স্বেচ্ছা-মৃত্যু সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে?
বাইবেলের উত্তর
স্বেচ্ছা-মৃত্যু সম্বন্ধে বাইবেলে সরাসরি কিছু বলা নেইa। কিন্তু, বাইবেল জানায়, জীবন ও মৃত্যু সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত। এর থেকে জানা যায় যে, কারো জীবন নেওয়া হল, এক গুরুতর পাপ। কিন্তু, একজন ব্যক্তির যদি বেঁচে থাকার কোনো আশা না থাকে, তা হলে দীর্ঘসময় ধরে তাকে জীবিত রাখার জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
বাইবেল বলে, ঈশ্বরই আমাদের “জীবনের উৎস।” (গীতসংহিতা ৩৬:৯; প্রেরিত ১৭:২৮) তাঁর দৃষ্টিতে আমাদের জীবন খুবই মূল্যবান। এই কারণেই ঈশ্বর একেবারেই পছন্দ করেন না যে, কোনো ব্যক্তি নিজের অথবা অন্যের জীবন নিয়ে নিক। (যাত্রাপুস্তক ২০:১৩; ১ যোহন ৩:১৫) বাইবেল এও বলে, আমাদের নিজের এবং অন্যদের জীবন সুরক্ষিত রাখার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। (দ্বিতীয় বিবরণ ২২:৮) এটা স্পষ্ট যে, ঈশ্বর প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনকে খুবই মূল্যবান বলে মনে করেন।
একজন ব্যক্তি যদি গুরুতরভাবে অসুস্থ হন, তা হলে তার জীবন নেওয়া কি ঠিক হবে?
বাইবেল অনুযায়ী এমন একজন ব্যক্তির জীবন নেওয়া ভুল হবে, যার বাঁচার কোনো আশা নেই। ইজরায়েলের রাজা শৌলের প্রতি যা ঘটেছিল, সেখান থেকে আমরা এই বিষয়টা বুঝতে পারি। তিনি যুদ্ধে গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন। শৌলের এতটাই কষ্ট হচ্ছিল যে, তিনি তার অস্ত্র বহনকারী সৈন্যকে বলেছিলেন যেন সে শৌলের জীবন নিয়ে নেয়। (১ শমূয়েল ৩১:৩, ৪) কিন্তু, সেই সৈন্য তা করতে প্রত্যাখ্যান করে। পরে একজন ব্যক্তি ঈশ্বরের সেবক দায়ূদের সামনে মিথ্যা দাবি করে যে, সে শৌলের ইচ্ছা পূরণ করেছে এবং তাকে হত্যা করেছে। তখন দায়ূদ সেই ব্যক্তিকে শৌলকে রক্তের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। দায়ূদ এইজন্যই এটা করেছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে, কাউকে হত্যা করা হল ঈশ্বরের দৃষ্টিতে এক গুরুতর পাপ।—২ শমূয়েল ১:৬-১৬.
একজন ব্যক্তিকে জীবিত রাখার জন্য কি সমস্ত ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত?
যদিও বাইবেল অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে স্বেচ্ছা- মৃত্যু দেওয়া ভুল, কিন্তু একজন ব্যক্তির অবস্থা যদি খুবই শোচনীয় হয় এবং তার বেঁচে থাকার কোনো আশাই না থাকে, তারপরও কি তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত, যেন সে কিছুসময় ধরে বেঁচে থাকে? বাইবেলে কোথাও লেখা নেই যে, তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সমস্ত ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত? যেহেতু আমরা অসিদ্ধ, তাই আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত। মৃত্যু হল আমাদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। (রোমীয় ৫:১২; ১ করিন্থীয় ১৫:২৬) কিন্তু, আমাদের মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি মৃত ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন। (যোহন ৬:৩৯, ৪০) যে-ব্যক্তি নিজের জীবনের প্রতি সম্মান দেখায়, তিনি অসুস্থ হলে উন্নতমানের চিকিৎসা করাবেন। কিন্তু, এর মানে এই নয় যে, তার যদি কোনো গুরুতর অসুস্থতা থাকে এবং এক একটা নিঃশ্বাস নেওয়া তার পক্ষে কঠিন বলে মনে হয়, তা হলেও তার চিকিৎসা করানো উচিত।
আত্মহত্যা করা কি এক গুরুতর পাপ, যার কোনো ক্ষমা নেই?
বাইবেল এটা বলে না যে, আত্মহত্যা করা হল এমন পাপ, যার কোনো ক্ষমা হয় না। যদিও এটা একটা গুরুতর পাপ,b কিন্তু ঈশ্বর জানেন যে, একজন ব্যক্তি কোন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হতে পারে, সেই ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গিয়েছিল, তিনি হয়তো দুশ্চিন্তা অথবা উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন অথবা বংশগত কারণে তার মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রচণ্ড ইচ্ছা জেগেছিল। (গীতসংহিতা ১০৩:১৩, ১৪) বাইবেলের মাধ্যমে যিহোবা হতাশাগ্রস্ত লোকদের সান্ত্বনা দেন। বাইবেলে এটাও বলা হয়েছে যে, “ধার্মিক ও অধার্মিক উভয় প্রকার লোকের পুনরুত্থান হবে।” (প্রেরিত ২৪:১৫) এর থেকে জানা যায়, যে-সমস্ত লোক আত্মহত্যার মতো গুরুতর পাপ করেছে, তাদের কাছেও পুনরুত্থানের আশা রয়েছে।
a স্বেচ্ছা-মৃত্যুকে ইউথেনেসিয়াও বলা হয়। বাদ-বিবাদ নামক বইটা বলে এটা হল, “জীবনকে শেষ করার এমন একটা পদ্ধতি, যেটার পিছনে অসুস্থ লোকদের কষ্ট এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্য রয়েছে।” কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু অসুস্থ ব্যক্তি ডাক্তারদের কাছে অনুরোধ করে যেন কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ডাক্তাররা জীবন নিয়ে নেয়।
b বাইবেলে অল্প কয়েক জন ব্যক্তির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে, যারা আত্মহত্যা করেছিল। কিন্তু, এই লোকেরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না।—২ শমূয়েল ১৭:২৩; ১ রাজাবলি ১৬:১৮; মথি ২৭:৩-৫.