আমাদের কখনও এত আধ্যাত্মিক প্রাচুর্য ছিল না!
১ অধিকাংশ লোকেরা সেই দিনটির জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা করে, যখন তারা বলতে পারবে, “আমাদের কখনও এত প্রাচুর্য ছিল না!” তাদের মনে হয় এই দিনটি সেদিনই আসবে যখন তাদের প্রচুর বস্তুগত সম্পদ থাকবে যা তাদের ‘বিশ্রাম নিতে, ভোজন পান করতে, আমোদ প্রমোদ করতে,’ অনুমোদন করবে। (লূক ১২:১৯) বিপরীতে, ঠিক এখনই আমরা বলতে পারি যে আধ্যাত্মিক অর্থে, আমরা কোন উত্তম জিনিসের অভাববোধ করি না। (গীত. ৩৪:১০) কিভাবে এটি সম্ভব?
২ হিতোপদেশ ১০:২২ পদ ঘোষণা করে যে “সদাপ্রভুর আশীর্ব্বাদই ধনবান করে।” আমরা যারা এইধরনের ঐশিক আনুকূল্য অভিজ্ঞতা করি, সত্যই বলতে পারি যে ঈশ্বর “ধনবানের ন্যায় সকলই আমাদের ভোগার্থে যোগাইয়া দেন।” (১ তীম. ৬:১৭) এটিই আমাদের পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করে!
৩ আমাদের আশীর্বাদগুলি গণনা করা: আমাদের মধ্যে অল্পজনেরই বস্তুগত সম্পদের প্রাচুর্য আছে। তবুও, আমরা আশীর্বাদযুক্ত কারণ আমরা আমাদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন সম্বন্ধে অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন নই। যিহোবা জানেন আমাদের কোন্ জিনিসের প্রয়োজন আছে এবং তিনি সেগুলি সরবরাহ করার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করেছেন। (মথি ৬:৩১-৩৩) তাঁর নিশ্চয়তা আমাদের মানসিক শান্তি প্রদান করে যা সত্যই মূল্যাতীত।
৪ কিন্তু, আমাদের আধ্যাত্মিক আশীর্বাদগুলি এমনকি আরও মহৎ। আমাদের জীবন যিহোবার কাছ থেকে পাওয়া আধ্যাত্মিক খাদ্যের উপর নির্ভর করে। (মথি ৪:৪) যারা আধ্যাত্মিক পুষ্টির জন্য জাগতিক উৎসের উপর নির্ভরশীল, তারা ক্ষুধিত থাকে, যখন আমরা ভোজন ও পান করে পরিতৃপ্ত হই। (যিশা. ৬৫:১৩) ‘বিশ্বস্ত দাস’ আমাদের সেই জ্ঞান যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে তার এক অফুরন্ত সরবরাহ প্রদান করে।—মথি ২৪:৪৫; যোহন ১৭:৩.
৫ আমাদের জগদ্ব্যাপী মহামূল্যবান ভ্রাতৃসমাজ, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী প্রেমময় ভাই বোনেদের আন্তরিক সাহচর্য যুগিয়ে থাকে। (যোহন ১৩:৩৫) স্থানীয় মণ্ডলী এক শান্তির আশ্রয়-স্থল যেখানে আমরা সান্ত্বনা ও সতেজতা খুঁজে পাই। প্রাচীনেরা আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগুলির মোকাবিলা করতে সাহায্য করে আমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরী কার্য করেন। (ইব্রীয় ১৩:১৭) আমাদের ভাইয়েদের সাথে নিকটবর্তী হওয়ার ফলে উৎসাহের বিনিময় সম্ভব হয়, যা আমাদের দৃঢ় থাকতে শক্তিশালী করে।—রোমীয় ১:১১, ১২.
৬ এমনকি আমাদের কাজও এক আশীর্বাদ। অনেক জাগতিক চাকুরিগুলি ক্লান্তিকর ও অপূর্ণ। সুসমাচারে অংশ গ্রহণ করা অন্যদের জন্য আনন্দ ও আমাদের জন্য সুখ নিয়ে আসে। (প্রেরিত ২০:৩৫) আমরা সত্যই আমাদের সমস্ত কঠোর পরিশ্রমে উত্তমতা দেখতে পাই।—উপ. ২:২৪.
৭ সর্বোপরি, ভবিষ্যতের জন্য আমাদের এক অপূর্ব আশা আছে। (রোমীয় ১২:১২) আমরা এক সিদ্ধ নতুন ধার্মিক জগতের জন্য সম্মুখে দৃষ্টি রাখি, যেখানে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের সাথে সুখ ও শান্তিসহ অনন্তকাল বাস করব! এই আশা এক সম্পদস্বরূপ যা এই জগৎ যা কিছু দিতে পারে তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।—১ তীম. ৬:১৯.
৮ কিভাবে আমরা আমাদের উপলব্ধি প্রকাশ করতে পারি? যিহোবা আমাদের জন্য যা করেছেন তা আমরা কখনও পরিশোধ করতে পারি না। আমরা কেবলমাত্র আমাদের উপলব্ধি প্রকাশ করতে পারি (১) তাঁর অযাচিত করুণার জন্য প্রতিদিন তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়ার (ইফি. ৫:২০), (২) তাঁর প্রতি বাধ্য হয়ে আমাদের প্রেম প্রদর্শন করার (১ যোহন ৫:৩), (৩) সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমে তাঁর নাম পবিত্রীকৃত করার (গীত. ৮৩:১৮) এবং (৪) আমাদের পূর্ণ-হৃদয় সহযোগিতা দ্বারা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীকে সমর্থন করার দ্বারা।—১ তীম. ৩:১৫.
৯ পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা সুখী ব্যক্তি হওয়ার সম্পূর্ণ কারণ আমাদের রয়েছে। (গীত. ১৪৪:১৫খ) আমাদের মনোভাব, আচরণ এবং সেবা সেই সুখ প্রতিফলিত করুক যা আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক পরমদেশে অনুভব করি। আমাদের কখনও এত প্রাচুর্য ছিল না!