প্রভুর সান্ধ্যভোজ—কতবার তা পালন করা উচিত?
বড়দিন, ইষ্টার, “সাধুদের” দিনগুলি। খ্রীষ্টীয় জগতের গির্জাগুলি বিভিন্ন ছুটির দিন ও উৎসব উদ্যাপন করে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন কতগুলি উৎসব যীশু তাঁর শিষ্যদের পালন করতে আজ্ঞা দিয়েছিলেন? উত্তর হল, কেবলমাত্র একটি! অন্যান্য আর কোন উৎসবই খ্রীষ্টতত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা পালন করতে অধিকার দেননি।
স্পষ্টতই, যীশু যদি কেবলমাত্র একটি উদ্যাপন প্রবর্তন করে থাকেন, তাহলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক যীশু যেমনভাবে এটিকে পালন করতে আদেশ দিয়েছিলেন খ্রীষ্টানদের সেইভাবে করা উচিত। এই অদ্বিতীয় উদ্যাপনটি কী ছিল?
একটি উদ্যাপন
এই উদ্যাপনটি, যীশু তাঁর মৃত্যুর দিনে প্রবর্তন করেছিলেন। তাঁর শিষ্যদের সাথে তিনি যিহূদী নিস্তারপর্ব উৎসব উদ্যাপন করেন। তারপর তিনি তাদের মধ্যে নিস্তারপর্বীয় তাড়ীশূন্য রুটি বিতরণ করেন এবং বলেন: “ইহা আমার শরীর, যাহা তোমাদের নিমিত্ত দেওয়া যায়।” তারপর, যীশু পানপাত্র তাদের মধ্যে বিতরণ করেন ও বলেন: “এই পানপাত্র আমার রক্তে নূতন নিয়ম, যে রক্ত তোমাদের নিমিত্ত পাতিত হয়।” তিনি আরও বলেন: “আমার স্মরণার্থে ইহা করিও।” (লূক ২২:১৯, ২০; ১ করিন্থীয় ১১:২৪-২৬) এই উৎসবকে বলা হয় প্রভুর সান্ধ্যভোজ, অথবা স্মরণার্থক সভা। এটিই হল একমাত্র উদ্যাপন যা পালন করতে যীশু তাঁর অনুগামীদের বলেছিলেন।
অনেক গির্জা দাবি করে যে অন্যান্য সকল উৎসবের সাথে তারা এটিকেও পালন করে, কিন্তু যীশু যেভাবে বলেছিলেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই সেইভাবে করে না। হয়ত সবচেয়ে লক্ষণীয় পার্থক্য হল কত ঘন ঘন এটিকে উদ্যাপন করা হয়, সেই বিষয়ে। কিছু গির্জায় মাসে মাসে, সপ্তাহে সপ্তাহে, এমন কি প্রতিদিনও তা পালন করা হয়। এটিই কি যীশুর অভিপ্রায় ছিল যখন তিনি তাঁর অনুগামীদের বলেছিলেন: “আমার স্মরণার্থে ইহা করিও”? নিউ ইংলিশ বাইবেল বলে: “আমার স্মৃতিচারণ হিসাবে এটি কর।” (১ করিন্থীয় ১১:২৪-২৬) কতবার একটি স্মৃতিচারণ অথবা বার্ষিকী পালন করা হয়? স্বভাবতই, বছরে মাত্র একবার।
আরও, স্মরণে রাখুন যে যীশু এই উদ্যাপন প্রবর্তন করেছিলেন এবং তারপর যিহূদী ক্যালেণ্ডার অনুসারে ১৪ই নিশান মারা গিয়েছিলেন।a সেটি ছিল নিস্তারপর্বের দিন, যিহূদীদের মহামুক্তির এক স্মরণীয় দিন যা সা.শ.পূ. ১৬শ শতাব্দীতে মিশরে তারা অভিজ্ঞতা করেছিল। সেই সময়ে, যিহূদী প্রথমজাত সন্তানদের মুক্তির কারণ হয় এক মেষের বলিদান, কিন্তু যিহোবার দূত মিশরের সমস্ত প্রথমজাতের মৃত্যু ঘটায়।—যাত্রাপুস্তক ১২:২১; ২৪-২৭.
কিভাবে এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে? খ্রীষ্টান প্রেরিত পৌল লেখেন: “আমাদের নিস্তারপর্ব্বীয় মেষশাবক বলীকৃত হইয়াছেন, তিনি খ্রীষ্ট।” (১ করিন্থীয় ৫:৭) মানবজাতিকে এক মহত্তর মুক্তির সুযোগ দিয়ে, যীশুর মৃত্যু ছিল এক মহান নিস্তারপর্বীয় বলিদান। সেইজন্য, খ্রীষ্টানদের ক্ষেত্রে, যিহূদী নিস্তারপর্বের স্থলে খ্রীষ্টের মৃত্যু উদ্যাপনপর্ব প্রতিস্থাপিত হয়েছে।—যোহন ৩:১৬.
নিস্তারপর্ব ছিল এক বাৎসরিক উদ্যাপন। যুক্তিযুক্তভাবে, তাহলে স্মরণার্থের ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত। নিস্তারপর্ব—যীশুর মৃত্যু দিন—সব সময়েই আসে যিহূদী নিশান মাসের ১৪ তারিখে। সুতরাং, যীশুর মৃত্যু বছরে একবার স্মরণ করা হবে, ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী নিশান ১৪ তারিখ যেদিন পড়ে, সেই দিন। উনিশ্শো চুরানব্বই সালে সেই দিনটি হল শনিবার, মার্চ ২৬, সূর্যাস্তের পর। তবুও, কেন খ্রীষ্টীয় জগতের গির্জাগুলি এটিকে এক বিশেষ দিনরূপে পালন করে না? সংক্ষেপে ইতিহাসের দিকে তাকালেই এর উত্তর পাওয়া যাবে।
ভাববাদীয় প্রথা বিপদের মুখে
কোন সন্দেহ নেই যে সা.শ. প্রথম শতাব্দীতে যীশু যেমনটি আদেশ করেছিলেন, যীশুর প্রেরিতেরা ঠিক তেমনভাবে প্রভুর সান্ধ্যভোজ পালন করেছিলেন। কিন্তু, দ্বিতীয় শতাব্দীতে এই উদ্যাপনে কিছু পরিবর্তন হতে থাকে। তারা সপ্তাহের প্রথম দিনটিতে (এখন যাকে রবিবার বলা হয়) স্মরণার্থক সভা পালন করে, ১৪ই নিশান অনুযায়ী যথাযথ দিনে নয়। কেন এটি করা হয়েছিল?
কারণ যিহূদীদের একটি দিন শুরু হত সন্ধ্যা ছটায় এবং তার শেষ হত পরের দিন সন্ধ্যা ছটায়। সা.শ. ৩৩ শতাব্দীর ১৪ই নিশান যীশু মারা যান, যা চলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। তিনি পুনরুত্থিত হন তৃতীয় দিন, রবিবার ভোরে। কেউ কেউ চেয়েছিলেন, যীশুর মৃত্যুর স্মরণার্থক দিনটি ১৪ই নিশানের পরিবর্তে, প্রতি বছর কোন সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে পালিত হবে। তারা আরও মনে করে যীশুর মৃত্যু দিন অপেক্ষা যীশুর পুনরুত্থান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, তারা রবিবারটিকে বেছে নেয়।
যীশু আদেশ দিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যু দিনকে স্মরণ করতে, তাঁর পুনরুত্থান দিনকে নয়। আর যেহেতু যিহূদী নিস্তারপর্ব প্রত্যেক বছর বিভিন্ন দিনে পড়ে, বর্তমানে প্রচলিত গ্রেগোরিয়ান্ ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী এটি খুবই স্বাভাববিক যে স্মরণার্থক দিবসের ক্ষেত্রেও তাই হবে। তাই অনেকেই আদি ব্যবস্থাকে মেনে নেয় এবং প্রতি বছর ১৪ই নিশান প্রভুর সান্ধ্যভোজ পালন করে থাকে। পরে তাদের “কোয়ার্টোডেসিমান্” বলা হতে লাগল, যার অর্থ চতুর্দশ-তারিখ পালনকারী।”
কিছু পণ্ডিতেরা বুঝেছিলেন যে “চতুর্দশ-তারিখ পালনকারীরা” প্রেরিতদের আদি প্রথা অনুযায়ী চলছিলেন। একজন ঐতিহাসিক বলেছিলেন: “পাস্কা [প্রভুর সান্ধ্য ভোজ] পালন করার দিন সম্বন্ধে, এশিয়ার কোয়ার্টোডেসিমান্ গির্জাগুলির প্রথা যেরুসালেমের প্রথার সঙ্গে এক ছিল। এই গির্জাগুলিতে, ২য় শতাব্দীতে ১৪ই নিশানের পাস্কার সময়ে, খ্রীষ্টের মৃত্যুর মাধ্যমে মুক্তিলাভকে স্মরণ করা হত।”—স্টাডিয়া পাট্রিস্টিকা, খণ্ড ৫, ১৯৬২, পৃষ্ঠা ৮.
একটি বিতর্ক বাড়তে থাকে
এশিয়া মাইনরে অনেকে প্রেরিতদের প্রথা বজায় রাখলেও, রোমে পালন করার জন্য রবিবারটিকে রাখা হয়েছিল। সা.শ. ১৫৫ সাল নাগাদ, এশিয়ার মণ্ডলীগুলির প্রতিনিধি স্মার্না শহরের পলিকার্প এই সমস্যাটি এবং অন্যান্য সমস্যা আলোচনা করার জন্য রোমে গিয়েছিলেন। দুঃখের কথা যে এই বিষয়ে কোন মীমাংশা হয়নি।
লিয়ন শহরের আইরিনিয়াস্ একটি চিঠিতে লিখেছিলেন: “আমাদের প্রভুর শিষ্য যোহন এবং অন্যান্য যে প্রেরিতদের সঙ্গে পলিকার্প যা সর্বদা পালন করে এসেছেন, তাকে তা ত্যাগ করতে রাজি করাতে [রোমের] অ্যানিসিটাস্ অসমর্থ হয়েছিলেন; পলিকার্পও অ্যানিসিটাস্কে তা পালন করাতে পারেননি, কারণ অ্যানিসিটাস্ বলেছিলেন যে তার পূর্বেকার প্রাচীনদের প্রথা অনুযায়ী তার চলা উচিত।” (ইউসেবিয়াস্, বই ৫, অধ্যায় ২৪) লক্ষ্য করুন যে পলিকার্প প্রেরিতদের মত অনুযায়ী তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু অ্যানিসিটাস্ রোমের পূর্ববর্তী প্রাচীনদের মত অনুযায়ী চলছিলেন।
সা.শ. দ্বিতীয় শতকের শেষের দিকে এই বিতর্ক আরও বেড়ে উঠেছিল। প্রায় ১৯০ সা.শ. নাগাদ, ভিক্টর নামে একজন ব্যক্তিকে রোমের বিশপ হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রভুর সান্ধ্য ভোজ রবিবারে পালন করা উচিত, আর তিনি যতজন সম্ভব অন্যান্য নেতাদের সমর্থন পেতে চেয়েছিলেন। রবিবার পালন করার ব্যবস্থায় পরিবর্তন করার জন্য ভিক্টর এশিয়ার মণ্ডলীগুলিকে চাপ দিতে লাগলেন।
এশিয়া মাইনরের লোকেদের প্রতিনিধি হিসাবে উত্তর দেওয়ার সময়ে, পলিক্রেটিস্ চাপের সম্মুখে নতি স্বীকার করতে অসম্মত হয়েছিলে। তিনি বলেছিলেন: “আমরা কোন পরিবর্তন না করেই সেই দিন পালন করি, কোন কিছু যোগ করি না, বাদও দিই না।” তারপর তিনি বহু বিখ্যাত ব্যক্তিদের অভিমতের তালিকা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রেরিত যোহনও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। “এরা সকলে,” তিনি বলেছিলেন, “সুসমাচার-পুস্তকগুলি অনুসারে চতুর্দশ দিনে পাস্কা উদ্যাপন করতেন, এর থেকে কোনক্রমে বিচ্যুতি ঘটত না।” পলিক্রেটিস্ আরও বলেছিলেন: “ভ্রাতৃগণ, ব্যক্তিগতভাবে . . . আমি কোন হুম্কিকে ভয় পাই না। কারণ আমার থেকে মহান লোকেরা বলেছেন, মনুষ্য অপেক্ষা বরং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করা বাঞ্ছনীয়।”—ইউসেবিয়াস্, বই ৫, অধ্যায় ২৪.
এই উত্তরে, ভিক্টর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। একটি ঐতিহাসিক লেখায় জানানো হয়েছে যে তিনি “এশিয়ার সমস্ত গির্জাগুলিকে বহিষ্কৃত করেছিলেন এবং যে গির্জাগুলি তার মত পোষণ করত, সেগুলিতে চিঠি পাঠিয়েছিলেন যে তারা যেন বহিষ্কৃত গির্জাগুলির সাথে কোন রকম সম্পর্ক না রাখে।” কিন্তু, “তার নিজের দলের মধ্যে সমস্ত বিজ্ঞ এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিরা এই কঠোর এবং দ্রুত পদক্ষেপকে গ্রহণ করেননি, এবং তাদের মধ্যে অনেকে তাকে প্রেম, একতা এবং শান্তি বজায় রাখতে উপদেশ দিয়ে দৃঢ় চিঠি লিখেছিলেন।”—বিংহ্যামকর্তৃক খ্রীষ্টীয় গির্জার ইতিহাস (ইংরাজি), বই ২০, অধ্যায় ৫.
ধর্মভ্রষ্টতা সাংগঠনিক রূপ নেয়
এই ধরনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও, এশিয়া মাইনরের খ্রীষ্টানেরা কখন প্রভুর সান্ধ্য ভোজ পালন করতে হবে সেই বিষয়ে ক্রমশ আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে লাগলেন। অন্যান্য জাগায় কিছু তারতম্য দেখা দিয়েছিল। কেউ কেউ নিশান ১৪ তারিখ থেকে পরবর্তী রবিবার পর্যন্ত সবকটি দিন পালন করতে শুরু করেছিলেন। অন্যেরা আরও ঘন ঘন উদ্যাপন করতেন—প্রত্যেক সপ্তাহের রবিবারে।
সা.শ. ৩১৪ সালে, আরলেসের (ফ্রান্স) সংসদে অন্য যে কোন বিকল্প ব্যবস্থাকে দমন করে রোমীয় প্রথা জোর করে জারি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অবশিষ্ট কোয়ার্টোডেসিমানেরা হার স্বীকার করেনি। এই বিষয়টির জন্য এবং অন্যান্য যে বিষয়গুলির জন্য বিজাতীয় সম্রাট কন্স্টানটাইনের রাজত্বে তথাকথিত খ্রীষ্টানেরা একমত ছিল না, সেগুলির নিষ্পত্তি করতে সা.শ. ৩২৫ সালে তিনি একটি যাজকবর্গের সভা, নাইসিয়ার সংসদের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে এশিয়া মাইনরের সকলকে রোমীয় প্রথা অনুযায়ী চলতে আদেশ জারি করা হয়েছিল।
যিহূদী ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী খ্রীষ্টের মৃত্যু পালন না করার পক্ষে একটি প্রধান যুক্তি লক্ষ্য করা আগ্রহজনক। কে. জে. হাফেলে লিখিত গির্জার সংসদগুলির ইতিহাস (ইংরাজি) বইতে জানানো হয়েছে: “সর্বাধিক পবিত্র এই উৎসবের জন্য, যারা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের মাধ্যমে তাদের হাত কলুষিত করেছিল এবং যাদের মন অন্ধ ছিল, সেই যিহূদীদের প্রথা (গণনাপ্রণালী) পালন করা বিশেষভাবে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।” (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২২) এই প্রথা মেনে নেওয়াকে “সভাগৃহের কাছে একটি ‘লজ্জাকর বশ্যতাস্বীকার’ বলে দেখা হত, যার প্রতি গির্জা প্রসন্ন ছিল না,” স্টাডিয়া পাট্রিস্টিকা, খণ্ড ৪, ১৯৬১, পৃষ্ঠা ৪১২-তে জে. জাস্টার বলেছেন।
যিহূদীবিরোধিতা! যেদিন যীশু মারা গিয়েছিলেন, সেই একই দিনে যারা তাঁর স্মরণার্থক সভা পালন করতেন, তাদের যিহূদী ধর্মালম্বী হিসাবে দেখা হত। এই তথ্যটি ভুলে যাওয়া হয়েছিল যে যীশু নিজে একজন যিহূদী ছিলেন এবং তখন মানবজাতির জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করে, সেই দিনটিকে তিনি অর্থপূর্ণ করে তুলেছিলেন। তখন থেকে কোয়ার্টোডেসিমান্দের ধর্মভ্রষ্ট এবং একতানাশক হিসাবে দেখা হত এবং তাদের নির্যাতন করা হত। সা.শ. ৩৪১ সালের আন্তিয়খিয়ার সংসদে জানানো হয়েছিল যে তাদের বহিষ্কৃত করা হবে। তবুও, সা.শ. ৪০০ সালেও, বহু কোয়ার্টোডেসিমানেরা ছিল এবং তার বহু পরেও অল্প সংখ্যায় তাদের অস্তিত্ব ছিল।
তখন থেকে, যীশুর আদি ব্যবস্থায় ফিরে যেতে খ্রীষ্ট জগৎ অক্ষম হয়েছে। অধ্যাপক উইলিয়াম ব্রাইট স্বীকার করেছিলেন: স্মরণার্থক সভার সঙ্গে যখন কোন বিশেষ দিন, গুড ফ্রাইডে, নির্ধারণ করা হয়, তখন সাধু পৌল বলিদানমূলক মৃত্যুর সঙ্গে যে ‘পাস্কীয়’ সম্পর্ক দেখেছিলেন, তার মধ্যে উদ্যাপন সীমাবদ্ধ রাখার জন্য খুব বেশি দেরি হয়ে গিয়েছিল: এই উদ্যাপন মুক্তভাবে পুনরুত্থান-উৎসবের সাথে জড়িত করা হয়েছিল, এবং গ্রীক ও ল্যাটিন খ্রীষ্টজগতের রীতিনীতি অনুযায়ী একটি অস্পষ্ট ধারণা গড়ে উঠেছিল।”—যাজকবর্গের যুগ (ইংরাজি), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০২.
বর্তমান সম্বন্ধে কী?
‘এত বছর পর,’ আপনি হয়ত জিজ্ঞাসা করতে পারেন, ‘স্মরণার্থক সভা কোন্ দিনে পালন করা উচিত, তার কি কোন অর্থ আছে?’ হ্যাঁ, আছে। ক্ষমতা লাভের আশা নিয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিরা পরিবর্তন করেছিলেন। যীশু খ্রীষ্টকে মেনে চলার পরিবর্তে লোকেরা তাদের নিজেদের ধারণা অনুযায়ী চলেছিল। প্রেরিত পৌলের এই সাবধানবাণী স্পষ্টতই পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল: “আমি জানি, আমি গেলে পর দুরন্ত কেন্দুয়ারা তোমাদের [খ্রীষ্টানদের] মধ্যে প্রবেশ করিবে, পালের প্রতি মমতা করিবে না; এবং তোমাদের মধ্য হইতেও কোন কোন লোক উঠিয়া শিষ্যদিগকে আপনাদের পশ্চাৎ টানিয়া লইবার জন্য বিপরীত কথা কহিবে।”—প্রেরিত ২০:২৯, ৩০.
বাধ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উদ্যাপন করার জন্য যীশু মাত্র একটি উৎসব খ্রীষ্টানদের দিয়েছিলেন। বাইবেলে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা আছে কখন এবং কিভাবে তা উদ্যাপন করতে হবে। তা পরিবর্তন করার অধিকার কার আছে? প্রারম্ভিক কোয়ার্টোডেসিমানেরা এই বিষয়ে বশ্যতা স্বীকার করার পরিবর্তে নির্যাতন এবং বহিষ্কৃত হওয়া সহ্য করেছিলেন।
আপনি হয়ত জানতে আগ্রহী হবেন যে পৃথিবীতে এখনও কিছু খ্রীষ্টান আছে যারা যীশুর ইচ্ছাকে সম্মান করেন এবং তাঁর মৃত্যুর স্মরণার্থক সভা তিনি যেদিন বলেছেন, সেইদিন পালন করেন। এই বছর সারা পৃথিবীতে শনিবার, মার্চ ২৬ তারিখে সন্ধ্যা ছটার পরে, যিহোবার সাক্ষীরা তাদের কিংডম হলগুলিতে একত্রিত হবেন—যখন ১৪ই নিশান শুরু হবে। তারপরে তারা ঠিক তাই করবেন যা এই অর্থপূর্ণ সময়ে যীশু করতে বলেছেন। তাদের সাথে প্রভুর সান্ধ্যভোজ পালন করুন না কেন? উপস্থিত থাকার মাধ্যমে, আপনিও যীশু খ্রীষ্টের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে পারেন।
[পাদটীকাগুলো]
a নিশান, যিহূদী বছরের প্রথম মাস, শুরু হত অমাবস্যা চাঁদের প্রথম আবির্ভাবের সাথে। তাই, নিশান ১৪ সব সময়েই পূর্ণিমাতেই এসেছে।
[৬ পৃষ্ঠার বাক্স]
“সেই মূল্যবান মুক্তির মূল্য”
যীশু খ্রীষ্টের দেওয়া মুক্তির মূল্য একটি মতবাদের থেকেও আরও অনেক বেশি কিছু। যীশু নিজের সম্বন্ধে বলেছিলেন: “মনুষ্যপুত্ত্রও পরিচর্য্যা পাইতে আসেন নাই, কিন্তু পরিচর্য্যা করিতে এবং অনেকের পরিবর্ত্তে আপন প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দিতে আসিয়াছেন।” (মার্ক ১০:৪৫) তিনি আরও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন: “ঈশ্বর জগৎকে [মানবজাতিকে] এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্ত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” (যোহন ৩:১৬) মৃতদের জন্য, মুক্তির মূল্য পুনরুত্থানের এবং অনন্ত জীবন পাওয়ার পথ করে দেয়।—যোহন ৫:২৮, ২৯.
যীশু খ্রীষ্টের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৃত্যু, প্রভুর সান্ধ্য ভোজের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। তাঁর বলিদানের দ্বারা অনেক কিছু সম্পন্ন করা হয়েছে! একজন মহিলা, যিনি ঈশ্বর-ভক্ত পিতামাতার কাছে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন এবং যিনি বহু দশক ধরে ঈশ্বরের সত্যে চলেছেন, তিনি এই কথাগুলির মাধ্যমে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন:
“আমরা স্মরণার্থক সভার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। প্রতি বছর এটি আরও বেশি বিশিষ্ট হয়ে ওঠে। আমার মনে আছে যে ২০ বছর আগে, সমাধিগৃহে দাঁড়িয়ে আমার প্রিয় পিতার দিকে তাকিয়ে মুক্তির মূল্যের প্রতি প্রকৃত আন্তরিক উপলব্ধিবোধ জেগে উঠেছিল। তার আগে এটি শুধুমাত্র একটি বইতে পড়া বিষয় ছিল। ও, আমি সবকটি শাস্ত্রপদ এবং কিভাবে সেগুলি ব্যাখ্যা করতে হয় তা জানতাম! কিন্তু যখন আমি মৃত্যুর কঠোর বাস্তব উপলব্ধি করি, একমাত্র তখনই সেই মূল্যবান বলিদানের মাধ্যমে আমাদের জন্য যা সম্ভব হবে সেইজন্য আমার হৃদয় আনন্দিত হয়ে উঠেছিল।”