“কোন বিষয়ে বিপক্ষগণ কর্ত্তৃক ত্রাসযুক্ত হইতেছি না”
১ ফিলিপীয় ১:২৮ পদের এই কথাগুলো লেখার সময়, পৌল সম্ভবত ফিলিপীতে যে-বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটার কথা স্মরণ করেছিলেন। (প্রেরিত ১৬:১৯-২৪) কিন্তু, বিরোধীদের সেই ভয়কে তিনি সুসমাচার জানানো থেকে তাকে বিরত করতে দেননি। আজ তার উদাহরণ আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে।
২ পরিচর্যায় উচ্ছৃঙ্খল জনতা যদি আমাদেরকে ঘিরে ধরে, তাহলে আমাদের কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত? বিরোধীরা যদি আমাদেরকে থানায় নিয়ে যায়, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? যদিও প্রত্যেকটা পরিস্থিতি ভিন্ন, তবুও আসুন আমরা কয়েকটা নীতি বিবেচনা করি, যেগুলো আমাদেরকে সাহায্য করবে।
৩ উচ্ছৃঙ্খল জনতা যখন ঘিরে ধরে: যখনই সম্ভব, উচ্ছৃঙ্খল জনতা জড়ো হওয়ার আগেই সেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। (প্রেরিত ১৪:৬) আপনাকে যদি তা করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পুলিশকে ডাকুন। নহিমিয়ের মতো, তৎক্ষণাৎ প্রার্থনা করুন। (নহি. ২:৪) পরিস্থিতিকে শান্ত করার চেষ্টা করুন, জনতা বা তাদের নেতার সঙ্গে যুক্তি করুন এবং ঈশ্বরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য তাদেরকে অনুরোধ করুন। একবার পৌল যখন হিংস্র জনতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখন তিনি তা করেছিলেন।—প্রেরিত ২১:২৭ থেকে ২২:৩০.
৪ আপনাকে যদি হুমকি দেওয়া হয় অথবা মারধর করা হয়, তাহলে কী? আত্মরক্ষা করা কি যথার্থ? এটা হল এক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। “বিশৃঙ্খল এক জগতে অপরাধের সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলা করা” (প্রহরীদুর্গ, ইংরেজি, মে ১, ১৯৯১, পৃষ্ঠা ৪-৭) এবং “আত্মরক্ষার শিক্ষা কি আমার নেওয়া উচিত?” (সচেতন থাক! অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, ১৯৯৫, পৃষ্ঠা ১২-১৪) এই ধরনের প্রবন্ধগুলোতে আপনি এই বিষয়ের ওপর সাহায্যকারী নীতিগুলো পাবেন। আগে থেকে এই প্রবন্ধগুলোকে পুনরালোচনা করুন না কেন?
৫ যখন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়: অন্যদের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে আপনার বিশ্বাস সম্বন্ধে জানানোর দ্বারা আপনি আইন ভঙ্গ করছেন না। এটা হল প্রত্যেক ব্যক্তির এক বৈধ অধিকার। আপনার কাজ সম্বন্ধে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাহলে পুলিশকে সম্মানের সঙ্গে বিষয়টা বলুন। এ ছাড়া ব্যাখ্যা করুন যে, বাইবেলের বার্তা জানানোর জন্য আমাদেরকে বেতন দেওয়া হয় না। কিংবা অন্যদেরকে ধর্মান্তরিত করার জন্য আমরা কোনো সুযোগসুবিধাও প্রদান করি না।
৬ পুলিশ যদি মানহানি করে, তাহলে কৌশলে তাদেরকে মনে করিয়ে দিন যে, তাদের দায়িত্ব হল সুরক্ষা প্রদান করা। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদের উচ্চতর কর্তৃপক্ষদের কাছে আপিল করুন। (রোমীয় ১৩:৩, ৪; উপ. ৫:৮) শান্ত থাকুন ও এই আস্থা রাখুন যে, যিহোবা আপনার সঙ্গে আছেন।—লূক ১২:১১, ১২.
৭ পুলিশ যদি আপনাকে কোনোকিছুতে সই করতে বলে, তাহলে এই বিষয়ে নিশ্চিত হোন যে, আপনি মন দিয়ে পুরো কাগজটা পড়েছেন আর বিশ্বাস করেন যে, এতে বর্ণিত বিবরণটি সঠিক। এমন কোনো কাগজে সই করবেন না, যেটাতে বলা হয়েছে যে, আপনি অন্যদের কাছে আর কখনো আপনার বিশ্বাস সম্বন্ধে জানাবেন না। যদি অভিযোগ দায়ের করা হয়, তাহলে যে-অপরাধে আপনাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা দেখাতে বলুন আর সেই অপরাধ আইনের নির্দিষ্ট কোন ধারায় পড়ে, তা বলতে বলুন। বিরোধীরা যদি খারাপ ব্যবহার করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যাপারে আপনার অধিকারের বিষয়ে জোর দিন। আপনি যদি আহত হন, তাহলে আপনাকে কোনো ডাক্তারের কাছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে জোরের সঙ্গে বলুন।
৮ যিহোবার ওপর নির্ভর করুন: মনে রাখবেন, যিশু বলেছিলেন যে, আমাদেরকে হয়তো আধিকারিকদের সামনে হাজির করা অথবা বিচারসভায় সমর্পণ করা হতে পারে। (মথি ১০:১৭, ১৮) আপনি যদি বিরোধিতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন, তাহলে ভয়ের কাছে নতিস্বীকার করবেন না বরং শক্তির জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন ও এই আস্থা রাখুন যে, তিনি আপনার প্রার্থনা শুনবেন। অধিকন্তু, প্রার্থনা করুন যে, আধিকারিকরা যেন আমাদেরকে ‘সম্পূর্ণ ভক্তিতে নিরুদ্বেগ ও প্রশান্ত জীবন যাপ’ করার অনুমতি দেয়। (১ তীম. ২:১, ২) পরিচর্যায় যিহোবার সম্বন্ধে কথা বলে চলার সঙ্গে সঙ্গে, আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, তিনি আমাদেরকে বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়ার সময় শক্তি জোগাবেন।