বাইবেলে উল্লেখিত নারীরা—আমরা তাদের কাছ থেকে কী শিখতে পারি?
বাইবেলের উত্তর
বাইবেলে এমন অনেক নারীর বিষয়ে লেখা আছে, যাদের কাছ থেকে আমরা জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করতে পারি। (রোমীয় ১৫:৪; ২ তীমথিয় ৩:১৬, ১৭) এই প্রবন্ধে তাদের মধ্যে কয়েক জনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের কাছ থেকে আমরা ভালো বিষয়গুলো শিখতে পারি। আবার কিছু জনের কাছ থেকে আমরা এমন শিক্ষা পাই, যেগুলো আমাদের কখনোই করা উচিত নয়।—১ করিন্থীয় ১০:১১; ইব্রীয় ৬:১২.
অবীগল
অবীগল কে ছিলেন? তিনি নাবল নামে একজন ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন। নাবল খুবই ধনী ও নিষ্ঠুর একজন ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু, অবীগল খুবই বিচক্ষণ ও নম্র ছিলেন। তিনি অনেক সুন্দরী ছিলেন এবং তার অনেক চমৎকার গুণ ছিল আর এই কারণে তার ভিতরের ব্যক্তিত্বও অনেক সুন্দর ছিল।—১ শমূয়েল ২৫:৩.
তিনি কী করেছিলেন? অবীগল নিজের পরিবারকে এক বড়ো বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি এবং তার স্বামী নাবল যেখানে বাস করতেন, দায়ূদ সেই এলাকাতেই লুকিয়ে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দায়ূদ ইজরায়েলের রাজা হবেন। তিনি সেই এলাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। সেইসময় দায়ূদ এবং তার লোকেরা নাবলের মেষপালকে লুটকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু, একদিন দায়ূদ যখন তার লোকদের নাবলের কাছে খাবার চাইতে পাঠান, তখন নাবল তাদের অপমান করেন এবং বলেন, তিনি তাদের খাবার দেবেন না। এই কারণে, দায়ূদ এতটাই রেগে যান যে, তিনি নাবল এবং তার সমস্ত লোককে মেরে ফেলবেন বলে ঠিক করেন। তাই, দায়ূদ তার লোকদের নিয়ে তাদের মেরে ফেলার জন্য বেরিয়ে পড়েন।—১ শমূয়েল ২৫:১০-১২, ২২.
অবীগল যখন জানতে পারেন, নাবল কী করেছেন, তখন তিনি তার স্বামী এবং তার পুরো পরিবারকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি তার দাসদের মাধ্যমে দায়ূদ এবং তার লোকদের জন্য অনেক খাবার পাঠান। এরপর তিনিও তাদের পিছন পিছন যান, যাতে তিনি নাবল এবং তার পরিবারের প্রতি দয়া দেখানোর জন্য দায়ূদের কাছে অনুরোধ করতে পারেন। (১ শমূয়েল ২৫:১৪-১৯, ২৪-৩১) অবীগল দায়ূদকে এক ভালো পরামর্শও দেন। দায়ূদ যখন এটা দেখেন যে, অবীগল তার এবং তার লোকদের জন্য কত কিছু পাঠিয়েছেন, তিনি কত নম্র আর তিনি তাকে কত ভালো পরামর্শ দিয়েছেন, তখন দায়ূদ বুঝতে পারেন, এই সমস্ত কিছুর পিছনে যিহোবা রয়েছেন। যিহোবাই অবীগলের মাধ্যমে তাকে পাপ করা থেকে আটকেছেন। (১ শমূয়েল ২৫:৩২, ৩৩) এই ঘটনার কিছু সময় পর, নাবল মারা যান। পরে, দায়ূদ অবীগলকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।—১ শমূয়েল ২৫:৩৭-৪১.
অবীগলের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? অবীগল খুবই ধনী এবং সুন্দরী ছিলেন। তারপরও, তিনি গর্বিত ছিলেন না। তার কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। নাবলের কারণে এমন এক সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যেটার সঙ্গে মোকাবিলা করা সহজ ছিল না। এইরকম পরিস্থিতিতে যে-কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু, অবীগল শান্ত ছিলেন এবং তিনি বিচক্ষণতা ও সাহসের সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
▸ অবীগলের বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।”
ইষ্টের
ইষ্টের কে ছিলেন? ইষ্টের একজন যিহুদি ছিলেন এবং পারস্যের রাজা অহশ্বেরশ তাকে নিজের রানি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি নিজের লোকদের অর্থাৎ যিহুদিদের নিশ্চিহ্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। রাজা অহশ্বেরশের সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হামন একটা আইন জারি করেছিলেন। এতে বলা হয়েছিল, একটা নির্দিষ্ট দিনে পারস্য সাম্রাজ্যে থাকা সমস্ত যিহুদিকে মেরে ফেলা হবে। (ইষ্টের ৩:১৩-১৫; ৪:১, ৫) ইষ্টের যখন এই বিষয়টা জানতে পারেন, তখন তার দাদা মর্দখয়ের সাহায্যে তিনি রাজাকে এই কথা বলেন যে, দুষ্ট হামন যিহুদিদের হত্যা করার জন্য একটা ষড়যন্ত্র করেছেন। ইষ্টের রাজা অহশ্বেরশকে এই কথা বলার জন্য এমনকী নিজের জীবনও ঝুঁকির মুখে ফেলেন। (ইষ্টের ৪:১০-১৬; ৭:১-১০) তখন অহশ্বেরশ ইষ্টের ও মর্দখয়কে আরও একটা আইন জারি করার অনুমতি দেন। আর সেটা হল, যিহুদিরা নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবে। পরে, যিহুদিরা তাদের শত্রুদের পুরোপুরিভাবে পরাজিত করে।—ইষ্টের ৮:৫-১১; ৯:১৬, ১৭.
ইষ্টেরের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? রানি ইষ্টের অনেক নম্র ছিলেন এবং তিনি সাহসের সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি খুব সুন্দরী ছিলেন এবং একজন রানি ছিলেন বলে কখনো গর্ব করেননি। (গীতসংহিতা ৩১:২৪; ফিলিপীয় ২:৩) এর পরিবর্তে, তিনি মর্দখয়ের কাছ থেকে পরামর্শ এবং সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে ভেবেচিন্তে এবং সম্মান দেখিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে, তিনি যা বলতে চেয়েছিলেন, তা সাহসের সঙ্গে বলেছিলেন। যিহুদিদের জীবন যখন ঝুঁকির মুখে ছিল, তখন তিনি সাহস দেখিয়ে বলেছিলেন যে, তিনিও একজন যিহুদি।
▸ ইষ্টেরের বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “তিনি ঈশ্বরের লোকদের পক্ষসমর্থন করেছিলেন” এবং “তিনি বিজ্ঞ, সাহসী ও নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।”
ঈষেবল
ঈষেবল কে ছিলেন? তিনি ইজরায়েলের রাজা আহাবের স্ত্রী ছিলেন। ঈষেবল ইজরায়েলীয় ছিলেন না এবং যিহোবার উপাসনা করতেন না। তিনি কনানের দেবতা বালের উপাসনা করতেন।
তিনি কী করেছিলেন? রানি ঈষেবল যা চাইতেন, তা করার জন্য লোকদের বাধ্য করতেন। তিনি নিষ্ঠুর এবং হিংস্র প্রকৃতির ছিলেন। তিনি বাল উপাসনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত অনৈতিক কাজকে সমর্থন করেছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি সত্য ঈশ্বর যিহোবার উপাসনা করার ক্ষেত্রে লোকদের থামানোর চেষ্টা করেছিলেন।—১ রাজাবলি ১৮:৪, ১৩; ১৯:১-৩.
নিজের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য তিনি মিথ্যা কথা বলতেন এবং লোকদের হত্যা করতেন। (১ রাজাবলি ২১:৮-১৬) অবশেষে খুবই খারাপভাবে তার মৃত্যু হয় এবং তার মৃতদেহ কবর দেওয়াও হয় না। ঈশ্বর আগে থেকে বলেছিলেন যে, তার প্রতি এমনটাই ঘটবে।—১ রাজাবলি ২১:২৩; ২ রাজাবলি ৯:১০, ৩২-৩৭.
ঈষেবলের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? ঈষেবল একজন দুষ্ট মহিলা ছিলেন। আমাদের তার মতো কখনোই হওয়া উচিত নয়। তিনি অনৈতিক জীবনযাপন করতেন এবং যা চাইতেন, তা পাওয়ার জন্য যেকোনো পর্যায়ে যেতে পারতেন। ঈষেবল এতটাই খারাপ ছিলেন যে, যে-সমস্ত মহিলা খুবই নির্লজ্জ ও চরিত্রহীন ছিল এবং দুঃসাহসী মনোভাব দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করত, তাদের সবাইকে ঈষেবল নামে ডাকা হত।
দবোরা
দবোরা কে ছিলেন? তিনি একজন ভাববাদিনী ছিলেন। যিহোবা তাঁর লোকদের কাছ থেকে কী চান, তা তিনি দবোরাকে জানাতেন এবং দবোরা তা লোকদের বলতেন। ইজরায়েলীয়েরা যখন কোনো মামলা নিয়ে আসত, তখন তা সমাধান করার দায়িত্বও ঈশ্বর তাকে দিয়েছিলেন।—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৪:৪, ৫.
তিনি কী করেছিলেন? দবোরা সাহসের সঙ্গে ঈশ্বরের লোকদের সমর্থন করেছিলেন। ঈশ্বরের আজ্ঞার বাধ্য হয়ে দবোরা বারককে বলেছিলেন, বারক যেন ইজরায়েলীয় সৈন্যদের নিয়ে কনানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। কারণ, কনানীয়েরা ইজরায়েলীয়দের উপর অত্যাচার করত। (বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৪:৬, ৭) যখন বারক দবোরাকে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলেন, তখন দবোরা ভয় পেয়ে তাকে না বলেননি বরং তিনি ইচ্ছুক মনোভাব দেখিয়ে তার সঙ্গে গিয়েছিলেন।—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৪:৮, ৯.
ঈশ্বর ইজরায়েলীয়দের জয়ী হতে সাহায্য করেছিলেন আর এই আনন্দে দবোরা ও বারক একটা গান গেয়েছিলেন। সেই গানের কিছু কথা দবোরা রচনা করেছিলেন। এই গানে তিনি যায়েল এবং অন্যান্য নারীর বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, যারা কনানীয়দের পরাজিত করার জন্য ইজরায়েলীয়দের সাহায্য করেছিলেন।—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৫.
দবোরার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? দবোরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি অন্যদেরও সাহস বৃদ্ধি করেছিলেন, যাতে তারা যিহোবার দৃষ্টিতে যা সঠিক, তা-ই করতে পারে। আর লোকেরা যখন এমনটা করেছিলেন, তখন তিনি হৃদয় থেকে তাদের প্রশংসা করেছিলেন।
▸ দবোরার বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “আমি মায়ের মতো তাদের যত্ন নিলাম।” (ইংরেজি)
দলীলা
দলীলা কে ছিলেন? ইজরায়েলের বিচারক শিম্শোন যার প্রেমে পড়েছিলেন, তিনিই ছিলেন দলীলা।—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ১৬:৪, ৫.
তিনি কী করেছিলেন? তিনি শিম্শোনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। যিহোবা শিম্শোনকে ব্যবহার করে পলেষ্টীয়দের হাত থেকে ইজরায়েলীয়দের উদ্ধার করতেন। পলেষ্টীয়েরা শিম্শোনকে ধরতে পারছিল না, কারণ ঈশ্বর তাকে এমন শক্তি দিয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা ছিল। (বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ১৩:৫) তাই, পলেষ্টীয় শাসনকর্তারা দলীলাকে বলে, তিনি যদি শিম্শোনকে তাদের হাতে ধরিয়ে দেন, তা হলে তারা তাকে প্রচুর অর্থ দেবে। এতে দলীলা তাদের কথায় রাজি হয়ে যান।
পলেষ্টীয়েরা দলীলাকে খুঁজে বের করতে বলে যে, শিম্শোনের শক্তির উৎস কী। দলীলা অর্থের লোভে এই বিষয়টা জানার জন্য শিম্শোনের সামনে ঘ্যানঘ্যান করতে থাকেন। অবশেষে, তিনি শিম্শোনের কাছ থেকে বিষয়টা জেনে নেন। (বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ১৬:১৫-১৭) পরে, তিনি পলেষ্টীয়দের তা বলে দেন। তখন তারা এসে শিম্শোনকে ধরে ফেলে আর তাকে কারাগারে বন্দি করে।—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ১৬:১৮-২১.
দলীলার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? দলীলা খুবই স্বার্থপর ছিলেন। তিনি অর্থের লোভে ঈশ্বরের উপাসক শিম্শোনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। আমাদের কখনোই দলীলার মতো কাজ করা উচিত নয়।
মরিয়ম
মরিয়ম কে ছিলেন? তিনি মোশি ও হারোণের বোন ছিলেন। মরিয়ম বাইবেলে উল্লেখিত প্রথম ভাববাদিনী ছিলেন।
মরিয়ম কী করেছিলেন? একজন ভাববাদিনী হিসেবে তিনি লোকদের কাছে ঈশ্বরের বার্তা জানাতেন। ইজরায়েলীয়েরা তাকে অনেক সম্মান করত। লোহিত সাগরে মিশরীয় সৈন্যদের ধ্বংসের পর ইজরায়েলীয় পুরুষেরা যখন আনন্দে বিজয়সংগীত গাইছিল, তখন মরিয়মও তাদের সঙ্গে গেয়েছিলেন।—যাত্রাপুস্তক ১৫:১, ২০, ২১.
কিছু সময় পর, মরিয়ম ও হারোণ মোশির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। তারা হয়তো গর্বিত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাদের ভাইকে ঈর্ষা করতে শুরু করেছিলেন। তারা মোশির বিরুদ্ধে যা বলেছিলেন, সেইসমস্ত কথা ঈশ্বর “শুনিলেন।” (গণনাপুস্তক ১২:১-৯) ঈশ্বর মরিয়ম ও হারোণকে কড়াভাবে পরামর্শ দেন। এরপর, তিনি মরিয়মকে কুষ্ঠ রোগ দিয়ে আঘাত করেন, কারণ মরিয়মই হয়তো প্রথম মোশির বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছিলেন। মোশি যখন ঈশ্বরের কাছে মরিয়মকে সুস্থ করে দেওয়ার জন্য বিনতি করেন, তখন ঈশ্বর তাকে সুস্থ করে দেন। কুষ্ঠ রোগ হওয়ার কারণে মরিয়মকে সাত দিন ইজরায়েলীয়দের শিবির থেকে দূরে আলাদা থাকতে হয়। তারপর, তাকে আবার শিবিরে নিয়ে আসা হয়।—গণনাপুস্তক ১২:১০-১৫.
যিহোবা যখন মরিয়মকে সংশোধন করেছিলেন, তখন তিনি তা মেনে নিয়েছিলেন। কেন আমরা তা বলতে পারি? কারণ শত শত বছর পর, ঈশ্বর মরিয়ম সম্বন্ধে একটা ভালো বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ইজরায়েলীয়দের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, মরিয়মকে ভাববাদিনী হিসেবে এক বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: “আমি … তোমার অগ্রে মোশিকে, হারোণকে ও মরিয়মকে পাঠাইয়াছিলাম।”—মীখা ৬:৪.
মরিয়মের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? মরিয়মের বিবরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি, ঈশ্বরের লোকেরা যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলে অথবা অন্যদের বিষয়ে কথা বলে, তখন ঈশ্বর মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন। আমরা এও শিখতে পারি যে, আমাদের গর্বিত হওয়া এবং অন্যদের ঈর্ষা করা উচিত নয়। এমনটা করলে আমরা অন্যদের সুনাম নষ্ট করে ফেলতে পারি।
মরিয়ম (মার্থা ও লাসারের বোন)
মরিয়ম কে ছিলেন? তিনি মার্থা ও লাসারের বোন ছিলেন। তারা তিন জনই যিশুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? মরিয়ম বিশ্বাস করতেন, যিশু হলেন ঈশ্বরের পুত্র এবং যিশুর প্রতি তার গভীর সম্মান ছিল। তিনি বলেছিলেন, যিশু যদি সেখানে থাকতেন, তা হলে তার ভাই লাসার মারা যেতেন না। যিশু যখন লাসারকে পুনরুত্থিত করেছিলেন, তখন মরিয়ম সেখানে ছিলেন। একবার তিনি যখন তার বোন মার্থাকে ঘরের কাজে সাহায্য না করে বরং যিশুর কথা শুনছিলেন, তখন মার্থার এই বিষয়টা ভালো লাগেনি। কিন্তু, যিশু মরিয়মের প্রশংসা করেছিলেন। কারণ, মরিয়ম অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়ে ঈশ্বরের বাক্যকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।—লূক ১০:৩৮-৪২.
একবার মরিয়ম যিশুর প্রতি আতিথেয়তা দেখানোর জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করেন। তিনি “খুব দামি সুগন্ধি তেল” নিয়ে তা যিশুর মাথায় ও পায়ে ঢেলে দেন। (মথি ২৬:৬, ৭) তখন কিছু ব্যক্তি বলেন, মরিয়ম অযথাই টাকা নষ্ট করেছেন। কিন্তু, যিশু বলেছিলেন, মরিয়ম সঠিক কাজ করেছেন। তিনি এও বলেছিলেন, “সমস্ত জগতে যেখানেই [রাজ্যের] সুসমাচার প্রচার করা হবে, সেখানেই এই মহিলার স্মরণে তার এই কাজের বিষয়েও উল্লেখ করা হবে।”—মথি ২৪:১৪; ২৬:৮-১৩.
মরিয়মের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? তার বিশ্বাস অনেক দৃঢ় ছিল। তিনি কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর চেয়ে ঈশ্বরের উপাসনাকে প্রথম স্থান দিয়েছিলেন। যিশুর প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য তিনি অনেক অর্থ ব্যয় করেছিলেন।
মরিয়ম (যিশুর মা)
মরিয়ম কে ছিলেন? তিনি একজন যিহুদি যুবতী ছিলেন। তিনি কুমারী অবস্থাতেই অলৌকিকভাবে গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং ঈশ্বরের পুত্র যিশুর জন্ম দিয়েছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি নম্রভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করেছিলেন। একজন স্বর্গদূত তাকে বলেছিলেন, তিনি গর্ভবতী হবেন এবং মশীহের জন্ম দেবেন। সেইসময় যোষেফের সঙ্গে তার বাগ্দান হয়ে গিয়েছিল, তবে তার বিয়ে তখনও হয়নি। (লূক ১:২৬-৩৩) তারপরও, তিনি বলেছিলেন যে, ঈশ্বর যেমনটা চান, তেমনটাই হোক। যিশুর জন্মের পর মরিয়ম ও যোষেফের আরও সন্তান হয়। বাইবেলে তাদের চার ছেলে এবং দুই মেয়ের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এখান থেকে বোঝা যায়, মরিয়ম সারাজীবন কুমারী থাকেননি। (মথি ১৩:৫৫, ৫৬) যদিও মরিয়ম যিশুকে জন্ম দেওয়ার বিশেষ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তিনি কখনো অন্যদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পাওয়ার চেষ্টা করেননি। আর অন্যেরাও তার সঙ্গে কখনো এভাবে আচরণ করেননি। যিশু যখন পৃথিবীতে ছিলেন এবং পরবর্তী সময় যখন খ্রিস্টীয় মণ্ডলী গঠিত হয়েছিল, তখনও মরিয়ম নিজেকে বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেননি।
মরিয়মের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? মরিয়ম সবসময় ঈশ্বরের কথা মেনে চলতেন। তাই, ঈশ্বর যখন তাকে যিশুর মা হওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তখন তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি শাস্ত্র খুব ভালোভাবে জানতেন। লূক ১:৪৬-৫৫ পদে মরিয়মের বলা কিছু কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে মরিয়ম অন্ততপক্ষে ২০ বার শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি করে কথা বলেছিলেন।
▸ মরিয়মের বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “মরিয়মের উদাহরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?” (ইংরেজি)
মগ্দলীনী মরিয়ম
মগ্দলীনী মরিয়ম কে ছিলেন? তিনি যিশুর একজন শিষ্য ছিলেন। তিনি সবসময় যিশুর প্রতি অনুগত ছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি সেই নারীদের মধ্যে একজন ছিলেন, যারা যিশু এবং তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে দূরদূরান্ত পর্যন্ত যাত্রা করতেন। তিনি যিশু এবং তাঁর শিষ্যদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জোগানোর জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করেছিলেন। (লূক ৮:১-৩) যিশু যতদিন পৃথিবীতে সেবা করেছিলেন, ততদিন মরিয়ম তাঁকে সমর্থন করে গিয়েছিলেন। যিশুকে হত্যা করার সময়ও তিনি তাঁর কাছে ছিলেন। যিশু যখন পুনরুত্থিত হয়েছিলেন, তখন কিছু ব্যক্তি সবার প্রথমে তাঁকে দেখার সুযোগ পেয়েছিল। তাদের মধ্যে মগ্দলীনী মরিয়মও ছিলেন।—যোহন ২০:১১-১৮.
মগ্দলীনী মরিয়মের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? তিনি হৃদয় থেকে যিশুর জন্য অর্থ ব্যয় করেছিলেন, যাতে তিনি তাঁর সেবা ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। তিনি সবসময় যিশুর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন।
মার্থা
মার্থা কে ছিলেন? তিনি লাসার ও মরিয়মের বোন ছিলেন। তারা তিন জন জেরুসালেমের কাছে বৈথনিয়া নামে একটা গ্রামে থাকতেন।
তিনি কী করেছিলেন? মার্থা, তার বোন মরিয়ম এবং তার ভাই লাসার যিশুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। যিশু তাদের তিন জনকে খুব ভালোবাসতেন। (যোহন ১১:৫) মার্থা অতিথিপরায়ণ ছিলেন। একবার যিশু যখন তাদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখন মার্থা যিশুর জন্য বিভিন্ন আয়োজনের ব্যবস্থা করায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু, মরিয়ম যিশুর কাছে বসে তাঁর কথা শুনছিলেন। মার্থা যিশুকে অভিযোগ করে বলেন যে, মরিয়ম তাকে সাহায্য করছেন না। তখন যিশু প্রেমের সঙ্গে মার্থাকে বলেন, মরিয়ম সঠিক কাজই করছেন।—লূক ১০:৩৮-৪২.
লাসার যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন মার্থা এবং তার বোন যিশুকে ডেকে পাঠান। তারা একেবারে নিশ্চিত ছিলেন যে, যিশু লাসারকে সুস্থ করতে পারবেন। (যোহন ১১:৩, ২১) কিন্তু, লাসার মারা যান। মার্থার এই বিশ্বাস ছিল, ভবিষ্যতে তার ভাইকে পুনরুত্থিত করা হবে। তার এও বিশ্বাস ছিল যে, যিশুর কাছে সেই মুহূর্তেই তার ভাইয়ের জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।—যোহন ১১:২০-২৭.
মার্থার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আতিথেয়তা দেখানোর জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করতেন। একবার যিশু যখন তার চিন্তাভাবনা সংশোধন করেছিলেন, তখন তিনি তা মেনে নিয়েছিলেন। তিনি নিজের মনের কথা খুলে বলতেন এবং তিনি যা বিশ্বাস করতেন, সেটাও খুলে বলতেন।
▸ মার্থার বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “আমি বিশ্বাস করিয়াছি।”
যায়েল
যায়েল কে ছিলেন? তিনি হেবর নামে একজন ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন। হেবর ইজরায়েলীয় ছিলেন না। যায়েল ঈশ্বরের লোকদের সাহায্য করার জন্য সাহসের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? কনানের সেনাপতি সীষরা যখন ইজরায়েলীদের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গিয়েছিলেন আর লুকোনোর জন্য যায়েলের তাঁবুর কাছে এসেছিলেন, তখন যায়েল বুদ্ধি সহকারে কাজ করেছিলেন। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তিনি সীষরাকে তাঁবুর ভিতরে আসতে বলেছিলেন। সীষরা যখন তাঁবুর ভিতরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, তখন যায়েল তাকে হত্যা করেছিলেন।—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৪:১৭-২১.
যায়েল যা করেছিলেন, সেটার মাধ্যমে দবোরার বলা এই ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হয়েছিল: “যিহোবা সীষরাকে একজন মহিলার হাতে সমর্পণ করবেন।” (বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৪:৯) যায়েলকে প্রশংসা করে বলা হয়েছে, “সমস্ত মহিলার মধ্যে তিনি ধন্য।”—বিচারকর্তৃগণের বিবরণ ৫:২৪.
যায়েলের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? যায়েল নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে এবং সাহসের সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার বিবরণ থেকে বোঝা যায়, যিহোবা তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করার জন্য যেকোনো উপায় ব্যবহার করতে পারেন।
রাহব
রাহব কে ছিলেন? তিনি একজন বেশ্যা ছিলেন এবং তিনি কনানের যিরীহো নগরে বাস করতেন। পরে, তিনি মিথ্যা উপাসনা ছেড়ে যিহোবার সেবা করতে শুরু করেছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি সেই দু-জন গুপ্তচরকে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যারা কনান দেশের খোঁজখবর নিতে এসেছিল। তিনি সেই গুপ্তচরদের সাহায্য করেছিলেন, কারণ তিনি শুনেছিলেন যিহোবা কীভাবে ইজরায়েলীয়দের মিশরের হাত থেকে আর পরে ইমোরীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন।
রাহব সেই গুপ্তচরদের সাহায্য করার পর তাদের কাছে এই বিনতি করেন, তারা যখন যিরীহো নগর ধ্বংস করতে আসবে, তখন যেন তার এবং তার পরিবারকে রক্ষা করে। তারা রাহবের কথায় রাজি হয়ে যায়। তবে তারা তাকে কিছু শর্ত দেয়: রাহব যেন তাদের কথা কাউকে না বলেন এবং তারা যখন নগরটা ধ্বংস করতে আসবে, তখন রাহব এবং তার পরিবার যেন বাড়ির ভিতরেই থাকে। তারা এও বলে, রাহব যেন তার বাড়ির জানালায় একটা লাল রঙের দড়ি বেঁধে রাখেন, যাতে সেই গুপ্তচরেরা তার বাড়ি চিনতে পারে। রাহব সেই গুপ্তচরদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশনা পালন করেন আর তাই তিনি এবং তার পরিবার ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পান।
পরে, রাহব একজন ইজরায়েলীয় ব্যক্তিকে বিয়ে করেন আর রাজা দায়ূদ এবং যিশু খ্রিস্টের পূর্বপুরুষী হয়ে ওঠেন।—যিহোশূয়ের পুস্তক ২:১-২৪; ৬:২৫; মথি ১:৫, ৬, ১৬.
রাহবের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? বাইবেলে বলা হয়েছে, রাহব বিশ্বাস দেখানোর ক্ষেত্রে এক চমৎকার উদাহরণ। (ইব্রীয় ১১:৩০, ৩১; যাকোব ২:২৫) তার বিবরণ দেখায় যে, যারা মন্দ কাজ করা ছেড়ে দেয়, তাদের যিহোবা ক্ষমা করে দেন। যিহোবা কারো সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব করেন না। একজন ব্যক্তির দেশ ও ভাষা যা-ই হোক না কেন, তিনি যদি যিহোবার উপর আস্থা রাখেন, তা হলে যিহোবা তাকে আশীর্বাদ করবেন।
▸ রাহবের বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “তিনি ‘কাজের মাধ্যমে ধার্মিক বলে গণ্য’ হয়েছিলেন।”(ইংরেজি)
রাহেল
রাহেল কে ছিলেন? তিনি লাবনের মেয়ে এবং যাকোবের স্ত্রী ছিলেন। যাকোব তার দু-জন স্ত্রীর মধ্যে রাহেলকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি যাকোবের দু-জন ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন। এই দু-জন ছেলে ইজরায়েলের ১২ বংশের মধ্যে দুই বংশের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। রাহেল যখন তার বাবার মেষপাল চরাচ্ছিলেন, তখন যাকোবের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। (আদিপুস্তক ২৯:৯, ১০) তিনি তার দিদি লেয়ার চেয়ে আরও বেশি “রূপবতী” ছিলেন।—আদিপুস্তক ২৯:১৭.
যাকোব রাহেলকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। আর তাকে বিয়ে করার জন্য তিনি সাত বছর কাজ করতেও রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ২৯:১৮) কিন্তু, লাবন যাকোবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন আর তার বড়ো মেয়ে লেয়ার সঙ্গে যাকোবের বিয়ে দেন। পরে, লাবন রাহেলের সঙ্গেও তার বিয়ে দেন।—আদিপুস্তক ২৯:২৫-২৭.
যাকোব রাহেল এবং তার দু-জন ছেলেকে, লেয়া এবং তার সন্তানদের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। (আদিপুস্তক ৩৭:৩; ৪৪:২০, ২৭-২৯) এই কারণে, রাহেল ও লেয়ার মধ্যে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকত।—আদিপুস্তক ২৯:৩০; ৩০:১, ১৫.
রাহেলের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? রাহেলের পরিবারে সবসময় কোনো-না-কোনো সমস্যা লেগেই ছিল। তারপরও, তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, ঈশ্বর তার প্রার্থনা অবশ্যই শুনবেন। (আদিপুস্তক ৩০:২২-২৪) রাহেলের বিবরণ থেকে এটা বোঝা যায়, যারা একের অধিক বিয়ে করে, তাদের পরিবারের মধ্যে শান্তি থাকে না। তাই, ঈশ্বর আদম ও হবার সময়ে একজন পুরুষের কেবল একজন স্ত্রী থাকার বিষয়ে যে-মান স্থাপন করেছিলেন, সেটা মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।—মথি ১৯:৪-৬.
▸ রাহেলের বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “যে-দুঃখী বোনেরা ‘ইস্রায়েলের কুল নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন।’”
▸ অতীতে ঈশ্বর কেন কিছুসময়ের জন্য তাঁর লোকদের একের অধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন, তা জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “ঈশ্বর কি একের অধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন?” (ইংরেজি)
রিবিকা
রিবিকা কে ছিলেন? তিনি ইস্হাকের স্ত্রী ছিলেন আর তার দু-জন যমজ ছেলে ছিল। তাদের নাম এষৌ ও যাকোব।
তিনি কী করেছিলেন? ঈশ্বর তার কাছ থেকে যা চেয়েছিলেন, তিনি সবসময় তা-ই করেছিলেন। এমনকী তা করা কঠিন হওয়া সত্ত্বেও। একবার রিবিকা যখন কুয়ো থেকে জল নিচ্ছিলেন, তখন একজন ব্যক্তি তার কাছে খাওয়ার জন্য কিছুটা জল চান। রিবিকা সঙ্গেসঙ্গে তাকে জল খেতে দেন আর তার উটগুলোকেও জল খাওয়ান। (আদিপুস্তক ২৪:১৫-২০) সেই ব্যক্তি অব্রাহামের একজন দাস ছিলেন। তিনি অনেক দূর থেকে ইস্হাকের জন্য স্ত্রী খুঁজতে এসেছিলেন। (আদিপুস্তক ২৪:২-৪) তিনি সাহায্য চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করেছিলেন। সেই দাস যখন দেখেন যে, রিবিকা অনেক পরিশ্রমী এবং তার সঙ্গে কত ভালো আচরণ করেছেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, ঈশ্বর তার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছেন। অন্যভাবে বললে, ঈশ্বর তাকে বুঝতে সাহায্য করেছেন যে, ইস্হাকের জন্য রিবিকাই উপযুক্ত।—আদিপুস্তক ২৪:১০-১৪, ২১, ২৭.
রিবিকা যখন জানতে পারেন, অব্রাহামের দাস তাকে ইস্হাকের স্ত্রী হিসেবে নিয়ে যেতে চান, তখন তিনি রাজি হয়ে যান। পরে, রিবিকা তার সঙ্গে চলে যান এবং ইস্হাকের স্ত্রী হন। (আদিপুস্তক ২৪:৫৭-৫৯) তার দু-জন যমজ ছেলে হয়। যিহোবা রিবিকাকে বলেছিলেন, তার বড়ো ছেলে এষৌ তার ছোটো ছেলে যাকোবের দাস হবেন। (আদিপুস্তক ২৫:২৩) ইস্হাক যখন এষৌকে জ্যেষ্ঠাধিকারের আশীর্বাদ দিতে চেয়েছিলেন, তখন রিবিকা কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যাতে যাকোব সেই আশীর্বাদ লাভ করেন, কারণ রিবিকা জানতেন, ঈশ্বর এটাই চান।—আদিপুস্তক ২৭:১-১৭.
রিবিকার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? রিবিকা নিজের সীমাবদ্ধতা জানতেন। তিনি খুব পরিশ্রমী ছিলেন এবং অন্যদের প্রতি আতিথেয়তা দেখাতেন। এই গুণাবলির কারণে তিনি ভালোভাবে একজন স্ত্রী এবং মায়ের ভূমিকা পালন করতে পেরেছিলেন আর যিহোবার একজন উত্তম উপাসক হয়ে উঠেছিলেন।
▸ রিবিকার বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “যাইব।”(ইংরেজি)
রূৎ
রূৎ কে ছিলেন? তিনি একজন মোয়াবীয় মহিলা ছিলেন। তিনি যিহোবার উপাসনা করার জন্য নিজের দেবতাদের এবং নিজের দেশ ছেড়ে ইজরায়েলে চলে এসেছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি তার শাশুড়ি নয়মীকে খুব ভালোবাসতেন আর তার জন্য অনেক ত্যাগস্বীকার করেছিলেন। অনেক আগে ইজরায়েলে যখন দুর্ভিক্ষ হয়, তখন নয়মী নিজের স্বামী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে মোয়াব দেশে চলে যান। সেখানে তার ছেলেরা রূৎ ও অর্পা নামে দু-জন মোয়াবীয় মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু, কিছু সময় পর নয়মীর স্বামী এবং দুই ছেলে মারা যায়। নয়মী, রূৎ ও অর্পা তিন জনই বিধবা হয়ে যান।
পরে, নয়মী যখন জানতে পারেন, ইজরায়েলে দুর্ভিক্ষ শেষ হয়ে গিয়েছে, তখন তিনি আবারও সেখানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রূৎ ও অর্পাও তার সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, নয়মী তাদের তার সঙ্গে যেতে বারণ করেন আর নিজেদের আত্মীয়স্বজনের কাছে ফিরে যেতে বলেন। অর্পা ফিরে যান। (রূতের বিবরণ ১:১-৬, ১৫) কিন্তু, রূৎ নয়মীকে ছেড়ে যান না। তিনি তার শাশুড়িকে খুব ভালোবাসতেন আর তিনি নয়মীর ঈশ্বর যিহোবার উপাসনা করতে চেয়েছিলেন।—রূতের বিবরণ ১:১৬, ১৭; ২:১১.
রূৎ নিজের শাশুড়ি নয়মীর সঙ্গে তার নগর বেথলেহেমে চলে যান। সেখানে তিনি খুব কম সময়ের মধ্যে এক সুনাম অর্জন করেন কারণ তিনি অনেক পরিশ্রমী ছিলেন এবং খুব ভালোভাবে নিজের শাশুড়ির যত্ন নিতেন। রূতের এই বিষয়টা বোয়স নামে একজন ব্যক্তির খুব ভালো লাগে। বোয়স অনেক ধনী ছিলেন এবং তার প্রচুর জমি ছিল। তিনি রূৎ এবং তার শাশুড়ি নয়মীর জন্য অনেক শস্য দিয়েছিলেন। (রূতের বিবরণ ২:৫-৭, ২০) পরে, বোয়স রূৎকে বিয়ে করেন এবং রূৎ রাজা দায়ূদ ও যিশু খ্রিস্টের পূর্বপুরুষী হয়ে ওঠেন।—মথি ১:৫, ৬, ১৬.
রূতের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? রূৎ নয়মী এবং যিহোবাকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, তাদের জন্য তিনি নিজের দেশ ও আত্মীয়স্বজনকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন। রূৎ খুবই পরিশ্রমী ছিলেন এবং যিহোবার প্রতি তার একাগ্র ভক্তি ছিল। তিনি এমনকী কঠিন সময়েও নয়মীর পাশে ছিলেন।
▸ রূতের বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “তুমি যেখানে যাইবে, আমিও তথায় যাইব” এবং “এক চমৎকার মহিলা।”
লেয়া
লেয়া কে ছিলেন? তিনি কুলপতি যাকোবের প্রথম স্ত্রী ছিলেন। লেয়ার ছোটো বোন রাহেল যাকোবের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।—আদিপুস্তক ২৯:২০-২৯.
তিনি কী করেছিলেন? লেয়া যাকোবের ছ-টি ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন। (রূতের বিবরণ ৪:১১) যাকোব আসলে লেয়াকে নয়, বরং রাহেলকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। লেয়া ও রাহেলের বাবা লাবন যাকোবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন এবং লেয়ার সঙ্গে তার বিয়ে দিয়েছিলেন। যাকোব যখন লাবনকে জিজ্ঞেস করেন যে, কেন তিনি তার সঙ্গে এমনটা করেছেন, তখন লাবন বলেন, ছোটো মেয়ের আগে বড়ো মেয়ের বিয়ে দেওয়া তাদের জায়গার প্রথা। এক সপ্তাহ পর, যাকোব রাহেলকেও বিয়ে করেন।—আদিপুস্তক ২৯:২৬-২৮.
যাকোব লেয়ার চেয়ে রাহেলকে বেশি ভালোবাসতেন। (আদিপুস্তক ২৯:৩০) এই কারণে, লেয়া রাহেলকে হিংসা করতেন আর চেষ্টা করতেন যেন যাকোব রাহেলের চেয়ে তাকে বেশি ভালোবাসেন। যিহোবা লেয়ার অনুভূতির প্রতি মনোযোগ দেন এবং তাকে সাতটি সন্তান দিয়ে আশীর্বাদ করেন। তার একটি মেয়ে এবং ছ-টি ছেলে হয়।—আদিপুস্তক ২৯:৩১.
লেয়ার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? লেয়ার পরিবারে অনেক সমস্যা ছিল। তারপরও, তিনি ঈশ্বরের উপর আস্থা রেখেছিলেন এবং প্রার্থনা করে তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ২৯:৩২-৩৫; ৩০:২০) লেয়ার বিবরণ থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, একের অধিক বিয়ে করলে পরিবারে শান্তি থাকে না। ঈশ্বর কিছু সময়ের জন্য তাঁর লোকদের একের অধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে, একেবারে প্রথম থেকে তিনি এই নিয়ম স্থির করেছেন যে, একজন পুরুষের যেন একজনই স্ত্রী থাকে।—মথি ১৯:৪-৬.
▸ লেয়ার বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “যে-দুঃখী বোনেরা ‘ইস্রায়েলের কুল নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন।’”
▸ অতীতে ঈশ্বর কেন কিছুসময়ের জন্য তাঁর লোকদের একের অধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন, তা জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “ঈশ্বর কি একের অধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন?” (ইংরেজি)
লোটের স্ত্রী
লোটের স্ত্রী কে ছিলেন? বাইবেলে তার নাম লেখা নেই। কিন্তু এটা লেখা আছে, তার দুই মেয়ে ছিল। তিনি এবং তার পরিবার সদোম নগরে থাকত।—আদিপুস্তক ১৯:১, ১৫.
তিনি কী করেছিলেন? তিনি ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিলেন। ঈশ্বর বলেছিলেন, তিনি সদোম এবং সেটার আশেপাশের নগরগুলো ধ্বংস করে দেবেন, কারণ সেখানকার লোকেরা অনেক মন্দ কাজ করত। কিন্তু, লোট একজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। যিহোবা তাকে এবং তার পরিবারকে ভালোবাসতেন। তাই, যিহোবা সদোম নগর ধ্বংসের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য দু-জন স্বর্গদূতকে তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন।—আদিপুস্তক ১৮:২০; ১৯:১, ১২, ১৩.
স্বর্গদূতেরা তাদের বলেন, তারা যেন সদোম ও সেটার আশেপাশের এলাকা ছেড়ে অনেক দূরে পালিয়ে যায় এবং পিছন ফিরে না তাকায়; তা নাহলে তারা মারা যাবে। (আদিপুস্তক ১৯:১৭) কিন্তু, লোটের স্ত্রী “পিছন হইতে পশ্চাৎ দিকে দৃষ্টি করিল, আর লবণস্তম্ভ হইয়া গেল।”—আদিপুস্তক ১৯:২৬.
লোটের স্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? তার বিবরণ থেকে আমরা শিখতে পারি যে, আমরা যদি ধনসম্পত্তি বা টাকাপয়সাকে ভালোবাসি এবং ঈশ্বরের অবাধ্য হই, তা হলে আমাদেরও পরিণতি খারাপ হবে। যিশুও বলেছিলেন, আমাদের লোটের স্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করা উচিত। তিনি বলেছিলেন: “লোটের স্ত্রীর কথা স্মরণ করো।”—লূক ১৭:৩২.
শূলম্মীয়া মেয়ে
শূলম্মীয়া মেয়ে কে ছিলেন? তিনি এক গ্রামে বাস করতেন আর খুবই সুন্দরী ছিলেন। তিনি হলেন বাইবেলের পরমগীত বইয়ের প্রধান চরিত্র। কিন্তু, বাইবেলে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি একজন মেষপালককে ভালোবাসতেন এবং তার প্রতি অনুগত ছিলেন। (পরমগীত ২:১৬) রাজা শলোমন যখন দেখেছিলেন, সেই শূলম্মীয়া মেয়ে খুবই সুন্দরী, তখন শলোমন তাকে পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। (পরমগীত ৭:৬) অন্যেরা সেই মেয়েকে বলেছিল যেন তিনিও শলোমনকে ভালোবাসেন। যদিও শলোমন অনেক ধনী ছিলেন, তারপরও সেই মেয়ে তাকে না বলেছিলেন। তিনি সেই গরিব মেষপালককেই ভালোবাসতেন আর তার প্রতিই অনুগত ছিলেন।—পরমগীত ৩:৫; ৭:১০; ৮:৬.
শূলম্মীয়া মেয়ের কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? তিনি অনেক সুন্দরী ছিলেন এবং সবাই তার প্রশংসা করত। তা সত্ত্বেও, তিনি গর্বিত হয়ে পড়েননি। তিনি অন্যদের চাপের কাছে নতিস্বীকার করেননি, বরং তিনি ধনসম্পদ ও খ্যাতি লাভ করার সুযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ, তিনি সেই মেষপালকের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন আর নৈতিক দিক দিয়ে শুদ্ধতা বজায় রেখেছিলেন।
সারা
সারা কে ছিলেন? তিনি অব্রাহামের স্ত্রী এবং ইস্হাকের মা ছিলেন।
তিনি কী করেছিলেন? সারা ঊর নামে এক সমৃদ্ধিশালী নগরে বাস করতেন। সেখানে তার কোনো কিছুরই অভাব ছিল না। ঈশ্বর তার স্বামী অব্রাহামকে বলেছিলেন, তিনি যেন ঊর ছেড়ে কনান দেশে গিয়ে বাস করেন। ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি অব্রাহামকে আশীর্বাদ করবেন এবং তার মাধ্যমে এক বড়ো জাতি উৎপন্ন করবেন। (আদিপুস্তক ১২:১-৫) তখন সারা নিজের স্বামীর সঙ্গে ঊর নগর ছেড়ে চলে যান। কারণ, তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা অবশ্যই পূরণ করবেন। সম্ভবত, সেই সময় সারার বয়স ৬০-এর কোঠায় ছিল। ঊর ছেড়ে চলে আসার পর সারা ও অব্রাহাম যাযাবরের মতো তাঁবুতে বাস করতেন।
যাযাবরের মতো তাঁবুতে থাকার কারণে সারাকে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, তিনি তার স্বামীকে সমর্থন করে গিয়েছিলেন, যাতে তার স্বামী ঈশ্বরের নির্দেশনা মেনে চলতে পারেন। (আদিপুস্তক ১২:১০, ১৫) অনেক বছর ধরে সারার কোনো সন্তান ছিল না আর তাই তিনি অনেক দুঃখের মধ্যে থাকতেন। কিন্তু, ঈশ্বর অনেক আগেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি অব্রাহামের বংশকে আশীর্বাদ করবেন। (আদিপুস্তক ১২:৭; ১৩:১৫; ১৫:১৮; ১৬:১, ২, ১৫) পরে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেন, সারা অব্রাহামের জন্য একটি সন্তানের জন্ম দেবেন। ঈশ্বর যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক তেমনটাই হয়। সারার যদিও সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল, তারপরও তিনি একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। সেই সময় সারার বয়স ৯০ বছর এবং অব্রাহামের বয়স ১০০ বছর ছিল। (আদিপুস্তক ১৭:১৭; ২১:২-৫) তারা তাদের সন্তানের নাম দেন ইস্হাক।
সারার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? সারার উদাহরণ আমাদের শেখায় যে, আমরা যিহোবার উপর এই আস্থা রাখতে পারি, তিনি তাঁর সমস্ত প্রতিজ্ঞা পূরণ করবেন। এমনকী সেই সমস্ত প্রতিজ্ঞাও পূরণ করবেন, যেগুলো আমাদের কাছে অসম্ভব বলে মনে হয়। (ইব্রীয় ১১:১১) এ ছাড়া, একজন স্ত্রীর জন্য তার স্বামীকে সম্মান করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টাও আমরা সারার কাছ থেকে শিখতে পারি।—১ পিতর ৩:৫, ৬.
▸ সারার বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “তুমি দেখিতে সুন্দরী” এবং “ঈশ্বর তাকে ‘রাণী’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।”
হবা
হবা কে ছিলেন? তিনিই প্রথম নারী ছিলেন। আর বাইবেলে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রথমে হবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি কী করেছিলেন? তিনি ঈশ্বরের আজ্ঞার অবাধ্য হয়েছিলেন। হবা এবং তার স্বামী আদমকে নিখুঁত হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাদের নিজের সিদ্ধান্ত নিজেদের নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল আর ঈশ্বরের মতো গুণাবলি যেমন, প্রেম ও প্রজ্ঞা দেখানোর ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল। (আদিপুস্তক ১:২৭) ঈশ্বর আদমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, তিনি যদি একটা নির্দিষ্ট গাছের ফল খান, তা হলে তিনি মারা যাবেন। আর হবা এই বিষয়টা জানতেন। কিন্তু, শয়তান হবাকে এই বলে প্রতারিত করে, সেই ফল খেলে তিনি মারা যাবেন না বরং আরও সুখী এক জীবন উপভোগ করবেন। এই কারণে তিনি সেই ফলটা খান এবং তার স্বামীকেও তা খেতে দেন।—আদিপুস্তক ৩:১-৬; ১ তীমথিয় ২:১৪.
হবার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? ঈশ্বর তাকে একটা স্পষ্ট আজ্ঞা দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেই আজ্ঞার অবাধ্য হয়েছিলেন। আর তিনি এমন বিষয় পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, যা পাওয়ার অধিকার তার ছিল না। হবার কাছ থেকে আমরা শিখতে পারি, আমরা যদি মন্দ আকাঙ্ক্ষা নিজেদের মধ্যে বেড়ে উঠতে দিই, তা হলে এটা আমাদের জন্য বিপদজনক হতে পারে।—আদিপুস্তক ৩:৬; ১ যোহন ২:১৬.
হান্না
হান্না কে ছিলেন? তিনি ইল্কানার স্ত্রী এবং শমূয়েলের মা ছিলেন। শমূয়েল ইজরায়েলের একজন সুপরিচিত ভাববাদী হয়ে উঠেছিলেন।—১ শমূয়েল ১:১, ২, ৪-৭.
তিনি কী করেছিলেন? বিয়ের অনেক বছর পরেও হান্নার কোনো সন্তান হয়নি। তার স্বামী ইল্কানার আরেকজন স্ত্রী ছিল, যার নাম পনিন্না। পনিন্নার অনেক সন্তান ছিল আর তিনি হান্নাকে টিটকারি দিতেন। হান্না অনেক দুঃখের মধ্যে থাকতেন আর তাই, তিনি মনের শান্তি চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি তার কষ্টের কথা ঈশ্বরকে জানিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে একটা অঙ্গীকার করে বলেছিলেন যে, ঈশ্বর যদি তাকে একটি ছেলে দেন, তা হলে তিনি সেই ছেলেকে পবিত্র তাঁবুতে—যেখানে ইজরায়েলীয়েরা ঈশ্বরের উপাসনা করত—সেবা করার জন্য দিয়ে দেবেন।—১ শমূয়েল ১:১১.
ঈশ্বর তার প্রার্থনা শুনেছিলেন এবং তাকে একটি ছেলে দিয়েছিলেন। হান্না তার অঙ্গীকার পূরণ করেন। শমূয়েল ছোট্ট থাকতেই হান্না তাকে পবিত্র তাঁবুতে সেবা করার জন্য নিয়ে যান। (১ শমূয়েল ১:২৭, ২৮) প্রতি বছর হান্না শমূয়েলের জন্য একটা ছোটো হাতকাটা জামা বানিয়ে নিয়ে যেতেন। পরে, ঈশ্বরের আশীর্বাদে হান্নার আরও পাঁচটি সন্তান হয়, তিনটি ছেলে এবং দুটি মেয়ে।—১ শমূয়েল ২:১৮-২১.
হান্নার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি? হান্না প্রার্থনায় মনের সমস্ত কথা যিহোবাকে খুলে বলেছিলেন আর এই কারণে তিনি নিজের কষ্ট সহ্য করতে পেরেছিলেন। পরে, তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা প্রার্থনা করেন, যেটা ১ শমূয়েল ২:১-১০ পদে পাওয়া যায়। ঈশ্বরের প্রতি হান্নার বিশ্বাস কতটা শক্তিশালী ছিল, তা আমরা এই প্রার্থনা থেকে বুঝতে পারি।
▸ হান্নার বিষয়ে আরও জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “তিনি প্রার্থনায় ঈশ্বরের কাছে তার হৃদয় উজাড় করে দিয়েছিলেন।”
▸ অতীতে ঈশ্বর কেন তাঁর লোকদের একের অধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন, তা জানার জন্য এই প্রবন্ধ দেখুন: “ঈশ্বর কি একের অধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন?” (ইংরেজি)
বাইবেলে উল্লেখিত নারীদের সময় সারণি
জলপ্লাবন (খ্রিস্টপূর্ব ২৩৭০ সাল)
ইজরায়েলীয়েরা মিশর থেকে বের হয় (খ্রিস্টপূর্ব ১৫১৩ সাল)
ইজরায়েলের প্রথম রাজা (খ্রিস্টপূর্ব ১১১৭ সাল)
যিশুর বাপ্তিস্ম (২৯ খ্রিস্টাব্দ)
যিশুর মৃত্যু (৩৩ খ্রিস্টাব্দ)