পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
গালাতীয় ৬:৮ পদ অনুসারে “আপন মাংসের উদ্দেশ্যে যে বুনে, সে মাংস হইতে ক্ষয়রূপ শষ্য পাইবে; কিন্তু আত্মার উদ্দেশ্যে যে বুনে, সে আত্মা হইতে অনন্তজীবনরূপ শষ্য পাইবে।” এখানে কি ধরনের “আত্মার” কথা বলা হয়েছে এবং কিভাবে আমরা অনন্তজীবনরূপ শষ্য পাব?
ইব্রীয় ও গ্রীক শব্দ যাকে “আত্মা” বলে অনুবাদ করা হয়েছে, তার বিবিধ অর্থ আছে, যেমন: (১) ঈশ্বরের কার্যকারী শক্তি, (২) মানুষ এবং জন্তুদের মধ্যে যে জীবনীশক্তি আছে, (৩) মানুষের সক্রিয় মানসিক শক্তি এবং (৪) একজন আত্মিক ব্যক্তি অথবা স্বর্গদূত। এইগুলির মধ্যে প্রথমটি—ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা—হল প্রকৃত অর্থ যা আমরা গালাতীয় ৬:৮ পদে খুঁজে পাই।
পারিপার্শিক তথ্যের জন্য গালাতীয় ৩:২ পদ লক্ষ্য করুন, যেখানে আমরা গালাতীয় পুস্তকে প্রথমবার “আত্মা” কথাটির উল্লেখ পাই। পৌল খ্রীষ্টানদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “তোমরা কি ব্যবস্থার কার্য্য হেতু আত্মাকে পাইয়াছ? না বিশ্বাসের বার্ত্তা শ্রবণ হেতু? তারপর গালাতীয় ৩:৫ পদে তিনি পরাক্রম কার্য সম্পাদন করবার জন্য এই “আত্মা”-কে সংযোগ করেন। সুতরাং তিনি যে “আত্মা”-র কথা উল্লেখ করেছেন, তা হল পবিত্র আত্মা, ঈশ্বরের অদৃশ্য কার্যকারী শক্তি।
পরবর্তীকালে, গালাতীয় ৫:১৬ পদে পৌল আত্মা এবং মাংসের মধ্যে বৈশাদৃশ্য দেখিয়েছেন। আমরা পড়ি: “আমি বলি, তোমরা আত্মার বশে চল, তাহা হইলে মাংসের অভিলাস পূর্ণ করিবে না।” “মাংসের অভিলাস” বলতে তিনি বুঝিয়েছিলেন পাপপূর্ণ মানব শরীরকে। এইভাবে, গালাতীয় ৫:১৯-২৩ পদে তিনি “মাংসের কার্য্য সকল” এবং “আত্মার ফলে”-র বৈশাদৃশ্য প্রদর্শন করার জন্য এর তালিকা দিয়েছেন।
সুতরাং, গালাতীয় ৬:৮ পদে যে ব্যক্তি “আপন মাংসের উদ্দেশ্যে বুনে, সে এমন ব্যক্তির তুল্য, যে নিজের পাপপূর্ণ মাংসিক অভিলাস সকল পূর্ণ করার জন্য ধাবিত হয় এবং “মাংসের কার্যসকল” চরিতার্থ করার চেষ্টা করে। সে হয়ত তার সেই কার্যসকলের কলুষিত প্রভাব অনুভব করতে পারে, আর যদি সে তার আচরণের পরিবর্তন না ঘটায়, তাহলে সে অবশ্যই জীবন পাবে না ঈশ্বরের রাজ্যেও অথবা তার অধীনেও নয়।—১ করিন্থীয় ৬:৯, ১০.
উৎসর্গীকৃত খ্রীষ্টানরূপে আমাদের আকাঙ্ক্ষা যেন ‘ঈশ্বরের আত্মার উদ্দ্যেশ্যে বোনার’ জন্য হয়। এর অর্থ হল আমাদের জীবনধারা যেন এমন হয়, যাতে পবিত্র আত্মা ভালভাবে আমাদের জীবনে কাজ করতে পারে, যা আমাদের আত্মার ফল উৎপন্ন করতে সহায়তা করবে। এই নীতিটিকে আমাদের মনে গেঁথে রাখতে হবে, যাতে কি বই পড়ব বা টেলিভিশনে কি অনুষ্ঠান দেখব তা যেন সেই নীতি অনুসারে হয়। আমরা আত্মার উদ্দেশ্যে বুনি যখন আমরা মণ্ডলীর সভাতে মনোযোগ দিই এবং আত্মায়-মনোনীত অধ্যক্ষদের উপদেশ পালন করি।—প্রেরিত ২০-২৮.
আগ্রহের বিষয় হল যে গালাতীয় ৬:৮ পদ এই আশ্বাসবাণী দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটায়, যখনই আমরা পবিত্র আত্মার সাথে মিল রেখে কিছু বপন করব, তখন আমরা “আত্মা হইতে অনন্ত জীবনরূপ শষ্য পাইব।” হ্যাঁ, খ্রীষ্টের মুক্তির মূল্যের উপরে ভিত্তি করে ঈশ্বর পবিত্র আত্মার পরিচালনায় অনন্ত জীবনের দ্বার খুলে দেবেন।—মথি ১৯:২৯; ২৫:৪৬; যোহন ৩:১৪-১৬; রোমীয় ২:৬, ৭; ইফিসীয় ১:৭.