বয়স্ক ভাই-বোনেরা, আপনারা মণ্ডলীর জন্য এক আশীর্বাদ
“প্রায়ই আমি এটা চিন্তা করে অবাক হয়ে যাই যে, আগে আমি কত কিছু করতে পারতাম! কিন্তু, এখন আমার শরীর আর সাথ দিচ্ছে না!”—কোনি, ৮৩ বছর বয়স।
হতে পারে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার শরীর আর চলছে না। আপনি হয়তো অনেক বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে যিহোবার সেবা করে এসেছেন, কিন্তু এখন আপনার পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে আর তাই আপনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। হতে পারে, আপনার মনে বার বার এই চিন্তা আসে যে, আগে আমি কত কিছু করতে পারতাম, কিন্তু এখন আমার দ্বারা কোনো কিছুই হয় না। যদি এমনটা হয়, তা হলে আপনি কীভাবে আপনার আনন্দ বজায় রাখতে পারেন?
যিহোবা আপনার কাছ থেকে কী আশা করেন?
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘যিহোবা আমার কাছ থেকে কী আশা করেন?’ লক্ষ করুন, মার্ক ১২:৩০ পদে কী লেখা আছে। এখানে যে-কথাগুলো লেখা আছে, সেখান থেকে আপনি অনেক উৎসাহ পেতে পারেন। এখানে লেখা আছে, “তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত মন এবং তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার ঈশ্বর যিহোবাকে ভালোবাসবে।”
চিন্তা করুন, যখন আপনার বয়স কম ছিল, তখন আপনি যিহোবার জন্য অনেক কিছুই করতে পারতেন। যিহোবার বেশিরভাগ সেবক এটাই বলে থাকে, তারা যতটা পেরেছে, ততটাই যিহোবার জন্য করেছে। আপনিও সেইসময় আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী যিহোবাকে আপনার সর্বোত্তমটা দিয়েছিলেন। এখন আপনি যিহোবার জন্য কতটা করতে পারছেন? আজও আপনি আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী যিহোবাকে আপনার সর্বোত্তমটা দিচ্ছেন। আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব, ততটাই করছেন। এভাবে চিন্তা করলে, আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনি যিহোবার জন্য আগে যতটা করেছেন, এখনও ততটাই করছেন। আপনি আগেও যিহোবাকে আপনার সর্বোত্তমটা দিয়েছিলেন এবং আজও আপনার সর্বোত্তমটাই দিচ্ছেন।
বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি যখন যিহোবাকে আপনার সর্বোত্তমটা দেন, তখন মনে রাখবেন যে, যখন আপনি যুবক ছিলেন, তখনও আপনি যিহোবাকে আপনার সর্বোত্তমটাই দিয়েছিলেন
আপনি অন্যদের জন্য অনেক কিছু করতে পারেন
শুধুমাত্র এই নিয়ে চিন্তা করবেন না যে, বয়সের কারণে আপনি কী করতে পারছেন না বরং এটা ভাবুন যে, আজ আপনার কাছে কী কী করার সুযোগ রয়েছে। এটা ঠিক যে, আপনার বয়স হয়েছে, কিন্তু এখন আপনি সেই কাজগুলো করতে পারেন, যেগুলো আপনি হয়তো যুবক বয়সে করতে পারতেন না। যেমন,
অন্যদের নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলুন। যেমন, বাইবেলে দেওয়া এই কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করুন।
রাজা দায়ূদ বলেছিলেন: “একসময় আমি যুবক ছিলাম, এখন বৃদ্ধ হয়েছি, কিন্তু আমি কখনো দেখিনি, কোনো ধার্মিক ব্যক্তিকে পরিত্যাগ করা হয়েছে কিংবা তার সন্তানেরা রুটির জন্য ভিক্ষা করছে।”—গীত. ৩৭:২৫, NW.
যিহোশূয় বলেছিলেন: “দেখো! আমি আর বেশি দিন বাঁচব না। তোমরা ভালো করে জান, তোমাদের ঈশ্বর যিহোবা তোমাদের যে-সমস্ত ভালো বিষয় দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই সমস্ত প্রতিজ্ঞাই তিনি পূরণ করেছেন। এমন কোনো প্রতিজ্ঞা নেই, যেটা পূরণ করা হয়নি।”—যিহো. ২৩:১৪, NW.
দায়ূদ ও যিহোশূয় যা-কিছু বলেছিলেন, সেগুলো তারা নিজেরাও অনুভব করেছিলেন। তারা দীর্ঘসময় ধরে বিশ্বস্তভাবে যিহোবার সেবা করেছেন এবং অনেক বার তারা তাদের জীবনে এই কথাগুলো সত্যি হতে দেখেছেন। তাই, তারা যা-কিছু বলেছিলেন, সেগুলো লোকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
হতে পারে, আপনি দীর্ঘসময় ধরে যিহোবার সেবা করছেন। তাই, আপনিও অন্যদের বলতে পারেন যে, এটা করার মাধ্যমে তারা কত আশীর্বাদ পেতে পারে। আপনার কি এমন কিছু ঘটনার কথা মনে আছে, যখন যিহোবা কোনো এক বিশেষ উপায়ে তাঁর লোকদের সাহায্য করেছিলেন? আপনি যদি এমন কোনো ঘটনা জেনে থাকেন, তা হলে সেটা অন্যদের বলুন। এটা থেকে তারা অনেক আনন্দ পাবে, যেমন আপনি পেয়েছিলেন। যিহোবাকে সেবা করার মাধ্যমে আপনার যে-ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা জেনে অন্যেরা অনেক উৎসাহিত হবে।—রোমীয় ১:১১, ১২.
আপনি আরও একটা উপায়ে অন্যদের উৎসাহিত করতে পারেন। যতটা সম্ভব কিংডম হলে গিয়ে মণ্ডলীর সভাগুলোতে যোগ দিন। এতে তো অন্যদের উপকার হবেই, কিন্তু আপনি নিজেও উৎসাহিত হবেন। বোন কোনি, যার কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি বলেন: “সভাতে গিয়ে আমি অনেক সাহায্য পাই আর নিরুৎসাহিতবোধ করি না। কিংডম হলে আমি ভাই-বোনদের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পেয়ে কি কখনো নিরুৎসাহিত হতে পারি! আমি ভাই-বোনদের যে কতটা ভালোবাসি, সেটা বোঝানোর জন্য আমি প্রায়ই তাদের ছোটো ছোটো উপহার দিয়ে থাকি। আর আমি চেষ্টা করি যেন সবসময় ভাই-বোনদের সাথে যিহোবার সেবার সঙ্গে জড়িত কাজগুলো করে চলতে পারি।”
আপনার বিশ্বস্ত সেবাকে যিহোবা অনেক মূল্য দেন
বাইবেলে এমনই কিছু ব্যক্তির কথা বলা রয়েছে, যারা তাদের পরিস্থিতির কারণে বেশি কিছু করতে পারত না, কিন্তু যিহোবা তাদের খুব ভালোবাসতেন। যেমন, একজন বয়স্ক ইজরায়েলীয় ব্যক্তি শিমিয়োনের কথা চিন্তা করুন, যিনি সেই সময় জীবিত ছিলেন যখন যিশুর জন্ম হয়। শিমিয়োন যখন মন্দিরে যেতেন, তখন তিনি হয়তো দেখতেন, কিছু যুবক মন্দিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। আর এটা দেখে তিনি হয়তো ভাবতেন, আমি এদের মতো কিছুই করতে পারছি না, যিহোবার সেবায় আমি কোনো কাজের নই। যিহোবা কিন্তু তাঁর সম্বন্ধে কখনোই এমনটা চিন্তা করতেন না। তাঁর দৃষ্টিতে শিমিয়োন এক “ধার্মিক ও ঈশ্বরভয়শীল” ব্যক্তি ছিলেন। এই জন্য যিহোবা ছোট্ট যিশুকে দেখার বিশেষ সুযোগ শিমিয়োনকে দিয়েছিলেন। “পবিত্র শক্তি তার উপর ছিল” এবং যিহোবা, শিমিয়োনকে দিয়ে এই ভবিষ্যদ্বাণীও করিয়েছিলেন যে, পরবর্তী সময়ে যিশুই মশীহ হবেন! (লূক ২:২৫-৩৫) এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, যিহোবা শিমিয়োনের বয়স বা তার দুর্বল শরীরের দিকে নয় বরং তার দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতি মনোযোগ দিয়েছিলেন।
যিহোবা শিমিয়োনকে ছোট্ট যিশুকে দেখার বিশেষ সম্মান দিয়েছিলেন এবং তাকে দিয়ে এই ভবিষ্যদ্বাণী করিয়েছিলেন যে, পরবর্তী সময়ে যিশুই হবেন মশীহ
আপনিও নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, যিহোবা আপনাকে খুবই মূল্যবান হিসেবে দেখেন। আপনার বয়স বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও আপনি যে বিশ্বস্তভাবে তাঁর সেবা করে যাচ্ছেন, সেটার জন্য তিনি হৃদয় থেকে আপনার প্রতি উপলব্ধি দেখান। যিহোবা চান “একজন ব্যক্তি যেন তার যা রয়েছে, সেই অনুসারে দান করে, যা নেই, সেই অনুসারে নয়।”—২ করি. ৮:১২.
তাই, এই বিষয়টা ভেবে দেখুন যে, আপনি কী করতে পারেন। চিন্তা করুন, এখন আপনি কোন কোন উপায়ে প্রচার করতে পারেন, এমনকী সেটা অল্প সময়ের জন্য হলেও। আপনি কি ভাই-বোনদের ফোন করে উৎসাহ দিতে বা তাদের কার্ড দিতে পারেন? আপনারা যারা দীর্ঘসময় ধরে সেবা করে আসছেন, যখন এই ছোটো ছোটো উপায়ে ভাই-বোনদের প্রতি প্রেম দেখান, তখন তাদের খুব ভালো লাগে।
আপনার যদি মনে হয় যে, আপনি বেশি চলাফেরা করতে পারবেন না, তা হলেও আপনি যিহোবার জন্য অনেক কিছু করতে পারেন। পূর্ব আফ্রিকার একটা অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করুন, যেটা এই প্রবন্ধের বাক্সে দেওয়া আছে, যেটার শিরোনাম হল, “তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল।”
মনে রাখবেন, আপনি যেভাবে দীর্ঘসময় ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে যিহোবার সেবা করে আসছেন এবং তাঁর উপর আপনার যে-অটুট বিশ্বাস রয়েছে, সেটা দেখে অন্যেরা অনেক উৎসাহিত হতে পারে। এর পাশাপাশি, ধৈর্য ধরার ক্ষেত্রেও আপনি এক অসাধারণ উদাহরণ রেখেছেন। তাই, বাইবেলের এই কথাগুলোর উপর আস্থা রাখুন, “ঈশ্বর অন্যায়কারী নন; [তুমি] পবিত্র ব্যক্তিদের যে-সেবা করেছ এবং এখনও করে চলছ আর এভাবে [তুমি] যে-কাজ করেছ এবং তাঁর নামের প্রতি যে-প্রেম দেখিয়েছ, তা তিনি ভুলে যাবেন না।”—ইব্রীয় ৬:১০.
যতটা সম্ভব যিহোবার সেবায় ব্যস্ত থাকুন
ডাক্তাররা গবেষণা করে এটা জানতে পেরেছে, যে-সমস্ত বয়স্ক ব্যক্তি অন্যদের সাহায্য করে, তাদের স্বাস্থ্য সাধারণত অনেক ভালো থাকে, তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং তারা আরও বেশি দিন বেঁচে থাকে।
তবে, অন্যদের জন্য ভালো কাজ করলেই যে আমাদের স্বাস্থ্য পুরোপুরি ঠিক থাকবে, এমনটা নয়। এটা একমাত্র ঈশ্বরের রাজ্যেই সম্ভব হবে। এই রাজ্যের মাধ্যমেই বার্ধক্য ও মৃত্যুর আসল কারণ অর্থাৎ আদমের কাছ থেকে পাওয়া পাপকে দূর করা হবে।—রোমীয় ৫:১২.
তবে, আজ আপনি যেভাবে যিহোবার সেবা করছেন এবং তাঁকে জানার জন্য অন্যদের সাহায্য করছেন, এর ফলে আপনার আশা আরও দৃঢ় হয় এবং আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকতে পারে। প্রিয় বয়স্ক ভাই-বোনেরা, আপনারা এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন যে, আপনাদের উত্তম উদাহরণ থেকে মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা অনেক কিছু শেখে এবং যিহোবা আপনাদের এই সেবাকে খুবই মূল্যবান হিসেবে দেখেন!