ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w26 জুন পৃষ্ঠা ৮-১৩
  • কীভাবে ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা যায়?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • কীভাবে ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা যায়?
  • প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • খ্রিস্টীয় গুণাবলি আমাদের বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে
  • যখন মতের অমিল দেখা দেয়
  • যখন ব্যক্তিত্ব আলাদা হয়
  • যখন ভাই-বোনেরা কষ্টের মধ্যে থাকে
  • ভালোবাসাহীন এক জগতে বন্ধুত্ব বজায় রাখা
    ২০০৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • একে অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব দৃঢ় করা আমাদের জন্য ভালো!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
  • এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন
    ২০২৫-২০২৬ সালের সীমা সম্মেলনের বিষয়সূচি—সীমা অধ্যক্ষের সঙ্গে
  • যিহোবার মতো নম্র হোন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
আরও দেখুন
প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
w26 জুন পৃষ্ঠা ৮-১৩

আগস্ট ১৭-২৩, ২০২৬

গান ৯০ একে অন্যকে উৎসাহিত করো

কীভাবে ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা যায়?

“তোমরা কোমল সমবেদনা, দয়া, নম্রতা, মৃদুতা ও ধৈর্যকে কাপড়ের মতো পরিধান করো।”—কল. ৩:১২.

আমরা কী শিখব?

ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আমরা কী করতে পারি?

১. আমরা কোথায় প্রকৃত বন্ধুদের খুঁজে পেতে পারি?

এই শেষকালে আমরা নানারকম চাপের মুখোমুখি হয়ে থাকি। কিন্তু, আমাদের যদি কোনো বন্ধু না থাকে, তা হলে আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যিহোবা এটা বোঝেন আর তাই তিনি আমাদের এমন বন্ধুদের দিয়েছেন, যারা আমাদের কাছে এক আশীর্বাদের মতো। আমরা যিহোবার লোকদের মাঝে এই প্রকৃত বন্ধুদের খুঁজে পেতে পারি। (গীত. ১১৯:৬৩) আমরা সবাই যিহোবার পরিবারের অংশ আর আমরা একে অপরকে ভালোবাসি।

২. আমরা আমাদের ভাই-বোনদের সঙ্গে কোন ধরনের বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাই?

২ আমরা আমাদের ভাই-বোনদের সঙ্গে উপর উপর বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাই না বরং আমরা চাই যেন আমাদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং একে অপরের প্রতি আমরা অনুগত থাকি। আমরা এমন এক পরিবারের অংশ, যেখানে সবাই যিহোবা ও যিশুকে ভালোবাসে আর এই ভালোবাসাই আমাদের একতাবদ্ধ করে। (যোহন ১৩:৩৫) কিন্তু, এই বন্ধুত্ব রাতারাতি গড়ে ওঠে না। এর জন্য অনেক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। তবে, আমরা কেউই নিখুঁত নই, তাই আমাদের এই বন্ধুত্বের মাঝে বিভিন্ন বাধা আসতে পারে।

৩. ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা কেন কঠিন হতে পারে?

৩ সাধারণত, ভাই-বোনদের মধ্যে সবাই নয়, কিন্তু কেউ কেউ আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠে। কেন? কারণ আমাদের মধ্যে হয়তো বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে এবং আমাদের ব্যক্তিত্ব হয়তো অনেকটা একইরকম। কিন্তু এটাও সত্যি যে, কিছু ভাই-বোনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা আমাদের জন্য একটু কঠিন হতে পারে। অনেকসময় মতের অমিল হওয়ার কারণে আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবার অনেকসময় ব্যক্তিত্ব আলাদা হওয়ার কারণে আমার একে অপরের সঙ্গে মিশতে পারি না। অন্যদিকে, আমাদের ভাই-বোনেরা যখন অসুস্থতায় ভোগে বা কোনো মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, তখন সেটাও আমাদের বন্ধুত্বের উপর একটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন আসুন আমরা দেখি, আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে যখন কোনো বাধা আসে, তখন যিশুর উদাহরণ আমাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারে। তবে, প্রথমে আমরা এটা দেখার চেষ্টা করি যে, কীভাবে খ্রিস্টীয় গুণাবলি আমাদের ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

খ্রিস্টীয় গুণাবলি আমাদের বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে

৪. কীভাবে আমরা ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করতে পারি?

৪ ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করার জন্য তাদের ভালো গুণগুলো আমাদের দেখতে হবে। আমরা যখন ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটাব, তখন আমরা তাদের ভালো গুণগুলো লক্ষ করতে পারব। প্রেরিত পৌল সবসময় ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইতেন। তাই, তিনি থিষলনীকীর ভাই-বোনদের উদ্দেশে লিখেছিলেন: “আমরা যথাসাধ্য প্রচেষ্টা করেছিলাম, যেন তোমাদের সত্যিই দেখতে পারি।” (১ থিষল. ২:১৭) অনেকে মনে করে, ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করার জন্য সামনাসামনি কথা বলা এবং সময় কাটানো খুবই প্রয়োজন। আমরা যখন প্রচারে, সভায় এবং সম্মেলনগুলোতে যাই, তখন আমাদের কাছে সামনাসামনি তাদের সঙ্গে মেলামেশা করার অনেক সুযোগ থাকে। কিন্তু, এটা মনে রাখতে হবে যে, আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে শুধুমাত্র তার সঙ্গে মেলামেশা করলেই যে সেই সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়।

৫. সমস্যা দেখা দিলে কীভাবে আমরা আমাদের বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারি? একটা উদাহরণ দিন। (কলসীয় ৩:১২)

৫ বন্ধুত্বের মধ্যে যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন খ্রিস্টীয় গুণাবলি আমাদের সেই বন্ধুত্বকে বজায় রাখার জন্য সাহায্য করতে পারে। (পড়ুন, কলসীয় ৩:১২.) আমরা যদি নম্রতা, ধৈর্য, দয়া ও কোমল সমবেদনা দেখাই, তা হলে আমরা আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে আসা যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পারব। যেমন, একটা গাড়ির ইঞ্জিন ভালোভাবে কাজ করার জন্য তেলের প্রয়োজন হয়, ঠিক একইভাবে ভাই-বোনদের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব বজায় রাখার জন্য খ্রিস্টীয় গুণাবলি দেখানো খুবই প্রয়োজন। আসুন, আমরা তিনটে বাধা নিয়ে আলোচনা করি, যেগুলো আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে দুর্বল করতে পারে। এগুলো নিয়ে আলোচনা করার সময় আমরা দেখব, কীভাবে যিশু নম্রতা, ধৈর্য, দয়া এবং কোমল সমবেদনা দেখিয়েছিলেন আর কীভাবে আমরা একে অপরের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব বজায় রাখার জন্য তাঁকে অনুকরণ করতে পারি।

যখন মতের অমিল দেখা দেয়

৬. কীভাবে মতপার্থক্য বন্ধুত্বের উপর এক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে?

৬ এটা কেন একটা বাধা হতে পারে? সাধারণত যখন দু-জন ব্যক্তির মধ্যে মতের অমিল দেখা দেয়, তখন তারা দু-জনেই মনে করে যে, তাদের নিজস্ব মতামতটাই ঠিক। কল্পনা করুন, পরিচর্যা দলকে কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সেই বিষয়ে দু-জন ভাইয়ের মধ্যে মতের অমিল দেখা দিয়েছে। আর তারা দু-জনেই মনে করছে যে, তাদের নিজস্ব মতামতটাই ঠিক। আপনি কি বুঝতে পারছেন, এই মতপার্থক্য কীভাবে তাদের বন্ধুত্বের উপর এক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে? তারা হয়তো ভাবতে পারে, ‘আমি যেটা মনে করছি, সেটাই ঠিক।’ এই বিষয়টা যদি মীমাংসা করা না হয়, তা হলে তারা একে অপরের প্রতি রাগ পুষে রাখতে পারে। আর যত দিন যাবে তারা হয়তো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে এবং তাদের বন্ধুত্বও নষ্ট হয়ে যাবে। একবার ভেবে দেখুন, একটা সামান্য বিষয়ের জন্য এত কিছু ঘটে যেতে পারে।

৭. যিশু কীভাবে তাঁর শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন যে, মতপার্থক্যের সমাধান করার জন্য নম্রতার প্রয়োজন?

৭ যিশুর নম্রতা থেকে শিখুন। যিশু তাঁর শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন যে, মতপার্থক্য দেখা দিলে কীভাবে সেটার সমাধান করা যায়। তিনি বলেছিলেন যে, নম্রতা দেখানোর মাধ্যমে সেটা করা সম্ভব। বেশ কিছু দিন ধরে, তাঁর শিষ্যেরা নিজেদের মধ্যে তর্কবিতর্ক করছিল যে, তাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ। যিশু বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাদের মনের মধ্যে এই ধরনের মনোভাব গেঁথে রয়েছে। তাই তিনি তাদের বলেছিলেন, তারা যেন নিজের চেয়ে অন্যকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। (মথি ২০:২৫-২৮) আসলে, তিনি তাদের নম্র হতে শেখাচ্ছিলেন। এমনকী তাঁর মৃত্যুর আগের রাতে, যিশু তাঁর শিষ্যদের জন্য “এক আদর্শ স্থাপন” করেছিলেন। তিনি নম্রভাবে তাঁর শিষ্যদের পা ধুইয়ে দিয়েছিলেন, যেটা সাধারণত ঘরের দাসেরা করত। (যোহন ১৩:৩-৫, ১২-১৬) এটা করার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছিলেন যে, কীভাবে তাঁর শিষ্যেরা একে অপরের মধ্যে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারে। তারা যদি নিজেদের চেয়ে অন্যদের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করত, তা হলে মতপার্থক্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বজায় রাখা তাদের পক্ষে আরও সহজ হত।

৮. মতপার্থক্য দেখা দিলে কীভাবে নম্রতা আপনাকে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করবে? (কলসীয় ৩:১৩) (ছবিগুলোও দেখুন।)

৮ কীভাবে আপনি আপনার বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারেন? আপনি যদি নম্রতা দেখান, তা হলে ছোটোখাটো মতপার্থক্যকে আপনি উপেক্ষা করতে এবং একে অন্যকে পুরোপুরিভাবে ক্ষমা করতে পারবেন। (পড়ুন, কলসীয় ৩:১৩.) এ ছাড়া, নম্রতা থাকলে আপনি সহজেই রেগে যাবেন না এবং আপনাদের মধ্যে যে-ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে, সেটা বজায় রাখতে পারবেন। (গীত. ৪:৪) আপনার বন্ধু যদি আপনাকে এমন কিছু বলে যার জন্য আপনি আঘাত পেয়েছেন, তা হলে মনে রাখবেন আমরা সবাই কখনো-না-কখনো এমন কিছু বলে থাকি, যেটার ফলে আমাদের পরে আপশোস করতে হয়। (উপ. ৭:২১, ২২) নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমার কাছে আমাদের বন্ধুত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না কি আমি সঠিক, সেটা দেখানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?’ আপনি চাইলে সহজেই আপনার বন্ধুর কথা মেনে নিতে পারেন। আর যেটা হয়ে গিয়েছে, সেটা নিয়ে আর কথা না বলে আপনি আপনার মনের শান্তি বজায় রাখতে পারেন।

কোলাজ: একজন বয়স্ক ভাই যিশুর নম্রতা অনুকরণ করছেন। ১. যিশু একজন প্রেরিতের পা ধুয়ে দিচ্ছেন। ২. যখন একজন যুবকবয়সি ভাই মণ্ডলীর টেরিটরি ম্যাপের বিষয়ে একজন বয়স্ক ভাইকে বোঝাচ্ছেন, তখন তিনি সেটা শুনছেন, কিন্তু তার মনে সেই বিষয়ে কিছু সন্দেহ রয়েছে। ৩. সেই একই ভাইয়েরা আনন্দের সঙ্গে প্রচার করছে।

আপনি যদি নম্রতা দেখান, তা হলে ছোটোখাটো মতপার্থক্যকে আপনি উপেক্ষা করতে এবং একে অন্যকে পুরোপুরিভাবে ক্ষমা করতে পারবেন (৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)a


৯. দু-জনের মধ্যে যদি মতপার্থক্য চলতেই থাকে, তা হলে নম্রতা কীভাবে সাহায্য করতে পারে? (হিতোপদেশ ১৭:৯)

৯ দু-জনের মধ্যে যখন মতপার্থক্য চলতেই থাকে, সেইসময়ও নম্রতা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনার মতামতকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য আপনার তর্কবিতর্ক করা উচিত নয়। (পড়ুন, হিতোপদেশ ১৭:৯; ১ করি. ৬:৭) এর পরিবর্তে, বন্ধুত্ব বজায় রাখাই আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত। অনেকে সদয়ভাবে কথা বলার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে। (গীত. ৩৪:১৪) আপনি হয়তো আপনার বন্ধুকে বলতে পারেন: ‘আমরা তো এত দিনের বন্ধু! আমরা কি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টা মিটমাট করে নিতে পারি না?’ আপনার ভুলটাও স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকুন আর আপনি যদি কোনোভাবে আপনার বন্ধুকে আঘাত দিয়ে থাকেন, তা হলে সেটার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন। অন্যদিকে, আপনার বন্ধু যদি আপনার কাছে ক্ষমা চায়, তা হলে নম্রভাবে সেটা গ্রহণ করুন। (লূক ১৭:৩, ৪) মনে রাখবেন, কে ঠিক বা কে ভুল সেটা প্রমাণ করা আপনার লক্ষ্য নয় বরং মতপার্থক্যগুলো সমাধান করা এবং আপনাদের বন্ধুত্ব বজায় রাখাই হল আপনার প্রধান লক্ষ্য।—হিতো. ১৮:২৪.

যখন ব্যক্তিত্ব আলাদা হয়

১০. কিছু ভাই-বোনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করা কেন কঠিন হতে পারে?

১০ এটা কেন একটা বাধা হতে পারে? আমাদের হয়তো এমন ভাই-বোনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করা কঠিন বলে মনে হতে পারে, যাদের ব্যক্তিত্ব আমাদের থেকে আলাদা। কারো কারো স্বভাব আমাদের বিরক্তিকর বলে মনে হতে পারে। অতীতের কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে অনেকের আচরণ হয়তো আমাদের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে। অথবা তারা এমন সংস্কৃতি থেকে এসেছে, যেখানকার লোকেরা নিজেদেরকে একটু গুটিয়ে রাখে আবার কেউ কেউ এমন সংস্কৃতি থেকে এসেছে, যেখানকার লোকেরা কথা বলতে বেশ ভালোবাসে। অথবা আমাদের মধ্যে কেউ মেলামেশা করতে পছন্দ করে আবার কেউ হয়তো একটু লাজুক স্বভাবের।

১১. কীভাবে যিশু এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পেরেছিলেন, যাদের ব্যক্তিত্ব তাঁর থেকে আলাদা ছিল?

১১ যিশুর ধৈর্য থেকে শিখুন। তিনি এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পেরেছিলেন, যাদের ব্যক্তিত্ব তাঁর থেকে আলাদা ছিল। যেমন, প্রেরিত যাকোব এবং যোহনের কথা চিন্তা করুন। ঈশ্বরের রাজ্যে একটা বিশেষ স্থান পাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার মনোভাব দেখা দিয়েছিল। (মার্ক ১০:৩৫-৩৭) এর বিপরীতে, যিশু নম্রভাবে স্বর্গে তাঁর উচ্চ স্থান ও বিশেষ সুযোগগুলো ছেড়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। (ফিলি. ২:৫-৮) এই দু-জন প্রেরিত এবং যিশুর মনোভাবের মধ্যে কতটা পার্থক্য ছিল, সেটা একবার চিন্তা করুন! কিন্তু, যিশু তারপরও যাকোব, যোহন এবং অন্য প্রেরিতদের প্রতি ধৈর্য দেখিয়েছিলেন।

১২. কোন বিষয়টা যিশুকে তাঁর বন্ধুদের প্রতি ধৈর্য দেখাতে সাহায্য করেছিল?

১২ যিশু তাঁর বন্ধুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিছু আশা করেননি। তিনি জানতেন, যাকোব এবং যোহনের মতো তাঁর অন্য শিষ্যদের মধ্যেও প্রতিযোগিতার মনোভাব ছিল। (মার্ক ৯:৩৪) যিশুও তাদের মতো একই সংস্কৃতিতে বড়ো হয়ে উঠেছিলেন, যেখানে খ্যাতি ও পদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত। তাই, যিশু তাঁর শিষ্যদের চিন্তাভাবনা বুঝতে পারতেন। যিশু তাঁর শিষ্যদের প্রতি ধৈর্য দেখিয়েছিলেন এবং তাদের মন থেকে গর্ব ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মনোভাব পুরোপুরি দূর করে দেওয়ার জন্য তাদের সময় দিয়েছিলেন, যেটা তারা বছরের পর বছর ধরে তাদের মনের মধ্যে পোষণ করে এসেছিল।—মার্ক ১০:৪২-৪৫.

১৩. কীভাবে ধৈর্য আমাদের বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে? (ইফিষীয় ৪:২)

১৩ কীভাবে আপনি আপনার বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারেন? কারো আচরণ যদি আপনার বিরক্তিকর লাগে, তা হলেও তার প্রতি ধৈর্য দেখানোর চেষ্টা করুন। (হিতো. ১৪:২৯) আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো হয়তো ভুল নয়। সেগুলো শুধুমাত্র আমাদের ব্যক্তিত্বের একটা অংশ। তাই, অন্যেরা যখন আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, তখন আমরা খুব খুশি হই। (পড়ুন, ইফিষীয় ৪:২.) তাই, এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমরাও যেন অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে নিই। একজন লাজুক স্বভাবের ব্যক্তি কতটা প্রচেষ্টা করে অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করে বা কথাবার্তা বলে, সেটা নিয়ে চিন্তা করুন এবং বিবেচনা দেখান। অন্যদিকে, কেউ যদি বেশি কথা বলতে ভালোবাসে, তা হলে তার প্রতিও ধৈর্য দেখান। আমরা কখনোই এটা আশা করতে পারি না যে, সবাই আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবে। কিন্তু, আমরা এটা মাথায় রাখতে পারি যে, যদিও কিছু ভাই ও বোনের ব্যক্তিত্ব আমাদের থেকে আলাদা, তবুও আমরা তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি।

১৪. ধৈর্য আমাদের কোন বিষয়ের উপর মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে?

১৪ ধৈর্য আমাদের ভাই-বোনদের ভালো গুণগুলোর উপর মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। আমরা যখন এটা করব, তখন আমাদের ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও আমরা সেটা বন্ধুত্বের মধ্যে বাধা হতে দেব না। উদাহরণ স্বরূপ, যাকোব ও যোহন যদিও স্বার্থপরের মতো উচ্চপদ পেতে চেয়েছিল, কিন্তু এটা দেখিয়েছিল যে, ঈশ্বরের রাজ্য তাদের কাছে বাস্তব এক বিষয়। যিশু এই বিষয়টা লক্ষ করেছিলেন এবং তাদের বিশ্বাসের প্রশংসা করেছিলেন। আমরা যখন আমাদের বন্ধুদের ভালো গুণগুলোর উপর মনোযোগ দিই, তখন আমরা যিশু এবং তাঁর পিতা যিহোবাকে অনুকরণ করি।

১৫. যাদের ব্যক্তিত্ব আমাদের থেকে আলাদা, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার জন্য আমরা কার সাহায্য নিতে পারি?

১৫ যাদের ব্যক্তিত্ব আমাদের থেকে আলাদা, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার জন্য যিহোবার কাছে সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার মনে হয় যে, পরিস্থিতি এমন দিকে এগোচ্ছে, যেখানে আপনি হয়তো রেগে যেতে পারেন, তা হলে সেইসময় শান্ত থাকার জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন। মনে রাখবেন, যিহোবা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি খুব ভালোভাবে জানেন যে, আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব আলাদা। তাই, আপনি যখন প্রার্থনা করবেন, তখন এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন যে, ধৈর্য ধরার জন্য আপনার কী প্রয়োজন, তা যিহোবা জানেন। আর আপনি যখন দেখবেন যে, আপনার পক্ষে ধৈর্য ধরা আর সম্ভব হচ্ছে না, তখন যিহোবার কাছে পবিত্র শক্তি চান, যাতে আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।—লূক ১১:১৩; গালা. ৫:২২, ২৩.

যখন ভাই-বোনেরা কষ্টের মধ্যে থাকে

১৬. আমাদের ভাই-বোনেরা যখন কোনো কষ্টের মধ্যে থাকে, তখন সেটা কেন আমাদের জন্য একটা বাধা হতে পারে?

১৬ এটা কেন একটা বাধা হতে পারে? ভাই-বোনেরা যখন কোনো শারীরিক সমস্যায় ভোগে অথবা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তারা হয়তো এমন কিছু করে বা বলে, যেটা আমাদের খারাপ লাগতে পারে। যেমন, তারা হয়তো নিজেদের গুটিয়ে রাখতে পারে, কথায় কথায় বিরক্ত হতে পারে আর তারা এমন কিছু করে ফেলতে পারে, যেটা আমরা আশাই করিনি। অথবা তাদের কথায় বা কাজে আমরা আঘাত পেতে পারি। (ইয়োব ৬:২, ৩) আমরা হয়তো জানি না যে, আমাদের ভাই-বোনেরা ঠিক কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই আমরা তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আশা করে ফেলতে পারি।

১৭. বর্‌তীময়ের প্রতি যিশু যেভাবে আচরণ করেছিলেন, তা থেকে আপনি কী শিখেছেন?

১৭ যিশুর দয়া ও কোমল সমবেদনা থেকে শিখুন। যিশু সেইসমস্ত ব্যক্তির প্রতি দয়া ও কোমল সমবেদনা দেখিয়েছিলেন, যারা কষ্টের মধ্যে ছিল, এমনকী তাদের প্রতিও যাদের তিনি আগে কখনো দেখেননি। চিন্তা করে দেখুন, তিনি বর্‌তীময় নামে একজন অন্ধ ব্যক্তির সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেছিলেন। বর্‌তীময় যখন জানতে পারেন যে, তিনি যেখানে বসে ছিলেন, সেই পথ দিয়ে যিশু যাচ্ছেন, তখন তিনি যিশুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য চিৎকার করতে থাকেন। সেখানে উপস্থিত থাকা কিছু লোক বর্‌তীময়কে চুপ করতে বলে। কিন্তু, বর্‌তীময় তাদের কথা শোনেন না বরং আরও জোরে চিৎকার করতে থাকেন। কেন? কারণ তিনি সত্যিই চেয়েছিলেন, যিশু যেন তাকে সুস্থ করে দেন। সেখানে উপস্থিত থাকা লোকেরা তার এই আচরণে কি বিরক্ত বোধ করেছিল? হতে পারে, তারা বিরক্ত হয়েছিল। কিন্তু, যিশু তার প্রতি “গভীর সমবেদনা” বোধ করেছিলেন অর্থাৎ তিনি বর্‌তীময়ের কষ্টকে অনুভব করতে পেরেছিলেন এবং তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। (মথি ২০:৩৪; মার্ক ১০:৪৬-৫২) তিনি বর্‌তীময়ের সঙ্গে সদয়ভাবে কথা বলেন এবং তার বিশ্বাসের প্রশংসা করেন। এরপর, যিশু অলৌকিকভাবে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন।

১৮. আপনার যে-সমস্ত বন্ধু কষ্টে রয়েছে, তাদের সাহায্য করার জন্য আপনি কী করতে পারেন? (১ থিষলনীকীয় ৫:১৪)

১৮ কীভাবে আপনি আপনার বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারেন? সদয় হোন এবং কোমল সমবেদনা দেখান। যে-সমস্ত ভাই-বোন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে অথবা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, তাদের “সান্ত্বনা” দিতে এই গুণগুলো আপনাকে সাহায্য করবে। (পড়ুন, ১ থিষলনীকীয় ৫:১৪.) মনে রাখবেন, একজন প্রকৃত বন্ধু সবসময় সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকেন, বিশেষ করে “বিপদের সময়ে।” (হিতো. ১৭:১৭) এই ধরনের বন্ধু শুধু যে আপনার কষ্ট অনুভব করেন তা নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে আপনাকে আবেগগতভাবে সমর্থন করেন, আপনাকে উৎসাহিত করেন এবং ব্যাবহারিক উপায়ে সাহায্য করার জন্য তার যথাসাধ্য করেন।

১৯. কীভাবে আমরা দয়া ও কোমল সমবেদনা দেখাতে পারি? (ছবিগুলোও দেখুন।)

১৯ কীভাবে আপনি দয়া ও কোমল সমবেদনা দেখাতে পারেন? এটা ঠিক আপনি হয়তো আপনার বন্ধুর কষ্ট দূর করতে পারবেন না। কিন্তু, আপনি আপনার সাধ্যমতো তার প্রতি সমবেদনা দেখাতে পারেন। (মথি ৭:১২; ১ পিতর ৩:৮) তার পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি যখন আপনার সঙ্গে কথা বলবেন, তখন তার কথা মন দিয়ে শুনুন। যদি সম্ভব হয়, তা হলে এমন কিছু কথা বলুন, যেটা তাকে সান্ত্বনা দেবে। (হিতো. ১২:২৫) তাকে ভুল বুঝবেন না। (হিতো. ১৮:১৩) তার প্রতি ধৈর্য দেখান এবং তার কাছ থেকে অতিরিক্ত আশা করবেন না।—ইফি. ৪:৩২.

কোলাজ: একজন বোন অন্য একজন বোনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ১. তার বন্ধু যখন কেঁদে কেঁদে তার সঙ্গে কথা বলছেন, তখন সেই বোন মনোযোগ দিয়ে তা শুনছেন। ২. পরে সেই বোন তার বন্ধুর জন্য কুকিজ বানিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

প্রকৃত বন্ধুরা কোমল সমবেদনা ও দয়া দেখানোর মাধ্যমে সান্ত্বনা দিয়ে থাকে (১৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)


২০. আপনি কী ধরনের বন্ধু হতে চান?

২০ ভাই-বোনদের সঙ্গে আমাদের যে-বন্ধুত্ব রয়েছে, সেটা আমরা খুবই উপলব্ধি করি। কিন্তু, আমরা মনে রাখি যে, আমরা কেউই নিখুঁত নই, আর এর পাশাপাশি আমাদের মধ্যে অনেকের জীবনেই কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই, অনেকসময় আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যেটা আমরা আসলে করতে চাই না। আমাদের ভাই-বোনেরা যখন আমাদের প্রতি নম্রতা, ধৈর্য, দয়া ও কোমল সমবেদনা দেখায় এবং আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখে, তখন আমরা খুবই কৃতজ্ঞ হই। আসুন, আমরা এইভাবে একে অন্যের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠি।

কীভাবে আপনি ভাই-বোনদের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারেন . . .

  • যখন মতের অমিল দেখা দেয়?

  • যখন ব্যক্তিত্ব আলাদা হয়?

  • যখন ভাই-বোনেরা কষ্টের মধ্যে থাকে?

গান ১২৪ সবসময় অনুগত থাকি

a ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: একজন বয়স্ক এবং অল্পবয়সি ভাইয়ের মধ্যে প্রচারের এলাকা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। পরে, তারা খুশিমনে একসঙ্গে প্রচার করছে।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার