টীকাগুলি তৎক্ষণাৎ প্রতিষেধক ক্ষমতার সৃষ্টি করতে পারে না। প্রতিরক্ষামূলক আ্যন্টিবডি তৈরি করতে দেহের বেশ সময় লাগে। এই সক্রিয় প্রতিষেধক ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শিশুদের দেওয়া টীকা ও ইঞ্জেকশন, যেগুলিকে সাধারণভাবে টীকা বলে বিবেচনা করা হয়। মাত্র একটি ব্যতিরেকে (পরে আলোচিত হয়েছে) এই প্রক্রিয়ার কোন ধাপেই রক্ত ব্যবহার করা হয় না।
অপর প্রক্রিয়াকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় (passive) প্রতিষেধক ব্যবস্থা। এই প্রণালীটি সাধারণত সেই সকল পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয় যেখানে কোন ব্যক্তি গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়, যেমন জলাতঙ্ক রোগ। সেই ক্ষেত্রে, নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতার সৃষ্টি করতে দেহের তখন কোন সময় থাকে না। সুতরাং, ইতিমধ্যেই তৈরি করা, অপর কোন ব্যক্তির আ্যন্টিবডিকে আক্রান্তকারীর দেহে প্রদান করা হয় প্যাথোজেনের সাথে লড়াই করতে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশিষ্ট মানব অথবা প্রাণীর রক্তের ক্কাথ থেকে প্রস্তুত করা টীকার অপর নামগুলি হল গামা গ্লবিউলিন, আ্যন্টিটক্সিন এবং হাইপারইমিউন সিরাম। ধার করা বা নিষ্ক্রিয় এই প্রতিষেধক ব্যবস্থা আক্রমণকারীর সাথে লড়াই করতে তৎক্ষণাৎ কিন্তু ক্ষণকালের জন্য সাহায্য করে। ধার করা এই আ্যন্টিবডিগুলি খুব শীঘ্রই বিদেশী প্রোটিন হিসাবে দেহ থেকে বহিষ্কৃত হয়।
আমার শিশুর কি টীকা নেওয়া দরকার?
এই পটভূমিকা দেওয়ার পরেও অনেকে হয়ত চিন্তা করতে পারেন যে ‘আমার শিশুর কোন্ টীকাটি নেওয়া দরকার?’ জগতের বেশির ভাগ অংশে যেখানে এই টীকাগুলি সহজে পাওয়া যায় সেখানে ধারাবদ্ধ প্রতিষেধক ব্যবস্থা (routine immunization) গ্রহণের ফলে প্রতিষেধক-ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এমন শিশুরোগগুলি অতিমাত্রায় কমে গেছে।
বেশ কিছু বছর ধরে আ্যমেরিকান আ্যকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স সারা জগদ্ব্যাপী একই ধরনের সংগঠনের সাথে সাধারণভাবে একমত হয়ে নিম্নোক্ত কয়েকটি রোগের জন্য ধারাবদ্ধ প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুপারিশ করেছে: ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ এবং ধনুষ্টঙ্কার। সাধারণত তিনটিকে একসঙ্গে মিলিয়ে একটি টীকা হিসাবে দেওয়া হয়—ডি পি টি—অন্তত দুমাস অন্তর তিনটি বুস্টার (অতিরিক্ত শক্তি সম্পন্ন) ডি পি টি টীকা দিয়ে। এর থেকে আলাদা হল, হাম, মাম্পস্ এবং রুবেলা-র (জার্মান মিজল্) প্রতিষেধকের জন্য একটিই টীকা দেওয়া হয়—এম এম আর—একবছরের শিশুদের। এছাড়া, ডি পি টি-র মতই নিয়মানুসারে পোলিও প্রতিষেধকের (ও পি ভি) চারটি দাগ খাওয়ান হয়।a
a জগতের বহু অংশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখন শিশুদের হেপাটাইটিস্ বি-এর জন্য ধারাবদ্ধ প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুপারিশ করছে।
বহু জায়গায় এই ধারাবদ্ধ টীকা গ্রহণ আজ্ঞাধীন হলেও, বুস্টার গ্রহণের সংখ্যা আলাদা হতে পারে। সম্প্রতি, কয়েক ধরনের হাম দেখা দেওয়াতে, কিছু পরিস্থিতিতে হামের জন্য অতিরিক্ত বুস্টার টীকা গ্রহণ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। বিশদ বিবরণের জন্য আপনার এলাকার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার আপনার প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়াও, নিউমোনিআ টীকা (নিউমোভ্যাক্স) আছে। যে সকল শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্করা, বিশেষ কারণে, বিশেষ প্রকারের নিউমোনিআ প্রবণ হয় তাদের জীবনব্যাপী এটি প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে।
শিশুদের জন্য আর একটি টীকার নাম হল হিব্। এটি দেওয়া হয় শিশুকালের সাধারণ প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করতে, যা হল হেমোফিলাস্ ইনফ্লুয়েঞ্জা। এই জীবাণু শিশুদের বহু রোগের কারণ হয়, বিশেষকরে এক তীব্র রকমের মেনিন্জাইটিস্-এর কারণ হয়। টীকাটি সাধারণত ক্ষতিকর নয় বলে প্রমাণীত হয়েছে, আর এটিকে ধারাবাহিক শিশু টীকা হিসাবে গ্রহণ করতে বেশিরভাগ সুপারিশ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গক্রমে, জলবসন্তের জন্য এখনও কোন ধারাবদ্ধ প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেই। আর বসন্তের জন্য টীকা আর পাওয়া যায় না, যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জগদ্ব্যাপী টীকা দেওয়ার কায্যক্রম এই মারাত্মক রোগকে নিঃশেষ করেছে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কী?
প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বা কী? বেশির ভাগ টীকাতে সাধারণত শিশুর হঠাৎ কেঁদে ওঠা ও অশ্রুজল বার হওয়া, ছাড়া পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সীমিত ও ক্ষণকালের জন্য—খুব বেশি হলে এক বা দুই দিন জ্বর থাকে। তবুও, বহু পিতামাতারা এই টীকাগুলির ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন থাকেন। শিশুদের প্রতি পিতামাতাদের চিন্তা সম্পর্কে এক চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণা নিরীক্ষণ করে দেখে যে ৫৭ শতাংশ পিতামাতারা প্রতিষেধক ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিন্তিত।
সাম্প্রতিককালে, ডি পি টির একটি অংশ সম্পর্কে চিন্তা প্রকাশ করা হয়, যেটি হল ঘুংড়ি কাশি বা হুপিং কফ। এই টীকার সফলতার জন্য পূর্বের ভয়ার্ত রোগ আশ্চর্যরূপে কমে যায়—একটি দেশেতেই মাত্র টীকা দেওয়ার আগে প্রতি বছর ২,০০,০০০টি ঘটনা দেখা যেত কিন্তু এই টীকা বিস্তররূপে ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর ২,০০০টি ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু, গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া—তড়কা এবং এমন কি মস্তিষ্কের ক্ষতি—১,০০,০০০টি ঘটনার মধ্যে ১টিতে দেখা যায়।
এই প্রতিক্রিয়া খুব বিরল হলেও, বহু পিতামাতারা এর জন্য উদ্বিগ্ন হন কারণ স্কুলে পাঠাবার যোগ্য করতে হলে ছেলেমেয়েদের এই টীকা তাদের দিতেই হয়। হুপিং কফ সাধারণ রোগ না হলেও এটি সমাজকে আক্রান্ত করলে খুবই ধ্বংসাত্মক হয়, তাই বিশেষজ্ঞেরা এই পরিসমাপ্তিতে আসেন যে সাধারণ শিশুর পক্ষে “রোগে আক্রান্ত হওয়ার চাইতে টীকা নেওয়া অনেক নিরাপদ।” সেই সব বিশেষজ্ঞেরা পরামর্শ দেন যে প্রতিষেধক ব্যবস্থা প্রদান করা যায় “যদি পূর্বে টীকা দেওয়ার ফলে তড়কা, এনসেফেলাইটিস্, ফোকাল্ নিউরোলজিক সাইন অথবা হঠাৎ দৈহিক আসন্নতা (collapse) দেখা না দেয়। অথবা যে সব শিশুদের ‘অত্যধিক নিদ্রালুতা থাকে, অত্যন্ত চিৎকার করে (৩ ঘন্টা বা তার থেকেও বেশি সময় অবধি একনাগাড়ে কেঁদে যাওয়া বা চিৎকার করা), বা ১০৫° F (৪০.৫° C) জ্বর হয়’ তাদেরও আর টীকা দেওয়া উচিত নয়।”b
b পারিবারিক ইতিহাসে যদি তড়কা থাকে তাহলে সেটি প্রতিক্রিয়ার সাথে সর্ম্পকযুক্ত নয়। আর শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রামক জীবাণু যদিও প্রতিক্রিয়ার প্রতি আক্রান্ত হয় না, কিন্তু শিশু যদি একটু অসুস্থও থাকে তাহলে টীকা না দেওয়াই বিজ্ঞতার কাজ হবে।
বহু দেশে সমস্যার প্রকৃত সমাধান হল কোষহীন (acellular) টীকা, বর্তমানে সেই প্রকৃতির টীকা খুব আশার সাথে জাপানে দেওয়া হচ্ছে। এই নতুন এবং আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ টীকা অন্যান্য দেশগুলিতেও পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যান্য ধারাবদ্ধ টীকাগুলিও কার্যকারী ও আপেক্ষিকরূপে নিরাপদ তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিষেধক ব্যবস্থা সম্পর্কে কী?
একজন পরিণত বয়সে পৌঁছালে, শুধুমাত্র কিছু সক্রিয় প্রতিষেধক ব্যবস্থা সম্পর্কে তাকে স্মরণে রাখতে হবে। ধারণানুসারে, সকল পরিণত বয়স্কদের হাম, মাম্পস্ এবং রুবেলার প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা উচিত যদি তারা সেই রোগে ভোগে বা শিশুকালে প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। যদি সেই প্রকৃতির প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে, ডাক্তার হয়ত প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে এম এম আর টীকা নিতে সুপারিশ করবেন।
প্রতি দশ বছর অন্তর বা সেই রকম, টেটেনাস্ টক্সয়েড নেওয়া ধনুষ্টঙ্কারের প্রতি প্রতিরক্ষার জন্য ভাল ব্যবস্থা বলে বিবেচনা করা হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরা এবং যারা বহু পুরনো রোগে ভুগছেন তারা হয়ত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন বাৎসরিক ইনফ্লুয়েঞ্জা টীকার জন্য। যারা জগতের কোন বিশেষ অঞ্চলে যাত্রা করছেন তাদের ইয়োলো ফিভার, কলেরা, বিশেষ প্রকারের বিষফোঁড়া, টাইফয়েড অথবা প্লেগ রোগের জন্য প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার যেখানে তারা যাচ্ছেন সেখানে যদি সেই রোগগুলি আঞ্চলিক হয়ে থাকে।
আর একটি সক্রিয় প্রতিষেধক ব্যবস্থার প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার কারণ এটি হল একমাত্র প্রতিষেধক ব্যবস্থা যা রক্ত থেকে তৈরি হয়। এটি হল হেপাটাইটিস্-বি টীকা, যাকে বলা হয় হেপটাভ্যাক্স-বি। এই টীকা বিশেষ কিছু ব্যক্তিদের জন্য, যেমন চিকিৎসা ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য, যারা হয়ত হেপাটাইটিস্-বি দ্বারা আক্রান্ত রুগীর রক্তের উপাদানের আকস্মিক সংস্পর্শে আসতে পারে। এটিকে এক উন্নত মানের টীকা বলে প্রশংসা করা হলেও এর প্রস্তুত প্রণালীর জন্য অনেককে এই টীকা চিন্তায় ফেলেছে।
মুখ্যত, বেছে নেওয়া হেপাটাইটিস্-বি ভাইরাস বহনকারীর রক্তকে বার করে যে কোন ভাইরাসকে নাশ করার জন্য সেটিকে চিকিৎসা করা হয় এবং এক বিশেষ হেপাটাইটিস্-বি-এর আ্যন্টিজেন উৎপাদন করা হয়। শোধিত এই নিষ্ক্রিয় আ্যন্টিজেনকে টীকা হিসাবে দেওয়া যায়। যাইহোক, বহু লোকে এই টীকা নিতে প্রত্যাখ্যান করে কারণ তারা আক্রান্তকারীর রক্তের থেকে সংক্রামিত হওয়ার ভয় পায়, যেমন যারা হল যৌনরূপে বাছবিচারহীন। তাছাড়া, কিছু বিবেক সম্পন্ন খ্রীষ্টানেরা টীকা সম্পর্কে আপত্তি জানায় কারণ তা অপর ব্যক্তির রক্ত থেকে তৈরি করা হয়েছে বলে।c
c জুন ১, ১৯৯০ সালের প্রহরীদুর্গ-এর “পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল” দেখুন।
হেপাটাইটিস্ প্রতিষেধকের প্রতি সেইরূপ আপত্তি প্রকৃতপক্ষে সরিয়ে দেওয়া হয় একটি ভিন্ন কিন্তু সমান শক্তিশালী হেপাটাইটিস্-বি টীকা বার করার পর। এটি জেনেটিক প্রযুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয় যাতে প্রতিষেধক ইস্ট (yeast) কোষে তৈরি হয় যার সঙ্গে মানব রক্তের কোন সম্পর্ক নেই। আপনি যদি স্বাস্থ্য-কল্যাণ সম্পর্কীয় ক্ষেত্রে কাজ করেন বা অন্য কোন কারণে আপনাকে যদি হেপাটাইটিস্-বি টীকা নিতে বলা হয় তাহলে আপনি এই বিষয় সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে আলোচনা করতে পারেন।
টীকা প্রস্তুতে রক্ত
খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিদের পক্ষে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপিত করে, যারা রক্ত সম্পর্কে বাইবেলের নিষেধ সম্পর্কে চিন্তিত। (প্রেরিত ১৫:২৮, ২৯) আর কোন টীকা কি রক্ত থেকে প্রস্তুত করা হয়?
সাধারণ নিয়মানুসারে, একমাত্র হেপটাভ্যাক্স-বি ব্যতিরেকে সক্রিয় প্রতিষেধকগুলি রক্ত থেকে প্রস্তুত হয় না। উদাহরণস্বরূপ, এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে সমস্ত শিশু টীকাগুলি।
নিষ্ক্রিয় প্রতিষেধক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীত। যেমন জং পড়া কোন পেরেকে পা দিলে বা কুকুরে কামড়ালে যদি কাউকে টীকা নিতে বলা হয় তখন সে এটি আশা করতে পারে যে সেই টীকাগুলি (যদি সেগুলি ধারাবদ্ধ বুস্টার না হয়) হল অত্যধিক প্রতিষেধক শক্তিসহ সিরাম এবং রক্ত ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়েছে। আর এইচ্ ইমিউন গ্লবিউলিন (রোগাম) ঠিক তাই, যা বেশির ভাগ সময় আর এইচ্ নেগেটিভ মায়েদের নিতে প্রস্তাব করা হয় যারা আর এইচ্ পসিটিভ শিশু জন্মের সময় কোন কিছু কারণে আর এইচ্ পসিটিভ রক্তের সংস্পর্শে আসে।
যেহেতু এই নিষ্ক্রিয় প্রতিষেধক ব্যবস্থার জন্য যাদের রক্তের বিষয়ে এক চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে, তাই এই বিষয়ে বিবেক সম্পন্ন খ্রীষ্টীয়দের কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার? এই পত্রিকা ও এর সহযোগী পত্রিকা, প্রহরীদুর্গ-এর পূর্বের প্রবন্ধগুলি এক সঙ্গতিপূর্ণ চিন্তাধারা প্রদান করে: এক খ্রীষ্টীয় ব্যক্তির বাইবেল দ্বারা শিক্ষিত বিবেকের উপর নির্ভর করে যে সে এবং তার পরিবার এই চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না।d
d প্রহরীদুর্গ, জুন ১৫, ১৯৭৮, পৃষ্ঠা ৩০-১ দেখুন।
আমার পরিবার কি প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?
খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিদের জীবনের প্রতি মহান শ্রদ্ধা আছে এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের প্রতি তারা আন্তরিকরূপে সবচেয়ে ভাল কিছু করতে চান। আপনার পরিবারের প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্পর্কে আপনি দায়িত্বপূর্ণরূপে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কি না তাহল আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।—গালাতীয় ৬:৫.
এই পরিস্থিতিকে এক বিশেষজ্ঞ উত্তমরূপে বর্ণনা করেন: “সন্তানদের প্রতি প্রত্যেকটি চিকিৎসা সম্পর্কে পিতামাতাদের জানানো দরকার। তারা সন্তানদের ন্যায়তঃ অভিভাবক ছাড়াও আরও কিছু। জীবনের যে সময়কালে সন্তানেরা তাদের প্রতি নির্ভরশীল, সেই সময়ে সন্তানদের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য তারাই দায়ী।” প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্তে যিহোবার সাক্ষীগণ সেই দায়িত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণরূপে গ্রহণ করে।—একজন চিকিৎসকের অবদান
(g93 8/8)
যে প্রতিষেধকগুলি
রক্ত থেকে প্রস্তুত নয়
শিশু টীকাগুলি
(ডি পি টি, ও পি ভি, এম এম আর)
হিব্ টীকা
নিউমোভ্যাক্স
টক্সয়েড
ফ্লু ইঞ্জেকশন
রিকমবিভ্যাক্স-এইচ্ বি
যে প্রতিষেধকগুলি
রক্ত থেকে প্রস্তুত হয়
হেপটাভ্যাক্স-বি
রোগাম
আ্যন্টিটক্সিনস্
আ্যন্টিভেনিনস্
(সাপ বা মাকড়সার বিষের জন্য)
ইমিউন গ্লবিউলিনস্
(বিভিন্ন রোগের জন্য)
গামা গ্লবিউলিন
হাইপারইমিউন সিরাম প্রিপারেশনস্
(যেমন, আ্যন্টিরেবিস্ সিরাম)