অধ্যয়ন প্রবন্ধ ২৫
গান ৯৬ ঈশ্বরের বাক্য—এক অমূল্য সম্পদ
যাকোবের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে আমরা যা শিখতে পারি—ভাগ ২
“ইহাঁদের প্রত্যেক জনকে বিশেষ বিশেষ আশীর্ব্বাদ করিলেন।”—আদি. ৪৯:২৮.
আমরা কী শিখব?
যাকোব মারা যাওয়ার আগে সবূলূন, ইষাখর, দান, গাদ, আশের, নপ্তালি, যোষেফ ও বিন্যামীনের বিষয়ে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
১. এই প্রবন্ধে আমরা কোন বিষয়ে আলোচনা করব?
যাকোবের ১২ জন ছেলে তার কাছে একত্রিত হয়েছে। যাকোব এক এক করে তাদের আশীর্বাদ করছেন এবং তারা সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে। আগের প্রবন্ধে আমরা দেখেছিলাম, তিনি তার ছেলে রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি এবং যিহূদাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। যাকোবের কথা শুনে তার ছেলেরা অবাক হয়ে যায় এবং তারা হয়তো চিন্তা করতে থাকে যে, তাদের বাবা বাকি আট জন ছেলেকে কী বলবেন। এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব যে, সবূলূন, ইষাখর, দান, গাদ, আশের, নপ্তালি, যোষেফ ও বিন্যামীনকে যাকোব কী বলেছিলেন এবং সেখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি।a
সবূলূন
২. যাকোব সবূলূনের বিষয়ে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং সেটা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:১৩) (বাক্সও দেখুন।)
২ আদিপুস্তক ৪৯:১৩ পদ পড়ুন। যাকোবের কথা থেকে বোঝা যায়, সবূলূনের বংশ প্রতিজ্ঞাত দেশের উত্তর দিকে সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকা পাবে। প্রায় ২০০ বছর পর এমনটাই হয়েছিল। সবূলূনের বংশকে গালীল সাগর এবং ভূমধ্যসাগরের মাঝে থাকা এলাকা দেওয়া হয়েছিল। মোশি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, “হে সবূলূন, তুমি বাইরে যাওয়ার সময় আনন্দ করো।” (দ্বিতীয়. ৩৩:১৮, NW) এই ভবিষ্যদ্বাণীর অর্থ কী ছিল? এর অর্থ হয়তো এটা যে, সবূলূনের লোকদের পক্ষে ব্যাবসা করা খুব সহজ হবে কারণ তাদের এলাকা দুটো সমুদ্রের মাঝে ছিল। যা-ই হোক না কেন, একটা বিষয় স্পষ্ট, সবূলূনের বংশধরদের কাছে আনন্দ করার কারণ ছিল।
৩. আনন্দে থাকার জন্য আমরা কী করতে পারি?
৩ এখান থেকে আমরা কী শিখি? আমরা যেখানেই থাকি না কেন অথবা আমাদের পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমাদের সবার কাছে আনন্দে থাকার কোনো-না-কোনো কারণ নিশ্চয়ই রয়েছে। আনন্দে থাকার জন্য আমাদের কাছে যা-কিছু রয়েছে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। (গীত. ১৬:৬; ২৪:৫) কখনো কখনো যেটা আমাদের কাছে নেই, সেই বিষয়ে চিন্তা করে আমরা দুঃখিত হয়ে পড়ি। এর পরিবর্তে, আমাদের কাছে যা-কিছু রয়েছে, সেই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এমনটা করলে আমাদের পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমরা আনন্দে থাকতে পারব।—গালা. ৬:৪.
ইষাখর
৪. যাকোব ইষাখরের বিষয়ে কোন ভবিষদ্বাণী করেছিলেন এবং সেটা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:১৪, ১৫) (বাক্সও দেখুন।)
৪ আদিপুস্তক ৪৯:১৪, ১৫ পদ পড়ুন। যাকোব ইষাখরের প্রশংসা করেছিলেন কারণ তিনি অনেক পরিশ্রমী ছিলেন। যাকোব তাকে একটা শক্তিশালী গাধার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন যেটা ভারী বোঝা বহন করতে পারে। যাকোব এটাও বলেছিলেন, ইষাখর উত্তরাধিকারসূত্রে ভালো জমি পাবে আর এমনটাই হয়েছিল। ইষাখরের বংশধরদের জর্ডন নদীর পাশে খুবই ভালো এবং উর্বর জমি দেওয়া হয়েছিল। (যিহো. ১৯:২২) তারা সেখানে চাষবাসের জন্য নিশ্চয়ই অনেক পরিশ্রম করেছিল। শুধু তা-ই নয়, তারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকত। (১ রাজা. ৪:৭, ১৭) যেমন, বিচারক বারক এবং ভাববাদিনী দবোরা যখন যুদ্ধে সাহায্য করার জন্য ইজরায়েলীয়দের বলেছিল, তখন ইষাখরের বংশ এগিয়ে এসেছিল। অন্যান্য সময়েও তারা শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিল।—বিচার. ৫:১৫.
৫. আমাদের কেন কঠোর পরিশ্রম করা উচিত?
৫ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? ইষাখরের বংশ যে-পরিশ্রম করেছিল, সেটাকে যিহোবা মূল্যবান হিসেবে দেখেছিলেন। একইভাবে, বর্তমানে আমরা যিহোবার সেবায় যে-কঠোর পরিশ্রম করি, সেটাকে যিহোবা খুবই মূল্যবান হিসেবে দেখেন। (উপ. ২:২৪) মণ্ডলীর যত্ন নেয় এমন ভাইদের কথা চিন্তা করুন। (১ তীম. ৩:১) তারা আক্ষরিকভাবে কোনো যুদ্ধ করে না, কিন্তু তারা যিহোবার মেষদের সুরক্ষা জোগানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করে। (১ করি. ৫:১, ৫; যিহূদা ১৭-২৩) তারা বক্তৃতা এবং অন্যান্য কার্যভার প্রস্তুত করার জন্যও অনেক পরিশ্রম করে যেন ভাই-বোনেরা উৎসাহিত হতে পারে।—১ তীম. ৫:১৭.
দান
৬. দানের বংশ কোন কার্যভার লাভ করেছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:১৭, ১৮) (বাক্সও দেখুন।)
৬ আদিপুস্তক ৪৯:১৭, ১৮ পদ পড়ুন। যাকোব দানকে এমন একটা সাপের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যে বড়ো বড়ো জীবজন্তুকেও ভয় পায় না আর যুদ্ধের ঘোড়া এবং অশ্বারোহীদেরও আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে। এর থেকে বোঝা যায়, দানের লোকেরা অনেক সাহসী হবে এবং ইজরায়েলের বড়ো বড়ো শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করবে। প্রতিজ্ঞাত দেশে যাওয়ার সময় দানের বংশ “সমস্ত শিবিরের পশ্চাতে” ছিল, যাতে সমস্ত বংশ সুরক্ষিত থাকে। (গণনা. ১০:২৫) যদিও বেশিরভাগ ইজরায়েলীয় এটা দেখতে পেত না যে, দানের লোকেরা তাদের জন্য কী করছে, তবে তাদের যে-কার্যভার দেওয়া হয়েছিল, সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৭. যিহোবার সেবায় আমাদের যে-কার্যভারই দেওয়া হোক না কেন, আমাদের কী মনে রাখা উচিত?
৭ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আপনি কি কখনো এমন কোনো কাজ করেছেন, যেটা অন্যেরা লক্ষ করেনি? যেমন, আপনি কি কিংডম হল পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সাহায্য করেছেন অথবা সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন কিংবা অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করেছেন? যদি করে থাকেন, তা হলে এটা অনেক ভালো বিষয়! সবসময় মনে রাখবেন, আপনি যিহোবার জন্য যা-কিছু করেন, সেটা তিনি লক্ষ করেন এবং অনেক মূল্যবান হিসেবে দেখেন। আর আপনি যখন অন্যদের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয় বরং যিহোবাকে ভালোবেসে তাঁর জন্য কিছু করেন, তখন সেটা দেখে যিহোবা আরও বেশি খুশি হন।—মথি ৬:১-৪.
গাদ
৮. শত্রুরা কেন সহজেই গাদের বংশকে আক্রমণ করতে পারত? (আদিপুস্তক ৪৯:১৯) (বাক্সও দেখুন।)
৮ আদিপুস্তক ৪৯:১৯ পদ পড়ুন। যাকোব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, গাদকে লুটকারীদল আক্রমণ করবে। এর প্রায় ২০০ বছর পর গাদের বংশকে জর্ডন নদীর পূর্ব দিকের এলাকা দেওয়া হয়েছিল। তাদের এলাকা যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে শত্রুদের এলাকা শুরু হয়েছিল। তাই, এই বিপদ ছিল যে, শত্রুদল যেকোনো সময় তাদের আক্রমণ করতে পারত। কিন্তু, গাদের লোকেরা সেখানেই থাকতে চেয়েছিল কারণ সেখানে তাদের পশুপালনের জন্য অনেক খাবার ছিল। (গণনা. ৩২:১, ৫) এমনটা মনে করা হয় যে, গাদের লোকেরা খুবই সাহসী ছিল। কিন্তু, তারা নিজেদের শক্তির উপর নয় বরং সবসময় যিহোবার উপর আস্থা রাখত। তারা জানত যে, যিহোবা তাদের শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন এবং লুটকারী দল থেকেও তাদের সুরক্ষা জোগাতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, যখন অন্য বংশের লোকেরা জর্ডন নদীর পশ্চিম দিকে প্রতিজ্ঞাত দেশ দখল করতে গিয়েছিল, তখন গাদের বংশের লোকেরা তাদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের সৈন্য পাঠিয়েছিল। (গণনা. ৩২:১৬-১৯) তারা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল, সৈন্যেরা না থাকলেও যিহোবা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করবেন। তারা যেভাবে সাহসের সঙ্গে কাজ করেছিল এবং ত্যাগস্বীকার করেছিল, সেটার জন্য যিহোবা তাদের অনেক আশীর্বাদ করেছিলেন।—যিহো. ২২:১-৪.
৯. যিহোবার উপর আমাদের যদি সম্পূর্ণ আস্থা থাকে, তা হলে আমরা কী করব?
৯ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আমরা যদি কঠিন পরিস্থিতিতেও যিহোবার সেবা করতে চাই, তা হলে আমাদের অবশ্যই তাঁর উপর আস্থা রাখতে হবে। (গীত. ৩৭:৩) বর্তমানে অনেক ভাই-বোন যিহোবার উপর আস্থা রাখে এবং তাঁর সেবা করার জন্য বিভিন্ন ত্যাগস্বীকার করে। যেমন, কিছু ভাই-বোন সংগঠনের নির্মাণ প্রকল্পে সাহায্য করে আবার অন্য ভাই-বোনেরা এমন জায়গায় গিয়ে সেবা করে, যেখানে প্রচারকদের বেশি প্রয়োজন রয়েছে আবার কেউ কেউ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে। তারা এই সমস্ত ত্যাগস্বীকার করে কারণ তারা পুরোপুরি নিশ্চিত যে, যিহোবা সবসময় তাদের যত্ন নেবেন।—গীত. ২৩:১.
আশের
১০. আশের বংশ কী করতে ব্যর্থ হয়েছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:২০) (বাক্সও দেখুন।)
১০ আদিপুস্তক ৪৯:২০ পদ পড়ুন। যাকোব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আশেরের বংশ সমৃদ্ধিশালী হবে আর ঠিক এমনটাই হয়েছিল। আশেরের বংশকে যে-এলাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা পুরো ইজরায়েলের সবচেয়ে উর্বর এলাকা ছিল। (দ্বিতীয়. ৩৩:২৪) এর পাশাপাশি তাদের এলাকার পশ্চিম সীমানায় ভূমধ্যসাগর ছিল এবং সেখানেই সীদোনের বন্দর ছিল, যেখানে ফৈনীকীয় ধনী ব্যবসায়ীরা প্রচুর ব্যাবসায়িক লেন-দেন করত। কিন্তু, আশেরের লোকেরা একটা কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তারা কনানীয়দের নিজেদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। (বিচার. ১:৩১, ৩২) এই কারণে কনানীয়েরা তাদের উপর এক খারাপ প্রভাব ফেলেছিল। শুধু তা-ই নয়, এমনটা মনে করা হয় যে, তারা টাকাপয়সাকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিল যে, তারা সত্য উপাসনা করার উদ্যোগ হারিয়ে ফেলেছিল। যখন বিচারক বারক কনানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সমস্ত বংশকে ডেকেছিলেন, তখন আশের বংশ তাদের কোনো লোককেই সেখানে পাঠায়নি। তাই আশেরের লোকেরা সেই বিরাট জয় দেখতে ব্যর্থ হয়েছিল, যেটা যিহোবা “মগিদ্দোর ঝরনার পাশে” তাঁর লোকদের জন্য এনে দিয়েছিলেন। (বিচার. ৫:১৯-২১, NW) এই জয়লাভের পর বারক ও দবোরা ঈশ্বরের অনুপ্রেরণায় একটা বিজয়সঙ্গীত গেয়েছিলেন, যেটাতে এই কথা ছিল: “আশের সমুদ্রের ধারে হাত গুটিয়ে বসে রইল।” (বিচার. ৫:১৭, NW) একটু কল্পনা করুন, এটা শুনে আশেরের লোকেরা কতই-না লজ্জিত হয়েছিল!
১১. কেন আমাদের টাকাপয়সার বিষয়ে এক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত?
১১ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আমরা মনপ্রাণ দিয়ে যিহোবার সেবা করতে চাই, কিন্তু এটা করার জন্য আমাদের জগতের চিন্তাভাবনা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। জগতের লোকেরা মনে করে টাকাপয়সা এবং বস্তুগত বিষয়গুলোই সব কিছু আর তাই তারা এগুলোই লাভ করার পিছনে পড়ে থাকে। (হিতো. ১৮:১১) কিন্তু, আমরা টাকাপয়সার বিষয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার চেষ্টা করি। (উপ. ৭:১২; ইব্রীয় ১৩:৫) আমরা আমাদের সমস্ত সময় ও শক্তি শুধুমাত্র ধনসম্পদ এবং জিনিসপত্র লাভ করার জন্য ব্যয় করি না। কারণ আমরা মনপ্রাণ দিয়ে যিহোবার সেবা করতে চাই এবং আমরা জানি যে, খুব শীঘ্রই তিনি আমাদের এক অপূর্ব জীবন দিতে চলেছেন, যেখানে আমাদের কোনো কিছুরই অভাব হবে না।—গীত. ৪:৮.
নপ্তালি
১২. যাকোব নপ্তালির বিষয়ে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেটা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:২১) (বাক্সও দেখুন।)
১২ আদিপুস্তক ৪৯:২১ পদ পড়ুন। যাকোব নপ্তালি বংশের বিষয়ে বলেছিলেন: “সে মনোহর বাক্য বলে।” এর অর্থ হয়তো এটা ছিল, যিশু যখন পৃথিবীতে আসবেন, তখন তার কথাবার্তা কেমন হবে। যিশু কফরনাহূমে লোকদের শেখানোর জন্য অনেক সময় ব্যয় করেছিলেন তাই এই নগরকে তাঁর ‘নিজ নগর’ বলা হয়েছে। লক্ষ করার মতো বিষয় হল, কফরনাহূম নপ্তালি বংশের এলাকার মধ্যেই পড়ত। (মথি ৪:১৩; ৯:১; যোহন ৭:৪৬) এ ছাড়া, যিশাইয় যিশুর বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, সবূলূন এবং নপ্তালির লোকেরা “মহা আলো” দেখবে। (যিশা. ৯:১, ২, NW) যিশুই ছিলেন “সেই প্রকৃত আলো, যা সমস্ত ধরনের লোকের জন্য আলো দেয়।”—যোহন ১:৯.
১৩. আমরা আমাদের কথার মাধ্যমে কীভাবে যিহোবাকে খুশি করতে পারি?
১৩ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? যিহোবা লক্ষ করেন যে, আমরা লোকদের কী বলি এবং কীভাবে বলি। আমরা যদি চাই যেন আমাদের কথা “মনোহর” হয় এবং যিহোবাকে খুশি করে, তা হলে আমাদের কী করতে হবে? আমাদের সবসময় সত্যি কথা বলতে হবে। (গীত. ১৫:১, ২) আমাদের কথার মাধ্যমে অন্যদের উৎসাহিত করতে হবে। অন্যদের মধ্যে দুর্বলতাগুলো খোঁজার পরিবর্তে, তাদের মধ্যে ভালো বিষয়গুলো লক্ষ করতে হবে এবং সেটার জন্য তাদের প্রশংসা করতে হবে। (ইফি. ৪:২৯) শুধু তা-ই নয়, আমাদের কথাবার্তা শুরু করার দক্ষতাও বৃদ্ধি করতে হবে যেন আমরা ভালোভাবে অন্যদের কাছে সাক্ষ্য দিতে পারি।
যোষেফ
১৪. যাকোব যোষেফের বিষয়ে কী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং সেটা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:২২, ২৬) (বাক্সও দেখুন।)
১৪ আদিপুস্তক ৪৯:২২, ২৬ পদ পড়ুন। যাকোব নিশ্চয়ই তার ছেলে যোষেফের উপর খুবই গর্বিত ছিলেন কারণ যিহোবা তাকে তার ‘ভ্রাতৃগণ হইতে পৃথক’ করেছিলেন। যাকোব বলেছিলেন, “যোষেফ ফলবান্তরু-পল্লব।” এর অর্থ কী ছিল? যাকোব নিজে সেই ফলবান গাছ এবং যোষেফ ছিলেন সেটার শাখা। আর তা সঠিক ছিল কারণ যোষেফ ছিলেন যাকোবের প্রিয় স্ত্রী রাহেলের প্রথমজাত সন্তান। যাকোব এটাও বলেছিলেন, যোষেফ উত্তরাধিকারসূত্রে দ্বিগুণ অংশ পাবে। (আদি. ৪৮:৫, ৬; ১ বংশা. ৫:১, ২) আসলে এটা লেয়ার প্রথমজাত সন্তান রূবেণের পাওয়ার কথা ছিল, যে-অধিকার তিনি হারিয়েছিলেন। যাকোবের এই ভবিষ্যদ্বাণী কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? যোষেফের দুই ছেলে ইফ্রয়িম এবং মনঃশির মাধ্যমে ইজরায়েলের দুটো বংশ গঠিত হয়েছিল। আর এই দুটো বংশকেই উত্তরাধিকারসূত্রে নিজের নিজের এলাকা দেওয়া হয়েছিল।—আদি. ৪৯:২৫; যিহো. ১৪:৪.
১৫. যোষেফের প্রতি যখন অবিচার হয়েছিল, তখন তিনি কী করেছিলেন?
১৫ যাকোব ভবিষ্যদ্বাণীতে এও বলেছিলেন যে, ‘ধনুর্দ্ধরেরা তাহাকে কঠোর ক্লেশ দিবে, বাণাঘাতে তাহাকে উৎপীড়ন করিবে।’ (আদি. ৪৯:২৩) এই ধনুর্দ্ধরেরা ছিল যোষেফের ভাইয়েরা, যারা তাকে দেখে হিংসা করত। তারা যোষেফের প্রতি অবিচার করেছিল আর এই কারণে যোষেফকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু, তা সত্ত্বেও তিনি তার ভাইদের বিরুদ্ধে এবং যিহোবার বিরুদ্ধে নিজের মনে কোনো তিক্ততা পুষে রাখেননি। এর পরিবর্তে যাকোব যেমন বলেছিলেন, “[যোষেফের] ধনুক দৃঢ় থাকিল, তাহার হস্তের বাহুযুগল বলবান্রহিল।” (আদি. ৪৯:২৪) কঠিন পরিস্থিতিতেও যোষেফ যিহোবার উপর আস্থা রেখেছিলেন। তিনি শুধুমাত্র তার ভাইদের ক্ষমা করেই দেননি, এর পাশাপাশি তিনি তাদের সঙ্গে প্রেম সহকারে আচরণ করেছিলেন। (আদি. ৪৭:১১, ১২) আগুনের মতো পরীক্ষাগুলো যোষেফকে আরও ভালোভাবে পরিশোধন করেছিল। (গীত. ১০৫:১৭-১৯) আর এই কারণে যিহোবা তাকে দিয়ে বড়ো বড়ো কাজ করিয়েছিলেন।
১৬. আমাদের সামনে পরীক্ষা এলে আমরা যোষেফের মতো কী করতে পারি?
১৬ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? সমস্যা এলে যিহোবা এবং ভাই-বোনদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন না। মনে রাখুন, আমরা যখন কঠিন সময়েও যিহোবার সেবা করে চলি, তখন যিহোবা আমাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। (ইব্রীয় ১২:৭, পাদটীকা) এর ফলে আমরা আরও বেশি পরিশোধিত হই এবং নিজেদের মধ্যে ভালো গুণগুলো গড়ে তুলতে পারি, যেমন আমরা সদয় হতে এবং অন্যদের ক্ষমা করতে শিখি। (ইব্রীয় ১২:১১) আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, ধৈর্য ধরার জন্য যিহোবা আমাদের অবশ্যই পুরস্কার দেবেন, ঠিক যেমনটা তিনি যোষেফকে দিয়েছিলেন।
বিন্যামীন
১৭. যাকোব বিন্যামীনের বিষয়ে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেটা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:২৭) (বাক্সও দেখুন।)
১৭ আদিপুস্তক ৪৯:২৭ পদ পড়ুন। যাকোব বিন্যামীন বংশকে একটা নেকড়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যে ভয় না পেয়ে নিজের শত্রুদের আক্রমণ করে। (বিচার. ২০:১৫, ১৬; ১ বংশা. ১২:২) যাকোব বলেছিলেন, “প্রাতঃকালে সে শিকার ভক্ষণ করিবে।” ‘প্রাতঃকাল’ শব্দটির অর্থ কী? ইজরায়েলে যখন রাজারা রাজত্ব করতে শুরু করেছিল, তখন শৌল প্রথম রাজা হয়েছিলেন, যিনি বিন্যামীন বংশের ছিলেন। তিনি এক বীরযোদ্ধা ছিলেন এবং তিনি পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে অনেক যুদ্ধ করেছিলেন। (১ শমূ. ৯:১৫-১৭, ২১) যাকোব বিন্যামীনের বিষয়ে এটাও বলেছিলেন যে, “সন্ধ্যাকালে সে লুট দ্রব্য বণ্টন করিবে।” ‘সন্ধ্যাকাল’ শব্দটির অর্থ কী? যখন রাজাদের রাজত্ব শেষ হয়েছিল এবং ইজরায়েলীয়েরা পারস্যের শাসনের অধীনে ছিল, তখন পুরো ইজরায়েল জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু, রানি ইষ্টের এবং প্রধানমন্ত্রী মর্দখয় যারা বিন্যামীন বংশের ছিলেন, তারা সেই ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন এবং এর ফলে ইজরায়েলীয়েরা রক্ষা পেয়েছিল।—ইষ্টের ২:৫-৭; ৮:৩; ১০:৩.
১৮. কীভাবে আমরা দেখাতে পারি যে, আমরা বিন্যামীন বংশের লোকদের মতো বিশ্বস্ত?
১৮ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? বিন্যামীনের লোকেরা এটা দেখে খুবই খুশি হয়েছিল যে, তাদের বংশ থেকে ইজরায়েলের প্রথম রাজাকে বাছাই করা হয়েছিল, যেমনটা যাকোব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। কিন্তু, পরবর্তী রাজা হিসেবে যখন যিহূদা বংশ থেকে দায়ূদকে বাছাই করা হয়েছিল, তখনও বিন্যামীন বংশ তাকে পুরোপুরিভাবে সমর্থন করেছিল। (২ শমূ. ৩:১৭-১৯) অনেক বছর পর, ইজরায়েলের সমস্ত বংশ যখন যিহূদা বংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, তখন বিন্যামীন বংশের লোকেরা যিহূদা বংশকে সমর্থন করেছিল। তারা যিহোবার মনোনীত রাজার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল। (১ রাজা. ১১:৩১, ৩২; ১২:১৯, ২১) তাই, আসুন আমরাও বিন্যামীন বংশের লোকদের মতো সেই ভাইদের পুরোপুরি সমর্থন করি, যাদের যিহোবা তাঁর লোকদের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য বাছাই করেন।—১ থিষল. ৫:১২.
১৯. যাকোবের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে আমরা কী শিখেছি?
১৯ যাকোব মারা যাওয়ার আগে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেখান থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এটা নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যে, ঈশ্বরের বাক্যে লেখা অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণীও অবশ্যই পরিপূর্ণ হবে। যাকোব তার ছেলেদের যা বলেছিলেন, তা থেকে আমরা শিখেছি যে, যিহোবার হৃদয়কে খুশি করার জন্য আমরা কী করতে পারি।
গান ১২৮ শেষ অবধি ধৈর্য ধরো
a যাকোব সবচেয়ে প্রথমে তার বড়ো ছেলে রূবেণ, এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ছেলে শিমিয়োন ও লেবি এবং এরপর চতুর্থ ছেলে যিহূদাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। কিন্তু, তিনি তার বাকি আট জন ছেলেকে এই অনুযায়ী আশীর্বাদ দেননি যে, কে ছোটো অথবা বড়ো।