প্রভুর সান্ধ্যভোজ কেন আপনার জন্য অর্থ রাখে
যীশু খ্রীষ্ট তাঁর মানব জীবনের শেষ রাত্রিতে প্রভুর সান্ধ্যভোজ প্রবর্তন করেন। সেটি হল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা, মার্চ ৩১, এবং শুক্রবার দুপুরবেলা, এপ্রিল ১ তারিখে যীশু মৃত্যুবরণ করেন। যেহেতু যিহূদী ক্যালেন্ডারে দিনগুলি হয় একটি সন্ধ্যা থেকে অপর এক সন্ধ্যা অবধি, তাই প্রভুর সান্ধ্যভোজ ও যীশুর মৃত্যু উভয়ই নিসান ১৪, সা.শ. ৩৩ সালে ঘটে।
যীশু কেন এই ভোজটি প্রবর্তন করেন? তাঁর ব্যবহৃত রুটি ও দ্রাক্ষারসের বিশিষ্টতা কী? কাদের অংশ নেওয়া উচিৎ? কতবার এই ভোজটি উদ্যাপন করা দরকার? এবং কিভাবে সেটি আপনার জন্য এক অর্থ রাখতে পারে?
কেন প্রবর্তন করা হয়?
প্রভুর সান্ধ্যভোজ সম্বন্ধে যীশু তাঁর প্রেরিতদের বলেন: “আমার স্মরণার্থে ইহা করিও।” অপর একটি অনুবাদকরণ অনুসারে তিনি বলেন: “আমার স্মারক রূপে ইহা করিও।” (১ করিন্থীয় ১১:২৪; দ্যা নিউ ইংলিশ বাইবেল) প্রকৃতপক্ষে, প্রভুর সান্ধ্যভোজকে সাধারণত খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মারক বলা হয়।
যীশু এক আনুগত্য-রক্ষাকারী, যিহোবার সার্বভৌমত্ব উত্তোলনকারীরূপে মৃত্যুবরণ করেন ও ফলে শয়তানকে মিথ্যা পরিহাসক রূপে প্রমাণ করেন, যে দাবি করে যে সৎ মানুষেরা ঈশ্বরকে সেবা করে শুধুমাত্র স্বার্থপর উদ্দেশ্যের জন্য। (ইয়োব ২:১-৫) তাঁর মৃত্যু ঈশ্বরের হৃদয়কে আনন্দিত করে।—হিতোপদেশ ২৭:১১.
সিদ্ধ মানবরূপে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে, যীশু ‘অনেকের পরিবর্ত্তে তাঁর প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দেন।’ (মথি ২০:২৮) ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করার জন্য প্রথম মানব, সিদ্ধ মানব-জীবন ও তার প্রত্যাশাসকল হারায়। কিন্তু “ঈশ্বর [মানবজাতির] জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্ত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” (যোহন ৩:১৬) হ্যাঁ, ‘পাপের বেতন মৃত্যু; কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহ-দান যীশু খ্রীষ্টতে অনন্ত জীবন।’—রোমীয় ৬:২৩.
“প্রভু হইতে শিক্ষা পাইয়াছি”
খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মৃতিরক্ষার উপর প্রেরিত পৌলের কথাগুলি আলোকপাত করে: “আমি প্রভু হইতে এই শিক্ষা পাইয়াছি এবং তোমাদিগকে সমর্পণও করিয়াছি যে, প্রভু যীশু যে রাত্রিতে সমর্পিত হন, সেই রাত্রিতে তিনি রুটী লইলেন, এবং ধন্যবাদপূর্ব্বক ভাঙ্গিলেন, ও কহিলেন, ‘ইহা আমার শরীর, ইহা তোমাদের জন্য; আমার স্মরণার্থে ইহা করিও’। সেই প্রকারে তিনি ভোজনের পর পানপাত্রও লইয়া কহিলেন, ‘এই পানপাত্র আমার রক্তে নূতন নিয়ম; তোমরা যত বার পান করিবে, আমার স্মরণার্থে ইহা করিও’। কারণ যত বার তোমরা এই রুটী ভোজন কর, এবং এই পানপাত্রে পান কর, তত বার প্রভুর মৃত্যু প্রচার করিয়া থাক, যে পর্য্যন্ত তিনি না আইসেন।”—১ করিন্থীয় ১১:২৩-২৬.
যেহেতু পৌল নিসান ১৪, সা.শ. ৩৩ সালে, যীশু ও তাঁর ১১ জন শিষ্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন না, তাই এই তথ্যটি প্রকৃতপক্ষে অনুপ্রাণীত প্রকাশের মাধ্যমে “প্রভু হইতে শিক্ষা” পাওয়া। যিহূদী ধর্মীয় শত্রুরা যারা খ্রীষ্টের প্রাণবধ করতে রোমীয়দের প্ররোচিত করে তাদের কাছে, যিহূদার দ্বারা ‘যে রাত্রিতে তিনি সমর্পিত হবেন’ সেই রাত্রিতে যীশু এই স্মৃতিচারণাটি প্রবর্তন করেন। যাদের এই প্রতীকস্বরূপ রুটি ও দ্রাক্ষারস গ্রহণ করার অধিকার আছে তারা তাঁর স্মরণার্থে তা গ্রহণ করতে পারে।
কতবার সেটি পালন করা যেতে পারে?
পৌলের এই বাক্যগুলির অর্থ কী যা বলে: “যত বার তোমরা এই রুটী ভোজন কর, এবং এই পানপাত্রে পান কর, তত বার প্রভুর মৃত্যু প্রচার করিয়া থাক, যে পর্য্যন্ত তিনি না আইসেন।”? বিশ্বস্ত অভিষিক্ত খ্রীষ্টীয়গণ তাদের মৃত্যু পর্য্যন্ত “বহুবার” স্মরণার্থের এই প্রতীকগুলি গ্রহণ করতে পারেন, এবং পরবর্তীকালে তারা স্বর্গীয় জীবনে পুনরুত্থিত হবেন। ফলে তারা যীশুর বলিদানের, যিহোবা যে ব্যবস্থা করেছেন তার প্রতি তাদের বিশ্বাস ঈশ্বর ও জগতের সম্মুখে বহুবার ঘোষণা করেন। কত দিন পর্যন্ত? “যে পর্য্যন্ত না তিনি আইসেন,” পৌল বলেন, প্রকৃতপক্ষে এর অর্থ হল এই উদ্যাপন ক্রমাগত চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁর ‘উপস্থিতির’ সময়ে অভিষিক্ত অনুগামীদের পুনরুত্থানের মাধ্যমে স্বর্গে গ্রহণ করার জন্য যীশুর আগমন হয়। (১ থিষলনীকীয় ৪:১৪-১৭) এটি ১১ জন বিশ্বস্ত প্রেরিতের প্রতি খ্রীষ্টের বাক্যগুলির সাথে সামঞ্জস্য রাখে: “আমি যখন যাই ও তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করি, তখন পুনর্ব্বার আসিব, এবং আমার নিকটে তোমাদিগকে লইয়া যাইব; যেন, আমি যেখানে থাকি, তোমরাও সেই খানে থাক।”—যোহন ১৪:৩.
খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মৃতিচারণা কী প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক রূপে করা দরকার? প্রভুর সান্ধ্যভোজ যীশুই প্রবর্তন করেন এবং নিস্তার পর্বের দিনে নিহত হন, যেটি হল ইস্রায়েলীয়দের মিশরের বন্দীদশা থেকে মুক্তির স্মৃতিচারণা। প্রকৃতপক্ষে তাঁকে “নিস্তারপর্ব্বীয় . . . খ্রীষ্ট” বলা হয় কারণ তিনি হলেন সেই মেষশাবক যাকে খ্রীষ্টীয়দের জন্য বলিদান করা হয়। (১ করিন্থীয় ৫:৭) নিস্তারপর্ব বছরে মাত্র একবার উদ্যাপন করা হত, নিসান ১৪ তারিখে। (যাত্রাপুস্তক ১২:৬, ১৪; লেবীয় পুস্তক ২৩:৫) এটি ইঙ্গিত করে যে, যতবার নিস্তারপর্ব পালন করা হত ততবারই যীশুর মৃত্যুর স্মৃতিচারণা করা দরকার—বাৎসরিকভাবে করা উচিৎ, দৈনিকভাবে অথবা সাপ্তাহিকরূপে নয়।
বহু শতাব্দীব্যাপী নামধারী খ্রীষ্টীয়েরা বছরে একবার যীশুর মৃত্যুর স্মৃতিচারণা করত। যেহেতু তারা তা নিসান ১৪ তারিখে করত তাই তাদের কোয়ারটোডেসিমান্ বলা হত, এর অর্থ হল “চতুর্দশ তারিখ পালনকারী।” এদের সম্বন্ধে ঐতিহাসিক জে. এল. ফন্ মোস্হাইম্ লেখেন: “এই পবিত্র ভোজটি যা হল প্রভুর সান্ধ্যভোজ ও যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মারক তা উদ্যাপন করতে এশিয়া মাইনরের খ্রীষ্টীয়গণ অভ্যস্থ ছিল, সেই একই সময়ে যখন যিহূদীরা তাদের নিস্তারপর্বের মেষের মাংস খেত, অর্থাৎ প্রথম মাসের [নিসান] সেই চোদ্দতম দিনের সন্ধ্যাবেলা। . . . যেমন তারা নিয়ম অনুসরণ করত ঠিক তেমনই খ্রীষ্টের উদাহরণ অনুসরণ করতে তারা বাধ্য মনে করত।
প্রতীকগুলির বৈশিষ্ট্য
পৌল বলেন যে যীশু “রুটী লইলেন ও ধন্যবাদপূর্ব্বক ভাঙ্গিলেন।” খমির (অথবা ইস্ট) না মিশিয়ে, আটা ও জল দিয়ে তৈরী মচমচে সেই রুটি খাওয়ার জন্য ভাঙ্গতে হত। বাইবেলে প্রতীক হিসাবে খমির, পাপ বা কলুষতাকে চিহ্নিত করে। মণ্ডলী থেকে এক অনৈতিক ব্যক্তিকে বহিষ্কার করতে করিন্থীয় খ্রীষ্টীয়দের উৎসাহ দিতে গিয়ে পৌল বলেন: “তোমরা কি জান না যে, অল্প তাড়ী সূজীর সমস্ত তাল তাড়ীময় করিয়া ফেলে। পুরাতন তাড়ী বাহির করিয়া দেও; যেন তোমরা নূতন তাল হইতে পার—তোমরা ত তাড়ীশূন্য। কারণ আমাদের নিস্তারপর্ব্বীয় মেষশাবক বলীকৃত হইয়াছেন, তিনি খ্রীষ্ট। অতএব আইস, আমরা পুরাতন তাড়ী দিয়া নয়, হিংসা ও দুষ্টতার তাড়ী দিয়া নয়, কিন্তু সরলতা ও সত্যশীলতার তাড়ীশূন্য রুটী দিয়া পর্ব্বটি পালন করি।” (১ করিন্থীয় ৫:৬-৮) যেমন সামান্য খমির সমস্ত আটার গোলাকে বা কিছু রুটিকে টক করে দেয়, ঠিক তেমন মণ্ডলীও ঈশ্বরের চোখে অশুদ্ধ হয় যদি সেই পাপীর কলুষিত প্রভাব মণ্ডলী থেকে সরান না হয়। তাদের দরকার সেই “তাড়ী” তাদের মধ্য থেকে দূরে সরান, যেমন নিস্তারপর্বের পর তাড়ীশূন্য রুটির পর্বের সময় ইস্রায়েলীয়রা কোন খমির তাদের ঘরে রাখতে পারত না।
তাড়ীশূন্য স্মরণার্থক রুটির সম্বন্ধে যীশু বলেন: “ইহা আমার শরীর, ইহা তোমাদের জন্য।” (১ করিন্থীয় ১১:২৪) রুটি যীশুর সিদ্ধ মাংসিক দেহের প্রতিনিধিত্ব করে, যে সম্বন্ধে পৌল লেখেন: ‘[যীশু] জগতে প্রবেশ করিবার সময়ে বলেন, “তুমি যজ্ঞ ও নৈবেদ্য ইচ্ছা কর নাই, কিন্তু আমার জন্য দেহ রচনা করিয়াছ; হোমে ও পাপার্থক বলিদানে তুমি প্রীত হও নাই। তখন আমি কহিলাম, দেখ, আমি আসিয়াছি,—গ্রন্থখানিতে আমার বিষয় লিখিত আছে—হে ঈশ্বর, যেন তোমার ইচ্ছা পালন করি।” . . . সেই ইচ্ছাক্রমে, যীশু খ্রীষ্টের দেহ একবার উৎসর্গ করণ দ্বারা, আমরা পবিত্রীকৃত হইয়া রহিয়াছি।’ (ইব্রীয় ১০:৫-১০) যীশুর সিদ্ধ মানব দেহ ছিল নিষ্পাপ এবং মানবজাতির মুক্তির মূল্যরূপ বলিদান হিসাবে তা ব্যবহৃত হয়।—ইব্রীয় ৭:২৬.
বিশুদ্ধ লাল দ্রাক্ষারসের উপর প্রার্থনা করার পর, যীশু বলেন: “এই পান পাত্র আমার রক্তে নূতন নিয়ম।” (১ করিন্থীয় ১১:২৫) অপর একটি অনুবাদ বলে: “এই পাত্র হল আমার রক্তে স্থাপিত নবচুক্তি।” (মফ্যাট) ঈশ্বর ও ইস্রায়েল জাতির মধ্যে নিয়ম চুক্তিকে, বলিকৃত বৃষের ও ছাগের রক্ত যেমন বলবৎ করে তেমনই মৃত্যুর সময় যীশুর পাতিত রক্ত নতুন নিয়মকে বলবৎ করে। যেহেতু নতুন নিয়ম সম্বন্ধে উদ্ধৃতি করা হয়েছে তাই তা স্মারকের প্রতীকগুলির উপযুক্ত অংশগ্রহণকারীকে চিহ্নিত করতে আমাদের সাহায্য করে।
কাদের অংশগ্রহণ করা উচিৎ?
নতুন নিয়মে যীশুর অভিষিক্ত অনুসরণকারীগণ, ন্যায়সম্মতরূপে স্মারকের প্রতীক গ্রহণ করে। এই চুক্তিটি ঈশ্বর ও আত্মিক ইস্রায়েলের মধ্যে স্থাপন করা হয়। (যিরমিয় ৩১:৩১-৩৪; গালাতীয় ৬:১৬) কিন্তু অবশেষে এই নতুন নিয়মটি সমস্ত বাধ্য মানবজাতির প্রতি আশীর্বাদ প্রদান করবে, এবং আপনিও সেই আশীর্বাদপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন হতে পারেন।
স্মারকের অংশগ্রহণকারীদের রাজ্যের জন্য ব্যক্তিগত চুক্তিতে থাকা দরকার যেটি যীশু স্থাপন করেছিলেন। এই ভোজটি প্রবর্তন করার সময় যীশু তাঁর বিশ্বস্ত প্রেরিতদের বলেন: “আমার পিতা যেমন আমার জন্য রাজ্য নিরূপণ করিয়াছেন, আমিও তেমনি তোমাদের জন্য এক রাজ্য নিরূপণ করিতেছি।” (লূক ২২:২৯) রাজা দায়ূদের সঙ্গে স্থাপিত ঈশ্বরের সেই রাজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে আগত যীশু খ্রীষ্টকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করায় যিনি স্বর্গীয় রাজ্যে চিরকাল রাজত্ব করবেন। যারা তাঁর সঙ্গে রাজত্ব করবেন সেই ১৪৪,০০০ আত্মিক ইস্রায়েলীয়দের বর্ণনা করা হয়েছে যে তারা মেষশাবক যীশু খ্রীষ্টের সাথে স্বর্গীয় সিয়োন পর্বতে দাঁড়িয়ে আছেন। পুনরুত্থিত হওয়ার পর তারা সহকারী রাজা ও যাজকরূপে খ্রীষ্টের সঙ্গে রাজত্ব করবেন। (২ শমূয়েল ৭:১১-১৬; প্রকাশিত বাক্য ৭:৪; ১৪:১-৪; ২০:৬) কেবলমাত্র যারা নতুন নিয়মে ও যীশুর সাথে ব্যক্তিগত চুক্তিতে আছে তারাই ন্যায়সম্মতরূপে প্রভুর সান্ধ্যভোজের প্রতীক গ্রহণ করতে পারে।
ঈশ্বরের আত্মা অভিষিক্ত ব্যক্তিদের আত্মার সাথে সাক্ষ্য দেয় যে তারা তাঁর সন্তান ও খ্রীষ্টের সহদায়াদ। পৌল লেখেন: “আত্মা আপনিও আমাদের আত্মার সহিত সাক্ষ্য দিতেছেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান। আর যখন সন্তান, তখন দায়াদ, ঈশ্বরের দায়াদ ও খ্রীষ্টের সহদায়াদ—যদি বাস্তবিক আমরা তাঁহার সহিত দুঃখভোগ করি, যেন তাঁহার সহিত প্রতাপান্বিতও হই।” (রোমীয় ৮:১৬, ১৭) ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা, অথবা সক্রিয় শক্তি, অভিষিক্ত ব্যক্তিদের হৃদয়ে এক আশার সৃষ্টি করে যে তারা স্বর্গীয় জীবনের জন্যই। স্বর্গীয় জীবন সম্বন্ধে যা কিছু শাস্ত্র বলে, তা তারা নিজেদের প্রতি প্রযোজ্য বলে মনে করে এবং সমস্ত পার্থিব বস্তু, এমনকি মানব জীবন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ত্যাগ করে যেতেও তারা রাজি থাকে। পরমদেশে পার্থিব জীবন অপূর্ব হলেও তারা সেই আশা রাখেন না। (লূক ২৩:৪৩) মিথ্যা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি ভিত্তি না করে এই সুদৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় স্বর্গীয় আশা, স্মারকের প্রতীকগুলি গ্রহণ করতে তাদের অধিকার দেয়।
যদি কোন ব্যক্তির সেই আশা না থাকে এবং সে যদি নিজেকে স্বর্গীয় রাজা ও যাজকরূপে পরিচয় দেয় তাহলে যিহোবা অপ্রসন্ন হবেন। (রোমীয় ৯:১৬; প্রকাশিত বাক্য ২২:৫) ঈশ্বর কোরহকে ধ্বংস করেন, কারণ সে ধৃষ্টতার সাথে যাজকাধিকার গ্রহণ করতে চায়। (যাত্রাপুস্তক ২৮:১; গণনাপুস্তক ১৬:৪-১১, ৩১-৩৫) কিন্তু গভীর আবেগ বা পূর্বের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি যদি এক ব্যক্তিকে ভুল করে স্মারক প্রতীক গ্রহণ করতে পরিচালিত করে তাহলে কী? তাহলে তার গ্রহণ করা বন্ধ করে দেওয়া এবং ঈশ্বরের কাছে নম্রভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা দরকার।—গীতসংহিতা ১৯:১৩.
আপনি কিরূপে প্রভাবিত হন
পৃথিবীতে অনন্ত জীবন পেতে ও মুক্তির মূল্যস্বরূপ যীশুর বলিদানের উপকার লাভ করতে একজনের স্মারকের প্রতীক গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। উদাহরণস্বরূপ, বাইবেল কোন ইঙ্গিত দেয় না যে অব্রাহাম, সারা, ইস্হাক, রিবিকা, বোয়স, রূৎ এবং দায়ূদের মত ঈশ্বরভীরু ব্যক্তিরা কখনও এই প্রতীক গ্রহণ করবে। কিন্তু তারা এবং অপরেরা, যারা এই পৃথিবীতে অন্তহীন জীবনের আশা করে, তাদের ঈশ্বর ও খ্রীষ্টের প্রতি এবং মুক্তির মূল্যস্বরূপ যীশুর বলিদানের, যিহোবা যে ব্যবস্থা করেছেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। (যোহন ৩:৩৬; ১৪:১) খ্রীষ্টের মৃত্যুর এই বাৎসরিক উদ্যাপন সেই মহা বলিদানের স্মৃতিস্বরূপ।
যীশুর বলিদানের সেই গুরুত্ব প্রদর্শন করা হয় যখন প্রেরিত যোহন বলেন: “তোমাদিগকে এই সকল লিখিতেছি, যেন তোমরা পাপ না কর। আর যদি কেহ পাপ করে, তবে পিতার কাছে আমাদের এক সহায় আছেন, তিনি ধার্ম্মিক যীশু খ্রীষ্ট। আর তিনিই আমাদের পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত, কেবল আমাদের নয়, কিন্তু সমস্ত জগতেরও পাপার্থক।” (১ যোহন ২:১, ২) অভিষিক্ত খ্রীষ্টীয়েরা বলতে পারেন যে যীশু হলেন “[তাদের] পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত।” যাইহোক, তিনি সমস্ত জগতের পাপের জন্যও এক বলিদান, যা এখন অতি সন্নিকটস্থ পরমদেশ পৃথিবীতে বাধ্য মানবজাতির অনন্ত জীবন পাওয়া সম্ভব করবে।
খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মৃতিচারণায় উপস্থিত হয়ে আপনি একটি চিন্তা-উদ্দীপক বাইবেল বক্তৃতা থেকে উপকৃত হবেন। যিহোবা ঈশ্বর ও যীশু খ্রীষ্ট আপনার জন্য কতটা করেছেন সেটি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। ঈশ্বর ও খ্রীষ্ট এবং যীশুর মুক্তির মূল্যস্বরূপ বলিদানের প্রতি যাদের গভীর সম্মান রয়েছে তাদের সঙ্গে সমবেত থেকে আপনি আত্মিকরূপে পুরস্কারপ্রাপ্ত হবেন। এই উপলক্ষ ঈশ্বরের অশেষ দয়া প্রাপ্ত হতে আপনার ইচ্ছাকে দৃঢ় করবে যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে। তাই যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মৃতিচারণা করতে, এপ্রিল ৬, ১৯৯৩ সালে সূর্যাস্তের পর যিহোবার সাক্ষীদের সাথে একত্রিত হতে আমরা আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাই কারণ প্রভুর সান্ধ্যভোজ আপনার জন্য মহান অর্থ রাখতে পারে। (w93 3⁄15)