বিশ্বনিরীক্ষা
এখনকার শাকসবজি কি কম পুষ্টিকর?
মাটির উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ার কারণে এখনকার ফলমূল ও শাকসবজি কি কম পুষ্টিকর? মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতানুযায়ী, না। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে ওয়েলনেস লেটার বলে: “উদ্ভিদ নিজের থেকেই ভিটামিন উৎপন্ন করে।” তাই, মাটিতে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের অভাব থাকলে উদ্ভিদ ঠিকমতো বাড়বে না। গাছ হয়তো ফল দেবে না কিংবা শুকিয়ে যাবে। গাছের যাতে এ অবস্থা না হয় তাই কৃষকেরা মাটির প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের জন্য সার ব্যবহার করেন। ওয়েলনেস লেটার বলে: “আপনি যে শাকসবজি কেনেন সেগুলোকে যদি টাটকা দেখা যায়, তবে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে সেগুলো পুষ্টিকর।”
অপরাধ ও বর্ণবৈষম্য
সম্প্রতি, গ্রিসে অপরাধের হার বেড়ে যাওয়ায় এর ষোল আনা দোষ পড়েছে পূর্ব ইউরোপ ও বলকান অঞ্চল, বিশেষ করে আলবেনিয়ার শরণার্থী ও অভিবাসীদের উপর। টু ভিমা সংবাদপত্রের প্রবন্ধকার, রিকারডোস সোমেরিটিস বলেন যে অপরাধের হার বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার লোকেরা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আর তা বিদেশীদের প্রতি একরকমের “ভয় বা ঘৃণা এবং প্রবল বর্ণবৈষম্য” জাগিয়ে তুলেছে। কিন্তু, দেখা গেছে যে বিদেশীদের চেয়ে গ্রিক নাগরিকেরাই অপরাধে বেশি জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী সমীক্ষাগুলো দেখায়, “১০০টার মধ্যে ৯৬টা অপরাধই [গ্রিক নাগরিকেরা] করে থাকেন।” সোমেরিটিস্ জোর গলায় বলেন: “অপরাধমূলক কার্যকলাপ সাধারণত ‘বর্ণগত কারণে নয়’ কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার কারণে হয়ে থাকে।” এছাড়াও তিনি “বিদেশীদের প্রতি ভয় ও ঘৃণা জাগিয়ে তোলার এবং বর্ণবৈষম্য গড়ে তোলার জন্য” সংবাদ মাধ্যমগুলোকে দায়ী করেন, কারণ সেগুলো গ্রিসের অপরাধ সম্পর্কিত ঘটনাগুলোকে বিরূপভাবে তুলে ধরে।
চিনে আবারও বিরল প্রজাতির হরিণ খুঁজে পাওয়া যায়
চায়না টুডে পত্রিকা বিবৃতি দেয় যে “৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মনে করা হয়েছিল যে তিব্বতের লাল হরিণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে কিন্তু তিব্বতের স্বশাসিত শানান অঞ্চলে আবার এদের খুঁজে পাওয়া গেছে।” শিকারীরা লাল হরিণের শাখাযুক্ত মূল্যবান শিংয়ের জন্য বছরের পর বছর এগুলোকে শিকার করার ফলে সেগুলো প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই হরিণগুলোর একেকটার উচ্চতা প্রায় ১.২ মিটার এবং ওজন প্রায় ১১০ কিলোগ্রাম। এছাড়াও এদের বিলুপ্তির অন্যতম কারণ হল, যুদ্ধ ও পরিবেশের পরিবর্তন। হিসাব করে দেখা গেছে যে এই সুন্দর হরিণগুলোর সংখ্যা এখন ২০০-রও কম। এছাড়াও এদেরকে বিপদাপন্ন প্রজাতি হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গঙ্গা নদীতে উৎসব
এই বছরের এপ্রিল মাসে কুম্ভ মেলা অথবা ঘট উৎসবের শেষের দিকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু নারী-পুরুষ গঙ্গা নদীতে স্নান করেন। কুম্ভ মেলা হল তিন মাসের একটা উৎসব যে সময় হিন্দুরা অমরত্বের দানকে উদ্যাপন করেন। এই উৎসব তিন বছর পর পর পালাক্রমে ভারতের চারটে শহরে অনুষ্ঠিত হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবতা ও অসুরেরা যখন স্বর্গে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিল তখন অমরত্বের অমৃত পৃথিবীতে পড়েছিল। ভারতের পবিত্র নদীতে অনেকে একসঙ্গে স্নান করতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পড়ে অনেকেই প্রাণ হারান।
“যে বছরে বিশ্বে সবেচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে”
বনায়ন কর্মসূচির ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার ইন্টারন্যাশনাল এর প্রধান পরিচালক, জিন-পল জেনারেনো বলেন যে “সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের জন্য ১৯৯৭ সাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রত্যেকটা মহাদেশেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যেমন, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলের মূল্যবান বনভূমি পুড়ে গিয়েছে, যে অঞ্চলের আয়তন প্রায় সুইজারল্যান্ডের সমান। এর কারণ হল কৃষি কাজের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে গাছপালা কেটে ফেলা এবং অনাবৃষ্টি। আর এলনিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার চরম রূপই অনাবৃষ্টির কারণ বলে মনে হয়। লন্ডনের দি ইনডিপেনডেন্ট সংবাদপত্র বিবৃতি দেয় যে, গাছপালা পুড়তে থাকায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বায়ু দূষণ ঘটায় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়। মি. জেনারেনো সতর্ক করেন: “আমরা ধ্বংসের এক অবিচ্ছেদ্য চক্র সৃষ্টি করছি যেখানে অগ্নিকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার কারণ হল আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং এই পরিবর্তনের বিভিন্ন উপাদান।”
আরও ক্যালসিয়াম দরকার
জার্মান প্যামফ্ল্যাট জেসান্ডহিট ইন ওয়র্ট উন্ড বিল্ড (হেলথ ইন্ ওয়ার্ড অ্যান্ড পিকচার) সতর্ক করে যে “হাড় গঠনের জন্য অল্পবয়স্কদের আরও ক্যালসিয়াম দরকার।” প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয় কিন্তু জার্মানিতে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মাত্র ৫৬ শতাংশ কিশোরী ও ৭৫ শতাংশ কিশোর তা পায়। ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর অস্টিওপোরোসিস্ এর মেরি ফ্রেসার বলেন, “ইউরোপে কিশোরীদের জন্য ক্যালসিয়ামের সরবরাহ যথেষ্ট নয়।” যদিও এই ঘাটতি অনেকদিন ধরে চোখেই পড়ে না কিন্তু পরে এরজন্যই অস্থি রোগ হতে পারে। প্রবন্ধটা আরও বলে: “প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে এমন খাদ্যগুলো হল পনির, দুধ, দই, তিল, লতা জাতীয় শাকের বীজ, সয়াবিন, সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও মাছ।”
মৃত্যুকে হালকা করে দেখা
জার্নাল দো ব্রাজেল ব্যাখ্যা করে, “মৃত্যুকে হালকাভাবে না নেওয়া শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব বাবামা ও শিক্ষকদের। আর তাই সিনেমা ও টেলিভিশনে যে বীরত্বকে বাহ্বা দেওয়া হয় তাদের সেগুলোকে বড় করে দেখা উচিত নয়।” রিও ডি জেনারিওতে একটা গবেষণা দেখায় যে ১০ শতাংশ অপরাধই ১৩ বছরের কম বয়সের ছেলেমেয়েরা করে থাকে। প্রবন্ধটা বলে, “এই ছেলেমেয়েরা তাদের কাছে অস্ত্র রাখে আর তারা তাদের সহপাঠীদের আঘাত করে, তাদের হাত-পা কেটে ফেলে কিংবা মেরে ফেলে এবং ছোটদের সঙ্গে যৌন অপব্যবহার করে।” মানসিক রোগের চিকিৎসক আলফ্রেডো ক্যাস্ট্রো নেটো বলেন: “বর্তমানে আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যা প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করে। আর সিনেমায় দেখানো হয় যে একজনের মনমতো কিছু পাওয়ার জন্য কাউকে মেরে ফেলায় দোষের কিছু নেই। আর এই মনোভাব শিশুদের মনে কেবল বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।” বন্দুকের বদলে শিক্ষামূলক খেলনা দিয়ে খেলার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে শিক্ষিকা যোসেফা পেক্ বলেন, এই বিষয়টা শিশুদের জানা খুবই জরুরি: “নায়ক সকলকে মেরে ফেলে এটা অযৌক্তিক ও অবাস্তব আর অস্ত্র মর্যাদা কিংবা ক্ষমতার প্রতীক নয় বরং তা মানুষ মারার বস্তু।”
রোগীদের কাছ থেকেও চুরি
জার্মানির হাসপাতালগুলোতে চোরের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এমস্ডেটানার টেগাব্ল্যাট সংবাদপত্র বিবৃতি দেয় যে “কলোগ্নের বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালগুলো বছরে তিনশটা চুরির বিষয়ে রিপোর্ট করেছে। হাসপাতাল থেকে মূল্যবান জিনিস চুরি করতে একজন চোরের জন্য হাতে ফুলের তোড়া ও মুখে মৃদু হাসিই যথেষ্ট।” রোগীকে দেখতে আসার ভান করে তারা রোগীর বিছানার পাশের টেবিল থেকে শুরু করে কাপড়চোপড় রাখার তাক পর্যন্ত অবাধে ঘুরাফেরা করে। রোগী বৃদ্ধ হলে চোরদের জন্য বিশেষ সুবিধা হয়। যেমন হাসপাতালে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি তার বালিশের নিচে কয়েক হাজার ডাচ মার্ক রেখেছিলেন। রোগীদের দেখার জন্য যখন তখন যে কাউকে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া চোরদের বিরাট সুযোগ করে দেয়। তাই, রোগীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন তাদের টাকা-পয়সা ও দামি বস্তু হাসপাতালের আলমারিতে বা অন্যখানে তালা দিয়ে রাখেন কিংবা এমন কাউকে দেন যিনি নিরাপদে রাখতে পারবেন।
কানের ছাপ
সম্প্রতি, লন্ডনে কানের মাধ্যমেই একজন চোর ধরা পড়েছে। কিভাবে? যদিও সে খুবই সতর্ক থাকত যেন এই চুরির স্থানে তার আঙ্গুলের কোন ছাপ না থাকে কিন্তু চুরি করার আগে তার অভ্যাস ছিল জানালা বা চাবির ছিদ্রে কান দিয়ে শোনা যে ভিতরে কেউ আছেন কিনা আর এর ফলেই সেখানে তার কানের ছাপ পড়ত। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গুলের ছাপের পরীক্ষক, অধ্যাপক পিটার ভ্যানেসিস্ বলেন, “কানের ছাপ আঙ্গুলের ছাপের মতোই স্বতন্ত্র।” লন্ডনের দ্যা ডেইলি টেলিগ্রাফ বিবৃতি দেয়, চুল ও নখের মতো কানও সারাজীবন ধরে বাড়তে থাকে, যা আঙ্গুলের ছাপের ক্ষেত্রে হয় না।” কিন্তু, পুলিশ জানে যে আমাদের কানের আকার যাই হোক না কেন, তা কারও সঙ্গে মিলবে না, যেমন এই চোরের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। ব্রিটেনে, সেই হল প্রথম ব্যক্তি যে কানের ছাপের সাক্ষ্যপ্রমাণে ধরা পড়েছে এবং পাঁচ বার চুরি করার কথাও সে স্বীকার করেছে।