ভবিষ্যতে ধর্মগুলোর কী হবে?—এই বিষয়ে বাইবেল যা বলে
আপনি কি ধর্মের নাম শুনলে হতাশ হয়ে পড়েন কিংবা বিরক্ত হন? যদিও ধর্মগুলো কখনো কখনো কোনো সমাজ কিংবা কোনো ব্যক্তির জন্য ভালো কাজ করেছে, কিন্তু অন্য দিকে অনেক ক্ষতিও করেছে। এনসাইক্লোপিডিয়া অভ্ রিলিজিয়ান অ্যান্ড ওয়ার বলে, “ধর্মীয় মতবাদের পার্থক্যের কারণে ইতিহাসে বেশ কিছু ভয়ানক যুদ্ধ হয়েছে।” প্রায়ই ধর্মীয় নেতারা উপাসনা করার জন্য নয় বরং রাজনৈতিক মতবাদ তুলে ধরার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে থাকে। অনেক ধর্মীয় নেতা তাদের গুরুদের মন্দ কাজগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, যেমন যৌন নিপীড়ন অথবা টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ।
আপনি যদি ধর্মের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েন, তা হলে আপনার মনে হয়তো এই প্রশ্ন আসতে পারে, ঈশ্বর এই বিষয়ে কেমন অনুভব করেন। বাইবেল জানায়, বেশিরভাগ ধর্ম যে-কাজগুলো করছে, সেগুলোর জন্য ঈশ্বর তাদের ঘৃণা করেন। এ ছাড়া, বাইবেলে দেওয়া বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী বর্ণনা করে যে, তিনি এই বিষয়ে কী করবেন। রূপক ভাষা ব্যবহার করে বাইবেল ব্যাখ্যা করে, ঈশ্বর শীঘ্রই সারা পৃথিবীর এইসমস্ত ধর্মের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেবেন, যেটা তিনি আগে কখনো নেননি।
ভবিষ্যতে ধর্মের প্রতি যা ঘটবে, সেই বিষয়ে বাইবেল কী বলে?
ভবিষ্যদ্বাণী: বাইবেলের প্রকাশিত বাক্য বইয়ে এমন একজন বেশ্যার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে মহতী বাবিল বলা হয়। এই বেশ্যা গাঢ় লাল রঙের এক হিংস্র পশুর উপর বসে আছে। কিন্তু পরে এই পশু তার বিরুদ্ধে যায় এবং তাকে মেরে ফেলে।—প্রকাশিত বাক্য ১৭:৩, ৫, ১৬.
এর অর্থ: এই বেশ্যা অর্থাৎ মহতী বাবিল সমস্ত ধরনের মিথ্যা ধর্মকে চিত্রিত করে, যেগুলোকে ঈশ্বর প্রত্যাখ্যান করেন।a গাঢ় লাল রঙের এই হিংস্র পশু জাতিসংঘ বা রাষ্ট্রসংঘকে (ইউনাইটেড নেশন্স বা ইউএন)b চিত্রিত করে। বেশ্যা যে গাঢ় লাল রঙের হিংস্র পশুর উপর বসে আছে, সেটা ইঙ্গিত দেয় যে, মিথ্যা ধর্ম ইউনাইটেড নেশন্সের উপর প্রভাব বিস্তার করার এমনকী তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই হিংস্র পশু যে বেশ্যাকে মেরে ফেলবে, তা ইঙ্গিত দেয় যে, ইউনাইটেড নেশন্স এবং সেটার সমর্থনকারী দেশগুলো সমস্ত মিথ্যা ধর্মকে আক্রমণ করবে এবং তাদের ধ্বংস করে দেবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই, এই ঘটনা সারা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে তুলবে!
কীভাবে মিথ্যা ধর্মকে ধ্বংস করা হবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: “তুমি যে-দশটা শিং এবং হিংস্র পশুকে দেখলে, সেগুলো ওই বেশ্যাকে ঘৃণা করবে আর তার সমস্ত কিছু কেড়ে নেবে এবং … তাকে আগুনে পুরোপুরিভাবে পুড়িয়ে দেবে। কারণ এই ইচ্ছা ঈশ্বরই এদের হৃদয়ে [জগতের নেতাদের হৃদয়ে] দিলেন, যেন এরা নিজেদেরই যে-একই উদ্দেশ্য রয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ করে, যেটা আসলে ঈশ্বরেরই উদ্দেশ্য। ঈশ্বর তা করলেন, যাতে এরা … এদের শাসন করার ক্ষমতা সেই হিংস্র পশুকে দিয়ে দেয়। … এক দিনেই তার উপর এইসমস্ত আঘাত আসবে: মৃত্যু, দুঃখ, দুর্ভিক্ষ। আর তাকে আগুনে পুরোপুরিভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, কারণ যিনি তার বিচার করেন, সেই যিহোবাc ঈশ্বর হলেন শক্তিমান।”—প্রকাশিত বাক্য ১৭:১৬, ১৭; ১৮:৮.
এর অর্থ: ঈশ্বরই জগতের সরকারগুলোর হৃদয়ে “এই ইচ্ছা” দেবেন। তিনি তাদের পরিচালিত করবেন, যাতে তারা ইউনাইটেড নেশন্সকে “শাসন করার ক্ষমতা” দিয়ে দেয়। ইউনাইটেড নেশন্স সরকারগুলোর কাছ থেকে নতুন ক্ষমতা লাভ করার পর পৃথিবীর সমস্ত মিথ্যা ধর্মকে ধ্বংস করে দেবে। অবাক করার মতো এই ঘটনা এত দ্রুত ও হঠাৎ করে ঘটবে যে, মনে হবে এটা “এক দিনেই” ঘটেছে আর অনেক লোকই হতবাক হয়ে যাবে।—প্রকাশিত বাক্য ১৮:২১.
কেন মিথ্যা ধর্মকে ধ্বংস করা হবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: “তার পাপ অসংখ্য হয়ে আকাশ পর্যন্ত উঁচু হয়েছে আর তার মন্দ কাজগুলো ঈশ্বর স্মরণ করেছেন।”—প্রকাশিত বাক্য ১৮:৫.
এর অর্থ: হাজার হাজার বছর ধরে মিথ্যা ধর্ম অনেক মন্দ কাজ করেছে। কিছু ‘মন্দ কাজ’ কী, যেগুলোর জন্য ঈশ্বর তার উপর বিচার নিয়ে আসবেন? আসুন তা লক্ষ করি:
রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক। যিশু তাঁর অনুসারীদের শিখিয়েছিলেন, যেন তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে বরং ঈশ্বরের রাজ্যের উপর আশা রাখে। ঈশ্বরের রাজ্য হল এক স্বর্গীয় সরকার আর এই সরকার সমস্ত মানব সরকারকেd সরিয়ে দেবে। (দানিয়েল ২:৪৪; মথি ৬:৯, ১০; যোহন ৬:১৫; ১৮:৩৬) কিন্তু মিথ্যা ধর্ম ঠিক এর বিপরীত কাজটাই করেছে; তারা লোকদের মানুষের সরকারগুলোর উপর নির্ভর করতে উৎসাহিত করেছে। মিথ্যা ধর্ম ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত না থেকে বরং রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তাই প্রকাশিত বাক্য বইতে মহতী বাবিল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, সে “যৌন অনৈতিকতার” দোষে দোষী আর এটা থেকে বোঝা যায়, কেন তাকে “মহাবেশ্যা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।—প্রকাশিত বাক্য ১৭:১, ২; যাকোব ৪:৪.
হিংসাত্মক কাজ। মিথ্যা ধর্ম সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, সে সেই সমস্ত লোকের মৃত্যুর জন্য দায়ী, যাদের “পৃথিবীতে হত্যা করা হয়েছে।” (প্রকাশিত বাক্য ১৮:২৪) অনেক ধর্মই তাদের সদস্যদের শেখাতে পারেনি, কীভাবে শান্তিস্থাপন করতে হয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ এমনকী যুদ্ধকে সমর্থন করেছে এবং লোকদের যুদ্ধ ও সন্ত্রাসী কাজ করতে উসকানি দিয়েছে।
লোভ। মিথ্যা ধর্ম “নির্লজ্জভাবে বিলাসী”জীবনযাপন করে। (প্রকাশিত বাক্য ১৭:৪; ১৮:৭) অনেক ধর্ম তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে বিপুল ধনসম্পদ লাভ করেছে। ঈশ্বর এই ধরনের লোভকে ঘৃণা করেন।—তীত ১:৭.
মিথ্যা শিক্ষা। মিথ্যা ধর্ম লোকদের এমন শিক্ষা ও রীতিনীতি সম্বন্ধে শেখায়, যেগুলো বাইবেলের সত্য শিক্ষার সঙ্গে মেলে না।e যেহেতু মিথ্যা ধর্মের শেখানো শিক্ষা ও রীতিনীতি মানুষকে ভুল দিকে নিয়ে যায় এবং ঈশ্বরকে অসম্মান করে, তাই বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীতে তাকে “পৃথিবীর ঘৃণ্য বিষয়বস্তুর জননী” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।—প্রকাশিত বাক্য ১৭:৫; ১৮:২৩.
সমস্ত ধর্মকেই কি ধ্বংস করা হবে?
না। প্রকাশিত বাক্য বইয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে আসা “বিরাট জনতা” সম্বন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। (প্রকাশিত বাক্য ৭:৯) এদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, এরা “সাদা পোশাক পরে” রয়েছে আর এর অর্থ হল, এরা ঈশ্বরের মান অনুযায়ী বিশ্বস্তভাবে তাঁর উপাসনা করে। এই বিরাট জনতা “মহাক্লেশ” পার হয়ে এসেছে অর্থাৎ তারা রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু এই মহাক্লেশে মিথ্যা ধর্ম এবং ঈশ্বরের বাকি সমস্ত শত্রু রক্ষা পায়নি; তাদের ধ্বংস করা হয়েছে। (প্রকাশিত বাক্য ৭:১৩, ১৪; ১৯:১১, ১৯-২১) সাদা পোশাক পরা এই বিরাট জনতা সত্য ধর্ম পালন করে আর এই সত্য ধর্ম চিরকাল থাকবে।f
সত্য উপাসকদের এক বিরাট জনতা মিথ্যা ধর্মের ধ্বংস থেকে রক্ষা পাবে।
মিথ্যা ধর্মের ধ্বংস আপনার জন্য কোন অর্থ রাখে?
আপনি এটা জেনে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে, ঈশ্বর ধর্মের মধ্যে ঘটা মন্দ কাজগুলো অনুমোদন করেন না। ভবিষ্যতে যা ঘটতে চলেছে, তা জানা আপনাকে আশা জোগাবে কারণ খুব তাড়াতাড়ি সেই সমস্ত ধর্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যেগুলো ঈশ্বরকে অসম্মান করে এবং মানুষকে কষ্ট দেয়।
আপনি এটা জেনে নিশ্চিত হতে পারেন যে, ঈশ্বরকে উপাসনা করার এমন একটা উপায় রয়েছে, যেটা তাঁকে খুশি করে। বাইবেল আমাদের জানায়, “সত্য উপাসকেরা পিতাকে পবিত্র শক্তির পরিচালনায় এবং সত্যের সঙ্গে মিল রেখে উপাসনা করবে, কারণ পিতা তাঁর উপাসনা করার জন্য এই ধরনের লোকদেরই খোঁজেন।” (যোহন ৪:২৩) ঈশ্বর সেই সত্য উপাসকদের বলেন, “হে আমার লোকেরা, তোমরা তার মধ্য থেকে বের হয়ে এসো, যাতে তোমরা তার পাপের অংশী না হও আর তার উপর যে-সমস্ত আঘাত আনা হবে, সেগুলোর কোনোটাই যেন তোমাদের উপর না আসে।” (প্রকাশিত বাক্য ১৮:৪, ৫) হ্যাঁ, ঈশ্বর লোকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, যাতে তারা বাইবেলে দেওয়া সত্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর উপাসনা করে। (১ তীমথিয় ২:৩, ৪) ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেন, যে-লোকেরা তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দেয়, তারা চিরকাল বেঁচে থাকবে।—১ যোহন ২:১৭.
a মহতী বাবিলকে শনাক্ত করার চারটে উপায় সম্বন্ধে জানার জন্য “What Is Babylon the Great?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।
b এই পশুকে শনাক্ত করার ছয়টা উপায় সম্বন্ধে জানার জন্য “What Is the Scarlet-Colored Beast of Revelation Chapter 17?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।
c যিহোবা হল ঈশ্বরের ব্যক্তিগত নাম। (গীতসংহিতা ৮৩:১৮) “যিহোবা কে?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।
d এই বিষয়ে আরও জানার জন্য ঈশ্বরের রাজ্য কী? শিরোনামের ভিডিওটা দেখুন।
e কয়েকটা উদাহরণ জানার জন্য “মহতী বাবিলের মধ্যে কী এমন ধর্মগুলোও রয়েছে, যারা নিজেদের “খ্রিস্টান” বলে দাবি করে?” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।
f বাইবেল যেভাবে আপনাকে সত্য ধর্ম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে, সেই সম্বন্ধে জানার জন্য “কীভাবে আমি সত্য ধর্ম খুঁজে পেতে পারি?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।