◼ কার্যক্রমের সময়সূচি: হলের দরজা সকাল ৮:০০-টায় খুলে দেওয়া হবে। তিন দিনই সকাল ৯:২০ মিনিটে যন্ত্রসংগীত শুরু হবে। সেই সময়ে আমাদের সকলেরই নিজ নিজ আসনে বসে যাওয়া উচিত, যাতে কার্যক্রম মর্যাদাপূর্ণভাবে শুরু করা যেতে পারে। প্রথম ও দ্বিতীয় দিন বিকেল ৪:৫৫ মিনিটে এবং তৃতীয় দিন বিকেল ৩:৫০ মিনিটে শেষ গান ও প্রার্থনা হবে।
◼ আন্তর্জাতিক সম্মেলন: কিছু কিছু জায়গায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হবে। দয়া করে মনে রাখবেন যে, আসন সংখ্যা, পার্কিং-এর জায়গা এবং কতগুলো হোটেল রুম পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো ভালো করে বিবেচনা করার পর শাখা অফিস কয়েকটা নির্দিষ্ট মণ্ডলীকে ও সেইসঙ্গে অন্যান্য দেশ থেকে আসা কয়েক জন ভাই-বোনকে সেখানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। প্রকাশকরা যদি আমন্ত্রণ না পেয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করেন, তাহলে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতির কারণে আপনাকে যদি আপনার নির্ধারিত সম্মেলন ছেড়ে অন্য কোনো সম্মেলনে যোগ দিতে হয়, তাহলে আপনার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করা ঠিক হবে না।
◼ পার্কিং: সমস্ত সম্মেলনস্থলে, যেখানে আমরা পার্কিং-এর অনুমতি পেয়েছি, সেখানে বিনা মূল্যে গাড়ি রাখার জন্য যিনি প্রথমে আসবেন, তিনি প্রথমে সুযোগ পাবেন। যেহেতু পার্কিং-এর জায়গা সীমিত, তাই সম্ভব হলে কয়েক জন মিলে একটা গাড়ি ব্যবহার করুন। কেবলমাত্র লাইসেন্স প্লেট অথবা প্ল্যাকার্ড থাকা অক্ষম ব্যক্তিদের গাড়িগুলোকে, তাদের জন্য সংরক্ষিত জায়গায় পার্ক করার অনুমতি দেওয়া হবে।
◼ আসন সংরক্ষণ: প্রতিদিন সকালে যখন হলের দরজা খোলা হয়, তখন তাড়াহুড়ো করে পছন্দমতো আসন সংরক্ষণ করার জন্য অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন না। অন্যদের প্রতি মঙ্গল করার জন্য যে-আত্মত্যাগের মনোভাব আমরা দেখাই, সেটা আমাদেরকে সত্য খ্রিস্টান হিসাবে শনাক্ত করে এবং তা দেখে অন্যেরা ঈশ্বরের প্রশংসা করে। (যোহন ১৩:৩৪, ৩৫; ১ করি. ১৩:৪, ৫; ১ পিতর ২:১২) যারা আপনার সঙ্গে থাকে অথবা আপনার গাড়িতে যাতায়াত করে কিংবা বর্তমানে যাদেরকে আপনি বাইবেল অধ্যয়ন করাচ্ছেন, কেবল তাদের জন্যই আসন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বয়স্ক এবং অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আলাদা করে আসন সংরক্ষণ করা আছে। যেহেতু, এই আসন সংখ্যা সীমিত, তাই তাদের দেখাশোনা করেন এমন এক জন বা দু-জন ব্যক্তিই হয়তো তাদের সঙ্গে বসতে পারেন।
◼ দুপুরের খাবার: দয়া করে দুপুরের বিরতির সময়ে খাবারের জন্য সম্মেলনস্থল ছেড়ে না গিয়ে বরং খাবার সঙ্গে করে নিয়ে আসুন। আসনের নীচে রাখা যায় এমন একটা জলের পাত্র অথবা ছোটো খাবারের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্মেলন হলে বড়ো আকারের জলের পাত্র অথবা খাবারের ব্যাগ এবং কাচের পাত্র নিয়ে আসা অনুমোদিত নয়।
◼ দান: সম্মেলনে শিক্ষামূলক কাজের জন্য স্বেচ্ছায় দান দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সম্মেলনের ব্যবস্থাদির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারি। যেকোনো চেক “দ্যা ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি অভ্ ইন্ডিয়া”-র নামে হওয়া উচিত।
◼ ওষুধ: আপনার যদি ডাক্তারের লেখা কোন ওষুধের প্রয়োজন হয়, তাহলে দয়া করে আপনার সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে তা নিয়ে আসার বিষয়ে খেয়াল রাখুন, কারণ সম্মেলন হলে সেগুলোর কোনোটাই পাওয়া যাবে না। ডায়াবেটিস রোগীদের দ্বারা ব্যবহৃত সিরিঞ্জ এবং সুচগুলো সম্মেলনস্থল অথবা হোটেলের সাধারণ আবর্জনা ফেলার জায়গায় নয় বরং নির্দিষ্টভাবে ক্ষতিকর আবর্জনা ফেলার জায়গায় ফেলা উচিত।
◼ সুরক্ষা ব্যবস্থা: পা পিছলে এবং হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ায় সম্ভবত যে-দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, সেগুলো রোধ করার জন্য দয়া করে ব্যবস্থা নিন। প্রতি বছর জুতোর কারণে, বিশেষ করে হিল-তোলা জুতোর জন্য বেশ কয়েক জন আঘাত পেয়ে থাকে। মার্জিত, সঠিক মাপের জুতো বাছাই করা সবচেয়ে ভালো, যা একজনকে ঢালু পথে, সিঁড়িতে বা এইরকম রাস্তায় নিরাপদে হাঁটাচলা করতে সাহায্য করবে।
◼ বেবি স্ট্রলার এবং লন চেয়ার: সম্মেলনস্থলে বেবি স্ট্রলার এবং লন চেয়ারগুলো নিয়ে আসা উচিত নয়। কিন্তু, চাইল্ড সেফটি সিটগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে যদি তা বাবা-মায়েদের আসনের পাশে সুরক্ষিতভাবে রাখা যায়।
◼ সুগন্ধি দ্রব্য: অধিকাংশ সম্মেলন এমন অবরুদ্ধ হলগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যেখানে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই, কড়া সুগন্ধি দ্রব্য, পারফিউম ব্যবহার সীমিত করা আমাদের জন্য প্রেমের কাজ হবে, যা হয়তো শ্বাসকষ্ট অথবা এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য সমস্যায় ভোগে এমন ব্যক্তিদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।—১ করি. ১০:২৪.
◼ দয়া করে পুনর্সাক্ষাৎ করুন (S-43) ফর্ম: সম্মেলনের সময়ে রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের ফলে কেউ আগ্রহ দেখিয়ে থাকলে, সেই বিষয়ে তথ্য প্রদান করতে দয়া করে পুনর্সাক্ষাৎ করুন নামক একটা ফর্ম ব্যবহার করা উচিত। পূরণ করা ফর্মগুলো বুক রুম-এ অথবা আপনার মণ্ডলীতে ফিরে গিয়ে মণ্ডলীর সচিবের কাছে জমা দিতে পারেন।
◼ রেস্টুরেন্ট: রেস্টুরেন্টগুলোতে আপনাদের উত্তম আচরণের মাধ্যমে যিহোবার নামকে সম্মান করুন। এমনভাবে পোশাক-আশাক পরুন, যা একজন খ্রিস্টান পরিচারকের জন্য উপযুক্ত। যদি বকশিশ দেওয়ার রীতি থাকে, তাহলে কিছু বকশিশ ছেড়ে যান।
◼ হোটেল:
দয়া করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রুম বুক করবেন না এবং যত জনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি লোককে আপনার রুমে রাখবেন না।
জরুরি অবস্থা দেখা না দিলে, আপনার বুক করা রুম বাতিল করবেন না আর বাতিল করার প্রয়োজন হলে, সঙ্গেসঙ্গে হোটেলকে তা জানিয়ে দিন, যাতে যাদের প্রয়োজন রয়েছে, তারা সেই রুম ব্যবহার করতে পারে। (মথি ৫:৩৭) আপনাকে যদি বাতিল করতেই হয়, তাহলে বাতিলকরণের নম্বর নেওয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করুন। আপনি যদি নির্ধারিত দিনের ৪৮ ঘন্টার কম সময়ের মধ্যে রুম বাতিল করেন, তাহলে আপনি যে-টাকা জমা দিয়েছেন, তা আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া, দয়া করে লক্ষ করুন যে, হোটেলে রুম নেওয়ার সময় আপনি যখন ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, তখন আশা করা হয় যে, আপনার রুমের পুরো মূল্য ও সেইসঙ্গে আপনার থাকাকালীন সম্ভাব্য যেকোনো ক্ষতিপূরণ অথবা দুর্ঘটনাজনিত খরচ মেটানোর জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে যথেষ্ট অর্থ রয়েছে। আপনি চলে যাওয়ার পর, কয়েক দিনের মধ্যে আপনার খরচপত্র না মেটানো পর্যন্ত আপনি এই অর্থের কোনোটাই ব্যবহার করতে পারবেন না।
আপনি যখন মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, তখনই মালপত্র বহনের ট্রলিটা নিয়ে যান এবং কাজ হয়ে গেলে সঙ্গেসঙ্গে সেটা ফিরিয়ে দিন, যাতে অন্যেরা ব্যবহার করতে পারে।
হোটেলের কর্মীরা যখন আপনার জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যায়, তখন তাদেরকে কিছু বকশিশ দিন আর যে-ব্যক্তি আপনার রুম পরিষ্কার করেন, তাকে কিছু বকশিশ দিন।
যেখানে রান্না করার অনুমতি রয়েছে, সেই রুমগুলোতেই রান্না করবেন।
হোটেলে থাকাকালীন, অতিথিদের জন্য বিনা মূল্যে সকালের জলখাবার, কফি বা বরফ দেওয়ার যে-ব্যবস্থা থাকে, সেগুলো সম্মেলনে নিয়ে গিয়ে সেই সুবিধার অপব্যবহার করবেন না।
হোটেলের কর্মচারীদের সঙ্গে আচার-ব্যবহারে সবসময়ই আত্মার ফল প্রদর্শন করুন। তারা অনেক অতিথির দেখাশোনা করে থাকে এবং আমাদের সদয়ভাব, ধৈর্য এবং যুক্তিবাদিতাকে উপলব্ধি করে থাকে।
হোটেল এবং এর চারপাশের এলাকা যেমন লিফ্ট, সুইমিং পুল, লবি, ব্যায়ামাগার-সহ অন্যান্য জায়গায় থাকাকালীন, বাবা-মায়েদের সবসময় ছেলে-মেয়েদের প্রতি নজর রাখা উচিত।
সুপারিশকৃত লজিং লিস্ট-এ দেখানো রুমের ভাড়াটা হচ্ছে কর বাদ দিয়ে প্রতিদিনের রুমের পুরো ভাড়া। আপনার কাছে যদি অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়, তাহলে সেই টাকা দিতে অস্বীকার করুন, এবং যত শীঘ্র পারেন সম্মেলনে রুমিং ডিপার্টমেন্ট-কে জানান।
আপনার হোটেল রুম নিয়ে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আপনি সম্মেলনে থাকাকালীনই রুমিং ডিপার্টমেন্ট-কে তা জানান, যাতে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
◼ স্বেচ্ছাসেবকের কাজ: সম্মেলনে কেউ স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করতে চাইলে, স্বেচ্ছাসেবক পরিচর্যা বিভাগে তা জানানো উচিত। ১৬ বছরের কমবয়সি ছেলে-মেয়েরাও তাদের বাবা অথবা মা কিংবা অভিভাবক অথবা বাবা বা মায়ের দ্বারা অনুমোদিত অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির অধীনে কাজ করে অনেক সাহায্য করতে পারে।