পৃথিবীব্যাপী নারীরা
যখন প্রথম মানব দম্পতি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তখন যিহোবা ভবিষ্যবাণী করেছিলেন যে তাদের ও তাদের সন্তানদের উপর সর্বনাশামূলক পরিণতি নিয়ে আসবে। যিহোবা হবাকে বলেছিলেন: “স্বামীর প্রতি তোমার বাসনা থাকিবে; ও সে তোমার উপরে কর্ত্তৃত্ব করিবে। (আদিপুস্তক ৩:১৬) বাইবেল নারীদের প্রতি সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে উৎসাহ দেয় এবং লক্ষ্য লক্ষ্য নারী আজ এক সুখের এবং সন্তোষজনক জীবন পেয়েছে কারণ তারা এবং তাদের পরিবারগুলি বাইবেলের নীতিকে মেনে চলে।
যদিও মানব অধিকার সম্পর্কে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে পৃথিবীব্যাপী অন্যান্য নারীদের অবমানিত, শোষণ এবং হীন মনে করা হয়েছে। বিবৃতিতে মন্তব্য করতে গিয়ে দি ইনটারন্যাশানাল হেরাল্ড ট্রাইবিউন জানায়: “১৯৩টি দেশের দুঃখদায়ক ব্যাপক বর্ণনা দৈনন্দিন জীবনে নারীদের উপর অত্যাচার এবং বৈষম্যের এক মর্মান্তিক চিত্র প্রদর্শন করে।”
কয়েকটি দৃষ্টান্ত: মধ্য আফ্রিকায় কৃষিকাজ সংক্রান্ত কঠিন কাজগুলি বালিকারা করে থাকে এবং ছেলেরা যতক্ষণ স্কুলে থাকে, মেয়েরা তার এক তৃতীয়াংশ মাত্র থাকে। এই মধ্য আফ্রিকার একটি দেশে শুধুমাত্র নারীদের ক্ষেত্রে ব্যাভিচার অনৈতিক, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে নয়। আফ্রিকার আর একটি দেশের আইন অনুসারে স্ত্রী ব্যাভিচার করার সময় যদি ধরা পরে তাহলে যদি স্বামীকে তাকে হত্যা করে তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু একই পরিস্থিতিতে যদি কোন স্ত্রী তা করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করা হয় না।
বিবৃতিটি জানায় যে দক্ষিণ আমেরিকায় কিছু কিছু অংশে পুলিশ প্রহারিত নারীদের উপর কোন সহানুভূতি দেখায় না। আর চাকুরীজীবি মহিলাদের, পুরুষেরা যতটা পরিমাণ আয় করে, তার থেকে ৩০ হতে ৪০ শতাংশ কম আয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।
এশিয়ার কোন কোন অংশে নারীদের জোর করে বন্ধ্যা এবং গর্ভপাত করান হয়। একটি দেশে প্রায় ৫,০০,০০০ লক্ষের মত বেশ্যা রয়েছে, যাদের অধিকাংশই তাদের পিতামাতা টাকার দায়ে অথবা নুতন গৃহ কেনার স্বার্থে এমন করেছে। আর একটি দেশে পুলিশকে ব্যাপকহারে বিবাহের “দেনা-পাওনা সম্পর্কিত কারণে মৃত্যুর” মোকাবিলা করতে হয়—স্ত্রীকে তার স্বামী অথবা সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা হত্যা করা হয়ে থাকে, কারণ তাদের আশা অনুযায়ী পাওনা না পাওয়ার দরুন।
যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কে বাইবেল আশ্বাস দেয়: “কেননা তিনি আর্তনাদকারী দরিদ্রকে, এবং দুঃখী নিঃসহায়কে উদ্বার করিবেন। তিনি দীনহীন ও দরিদ্রের প্রতি দয়া করিবেন, তিনি দরিদ্রগণের প্রাণ নিস্তার করিবেন। তিনি চাতুরী ও দৌরাত্ম্য হইতে তাহাদের প্রাণ মুক্ত করিবেন, তাঁহার দৃষ্টিতে তাহাদের রক্ত বহুমূল্য হইবে।” (গীতসংহিতা ৭২:১২-১৪) সুতরাং আমাদের আশা রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে; বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি উন্নত পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি আরোপ করতে পারে, যা সেইসময়ে বিরাজ করবে।