ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ২/১ পৃষ্ঠা ২২-২৬
  • জনসাধারণ্যে ও গৃহে গৃহে শিক্ষা দাও

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • জনসাধারণ্যে ও গৃহে গৃহে শিক্ষা দাও
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • প্রেরিতদের পদ্ধতি
  • ইহার বিকল্প নেই
  • প্রাচীণরা পরিচালনার অগ্রভাগে থাকবেন
  • প্রত্যেকে একজন সাক্ষী
  • ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়া
    ২০০৬ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
  • ঘরে ঘরে পরিচর্যা—কেন এখন গুরুত্বপূর্ণ?
    ২০০৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ
    ২০০৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “সুসমাচার-প্রচারকের কার্য্য কর”
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ২/১ পৃষ্ঠা ২২-২৬

জনসাধারণ্যে ও গৃহে গৃহে শিক্ষা দাও

“আমি পিছাইয়া না গিয়া . . . জনসাধারণ্যে ও গৃহে গৃহে তোমাদের শিক্ষা দিয়াছি।”—প্রেরিত ২০:২০, “বাইংটন.”

১. একজন ক্যাথলিক পাদ্রী গৃহে, গৃহে যিহোবার সাক্ষীদের সফলতা সম্বন্ধে কি বলেন?

“ক্যাথলিকরা তোমরা সুসমাচার নিয়ে দরজায় দরজায় যাও।” এইরূপ একটি শিরোনাম বেরোয় দ্যা প্রভিডেন্স সানডে জার্নাল অক্টোবর ৪, ১৯৮৭ সংখ্যায়। এই খবরের কাগজ রিপোর্ট করে যে এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হল “তাদের গির্জ্জার কিছু নিস্ক্রিয় ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় গির্জ্জার জীবনে ফেরৎ নিয়ে আসা।” পাদ্রী জন আলার্ড, যিনি ইভানজেলাইজেসন ডায়োসিস অফ প্রভিডেন্স-এর ডাইরেক্টর, তিনি এই মন্তব্য করেন: “এই ব্যাপারে অনেক, উপহাস হবে লোকে বলবে, ‘দেখ ওরা যিহোবার সাক্ষীদের মত যাচ্ছে।’ কিন্তু যিহোবার সাক্ষীরা তাদের কাজে ফলপ্রসূ হয়েছে, হয়নি কি? আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে আপনি তাদের যে কোন কিংডম হলে যান [রোড আইল্যাণ্ডে, ইউ. এস. এ.,] দেখবেন তা পূর্বের ক্যাথলিকদের দ্বারা পূর্ণ।”

২. সঠিকভাবে কি প্রশ্ন উঠে?

২ হাঁ, যিহোবার সাক্ষীরা খুব সুপরিচিত তাদের গৃহে গৃহে কাজের জন্য। কিন্তু কেন তারা গৃহে গৃহে প্রচার কাজে যায়?

প্রেরিতদের পদ্ধতি

৩. (ক) যীশু খ্রীষ্ট তার শিষ্যদের কি কর্ম্মভার দেন? (খ) কি প্রধাণ উপায়ে খ্রীষ্টের অনুগামীরা তাদের কর্ম্মভার সম্পাদন করে?

৩ যীশু খ্রীষ্ট তার অনুগামীদের এই অর্থপূর্ণ কর্মভার দেন: “অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর; আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও। আর দেখ, আমিই যুগান্ত পর্য্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।” (মথি ২৮:১৯, ২০) বিশেষ ভাবে এই কাজ করা হবে তা স্পষ্ট হয় ৩৩ সাধারণ শতাব্দীতে পঞ্চাসত্তমির দিনের ঠিক পরে। “আর তাহারা প্রতিদিন ধর্ম্মধামে ও গৃহে গৃহে উপদেশ দিতেন, এবং যীশুই যে খ্রীষ্ট তাহা প্রচার করিতেন।” (প্রেরিত ৫:৪২, NW) ২০ বৎসর পরেও প্রেরিত পৌল গৃহে-গৃহে প্রচারে অংশ নিচ্ছিলেন, কারণ তিনি ইফিষীয়ের প্রাচীণদের মনে করিয়ে দেন: “কোন হিতকথা গোপন না করিয়া তোমাদিগকে সকলই জানাইতে, এবং সাধারণ্যে ও ঘরে ঘরে শিক্ষা দিতে, সঙ্কুচিত হই নাই।”—প্রেরিত ২০:২০.

৪. কেন আমরা বলতে পারি যে প্রেরিত ৫:৪২ ও প্রেরিত ২০:২০ পদের যীশুর অনুগামীদের প্রচার কাজ গৃহে গৃহে ব্যাপৃত ছিল?

৪ প্রেরিত ৫:৪২ পদে যে কথাগুলি অনুবাদ করা হয়েছে “গৃহে গৃহে” তা হল কাট‘ ওই‘কন থেকে। এখানে কা.টা’ ব্যবহার করা হয়েছে “বিতরণ” করার অর্থে। সেই কারণে, শিষ্যরা যে প্রচার করবে তা বিতরণ করবে এক গৃহ থেকে আরেক গৃহে। প্রেরিত ২০:২০ পদের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে র‌্যানডল্ফ ও. ইগার লেখেন যে পৌল শিক্ষা দেন “উভয় ক্ষেত্রে জনসাধারণ্যে [ডিমো·সি‘য়া] এবং গৃহে গৃহে (বিতরণ [কা·টা‘] কর্ম্মকারক অর্থে)। পৌল ইফিষীয়তে তিন বৎসর ব্যায় করেন। তিনি সেখানকার সব ঘরে যান নয়ত সেখানকার সব লোকের কাছে প্রচার করেন (২৬ পদ)। এখানে আমরা শাস্ত্রীয় পরওয়ানা পাই শিষ্যকরণের এবং জনসাধারণ্যে সভার জন্য।”

৫. প্রেরিত ২০:২০ পদে, কেন পৌল কেবল সামাজিক পরিদর্শন বা পালকের পরিদর্শনের কথা বলছিলেন না?

৫ একইভাবে কা·টা‘ কথা পাওয়া যায় লূক ৮:১ পদে, সেখানে বলা হয় যে যীশু “নগরে নগরে ও গ্রামে গ্রামে” ভ্রমণ করিলেন। পৌল কাট‘ ওই‘কাউস ব্যবহার করেন বহুবচনে প্রেরিত ২০:২০ পদে। কোন কোন বাইবেল অনুবাদ এখানে পড়ে “তোমাদের গৃহে।” কিন্তু প্রেরিত এখানে কেবল সামাজিক পরিদর্শণের কথা বলছিলেন না বা প্রাচীণরা যে পালকের কাজ করেন সহ বিশ্বাসীদের বাড়ি গিয়ে তার কথা বলছিলেন না। তার পরের কথাগুলি দেখায় যে তিনি গৃহে-গৃহে প্রচারের কথা বলছিলেন যারা অবিশ্বাসী তাদের মধ্যে, কারণ তিনি বলেন: “ঈশ্বরের প্রতি মনপরিবর্ত্তন এবং আমাদের প্রভু যীশুর প্রতি বিশ্বাস বিষয়ে যিহুদী ও গ্রীকদের নিকটে সাক্ষ্য দিয়া আসিতেছি।” (প্রেরিত ২০:২১) সহ বিশ্বাসীরা তারা ইতিমধ্যে মনপরিবর্ত্তন করেছিল এবং যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। সেই কারণে, প্রেরিত ৫:৪২ এবং প্রেরিত ২০:২০ পদের উভয় জায়গায় যে প্রচারের কথা উল্লেখ আছে “গৃহে গৃহের” বা দরজায় দরজায় তাহা হল অবিশ্বাসীদের কাছে প্রচার।

ইহার বিকল্প নেই

৬. ইফিষীয়তে পৌল যে প্রচার কাজ করেছিলেন সেই সম্বন্ধে কি বলা যেতে পারে?

৬ প্রেরিত ২০:২০ পদে পৌলের কথার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে, ১৮৪৪ সালে এবিয়েল এবোট লিভারমোর লেখেন: “তিনি কেবল জনসাধারণ্যে বক্তৃতা দিয়ে, এবং অন্য মাধ্যম ব্যবহার করে ক্ষান্ত হননি, কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে উৎসাহের সাথে তার কাজ করে যান, গৃহে গৃহে, এবং বাস্তবে তিনি গৃহে স্বর্গের সেই সত্য ইফিষীয়দের অন্তরে পৌছে দেন।” আরও সম্প্রতিকালে লক্ষ্য করা হয়েছে: “গৃহে গৃহে প্রচার তাহা প্রথম থেকে হয়ে আসছে ও প্রথম শতাব্দী থেকে খীষ্টানদের সনাক্ত করে (প্রেরিত ২:৪৬; ৫:৪২) . . . [পৌল] তার যে কাজ তা পূর্ণরূপে তিনি পালন করেন যিহুদী ও পরজাতিয়দের কাছে ইফিষীয়তে, আর তারা যদি তাদের পাপে বিনষ্ট হয় তাহলে তাদের বলার কিছুই নেই।”—দ্যা ওয়েসলিয়ান বাইবেল কমেন্টারি, ভলিউম ৪, পৃষ্ঠা ৬৪২-৩.

৭. কেন বলা যেতে পারে যে ঈশ্বর যিহোবার সাক্ষীদের গৃহে গৃহে প্রচারের এই প্রয়াসকে সমর্থন করেন?

৭ জনসাধারণে বক্তৃতা দেওয়ার স্থান আছে সুসমাচার প্রচারে, কিন্তু ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করার ইহা বিকল্প নয়। এই সম্বন্ধে বলতে গিয়ে, পণ্ডিত যোষেফ এডিসন এলেক্সজ্যাণ্ডার বলেন: “গির্জ্জা এখন অবধি কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি যা গির্জ্জা ও ঘরে ঘরে প্রচারের যে প্রভাব তার স্থান নিতে পারে।” পণ্ডিত ও. এ. হিলস্‌ বিষয়টিকে এইভাবে রাখেন: “জনসাধারণ্যে ও গৃহে-গৃহে প্রচার দুইটি হাতে হাত মিলিয়ে চলে।” যিহোবার সাক্ষীরা তাদের যে সাপ্তাহিক সভাগুলি হয় তাতে উপদেশ দিয়ে থাকেন জনসাধারণ্যে বক্তৃতার মাধ্যমে। তাদের কাছে পরিষ্কার প্রমাণ আছে যে প্রেরিতরা যে পদ্ধতি অনুকরণ করেছিলেন বাইবেলের সত্য ছড়ানোর জন্য গৃহে গৃহে গিয়ে তাও খুব কার্য্যকারী। তারা এও জানে যে যিহোবা ইহা অনুমোদন করেন, কারণ এইরূপ প্রচার কার্য্যে রত হওয়ার দ্বারা, সহস্র সহস্র ব্যক্তিরা স্রোতের ন্যায় তার উচ্চিকৃত উপাসনায় আসছে।—যিশাইয় ২:১-৪; ৬০:৮, ২২.

৮. (ক) কেন ঘরে ঘরে প্রচার এত কার্য্যকারী সেই সম্বন্ধে কি বলা হয়েছে? (খ) কি করে যিহোবার সাক্ষীরা ঘরের দোরগোড়ায় যে প্রচার করে তা পৌলের প্রচারের সাথে জড়িত?

৮ আরেক কর্ত্তৃপক্ষ বলেন: “লোকেরা তাদের ঘরের দরজায় যে শিক্ষা দেওয়া হয় তা বেশী মনে রাখে গির্জ্জায় দেওয়া শিক্ষা থেকে।” পৌল তিনি নিয়মিত ঘরের দরজাগুলিতে ছিলেন, এবং একজন উত্তম পরিচারকের উদাহরণ স্থাপন করেন। “তিনি কেবল সমাজগৃহে ও চকে শিক্ষা দিয়ে ক্ষান্ত হননি,” লেখেন বাইবেলের পণ্ডিত এডউইন. ডব্লু. রাইস। “তিনি সর্বদা উৎসাহী ছিলেন ‘শিক্ষা দিতে’ ‘গৃহে গৃহে।’ ইহা ছিল ঘরে-ঘরে, হাতাহাতি, সামনা-সামনি লড়াই মন্দের সাথে, যাতে লোকদের খ্রীষ্টের কাছে ফিরিয়ে আনা যায়, যা তিনি করেন ইফিষীয়তে।” যিহোবার সাক্ষীরা উপলব্ধি করে যে ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি কথা বলা তাদের ঘরের দরজায় হচ্ছে সব থেকে কার্য্যকারী। আরও, তারা পুনঃসাক্ষাত করে এবং আনন্দিত তাদেরও পরিদর্শন করতে যারা বিপক্ষকারী যদি তারা সুযোগ দেয় যুক্তিযুক্তভাবে তাদের সাথে আলোচনা করতে দিতে। ঠিক পৌলের মত! যার সম্বন্ধে, এফ. এন. পেলোবেট লেখেন: “পৌলের কাজ কেবল সভায় ছিল না। কোন সন্দেহ নেই যে তিনি অনেক লোকদের ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করেন তাদের গৃহে যখন তিনি জানতে পারেন এমন কোন ব্যক্তির বিষয় যে খোঁজ করছে, অথবা আগ্রহী এমনকি বিপক্ষকারী কিন্তু ধর্ম্মের বিষয় আলোচনা করতে আগ্রহী।”

প্রাচীণরা পরিচালনার অগ্রভাগে থাকবেন

৯. পৌল তার সহ প্রাচীণদের জন্য কি উদাহরণ স্থাপন করেন?

৯ পৌল তার সহ প্রাচীণদের জন্য কি উদাহরণ স্থাপন করেন? তিনি দেখান যে তাদের সুসমাচারের সাহসী ও পরিশ্রান্তিহীন ঘোষক হতে হবে। ১৮৭৯ সালে জে. গ্লেন্টওয়ারথ বাটলার লেখেন: “[ইফিষীয়ের প্রাচীণরা] জানত যে [পৌলের] প্রচারে তিনি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও বিপদ সম্বন্ধে চিন্তা করেননি; যে তিনি কিছুই যা সত্যের জন্য প্রয়োজন তা সরিয়ে রেখে দেননি; যে তিনি কোন বিশেষ জনপ্রিয়তা, অথবা সত্যের কোন বিশেষ অসাধারণ বিষয় তুলে ধরেননি, কিন্তু তিনি অনুরোধ করেন এক এবং সকল যা ছিল উপকারজনক ‘ব্যবহার করতে ও উপকার পেতে,’ অথবা ঈশ্বরের সমস্ত উপদেশ গড়ে তোলার জন্য যা ছিল শুদ্ধ ও সম্পূর্ণ! আর এই বিশ্বস্ত ‘প্রদর্শন’ ও ব্যগ্র ‘শিক্ষা’ খ্রীষ্টীয় সত্যের ছিল তার শিক্ষা দেবার পদ্ধতি, কেবল টাইরিনিয়াসের স্কুলে ও অন্যান্য শিষ্যদের গৃহতে নয়, কিন্তু যে কোন ঘরে তিনি যেতে পারেন। ঘরে ঘরে, এবং প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে, তিনি দিনের পর দিন খ্রীষ্টের মত ইচ্ছা দেখিয়ে এই আনন্দের সুসমাচার প্রচার করেন। সব জাতির কাছে সব বর্ণের কাছে, শত্রুভাবাপন্ন যিহুদীদের কাছে ও অবজ্ঞাপূর্ণ গ্রীকদের কাছে, তার একটি বিষয় ছিল—যা হল, তিনি ভালভাবে ব্যাখ্যা করেন, যার মধ্যে জড়িত ছিল রক্ষাকারী সেই সত্যগুলি—পশ্চাতাপ ঈশ্বরের প্রতি, ও বিশ্বাস আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রতি।”

১০, ১১. (ক) পৌল খ্রীষ্টীয় পরিচর্য্যা সম্বন্ধে, ইফিষীয় প্রাচীণদের কাছ থেকে কি আশা করেছিলেন? (খ) পৌলের মত, কি ধরণের প্রচার কাজে যিহোবার সাক্ষীরা, যার মধ্যে প্রাচীণরাও অন্তর্ভুক্ত, অংশ নেয়?

১০ সংক্ষেপে, তাহলে, পৌল ইফিষীয়ের প্রাচীণরা কি করে চেয়েছিলেন? পণ্ডিত ই. এস. .ইয়াং এই ভাবে প্রেরিতের কথার শব্দান্তর করেন: “আমি কেবল জনসাধারণ্যে কথা বলিনি, কিন্তু পরিশ্রম করেছি গৃহে গৃহে, সব স্তরের কাছে, যিহুদী ও পরজাতিয়দের কাছে। আমার প্রচারের যে বিষয় ছিল তা হল ‘ঈশ্বরের কাছে পশ্চাতাপ ও আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস।’” পৌলের কথা আরেকভাবে বলতে গিয়ে, ডব্লু. বি. রিলে লেখেন: “সোজা বলতে গেলে: ‘আমি চাই তোমরা তা চালিয়ে যাও যা আমি শুরু করেছি, আমি যা শিক্ষা দিয়েছি তা কর ও শিক্ষা দাও এবং বাধা দাও আমি যেমন দিয়েছি; জনসাধারণ্যে ও ঘরে ঘরে শিক্ষা দাও, যাতে যিহুদী ও গ্রীকদের কাছে পশ্চাতাপ ঈশ্বরের কাছে ঘোষণা কর ও বিশ্বাস প্রভু যীশু খ্রীষ্টে, কারণ এইগুলি হল মূল তথ্য!’”

১১ ইহা স্পষ্ট হয় যে প্রেরিত ২০ অধ্যায়, পৌল তার সহ প্রাচীণদের দেখান যে তাদের কাছে চাহিদা ছিল তারা যেন গৃহে-গৃহে প্রচারে যিহোবার সাক্ষী হন। এই ব্যাপারে প্রথম-শতাব্দীর প্রাচীণরা যেন অগ্রে থাকে, যাতে মণ্ডলীর অন্য সভ্যদের জন্য তারা ভাল উদাহরণ স্থাপন করতে পারে। (তুলনা করুন ইব্রীয় ১৩:১৭) পৌলের মত, যিহোবার সাক্ষীরা আজ ঘরে ঘরে প্রচার করে, সর্ব জাতির লোকদের ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে বলে, যেন তারা তাঁর প্রতি ফেরে, ও যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস স্থাপন করে। (মার্ক ১৩:১০; লূক ২৪:৪৫-৪৮) আর এইরূপ ঘরে-ঘরে প্রচার কার্য্যে, আশা করা হয় মনোনীত প্রাচীণরা নব্যদিনের সাক্ষীদের মধ্যে পরিচালনার অগ্রভাগে থাকবেন।—প্রেরিত ২০:২৮.

১২. পূর্বের কিছু প্রাচীণরা কি করতে রাজী হননি, কিন্তু কোন কাজে আজ প্রাচীণরা অগ্রভাগে থাকেন?

১২ ১৮৭৯ সাল থেকে, চার্লস টেজ রাসেল তিনি ছাপাতে শুরু করেন জায়েনস ওয়াচ টাওয়ার অ্যাণ্ড হেরল্ড অফ ক্রাইস্টস প্রেজেনস্‌, যাহা এখন নামকরণ করা হয়েছে দ্যা ওয়াচটাওয়ার এনাউনসিং যিহোবাস কিংডম। রাসেল ও তার অন্য সাথীরা রাজ্যের সংবাদ ঠিক প্রেরিতদের মত ঘোষণা করতে থাকেন। পরের বৎসরগুলিতে, অবস্য, মণ্ডলীর কিছু প্রাচীনরা তাদের এই প্রচারের যে দায়িত্ব তা পালন করেনি। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাক্ষী লেখেন: “সব ঠিক চলছিল সেই ঘোষণা পর্য্যন্ত যখন বলা হয় সকলে যেন অংশ গ্রহণ করে প্রচার কাজে বিশেষ করে গৃহে-গৃহে সাহিত্যাদি নিয়ে এবং বিশেষ করে রবিবার দিন—ইহা ঘটে ১৯২৭ সালে। আমাদের যারা প্রাচীণরা ছিলেন তারা আমাদের সম্পূর্ণ দলকে নিরুৎসাহ করে এইরূপ কাজে অংশ নিতে।” যথা সময়ে, যে ব্যক্তিরা ঘরে-ঘরে প্রচার কাজে অংশ নেবে না তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না প্রাচীণ হিসাবে সেবা করার। আজ, সেইরূপ, যারা প্রাচীণ ও পরিচারক দাসরূপে সেবা করছে তাদের কাছ থেকে আশা করা হয় যেন তারা গৃহে-গৃহে প্রচারে ও অন্য খ্রীষ্টীয় পরিচর্য্যায় অগ্রভাগে অংশ নেয়।

প্রত্যেকে একজন সাক্ষী

১৩. (ক) আমাদের কি করা উচিত যদিও লোকে রাজ্যের বার্ত্তা না শুনে? (খ) কি করে পৌলকে যিহিষ্কেলের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

১৩ যিহোবার সাহায্যে, খ্রীষ্টানদের উচিত তারা যেন রাজ্যের সংবাদ গৃহে, গৃহে ঘোষণা করে, যদিও তাহা উপলব্ধি বোধের সাথে গ্রহণ করা হয় না। ঈশ্বরের প্রহরী হিসাব, যিহিষ্কেলকে বলা হয় সে যেন লোকদেরকে সাবধাণ করে তারা শুনেক বা নাই শুনুক। (যিহিষ্কেল ২:৫-৭; ৩:১১, ২৭; ৩৩:১-৬) পৌল ও যিহিষ্কেলের মধ্যে মিল দেখিয়ে, ই. এম. ব্লেকলক লেখেন: “[পৌল যে ভাষণ দেন প্রেরিত ২০ অধ্যায়] তার থেকে আমরা ইফিষের পরির্চয্যার এক পরিষ্কার ছবি পাই। এই বিষয় লক্ষ্য করুন: প্রথমে, তার বিশ্বস্তায় যে জরুরীভাব। তিনি লোকের মধ্যে নামি হতে বা জনসাধারণের অনুমোদন চাননি। তাই ঠিক যিহিষ্কেলের মত তিনি তার প্রহরীর দায়িত্ব সম্পন্ন করেন সৎ উৎসাহের সাথে যা তার কথার সাথে মিল রেখেছিল। দ্বিতীয়ত, তার সহানুভূতি। তিনি এমন ব্যক্তি ছিলেন না যিনি ধ্বংসের বাণী তার ঠোটে নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন কোন অনুভূতি পোষণ না করে। তৃতীয়ত, তার অদম্য প্রচার করার ইচ্ছা। জনসাধারণ্যে ও গৃহে, গৃহে তিনি সকল প্রদেশে ও শহরে সুসমাচার প্রচার করতে কৃতকার্য্য হন।”

১৪. কেন প্রচার করা যারা যিহোবার কাছে উৎস্বর্গ করেছে প্রার্থনার মাধ্যমে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে তাদের জন্য এক দায়িত্ত্ব?

১৪ ঈশ্বর যে প্রচুররূপে আশীর্বাদ করেছেন বর্ত্তমান দিনের সেবকদের তা কোন সন্দেহ রাখে না যে যিহোবা খুব আনন্দিত যে তারা যিহোবার সাক্ষী নাম বহন করছে। (যিশাইয় ৪৩:১০-১২) আরও, তারা খ্রীষ্টের সাক্ষী, কারণ যীশু তার শিষ্যদের বলেন: “পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে আসিলে তোমরা শক্তিপ্রাপ্ত হইবে; আর তোমরা যিরূশালেমে, সমুদয় যিহৃদীয়া ও শমরিয়া দেশে, এবং পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে।” (প্রেরিত ১:৮) তাই সাক্ষ্য দেওয়ার কাজ সকলের দায়িত্ব যারা নিজেদের প্রার্থনায় যিহোবার কাছে উৎসর্গ করেছে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে।

১৫. প্রাচীণ কালের খ্রীষ্টানদের প্রচার সম্বন্ধে কি বলা হয়েছে?

১৫ সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয় বলা হয়েছে: “যে তাহাতে সম্পূর্ণ গির্জ্জা জড়িত। পূর্বেকার সময় গির্জ্জার মিশনারী কাজ কেবল উইমেন্‌স মিশনারী সোসাইটির অথবা ফরেন মিশন বোর্ডের কাজ ছিলনা। অথবা প্রচারের কাজ কেবল প্রাচীণ, ডিকন, বা প্রেরিতদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। . . . পূর্বের সময় চার্চ মিশন ছিল। মিশনারী প্রোগামের ভিত্তি ছিল দুইটি বিষয়ের উপর: (১) গির্জ্জার প্রধান কাজ হল সারা বিশ্বে সুসমাচার প্রচার করা। (২) এই কাজ সম্পাদন করার যে দায়িত্ব তাহা সমস্ত খ্রীষ্টীয় সম্প্রদায়ের।”—জে. হারবাট কেন.

১৬. এমনকি খ্রীষ্ট জগতের লেখকরা কি স্বীকার করে খ্রীষ্টানদের সম্বন্ধে ও তাদের প্রচার সম্বন্ধে?

১৬ যদিও বর্তমান দিনের খ্রীষ্টজগতের লেখকরা রাজ্যের বার্ত্তার সাথে একমত নয়, কিছু কিছু ব্যক্তিরা মেনে নেন যে খ্রীষ্টানদের সাক্ষ্য দেওয়া এক দায়িত্ব স্বরূপ। উদাহরণস্বরূপ, তার বইয়ে, এভ্‌রিওয়ান এ মিনিস্টার, অসকার ই. ফিউচট্‌ লক্ষ্য করেন: “কোন পাদ্রী যে পরিচর্য্যা সকলকে দেওয়া হয়েছে তা একা পূর্ণ করতে পারে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসতঃ শতাব্দী ধরে ভুল চিন্তাধারা ৫০০ গির্জ্জাগামীদের কাজ একজন পাদ্রীর উপর ছেড়ে দিয়েছে। প্রথমে গির্জ্জায় এমন ছিল না। যারা বিশ্বাস করত তারা বাক্য সব স্থানে নিয়ে যেত প্রচার করতে।”

১৭. প্রাচীণকালে খ্রীষ্টানদের কাছে সাক্ষ্য দানরে কাজ কি স্থান রাখত?

১৭ সুসমাচার পূর্বের খ্রীষ্টানদের জীবনে সব থেকে প্রধাণ বিষয় ছিল, যেমন তাহা আজ যিহোবার লোকদের মধ্যে। “বৃহৎ ভাবে বলতে গেলে,” লেখেন হারভার্ড ইউনিভাসিটির এডওয়ার্ড ক্যাল্ডওয়েল মুর। “প্রথম তিন শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের যে কাজ তা তাদের বিশ্বাসকে ছড়ানোর যে উৎসাহ তাতে পূর্ণ ছিল। তাদের যে খ্রীষ্টীয় ভাবাবেগ তা ছিল শিষ্য তৈরী করা ও মুক্তি লাভের বার্ত্তায় পরিপূর্ণ। . . . এই প্রচার ও যীশুর শিক্ষার প্রভাব, যাহাহোক, প্রথমের দিকে খুব অল্প মাত্রায় সাধিত হয় কিছু অল্প সংখ্যক পুরুষ ও নারীদের দ্বারা যাদের আমরা মিশনারী বলি। ইহা ছিল সব ধরনের ও স্তরের লোকের সফলতা, তাতে অংশ নেয় সব ধরনের লোক ও স্তরের মানুষ। [তারা] জীবনের অন্তর্নিহিত বিষয় সম্বন্ধে প্রচার [রোমীয়] সাম্রাজ্যের সব থেকে অন্তিম সীমা পর্য্যন্ত নিয়ে যায়, সেই নূতন মনোভাব জগতকে জানাতে, যা তাদের মতে মুক্তির অভিজ্ঞতা ছিল। . . . [প্রাচীণ খ্রীষ্টীয়তত্ত্ব] পূর্ণরূপে বিশ্বাস করত যে তারা বর্ত্তমান যুগের শেষে আছে। তারা বিশ্বাস করত হটাৎ এক নতুন যুগের আরম্ভে।”

১৮. কি আশা রাজনৈতিক নেতাদের স্বপ্ন থেকে অনেক উচ্চে?

১৮ তাদের গৃহে, গৃহে প্রচার কার্য্যে ও তাদের পরিচর্য্যার অন্য ক্ষেত্রে, যিহোবার সাক্ষীরা আনন্দের সাথে তাদের শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত নতুন রাজ্যের প্রতি। সেই সম্বন্ধে যা বলা আছে তা আজকের যে নতুন জগত ধারা সৃষ্টিকারী মতামত পোষণকারী লোকদের স্বপ্ন থেকে অনেক আলাদা। (২ পিতর ৩:১৩; প্রকাশিত বাক্য ২১:১-৪) যদিও এমন বোধ হয় যে সবাই সেই নতুন পরিস্থিতিতে থাকতে চাইবে, বাস্তবে তাহা সত্য নয়। যাহাহোক, আসুন আমরা কিছু কার্য্যকারী উপায় দেখি তাদের সাহায্য করার জন্য যারা অনন্ত জীবনে আগ্রহী। (w91 1/15)

আপনি কি ভাবে সাড়া দেবেন?

◻ কেন আমরা বলতে পারি যে প্রেরিত ৫:৪২ এবং প্রেরিত ২০:২০ পদের অর্থ যীশুর অনুগামীদের প্রচার করতে হবে গৃহে গৃহে?

◻ কি করে আমরা জানি যে ঈশ্বর যিহোবার সাক্ষীদের গৃহে গৃহে প্রচার কাজকে সমর্থন করেন?

◻ পরিচর্য্যার ক্ষেত্রে প্রাচীন ও পরিচারক দাসদের কি করতে হবে?

◻ খ্রীষ্টীয় জীবনে প্রচার কোন স্থান রাখে?

[২২ পৃষ্ঠার চিত্র]

৩৩ সাধারণ শতাব্দীতে খ্রীষ্টের শিষ্যরা সাক্ষ্য দেয় ঘরে ঘরে কোন শিথীলতা না দেখিয়ে

[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

পৌল শিক্ষা দেন “ঘরে ঘরে।” এই ধরনের পরিচর্য্যা যিহোবার সাক্ষীরা আজ করে থাকে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার