যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
কীভাবে আমি আমার বাবা-মায়ের বিশ্বাস অর্জন করতে পারি?
তোমার যা জানা উচিত
তোমার বাবা-মা তোমাকে তখনই বিশ্বাস করবে, যখন তুমি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। বাবা-মায়ের বাধ্য হওয়া অনেকটা ঋণ পরিশোধ করার মতো। বাবা-মায়ের প্রতি বাধ্য থাকা তোমার কর্তব্য। তাই, তুমি যত বেশি তাদের প্রতি বাধ্য থাকবে, তত বেশি তুমি ঋণ পরিশোধ করতে এবং তাদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবে। অন্যদিকে, তুমি যদি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে না পার, তা হলে তারা তোমাকে যতটা স্বাধীনতা দিয়েছিল, সেটাও হয়তো তারা কেড়ে নিতে পারে। এটা হলে তুমি অবাক হোয়ো না।
বিশ্বাস অর্জন করতে সময় লাগে। তুমি যদি চাও তোমার বাবা-মা তোমাকে আরও বেশি স্বাধীনতা দিক, তা হলে এর জন্য তোমাকে তোমার বাবা-মায়ের কাছে নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে হবে।
সত্য ঘটনা: “ছোটোবেলা থেকেই আমি জানতাম যে, আমার বাবা-মা আমার কাছ থেকে ঠিক কী আশা করে আর আমি ঠিক সেগুলো করার ভান করতাম, যদিও গোপনে আমি সেটাই করতাম যেটা আমি চাইতাম। আর এর জন্যই আমার বাবা-মা আমাকে বিশ্বাস করত না। কিছু সময় পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, কাউকে ঠকিয়ে কখনো স্বাধীনতা পাওয়া যায় না। বিশ্বাস অর্জন করার জন্য তোমাকে নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে হবে।”—ক্রেগ।
তুমি যা করতে পার
কঠিন হলেও সবসময় সত্যি কথা বলার চেষ্টা কর। আমরা প্রত্যেকেই ভুল করি, কিন্তু তুমি যদি মিথ্যা কথা বলে সেটাকে লুকোনোর চেষ্টা কর, তা হলে তোমার বাবা-মা কখনোই তোমাকে বিশ্বাস করবে না। অন্যদিকে, তুমি যদি সবসময় সৎ হওয়ার চেষ্টা কর, তা হলে তোমার বাবা-মা বুঝতে পারবে যে, ভুলগুলো মেনে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ম্যাচিওরিটি তোমার মধ্যে রয়েছে। আর এই ধরনের ব্যক্তিকেই বিশ্বাস করা যায়।
“ভুল করার জন্য তুমি হয়তো সবসময় মানুষের বিশ্বাস হারাবে না, কিন্তু তুমি যদি সেটা লুকানোর চেষ্টা কর, তা হলে অবশ্যই তা হারাবে।”—অ্যানা।
বাইবেল বলে: “আমরা সমস্ত বিষয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করতে চাই।”—ইব্রীয় ১৩:১৮.
চিন্তা করার মতো বিষয়: তোমার বাবা-মা যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করে যে, তুমি কোথায় যাবে এবং কী করবে, তখন তুমি কি তাদের সমস্ত সত্যি কথা বল? না কি, তোমার বাবা-মা যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করে যে, তুমি কোথায় গিয়েছিলে এবং কী করেছিলে, তখন তুমি তাদের কাছে কোনো কিছু লুকোনোর চেষ্টা কর?
দায়িত্ববান হও। বাড়ির সমস্ত নিয়ম মেনে চল। সব কাজ সঙ্গেসঙ্গে এবং সময়মতো শেষ করার চেষ্টা কর। বাবা-মা বলার আগেই, স্কুলের হোমওয়ার্ক শেষ কর এবং তোমাকে যে-সময়ে বাড়িতে ফিরতে বলা হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে বাড়িতে ফেরো।
“তোমার বাবা-মা যদি তোমাকে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যেতে দেয় এবং রাত ৯টার মধ্যে ফিরে আসতে বলে, তা হলে রাত ১০:৩০টায় ফিরে এসো না আর এরপর এটা আশা কোরো না যে, তারা তোমাকে পরের বার বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যেতে দেবে।!”—রায়ান।
বাইবেল বলে: “প্রত্যেকে নিজ নিজ ভার বহন করবে।”—গালাতীয় ৬:৫, পাদটীকা।
চিন্তা করার মতো বিষয়: তুমি কি এটা প্রমাণ করেছ যে, তুমি সমস্ত কাজ সময়মতো শেষ কর এবং বাড়ির সব নিয়ম মেনে চল, এমনকী সেই নিয়মগুলোও যেগুলো তুমি পছন্দ কর না?
ধৈর্য ধরো। তুমি যদি তোমার বাবা-মায়ের বিশ্বাস ভেঙে থাক, তা হলে সেটা আবারও ফিরে পাওয়ার জন্য সময় লাগবে। তাই, ধৈর্য ধরো।
“বড়ো হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যখন আমার বাবা-মা আমাকে কোনো দায়িত্ব দিত না, তখন আমার খুবই খারাপ লাগত। আমি বুঝতে পারিনি যে, বয়স বেড়ে যাওয়ার মানে এই নয়, আমি বড়ো হয়ে গিয়েছি। তাই আমি আমার বাবা-মাকে বলি, তারা যেন আমাকে একটু সুযোগ দেয় যাতে আমি প্রমাণ করতে পারি যে, আমি নির্ভরযোগ্য। এর জন্য যদিও সময় লেগেছিল, কিন্তু আমি নিজেকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করতে পেরেছিলাম। আমি এটাও বুঝতে পেরেছিলাম যে, বয়স নয় বরং আমার কাজই প্রমাণ করবে, আমি নির্ভরযোগ্য কি না।”—রেচেল।
বাইবেল বলে: “তোমরা কেমন ব্যক্তি, তা প্রমাণ করে চলো।”—২ করিন্থীয় ১৩:৫.
চিন্তা করার মতো বিষয়: তোমার বাবা-মায়ের বিশ্বাস আবারও অর্জন করার জন্য তুমি কী করতে পার, যাতে তারা বুঝতে পারে ‘তুমি কেমন ব্যক্তি’?
পরামর্শ: সব কাজ সঙ্গেসঙ্গে এবং সময়মতো শেষ করার, তোমাকে যে সময়ে বাড়িতে ফিরতে বলা হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে বাড়িতে ফেরার অথবা অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য স্থির কর। তুমি যা করবে বলে ঠিক করেছ, সেটা তোমার বাবা-মাকে জানাও এবং তাদের জিজ্ঞেস কর যে, তাদের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য তুমি কী করতে পার। এরপর বাইবেলে দেওয়া এই পরামর্শটা মেনে চলার জন্য প্রচেষ্টা কর: “পুরোনো ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ আগের আচরণ পরিত্যাগ কর।” (ইফিষীয় ৪:২২) সময়ের সঙ্গেসঙ্গে তোমার বাবা-মা তোমার উন্নতি দেখতে পাবে!