ভাববাদীদের অনুকরণ করুন—যোনা
১. যোনার মধ্যে কোন ইতিবাচক গুণগুলো ছিল?
১ আপনি যখন ভাববাদী যোনার কথা চিন্তা করেন, তখন কোন বিষয়টা আপনার মনে আসে? কেউ কেউ হয়তো তাকে একজন কাপুরুষ অথবা কঠিনচিত্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু, তিনি স্পষ্টভাবে নম্রতা, সাহস এবং আত্মত্যাগের এক মনোভাব দেখিয়েছিলেন। কীভাবে আমরা যোনার ইতিবাচক গুণগুলোকে এক ‘দৃষ্টান্ত বলিয়া মানিতে’ পারি?—যাকোব ৫:১০.
২. কীভাবে আমরা যোনার নম্রতাকে অনুকরণ করতে পারি?
২ নম্রতা: প্রথমদিকে, যোনা তার নির্ধারিত এলাকার বিপরীত দিকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ অশূরীয়রা হিংস্রতার জন্য কুখ্যাত ছিল আর নীনবী এক ‘রক্তপাতী নগর’ বলে পরিচিত ছিল। (নহূম ৩:১-৩) যাই হোক, যিহোবা যোনাকে শাসন করেছিলেন আর দ্বিতীয়বার তাকে সুযোগ দেওয়া হলে, তিনি তা গ্রহণ করার দ্বারা নম্রতা দেখিয়েছিলেন। (হিতো. ২৪:৩২; যোনা ৩:১-৩) এমনকী যদিও তিনি প্রথমদিকে অনিচ্ছুক ছিলেন, কিন্তু তিনি যিহোবার ইচ্ছা পালন করেছিলেন। (মথি ২১:২৮-৩১) এমনকী আমাদেরকেও যদি শাসন করা হয় অথবা এক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এলাকায় কার্যভার দেওয়া হয়, তাহলে তখনও কি আমরা সুসমাচার প্রচার করার জন্য একইভাবে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ থাকি?
৩. আপনার পরিচর্যার কোন ক্ষেত্রগুলোতে সাহস ও আত্মত্যাগের প্রয়োজন?
৩ সাহস ও আত্মত্যাগ: যোনা যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার ভুল সিদ্ধান্ত নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল, তখন তিনি তার নিজের জীবন বলি দিতে ইচ্ছুক ছিলেন। (যোনা ১:৩, ৪, ১২) পরে, নীনবীতে তার কার্যভার পূর্ণ করার সময়, তিনি নগরের একেবারে ভিতর পর্যন্ত গিয়েছিলেন, সম্ভবত যিহোবার বিচার ঘোষণা করতে উপযুক্ত একটা জায়গা খোঁজার জন্য। এটা একজন কাপুরুষের নয় বরং ঈশ্বরের একজন সাহসী ভাববাদীর কাজ ছিল। (যোনা ৩:৩, ৪) আজকে আমাদের সম্বন্ধে কী বলা যায়? বিরোধিতার মুখে নির্ভীকভাবে সাক্ষ্যদান করার জন্য ঈশ্বরদত্ত সাহসের প্রয়োজন। (প্রেরিত ৪:২৯, ৩১) পরিচর্যায় সময় দেওয়ার ও ধনসম্পত্তি ব্যয় করার জন্য আত্মত্যাগের প্রয়োজন।—প্রেরিত ২০:২৪.
৪. কেন আমাদের যিহোবার দাসদের রাখা উত্তম দৃষ্টান্ত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য সময় করে নেওয়া উচিত?
৪ প্রতিবার যিহোবার ভাববাদীদের মধ্যে কোনো একজনের বিবরণ পড়ার সময় আপনি যদি নিজেকে সেই পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে কল্পনা করেন, তাহলে আপনি উপকৃত হবেন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি হলে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম? কীভাবে আমি আমার জীবনে তার ইতিবাচক গুণগুলোকে অনুকরণ করতে পারি?’ (ইব্রীয় ৬:১১, ১২) আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা-র পরবর্তী প্রবন্ধগুলোতে, যিহোবার অন্যান্য বিশ্বস্ত ভাববাদীর কাছ থেকে আমরা শিখতে পারি এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সম্বন্ধে আলোচনা করা হবে।