যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
পর্নোগ্রাফি দেখা কেন খারাপ?
তুমি কি পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে থাকতে পার?
তুমি যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাক, তা হলে তুমি আজ নয়তো কাল কোনো-না-কোনো ধরনের পর্নোগ্রাফির মুখোমুখি হবে। ১৭ বছর বয়সি হেলি বলে, “আজকাল এই ধরনের খারাপ ওয়েবসাইটগুলো খুঁজে বের করতে হয় না, এগুলোই তোমাকে খুঁজে বের করে।”
এমন একজন ব্যক্তিও পর্নোগ্রাফি দেখার জন্য প্রলুব্ধ হতে পারে, যে এটা না দেখার বিষয়ে সংকল্প নিয়েছে। ১৮ বছর বয়সি গ্রেগ বলে, “আমি সংকল্প নিয়েছিলাম যে, আমি এগুলো থেকে দূরে থাকব, কিন্তু পারিনি। তাই, এইরকম চিন্তা কোরো না, আমি কখনো এই ফাঁদে পড়ব না।”
বর্তমানে পর্নোগ্রাফি দেখা খুবই সহজ। আর যখন থেকে সেক্সটিং শুরু হয়েছে, তখন থেকে অনেক ছেলে-মেয়ে নিজেদের অশ্লীল ছবি অথবা ভিডিও বানিয়ে অন্যদের পাঠিয়ে থাকে।
মূল কথা: তুমি যে-সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছ, সেগুলোর মুখোমুখি হয়তো তোমার বাবা-মা কিংবা তোমার দাদু ও দিদিমাও হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হল, তুমি কি পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে থাকতে পার?—গীতসংহিতা ৯৭:১০.
হ্যাঁ, যদি তুমি চাও। তবে, সবার প্রথমে তোমাকে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে, পর্নোগ্রাফি দেখা খারাপ। এসো প্রথমে আমরা এই বিষয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা এবং সত্য নিয়ে আলোচনা করি।
প্রচলিত ধারণা এবং সত্য
প্রচলিত ধারণা: পর্নোগ্রাফি দেখলে আমার কোনো ক্ষতি হবে না।
সত্য: পর্নোগ্রাফি দেখা সিগারেট খাওয়ার মতোই ক্ষতিকারক। ঠিক যেমন সিগারেট খেলে তোমার ফুসফুসের ক্ষতি হবে, তেমনই পর্নোগ্রাফি দেখলে তোমার মনের ক্ষতি হবে। এটা তোমাকে কলুষিত করে দেবে। তোমার চোখে সেই বিষয়গুলোর কোনো মূল্য থাকবে না, যেগুলোকে ঈশ্বর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এক অটুট ও চিরস্থায়ী বন্ধন গড়ে তোলার জন্য তৈরি করেছেন। (আদিপুস্তক ২:২৪) আর তুমি এমনকী এক সময়ে সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবে না। উদাহরণ স্বরূপ, কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, যারা নিয়মিতভাবে পর্নোগ্রাফি দেখে, তাদের হৃদয় এতটাই কঠিন হয়ে যায় যে, তারা আর মহিলাদের গায়ে হাত তোলাকে ভুল বা অন্যায় হিসেবে দেখে না।
এর মানে হল, তাদের বিবেক এতটাই অসাড় হয়ে গিয়েছে যে, খারাপ কাজ করার পর তাদের একটুও আপশোস হয় না।
প্রচলিত ধারণা: পর্নোগ্রাফি দেখলে তুমি যৌনতা সম্বন্ধে শিখতে পারবে।
সত্য: পর্নোগ্রাফি তোমাকে লোভী হতে শেখাবে। তোমার চোখে লোকেরা শুধু খেলনার মতো হয়ে যাবে, যাদের ব্যবহার করে তুমি স্বার্থপরভাবে নিজের যৌন চাহিদা মেটাতে চাইবে। তাই একটা গবেষণা বলে, এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, যাদের পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস রয়েছে, তারা বিয়ের পরে নিজের বিবাহসাথির সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করেও পরিতৃপ্ত হয় না।
প্রচলিত ধারণা: যারা পর্নোগ্রাফি দেখতে চায় না, তারা যৌনতার বিষয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে।
সত্য: যারা পর্নোগ্রাফি দেখতে চায় না, যৌনতার বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে সঠিক। তারা বিশ্বাস করে যে, যৌনতা হল এমন এক উপহার, যেটা ঈশ্বর স্বামী-স্ত্রীকে দিয়েছেন, যাতে তাদের বিবাহবন্ধন মজবুত হয় এবং তারা একে অন্যের কাছে যে-অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করতে পারে। যারা এই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে, তারা বিয়ের পরে নিজের বিবাহসাথির সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করে বেশি পরিতৃপ্ত হয়।
যেমন, এটি স্বামীদের বলে, “তুমি যেন তোমার যৌবনকালের স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দ করো … আর তুমি যেন সবসময় তার ভালোবাসায় ডুবে থাক।”—হিতোপদেশ ৫:১৮, ১৯.
পর্নোগ্রাফি থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়?
তোমার মনে যদি পর্নোগ্রাফি দেখার ইচ্ছা জেগে ওঠে আর তোমার মনে হয় যে, তুমি নিজেকে আটকে রাখতে পারছ না, তা হলে তুমি কী করতে পার? এক্ষেত্রে “কীভাবে পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে থাকা যায়?” শিরোনামের ওয়ার্কশিটটা তোমাকে সাহায্য করতে পারে।
বিশ্বাস করো, তুমি পর্নোগ্রাফি দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। আর পর্নোগ্রাফি দেখা যদি তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়ে থাকে, তারপরও তুমি এটাকে ছাড়তে পারবে। এমনটা করলে তোমারই ভালো হবে!
কেলভিনের কথা চিন্তা করো। কেলভিন বলে, ১৩ বছর বয়স থেকেই পর্নোগ্রাফি দেখা তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। সে আরও বলে, “আমি জানতাম এটা ঠিক নয়, কিন্তু আমি নিজেকে আটকাতে পারতাম না। আর পর্নোগ্রাফি দেখার পর আমার নিজেকে খুবই ছোটো বলে মনে হত। এক দিন আমার বাবা আমার এই অভ্যাসের বিষয়ে জানতে পেরে যান। বিশ্বাস করো, সেই দিন আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম! অবশেষে আমি সেই সাহায্য পেয়েছিলাম, যেটা আমরা প্রয়োজন ছিল।”
কীভাবে পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে থাকা যায়, কেলভিন তা শিখতে পেরেছিল। সে বলে, “পর্নোগ্রাফি দেখে আমি অনেক বড়ো ভুল করেছি আর আজও আমি তার পরিণতি ভোগ করছি। কারণ আমি যা দেখেছিলাম, তা আজও আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো আমার মধ্যে আবারও সেগুলো দেখার ইচ্ছা জেগে ওঠে। তবে, সেই সময়গুলোতে আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিই যে, যিহোবার দেখানো পথে চলে আমি কত আনন্দে আছি, আমার এক শুদ্ধ বিবেক রয়েছে আর আমার কাছে এক উত্তম ভবিষ্যতের আশা রয়েছে। এভাবে আমি আমার মন্দ আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি।”