প্রকাশিত বাক্য—এই বইয়ে লেখা কথাগুলোর অর্থ কী?
বাইবেলের উত্তর
বাইবেলের সবচেয়ে শেষ বইয়ের নাম হল প্রকাশিত বাক্য। আর এটার গ্রিক নাম হল আ্য-পো-ক্যা-লি-পসিস্ (আ্যপোক্যালিপস্), যেটার অর্থ “ উন্মোচিত” বা “উদ্ঘাটিত।” এই নামের অর্থ থেকেই বোঝা যায়, প্রকাশিত বাক্য বইয়ে কী বলা হয়েছে। এই বই এমন বিষয়গুলো প্রকাশ করে, যেগুলো একসময় রহস্য ছিল। এ ছাড়া, ভবিষ্যতে যে-ঘটনাগুলো ঘটবে, সেগুলো সম্বন্ধে এই বইয়ে লেখা আছে। এগুলোর মধ্যে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হতে এখনও বাকি আছে।
প্রকাশিত বাক্য বইয়ের সারাংশ
ভূমিকা।—প্রকাশিত বাক্য ১:১-৯.
সাতটা মণ্ডলীর উদ্দেশে যিশুর বার্তা।—প্রকাশিত বাক্য ১:১০–৩:২২.
স্বর্গে ঈশ্বরের সিংহাসনের একটা দর্শন।—প্রকাশিত বাক্য ৪:১-১১.
প্রচুর দর্শন; প্রতিটা দর্শন পরের দর্শনকে পরিচয় করিয়ে দেয়:
সাতটা সিলমোহর।—প্রকাশিত বাক্য ৫:১–৮:৬.
সাতটা তূরী। এগুলোর মধ্যে শেষের তিনটে তূরী বিপর্যয় আসার বিষয়ে ঘোষণা করে।—প্রকাশিত বাক্য ৮:৭–১৪:২০.
সাতটা বাটি। প্রত্যেক বাটিতে একটা করে আঘাত রয়েছে আর এই আঘাতগুলো ঈশ্বরের বিচারকে চিত্রিত করে, যা পৃথিবীর উপর ঢেলে দেওয়া হবে।—প্রকাশিত বাক্য ১৫:১–১৬:২১.
কিছু দর্শন, যেগুলোতে ঈশ্বরের শত্রুদের ধ্বংসের বিষয়ে দেখানো হয়েছে।—প্রকাশিত বাক্য ১৭:১–২০:১০.
কিছু দর্শন, যেগুলোতে স্বর্গ ও পৃথিবীর উপর করা ঈশ্বরের আশীর্বাদের বিষয়ে দেখানো হয়েছে।—প্রকাশিত বাক্য ২০:১১–২২:৫.
উপসংহার।—প্রকাশিত বাক্য ২২:৬-২১.
প্রকাশিত বাক্য বই বোঝার জন্য মনে রাখার মতো কিছু বিষয়
১. যারা ঈশ্বরের উপাসনা করে, তাদের জন্য এই বইয়ে লেখা কথাগুলো ভয়ংকর নয় বরং তাদের জন্য সেই কথাগুলো আনন্দের সংবাদ। অনেকে আ্যপোক্যালিপস্ শব্দকে এক মহা সংকটের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু, প্রকাশিত বাক্য বইয়ের শুরু ও শেষে এই কথা লেখা আছে, যারা এটা পড়বে, এর কথাগুলো বুঝতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করবে, তারা সুখী হবে।—প্রকাশিত বাক্য ১:৩; ২২:৭.
২. প্রকাশিত বাক্য বইয়ে অনেক ‘চিহ্ন’ ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলো সত্যিকারের কোনো কিছুকে বোঝায় না।—প্রকাশিত বাক্য ১:১.
৩. প্রকাশিত বাক্য বইয়ের বিভিন্ন চরিত্রের পরিচয় এবং চিহ্নের অর্থ এর আগের বইগুলোতে লেখা আছে:
যিহোবা—‘একমাত্র সত্য ঈশ্বর’ এবং সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা।—দ্বিতীয় বিবরণ ৪:৩৯; গীতসংহিতা ১০৩:১৯; প্রকাশিত বাক্য ৪:১১; ১৫:৩.
যিশু খ্রিস্ট—“ঈশ্বরের মেষশাবক।”—যোহন ১:২৯; প্রকাশিত বাক্য ৫:৬; ১৪:১.
শয়তান দিয়াবল—ঈশ্বরের শত্রু।—আদিপুস্তক ৩:১৪, ১৫; যোহন ৮:৪৪; প্রকাশিত বাক্য ১২:৯.
মহতী বাবিল—যিহোবা ঈশ্বর এবং তাঁর লোকদের শত্রু আর সমস্ত মিথ্যা ধর্মের উৎস, ঠিক প্রাচীন ব্যাবিলনের (বাবিল) মতো।—আদিপুস্তক ১১:২-৯; যিশাইয় ১৩:১, ১১; প্রকাশিত বাক্য ১৭:৪-৬; ১৮:৪, ২০.
“সমুদ্র”—ঈশ্বরের বিরোধিতা করে এমন মন্দ লোকেরা।—যিশাইয় ৫৭:২০; প্রকাশিত বাক্য ১৩:১; ২১:১.
এই বইয়ে অনেক বিষয় প্রাচীন কালে পবিত্র তাঁবুতে যিহোবার উপাসনায় ব্যবহৃত জিনিসগুলোকে চিত্রিত করে। যেমন, চুক্তির সিন্দুক, এক কাচের সমুদ্র (হাত ও পা ধোয়ার পাত্র), প্রদীপ এবং উৎসর্গ করার জন্য ধূপ ও বেদি।—যাত্রাপুস্তক ২৫:১০, ১৭, ১৮; ৪০:২৪-৩২; প্রকাশিত বাক্য ৪:৫, ৬; ৫:৮; ৮:৩; ১১:১৯.
হিংস্র পশু—এটা মানবসরকারকে চিত্রিত করে।—দানিয়েল ৭:১-৮, ১৭-২৬; প্রকাশিত বাক্য ১৩:২, ১১; ১৭:৩.
প্রকাশিত বাক্য বইয়ে সংখ্যা অনেক বার ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর কিছু বিশেষ অর্থ রয়েছে।—প্রকাশিত বাক্য ১:২০; ৮:১৩; ১৩:১৮; ২১:১৬.
৪. প্রত্যেকটা দর্শনে বলা বিষয়গুলো “প্রভুর দিনে” ঘটে। এই সময়টা ১৯১৪ সালে শুরু হয়েছিল, যখন ঈশ্বরের রাজ্য স্বর্গে শাসন করা শুরু করেছে। আর যিশু সেই রাজ্যের রাজা হিসেবে শাসন করতে শুরু করেছেন। (প্রকাশিত বাক্য ১:১০) এর থেকে বোঝা যায়, প্রকাশিত বাক্যে বলা বিশেষ ঘটনাগুলো আমাদের দিনে ঘটবে।
৫. প্রকাশিত বাক্য বই বোঝার জন্য আমাদের সেই একই বিষয়গুলো করতে হবে, যেগুলো আমরা বাইবেলের অন্যান্য বই বোঝার জন্য করে থাকি—ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রজ্ঞা চাওয়া আর সেই ব্যক্তিদের সাহায্য নেওয়া, যারা ইতিমধ্যে এই বিষয়গুলো ভালোভাবে জানে।—প্রেরিত ৮:২৬-৩৯; যাকোব ১:৫.