যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
তোমার কি ঘর থেকে পড়াশোনা করা কঠিন বলে মনে হয়?
বর্তমানে বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন উপায়ে পড়াশোনা করে। কীভাবে? তারা ঘরে বসেই স্কুলের পড়াশোনা করে। তোমরা যদি নীচে দেওয়া পরামর্শগুলোa কাজে লাগাও, তা হলে তোমরা ঘরে বসেই ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে।
ঘর থেকে ভালোভাবে পড়াশোনার করার জন্য পাঁচটা পরামর্শ
একটা রুটিন তৈরি করো। আগে থেকে ঠিক করে রাখো যে, তুমি কোন কাজগুলো কখন করবে, যেমনটা তুমি আগে স্কুলে যাওয়ার সময়ে করতে। সমস্ত কাজ সময়মতো শেষ করার চেষ্টা করো। যেমন, স্কুলের হোমওয়ার্ক, ঘরের কাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তুমি তোমার সুবিধা অনুযায়ী তোমার রুটিনে রদবদলও করতে পার।
বাইবেলের নীতি: “সব কিছুই যেন সঠিক উপায়ে এবং সুশৃঙ্খলভাবে করা হয়।”—১ করিন্থীয় ১৪:৪০.
“স্কুলে যেভাবে তুমি সময় কাটাতে, সেভাবেই সময় কাটাও। আর সমস্ত কাজ সময়মতো করো, যেমনটা তুমি স্কুলে যাওয়ার সময় করতে।”—ক্যাটি।
চিন্তা করার মতো বিষয়: আমরা যদি আমাদের রুটিন কোথাও লিখে টাঙিয়ে রাখি, তা হলে আমরা সহজেই সেটা দেখতে পাব এবং নিজেদের কাজ সময়ের মধ্যে করতে পারব।
নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিটা কাজ করো: বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমি বুঝতে পারবে যে, নিজের দায়িত্বগুলো নিজেকেই নিতে হবে। আর কিছু কাজ তোমাকে নিজেকেই করতে হবে, তা তোমার ইচ্ছা হোক বা না-ই হোক। তাই, আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রেখো না।
বাইবেলের নীতি: “পরিশ্রমী হও, তোমার কাজের ব্যাপারে গড়িমসি কোরো না।”—রোমীয় ১২:১১, পাদটীকা।
“নিজের কাজ সময়ের মধ্যে করা কঠিন হয়। এর কারণ হল আমরা অজুহাত দিয়ে বলি যে, ‘পরে আমি পড়ে নেব।’ কিন্তু, আসলে এমনটা হয় না। পরে সমস্ত কাজ একসঙ্গে মাথার উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।”—অ্যালেক্সান্ড্রা।
চিন্তা করার মতো বিষয়: তুমি যদি তোমার প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক সময়মতো এবং একই জায়গায় বসে কর, তা হলে তুমি তোমার কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবে।
পড়াশোনা করার জন্য একটা ভালো জায়গা বাছাই করো: যখন তুমি পড়াশোনা করতে বস, তখন সমস্ত জিনিস সঙ্গে নিয়ে বসো। পড়াশোনা করার জন্য একটা শান্ত পরিবেশ বাছাই করো। কিন্তু, খেয়াল রেখো যেন তুমি ঘুমিয়ে না পড়ো। হতে পারে, তোমার কাছে পড়াশোনা করার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই, এইক্ষেত্রে তুমি কিচেন বা বেডরুমে পড়াশোনা করতে পার।
বাইবেলের নীতি: “পরিশ্রমী ব্যক্তির পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই সফল হবে।”—হিতোপদেশ ২১:৫.
“মন দিয়ে পড়াশোনা করার জন্য এটাও গুরুত্বপূর্ণ, যেন তুমি বিক্ষিপ্ত হয়ে না যাও। তাই, তোমার মোবাইলকে সাইলেন্ট মোড করে রাখো। খেলাধুলার জিনিসপত্র দূরে সরিয়ে রাখো। এভাবে, তুমি ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে।”—এলিজাবেথ।
চিন্তা করার মতো বিষয়: মন দিয়ে পড়াশোনা করার জন্য তুমি পড়ার জায়গায় কোন কোন রদবদল করতে পার?
একটা সময়ে একটাই কাজ করো। অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা কোরো না, না হলে তুমি ভুল করে ফেলতে পার এবং পুরো কাজ শেষ করতে তোমার অনেক বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
বাইবেলের নীতি: “তোমাদের সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করো।”—ইফিষীয় ৫:১৬.
“পড়াশোনার সময় আমি যখন আমার মোবাইল সঙ্গে রাখি, তখন পড়াশোনায় আমার মন বসে না এবং আমি বেশিরভাগ সময়টাই অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দেখে নষ্ট করে দিই।”—অলিভিয়া।
চিন্তা করার মতো বিষয়: তুমি কি পড়াশোনা করার সময়টা ধীরে ধীরে বাড়াতে পার? এর ফলে, তুমি তোমার কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারবে।
ব্রেক নাও। পড়াশোনা করার সময় ছোটো ছোটো ব্রেক নাও। যেমন, মাঝে মাঝে একটু হাঁটতে যাও, সাইকেল চালাও এবং এক্সারসাইজ করো। এভাবে, আবারও পড়তে তুমি সতেজতা লাভ করবে। স্কুল পাওয়ার নামক একটি ইংরেজি বইয়ে লেখা আছে, যদি সময়ের মধ্যে তুমি তোমার হোমওয়ার্ক শেষ কর, তা হলে তুমি তোমার ফ্রি টাইমকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তাই, সবার আগে নিজের পড়াশোনা শেষ করো।”
বাইবেলের নীতি: “অনেক বেশি পরিশ্রম করার এবং বাতাসের পিছনে দৌড়োনোর চেয়ে একটু বিশ্রাম করা আরও ভালো।”—উপদেশক ৪:৬.
“স্কুলে তুমি পড়াশোনা করা ছাড়াও, আরও কিছু শেখ। যেমন, গান গাওয়া অথবা ছবি আঁকা। কিন্তু, আমি এখন স্কুলে যেতে পারি না বলে এই ক্লাসগুলো খুব মিস করি। তাই, আমাদের পড়াশোনা করার পাশাপাশি কিছু দক্ষতাও শেখা উচিত।”—টেলর।
চিন্তা করার মতো বিষয়: তুমি পড়াশোনার মাঝেও এমন কী করতে পার, যেটা থেকে তুমি সতেজ হবে এবং পড়াশোনাতেও তোমার মন বসবে?
a ঘর থেকেই বিভিন্ন উপায়ে পড়াশোনা করা যেতে পারে। এই প্রবন্ধে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেটা বিভিন্ন ধরনের পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন, অনলাইনে পড়াশোনা করা বা ডিসটেন্স এডুকেশন (যার অর্থ হল ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে বা কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তারা ঘর থেকেই স্কুলের পড়াশোনা করতে পারে)। তোমার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই প্রবন্ধে দেওয়া পরামর্শগুলো কাজে লাগাও।