পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
হিতোপদেশ ৩০:১৯ পদের লেখক কি সত্যই মনে করেন যেভাবে একজন পুরুষ ধূর্তভাবে কোন যুবতীকে প্রলুব্ধ করে তা “অতি আশ্চর্যজনক”? NW.
হিতোপদেশ ৩০:১৯ পদের এটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, যে পদটি, স্বীকার করা উচিৎ, সহজে বোঝা যায় না।
এই পদটির মানে খোঁজার সময়, আমাদের প্রসঙ্গটি উপেক্ষা করলে চলবে না। এই অনুচ্ছেদটির আগে অনুপ্রাণিত লেখক চারটি বিষয়ের তালিকা দিয়েছেন যা কোন এক ভাবে অতৃপ্ত থেকে যায়। (হিতোপদেশ ৩০:১৫, ১৬) তারপর তিনি এই তালিকাটি দিয়েছেন: “তিনটি আমার কাছে অতি আশ্চর্যজনক, চারিটা আমি বুঝিতে পারি না; ঈগল পক্ষীর পথ আকাশে, সর্পের পথ শৈলের উপরে, জাহাজের পথ সমুদ্রের মধ্যস্থলে, পুরুষের পথ যুবতীতে।”—হিতোপদেশ ৩০:১৮, ১৯, NW.
এই চারটি বিষয়ে কি “আশ্চর্যজনক” হতে পারে?
“আশ্চর্যজনক” হয়তো ইতিবাচক অথবা ভাল কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করছে এই ভেবে কিছু পণ্ডিত ব্যাখ্যা দেন যে চারটির প্রত্যেকটি বিষয় ঈশ্বরের সৃষ্টির প্রজ্ঞা প্রদর্শন করে: একটি বিশাল পাখি কিভাবে উড়তে পারে, কিভাবে পা-বিহীন সাপ পাথরের উপর দিয়ে চলে, কিভাবে একটি ভারি জাহাজ উত্তাল সমুদ্রে ভেসে থাকে, এবং কিভাবে একজন শক্তসমর্থ যুবক একজন সুন্দরী যুবতীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করে, আর তারপর তারা একটি অপূর্ব মানবশিশুর জন্ম দেয়। একজন অধ্যাপক এই চারটি বিষয়ের মধ্যে আরেকটি সাদৃশ্য খুঁজে পান, যে প্রত্যেকটি একটি পথে চলে যা সর্বদাই নূতন—ঈগল, সাপ, ও জাহাজ যেখানে চলে সেখানে কোন পথ নেই এবং একটি দম্পতির ভালবাসার নূতনত্বও সেইরকম।
যাইহোক, এই চারটি বিষয় ভাল দিক দিয়ে “আশ্চর্যজনক,” তাদের মধ্যে যে সাদৃশ্য আছে তা ইতিবাচক কিছু সেইজন্য, তা নাও হতে পারে। হিতোপদেশ ৬:১৬-১৯ “যে বস্তু সদাপ্রভুর ঘৃণিত” তার তালিকা দেয়। আর যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, বিবেচিত পদগুলির ঠিক আগে, হিতোপদেশ ৩০:১৫, ১৬ যে বিষয়গুলির বর্ণনা দেয় (পাতাল, বন্ধ্যার জঠর, ভূমি যা জলে তৃপ্ত হয়নি, এবং অগ্নি) তা কখনও “যথেষ্ট হইল” বলে না। অবশ্যই এগুলি আশ্চর্যজনকভাবে ভাল নয়।
হিতোপদেশ ৩০:১৮ পদে যে ইব্রীয় শব্দকে “আশ্চর্যজনক” হিসাবে লেখা হয়েছে তার অর্থ “আলাদা করা, পৃথক করা; পার্থক্য দেখানো, অস্বাভাবিক, আশ্চর্যজনক।” একটি বিষয় ভাল না হয়েও পৃথক, অস্বাভাবিক, অথবা বিস্ময়কর হতে পারে। দানিয়েল ৮:২৩, ২৪ একজন হিংস্র রাজার কথা ভবিষ্যদ্বাণী করে যে “আশ্চর্যরূপে” ধ্বংস করবে এবং “শক্তিমানদিগকে বিনাশ করিবে,” এমনকি পবিত্র প্রজাদেরও।—তুলনা করুন দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:৮; ২৮:৫৯; সখরিয় ৮:৬.
হিতোপদেশ ৩০:১৮, ১৯-এর পরের পদটি হয়তো ইঙ্গিত দিতে পারে যে কি বোঝা কঠিন বলে লেখক মনে করেন। ২০ পদ একজন ব্যভিচারিণী স্ত্রীর কথা উল্লেখ করে যে “খাইয়া মুখ মুছে, আর বলে, আমি অধর্ম্ম করি নাই।” হয়তো গোপনে ও কৌশলে সে পাপ করেছে, কিন্তু যেহেতু তার অপরাধের কোন চিহ্ন ছিল না সে নিজেকে নির্দোষ বলে জাহির করতে পারে।
আগের তালিকাটির সঙ্গে একটি সাদৃশ্য আছে। একটি ঈগল আকাশে ভেসে বেড়ায়, একটি সাপ পাথরের উপরে চলে, ঢেউ ভেঙে একটি জাহাজ চলে—কেউই কোন চিহ্ন রাখে না, আর তিনটির যে কোনটির পথ খুঁজে বার করা দুষ্কর হবে। তিনটির মধ্যে সাধারণ বিষয় যদি এটি হয়, তাহলে চতুর্থটি সম্বন্ধে কি, “পুরুষের পথ যুবতীতে”?
এটিরও চিহ্ন খুঁজে নাও পাওয়া যেতে পারে। একজন যুবক চাতুরি, মধুরভাষা, এবং কৌশল ব্যবহার করে সকলের অলক্ষ্যে একজন নিষ্পাপ কুমারীর ভালবাসা অর্জন করতে পারে। অনভিজ্ঞ হওয়ায়, সে সেই যুবকের প্রতারণা নাও লক্ষ্য করতে পারে। প্রলুব্ধ হওয়ার পরেও সে হয়তো বোঝাতে পারবে না কিভাবে যুবকটি তাকে জয় করেছে; যারা লক্ষ্য করেছিল তাদের পক্ষেও হয়তো বোঝানো কঠিন হবে। তবুও, বহু যুবতী কুশলী প্রলুব্ধকারীদের দ্বারা তাদের সতীত্ব হারিয়েছে। এইরকম চতুর লোকেদের পথ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, তবুও তাদের একটি উদ্দেশ্য থাকে, যেমন উড়ন্ত ঈগল, পিছলে চলা সাপ, ও সমুদ্রে একটি জাহাজের থাকে। প্রলুব্ধকারীদের উদ্দেশ্য যৌন স্বার্থসাধন।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে হিতোপদেশ ৩০:১৮, ১৯ পদের বিষয় সৃষ্টির মধ্যে বৈজ্ঞানিক অথবা যান্ত্রিক বস্তু সম্বন্ধে নয়। বরং, অনুচ্ছেদটি আমাদের একটি নীতিগর্ভ সাবধানবাণী দেয়, যেমন হিতোপদেশ ৭:১-২৭ একজন প্ররোচিকা বারবণিতার বিপদ এড়িয়ে চলা সম্বন্ধে সাবধান করে। হিতোপদেশ ৩০:১৮, ১৯ পদে দেওয়া সাবধানবাণীর প্রতি খ্রীষ্টিয় ভগ্নীরা একভাবে গুরুত্ব দিতে পারে যে পুরুষেরা বাইবেল সম্বন্ধে শিখতে আগ্রহী তাদের সম্বন্ধে সাবধান থেকে। যদি একজন বন্ধুত্বপূর্ণ লোক, এমনকি একজন সহকর্মী, এইরকম আগ্রহ দেখায়, একজন ভগ্নীর উচিৎ তাকে মণ্ডলীর একজন ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া। কোন প্রকৃত আগ্রহ থাকলে সেই ভাই তা সন্তুষ্ট করতে পারবে একজন “পুরুষের পথ যুবতীতে”-এর সঙ্গে যে বিপদ জড়িত আছে তা ছাড়াই। (w92 7/1)