id-work/DigitalVision Vectors via Getty Images
জেগে থাকুন!
কেন এই পৃথিবীতে এত ঘৃণা রয়েছে?—এই সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে?
আজকাল খবরে এটা শুনতে পাওয়া যায় যে, কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে, আবার কোথাও জাতির নামে দাঙ্গা হচ্ছে। এ ছাড়া, এমন খবরও শোনা যাচ্ছে যে, লোকেরা ঘৃণার মনোভাব ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ভাষণ (হেট স্পিচ) তুলে ধরছে কিংবা ঘৃণার কারণে লোকেরা দিন দিন হিংসামূলক (হেট ক্রাইম) কাজ করে চলেছে।
“ইজরায়েল ও গাজার মধ্যে লড়াইয়ের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় হেট স্পিচ অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কিছু গোঁড়া ব্যক্তিও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘৃণার মনোভাব ছড়িয়ে দিয়েছে।”—দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস্, নভেম্বর ১৫, ২০২৩.
“৭ অক্টোবরের পরে ঘৃণার মনোভাব ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ভাষণ এবং হিংসামূলক কাজ দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। এটা সত্যিই চিন্তা করার মতো বিষয়।”—রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট, ডেনিস ফ্রান্সিস, নভেম্বর ৩, ২০২৩.
যুদ্ধ, ঘৃণার মনোভাব ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কথা এবং হিংসামূলক কাজ কোনো নতুন বিষয় নয়। এগুলো অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। এমনকী বাইবেলে এই ধরনের লোকদের বিষয়ে বলা হয়েছে, যারা “তাদের নিষ্ঠুর কথাগুলোকে তিরের মতোই তাক” করত, খুবই হিংস্র ছিল এবং যুদ্ধ করত। (গীতসংহিতা ৬৪:৩; ১২০:৭; ১৪০:১) কিন্তু, আজকে আমরা যে-ঘৃণার মনোভাব দেখছি, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে আর এই বিষয়টা বাইবেলে বলা হয়েছে।
ঘৃণা—শেষ কালের এক চিহ্ন
বাইবেলে দুটো কারণ দেওয়া হয়েছে যে, কেন বর্তমানে লোকদের মধ্যে এত বেশি ঘৃণার মনোভাব রয়েছে।
১. এটিতে অনেক আগেই বলা হয়েছে যে, শেষ কালে “অধিকাংশ লোকের প্রেম কমে যাবে।” (মথি ২৪:১২) বর্তমানে আমরা সেই সময়ই বাস করছি। লোকদের মধ্যে প্রেম নেই। এর পরিবর্তে, তাদের চিন্তাভাবনা এবং মনোভাব এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, এগুলো লোকদের মধ্যে ঘৃণার মনোভাবকে বাড়িয়ে দিতে পরিচালিত করে।—২ তীমথিয় ৩:১-৫.
২. এই পৃথিবীতে শয়তানের প্রভাব রয়েছে আর সে ঘৃণায় পরিপূর্ণ। বাইবেল জানায়, “সমস্ত জগৎ শয়তানের নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে।”—১ যোহন ৫:১৯, পাদটীকা; প্রকাশিত বাক্য ১২:৯, ১২.
কিন্তু, বাইবেলে এও বলা হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই ঈশ্বর ঘৃণাকে পুরোপুরি নির্মূল করে দেবেন। শুধু তা-ই নয়, ঘৃণার কারণে লোকেরা যে-দুঃখ ও কষ্ট সহ্য করছে, তিনি সেগুলোকেও দূর করে দেবেন। বাইবেলে এই প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে যে,
ঈশ্বর “তাদের চোখের সমস্ত জল মুছে দেবেন এবং মৃত্যু আর থাকবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথা আর থাকবে না। আগের বিষয়গুলো শেষ হয়ে গিয়েছে।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:৪.