যিহোবার সাক্ষিরা বিজ্ঞানকে কীভাবে দেখে থাকে?
আমরা জানি যে, বিজ্ঞান অনেক সাফল্য লাভ করেছে আর আমরা এই বিষয়টাকে সম্মান করি। আমরা বিজ্ঞানের গবেষণা করা সেই তথ্যগুলো বিশ্বাস করি, যেগুলোর প্রমাণ রয়েছে।
“প্রকৃতির বিষয়গুলো যেভাবে কাজ করে এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে অধ্যয়ন করা আর সেখান থেকে পাওয়া জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা হয়।” (কলিন্স কোবিল্ড অ্যাডভান্সড লারনার্স ডিকশনারি) বাইবেল যদিও কোনো বিজ্ঞানের বই নয়, কিন্তু এটি আমাদের প্রকৃতির বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যয়ন করতে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো থেকে উপকার লাভ করতে উৎসাহিত করে। আসুন এর কিছু উদাহরণ লক্ষ করি:
জ্যোতির্বিজ্ঞান: “আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখো। কে এগুলো সৃষ্টি করেছে? তিনিই করেছেন, যিনি তাদের এক সেনাবাহিনীর মতো গুনে গুনে বের করে আনেন, তিনি তাদের সবাইকে নাম ধরে ডাকেন।”—যিশাইয় ৪০:২৬.
জীবনবিজ্ঞান: প্রাচীন ইজরায়েলের একজন রাজা শলোমন “বিভিন্ন ধরনের গাছের বিষয়ে কথা বলতেন, লেবাননের দেবদারু গাছ থেকে শুরু করে দেওয়ালে বেড়ে ওঠা এসোবের বিষয়ে কথা বলতেন। তিনি পশু, পাখি, সরীসৃপ এবং মাছের বিষয়েও কথা বলতেন।”—১ রাজাবলি ৪:৩৩.
চিকিৎসাবিজ্ঞান: “সুস্থ লোকদের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই, কিন্তু অসুস্থ লোকদেরই প্রয়োজন।”—লূক ৫:৩১.
আবহবিদ্যা: “তুমি কি তুষারের ভাণ্ডারঘরগুলোতে গিয়েছ? তুমি কি শিলার সেই ভাণ্ডারঘরগুলো দেখেছ … ? কোন দিক থেকে পূর্বের বাতাস পৃথিবীতে বয়?”—ইয়োব ৩৮:২২-২৪.
আমরা এটা বিশ্বাস করি যে, বিজ্ঞান অনেক সাফল্য লাভ করেছে আর তাই আমরা বিজ্ঞানের বিষয়ে এবং প্রকৃতির বিষয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ তৈরি করে থাকি। যিহোবার সাক্ষিরা তাদের সন্তানদের ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহিত করে, যাতে তারা তাদের আশেপাশে থাকা প্রকৃতির বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে। সাক্ষিদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সায়েনটিফিক ফিল্ডে কাজ করে থাকে। যেমন কেউ বায়োকেমিস্ট, কেউ গণিতবিদ আবার কেউ পদার্থবিদ।
বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে
আমরা বিশ্বাস করি না যে, মানুষের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানের কাছে রয়েছে।a উদাহরণ স্বরূপ, পৃথিবী কী দিয়ে তৈরি, তা নিয়ে ভূতত্ত্ববিদেরা অধ্যয়ন করে থাকে। আর আমাদের শরীর কীভাবে কাজ করে, সেটা নিয়ে জীববিজ্ঞানীরা অধ্যয়ন করে থাকে। কিন্তু তারা এটা বলতে পারে না, কীভাবে পৃথিবী একেবারে সঠিকভাবে গঠিত হয়েছে, যাতে এখানে মানুষ ও জীবজন্তু বেঁচে থাকতে পারে। তারা এও বলতে পারে না যে, আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে মিলে কাজ করে থাকে।
আমরা জানতে পেরেছি, এই প্রশ্নগুলোর সঠিক ও যুক্তিসংগত উত্তর একমাত্র বাইবেলে রয়েছে। (গীতসংহিতা ১৩৯:১৩-১৬; যিশাইয় ৪৫:১৮) তাই আমরা বিশ্বাস করি যে, ভালো শিক্ষা লাভ করার অর্থ হল, বিজ্ঞান এবং বাইবেল দুটো থেকেই শেখা।
কখনো কখনো মনে হতে পারে, বিজ্ঞান যা বলে, তা বাইবেলের সঙ্গে মেলে না। কিন্তু, এর কারণ হয়তো এটা হতে পারে যে, বাইবেল আসলে কী শিক্ষা দেয়, তা লোকেরা সঠিকভাবে জানে না। যেমন বাইবেল যখন বলে, পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে, তখন এর অর্থ এই নয় যে, সেই দিনগুলো ২৪ ঘণ্টার দিন ছিল।—আদিপুস্তক ১:১; ২:৪.
কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে, যেগুলোকে অনেকে সঠিক বলে মনে করে। তবে, সেগুলোর কোনো প্রমাণ নেই আর কিছু সুপরিচিত বৈজ্ঞানিকও সেগুলোকে সঠিক বলে মনে করে না। উদাহরণ স্বরূপ, অনেক জীববিজ্ঞানী, রসায়নবিদ আর অন্যেরাও জানিয়েছে, প্রকৃতি প্রমাণ দেয় যে, এটাকে খুবই বিজ্ঞতার সঙ্গে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আমরাও এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে একমত। কিন্তু, আমরা এটা বিশ্বাস করি না, জীবজন্তুদের মধ্যে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে এবং যারা সবচেয়ে যোগ্য ছিল, তারাই টিকে রয়েছে আর এভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে সমস্ত জীবিত প্রাণী অস্তিত্বে এসেছে।
a অস্ট্রিয়ার একজন নোবেল পুরস্কার জয়ী পদার্থবিদ আরভিন শ্রোডিঙ্গার লিখেছেন, বিজ্ঞান “সেই বিষয়গুলোতে কোনো মন্তব্য করে না … যেগুলোর সঙ্গে আমাদের আবেগঅনুভূতি জড়িত রয়েছে আর যেগুলো সত্যিই আমাদের উপর অনেক প্রভাব ফেলে।” আ্যলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, “দুঃখজনক অভিজ্ঞতাগুলোর মাধ্যমে আমরা শিখেছি যে, সমাজে যে-সমস্যাগুলো দেখা যায়, সেগুলো সমাধান করার জন্য শুধু বুদ্ধিপূর্বক সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট নয়।”