Thai Liang Lim/E+ via Getty Images
জেগে থাকুন!
অল্পবয়সিদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে পৃথিবীর লোকেরা চিন্তিত
২০২৫ সালে পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকার একটা বিষয় নিয়ে খুবই চিন্তা প্রকাশ করেছে আর সেটা হল, সোশ্যাল মিডিয়া অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েদের উপর কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। একটা দেশ সেইসমস্ত অল্পবয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যাদের বয়স ১৬ বছরের চেয়ে কম। অন্যান্য দেশও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা চিন্তা করছে।
আগ্রহজনক, বিষয়টা হল,কিছু অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েও বুঝতে পেরেছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটা সমীক্ষা করেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এই সমীক্ষা জানায়, “অল্পবয়সিদের মধ্যে মোটামুটি অর্ধেক জন (৪৮ শতাংশ) জানিয়েছে, [সোশ্যাল মিডিয়া] তাদের বয়সি ছেলে-মেয়েদের উপর বেশিরভাগ সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা সাবধান করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া ছেলে-মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল ছিলেন ড. বিবেক মূর্তি। তিনি বলেছিলেন, “অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েদের মানসিক সমস্যা এক গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে—আর এই ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার এক বড়ো প্রভাব রয়েছে।”
কীভাবে বাবা-মায়েরা সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ থেকে তাদের ছেলে-মেয়েদের রক্ষা করতে পারে? এক্ষেত্রে বাইবেল ব্যাবহারিক পরামর্শ দেয়।
বাবা-মায়েরা কী করতে পারে?
বাইবেলের এই নীতিগুলো বিবেচনা করুন।
“সতর্ক ব্যক্তি প্রতিটা পদক্ষেপের আগে চিন্তা করে।”—হিতোপদেশ ১৪:১৫.
সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ প্রভাব আছে বলে আপনার ছেলে-মেয়েরা যখন এটা ব্যবহার করে, তখন আপনি চাপ বোধ করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে আপনাকে দেখতে হবে যে, আপনার দেওয়া সময়ের মধ্যে তা ব্যবহার করার, ভালো বন্ধুবান্ধব বাছাই করার এবং অনুপযুক্ত বিষয়গুলো বাদ দিতে পারার মতো যথেষ্ট বয়স তাদের হয়েছে কি না।
আরও বেশি জানতে এই প্রবন্ধগুলো পড়ুন, “আমার সন্তানের কি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা উচিত?” এবং “আপনার সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে শেখান”।
“তোমাদের সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করো।”—ইফিষীয় ৫:১৬.
আপনি যদি আপনার ছেলে-মেয়েদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অনুমতি দেন, তা হলে এরজন্য একটা নিয়ম তৈরি করুন এবং তাদের বুঝিয়ে বলুন যে, এটা কীভাবে তাদের সুরক্ষিত থাকতে সাহায্য করবে। সবসময় ছেলে-মেয়েদের গতিবিধির উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখুন আর দেখুন যে, তাদের আচার-আচরণে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, এখন থেকে তাদের কতটা সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দেবেন।
হোয়াইট বোর্ড অ্যানিমেশন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিচক্ষণ হও ব্যবহার করে, ছেলে-মেয়েদের এটা বুঝতে সাহায্য করুন যে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কেন তারা একটা সীমা মেনে চলবে।
বাবা-মায়েরা এই ক্ষেত্রে কী করতে পারে, সেই বিষয়ে আরও বাইবেলভিত্তিক পরামর্শের জন্য “Top Health Official Warns of Social Media’s Effect on Young People—What Does the Bible Say?” নামক প্রবন্ধটা দেখুন।
আরও জানুন
বাইবেল জানায় যে, আমরা এক “কঠিন ও বিপদজনক” সময়ে বাস করছি। (২ তীমথিয় ৩:১-৫) তবে, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য এটি ব্যাবহারিক পরামর্শও দেয়। “কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্রমশ অবনতি—এই সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে?” নামক প্রবন্ধে বাবা-মা আর তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য ২০-টারও বেশি বাইবেলভিত্তিক প্রবন্ধের একটা তালিকা রয়েছে।