অধ্যয়ন প্রবন্ধ ২৪
গান ৯৮ শাস্ত্র—ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত
যাকোবের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে আমরা যা শিখতে পারি—ভাগ ১
“তোমরা একত্র হও, উত্তর কালে তোমাদের প্রতি যাহা ঘটিবে, তাহা তোমাদিগকে বলিতেছি।”—আদি. ৪৯:১.
আমরা কী শিখব?
যাকোব তার মৃত্যুর আগে রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি ও যিহূদা সম্বন্ধে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
১-২. যাকোব মারা যাওয়ার আগে কী করেছিলেন এবং কেন? ( ছবিও দেখুন।)
ঈশ্বরের বিশ্বস্ত সেবক যাকোব তার পরিবারের সঙ্গে মিশরে বাস করছেন। তিনি কনান থেকে এখানে আসার পর প্রায় ১৭ বছর কেটে গিয়েছে। (আদি. ৪৭:২৮) এখানে আসার পর তিনি তার প্রিয় ছেলে যোষেফের সঙ্গে দেখা করেন। আর এখন তিনি মিশরে তার পুরো পরিবারের সঙ্গে আনন্দ সহকারে বাস করছেন। কিন্তু, যাকোব বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন আর তাই তিনি জানতেন যে, তিনি আর বেশি দিন বাঁচবেন না। সেইজন্য, তিনি তার পুরো পরিবারকে ডেকে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।—আদি. ৪৯:২৮.
২ সেইসময়ে একটা প্রথা ছিল, পরিবারের মস্তক মারা যাওয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতেন। (যিশা. ৩৮:১) তিনি হয়তো এটাও বলতেন যে, তিনি মারা যাওয়ার পর কে পরিবারের মস্তক হবেন।
যাকোব মারা যাওয়ার আগে তার ১২ জন ছেলের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন (১-২ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৩. যাকোব তার ছেলেদের যে-কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলো কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল? (আদিপুস্তক ৪৯:১, ২)
৩ আদিপুস্তক ৪৯:১, ২ পদ পড়ুন। কিন্তু, যাকোব তার পরিবারকে শুধুমাত্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়ার জন্যই ডাকেননি। আসলে যাকোব একজন ভাববাদী ছিলেন আর যিহোবা ঈশ্বর তার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ের জন্য কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করতে চেয়েছিলেন। এই ভবিষ্যদ্বাণী যাকোবের বংশধরদের উপর এক গভীর প্রভাব ফেলতে যাচ্ছিল।
৪. যাকোব মারা যাওয়ার আগে কোন বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং সেটার উপর কেন আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত? (“যাকোবের পরিবার” শিরোনামের বাক্সও দেখুন।)
৪ এই প্রবন্ধে আমরা জানতে পারব, যাকোব মারা যাওয়ার আগে তার চার জন ছেলে অর্থাৎ রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি ও যিহূদাকে কী বলেছিলেন। এ ছাড়া, আমরা পরের প্রবন্ধে জানতে পারব, তিনি তার বাকি আট জন ছেলেকে কী বলেছিলেন। আমরা লক্ষ করব যে, যাকোব শুধুমাত্র তার ছেলেদের বিষয় নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে তাদের বংশধরদের বিষয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। আর পরবর্তী সময়ে এই বংশধরদের মাধ্যমে ইজরায়েল জাতি গঠিত হয়েছিল। আমরা যদি ইজরায়েল জাতির ইতিহাস দেখি, তা হলে আমরা বুঝতে পারব, যাকোবের ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিটা কথা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল। এখান থেকে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও শিখতে পারব এবং জানতে পারব যে, আমরা আমাদের পিতা যিহোবাকে কীভাবে খুশি করতে পারি।
রূবেণ
৫. রূবেণ হয়তো তার বাবার কাছ থেকে কী পাওয়ার আশা করছিলেন?
৫ যাকোব সবার আগে রূবেণের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। যাকোব বলেছিলেন, “তুমি আমার প্রথমজাত।” (আদি ৪৯:৩) প্রথমজাত হওয়ার কারণে রূবেণ হয়তো এটা আশা করছিলেন যে, তিনি তার বাবার উত্তরাধিকারের দ্বিগুণ অংশ লাভ করবেন। তিনি হয়তো এটাও চিন্তা করছিলেন যে, তার বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি পুরো পরিবারের মস্তক হবেন এবং পরবর্তী সময়ে তার বংশধরেরাও এই সম্মান লাভ করবে।
৬. রূবেণ কীভাবে প্রথমজাত হওয়ার অধিকার হারিয়েছিলেন? (আদিপুস্তক ৪৯:৩, ৪)
৬ কিন্তু, রূবেণ প্রথমজাত হওয়ার অধিকার হারিয়েছিলেন। (১ বংশা ৫:১) কীভাবে? রাহেল তার স্বামী যাকোবকে নিজের দাসী বিল্হাকে দিয়েছিলেন, যাতে বিল্হা তার স্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু, রূবেণ বিল্হার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রেখেছিলেন এবং এই কারণে তিনি প্রথমজাত হওয়ার অধিকার হারিয়েছিলেন। (আদি. ৩৫:১৯, ২২) রূবেণ কেন এই মন্দ কাজ করেছিলেন? রূবেণ হয়তো চেয়েছিলেন, যাকোব যেন তার উপপত্নী বিল্হাকে ঘৃণা করেন এবং তার প্রথম স্ত্রী লেয়াকে বেশি ভালোবাসেন কারণ লেয়া রূবেণের মা ছিলেন। আবার এটাও হতে পারে, রূবেণ তার কামনা পূরণ করার জন্য বিল্হার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রেখেছিলেন। কারণ যা-ই হোক না কেন, রূবেণ যে-কাজ করেছিলেন, সেটা যিহোবাকে এবং তার বাবা যাকোবকে অনেক দুঃখ দিয়েছিল।—পড়ুন, আদিপুস্তক ৪৯:৩, ৪.
৭. রূবেণ এবং তার বংশধরদের প্রতি কী ঘটেছিল? (“যাকোব মারা যাওয়ার আগে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন” শিরোনামের বাক্সও দেখুন।)
৭ যাকোব রূবেণকে বলেছিলেন: “তোমার প্রাধান্য থাকিবে না।” তার এই কথা সত্যি হয়েছিল। রূবেণের বংশ থেকে কেউ কখনো রাজা, যাজক ও ভাববাদী হতে পারেনি। কিন্তু, যাকোব তার ছেলে রূবেণকে পরিত্যাগ করেননি। তিনি তাকেও উত্তরাধিকারসূত্রে অংশ দিয়েছিলেন। আর পরবর্তী সময়ে রূবেণের বংশধরদের মাধ্যমে ইজরায়েল জাতির একটা পুরো বংশ গঠিত হয়েছিল। (যিহো. ১২:৬) যদিও রূবেণ ভুল করেছিলেন, কিন্তু তিনি বিভিন্ন সময়ে ভালো গুণও দেখিয়েছিলেন আর এমনটা জানা যায় যে, তিনি আর কখনো কারো সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখেননি।—আদি. ৩৭:২০-২২; ৪২:৩৭.
৮. রূবেণের বিবরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
৮ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আমাদের নিজেদের মন্দ আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত আর অনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হওয়া উচিত। আমাদের যদি খারাপ কাজ করার জন্য প্রলোভিত করা হয়, তা হলে আমাদের একটু থেমে চিন্তা করা উচিত যে, এমনটা করলে যিহোবা, আমাদের পরিবারের সদস্যেরা এবং অন্যেরা কতটা দুঃখ পাবে। আমাদের এও মনে রাখতে হবে, “একজন ব্যক্তি যা বুনবে, তা-ই কাটবে।” (গালা. ৬:৭) আমরা রূবেণের বিবরণ থেকে আরও একটা বিষয় শিখি আর সেটা হল, যিহোবা হলেন করুণাময় ঈশ্বর। যদিও তিনি আমাদের ভুলগুলোর খারাপ পরিণতি থেকে রক্ষা করেন না, তবে আমরা যদি অনুতপ্ত হই এবং ভালো কাজ করার চেষ্টা করি, তা হলে তিনি আমাদের ক্ষমা করে দেন এবং আমাদের আশীর্বাদ করেন।
শিমিয়োন ও লেবি
৯. যাকোব কেন শিমিয়োন ও লেবির উপর খুশি ছিলেন না? (আদিপুস্তক ৪৯:৫-৭)
৯ আদিপুস্তক ৪৯:৫-৭ পদ পড়ুন। যাকোব রূবেণের সঙ্গে কথা বলার পর, শিমিয়োন ও লেবির সঙ্গে কথা বলেন। যাকোবের কথা থেকে বোঝা যায় যে, তিনি এই দু-জনের উপর একদমই খুশি ছিলেন না। বেশ কিছু বছর আগে, শিখিম নামে একজন কনানীয় ব্যক্তি যাকোবের মেয়ে দীণাকে ধর্ষণ করেছিলেন। এই কারণে যাকোবের সমস্ত ছেলে অনেক রেগে গিয়েছিল, কিন্তু শিমিয়োন ও লেবি তাদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তারা একটা ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা শিখিম এবং তার লোকদের বলেছিল যে, তারা যদি ত্বকচ্ছেদ করায়, তা হলে তাদের এবং যাকোবের পরিবারের মধ্যে শান্তি বজায় থাকবে। শিখিম এবং তার লোকেরা এই মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে ত্বকচ্ছেদ করিয়েছিল। এরপর ত্বকচ্ছেদের কারণে তারা যখন ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছিল, তখন শিমিয়োন ও লেবি “আপন আপন খড়গ গ্রহণ করিয়া নির্ভয়ে নগর আক্রমণ করতঃ সকল পুরুষকে বধ করিল।”—আদি. ৩৪:২৫-২৯.
১০. শিমিয়োন ও লেবির বিষয়ে যাকোব যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেটা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (“যাকোব মারা যাওয়ার আগে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন” শিরোনামের বাক্সও দেখুন।)
১০ যাকোব এটা দেখে খুবই রেগে গিয়েছিলেন যে, তার দুই ছেলে এত লোককে মেরে ফেলেছে। তিনি বলেছিলেন, তাদের দু-জনকেই ইজরায়েলে বিভক্ত করা হবে এবং ছিন্নভিন্ন করা হবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী ২০০ বছর পর পরিপূর্ণ হয়েছিল। ইজরায়েল জাতি যখন প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করেছিল, তখন শিমিয়োনের বংশকে যিহূদার এলাকার আলাদা আলাদা জায়গায় ছোটো ছোটো এলাকা দেওয়া হয়েছিল। (যিহো. ১৯:১) আর লেবির বংশকে পুরো ইজরায়েলে ৪৮টা নগর দেওয়া হয়েছিল, যেটা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।—যিহো. ২১:৪১.
১১. শিমিয়োন ও লেবির বংশ কোন ভালো কাজগুলো করেছিল?
১১ শিমিয়োন ও লেবি যে-ভুল করেছিল, তাদের বংশধরেরা সেই একই ভুল করেনি। লেবির বংশ সত্য উপাসনাকে সমর্থন করেছিল। যিহোবা যখন মোশিকে ব্যবস্থা দেওয়ার জন্য সীনয় পর্বতে ডেকেছিলেন, তখন অনেক ইজরায়েলীয় বাছুরের উপাসনা করতে শুরু করেছিল। কিন্তু, লেবীয়েরা এমনটা করেনি। এরপর যখন মোশি ফিরে এসেছিলেন, তখন লেবীয়েরা মোশির সঙ্গে মিলে যারা বাছুরের উপাসনা করছিল, তাদের মেরে ফেলেছিল। (যাত্রা. ৩২:২৬-২৯) পরবর্তী সময়ে, যিহোবা লেবির বংশকে বেছে নিয়েছিলেন এবং তাদের এক বিশেষ সম্মান দিয়েছিলেন। যিহোবা তাদের বংশের লোকদের ইজরায়েলে যাজক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। (যাত্রা. ৪০:১২-১৫; গণনা. ৩:১১, ১২) শিমিয়োনের বংশও ঈশ্বরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করেছিল। তারা প্রতিজ্ঞাত দেশ থেকে কনানীয়দের তাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যিহূদার বংশকে সাহায্য করেছিল।—বিচার. ১:৩, ১৭.
১২. শিমিয়োন ও লেবির বিবরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
১২ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আমাদের কখনোই রাগের বশে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। কেউ যখন আমাদের সঙ্গে কিংবা আমাদের কোনো প্রিয়জনের সঙ্গে খারাপ কিছু করে, তখন আমরা হয়তো রেগে যেতে পারি। (গীত. ৪:৪) কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা যদি রাগের বশে সেই ব্যক্তির প্রতি খারাপ কিছু করি অথবা তাকে খারাপ কিছু বলি, তা হলে এই বিষয়টা যিহোবার একদমই ভালো লাগবে না। (যাকোব ১:২০) আমাদের ভাই-বোন অথবা বাইরের কেউ আমাদের প্রতি অবিচার করলেও সবসময় বাইবেলের নীতি মেনে চলুন। এটা করলে আমরা কখনোই রেগে গিয়ে এমন কিছু করব না, যেটার কারণে অন্যদের ক্ষতি হতে পারে। (রোমীয় ১২:১৭, ১৯; ১ পিতর ৩:৯) এ ছাড়া, আপনার বাবা-মা হয়তো এমন কিছু করতে পারে, যেটা হয়তো ঈশ্বরকে খুশি করে না। তবে, আপনার তাদের মতো হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি যে-পরিবেশেই বড়ো হয়ে উঠুন না কেন, আপনি যিহোবাকে খুশি করতে পারেন। সঠিক কাজ করতে যিহোবা আপনাকে সাহায্য করবেন এবং আপনাকে পুরস্কারও দেবেন।
যিহূদা
১৩. যাকোব যখন যিহূদার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছিলেন, তখন যিহূদা হয়তো কোন বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন?
১৩ এবার যাকোব তার ছেলে যিহূদার সঙ্গে কথা বলেন। এতক্ষণ পর্যন্ত যাকোব তার অন্য ছেলেদের বিষয়ে যে-কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলো শুনে যিহূদা হয়তো কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েন, কারণ তিনিও কিছু গুরুতর ভুল করেছিলেন। এমনটা মনে করা হয়, শিখিম নগর লুট করার ক্ষেত্রে তিনিও তার দাদাদের সমর্থন করেছিলেন। (আদি. ৩৪:২৭) তিনি তার ভাইদের সঙ্গে মিলে যোষেফকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন আর এই বিষয়ে তিনি তার বাবাকে মিথ্যা কথাও বলেছিলেন। (আদি. ৩৭:৩১-৩৩) আর এমনকী পরবর্তী সময় যিহূদা তার পুত্রবধূ তামরকে একজন বেশ্যা মনে করে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেছিলেন।—আদি. ৩৮:১৫-১৮.
১৪. যাকোব যিহূদাকে কী বলেছিলেন এবং যিহূদা কোন ভালো কাজগুলো করেছিলেন? (আদিপুস্তক ৪৯:৮, ৯)
১৪ কিন্তু, যিহূদা যেমনটা চিন্তা করছিলেন, তেমনটা কিছুই ঘটেনি। ঈশ্বরের অনুপ্রেরণায় যাকোব কেবল তাকে আশীর্বাদই করেছিলেন এবং তার প্রশংসা করেছিলেন। (পড়ুন, আদিপুস্তক ৪৯:৮, ৯.) কিন্তু, যিহূদা এমন কোন ভালো কাজগুলো করেছিলেন? তিনি তার বয়স্ক বাবা যাকোবের জন্য অনেক চিন্তা করতেন আর তার যত্ন নিতেন। এ ছাড়া, তিনি তার ছোটো ভাই বিন্যামীনকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, তিনি তার জন্য একজন দাস হতেও প্রস্তুত ছিলেন।—আদি. ৪৪:১৮, ৩০-৩৪.
১৫. যিহূদা কোন কোন আশীর্বাদ পেয়েছিলেন?
১৫ যাকোব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার সব ছেলেদের মধ্যে যিহূদাই নেতৃত্ব নেবেন। কিন্তু, এই ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হতে যথেষ্ট সময় লাগত। প্রায় ২০০ বছর পর এই ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হতে শুরু করেছিল। ইজরায়েলীয়েরা যখন প্রান্তর থেকে প্রতিজ্ঞাত দেশের দিকে যাচ্ছিল, তখন যিহূদার বংশই সবচেয়ে প্রথমে ছিল। (গণনা. ১০:১৪) এর অনেক বছর পর, যখন কনানীয়দের প্রতিজ্ঞাত দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল, তখন যিহোবা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সবচেয়ে প্রথমে যিহূদা বংশের লোকদের পাঠিয়েছিলেন। (বিচার. ১:১, ২) পরবর্তী সময়ে, দায়ূদও এই বংশেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এই বংশ থেকে তিনি সবচেয়ে প্রথম রাজা হয়েছিলেন। কিন্তু, যাকোব যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেটার কিছু বিষয় পরবর্তী সময়ে পরিপূর্ণ হত।
১৬. আদিপুস্তক ৪৯:১০ পদে লেখা ভবিষ্যদ্বাণী কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল? (“যাকোব মারা যাওয়ার আগে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন” শিরোনামের বাক্সও দেখুন।)
১৬ যাকোব বলেছিলেন, যিহূদার বংশ থেকে একজন রাজা আসবেন, যিনি চিরকাল ধরে শাসন করবেন। (পড়ুন, আদিপুস্তক ৪৯:১০.) সেই রাজা ছিলেন যিশু খ্রিস্ট, যাকে যাকোব শীলো বলেছিলেন। যিশুর বিষয়ে একজন স্বর্গদূত বলেছিলেন: “যিহোবা ঈশ্বর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষ দায়ূদের সিংহাসন দেবেন।” (লূক ১:৩২, ৩৩) এ ছাড়া, বাইবেলে যিশুকে “যিহূদা বংশের সিংহ” বলা হয়েছে।—প্রকা. ৫:৫.
১৭. অন্যদের বিষয়ে আমাদের কেমন দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত, এই ক্ষেত্রে আমরা যিহোবার কাছ থেকে কী শিখতে পারি?
১৭ এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি? যিহূদা অনেক ভুল করেছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও যিহোবা তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। যিহূদার ভাইয়েরা হয়তো চিন্তা করেছিল যে, যিহোবা তার মধ্যে এমন কী দেখেছেন। যা-ই হোক না কেন, যিহোবা নিশ্চয়ই যিহূদার মধ্যে ভালো গুণগুলো দেখেছিলেন এবং এর জন্য তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। কীভাবে আমরা যিহোবাকে অনুকরণ করতে পারি? কোনো ভাই অথবা বোন বিশেষ কোনো দায়িত্ব পেলে আমরা হয়তো প্রথমে তার ভুলগুলো নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু, আমাদের মনে রাখা উচিত, যিহোবা নিশ্চয়ই তার মধ্যে ভালো কিছু দেখেছেন এবং তিনি তার উপর খুশি। যিহোবা সবসময় তাঁর সেবকদের মধ্যে ভালো বিষয়গুলো লক্ষ করেন এবং আমাদেরও সেটাই করা উচিত।
১৮. কেন আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত?
১৮ আমরা যিহূদার বিবরণ থেকে আরও একটা শিক্ষা লাভ করতে পারি আর সেটা হল আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত। যিহোবা সবসময় তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন, কিন্তু তা নিজের সময়ে এবং নিজের উপায়ে। যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যিহূদার বংশধরেরা নেতৃত্ব নেবে। কিন্তু, তারা দ্রুত নেতৃত্ব নেওয়া শুরু করেনি। তাদের আগে আরও কিছু ব্যক্তি নেতৃত্ব নিয়েছিল, যাদের যিহোবা নিযুক্ত করেছিলেন। যেমন, লেবির বংশ থেকে মোশি, ইফ্রয়িম বংশ থেকে যিহোশূয় এবং বিন্যামীন বংশ থেকে রাজা শৌল। যিহূদা বংশের লোকেরা এই সমস্ত নেতাকে সমর্থন করেছিল। আসুন, আমরাও সেই ব্যক্তিদের সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি, যাদের যিহোবা বর্তমানে নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য বাছাই করেন।—ইব্রীয় ৬:১২.
১৯. যাকোবের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে আমরা যিহোবা সম্বন্ধে কী শিখেছি?
১৯ যাকোব মারা যাওয়ার আগে যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেখান থেকে আমরা অনেক চমৎকার বিষয় শিখেছি। যেমন আমরা শিখতে পেরেছি, “মানুষ যেভাবে দেখে, ঈশ্বর সেভাবে দেখেন না।” (১ শমূ. ১৬:৭, NW) যিহোবা ধৈর্য ধরেন এবং ক্ষমা করে দেন। এটা ঠিক যে, তিনি খারাপ কাজ একদমই পছন্দ করেন না। তবে, তিনি এমনটা আশা করেন না যে, তাঁর সেবকেরা কখনো ভুল করবে না। এ ছাড়া, যারা গুরুতর পাপ করেছে, তারা যদি মন থেকে অনুতপ্ত হয় এবং সঠিক কাজ করে, তা হলে যিহোবা তাদের ক্ষমা করে দেন এবং আশীর্বাদও করেন। পরের প্রবন্ধে আমরা দেখব যে, যাকোব তার বাকি আট জন ছেলেকে কী বলেছিলেন।
গান ১২৪ সবসময় অনুগত থাকি