কিছু বিখ্যাত উদ্যানের প্রতি দৃষ্টিপাত
পরমদেশের সাথে মানুষের অভিজ্ঞতা এদন নামক অঞ্চলে অবস্থিত একটি উদ্যানে শুরু হয়েছিল, যা সম্ভবত আধুনিক তুরস্কের ভ্যান হ্রদের নিকটে। একটি নদী যা, চারটি শাখা নদীতে বিভক্ত হয়ে আদম ও হবার জন্য উদ্যানে জল সরবরাহ করত, যারা “কৃষিকর্ম্ম ও রক্ষার্থে তথায়” ছিল। এমন একটি উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ করা কতই না আনন্দায়ক হত, যেটি ‘সর্ব্বজাতীয় সুদৃশ্য ও সুখাদ্য-দায়ক বৃক্ষে’ সমৃদ্ধ ছিল!—আদিপুস্তক ২:৮-১৫.
এদন একটি নিখুঁত গৃহ ছিল। নিঃসন্দেহে, তাদের আদর্শ হিসাবে ঈশ্বরের সূক্ষ্ম আদি নকশা ব্যবহার করে আদম ও হবা এবং তাদের বংশধরেরা এর সীমানা বৃদ্ধি করার জন্য ছিল। কালক্রমে, সমগ্র পৃথিবী লোকেদের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে অনায়াসে একটি পরমদেশে পরিণত হবে। কিন্তু আমাদের আদি পিতামাতার ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার ফলস্বরূপ এই আশ্রয় থেকে তাদের উচ্ছেদ করেছিল। দুঃখজনকভাবে, মানব পরিবারের অন্যান্য সকলে এদনের এই গৃহের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিল।
তৎসদুত্ত্বও, সৃষ্টিকর্তা মানবজাতিকে পরমদেশে বাস করার জন্য সৃষ্টি করেছিলেন। অতএব, এটি স্বাভাবিক ছিল যে, ভবিষ্যৎ বংশধরেরা এর অনুকরণে নিজেদের পরিবেষ্টিত করতে চেষ্টা করবে।
প্রাথমিক উদ্যানগুলি
বাবিলের ঝুলন্ত উদ্যান প্রাচীন বিশ্বের একটি আশ্চর্য বস্তু হিসাবে প্রশংসিত হয়েছে। সেইগুলি ২,৫০০ বছরেরও বেশি আগে রাজা নবূখদ্নিৎসর, তার মাদীয় স্ত্রীর জন্য নির্মাণ করেছিলেন, যিনি তার স্বদেশের অরণ্য এবং পাহাড়গুলির জন্য উদ্গ্রীব ছিলেন। এই ২২-মিটার-উঁচু, ধনুকের ন্যায় গঠিত বক্র আকারের ব্ধসড়ি বিশিষ্ট উদ্যানের সমস্তই উত্তমরূপে রোপিত ছিল, বৃহৎ বৃক্ষগুলির পুত্ত্রষ্টর জন্য যথেষ্ট মাটি ছিল। গৃহকাতর রাণী যখন এই চত্বরযুক্ত এদনতুল্য এলাকায় বেড়াতেন, সম্ভবত তিনি প্রফুল্ল বোধ করতেন।
মিশরের উর্বরা নীল উপত্যকায় প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যানুযায়ী রচিত উদ্যান প্রসিদ্ধ ছিল। দি অক্সফোর্ড কমপ্যানিয়ান টু গার্ডেন্স জানায়, “মিশর হল বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন উদ্যানের চিত্রগুলির উৎস এবং ব্যতিক্রমরূপে এক অতি প্রাচীন . . . উদ্যানপালন ঐতিহ্যের স্থান।” প্রায় সা.কা.পূ. ১,৪০০ সাল থেকে, থিবিসে এক মিশরীয় কর্মকর্তার অধিকারভুক্ত উদ্যানের একটি প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যের নকশা, পুকুর, সারিবদ্ধ বৃক্ষশোভিত পথ এবং শিবিরগুলি প্রদর্শন করে। রাজকীয় উদ্যানগুলির পরে, তরুবীথিকা, ফুল, পুকুর থেকে নির্গত খালের জল দ্বারা সেচিত লতাপাতা এবং জলচর পাখি, মাছ, ও জলপদ্ম দ্বারা পরিপূর্ণ হ্রদগুলিসহ মন্দিরের উদ্যানগুলি সবচেয়ে সমৃদ্ধ ছিল।—তুলনা করুন যাত্রাপুস্তক ৭:১৯.
উদ্যানের ভুবনে পারসিকরাও প্রাচীনকালে অবদান রেখেছিল। পারস্যের ও মিশরের উদ্যানগুলি এত আকর্ষণীয় ছিল যে, মহান আলেকজাণ্ডারের বিজয়ী সৈন্যেরা সা.কা.পূ. চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রীসে প্রত্যাবর্তনের সময় পর্যাপ্ত বীজ, উদ্ভিদ এবং ধারণা নিয়ে এসেছিল। এথেন্সে, এরিস্টটল এবং তার ছাত্র থিওফ্রাস্টাস ক্রমবর্ধমান সংখ্যক উদ্ভিদকূলকে তালিকাবদ্ধ করেছিলেন এবং উদ্ভিদের গবেষণা ও শ্রেণীবিন্যাসের জন্য একটি বোটানিক্যাল উদ্যান স্থাপন করেছিলেন। মিশরীয় এবং তাদেরও পূর্বে পারসিকদের মত অনেক সমৃদ্ধশালী গ্রীকদের প্রাচুর্যময় উদ্যান ছিল।
রোমীয় শহুরে বাসিন্দারা শহরের সীমান্ত এলাকায়, গৃহ এবং উদ্যানকে একত্রে তৈরি করেছিল। সমৃদ্ধশালীরা তাদের বাসগৃহগুলিতে, দৃষ্টি আকর্ষক মনোরম পার্ক নির্মাণ করেছিল। এমনকি নৃশংস শাসক নিরো তার নিজস্ব এদন চেয়েছিলেন, তাই তিনি নির্মমভাবে শত শত পরিবার উচ্ছেদ করেছিলেন, তাদের গৃহগুলিকে ধ্বংস করেছিলেন এবং তার প্রাসাদের চতুর্দিকে ১২৫ একর জমির উপর একটি ব্যক্তিগত পার্ক নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে, প্রায় সা.কা. ১৩৮ সালে, টিভোলিতে সম্রাট হেড্রিয়ানের ভিলায় রোমীয় ভূদৃশ্যাবলি সবচেয়ে বেশি স্থান জুড়ে প্রসারিত হয়েছিল। ভিলাটির ৬০০ একর এলাকার উপর পার্ক, জলাশয়, হ্রদ এবং ঝর্ণাগুলি ছিল।
প্রাচীন ইস্রায়েলীয়দেরও বহু উদ্যান এবং পার্ক ছিল। যিহূদী ইতিহাসবেত্তা যোসেফাস, যিরূশালেম থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে ইটাম নামক এক স্থানের জলপ্রবাহ সমৃদ্ধ মনোরম পার্কগুলির বিষয়ে লেখেন। ইটামের পার্কগুলির মধ্যে হয়ত বহু ‘উদ্যান, উপবন, পুষ্করিণী এবং বন’ আছে যা বাইবেল বলে যে শলোমন ‘তার নিজের জন্য করেছিলেন।’ (উপদেশক ২:৫,৬) যিরূশালেমের ঠিক বাইরে জৈতুন পর্বতের উপরে গেৎশিমানী উদ্যান ছিল, যেটি যীশু খ্রীষ্টের দ্বারা বিখ্যাত হয়েছিল। যীশু এখানে একটি আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের শান্তভাবে শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন।—মথি ২৬:৩৬; যোহন ১৮:১, ২.
আরব উদ্যান থেকে ইংলিশ উদ্যান পর্যন্ত
সা.কা. সপ্তম শতাব্দীতে আরবীয় সৈন্যরা যখন পূর্ব এবং পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের আলেকজাণ্ডারের মত পারস্যের উদ্যানগুলির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। (তুলনা করুন ইষ্টের ১:৫.) “আরবীয়রা,” হাওয়ার্ড লক্সটন লেখেন, “দেখেছিল যে পারসিক উদ্যানগুলি বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের জন্য কোরাণে প্রতিজ্ঞাত পরমদেশের সাথে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ।” এর পারসিক নমুনার মত, মুরীয় স্পেন থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত আদর্শ আরবীয় উদ্যান, একটি জলাশয় বা ঝর্ণার কেন্দ্রস্থলে মিলিত, চারটি খাল দ্বারা চার ভাগে বিভক্ত ছিল, যা এদনের চারটি নদীর অনুস্মারক।
উত্তর ভারতে, কাশ্মীরের অপূর্ব উপত্যকায় ডেল্ হ্রদের পাশ দিয়ে, সপ্তদশ শতাব্দীর মুঘল শাসকগণ ৭০০ এর বেশি পরমদেশের মত উদ্যান নির্মাণ করেছিলেন। এইগুলি এক চোখ-ধাঁধানো রঙের মেঘধনুক গঠন করেছিল, যা শত শত ঝর্ণা, চত্বর এবং জলপ্রপাতের দ্বারা বিভক্ত ছিল। ডেল্ হ্রদের তীরে নির্মিত শাহজাহানের (তাজমহলের নির্মাতা) কাল মার্বেল পাথরের কারুকার্যখচিত বাড়িটি এখনও এই ক্ষোদিত লেখা বহন করে: “পৃথিবীর বুকে যদি কোন পরমদেশ থাকে, তা এখানেই, এখানেই, এখানেই।”
এর কয়েক শতাব্দী পূর্বে, ইউরোপ মধ্যযুগ পেরিয়ে চতুর্দশ-শতাব্দীর নবজাগরণে প্রবেশ করে। সা.কা. পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যযুগের শুরুতে, রোমের উদ্যানপালনের ঐতিহ্য পদদলিত হয়েছিল, কিন্তু এই সময়ে গির্জার শাসনের অধীনে তা আবার প্রস্ফুটিত হতে শুরু করে। খ্রীষ্টীয় জগৎ উদ্যানকে এক ‘সাময়িক পরমদেশ’ হিসাবে দেখেছিল। নবম-শতাব্দীর একটি মঠের নকশা “পরমদেশ” আখ্যাত দুটি উদ্যান দেখায়। খ্রীষ্টীয় জগতের উদ্যানগুলি শীঘ্রই বৃহত্তর এবং অধিকতর জাঁকজমকপূর্ণ হতে থাকে, কিন্তু আধ্যাত্মিক আদর্শগুলি প্রতিফলিত করার পরিবর্তে, অনেকেই ক্ষমতা এবং ধন-সম্পদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
ফ্রান্সের অষ্টম চার্লস ১৪৯৫ সালে, যখন ইতালীর নেপলস্ জয় করেন, তখন তিনি বাড়িতে লিখেছিলেন: “এই শহরে যে আমার কত সুন্দর সুন্দর উদ্যান আছে তোমরা তা বিশ্বাস করতে পারবে না। . . . মনে হয় যে এটিকে একটি পার্থিব পরমদেশ তৈরি করতে শুধুমাত্র আদম ও হবারই অভাব রয়েছে।” কিন্তু চার্লস যদি সপ্তদশ শতাব্দীতে বেঁচে থাকতেন, তিনি ফ্রান্সের মাটিতে, রাজা চতুর্দশ লুইসের বিশাল উদ্যানগুলি দেখতে পারতেন। উদ্যান (ইংরাজি) নামক বইটি দাবি করে যে ভারসেইলেস প্রাসাদের উদ্যানগুলি “এখনও বিশ্বের বৃহত্তম এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হতে পারে।”
যাইহোক, পরমদেশ সম্বন্ধে নবজাগরণের একটি নতুন সংজ্ঞা ছিল: প্রকৃতি মানুষকে জ্ঞানালোকিত করতে সহায়ক, যে সকল বন্য অবস্থা থেকে এটিকে পরিষ্কৃত করে উদ্যানে বিন্যস্ত করে। বৃক্ষাদি এবং পুষ্পাদি সমস্ত নির্দিষ্ট জ্যামিতিক গঠনে সুবিন্যস্ত ছিল। তাই, প্রাথমিক রোমীয় টপিয়ারি—বৃক্ষাদি এবং গুল্মগুলি ছাঁটার মাধ্যমে আকার প্রদান এবং তাদের বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করার কলা—এক বিস্ময়কর পুনরুভ্যুদয় উপভোগ করেছিল।
তারপর, অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীগুলিতে সামুদ্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাণিজ্য পাশ্চাত্ত্য জগতের কাছে নতুন নতুন উদ্ভিদ এবং উদ্যান পালনের ধারণাগুলি প্রকাশ করেছিল। ইংল্যাণ্ড উদ্যান পরিকল্পনার প্রতি মনোযোগ দেয়। “অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যাণ্ডে,” দ্যা নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা বলে, “লোকেরা প্রকৃতি জগতের প্রতি ক্রমাগতভাবে সচেতন হয়ে পড়ে, যার একটি অংশ সে ছিল। প্রকৃতি জগতের উপর তার মনুষ্য-নির্মিত জ্যামিতিক বিন্যাস চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বরঞ্চ, সে এটির সাথে তার নিজের জীবনের সমন্বয় সাধন করতে শুরু করে।” প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যাবলি সম্বন্ধে উইলিয়াম কেন্ট এবং লেন্সলট ব্রাউনের মত ব্যক্তিরা খুবই পারদর্শী ছিলেন। ব্রাউন ইংল্যাণ্ডের দু’শরও বেশি ভূসম্পত্তির নকশা করেছেন। থমাস জেফারসন্ এবং জন এডামস্ দুইজন ব্যক্তি, যারা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, ১৭৮৬ সালে ইংলিশ উদ্যানগুলি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইংল্যাণ্ডে গিয়েছিলেন।
পূর্বাঞ্চলের ভূদৃশ্যাবলি
চীনের উদ্যানপালনের ঐতিহ্য প্রাচ্যের সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে যেভাবে, মিশর, গ্রীস এবং রোম পাশ্চাত্য সভ্যতাকে করেছিল। চৈনিকেরা মূলতঃ এক সর্বপ্রাণবাদী ধর্ম পালন করত, যেখানে নদী, শিলা এবং পর্বত সমস্ত কিছুকে বাস্তব হিসাবে দেখা হত এবং তাই শ্রদ্ধা প্রদর্শনও করা হত। এরপর আর সেই দেশে তাইওবাদ, কনফুসিয়াসবাদ ও বৌদ্ধধর্ম প্রচলিত হয় এবং তারা তাদের নিজেদের নকশায় উদ্যান তৈরি করেছিল।
জাপান সমুদ্রের অপর পাড়ে, জাপানী উদ্যানগুলি তাদের নিজস্ব ধারা স্থাপন করেছে যেখানে বর্ণের চেয়ে আকারগুলিই চোখে পড়ার মত এবং প্রত্যেকটি উপাদানের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট এলাকায়, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করার এক প্রচেষ্টায় মালী যত্নের সাথে তার প্রস্তরগুলি স্থাপন করে ও রোপণ করে এবং অতি সতর্কতার সাথে তার উদ্যানকে গড়ে তোলে। বোনসাইয়ের (অর্থাৎ “টবে রোপিত গাছ”) ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে লক্ষ্যণীয়, যেটি হল ক্ষুদ্রাকৃতির বৃক্ষ অথবা সম্ভবত নির্দিষ্ট আকার এবং অনুপাতের বৃক্ষের তরুবীথিকাকে বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করার এক কলা।
যদিও এর ধারা হয়ত পাশ্চাত্য প্রতিমূর্তি থেকে ভিন্ন হতে পারে, তবুও প্রাচ্যের উদ্যানগুলিও পরমদেশের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, জাপানে হান্ আমলে (৭৯৪-১১৮৫), জাপানী উদ্যানবিষয়ক ইতিহাসবেত্তা উইবি কুইটার্ট লেখেন, মালীরা “পৃথিবীতে পরমদেশ” এর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করেছিল।
এক সর্বজনীন ভালবাসা
উদ্যানের প্রতি ভালবাসা সর্বজনীন—এমনকি তা সেই শিকারি উপজাতিদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, যারা “প্রাকৃতিক” উদ্যানে অর্থাৎ জঙ্গল, বন এবং তৃণভূমিগুলিতে বাস করত। “মেক্সিকোর এজটেক এবং পেরুর রাজবংশীয়দের” ব্রিটানিকা বলে, “চত্বরযুক্ত পাহাড়, তরুবীথিকা, ঝর্ণা এবং শোভাবর্ধক পুকুরগুলিসহ জাঁকজমকপূর্ণ উদ্যানগুলি সম্বন্ধে কনকুইসটেডরগণ বিবৃতি দেন . . . পশ্চিমের সমসাময়িক উদ্যানগুলি থেকে আলাদা নয়।”
হ্যাঁ, প্রাচীন তরুবীথিকাসহ নীল নদ, পূর্বাঞ্চলের ভূদৃশ্যাবলি, আধুনিক শহুরে পার্কগুলি এবং বোটানিক্যাল উদ্যান—এইগুলি কী প্রকাশ করে? মানবজাতির পরমদেশের প্রতি আকুল আকাঙ্ক্ষা। “পরমদেশের প্রতি” এই স্থায়ী “আকুলতা” লক্ষ্য করে, লেখক টেরি কোমেটো উল্লেখ করেন: “উদ্যানগুলি হল সেই স্থান যেখানে মানুষ মনে করে যে সে আবার গৃহে ফিরে এসেছে।” আর কোন্ লোক বলতে আনন্দিত হয় না যে, ‘আমার গৃহ এদন উদ্যানের মত?’ কিন্তু এক বিশ্বব্যাপী এদন—এবং যা কেবল সমৃদ্ধশালীদের জন্য নয়—শুধু কি একটি স্বপ্ন? অথবা এটি এক নিশ্চিত ভবিষ্যৎ?
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
বাবিলের ঝুলন্ত উদ্যান সম্পর্কে শিল্পীর ধারণা
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
ভারসেইলেস, ফ্রান্স
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
French Government Tourist Office/Rosine Mazin
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
জাপানের এক শ্রেষ্ঠ উদ্যান
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
সমগ্র ইতিহাস দেখায় যে পরমদেশের প্রতি মানুষের এক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে